বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ২০২৬: বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন, সার্কুলার, বিদেশি ঋণ ও ব্যাংক গ্যারান্টি মামলা

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 21, 2026 | Banking & Finance, Insights | 0 comments

TRW Insight / বাংলাদেশ

শেয়ার বিক্রি, প্যারেন্ট ঋণ, লভ্যাংশ বা বিদেশি পক্ষের গ্যারান্টি, প্রতিটি লেনদেনে আগে জানতে হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন লাগবে কি না। ২০২৬ সালের নতুন সার্কুলার অনেক অনুমোদন তুলে দিয়েছে, কিন্তু দায় চাপিয়েছে এডি ব্যাংক ও আবেদনকারীর কাগজপত্রের ওপর।

হালনাগাদ ২১ অক্টোবর ২০২৬আইনি বিশ্লেষণবাংলাদেশ22 মিনিটে পড়া

বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন: ২০২৬ সালে কখন লাগে, কীভাবে পাবেন

বিদেশি বিনিয়োগকারীর কাছে শেয়ার বিক্রি, মূল কোম্পানি থেকে ডলারে ঋণ নেওয়া, বিদেশে লভ্যাংশ বা রয়্যালটি পাঠানো, কিংবা কোনো বিদেশি পক্ষের পক্ষে ব্যাংক গ্যারান্টি দেওয়া: প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রথম প্রশ্ন একটি, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন লাগবে কি না। উত্তরটি কোনো চুক্তি বা বোর্ড সিদ্ধান্তে নেই। উত্তর আছে ১৯৪৭ সালের বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনে এবং সেই আইনের অধীনে জারি করা বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে, যার বড় অংশ ২০২৬ সালে নতুন করে লেখা হয়েছে।[1][4]

এই লেখায় পাবেন: কোন লেনদেনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি লাগে, আবেদন কীভাবে করতে হয়, সার্কুলার কীভাবে খুঁজবেন ও পড়বেন, ২০২৬ সালের মূল সার্কুলার, বিদেশি ঋণ ও রেমিট্যান্সের নিয়ম, এবং ব্যাংক গ্যারান্টি মামলায় নিষেধাজ্ঞা ও প্রতারণার ব্যতিক্রম। যেসব বিষয়ে TRW-এর বিস্তারিত লেখা আছে, সেখানে আমরা লিংক দিয়েছি।

ব্যাংকের অনুমোদন — বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের নথি পর্যালোচনা করছেন আইনজীবী
প্রতিটি আন্তঃসীমান্ত লেনদেনের শুরু সার্কুলার মিলিয়ে দেখা

সারসংক্ষেপ: বৈদেশিক মুদ্রার প্রায় সব লেনদেন অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক (এডি ব্যাংক) বাংলাদেশ ব্যাংকের সাধারণ অনুমতির আওতায় নিজেই সম্পন্ন করে; সার্কুলারের বাইরে পড়লে তবেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত লাগে, এবং সেই আবেদনও যায় এডি ব্যাংকের মাধ্যমে। ২০২৬ সালে ন্যায্যমূল্যে শেয়ার হস্তান্তর, বিদেশি মালিকানাধীন শিল্পের প্যারেন্ট ঋণ ও বিদেশে টাকা পাঠানোর নিয়ম নতুন সার্কুলারে সহজ হয়েছে, আর বিদেশি ঋণের অনুমোদন এখন ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের স্ক্রুটিনি কমিটির হাতে। ব্যাংক গ্যারান্টি একটি স্বাধীন চুক্তি; প্রতারণা ছাড়া আদালত সাধারণত নগদায়ন আটকায় না।

মূল বিষয়: বাংলাদেশ ব্যাংকে গ্রাহক নিজে সরাসরি আবেদন করতে পারেন না। আবেদন যায় এডি ব্যাংকের মাধ্যমে, ব্যাংকের সত্যায়ন ও সুপারিশসহ, আর বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া অনুমতি সাধারণত অনুমোদনের তারিখ থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত বৈধ থাকে, যদি না তাতে দীর্ঘতর মেয়াদ লেখা থাকে বা তা পুনর্বৈধ করা হয়।[4]

