TRW Insight / বাংলাদেশ
বিদেশি কোম্পানির শাখা, লিয়াজোঁ বা প্রতিনিধি অফিস আর স্থানীয় অংশীদারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ, প্রতিটির অনুমতি, রেমিট্যান্স, আরজেএসসি দাখিল, কর ও প্রস্থানের নিয়ম আলাদা। শুরুতেই সঠিক কাঠামো বাছলে পরে টাকা আটকায় না।
ব্রাঞ্চ অফিস, লিয়াজোঁ অফিস ও যৌথ উদ্যোগ: ২০২৬ সালের আইনি কাঠামো
বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশে পা রাখতে চাইলে প্রথম প্রশ্নটি আইনি নয়, বাণিজ্যিক: এখানে কী কাজ হবে? বিক্রি, চুক্তি সম্পাদন ও স্থানীয় আয় করতে চাইলে সাধারণত ব্রাঞ্চ অফিস বা স্থানীয় কোম্পানি লাগে; শুধু বাজার যাচাই, যোগাযোগ ও সমন্বয়ের জন্য লিয়াজোঁ বা প্রতিনিধি অফিস যথেষ্ট; আর স্থানীয় অংশীদারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসা গড়তে চাইলে যৌথ উদ্যোগ কোম্পানি। ভুল কাঠামো বেছে নিলে পরে ব্যাংক টাকা পাঠাতে দেয় না, কর বিভাগ প্রশ্ন তোলে, আর অনুমতিপত্রের শর্ত ভঙ্গের দায় এসে পড়ে।
এই লেখায় একসঙ্গে পুরো পথটি দেখানো হয়েছে: ব্রাঞ্চ অফিস ও লিয়াজোঁ অফিসের অনুমতি, ফি ও কাগজপত্র, ৫০,০০০ ডলারের রেমিট্যান্স, কার্যক্রমের সীমা, নবায়ন, আরজেএসসি দাখিল, বাংলাদেশ ব্যাংকে রিপোর্টিং, কর, অফিস বন্ধ, এবং জেভি কাঠামো ও চুক্তির মূল ধারা।

সারসংক্ষেপ: ব্রাঞ্চ অফিস, লিয়াজোঁ বা প্রতিনিধি অফিস খুলতে ইনভেস্ট বাংলাদেশের (সাবেক বিডা) অনুমতি লাগে; ফি ২৫,০০০ টাকা, ঘোষিত সময় ১৬ কর্মদিবস। প্রাথমিক অনুমতি সাধারণত তিন বছরের। দুই মাসের মধ্যে অন্তত ৫০,০০০ মার্কিন ডলার আনতে হয়, আর ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে রিপোর্ট ও আরজেএসসিতে দলিল দাখিল করতে হয়। লিয়াজোঁ অফিস আয় করতে পারে না; শাখা অনুমোদিত কাজে আয় করে কর পরিশোধের পর মুনাফা পাঠাতে পারে। জেভি সাধারণত প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি, যার ভিত্তি সংঘবিধি ও শেয়ারহোল্ডার চুক্তি।
মূল বিষয়: আগস্ট ২০২৬ থেকে বিডা, বেজা ও পিপিপিএ একীভূত হয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কাজ শুরু করেছে, আর বাংলাবিজ প্ল্যাটফর্ম চালু রয়েছে।[15] খুঁটিনাটি নিয়ম এখনো বিডার ২০২৩ সালের নির্দেশিকায়।[6] তাই আবেদনের আগে নতুন কর্তৃপক্ষের হালনাগাদ ফরম, ফি ও কাগজপত্রের তালিকা মিলিয়ে নিন।
এক নজরে
অনুমতি
শাখা, লিয়াজোঁ ও প্রতিনিধি অফিসের অনুমতি ইনভেস্ট বাংলাদেশের (সাবেক বিডা) বাণিজ্যিক শাখা থেকে; ফি ২৫,০০০ টাকা, সময় ১৬ কর্মদিবস।
রেমিট্যান্স
অনুমতির দুই মাসের মধ্যে অন্তত ৫০,০০০ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকিং চ্যানেলে আনতে হয়।
দুটি ৩০ দিনের ঘড়ি
অনুমতির ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে রিপোর্ট এবং আরজেএসসিতে বিদেশি কোম্পানির দলিল দাখিল।
মেয়াদ ও নবায়ন
প্রাথমিক অনুমতি তিন বছরের; মেয়াদ শেষের অন্তত দুই মাস আগে ১০,০০০ টাকা ফিসহ নবায়নের আবেদন।
যৌথ উদ্যোগ
অধিকাংশ খাতে শতভাগ বিদেশি মালিকানা চলে; কিছু খাতে স্থানীয় মালিকানা বা মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি লাগে।
সূচিপত্র
বিদেশি কোম্পানির সামনে চারটি পথ
বাংলাদেশে বিদেশি কোম্পানির উপস্থিতির আইনি রূপ মূলত চারটি। প্রথম তিনটি, অর্থাৎ শাখা, লিয়াজোঁ বা প্রতিনিধি এবং প্রকল্প অফিস, আলাদা আইনগত সত্তা নয়; এগুলো বিদেশি মূল কোম্পানিরই অংশ, ফলে অফিসের সব দায় শেষ পর্যন্ত মূল কোম্পানির। চতুর্থ পথ হলো আরজেএসসিতে নিবন্ধিত স্থানীয় কোম্পানি, যা পুরোপুরি বিদেশি মালিকানার সাবসিডিয়ারি বা স্থানীয় অংশীদারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক শাখা, লিয়াজোঁ, প্রতিনিধি, প্রকল্প এবং যৌথ উদ্যোগ, কনসোর্টিয়াম ও অ্যাসোসিয়েশন অফিসকে একই নীতিকাঠামোর আওতায় রেখেছে।[6]
ব্রাঞ্চ অফিস বা শাখা অফিস
ব্রাঞ্চ অফিস মূল কোম্পানির নামে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক কাজ করে। ২০২৩ সালের নির্দেশিকায় অনুমোদিত কাজের তালিকায় আছে মূল কোম্পানির পণ্যের এজেন্সি বিক্রয়, বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রতিনিধিত্ব, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কারিগরি বা আর্থিক সহায়তা, পেশাগত ও পরামর্শ সেবা, ঠিকাদারি, বিক্রয় প্রসার, বিদেশি এয়ারলাইন ও শিপিং কোম্পানির প্রতিনিধিত্ব এবং অনুমোদন সাপেক্ষে আমদানি-রপ্তানি।[11] তালিকার বাইরের কাজের জন্য আলাদা অনুমোদন লাগে।[11]
লিয়াজোঁ ও প্রতিনিধি অফিস
