TRW Insight / বাংলাদেশ
বাংলাদেশে ব্র্যান্ডের ওপর অধিকার আসে নিবন্ধন থেকে, ব্যবহারের দৈর্ঘ্য থেকে নয়। সঠিক অনুসন্ধান, প্রতিটি শ্রেণিতে আবেদন, সময়মতো ফি ও নবায়ন, আর নকল দেখলে দ্রুত দেওয়ানি, ফৌজদারি ও কাস্টমস ব্যবস্থাই মার্ককে নিরাপদ রাখে।
ট্রেডমার্ক নিবন্ধন: ২০২৬ সালে আবেদন, খরচ, সময় ও নকলের প্রতিকার
বাংলাদেশে ব্র্যান্ডের নাম, লোগো বা মোড়কের ওপর আইনি অধিকার আসে ট্রেডমার্ক নিবন্ধন থেকে। ট্রেডমার্ক আইন ২০০৯ স্পষ্ট বলেছে, অনিবন্ধিত মার্ক লঙ্ঘনের জন্য কেউ প্রতিকার বা ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করতে পারবেন না; আর নিবন্ধিত মালিক নিবন্ধিত পণ্য বা সেবায় মার্কটি একচেটিয়াভাবে ব্যবহারের অধিকার পান।[1] বাস্তবে বহু প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর ব্যবসা করার পর জানতে পারে, তাদের নাম অন্য কেউ আগেই নিজের নামে আবেদন করে রেখেছে।
এই লেখায় একসঙ্গে পাবেন: প্রযোজ্য আইন ও বিধি, কী নিবন্ধন করা যায়, অনুসন্ধান ও শ্রেণি বাছাই, পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরে (ডিপিডিটি) অনলাইনে আবেদন, পরীক্ষা, জার্নালে প্রকাশ, বিরোধিতা, সনদ, ২০২৬ সালের সরকারি ফি ও বাস্তব সময়, নবায়ন, মাদ্রিদ প্রটোকলে বাংলাদেশের অবস্থান, এবং মার্ক নকল হলে দেওয়ানি মামলা, নিষেধাজ্ঞা, ফৌজদারি মামলা ও কাস্টমসে পণ্য আটকানোর পথ।

সারসংক্ষেপ: ডিপিডিটিতে প্রতিটি পণ্য বা সেবার শ্রেণির জন্য আলাদা আবেদন করতে হয়। আবেদন গৃহীত হলে ট্রেডমার্কস জার্নালে প্রকাশিত হয় এবং যে কেউ দুই মাসের মধ্যে বিরোধিতা করতে পারেন। ট্রেডমার্ক নিবন্ধন কার্যকর হয় আবেদনের তারিখ থেকে; প্রথম মেয়াদ সাত বছর, পরে প্রতিবার দশ বছর। প্রতি শ্রেণিতে আবেদন, প্রকাশ ও সনদের সরকারি ফি মোট ২৮,০০০ টাকা। মার্ক নকল হলে জেলা জজ আদালতে নিষেধাজ্ঞার মামলা, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি মামলা এবং কাস্টমসে আমদানি আটকানোর আবেদন একসঙ্গে চালানো যায়।
মূল বিষয়: মেয়াদ গোনা শুরু হয় আবেদনের দিন থেকে, সনদ হাতে পাওয়ার দিন থেকে নয়। আইনের ধারা ২০ নিবন্ধনকে আবেদনের তারিখে কার্যকর ধরে, আর ধারা ২২ প্রথম মেয়াদ সাত বছর নির্ধারণ করেছে। ২০২০ সালের মার্চে আবেদন করা মার্কের সনদ ২০২৩ সালে এলেও নবায়নের শেষ তারিখ ২০২৭ সালের মার্চ।
এক নজরে
এক শ্রেণি, এক আবেদন
ধারা ১৫(২) অনুযায়ী প্রতিটি পণ্য বা সেবার শ্রেণির জন্য আলাদা আবেদন; বহু-শ্রেণির একক আবেদন চলে না।
দুই মাসের বিরোধিতা
জার্নালে প্রকাশের তারিখ থেকে দুই মাসের মধ্যে যে কেউ লিখিত বিরোধিতা দাখিল করতে পারেন।
সাত যোগ দশ বছর
প্রথম মেয়াদ সাত বছর, এরপর প্রতি নবায়নে দশ বছর; বিলম্বে নবায়ন ছয় মাস, পুনর্বহাল এক বছরের মধ্যে।
সরকারি ফি
আবেদন ৫,০০০, জার্নালে প্রকাশ ৩,০০০ ও সনদ ২০,০০০ টাকা, প্রতি শ্রেণিতে আলাদাভাবে।
নকলের শাস্তি
মিথ্যা ট্রেডমার্ক ব্যবহার বা বিক্রিতে ছয় মাস থেকে দুই বছরের কারাদণ্ড বা ৫০,০০০ থেকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড।
সূচিপত্র
কোন আইন প্রযোজ্য: ২০০৯ সালের আইন, ২০১৫ সালের সংশোধনী ও বিধিমালা
মূল আইন ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ১৯ নং আইন), যা ২৪ মার্চ ২০০৯ গেজেটে প্রকাশিত হয় এবং ১ জুলাই ২০০৮ থেকে কার্যকর বলে গণ্য।[1] ২১ নভেম্বর ২০১৫ পাস হয় ট্রেডমার্ক (সংশোধন) আইন, ২০১৫ (২০১৫ সনের ২৩ নং আইন)।[2] ফরম, সময়সীমা ও কার্যপদ্ধতি ঠিক করে ট্রেডমার্ক বিধিমালা, ২০১৫ (এসআরও নং ২৭২-আইন/২০১৫)।[3] নিবন্ধন বহি রাখে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিপিডিটি।
২০১৫ সালের সংশোধনী কী বদলেছে
দুটি বদল ব্যবহারিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ধারা ১০(৫)-এ সুপরিচিত মার্কের অনুবাদের মাধ্যমে তৈরি সাদৃশ্যপূর্ণ মার্কও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর ধারা ১৮(৮)-এ বিরোধিতা নিষ্পত্তির সময়সীমা ১২০ কর্মদিবস থেকে বাড়িয়ে ৩৩০ কর্মদিবস করা হয়েছে।[2] অনেক পুরোনো লেখায় এখনো ১২০ দিন লেখা থাকে; সেটি আর প্রযোজ্য নয়।
২০২৬ সালের অবস্থা: নতুন সংশোধনী এখনো খসড়ায়