এক নজরে

০১

আইনি ভিত্তি

বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭ অনুমতি ছাড়া অনিবাসীকে অর্থ প্রদান নিষিদ্ধ করে; লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড।

০২

এডি ব্যাংকই প্রথম দরজা

সাধারণ অনুমতির লেনদেন এডি ব্যাংক নিজে করে; বাকিগুলো ব্যাংকের সুপারিশসহ বাংলাদেশ ব্যাংকে যায়।

০৩

শেয়ার হস্তান্তর

এফইআইডি সার্কুলার ০১/২০২৬: ন্যায্যমূল্যে হস্তান্তরে পূর্বানুমোদন লাগে না; ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিক্রয়মূল্য ফেরত নেওয়া যায়।

০৪

বিদেশি ঋণ

বেসরকারি শিল্পের বিদেশি ঋণে ইনভেস্ট বাংলাদেশের পূর্বানুমোদন লাগে; প্যারেন্ট ঋণে ৩ শতাংশ খরচের সীমায় সাধারণ অনুমতি।

০৫

ব্যাংক গ্যারান্টি

গ্যারান্টি স্বাধীন চুক্তি; আপিল বিভাগের মতে একমাত্র ব্যতিক্রম এমন প্রতারণা, যা ব্যাংকের জানা।

সূচিপত্র

বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে অনুমোদনের আইনি ভিত্তি

বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণের মূল কাঠামো একটি নিষেধাজ্ঞা দিয়ে শুরু। বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭ (Foreign Exchange Regulation Act, 1947) এর ধারা ৫(১) অনুযায়ী বাংলাদেশে বা বাংলাদেশের বাসিন্দা কোনো ব্যক্তি অনুমতি ছাড়া বাংলাদেশের বাইরের বাসিন্দাকে বা তার হিসাবে কোনো অর্থ প্রদান করতে পারেন না।[1] অর্থাৎ বিদেশি পরামর্শকের বিল বা ঋণদাতার সুদ কেবল চুক্তি থাকলেই পাঠানো যায় না; লাগে সাধারণ বা বিশেষ অনুমতি।

অনুমতির উৎস ধারা ২০(৩), যার অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক ও ডিলারদের অর্থ প্রদান বিষয়ে নির্দেশনা দিতে পারে। ২০২৬ সালের প্রতিটি সমন্বিত সার্কুলার এই ধারাকেই নিজের আইনি ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে।[1][4] লঙ্ঘনের পরিণতি ফৌজদারি: ধারা ২৩(১) অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড হতে পারে; ২০১৫ সালের সংশোধনী আগের চার বছরের সীমা বাড়িয়ে সাত বছর করেছে।[1]

গাইডলাইনস ২০১৮ থেকে সমন্বিত সার্কুলার

দীর্ঘদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার মূল সংকলন ছিল বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন নির্দেশিকা ২০১৮ (Guidelines for Foreign Exchange Transactions, GFET)। এখন লেনদেনের ধরনভিত্তিক এক বছর মেয়াদি সমন্বিত সার্কুলার সেই জায়গা নিচ্ছে। যেমন ঋণ, ওভারড্রাফট, গ্যারান্টি ও বৈদেশিক ঋণ নিয়ে এফইপিডি-১ সার্কুলার নং ৩২ (২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) এবং আমদানি ও পরিবহন ছাড়া অন্যান্য চলতি হিসাবের বহির্গামী রেমিট্যান্স নিয়ে এফইপিডি-১ সার্কুলার নং ৪০ (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬)। দুটিই আগের সব নির্দেশনা রহিত করেছে, তবে গাইডলাইনসের দ্বিতীয় খণ্ডের রিপোর্টিং নির্দেশনা বহাল রেখেছে, আর দুটিই এক বছর বৈধ।[2][4] তাই চুক্তিতে শুধু "বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী" না লিখে লেনদেনের তারিখে কার্যকর সার্কুলারটি নির্দিষ্ট করুন। পুরো কাঠামোর বিশ্লেষণ পাবেন আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা বিধি বিষয়ক ইংরেজি গাইডে।

অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের অর্পিত ক্ষমতা

বাস্তবে বেশিরভাগ লেনদেন কখনো বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত যায় না। অনুমোদিত ডিলার বা এডি ব্যাংক (Authorised Dealer) সার্কুলারে দেওয়া সাধারণ অনুমতির আওতায় নিজেই লেনদেন অনুমোদন করে এবং পরে রিপোর্ট করে। আমদানি ছাড়া অন্য যেকোনো কারণে বৈদেশিক মুদ্রা কিনতে হলে আবেদন করতে হয় ফরম টিএম (Form TM) দিয়ে; এডি ব্যাংকের ক্ষমতা থাকলে ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রি করে, না থাকলে আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠায়।[4] ফলে এডি ব্যাংকের সুপারিশের মানই অনেক সময় ঠিক করে ফাইল কত দ্রুত এগোবে।

কোন লেনদেনে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন লাগে, কোনটিতে লাগে না

আসল প্রশ্ন হলো, চলতি সার্কুলারে লেনদেনটির জন্য সাধারণ অনুমতি আছে কি না। নিচের সারণিতে ২০২৬ সালের প্রধান লেনদেনগুলোর অবস্থান।

২০২৬ সালে কোন লেনদেনে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন লাগে
লেনদেনঅনুমোদন ছাড়া কখনঅনুমোদন কখন লাগেসূত্র
অনিবাসীর কাছে শেয়ার হস্তান্তরন্যায্যমূল্যে, অতালিকাভুক্ত কোম্পানিন্যায্যমূল্যের শর্ত না মানলেএফইআইডি ০১/২০২৬
শেয়ার বিক্রির টাকা বিদেশেনিট সম্পদমূল্য পর্যন্ত বা ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ন্যায্যমূল্যেএর বাইরে সব ক্ষেত্রেএফইআইডি ০১/২০২৬
প্যারেন্ট কোম্পানির ঋণসম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন শিল্প, ৩% খরচসীমায়সীমা বা শর্তের বাইরেএফইআইডি ০৩/২০২৬
অন্যান্য বিদেশি মেয়াদি ঋণএক বছর পর্যন্ত বাণিজ্য ঋণইনভেস্ট বাংলাদেশ বা অঞ্চলভেদে বাংলাদেশ ব্যাংকএফইপিডি-১ ৩২ ও ৩৫
লভ্যাংশ ও শাখার মুনাফানথিসহ এডি ব্যাংকের মাধ্যমেনথি বা শর্ত অপূর্ণ হলেএফইপিডি-১ ৪০
চিকিৎসা ও ভ্রমণচিকিৎসায় ১৫,০০০ ও ভ্রমণে ১৮,০০০ ডলার পর্যন্তসীমার বেশি হলেএফইপিডি-১ ৪০
বিদেশি ঋণের ব্যাংক গ্যারান্টিকর্পোরেট বা ব্যক্তিগত গ্যারান্টিব্যাংক গ্যারান্টি বা এসবিএলসিএফইপিডি-১ ৩২

শাখা অফিস ও লিয়াজোঁ অফিসের ক্ষেত্রে

বিদেশি কোম্পানির শাখা বা লিয়াজোঁ অফিস খোলার অনুমতি দেয় বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ ব্যাংক নয়। তবে অনুমতি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে আইনের ধারা ১৮খ (18B) অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হয়।[1] এটি অনুমোদন নয়, রিপোর্টিং; কিন্তু বাদ পড়লে পরে মুনাফা পাঠাতে সমস্যা হয়। শাখার মুনাফা এডি ব্যাংক পূর্বানুমোদন ছাড়াই নিরীক্ষিত হিসাব ও কর পরিশোধের প্রমাণসহ পাঠাতে পারে।[4] অফিস স্থাপনের পুরো প্রক্রিয়া দেখুন আমাদের ব্রাঞ্চ অফিস ও লিয়াজোঁ অফিস বিষয়ক বাংলা গাইডে।

ব্যাংকের অনুমোদন — অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের কাউন্টারে আবেদন জমা
এডি ব্যাংকই বাংলাদেশ ব্যাংকে যাওয়ার একমাত্র দরজা

বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের আবেদন প্রক্রিয়া

লেনদেন যা-ই হোক, পথ একই। আবেদনকারী ফাইল তৈরি করেন; এডি ব্যাংক সার্কুলারের সঙ্গে মিলিয়ে কাগজ যাচাই ও সত্যায়ন করে নিজের সুপারিশ যোগ করে; বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত দেয়; তারপর এডি ব্যাংক লেনদেন সম্পন্ন ও রিপোর্ট করে। সার্কুলার স্পষ্ট বলে, পূর্বানুমোদনের আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে কেবল এডি ব্যাংকের মাধ্যমে জমা হবে, গ্রাহক সরাসরি নয়; আর ব্যাংক তার অনুমোদিত কর্মকর্তার সত্যায়িত কাগজ ও সুপারিশসহ তা পাঠাবে।[4]

ধাপ 01

লেনদেন শ্রেণিবদ্ধ করুন

কোন সমন্বিত সার্কুলারের কোন অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য, সাধারণ অনুমতিতে পড়ে কি না, ঠিক করুন।

ধাপ 02

নিয়ন্ত্রক নির্ধারণ

বিদেশি ঋণ ও রয়্যালটিতে ইনভেস্ট বাংলাদেশ, বাকিগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন লাগে কি না দেখুন।

ধাপ 03

ফাইল প্রস্তুত

ফরম টিএম বা নির্ধারিত ফরম, চুক্তি, নিরীক্ষিত হিসাব, কর সনদ ও প্রয়োজনে মূল্যায়ন প্রতিবেদন।

ধাপ 04

এডি ব্যাংকের সুপারিশ

ব্যাংক কাগজ সত্যায়ন করে সুপারিশসহ বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠায়; গ্রাহক সরাসরি নয়।

ধাপ 05

৪৫ দিনে সম্পন্ন

অনুমতি সাধারণত ৪৫ দিন বৈধ; এর মধ্যে মূল আবেদনকারীর পক্ষেই লেনদেন করুন।

ধাপ 06

রিপোর্ট ও নথি সংরক্ষণ

টিএম আইডি, রিপোর্টিং ও সব কাগজ অন্তত পাঁচ বছর সংরক্ষণ করুন।

অনুমতির মেয়াদ ও মূল আবেদনকারী

বহির্গামী রেমিট্যান্সের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া অনুমতি অনুমোদনের তারিখ থেকে সর্বোচ্চ ৪৫ দিন বৈধ, যদি না তাতে দীর্ঘ মেয়াদ উল্লেখ থাকে বা তা পুনর্বৈধ করা হয়; মেয়াদোত্তীর্ণ অনুমতির বিপরীতে এডি ব্যাংক টাকা পাঠাতে পারে না।[4] অনুমতি কেবল সেই মূল আবেদনকারীর পক্ষেই ব্যবহার করা যায়, যার নামে তা দেওয়া হয়েছে।[4] আরেকটি নিয়ম মনে রাখুন: লভ্যাংশ পাঠাতে একটি মনোনীত এডি ব্যাংক লাগে, যার নাম আগেই এফইআইডিকে জানাতে হয়, আর বিদেশি ঋণের কিস্তি কেবল সেই ব্যাংকই পাঠাতে পারে, যার মাধ্যমে ঋণ এসেছিল।[4][2] হিসাব সরালে রেমিট্যান্স আটকে যেতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়ক আইনজীবীর ভূমিকা

বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়ক আইনজীবীর প্রধান কাজ সার্কুলার ব্যাখ্যা করা: লেনদেনটি কোন অনুচ্ছেদের সাধারণ অনুমতিতে পড়ে, নাকি বাইরে। এরপর কাঠামো এমনভাবে সাজানো, যাতে অপ্রয়োজনীয় অনুমোদন না লাগে, এবং আবেদনপত্র, মূল্যায়ন ও সহায়ক নথি প্রস্তুত করা। অনুমতি প্রত্যাখ্যান বা গ্যারান্টি নগদায়নের মতো বিরোধে রিট ও দেওয়ানি মামলাও একই দলের কাজ। TRW-এর ব্যাংকিং ও ফাইন্যান্স প্র্যাকটিস এই কাজগুলোই করে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার খোঁজা ও পড়ার নিয়ম