লিয়াজোঁ অফিস ও প্রতিনিধি অফিস মূলত মূল কোম্পানির চোখ ও কান। এরা মূল কোম্পানি এবং বাংলাদেশের সরবরাহকারী, রপ্তানিকারক, আমদানিকারক বা পরিবেশকের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় করে, অনুমোদিত ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও বিতরণ করে।[11] [12] এরা সরাসরি পণ্য বা সেবা কেনাবেচা বা মূল্য সংযোজনমূলক কাজ করতে পারে না, এবং স্থানীয় আয় করতে পারে না।[11] ভাড়া, বেতন ও সব খরচ বিদেশের প্রধান কার্যালয় থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে পাঠানো অর্থে মেটাতে হয়।[11] সরকারি সূত্রগুলোর ভূমিকা আমাদের প্রতিনিধি অফিস বিষয়ক ইংরেজি বিশ্লেষণে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
প্রকল্প অফিস
উন্নয়ন খাতের নির্দিষ্ট প্রকল্পে নির্বাচিত বিদেশি প্রতিষ্ঠান, ঠিকাদার, উপ-ঠিকাদার বা যৌথ উদ্যোগ, কনসোর্টিয়াম ও অ্যাসোসিয়েশন (জেভিসিএ) প্রকল্প অফিস খুলতে পারে, যার নিয়ম অনেকটা শাখা অফিসের মতো।[11] আবেদনের সঙ্গে প্রকল্পের বিবরণ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ইপিসি ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তির কপি দিতে হয়।[1]
স্থানীয় কোম্পানি ও যৌথ উদ্যোগ
দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন, বিস্তৃত বিক্রয় বা স্থানীয় অংশীদারের সম্পদ কাজে লাগাতে চাইলে স্থানীয় কোম্পানিই উপযুক্ত। ব্রাঞ্চ অফিসের অনুমতি অনুমোদিত কাজ ও মেয়াদে বাঁধা, কিন্তু কোম্পানি সংঘস্মারকের সীমায় যেকোনো বৈধ ব্যবসা করতে পারে। কোম্পানি গঠনের ধাপ ও খরচ আমাদের কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন বিষয়ক বাংলা নির্দেশিকায় আছে।
২০২৬ সালের পরিবর্তন: বিডা থেকে ইনভেস্ট বাংলাদেশ
ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সালের ১০৪ নং আইন) বিনিয়োগ প্রশাসনের কাঠামো বদলে দিয়েছে।[16] গেজেট প্রকাশের পর ২৩ আগস্ট ২০২৬ থেকে বিডা, বেজা ও পিপিপিএ একীভূত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কাজ শুরু করেছে, এবং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে বাংলাবিজ প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।[15] ইনভেস্ট বাংলাদেশের প্রশ্নোত্তর পাতায় শাখা, লিয়াজোঁ, প্রতিনিধি ও প্রকল্প অফিসের নিবন্ধনের নিয়ম আগের মতোই দেখানো হয়েছে।[4]
সমস্যা হলো, খুঁটিনাটি নিয়মগুলো এখনো পুরোনো নথিতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি অফিস বিষয়ক পাতা নীতিকাঠামো হিসেবে বিডা আইন, ২০১৬ এবং বিদেশি বাণিজ্যিক অফিস স্থাপন, ভিসা সুপারিশ ও ওয়ার্ক পারমিট বিষয়ক বিডার ২০২৩ সালের নির্দেশিকার উল্লেখ করে।[6] বোর্ড সিদ্ধান্ত ও আবেদনে নতুন কর্তৃপক্ষের নাম ব্যবহার করুন। পুরো অনুমোদন-মানচিত্র আমাদের বিনিয়োগ অনুমোদন বিষয়ক ইংরেজি বিশ্লেষণে আছে।
ব্রাঞ্চ অফিস খোলার অনুমতি: যোগ্যতা, কাগজপত্র ও ফি
শাখা, লিয়াজোঁ ও প্রতিনিধি অফিস তিনটির আবেদন একই সেবার আওতায় হয়: অনলাইনে ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) পোর্টালে আবেদন, তারপর সব কাগজের হার্ড কপি বাণিজ্যিক শাখায় জমা।[1] [4] লক্ষ করুন, সাধারণ বাণিজ্যিক ও ট্রেডিং কাজের জন্য প্রকল্প নিবন্ধন বাধ্যতামূলক নয়, কিন্তু বিদেশি কোম্পানির অফিসের জন্য এই অনুমতিই প্রবেশদ্বার।[4]
যোগ্যতা ও আর্থিক শর্ত
জেট্রোর সারসংক্ষেপ অনুযায়ী ২০২৩ সালের নির্দেশিকা শাখা খোলার জন্য মূল কোম্পানির সাম্প্রতিক তিন অর্থবছরের মুনাফা ও নির্দিষ্ট ন্যূনতম নিট সম্পদের শর্ত দেয়; মূল কোম্পানি শর্ত পূরণ না করলে তার সাবসিডিয়ারি বা হোল্ডিং কোম্পানির ক্ষেত্রে আলাদা শর্ত, যেমন সচ্ছলতার প্রমাণ, প্রযোজ্য হয়।[11] একমালিকানা প্রতিষ্ঠানের অধীনে শাখা বা লিয়াজোঁ অফিস সাধারণত নিরুৎসাহিত করা হয়, এবং প্রতিটি অতিরিক্ত অফিসের জন্য আলাদা পূর্বানুমতি লাগে।[12] অফিস ও ওয়ার্ক পারমিটের অনুমোদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা ছাড়পত্রের ওপর নির্ভর করে; ছাড়পত্র না এলে নবায়নও আটকে যায়।[12]
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সত্যায়ন
বিডার সেবা পাতায় তালিকাভুক্ত কাগজপত্র:[1]
- বাংলাদেশে অফিস খোলার বিষয়ে মূল কোম্পানির বোর্ড সিদ্ধান্ত; প্রকল্প অফিসের ক্ষেত্রে প্রকল্পের বিবরণ ও ইপিসি ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি।
- মূল কোম্পানির সর্বশেষ অর্থবছরের নিরীক্ষিত হিসাব।
- প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রাম, বিদেশি ও স্থানীয় পদসহ।