২০২৫ সালে ২৭টি প্রস্তাবসহ একটি খসড়া সংশোধনী আলোচনায় আসে, যাতে মাদ্রিদ ব্যবস্থার বিধান, শব্দ, রং ও গন্ধের মতো অপ্রচলিত মার্ক এবং আলাদা ট্রেডমার্ক আদালতের প্রস্তাব ছিল।[10] মার্চ ২০২৬-এ মার্কিন সরকারের বাণিজ্য নির্দেশিকাও জানিয়েছে, আইনটি আরও সংশোধনের কাজ চলছে।[9] অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সংশোধনীটি পাস হওয়ার কোনো তথ্য আমরা পাইনি; আজকের আবেদন ও মামলা চলছে ২০০৯ সালের আইন, ২০১৫ সালের সংশোধনী ও বিধিমালার অধীনেই।
কী নিবন্ধন করা যায়, আর কী যায় না
আইনে "মার্ক" বলতে বোঝায় ডিভাইস, ব্র্যান্ড, শিরোনাম, লেবেল, নাম, স্বাক্ষর, শব্দ, অক্ষর, প্রতীক, সংখ্যা, চিত্র উপাদান, রঙের সমন্বয় বা এগুলোর যেকোনো সমন্বয়।[1] পণ্যের পাশাপাশি সেবার মার্কও নিবন্ধনযোগ্য, আর যে মার্কের ব্যবহার এখনো শুরু হয়নি কিন্তু পরিকল্পনা আছে, তার জন্যও আবেদন করা যায়। ফলে পণ্য বাজারে ছাড়ার আগেই নাম সুরক্ষিত করা সম্ভব।
স্বাতন্ত্র্য: ধারা ৬
মার্কে অন্তত একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে: বিশেষভাবে উপস্থাপিত নাম, আবেদনকারীর স্বাক্ষর, উদ্ভাবিত শব্দ, পণ্যের গুণ বা চরিত্রের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কহীন শব্দ, অথবা অন্য কোনো স্বাতন্ত্র্যসূচক চিহ্ন। ভৌগোলিক নাম, পদবি বা সাধারণ ব্যক্তিনাম কেবল স্বাতন্ত্র্যের প্রমাণ দিয়ে নিবন্ধন পেতে পারে।[1] "সেরা চাল" বা "খাঁটি ঘি" জাতীয় বর্ণনামূলক নাম তাই প্রায় সব ক্ষেত্রে আপত্তির মুখে পড়ে।
নিষিদ্ধ মার্ক ও আগের মার্কের সঙ্গে সংঘাত
ধারা ৮ অশ্লীল বা কলঙ্কজনক মার্ক, প্রতারণা বা বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী মার্ক, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে এমন মার্ক, রাষ্ট্র বা আন্তর্জাতিক সংস্থার পতাকা ও প্রতীক এবং অসৎ উদ্দেশ্যে করা আবেদন নিষিদ্ধ করেছে। ধারা ১০(১) অনুযায়ী একই পণ্য বা সেবায় অন্য মালিকের নিবন্ধিত মার্কের অভিন্ন বা প্রতারণামূলকভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ মার্ক নিবন্ধন হয় না, যদিও সৎ সমান্তরাল ব্যবহারে নিবন্ধক শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দিতে পারেন।[1]
কেন ট্রেডমার্ক নিবন্ধন জরুরি
নিবন্ধনের সবচেয়ে বড় সুবিধা প্রমাণের ভার কমে যাওয়া। নিবন্ধিত মালিক সনদ দেখিয়েই মালিকানা দেখাতে পারেন, আর ধারা ২৫(২) অনুযায়ী তাঁর সম্মতি ছাড়া অন্য কেউ সেই মার্ক ব্যবহার করতে পারেন না।[1] ট্রেডমার্ক নিবন্ধন না থাকলে একমাত্র ভরসা পাসিং অফের মামলা, যেখানে সুনাম, বিক্রি, বিজ্ঞাপন ও ক্রেতার বিভ্রান্তি সবকিছু শূন্য থেকে প্রমাণ করতে হয়।
নিবন্ধিত মার্ক একটি হস্তান্তরযোগ্য সম্পদও: এটি বিক্রি, লাইসেন্স বা ফ্র্যাঞ্চাইজ করা যায়, বিনিয়োগকারী ও ব্যাংক প্রথমেই এটি দেখে, আর ফৌজদারি মামলা ও কাস্টমস ব্যবস্থাও সহজ হয়। লাইসেন্স ও রয়্যালটি নিয়ে দেখুন আমাদের ফ্র্যাঞ্চাইজিং বিষয়ক ইংরেজি বিশ্লেষণ। আরজেএসসিতে কোম্পানির নাম ছাড়পত্র বা ট্রেড লাইসেন্স কিন্তু মার্কের ওপর একচেটিয়া অধিকার দেয় না; নতুন ব্যবসায় কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন ও মার্কের আবেদন একসঙ্গে করুন। মনে রাখবেন, অনিবন্ধিত মার্কে ® চিহ্ন বা "নিবন্ধিত" দাবি ব্যবহার ধারা ৭৬ অনুযায়ী অপরাধ।[1]
আবেদনের আগে অনুসন্ধান ও শ্রেণি বাছাই
বিধি ৬৭ অনুযায়ী টিএম-৪ ফরমে মার্কের প্রতিরূপসহ আবেদন করলে নিবন্ধক দেখেন একই বা সাদৃশ্যপূর্ণ মার্ক নিবন্ধিত বা আবেদনাধীন আছে কি না, এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে টিএমআর-১৭ ফরমে ফল জানান।[3] সরকারি ফি ২,০০০ টাকা।[4] টিএম-৪ ও প্রাক-আবেদন অনুসন্ধান দুটোই এখন অনলাইনে করা যায়।[5]
সরকারি অনুসন্ধান শুধু নিবন্ধন বহি দেখে। বাজারে অনিবন্ধিত অবস্থায় চলা ব্র্যান্ড, ফেসবুক পেজ, ডোমেইন নাম বা সুপরিচিত বিদেশি মার্ক এতে ধরা পড়ে না, অথচ তাদের মালিকও বিরোধিতা বা পাসিং অফের মামলা করতে পারেন। তাই বাজার ও অনলাইনেও খুঁজুন, এবং শুধু হুবহু মিল নয়, দেখতে, শুনতে, অর্থে এবং বাংলা প্রতিবর্ণীকরণ বা অনুবাদে মিল আছে কি না, তা-ও যাচাই করুন।