ব্যাংক ও গ্রাহককে প্রতিদিন যে নিয়ম মানতে হয়, তার বেশিরভাগ আছে সার্কুলারে। ঠিকভাবে পড়তে জানতে হয়: কোন বিভাগ জারি করেছে, কোন আইনের ক্ষমতায়, আর সেটি এখনো বলবৎ কি না।

এফইপিডি-১

বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ

আমদানি, রপ্তানি, রেমিট্যান্স, ঋণ ও গ্যারান্টির সমন্বিত সার্কুলার জারি করে।

এফইআইডি

বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগ

বিদেশি বিনিয়োগ, শেয়ার হস্তান্তর, প্যারেন্ট ঋণ ও লভ্যাংশের এডি মনোনয়ন দেখে।

বিআরপিডি

ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ

ব্যাংক-কোম্পানি আইনের ক্ষমতায় ব্যাংকের প্রুডেনশিয়াল নির্দেশনা দেয়।

ইনভেস্ট বাংলাদেশ

ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ

সাবেক বিডা; বিদেশি ঋণ, রয়্যালটি ও শাখা অফিসের অনুমতি দেয়।

কোন বিভাগ কী জারি করে

বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ (এফইপিডি, বর্তমানে এফইপিডি-১ নামে সমন্বিত সার্কুলার জারি করে) বাণিজ্য, রেমিট্যান্স, ঋণ ও গ্যারান্টির নিয়ম ঠিক করে।[2][4] বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগ (এফইআইডি) বিদেশি বিনিয়োগ, শেয়ার হস্তান্তর ও প্যারেন্ট ঋণ দেখে।[5][6] ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) ব্যাংকের প্রুডেনশিয়াল নিয়ম জারি করে, ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১ (Bank Company Act, 1991) এর ক্ষমতায়। যেমন ৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের বিআরপিডি-১ সার্কুলার নং ০১ সব তফসিলি ব্যাংকের জন্য অভিন্ন পার্সোনাল গ্যারান্টি ফরম চালু করেছে, ২০২৩ পর্যন্ত সংশোধিত ব্যাংক-কোম্পানি আইনের ধারা ৪৫ এর ক্ষমতায়।[8]

ব্যাংক কোম্পানি আইন ও সার্কুলারের ক্ষমতা

ব্যাংক-কোম্পানি আইনের ধারা ৪৫ বাংলাদেশ ব্যাংককে আমানতকারীর স্বার্থ রক্ষা ও ব্যাংকের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য সাধারণভাবে সব ব্যাংককে বা নির্দিষ্ট কোনো ব্যাংককে নির্দেশনা দেওয়ার ক্ষমতা দেয়, এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক তা মানতে বাধ্য।[14] বিআরপিডি সার্কুলারের বাধ্যতামূলক শক্তি এখান থেকেই আসে। লক্ষ্য করুন, বিআরপিডির অনেক সার্কুলার বাংলায় জারি হয়; পার্সোনাল গ্যারান্টি ফরমের ক্ষেত্রে বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণে অমিল হলে বাংলা সংস্করণ প্রাধান্য পাবে।[8]

নম্বর, তারিখ ও মেয়াদ পড়ার কৌশল

প্রতিটি সার্কুলারে থাকে বিভাগের সংকেত, বছরভিত্তিক ক্রমিক নম্বর ও তারিখ: যেমন এফইপিডি-১ সার্কুলার নং ৩২, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বা এফইআইডি সার্কুলার নং ০১, ৮ মার্চ ২০২৬।[2][5] ২০২৫ সালের সমন্বিত সার্কুলারগুলো "এফই সার্কুলার" নামে জারি হয়েছিল; যেমন এফই সার্কুলার নং ৩৪/২০২৫ ছিল ঋণ ও গ্যারান্টির আগের সংস্করণ, যা ২০২৬ সালের সার্কুলার নং ৩২ হালনাগাদ করেছে।[2] প্রথম পাতাতেই থাকে কোন নির্দেশনা রহিত হলো, মেয়াদ কত ও কোন আইনের ক্ষমতায় জারি হলো; এগুলো আগে পড়ুন।