- মূল কোম্পানির কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ এবং পরিচালক বা মালিকদের নাম ও জাতীয়তা।
- মূল কোম্পানির সংঘস্মারক ও সংঘবিধি এবং নিগমন সনদ।
- আবেদন দাখিলের জন্য ব্যবস্থাপনার ক্ষমতাপত্র।
- প্রস্তাবিত অফিসের পরিকল্পিত কাজ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিবরণ, এবং প্রয়োজনে অন্যান্য সহায়ক দলিল।
বিদেশে তৈরি দলিল সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ মিশন বা সেই দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী চেম্বার দিয়ে সত্যায়িত করতে হয়।[1] শুধু অ্যাপোস্টিল বা নোটারি যথেষ্ট, এমন ধরে নেবেন না। বিদেশি ভাষার দলিলের প্রত্যায়িত বাংলা বা ইংরেজি অনুবাদ পরে আরজেএসসিতেও লাগবে।[8]
ফি, সময় ও আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি
অফিস খোলার আবেদন ফি ২৫,০০০ টাকা, যা ওএসএসের মাধ্যমে অনলাইনে দিতে হয়; ঘোষিত সেবার সময় ১৬ কর্মদিবস, তবে তা আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে।[1] ফির ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট যোগ হয়।[12] ১৬ কর্মদিবস নিশ্চয়তা নয়; সত্যায়ন ও নিরাপত্তা ছাড়পত্রে বাস্তবে সময় বেশি লাগে, তাই ভাড়া চুক্তি ও কর্মী পাঠানোর তারিখ অনুমতির ওপর নির্ভরশীল রাখুন।

অনুমতিপত্রের শর্ত: রেমিট্যান্স ও কার্যক্রমের সীমা
অনুমতিপত্র আসলে শর্তের তালিকা। অফিসের প্রতিটি চুক্তি, নিয়োগপত্র ও চালান এই শর্তের সঙ্গে মিলতে হবে, কারণ নবায়ন ও বন্ধের সময় এগুলোই যাচাই হয়।
৫০,০০০ ডলারের প্রারম্ভিক রেমিট্যান্স
অনুমতির তারিখ থেকে দুই মাসের মধ্যে অন্তত ৫০,০০০ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশে আনতে হয়।[4] অর্থ আসবে বাংলাদেশের তফসিলি ব্যাংকে অফিসের নামে খোলা হিসাবে।[12] এটি শেয়ার মূলধন নয়, অফিসের খরচের তহবিল। ব্যাংকের এনক্যাশমেন্ট সনদটি রিপোর্টিং, আরজেএসসি দাখিল ও ভিসা সুপারিশে লাগে।
শাখা অফিস কী করতে পারে
শাখা অনুমোদিত কাজের মধ্যে থেকে স্থানীয় আয় করতে পারে, তবে অনুমতিপত্রের মানক শর্তে স্থানীয় আয় জমার বিষয়ে বিধিনিষেধ থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, আয় শুরু হলে শাখা অনুমতিপত্রের ৭ নম্বর শর্ত মওকুফ চাইতে পারে, আর মুনাফা বিদেশে পাঠাতে ৮ নম্বর শর্তের মওকুফ লাগে।[6] অর্থাৎ আয় করার অধিকার আপনাআপনি আসে না; সরকার বা স্থানীয় আয়ের উৎসের সঙ্গে চুক্তি ও আয়ের প্রমাণ দেখিয়ে আলাদা আবেদন করতে হয়। শাখা আমদানি-রপ্তানিতে যুক্ত হলে আমদানি ও রপ্তানি নিবন্ধন সনদও লাগে।[4]
লিয়াজোঁ অফিস কী করতে পারে না
লিয়াজোঁ অফিস বিক্রয় চালান ইস্যু, দাম নিয়ে চুক্তি সম্পাদন বা স্থানীয় গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করতে পারে না।[11] বাংলাদেশ ব্যাংক কেবল স্ক্র্যাপ বিক্রি বা নমুনা পণ্যের মতো সীমিত অর্থ স্থানীয় হিসাবে জমার অনুমতি চাওয়ার সুযোগ রেখেছে।[6] কর্মীদের দিয়ে অর্ডার নেওয়া বা দর চূড়ান্ত করানো শর্ত ভঙ্গ করে এবং স্থায়ী প্রতিষ্ঠানের কর-প্রশ্ন তোলে। আয়ের পরিকল্পনা থাকলে শুরুতেই ব্রাঞ্চ অফিস বা স্থানীয় কোম্পানি বেছে নিন।
অন্যান্য শর্ত ও রিটার্ন
- বিদেশি রেমিট্যান্স থেকে আয়-ব্যয়ের ত্রৈমাসিক রিটার্ন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বাংলাদেশ ব্যাংকে দাখিল।[12]
- ঠিকানা পরিবর্তনের আগে অনুমোদন, এবং কার্যক্রম বাড়াতে চাইলে সংশোধনের আবেদন।[12]
- বিদেশি নাগরিকের জন্য ওয়ার্ক পারমিট; জেট্রোর হিসাবে অ-উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানে শুরুতে প্রতি বিদেশির বিপরীতে ৫ জন এবং স্বাভাবিক পরিচালনায় ১০ জন স্থানীয় কর্মী।[11]
- ভাড়া, বেতন, পণ্য, সেবা ও ঠিকাদারির পরিশোধে উৎসে কর কর্তন ও জমা, এবং টিআইএন ও বিআইএন নিবন্ধন।[12]
বিদেশি কর্মীর ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের বিস্তারিত নিয়ম আমাদের বিদেশি কর্মী নিয়োগ বিষয়ক ইংরেজি বিশ্লেষণে আছে।
আরজেএসসিতে বিদেশি কোম্পানি হিসেবে দাখিল: কোম্পানী আইনের দশম খণ্ড
অনুমতির পরের আইনি ধাপ আরজেএসসি। কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ এর দশম খণ্ড "বিদেশী কোম্পানী নিবন্ধন ইত্যাদি", যার ৩৭৮ ধারা অনুযায়ী ৩৭৯ থেকে ৩৮৭ ধারা বাংলাদেশের বাইরে নিগমিত এবং বাংলাদেশে ব্যবসাস্থল বা কর্মস্থল প্রতিষ্ঠাকারী সব কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।[8] এতে নতুন কোম্পানি সৃষ্টি হয় না; আরজেএসসি দলিল নথিভুক্ত করে দাখিল সনদ দেয়। ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্দেশনা অনুযায়ী অনুমতি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে আরজেএসসিতে আবেদন করতে হয়।[4]