শ্রেণি বাছাই: প্রতিটি শ্রেণি আলাদা আবেদন
ধারা ১৫(২) অনুযায়ী প্রতিটি পণ্য বা সেবার শ্রেণির জন্য আলাদা আবেদন করতে হয় এবং আবেদনগুলো প্রাপ্তির ক্রমানুসারে বিবেচিত হয়।[1] ডিপিডিটি আন্তর্জাতিক নিস শ্রেণিবিন্যাস অনুসরণ করে, যেখানে পণ্যের শ্রেণি ১ থেকে ৩৪ এবং সেবার শ্রেণি ৩৫ থেকে ৪৫। একটি পোশাক ব্র্যান্ডের মূল শ্রেণি ২৫, কিন্তু ব্যাগ বা প্রসাধনীর জন্য আলাদা শ্রেণি লাগে। প্রতিটি শ্রেণিতে আলাদা ফি, তাই আজকের পণ্য ও আগামী দুই-তিন বছরের পরিকল্পনা মিলিয়ে তালিকা করুন।
ডিপিডিটিতে অনলাইনে আবেদন: ধাপ ও কাগজপত্র
যিনি নিজেকে মার্কের মালিক দাবি করেন, ব্যবহার চলছে বা প্রস্তাবিত, তিনিই নিবন্ধকের কাছে লিখিত আবেদন করবেন।[1] ফরম টিএম-১, সরকারি ফি ৫,০০০ টাকা।[4] আইনজীবী বা ট্রেডমার্ক প্রতিনিধির মাধ্যমে দাখিল করলে সঙ্গে টিএম-১০ ফরম দিতে হয়।[3] সাধারণত লাগে মার্কের পরিষ্কার প্রতিরূপ, আবেদনকারীর নাম ও ঠিকানা, শ্রেণি ও পণ্য বা সেবার তালিকা, ব্যবহার শুরুর তারিখ (থাকলে) এবং প্রতিনিধির ক্ষমতাপত্র।
অনলাইনে ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের আবেদন: পোর্টাল ও এ-চালান
আবেদন চলে ডিপিডিটির ই-ফাইলিং পোর্টালে, ফি পরিশোধ হয় সরকারের এ-চালান ব্যবস্থায়। ডিপিডিটি জানিয়েছে, এ-চালানে দেশের কোড ছাড়া শুধু ১১ ডিজিটের মোবাইল নম্বর চলবে, ফি নিশ্চিত হয়ে তবেই চূড়ান্ত সাবমিট করতে হবে, আর সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ই-ফাইলিং না করাই ভালো।[6] জুলাই ২০২৬-এর তালিকা অনুযায়ী অনলাইনে করা যায় টিএম-১, টিএম-৪, টিএম-৯ (প্রকাশ), টিএম-১১ (সনদ), টিএম-১২ (নবায়ন), টিএম-১৬ (ভুল সংশোধন), টিএম-২৪ (স্বত্বনিয়োগ), টিএম-৩৩ (এন্ট্রি সংশোধন), সাক্ষ্য দাখিল ও আপত্তির জবাব; সব কাগজের প্রিন্ট কপি রিসিপশন কাউন্টারে জমা দিতে বলা হয়েছে।[5] বিরোধিতার টিএম-৫ এই তালিকায় নেই, তাই তার পদ্ধতি আলাদাভাবে নিশ্চিত করুন।
বিদেশি মালিক ও প্যারিস কনভেনশনের অগ্রাধিকার
প্যারিস কনভেনশন বা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্য কোনো দেশে প্রথম আবেদনের ছয় মাসের মধ্যে, প্রত্যয়িত কপিসহ, বাংলাদেশে আবেদন করলে নিবন্ধন সেই বিদেশি আবেদনের তারিখ থেকে কার্যকর ধরা হয় (ধারা ১২০)।[1] বিদেশি মালিকদের বাংলাদেশে নোটিশ গ্রহণের ঠিকানা দিতে হয় এবং কার্যত স্থানীয় প্রতিনিধি লাগে। পুরো আইনি কাঠামো আছে আমাদের ট্রেডমার্ক আইন বিষয়ক ইংরেজি নির্দেশিকায়।

পরীক্ষা, আপত্তি ও জবাব
বিধি ১৪ অনুযায়ী আবেদন পাওয়ার দুই মাসের মধ্যে নিবন্ধক পরীক্ষা করেন মার্কটি ধারা ৬, ৮, ৯, ১০ ও ১১-এর শর্ত মানছে কি না এবং আগের কোনো মার্কের সঙ্গে সাদৃশ্য আছে কি না; আপত্তি থাকলে টিএমআর-১২ ফরমে জানানো হয়।[3] নোটিশের দুই মাসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে হয় বা টিএম-২৩ ফরমে শুনানি চাইতে হয়; টিএম-১৯ ফরমে আরও দুই মাস সময় চাওয়া যায়, ফি প্রতিবার ৩,০০০ টাকা।[3] [4]
সময়মতো জবাব না দিলে আবেদন পরিত্যক্ত গণ্য হয়, তবে পরিত্যাগের নোটিশের পাঁচ বছরের মধ্যে ফি দিয়ে পুনর্বহালের সুযোগ আছে।[3] ভালো জবাবে যুক্তির পাশাপাশি ব্যবহারের প্রমাণ, পণ্য তালিকা সংকোচন বা বর্ণনামূলক অংশ দাবিত্যাগের প্রস্তাব থাকে।
ট্রেডমার্কস জার্নালে প্রকাশ ও বিরোধিতা
আবেদন গৃহীত হলে ধারা ১৭ অনুযায়ী তা ট্রেডমার্কস জার্নালে বিজ্ঞাপিত হয়।[1] বিধি ১৬ অনুযায়ী নিবন্ধক টিএমআর-৫ ফরমে প্রকাশের ফি চেয়ে নোটিশ দেন; নোটিশ পাওয়ার এক মাসের মধ্যে টিএম-৯ ফরমে ফি না দিলে আবেদন পরিত্যক্ত গণ্য হয়।[3] প্রকাশের ফি ৩,০০০ টাকা।[4] নোটিশ যায় আবেদনে দেওয়া ঠিকানায়, তাই প্রতিনিধি বা অফিস বদলালে ঠিকানা হালনাগাদ করুন।
বিরোধিতার দুই মাস
ধারা ১৮(১) অনুযায়ী প্রকাশের তারিখ থেকে দুই মাসের মধ্যে যে কেউ লিখিত বিরোধিতা দাখিল করতে পারেন। নিবন্ধক এক মাসের মধ্যে কপি আবেদনকারীকে পাঠান, আর আবেদনকারীকে কপি পাওয়ার দুই মাসের মধ্যে পাল্টা বিবৃতি দিতে হয়; না দিলে আবেদন পরিত্যক্ত।[1] বিরোধিতার ফরম টিএম-৫, ফি ৫,০০০ টাকা; পাল্টা বিবৃতির ফরম টিএম-৬, ফি ৪,০০০ টাকা।[4]