কোথায় পাবেন ও কীভাবে হালনাগাদ থাকবেন

বাংলাদেশ ব্যাংক তার ওয়েবসাইট bb.org.bd-এর মিডিয়া রুমে বিভাগভিত্তিক সার্কুলার পিডিএফ আকারে প্রকাশ করে; ফাইলের নামে তারিখ ও বিভাগের সংকেত থাকে, যেমন এফইপিডি-১ সার্কুলার নং ৪০-এর ফাইল "sep302026fepd-140e"।[4] প্রযোজ্য সার্কুলারের একটি তালিকা রাখুন, এক বছর মেয়াদের বার্ষিকী চিহ্নিত করুন, মাসে অন্তত একবার বিভাগের পাতা দেখুন, আর মূল সার্কুলারও সংরক্ষণ করুন, কারণ অসংগতি হলে সেটিই দেখতে হয়।[2]

২০২৬ সালের গুরুত্বপূর্ণ সার্কুলার

২০২৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্তত চারটি ক্ষেত্রে নিয়ম বদলেছে: অতালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তর (এফইআইডি ০১), বিদেশি মালিকানাধীন শিল্পের প্যারেন্ট ঋণ (এফইআইডি ০৩, ১৫ জুলাই ২০২৬), স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্য অর্থায়নের খরচ (এফইপিডি-১ ১০) এবং বহির্গামী রেমিট্যান্স ও ঋণ-গ্যারান্টির সমন্বিত নিয়ম (এফইপিডি-১ ৪০ ও ৩২)।[5][6][7][4][2] সংবাদমাধ্যম প্যারেন্ট ঋণের সার্কুলারকে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে শর্ত শিথিল করা হিসেবে দেখেছে।[11] প্যারেন্ট ঋণ, খরচের সীমা ও রেমিট্যান্স পরের অংশগুলোতে আলোচিত; এখানে বাকি দুটি।

এফইআইডি সার্কুলার ০১/২০২৬: শেয়ার হস্তান্তর

৮ মার্চ ২০২৬ তারিখের এই মাস্টার সার্কুলার স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত নয় এমন প্রাইভেট ও পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তর ও বিক্রয়মূল্য প্রত্যাবাসনের সব আগের নির্দেশনা রহিত করে একত্র করেছে।[5] নিবাসী থেকে অনিবাসীর কাছে, বা এক অনিবাসী থেকে আরেক অনিবাসীর কাছে শেয়ার হস্তান্তরে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন লাগে না, শর্ত একটাই: হস্তান্তর ন্যায্যমূল্যে হতে হবে। চুক্তিমূল্য ১ কোটি টাকা পর্যন্ত হলে মূল্যায়ন প্রতিবেদন লাগে না, ক্রেতা-বিক্রেতার যৌথ স্বাক্ষরিত বিবৃতি যথেষ্ট; এর বেশি হলে মূল্যায়ন প্রতিবেদন লাগবে।[5]

অনিবাসী বিক্রেতা নিবাসীর কাছে বিক্রি করলে এডি ব্যাংক তিন ক্ষেত্রে পূর্বানুমোদন ছাড়াই টাকা পাঠাতে পারে: যেকোনো অঙ্কে, যদি দাম সর্বশেষ নিরীক্ষিত হিসাবের নিট সম্পদমূল্য (NAV) না ছাড়ায়; ১ কোটি টাকা পর্যন্ত, যৌথ বিবৃতিসহ; এবং ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত, যদি দাম স্বাধীন মূল্যায়নকারীর নির্ধারিত ন্যায্যমূল্যের মধ্যে থাকে।[5][11] অন্য সব ক্ষেত্রে এডি ব্যাংক তিন কর্মদিবসের মধ্যে আবেদন এফইআইডিতে পাঠাবে; আপত্তি না থাকলে ব্যাংক নিজের ক্ষমতার লেনদেন পাঁচ কর্মদিবসে সম্পন্ন করবে।[5]