৩৭৯ ধারার দলিল
৩৭৯ ধারা অনুযায়ী ব্যবসাস্থল প্রতিষ্ঠার ত্রিশ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রারের কাছে দাখিল করতে হয়:[8]
- কোম্পানির সনদ, আইন বা সংঘস্মারক ও সংঘবিধির প্রত্যায়িত অনুলিপি, এবং দলিল ইংরেজি বা বাংলায় না হলে প্রত্যায়িত অনুবাদ।
- বিদেশে নিবন্ধিত বা প্রধান কার্যালয়ের পূর্ণ ঠিকানা।
- পরিচালক ও সচিবের (যদি থাকে) তালিকা।
- কোম্পানির পক্ষে নোটিশ ও পরোয়ানা গ্রহণে ক্ষমতাপ্রাপ্ত বাংলাদেশে বসবাসকারী এক বা একাধিক ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা।
- বাংলাদেশে অফিসের পূর্ণ ঠিকানা, যা প্রধান ব্যবসাস্থল বলে গণ্য হবে।
এর যেকোনো তথ্য বদলালে নির্ধারিত সময়ে রেজিস্ট্রারের কাছে পরিবর্তনের রিটার্ন দাখিল করতে হয়।[8] দলিল নিবন্ধনের ফি আইনের তফসিল-২ অনুযায়ী।[8] নোটিশ গ্রহণকারী ব্যক্তিকে ভেবেচিন্তে মনোনীত করুন: তাঁর ঠিকানায় পাঠানো নোটিশ আইনত কোম্পানির ওপর জারি বলে গণ্য হয়।[8] ধাপভিত্তিক ফরম ও দাখিলের বিবরণ আমাদের বিদেশি কোম্পানি নিবন্ধন বিষয়ক ইংরেজি বিশ্লেষণে আছে।
হিসাব দাখিল ও নাম প্রদর্শন
৩৮০ ধারা অনুযায়ী প্রত্যেক বিদেশি কোম্পানিকে প্রতি ইংরেজি পঞ্জিকা বছরে ব্যালান্স শীট, অথবা মুনাফার জন্য গঠিত না হলে আয়-ব্যয়ের হিসাব, এবং বাংলাদেশের ব্যবসার লাভ-ক্ষতির হিসাব তৈরি করে তিন কপি রেজিস্ট্রারের কাছে দাখিল করতে হয়।[8] ৩৮১ ধারা অনুযায়ী প্রতিটি অফিসের সামনে এবং বিল, চিঠিপত্র ও নোটিশে কোম্পানির নাম ও নিগমনের দেশ সহজপাঠ্য বাংলা বা ইংরেজি হরফে দেখাতে হয়; সদস্যদের দায় সীমিত হলে তাও উল্লেখ করতে হয়।[8]
ব্যর্থতার দণ্ড ও মামলার অক্ষমতা
দশম খণ্ডের কোনো বিধান না মানলে ৩৮৪ ধারায় কোম্পানির অনধিক পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং ব্যর্থতা চললে প্রতিদিন অনধিক পাঁচশত টাকা অতিরিক্ত অর্থদণ্ড হতে পারে; জেনেশুনে দায়ী কর্মকর্তা বা প্রতিনিধিও একই দণ্ডে দণ্ডনীয়।[8] বেশি বিপজ্জনক ৩৮৫ ধারা: অপালনে কোম্পানির চুক্তি অবৈধ হয় না এবং তার বিরুদ্ধে মামলা চলে, কিন্তু বিধান না মানা পর্যন্ত কোম্পানি নিজে মামলা, পাল্টা দাবি বা আইনানুগ কার্যধারা আনতে পারে না।[8]
ব্যাংক হিসাব ও বাংলাদেশ ব্যাংকে রিপোর্টিং
বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭ এর ১৮খ(১) ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশে নিগমিত নয় এমন কোম্পানিকে (ব্যাংকিং কোম্পানি ছাড়া) শাখা, লিয়াজোঁ, প্রতিনিধি অফিস বা অন্য কোনো ব্যবসাস্থল প্রতিষ্ঠার অনুমতি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হয়।[7] রিপোর্ট যায় অফিসের ব্যাংকের মাধ্যমে।[4]
মনোনীত এডি ব্যাংক ও হিসাব
অনুমতিপত্রের শর্ত পূরণের পর অফিস অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকে নিজের নামে বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব ও স্থানীয় মুদ্রা হিসাব খুলতে পারে।[6] প্রতিটি অফিসের কেবল একটি মনোনীত এডি থাকবে, যার মাধ্যমে সব আন্তঃ ও বহির্মুখী রেমিট্যান্স হবে; অতিরিক্ত স্থানীয় মুদ্রা হিসাব খুলতে মনোনীত এডির অনাপত্তি লাগে।[6] নবায়ন, ঠিকানা পরিবর্তন বা অনুরূপ হালনাগাদও বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগে জানাতে হয়।[6]
শাখা মূল কোম্পানি থেকে চলতি মূলধন ঋণ নিলে তা পরিশোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন লাগে।[6]
ধাপে ধাপে ব্রাঞ্চ অফিস বা লিয়াজোঁ অফিস প্রতিষ্ঠা
নিচের ক্রমটি শাখা, লিয়াজোঁ ও প্রতিনিধি অফিস তিনটির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য; সময়ের হিসাব অনুমতিপত্রের তারিখ থেকে শুরু হয়।[1] [4]
কাঠামো বাছাই
আয়, চুক্তি ও কর্মীর পরিকল্পনা দেখে শাখা, লিয়াজোঁ, প্রকল্প অফিস নাকি স্থানীয় কোম্পানি, তা ঠিক করুন।
দলিল সংগ্রহ ও সত্যায়ন
বোর্ড সিদ্ধান্ত, নিরীক্ষিত হিসাব, সংঘস্মারক-সংঘবিধি, নিগমন সনদ ও অর্গানোগ্রাম মিশন বা শীর্ষ চেম্বারে সত্যায়িত করুন।
অনুমতির আবেদন
ওএসএস পোর্টালে আবেদন ও ২৫,০০০ টাকা ফি পরিশোধ করে হার্ড কপি বাণিজ্যিক শাখায় জমা দিন।
ব্যাংক হিসাব ও রেমিট্যান্স
মনোনীত এডি ব্যাংকে হিসাব খুলে অনুমতির দুই মাসের মধ্যে অন্তত ৫০,০০০ মার্কিন ডলার আনুন ও এনক্যাশমেন্ট সনদ নিন।
বাংলাদেশ ব্যাংকে রিপোর্ট