এরপর সাক্ষ্য ও শুনানি শেষে নিবন্ধক আবেদন গ্রহণ, প্রত্যাখ্যান বা শর্তসাপেক্ষে গ্রহণ করেন; পুরো প্রক্রিয়া নোটিশের ৩৩০ কর্মদিবসের মধ্যে শেষ করার কথা।[2] নিবন্ধকের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ধারা ১০০ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা যায়।[1] ব্র্যান্ড মালিকেরা প্রতিটি নতুন জার্নাল নজরে রাখুন; সময় পার হলে নকল মার্ক ঠেকাতে সংশোধন বা বাতিলের দীর্ঘ পথে যেতে হয়।
নিবন্ধন সনদ ও বাস্তবে কত সময় লাগে
আবেদন গৃহীত হলে এবং বিরোধিতা না থাকলে বা আবেদনকারীর পক্ষে নিষ্পত্তি হলে, ধারা ২০(১) অনুযায়ী নিবন্ধক মার্কটি বহিতে তোলেন এবং আবেদনের তারিখকেই নিবন্ধনের তারিখ গণ্য করেন।[1] সনদের জন্য টিএম-১১ ফরম, ফি ২০,০০০ টাকা।[4] আইন বলছে, ত্রুটি, আপত্তি বা বিরোধিতা না থাকলে আবেদনের ১৫০ কর্মদিবসের মধ্যে সনদ দিতে হবে।[1]
বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ডিপিডিটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৫ সালে ১৩,৪৯২টি আবেদন জমা পড়ে, যার ৮,৭৬৫টি দেশি আবেদনকারীর; একই বছরে সনদ দেওয়া হয় ৬,৫৭৩টি, যার মধ্যে দেশি আবেদনকারী পান মাত্র ১,৩১৭টি।[7] অর্থাৎ দেশি আবেদনের বড় অংশ মাঝপথে আটকে থাকে বা ফি ও জবাবের অভাবে পরিত্যক্ত হয়। ট্রেডমার্ক নিবন্ধন পরিকল্পনা করুন মাসে নয়, বছরে।
নিচের ধাপগুলো একটি সুশৃঙ্খল আবেদনের স্বাভাবিক ক্রম। ডিপিডিটির সরকারি রেকর্ড কীভাবে পড়বেন, তা আছে আমাদের ডিপিডিটি রেকর্ড বিষয়ক ইংরেজি বিশ্লেষণে।
নাম ও অনুসন্ধান
টিএম-৪ অনুসন্ধান, প্রাক-আবেদন অনুসন্ধান এবং বাজার ও অনলাইনে একই বা কাছাকাছি নাম খোঁজা।
শ্রেণি ও পণ্য তালিকা
নিস শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী বর্তমান ও নিকট-ভবিষ্যতের পণ্য বা সেবার শ্রেণি নির্ধারণ।
অনলাইনে টিএম-১
প্রতি শ্রেণিতে আলাদা আবেদন, প্রতিনিধি থাকলে টিএম-১০, এ-চালানে ফি পরিশোধ।
পরীক্ষা ও জবাব
দুই মাসে পরীক্ষা; আপত্তি এলে দুই মাসে জবাব বা শুনানি, প্রয়োজনে টিএম-১৯-এ সময় বৃদ্ধি।
টিএম-৯ ও প্রকাশ
প্রকাশের ফি চেয়ে নোটিশ এলে এক মাসের মধ্যে টিএম-৯ দাখিল; এরপর জার্নালে প্রকাশ।
বিরোধিতার সময়
প্রকাশের পর দুই মাস নজর রাখা; বিরোধিতা এলে দুই মাসে পাল্টা বিবৃতি।
টিএম-১১ ও সনদ
গ্রহণ ও বিরোধিতা নিষ্পত্তির পর সনদের আবেদন; নিবন্ধন কার্যকর আবেদনের তারিখ থেকে।
নবায়নের হিসাব
আবেদনের সাত বছর পূর্তির অন্তত তিন মাস আগে টিএম-১২; এরপর প্রতি দশ বছরে।
সরকারি ফি ২০২৬: কোন ধাপে কত টাকা
সরকারি ফি সর্বশেষ পুনঃনির্ধারণ হয় শিল্প মন্ত্রণালয়ের ২৪ নভেম্বর ২০২১ তারিখের প্রজ্ঞাপনে, যা ২৮ ডিসেম্বর ২০২১ গেজেটে প্রকাশিত হয়ে অবিলম্বে কার্যকর হয়।[4] অক্টোবর ২০২৬-এও ডিপিডিটির ওয়েবসাইটে এটিই "পুনঃনির্ধারিত ফি" হিসেবে আছে।[6] ফোনে সারণিটি পাশে সরিয়ে দেখুন।
| ধাপ | ফরম | সরকারি ফি (টাকা) | কখন |
|---|---|---|---|
| অনুসন্ধান | টিএম-৪ | ২,০০০ | আবেদনের আগে |
| নিবন্ধনের আবেদন | টিএম-১ | ৫,০০০ | দাখিলের সময়, প্রতি শ্রেণি |
| প্রতিনিধি বা ঠিকানা অন্তর্ভুক্তি | টিএম-১০ | ১,০০০ (স্ট্যাম্প আইন অনুযায়ী) | প্রতিনিধির মাধ্যমে দাখিলে |
| সময় বৃদ্ধি | টিএম-১৯ | ৩,০০০ | প্রতিবার আবেদনে |
| জার্নালে প্রকাশ | টিএম-৯ | ৩,০০০ | নোটিশের এক মাসের মধ্যে |
| বিরোধিতা | টিএম-৫ | ৫,০০০ | প্রকাশের দুই মাসের মধ্যে |
| পাল্টা বিবৃতি | টিএম-৬ | ৪,০০০ | বিরোধিতার কপি পাওয়ার দুই মাসের মধ্যে |
| সনদ ও বহিভুক্তি | টিএম-১১ | ২০,০০০ | গ্রহণ ও বিরোধিতা নিষ্পত্তির পর |
| নবায়ন | টিএম-১২ | ২০,০০০ | মেয়াদ শেষের অন্তত তিন মাস আগে |
| বিলম্বে নবায়ন | টিএম-১৭ | ২৫,০০০ | মেয়াদ শেষের ছয় মাসের মধ্যে |
| পুনর্বহাল | টিএম-১৩ | ২৭,০০০ | মেয়াদ শেষের এক বছরের মধ্যে |
কোনো আপত্তি বা বিরোধিতা ছাড়া এক শ্রেণিতে ট্রেডমার্ক নিবন্ধন পেতে ন্যূনতম সরকারি ফি আবেদন ৫,০০০, প্রকাশ ৩,০০০ ও সনদ ২০,০০০, মোট ২৮,০০০ টাকা; তিন শ্রেণিতে এর তিন গুণ।[4] অনুসন্ধান, সময় বৃদ্ধি, বিরোধিতা ও পেশাগত ফি আলাদা। দাখিলের দিন পোর্টালে দেখানো ফি মিলিয়ে নিন।[6]