শর্তগুলোও কঠোর। ক্রেতা-বিক্রেতার তারিখযুক্ত সমঝোতা স্মারক লাগবে; তাতে বিবেচিত নিরীক্ষিত হিসাব ছয় মাসের বেশি পুরোনো হতে পারবে না; স্মারক বা অনুমোদনের তারিখ, যেটি পরে, তার ৪৫ দিনের মধ্যে হস্তান্তর শেষ করতে হবে। কর ও স্ট্যাম্প শুল্ক দেবেন অনিবাসী নিজে, লক্ষ্য কোম্পানি নয়। মূল্যায়ন করবেন বিএসইসি লাইসেন্সধারী মার্চেন্ট ব্যাংকার বা তালিকাভুক্ত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। হস্তান্তরের ১৪ দিনের মধ্যে এডি ব্যাংক আরজেএসসি-অনুমোদিত ফরম ১১৭ ও হালনাগাদ শিডিউল-১০সহ এফইআইডিতে রিপোর্ট করবে। দায় এখন এডি ব্যাংকের: সিএফও বা সিইও-র নেতৃত্বে তার কমিটি মূল্যায়ন যাচাই করে, আর অতিমূল্যায়ন দেখলে মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা যায়।[5]

এফইপিডি-১ সার্কুলার ৩২ ও ৩৫: ঋণ, গ্যারান্টি ও বিশেষায়িত অঞ্চল

সার্কুলার নং ৩২ (২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ঋণ, ওভারড্রাফট, গ্যারান্টি ও বৈদেশিক ঋণের সমন্বিত নিয়ম। গ্যারান্টি দিতে এডি ব্যাংককে ইউআরডিজি, ইউসিপি ও আইএসপি অনুসারে আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা মানতে বলা হয়েছে।[2] সার্কুলার নং ৩৫ (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) স্পষ্ট করেছে যে বিশেষায়িত অঞ্চলের যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষে নিবন্ধিত নয়, কেবল তাদের মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি ঋণেই বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন লাগবে।[3]

ব্যাংকের অনুমোদন — বিদেশি ঋণ ও শেয়ার হস্তান্তরের আর্থিক বিশ্লেষণ
মূল্যায়ন ও খরচের হিসাবই এখন ফাইলের প্রাণ

বিদেশি ঋণ অনুমোদন: ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ব্যাংক

বিদেশি ঋণে দুটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা আছে, আর ভুল সংস্থায় আবেদন মানে আবেদনই না করা। সার্কুলার নং ৩২-এর অনুচ্ছেদ ২৮ অনুযায়ী বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিদেশ থেকে ঋণ গ্রহণের সব প্রস্তাবে, সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট, প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কাছ থেকে আর্থিক ঋণ এবং বিদেশি পুঁজিবাজারে ঋণপত্র ইস্যুসহ, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন লাগে।[2] তবে এক বছর পর্যন্ত মেয়াদের সাপ্লায়ার্স বা বায়ার্স ক্রেডিট এর বাইরে; সেগুলো চলতি বাণিজ্যিক লেনদেনের নিষ্পত্তি সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে চলে।[2]

বিডা থেকে ইনভেস্ট বাংলাদেশ

ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ১০৪ নং আইন) ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখের, আর সরকারি প্রজ্ঞাপনে ২০ আগস্ট ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে; এই আইনে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ গঠিত হয়েছে।[9] বাংলাদেশ ব্যাংক নিজের সার্কুলারে কর্তৃপক্ষকে "সাবেক বিডা" বলে উল্লেখ করে, আর আগের বেজা-নিবন্ধিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের কোম্পানিগুলোর ঋণ প্রস্তাব এখন যায় ইনভেস্ট বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ/সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট স্ক্রুটিনি কমিটিতে।[3] পদ্ধতি এখনো ১০ ডিসেম্বর ১৯৯৮ তারিখের তৎকালীন বিনিয়োগ বোর্ডের প্রজ্ঞাপন, যা সার্কুলার নং ৩২-এর পরিশিষ্ট-৩।[2]

বিডা অনুমোদন ও স্ক্রুটিনি কমিটি

বিডার প্রকাশিত পদ্ধতি অনুযায়ী আবেদন প্রথমে কর্তৃপক্ষ যাচাই করে, তারপর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বাধীন স্ক্রুটিনি কমিটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়; আর চলতি মূলধন বা ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে ব্যবহারের জন্য বিদেশি ঋণের অনুমতি দেওয়া হয় না।[10] প্রতিটি প্রস্তাবে চাওয়া হয় বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা, ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা, খাতের সক্ষমতা ও চাহিদা এবং সিআইবি-প্রত্যয়িত উদ্যোক্তাদের বিদ্যমান ঋণের বিশ্লেষণ।[2]