অনুমতির ৩০ দিনের মধ্যে এডি ব্যাংকের মাধ্যমে ১৮খ ধারার রিপোর্ট দাখিল করুন।
আরজেএসসি দাখিল
৩০ দিনের মধ্যে কোম্পানী আইনের ৩৭৯ ধারার দলিল দাখিল করে দাখিল সনদ নিন।
কর ও লাইসেন্স
টিআইএন, ভ্যাট নিবন্ধন (ই-বিআইএন), ট্রেড লাইসেন্স এবং প্রযোজ্য হলে আমদানি-রপ্তানি নিবন্ধন নিন।
চলমান পরিপালন
ত্রৈমাসিক রিটার্ন, বার্ষিক হিসাব, উৎসে কর, ওয়ার্ক পারমিট ও মেয়াদ শেষের দুই মাস আগে নবায়ন নিশ্চিত করুন।
এক পৃষ্ঠার একটি "কার্যক্রম মানচিত্র" রাখুন: কে কোন চুক্তিতে সই করবে, কোন অর্থ কোন হিসাবে ঢুকবে।

কর: শাখার আয়কর, মুনাফা প্রেরণ ও উৎসে কর
শাখা বা লিয়াজোঁ অফিস আলাদা কোম্পানি না হলেও করের দিক থেকে পুরোপুরি দায়বদ্ধ। শুল্ক, আয়কর, ভ্যাট ও অন্যান্য কর পরিশোধ অনুমতিপত্রেরই শর্ত।[12] অফিসকে টিআইএন সনদ, ট্রেড লাইসেন্স এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে ভ্যাট নিবন্ধন (ই-বিআইএন) নিতে হয়।[4]
শাখার আয়কর ও মুনাফা কর
শাখার নিট আয়ে, অর্থাৎ আয় থেকে গ্রহণযোগ্য খরচ বাদ দিয়ে, অতালিকাভুক্ত কোম্পানির হারে কর হয়।[13] করপরবর্তী মুনাফা প্রধান কার্যালয়ে পাঠালে তার ওপর ২০ শতাংশ শাখা মুনাফা কর বসে, এবং এই কর জমা না হলে এডি ব্যাংক রেমিট্যান্স করে না।[13] কোম্পানির করহার ও শর্ত আমাদের করপোরেট আয়কর বিষয়ক ইংরেজি বিশ্লেষণে আছে।
মুনাফা প্রেরণের নতুন নিয়ম
বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের এফইপিডি-১ সার্কুলার নং ৪০ অনুযায়ী এডি ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ছাড়াই অ-আর্থিক বিদেশি প্রতিষ্ঠানের শাখার মুনাফা বিদেশে পাঠাতে পারে।[9] তবে মনোনীত এডিকে দিতে হয় বাংলাদেশের ব্যবসার নিরীক্ষিত হিসাব, প্রধান কার্যালয়ের একীভূত নিরীক্ষিত হিসাব, প্রধান কার্যালয়ের হিসাবের বছরভিত্তিক মিলকরণ, কর পরিশোধের প্রমাণ, স্থায়ী সম্পদ সংযোজন ও তার অর্থায়ন, বাংলাদেশে বকেয়া ঋণ এবং সরকারি অনুমতিপত্র ও তার শর্ত।[9] অতীতের লোকসান সমন্বয় হয়, স্থায়ী সম্পদ সংযোজন সাধারণত মুনাফা থেকে বাদ যায়, আর রেমিট্যান্সের এক মাসের মধ্যে এডি মূল কাগজ বাংলাদেশ ব্যাংকে পরবর্তী যাচাইয়ের জন্য পাঠায়।[9] মনে রাখুন, অনুমতিপত্রের ৮ নম্বর শর্ত মওকুফ ছাড়া এই পথ খোলে না।[6]
লিয়াজোঁ অফিসের কর দায়
লিয়াজোঁ অফিসের আয় না থাকলেও ভাড়া, বেতন ও সেবা পরিশোধে উৎসে কর কর্তন ও জমা দিতে হয়।[12] বিদেশি কর্মীরা বাংলাদেশে আয়কর দেন ও রিটার্ন জমা দেন; ওয়ার্ক পারমিট বাতিলের সময় আয়কর ছাড়পত্র চাওয়া হয়।[12] বিদেশি কর্মী গ্রহণযোগ্য খরচ বাদে মাসিক বেতনের ৮০ শতাংশ এডির মাধ্যমে দেশে পাঠাতে পারেন।[4] উৎসে করের হার আমাদের উৎসে কর বিষয়ক বিশ্লেষণে দেখুন।
মেয়াদ, নবায়ন ও পরিবর্তন
প্রাথমিক অনুমতি সাধারণত তিন বছরের এবং তা বাড়ানো যায়।[4] [12] নবায়ন বা মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন বর্তমান অনুমতির মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত দুই মাস আগে করতে হয়; ফি ১০,০০০ টাকা, ওএসএসে অনলাইনে পরিশোধযোগ্য, এবং ঘোষিত সময় ১৬ কর্মদিবস, আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে।[2] জেট্রোর সারসংক্ষেপ অনুযায়ী পণ্য বা সেবা উৎপাদনে যুক্ত শাখার ক্ষেত্রে ১০ বছরের বেশি নবায়ন অনুমোদিত হয় না, ফলে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসার জন্য স্থানীয় কোম্পানিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা রাখতে হয়।[11]
নবায়নে দেখা হয় রেমিট্যান্স এসেছিল কি না, রিটার্ন নিয়মিত কি না এবং কার্যক্রম অনুমোদিত সীমায় ছিল কি না। অফিসের নাম বা ঠিকানা পরিবর্তন এবং অনুমতিপত্রের শর্ত মওকুফের জন্য আলাদা সেবা রয়েছে; প্রতিটি পরিবর্তন আরজেএসসি ও বাংলাদেশ ব্যাংকেও জানাতে হয়।[6] [8]
অফিস বন্ধ ও অবশিষ্ট অর্থ ফেরত
ব্রাঞ্চ অফিস বন্ধ করা খোলার চেয়ে কম জটিল নয়। বন্ধের অনুমতির আবেদনে কোনো ফি নেই, ঘোষিত সময় ১৬ কর্মদিবস, এবং আবেদন সশরীরে জমা দিতে হয়।[3] বন্ধের অন্তত তিন মাস আগে একটি স্বীকৃত জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হয়।[3] আবেদনের সঙ্গে লাগে:[3]
- প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি, অফিসের অনুমতিপত্রের কপি এবং বন্ধের বিষয়ে মূল কোম্পানির বোর্ড সিদ্ধান্ত।
- হালনাগাদ নিরীক্ষা প্রতিবেদন, আয়কর ছাড়পত্র ও ব্যাংক বিবরণী।
- সব দেনা পরিশোধের সনদ এবং বাড়ির মালিকের অনাপত্তিপত্র।
- সব বিদেশি কর্মীর ওয়ার্ক পারমিট বাতিলের প্রমাণ।