নবায়ন, বিলম্বে নবায়ন ও পুনর্বহাল
ধারা ২২ অনুযায়ী প্রথম মেয়াদ সাত বছর, আর প্রতিটি নবায়ন মূল বা সর্বশেষ নবায়নের মেয়াদ শেষের তারিখ থেকে দশ বছরের জন্য।[1] নিবন্ধন যেহেতু আবেদনের তারিখে কার্যকর, তাই প্রথম নবায়ন আসে আবেদনের সাত বছর পর।
ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের মেয়াদ বাড়ানোর সময়সীমা ও ফি
বিধি ৩৬ অনুযায়ী মেয়াদ শেষের অন্তত তিন মাস আগে টিএম-১২ ফরমে নবায়নের আবেদন করতে হয়, ফি ২০,০০০ টাকা; আবেদন না এলে নিবন্ধক দুই মাস আগে টিএমআর-৩ ফরমে নোটিশ দেন। মেয়াদ শেষের পর ছয় মাসের মধ্যে টিএম-১৭ ফরমে বিলম্বে নবায়ন করা যায়, ফি ২৫,০০০ টাকা; তাতেও না হলে মার্কটি বহি থেকে কর্তন করা যায়।[3] [4]
কর্তনের পরও মেয়াদ শেষের এক বছরের মধ্যে টিএম-১৩ ফরমে পুনর্বহালের আবেদন করা যায়, যদি নিবন্ধক তা ন্যায়সংগত মনে করেন; ফি ২৭,০০০ টাকা, যার মধ্যে নবায়ন, বিলম্ব ও পুনর্বহালের ফি অন্তর্ভুক্ত।[1] [4] পুনর্বহাল নিবন্ধকের বিবেচনা, অধিকার নয়; তাই সরকারি নোটিশের অপেক্ষা না করে নিজের ক্যালেন্ডারে তারিখ লিখে রাখুন।
পাঁচ বছর ব্যবহার না করলে
ধারা ৪২ অনুযায়ী টানা পাঁচ বছর বা তার বেশি সময় কোনো পণ্য বা সেবায় মার্কটির সৎ ব্যবহার না হলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি নিবন্ধক বা হাইকোর্ট বিভাগে সেই পণ্য বা সেবার জন্য নিবন্ধন বাতিল চাইতে পারেন।[1] প্রতিটি শ্রেণির জন্য তারিখযুক্ত চালান, মোড়ক ও বিজ্ঞাপনের নমুনা রেখে দিন।

মাদ্রিদ প্রটোকল: বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়ে
বাংলাদেশ এখনো মাদ্রিদ ব্যবস্থার সদস্য নয়। তাই বিদেশি আন্তর্জাতিক আবেদনে বাংলাদেশকে মনোনয়ন দেওয়া যায় না, আবার বাংলাদেশি ব্র্যান্ডও বিদেশে ট্রেডমার্ক নিবন্ধন করতে প্রতিটি দেশে আলাদা আবেদন করে।[8] [9] প্রস্তুতি অবশ্য চলছে: ১৯ ও ২০ মে ২০২৬ ঢাকায় বিশ্ব মেধাসম্পদ সংস্থা (উইপো) ও ডিপিডিটি জাপানের অর্থায়নে জাতীয় সেমিনার করেছে, যার লক্ষ্য ছিল মাদ্রিদ প্রটোকলে যোগদানের প্রস্তুতি এবং একটি রোডম্যাপের উপাদান নিয়ে আলোচনা।[8] যোগদান কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় পথই একমাত্র পথ, আর বিদেশি মালিকদের জন্য ছয় মাসের প্যারিস অগ্রাধিকার সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার।
ট্রেডমার্ক লঙ্ঘন কী এবং পাসিং অফ কখন
ধারা ২৬ অনুযায়ী নিবন্ধিত স্বত্বাধিকারী বা নিবন্ধিত ব্যবহারকারী নন এমন কেউ নিজের ব্যবসায় নিবন্ধিত মার্কের অভিন্ন বা প্রতারণামূলকভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ মার্ক ব্যবহার করলে লঙ্ঘন হয়: অভিন্ন মার্ক সাদৃশ্যপূর্ণ পণ্যে, সাদৃশ্যপূর্ণ মার্ক অভিন্ন পণ্যে, কিংবা অভিন্ন মার্ক অভিন্ন পণ্যে।[1] "ব্যবহার" বলতে পণ্যে বা মোড়কে মার্ক লাগানো, বিক্রির জন্য প্রদর্শন বা মজুত, আমদানি-রপ্তানি এবং ব্যবসায়িক কাগজ বা বিজ্ঞাপনে ব্যবহারও বোঝায়।[1] ফলে নকল পণ্যের গুদাম বা অনলাইন বিজ্ঞাপনদাতা একটি পণ্য বিক্রির আগেই দায়ী হতে পারেন।
পাসিং অফ: অনিবন্ধিত মার্কের সুরক্ষা
ধারা ২৪(১) অনিবন্ধিত মার্কের লঙ্ঘনের মামলা নিষিদ্ধ করলেও ধারা ২৪(২) অন্যের পণ্য বা সেবাকে নিজের বলে চালানোর বিরুদ্ধে, অর্থাৎ পাসিং অফের বিরুদ্ধে প্রতিকারের অধিকার অক্ষুণ্ণ রেখেছে।[1] পাসিং অফ প্রমাণে লাগে বাজারে সুনাম, ক্রেতাকে বিভ্রান্ত করার মতো উপস্থাপন এবং প্রকৃত বা সম্ভাব্য ক্ষতি। নিবন্ধিত মার্কের ক্ষেত্রেও আরজিতে লঙ্ঘন ও পাসিং অফ দুটোই দাবি করুন, যাতে নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ হলেও মামলা টিকে থাকে।
মোড়ক, রং ও বোতলের আকৃতি
প্যারাস্যুট নারকেল তেলের মামলায় ঢাকার জেলা জজ আদালত ট্রেডমার্ক আইনের ধারা ৯৬, ৯৭ ও ২৪(২)-এর অধীনে দায়ের করা মামলায় স্থিতাবস্থার অন্তর্বর্তী আদেশ দেন। ১৪ মার্চ ২০২২ হাইকোর্ট বিভাগ আপিল খারিজ করে বলেন, সাদৃশ্য হুবহু হওয়া জরুরি নয়; সাধারণ ক্রেতা বিভ্রান্ত হয়ে পণ্যটিকে বাদীর সঙ্গে সম্পর্কিত ভাবতে পারেন কি না, সেটিই প্রশ্ন, কারণ এমন ক্রেতা লেবেল মিলিয়ে নয়, চোখের দেখায় কেনেন।[13]
দেওয়ানি প্রতিকার: জেলা জজ আদালতে মামলা ও নিষেধাজ্ঞা
ধারা ৯৬ অনুযায়ী নিবন্ধিত মার্ক লঙ্ঘন, নিবন্ধিত মার্কের কোনো অধিকার, কিংবা নিবন্ধিত হোক বা না হোক, অভিন্ন বা সাদৃশ্যপূর্ণ মার্ক দিয়ে পাসিং অফের মামলা জেলা জজ আদালতের নিম্নতর কোনো আদালতে করা যাবে না।[1] মামলা হয় জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে, সাধারণত যেখানে বিবাদী ব্যবসা করেন বা নকল পণ্য বিক্রি হয়।
বাণিজ্যিক আদালত আইন ২০২৬
বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ ২০২৬ পরে বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ২৩ নং আইন) হিসেবে পাস হয়েছে। মেধাস্বত্ব বিরোধ এর বাণিজ্যিক বিরোধের তালিকায় আছে, আর চূড়ান্ত শুনানির তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে বিচার শেষের বিধান রয়েছে।[14] বাণিজ্যিক আদালত গঠিত এলাকায় এখতিয়ার ও কোনো মধ্যস্থতা-পূর্বশর্ত দাখিলের দিন যাচাই করুন; বিস্তারিত আছে আমাদের বাণিজ্যিক আদালত আইন বিষয়ক বিশ্লেষণে।
নিষেধাজ্ঞা, ক্ষতিপূরণ ও মুনাফার হিসাব
ধারা ৯৭(১) অনুযায়ী আদালত নিষেধাজ্ঞা দিতে পারেন এবং বাদীর পছন্দে ক্ষতিপূরণ অথবা বিবাদীর মুনাফার হিসাব দিতে পারেন, সঙ্গে লঙ্ঘনকারী লেবেল ও মার্ক ধ্বংসের জন্য হস্তান্তরের আদেশও।[1] বাস্তবে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিকার নিষেধাজ্ঞা। মামলার সঙ্গেই দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৯-এর অধীনে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন হয়, যেখানে প্রাথমিক মামলা, অপূরণীয় ক্ষতি ও সুবিধার ভারসাম্য দেখাতে হয়; কৌশল আছে আমাদের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক বিশ্লেষণে।
ধারা ৯৭(২) অনুযায়ী বিবাদী যদি প্রমাণ করেন যে ব্যবহার শুরুর সময় তিনি বাদীর নিবন্ধনের কথা জানতেন না এবং জানামাত্র ব্যবহার বন্ধ করেছেন, তাহলে ক্ষতিপূরণ বা মুনাফার হিসাব মিলবে না; পাসিং অফেও একই নীতি।[1] তাই সৎ প্রতিদ্বন্দ্বীকে মামলার আগে সুনির্দিষ্ট আইনি নোটিশ দিন, যাতে পরে অজ্ঞতার দাবি না টেকে। সংগঠিত নকলকারীকে আগে নোটিশ দিলে মাল সরে যায়; সেখানে আগে অভিযান বা মামলা, পরে চিঠি।
ফৌজদারি প্রতিকার: ধারা ৭১ থেকে ৭৭
ধারা ৭১ ব্যাখ্যা করে কখন কেউ পণ্যে, মোড়কে, বিজ্ঞাপনে, চালানে বা ব্যবসায়িক কাগজে ট্রেডমার্ক বা ট্রেড বর্ণনা "ব্যবহার" করেছেন বলে গণ্য হবেন। ধারা ৭২ অনুযায়ী মালিকের সম্মতি ছাড়া মার্ক বা সাদৃশ্যপূর্ণ মার্ক তৈরি, আসল মার্ক বিকৃত করা, কিংবা মালিকের মার্কযুক্ত মোড়কে অন্য পণ্য ভরা মিথ্যা ট্রেডমার্ক; সম্মতির প্রমাণের দায় অভিযুক্তের।[1]
ধারা ৭৩ ও ৭৪: নকল তৈরি ও বিক্রি
ধারা ৭৩ অনুযায়ী মার্ক জাল করা, পণ্যে মিথ্যাভাবে মার্ক ব্যবহার, জাল করার ছাঁচ বা যন্ত্র তৈরি বা রাখা, মিথ্যা ট্রেড বর্ণনা কিংবা উৎপত্তিস্থল বা প্রস্তুতকারকের মিথ্যা পরিচয় দেওয়ার দণ্ড অন্যূন ছয় মাস ও অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ড, বা অন্যূন ৫০,০০০ ও অনধিক ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয়। দ্বিতীয়বার দোষী হলে এক থেকে তিন বছর, বা ১ থেকে ৩ লাখ টাকা, বা উভয়।[1]
ধারা ৭৪ নকল মার্কযুক্ত পণ্য বিক্রি, প্রদর্শন বা বিক্রির জন্য দখলে রাখার জন্য একই দণ্ড রেখেছে। বিক্রেতা রেহাই পান যদি প্রমাণ করেন যে যুক্তিসংগত সতর্কতা নিয়েছিলেন, চাহিদামতো সরবরাহকারীর সব তথ্য দিয়েছেন, অথবা সরল বিশ্বাসে কাজ করেছেন।[1] খুচরা বিক্রেতা সরবরাহকারীর নাম বললে তদন্তের পরের লক্ষ্য মেলে।
ধারা ৭৫ থেকে ৭৭ ও বিচারের নিয়ম
ধারা ৭৫ নির্ধারিত চিহ্ন ছাড়া বস্ত্রের টুকরা পণ্য বা সুতা বিক্রির জন্য পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড ও বাজেয়াপ্তির বিধান রেখেছে। ধারা ৭৬ অনিবন্ধিত মার্ককে নিবন্ধিত দেখানো এবং ধারা ৭৭ ব্যবসার স্থানকে ট্রেডমার্ক অফিসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে বর্ণনার জন্য ছয় মাস থেকে এক বছরের কারাদণ্ড, বা ৫০,০০০ থেকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয়ের বিধান রেখেছে; এ দুটি অপরাধ আমলে নেওয়া হয় কেবল নিবন্ধক বা তাঁর ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগে।[1]