- প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কর এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক দায়সহ সব দায় মূল কোম্পানি বহন করবে, এই মর্মে ঘোষণা।
বন্ধের অনুমতির পর নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হয়, এবং হিসাবের অবশিষ্ট অর্থ প্রধান কার্যালয়ে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমতি লাগে।[6] লিয়াজোঁ অফিসের ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে আনা অর্থের অব্যবহৃত অংশই কেবল ফেরত যেতে পারে।[11] শেষে কোম্পানী আইনের ৩৮৩ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশে আর কোনো ব্যবসাস্থল না থাকলে রেজিস্ট্রারকে অবিলম্বে নোটিশ দিতে হয়; নোটিশের তারিখ থেকে দাখিলের বাধ্যবাধকতা শেষ হয়।[8]
যৌথ উদ্যোগ কোম্পানি: কাঠামো ও মালিকানার সীমা
বাংলাদেশে জেভির জন্য আলাদা কোনো আইন নেই। যৌথ উদ্যোগ কোম্পানি আসলে কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ এর অধীনে নিবন্ধিত সাধারণ প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি, যার শেয়ার বিদেশি ও স্থানীয় অংশীদার ভাগ করেন। বিনিয়োগ নিবন্ধনে দেশীয়, শতভাগ বিদেশি ও জেভি প্রতিষ্ঠানের জন্য একই প্রক্রিয়া।[4] অনুরোধ করলে বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য অংশীদার খুঁজে দিতেও সহায়তা করে।[5]
কোম্পানি, নাকি চুক্তিভিত্তিক জেভি
চলমান ব্যবসার জন্য কোম্পানি কাঠামোই নিরাপদ: সীমিত দায়, নিজের নামে সম্পদ, লাইসেন্স ও ঋণ, এবং শেয়ার বিক্রি করে প্রস্থানের সুযোগ। একক প্রকল্প বা দরপত্রের জন্য চুক্তিভিত্তিক জেভি বা কনসোর্টিয়াম দ্রুত হয়, কিন্তু মুনাফা ভাগ ও পরস্পরের পক্ষে কাজ করার ব্যবস্থা থাকলে অংশীদারি আইন, ১৯৩২ অনুযায়ী তা অংশীদারি কারবার বলে গণ্য হতে পারে, যার দায় যৌথ ও পৃথক। প্রকল্পভিত্তিক জেভিসিএ অফিস কেবল প্রকল্পের আয় গ্রহণ করতে পারে এবং সরাসরি বিদেশে অর্থ পাঠাতে পারে না।[11] এ ধরনের জেভি অফিসের মুনাফা পাঠাতে এডিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন নিতে হয়।[6]
বিদেশি মালিকানার সীমা ও খাতভিত্তিক শর্ত
অধিকাংশ খাতে শতভাগ বিদেশি মালিকানা অনুমোদিত, তাই জেভি সাধারণত বাণিজ্যিক পছন্দ, আইনি বাধ্যবাধকতা নয়।[5] ব্যতিক্রম তিন ধরনের:[5]
- সংরক্ষিত খাত: পারমাণবিক শক্তি, মুদ্রা ও নিরাপত্তা মুদ্রণ এবং সংরক্ষিত বনে গাছ কাটার মতো কাজে বেসরকারি বিনিয়োগই নিষিদ্ধ।
- নিয়ন্ত্রিত খাত: ব্যাংকিং, বীমা, টেলিযোগাযোগ ও সমুদ্রবন্দরের মতো খাতে নিবন্ধনের আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অনাপত্তিপত্র লাগে; খাতের লাইসেন্সের শর্তে প্রায়ই মালিকানার আলাদা সীমা থাকে।
- স্থানীয় মালিকানা বাধ্যতামূলক: ফ্রেইট বা কার্গো ফরোয়ার্ডিং, শিপিং এজেন্সি, কুরিয়ার সেবা, বায়িং হাউস, বিজ্ঞাপনী সংস্থা ও মুনাফাভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো কাজে।
সরকারি প্রশ্নোত্তরে স্থানীয় মালিকানার কোনো একক শতাংশ বলা নেই, তাই প্রস্তাবিত শেয়ার বিভাজন সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সদাতা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।[5] শেয়ার হস্তান্তরের পরেও এই অনুপাত বজায় রাখতে হয়, তাই জেভি চুক্তির প্রস্থান ধারায় তা মাথায় রাখুন।
মূলধন আনা ও নিবন্ধন
বিদেশি অংশীদারের শেয়ারের টাকা এডি ব্যাংকের মাধ্যমে আসে, আর প্রতিটি রেমিট্যান্সের নথি পরে প্রস্থানের সময় লাগে। কিছু বিষয়ে বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাগে; যেমন কোনো বছরে ৬ শতাংশের বেশি রয়্যালটি বিদেশে পাঠাতে পূর্বানুমোদন লাগে, আর বৈদেশিক ঋণে ঋণ ও মূলধনের অনুপাত সাধারণত ৭০:৩০ রাখতে হয়।[5] কোম্পানির নিবন্ধন-পরবর্তী সভা, রিটার্ন ও শেয়ার হস্তান্তরের নিয়ম আমাদের কোম্পানি আইন বিষয়ক বাংলা নির্দেশিকায় আছে।
নিচের সারণিতে চারটি কাঠামো পাশাপাশি তুলনা করা হয়েছে। মোবাইলে সারণিটি পাশে সরিয়ে দেখুন।
| কাঠামো | আইনগত সত্তা | স্থানীয় আয় | বিদেশে অর্থ প্রেরণ | উপযুক্ত যখন |
|---|---|---|---|---|
| শাখা অফিস | মূল কোম্পানির অংশ | অনুমোদিত কাজে, শর্ত মওকুফ সাপেক্ষে | কর ও ২০% শাখা মুনাফা কর পরিশোধের পর মুনাফা | সেবা, ঠিকাদারি, এজেন্সি বিক্রয় |
| লিয়াজোঁ বা প্রতিনিধি অফিস | মূল কোম্পানির অংশ | না | কেবল বিদেশ থেকে আনা অর্থের অব্যবহৃত অংশ | বাজার যাচাই, সমন্বয়, তথ্য সংগ্রহ |
| প্রকল্প অফিস | মূল কোম্পানি বা জেভিসিএর অংশ | কেবল প্রকল্পের আয় | দায় ও কর মিটিয়ে প্রকল্প শেষে | নির্দিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্প |