ধারা ৭৩ বা ৭৪-এ দণ্ড হলে আদালত পণ্য ও সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত ও ধ্বংসের আদেশ দিতে পারেন (ধারা ৭৯)। কোম্পানি অপরাধ করলে পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরাও দায়ী, যদি না প্রমাণ করেন অপরাধ তাঁদের অজ্ঞাতে হয়েছে (ধারা ৮২)। বিচার করেন মেট্রোপলিটন বা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট, আর মামলা করতে হয় অপরাধের তিন বছর বা উদ্ঘাটনের দুই বছরের মধ্যে, যেটি আগে শেষ হয় (ধারা ৮৩ ও ৮৬)।[1]

সীমান্তে কাস্টমস ব্যবস্থা: আমদানি করা নকল পণ্য আটকানো
কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৭(১) অনুযায়ী ভুয়া ভৌগোলিক নির্দেশকযুক্ত পণ্য, নকল ট্রেডমার্কযুক্ত পণ্য এবং ট্রেডমার্ক আইনের ধারা ২(৫)-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী মিথ্যা ট্রেড বর্ণনাযুক্ত পণ্য আমদানি বা রপ্তানি নিষিদ্ধ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ৯ নভেম্বর ২০২৫ আইনটির নির্ভরযোগ্য ইংরেজি পাঠ প্রকাশ করেছে।[11]
মেধাস্বত্ব প্রয়োগ বিধিমালা ২০১৯
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মেধাস্বত্ব প্রয়োগ (আমদানি ও রপ্তানি) বিধিমালা ২০১৯ অনুযায়ী অধিকারধারী কাস্টমস কমিশনারকে নোটিশ দিয়ে সন্দেহজনক চালান আটকাতে বলতে পারেন। নোটিশ এক বছর বহাল থাকে, কাস্টমস ৩০ দিনের মধ্যে গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান জানায়, আর অধিকারধারীকে নিরাপত্তা বন্ড দিতে হয়। অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য ছাড়তে হয় এবং খরচ অধিকারধারীর; লঙ্ঘন প্রমাণিত হলে খরচ আমদানিকারক বা রপ্তানিকারকের। কাস্টমস নিজ উদ্যোগেও পণ্য আটকাতে পারে।[12] বিধিমালাটি সংশোধনের কাজ চলছে, তাই সর্বশেষ পাঠ দেখে নিন।[9]
ট্রেডমার্ক আইনের ধারা ১০৯ অনুযায়ী বন্দরের কাস্টমস কমিশনার আমদানিকারককে ১৪ দিনের মধ্যে কাগজপত্র এবং প্রেরক ও প্রাপকের নাম-ঠিকানা দিতে বলতে পারেন এবং তা নিবন্ধিত মালিককে জানাতে পারেন।[1] কাস্টমসকে নিবন্ধন সনদ, আসল পণ্যের নমুনা ও সন্দেহভাজন আমদানিকারকের তথ্য দিন; বৃহত্তর কাঠামো আছে আমাদের কাস্টমস আইন বিষয়ক বিশ্লেষণে।
মার্কিন সরকারের নির্দেশিকা বলছে, বাংলাদেশে নকল পণ্য সহজলভ্য, পুলিশ অভিযোগ পেলে তদন্ত করে কিন্তু নিজ উদ্যোগে কম, আর অভিযান প্রায়ই ব্যয়বহুল ও ধীর।[9] তাই দেওয়ানি নিষেধাজ্ঞা, ফৌজদারি মামলা ও কাস্টমস ব্যবস্থা একসঙ্গে পরিকল্পনা করুন; বিস্তারিত কৌশল আছে আমাদের ট্রেডমার্ক লঙ্ঘন বিষয়ক ইংরেজি বিশ্লেষণে ও মেধাসম্পদ লঙ্ঘন বিশ্লেষণে।
ট্রেডমার্ক নিবন্ধন ও প্রয়োগে সাধারণ ভুল
- অনুসন্ধান ছাড়া লোগো ও মোড়ক ছাপানো: পরে নাম বদলানোর খরচ অনুসন্ধানের বহু গুণ।
- কোম্পানির নাম বা ট্রেড লাইসেন্সকে ট্রেডমার্ক ভাবা: এগুলো মার্কে একচেটিয়া অধিকার দেয় না।
- কম শ্রেণিতে আবেদন: প্রতিদ্বন্দ্বী পাশের শ্রেণিতে আপনার নাম নিতে পারে।
- প্রকাশের ফি দিতে দেরি: টিএম-৯ নোটিশের এক মাস পার হলে আবেদন পরিত্যক্ত।[3]
- জার্নাল না দেখা: বিরোধিতার দুই মাস পার হলে নকল মার্ক ঠেকানো কঠিন।
- সনদের তারিখ থেকে মেয়াদ গোনা: মেয়াদ চলে আবেদনের তারিখ থেকে।
- পরিবেশককে নিজের নামে আবেদন করতে দেওয়া: পরে মার্ক ফেরত পেতে মামলা লাগে।
- স্বত্বনিয়োগ বা ঠিকানা বদল লিপিবদ্ধ না করা: টিএম-২৪ ও টিএম-৩৩ অনলাইনেই দাখিলযোগ্য।[5]
- নকলকারীকে আগে নোটিশ পাঠানো: প্রমাণ আগে সংগ্রহ করুন।
সংক্ষেপে: নাম ঠিক করার আগে অনুসন্ধান, প্রয়োজনীয় সব শ্রেণিতে আবেদন, প্রতিটি নোটিশের সময়সীমা ক্যালেন্ডারে, আর নকল দেখলে আগে প্রমাণ, তারপর তিন পথ একসঙ্গে। TRW-এর ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন ও পরামর্শ প্র্যাকটিস আবেদন থেকে নবায়ন পর্যন্ত, আর মেধাসম্পদ বিরোধ ও প্রয়োগ প্র্যাকটিস মামলা, অভিযান ও কাস্টমস ব্যবস্থা দেখে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
ট্রেডমার্ক নিবন্ধন করতে কত টাকা লাগে?
প্রতি শ্রেণিতে সরকারি ফি: আবেদন ৫,০০০, জার্নালে প্রকাশ ৩,০০০ ও সনদ ২০,০০০ টাকা, মোট ২৮,০০০ টাকা। অনুসন্ধান ২,০০০ টাকা। আপত্তি, বিরোধিতা ও পেশাগত ফি আলাদা।[4]
নিবন্ধন পেতে কত সময় লাগে?
অনলাইনে কি আবেদন করা যায়?
এক আবেদনে কি একাধিক শ্রেণি দেওয়া যায়?
না। ধারা ১৫(২) অনুযায়ী প্রতিটি শ্রেণির জন্য আলাদা আবেদন ও আলাদা ফি।[1]
বিরোধিতা করার সময়সীমা কত?
জার্নালে প্রকাশের তারিখ থেকে দুই মাস। আবেদনকারী বিরোধিতার কপি পাওয়ার দুই মাসের মধ্যে পাল্টা বিবৃতি না দিলে আবেদন পরিত্যক্ত হয়।[1]
ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের মেয়াদ কত বছর?
বাংলাদেশ কি মাদ্রিদ প্রটোকলের সদস্য?
নিবন্ধন না থাকলে কি নকলের বিরুদ্ধে মামলা করা যায়?
লঙ্ঘনের মামলা নয়, তবে পাসিং অফের মামলা করা যায়। সেখানে সুনাম, বিভ্রান্তিকর উপস্থাপন ও ক্ষতি প্রমাণ করতে হয়।[1]
ট্রেডমার্ক লঙ্ঘনের মামলা কোন আদালতে হয়?
নকল ট্রেডমার্কের শাস্তি কী?
ধারা ৭৩ ও ৭৪ অনুযায়ী ছয় মাস থেকে দুই বছরের কারাদণ্ড বা ৫০,০০০ থেকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়; পুনরায় দোষী হলে এক থেকে তিন বছর বা ১ থেকে ৩ লাখ টাকা। পণ্য বাজেয়াপ্তও হতে পারে।[1]
সূত্র তালিকা
প্রাথমিক আইনি ও নিয়ন্ত্রক সূত্র
উপকরণ যাচাইয়ের তারিখ ২১ অক্টোবর ২০২৬। কোনো বিধানের ওপর নির্ভর করার আগে সর্বশেষ সরকারি পাঠ মিলিয়ে নিন।
- ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ১৯ নং আইন): গেজেট পাঠ (২৪ মার্চ ২০০৯) ও সরকারি ইংরেজি অনুবাদ — WIPO Lex
- ট্রেডমার্ক (সংশোধন) আইন, ২০১৫ (২০১৫ সনের ২৩ নং আইন), বাংলাদেশ গেজেট, ২১ নভেম্বর ২০১৫ — WIPO Lex
- ট্রেডমার্ক বিধিমালা, ২০১৫ (এসআরও নং ২৭২-আইন/২০১৫) — ডিপিডিটি
- শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন, ২৪ নভেম্বর ২০২১ (বাংলাদেশ গেজেট, ২৮ ডিসেম্বর ২০২১) — ট্রেডমার্কস পুনঃনির্ধারিত ফি সিডিউল, ডিপিডিটি
- ডিপিডিটি, ১৬ জুলাই ২০২৬ — অনলাইন আবেদন বিষয়ক হালনাগাদ তথ্য (অনলাইনে দাখিলযোগ্য ট্রেডমার্ক ফরম)
- ডিপিডিটি, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ — অনলাইন আবেদন: ই-ফাইলিং পোর্টাল, এ-চালান ও ফি তালিকা
- ডিপিডিটি — ট্রেডমার্কস পরিসংখ্যান ২০১৫–২০২৫ (হালনাগাদ ১৯ মে ২০২৬)
- WIPO, May 2026 — Enhancing Understanding of the Madrid System: National Seminar in Bangladesh (Dhaka, 19–20 May 2026)
- International Trade Administration, 19 March 2026 — Bangladesh Country Commercial Guide: Protecting Intellectual Property
- The Business Standard, 26 June 2025 — Madrid Protocol and the Trademark (Amendment) Act 2025: Is Bangladesh ready?
- Customs Act 2023 (Act No. 57 of 2023), section 17 — Authentic English Text, SRO No. 441-Law/2025 (9 November 2025), National Board of Revenue
- The Financial Express, 22 November 2019 — Customs get teeth to tackle IPR violation (IPR Enforcement (Import and Export) Rules 2019)
- সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ — Asian Consumer Care (Pvt) Ltd v Marico Limited, F.M.A. No. 76 of 2021, রায় ১৪ মার্চ ২০২২
- The Daily Star, 1 April 2026 — A review of the Commercial Court Ordinance 2026
TRW-এর সহায়তা
তথ্য থেকে সুনির্দিষ্ট পরবর্তী পদক্ষেপে
TRW ট্রেডমার্ক অনুসন্ধান, ডিপিডিটিতে আবেদন, আপত্তির জবাব, বিরোধিতা, নবায়ন ও পুনর্বহাল এবং নকলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার মামলা, ফৌজদারি অভিযোগ ও কাস্টমস ব্যবস্থায় দেশি ও বিদেশি ব্র্যান্ড মালিকদের পরামর্শ দেয়। দেখুন আমাদের ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন ও পরামর্শ প্র্যাকটিস ও মেধাসম্পদ বিরোধ ও প্রয়োগ প্র্যাকটিস, অথবা আপনার বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে TRW-এর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।