| যৌথ উদ্যোগ কোম্পানি | আলাদা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি | হ্যাঁ, সংঘস্মারকের সীমায় | লভ্যাংশ ও শেয়ার বিক্রির অর্থ | দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসা, স্থানীয় অংশীদার |
জেভি চুক্তির মূল ধারা
জেভির আসল দর-কষাকষি থাকে শেয়ারহোল্ডার বা জেভি চুক্তিতে, কিন্তু আইনের চোখে কোম্পানি চলে সংঘবিধি অনুযায়ী। ২২ ধারা অনুযায়ী নিবন্ধিত সংঘস্মারক ও সংঘবিধি কোম্পানি ও প্রত্যেক সদস্যকে এমনভাবে আবদ্ধ করে যেন প্রত্যেকে তাতে স্বাক্ষর করেছেন, আর ২০ ধারা অনুযায়ী বিশেষ সিদ্ধান্তে সংঘবিধি বদলানো যায়।[8] তাই সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশীদার চাইলে চুক্তিবিরোধী পরিবর্তনও আনতে পারেন। সমাধান: মূল ধারাগুলো জেভি চুক্তি ও সংঘবিধি দুটোতেই লিখুন, এবং প্রত্যেক অংশীদার চুক্তি কার্যকর করতে ভোট দেবেন এমন অঙ্গীকার রাখুন।
মূলধন, অবদান ও অর্থায়ন
কে কত শেয়ার নেবেন, ভবিষ্যৎ অর্থ কে জোগাবেন এবং কেউ না দিলে কী হবে, শুরুতেই লিখুন। প্রযুক্তি, ব্র্যান্ড বা জ্ঞান শেয়ারের বদলে না দিয়ে সাধারণত আলাদা লাইসেন্স চুক্তিতে দেওয়া হয়, যার রয়্যালটির ওপর অনাবাসী প্রাপকের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ এবং কারিগরি সেবা ফিতে ১০ শতাংশ উৎসে কর প্রযোজ্য, দ্বৈত কর চুক্তিতে কম হার সাপেক্ষে।[14]
বোর্ড, সংরক্ষিত বিষয় ও অচলাবস্থা
সংখ্যালঘু অংশীদারের প্রধান সুরক্ষা "সংরক্ষিত বিষয়"-এর তালিকা: সংঘবিধি পরিবর্তন, নতুন শেয়ার, বাজেট, বড় ঋণ, সংশ্লিষ্ট পক্ষের লেনদেন, লভ্যাংশ ও অবসায়নে প্রত্যেক অংশীদারের সম্মতি। ৫০:৫০ জেভিতে অচলাবস্থার ধারা অপরিহার্য: আলোচনা, মধ্যস্থতা, শেষে কেনা-বেচার বিকল্প। না থাকলে বিরোধ গড়ায় আদালতে: ২৩৩ ধারায় সংখ্যালঘুর স্বার্থহানির প্রতিকার বা ২৪১ ধারায় অবসায়নের আবেদন।[8] মনে রাখুন, প্রাইভেট কোম্পানির সদস্যসংখ্যা দুইয়ের নিচে নামলে আদালত অবসায়নের আদেশ দিতে পারে, তাই এক অংশীদার অপরের সব শেয়ার কিনে নিলে আগেই দ্বিতীয় শেয়ারহোল্ডারের ব্যবস্থা রাখুন।[8]
শেয়ার হস্তান্তর ও প্রস্থান
লক-ইন, অগ্রক্রয়াধিকার, ট্যাগ-অ্যালং ও ড্র্যাগ-অ্যালং ধারা প্রচলিত। তবে প্রস্থানের দাম বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মে পরিশোধযোগ্য হতে হবে।
৮ মার্চ ২০২৬ তারিখের এফইআইডি সার্কুলার নং ০১ অনুযায়ী অনাবাসী-আবাসী লেনদেন ন্যায্য মূল্যে হতে হবে, এবং ১ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনে মূল্যায়ন প্রতিবেদন লাগে না, তবে ক্রেতা-বিক্রেতার যৌথ বিবৃতি লাগে।[10] বিদেশি অংশীদার স্থানীয় অংশীদারের কাছে শেয়ার বেচলে সর্বশেষ নিরীক্ষিত হিসাবের নিট সম্পদ মূল্যের মধ্যে, ১ কোটি টাকা পর্যন্ত যৌথ বিবৃতিতে, অথবা ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত স্বাধীন মূল্যায়নকারীর ন্যায্য মূল্যে হলে এডি বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই অর্থ পাঠাতে পারে।[10] সমঝোতা স্মারক বা অনুমোদনের তারিখ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে হস্তান্তর শেষ করতে হয়, এবং লাভের ওপর কর ও স্ট্যাম্প শুল্ক অনাবাসী বিক্রেতা বিদেশ থেকে আনা অর্থে দেবেন, কোম্পানি নয়।[10]
বিরোধ নিষ্পত্তি
আন্তর্জাতিক জেভি চুক্তিতে সাধারণত সালিশ বেছে নেওয়া হয়; আদালতে গেলে বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ (২০২৬ সালের ২৩ নং আইন) প্রাসঙ্গিক। বিস্তারিত কাঠামো, প্রতিযোগিতা আইন ও কর পরিকল্পনা আমাদের যৌথ উদ্যোগ বিষয়ক ইংরেজি বিশ্লেষণে এবং শেয়ারহোল্ডার চুক্তি বিষয়ক লেখায় আছে।

জেভিতে লভ্যাংশ ও মুনাফা ফেরত
অনাবাসী শেয়ারহোল্ডারের চূড়ান্ত ও অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ এডি ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো যায়, এবং চাইলে অনাবাসী শেয়ারহোল্ডারের বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে জমা করা যায়।[4] অনাবাসী কোম্পানিকে দেওয়া লভ্যাংশে সাধারণত ২০ শতাংশ উৎসে কর কাটা হয়; দ্বৈত কর চুক্তির আওতায় কম হার পেতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সনদ লাগে।[14] রাজস্ব বোর্ডের আন্তর্জাতিক কর শাখায় আবেদন করলে ৩০ দিনের মধ্যে কর্তনহীন বা হ্রাসকৃত হারের সনদ দেওয়ার কথা।[4] ব্রাঞ্চ অফিসের মুনাফার পথ আলাদা: শর্ত মওকুফ ও ২০ শতাংশ শাখা মুনাফা কর।[13] মূলধন ফেরতের পূর্ণ প্রক্রিয়া আমাদের মূলধন প্রত্যাবাসন বিষয়ক বিশ্লেষণে দেখুন।
সাধারণ ভুল যা এড়ানো জরুরি
- লিয়াজোঁ অফিস দিয়ে বিক্রি: অর্ডার নেওয়া বা চালান দেওয়া অনুমতির শর্ত ভঙ্গ করে এবং কর ঝুঁকি তৈরি করে।[11]
- ৫০,০০০ ডলার দেরিতে আনা: দুই মাসের সময়সীমা পেরোলে ব্যাংক, আরজেএসসি ও ভিসা সুপারিশ সবই আটকে যায়।[4]
- আরজেএসসি দাখিল ভুলে যাওয়া: ৩০ দিনের সময়সীমা না মানলে দৈনিক অর্থদণ্ড জমে এবং পাওনা আদায়ের মামলা করা যায় না।[8]
- নবায়নের শেষ মুহূর্ত: মেয়াদ শেষের অন্তত দুই মাস আগে আবেদন না করলে অফিস অনুমতিহীন হয়ে পড়ে।[2]
- সংঘবিধি ও জেভি চুক্তির অমিল: চুক্তির সুরক্ষা সংঘবিধিতে না থাকলে বিশেষ সিদ্ধান্তে তা এড়িয়ে যাওয়া যায়।[8]
- পরিশোধ-অযোগ্য প্রস্থান মূল্য: বাংলাদেশ ব্যাংকের ন্যায্য মূল্যের নিয়ম উপেক্ষা করা কেনা-বেচার সূত্র কাগজেই থেকে যায়।[10]
যেকোনো পর্যায়ে সহায়তার জন্য আমাদের শাখা ও বিদেশি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা এবং যৌথ উদ্যোগ ও কৌশলগত জোট দল কাজ করে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
বাংলাদেশে ব্রাঞ্চ অফিস খুলতে কার অনুমতি লাগে?
শাখা অফিস আর লিয়াজোঁ অফিসের পার্থক্য কী?
কত টাকা বিদেশ থেকে আনতে হয়?
অনুমতির দুই মাসের মধ্যে অন্তত ৫০,০০০ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, অফিসের নামে বাংলাদেশের ব্যাংক হিসাবে।[4]
অনুমতি কত দিনের জন্য এবং নবায়ন কীভাবে?
আরজেএসসিতে কখন ও কী দাখিল করতে হয়?
ব্যবসাস্থল প্রতিষ্ঠার ৩০ দিনের মধ্যে কোম্পানী আইনের ৩৭৯ ধারার দলিল: সংঘস্মারক-সংঘবিধি বা সনদের প্রত্যায়িত কপি, প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা, পরিচালকের তালিকা, নোটিশ গ্রহণকারী ও বাংলাদেশের অফিসের ঠিকানা।[8]
বাংলাদেশ ব্যাংককে কখন জানাতে হয়?
শাখার মুনাফা বিদেশে পাঠাতে কী কর দিতে হয়?
নিট আয়ে অতালিকাভুক্ত কোম্পানির হারে আয়কর, তারপর পাঠানো মুনাফায় ২০ শতাংশ শাখা মুনাফা কর; কর জমা না হলে এডি রেমিট্যান্স করে না।[13]
অফিস বন্ধ করতে কী করতে হয়?
যৌথ উদ্যোগে বিদেশি অংশীদার কি সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ার রাখতে পারেন?
অধিকাংশ খাতে হ্যাঁ, এমনকি শতভাগও। তবে সংরক্ষিত খাতে বিনিয়োগ নিষিদ্ধ, নিয়ন্ত্রিত খাতে অনাপত্তিপত্র লাগে, আর ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং বা শিপিং এজেন্সির মতো কাজে স্থানীয় মালিকানা লাগে।[5]
জেভি চুক্তি কি সংঘবিধির চেয়ে শক্তিশালী?
না। সংঘবিধি কোম্পানি ও সব সদস্যকে আবদ্ধ করে, চুক্তি কেবল পক্ষগুলোকে। তাই বোর্ড, সংরক্ষিত বিষয়, হস্তান্তর ও প্রস্থানের ধারা দুই দলিলেই রাখুন।[8]
সূত্র তালিকা
প্রাথমিক আইনি ও নিয়ন্ত্রক সূত্র
উপকরণ যাচাইয়ের তারিখ ২১ অক্টোবর ২০২৬। কোনো বিধানের ওপর নির্ভর করার আগে সর্বশেষ সরকারি পাঠ মিলিয়ে নিন।
- BIDA — Opening branch/liaison/representative office
- BIDA — Extension of branch/liaison/representative office
- BIDA — Closing branch/liaison/representative office
- Invest Bangladesh — FAQ
- BIDA — FAQ (sectors, local ownership, royalty)
- Bangladesh Bank — Branch/Liaison/Representative/Project offices
- Foreign Exchange Regulation Act 1947, s 18B
- কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ — বাংলাদেশের আইন
- Bangladesh Bank FEPD-1 Circular No. 40, 30 September 2026
- Bangladesh Bank FEID Circular No. 01, 8 March 2026
- JETRO, September 2025 — Bangladesh foreign offices
- OGR Legal — Liaison, branch and project office
- PwC Tax Summaries — Bangladesh branch income (July 2026)
- PwC Tax Summaries — Bangladesh withholding taxes (July 2026)
- রাইজিংবিডি, ২৩ আগস্ট ২০২৬ — কার্যক্রম শুরু করল ইনভেস্ট বাংলাদেশ
- ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সালের ১০৪ নং আইন)
TRW-এর সহায়তা
তথ্য থেকে সুনির্দিষ্ট পরবর্তী পদক্ষেপে
TRW বিদেশি কোম্পানির জন্য কাঠামো বাছাই, শাখা, লিয়াজোঁ ও প্রতিনিধি অফিসের অনুমতি, নবায়ন ও বন্ধ, আরজেএসসি দাখিল, বাংলাদেশ ব্যাংক রিপোর্টিং ও মুনাফা প্রেরণ এবং যৌথ উদ্যোগের জেভি চুক্তি ও সংঘবিধি প্রণয়নে পূর্ণাঙ্গ সহায়তা দেয়। আমাদের শাখা ও বিদেশি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা এবং যৌথ উদ্যোগ ও কৌশলগত জোট সেবা দেখুন, অথবা আপনার বিষয়ে আলোচনার জন্য TRW-এর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।