মূল নথি: নিগমন সনদ, পরিশোধসূচি ও কার্যকর সুদহারসহ টার্ম শিট বা ঋণচুক্তি, বোর্ড রেজোলিউশন, সম্ভাব্যতা প্রতিবেদন, আইআরআর ও ডিএসসিআরসহ আর্থিক বিশ্লেষণ এবং সিআইবিভিত্তিক ব্যাংকের ঋণযোগ্যতা সনদ; সাপ্লায়ার্স ক্রেডিটে যন্ত্রপাতি নিয়ে বিআরটিসি বা বুয়েটের সনদ।[10] সিদ্ধান্তের কোনো প্রকাশিত সময়সীমা নেই, তাই ঋণচুক্তির পূর্বশর্তে বাস্তবসম্মত সময় রাখুন। আরও বিস্তারিত পাবেন আমাদের বিদেশি ঋণ অনুমোদন বিষয়ক ইংরেজি গাইডে।

সুদের হার ও সর্বমোট খরচের সীমা

সব বিদেশি ঋণে একটিই সুদসীমা নেই; সুবিধার ধরন অনুযায়ী সীমা বদলায়। স্ক্রুটিনি কমিটির পথে মেয়াদি ঋণে ১৯৯৮ সালের প্রজ্ঞাপন একটি যৌক্তিকতার মানদণ্ড দেয়: সুদ ও চার্জ সংশ্লিষ্ট মুদ্রা ও মেয়াদের আন্তর্জাতিক হারের তুলনায় যুক্তিসংগত হতে হবে, সাধারণত সেই মুদ্রার সরকারি ট্রেজারি বন্ড হার যোগ সামান্য দেশঝুঁকি প্রিমিয়াম; অতিরিক্ত মার্জিন হলে যাচাই কঠোর হয়।[2] স্বল্পমেয়াদি আমদানি বাণিজ্য অর্থায়নে ১১ মে ২০২৬ তারিখের এফইপিডি-১ সার্কুলার নং ১০ অনুযায়ী সীমা এসওএফআর বা ইউরিবরের মতো বেঞ্চমার্ক যোগ বার্ষিক ৩ শতাংশ।[7] প্যারেন্ট ঋণে সীমা সমতল বার্ষিক ৩ শতাংশ, বেঞ্চমার্কের ওপর মার্জিন নয়।[6]

এফইআইডি সার্কুলার ০৩/২০২৬: প্যারেন্ট ঋণের সাধারণ অনুমতি

এফইআইডি সার্কুলার ০৩/২০২৬ অনুযায়ী এক বছরের কম মেয়াদে বিশেষায়িত অঞ্চলের বাইরের সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন উৎপাদন ও সেবা প্রতিষ্ঠান (ট্রেডিং ছাড়া) বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ছাড়াই কাঁচামাল কেনা বাদে চলতি মূলধনের জন্য সুদমুক্ত ঋণ নিতে পারে; বিকল্প হিসেবে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ খরচে সুদবাহী ঋণ, মেয়াদ শেষে এককালীন পরিশোধে, রোলওভারসহ মোট তিন বছর পর্যন্ত।[6] এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যমেয়াদি ঋণ কেবল মূলধনি ব্যয়ে: সুদমুক্ত ৫ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত, সুদবাহী ৫০ লাখ ডলার পর্যন্ত। পাঁচ বছরের বেশি মেয়াদে খরচ ৩ শতাংশের বেশি নয় এবং এককালীন পরিশোধ নিষিদ্ধ।[6]

সাধারণ শর্তগুলো: বিদেশি দায় পরিশোধে খেলাপির ইতিহাস থাকবে না, সুদবাহী ঋণে ঋণ-ইকুইটি অনুপাত ৮০:২০ ছাড়াবে না, প্রতি কিস্তি ৫০ লাখ ডলারের বেশি নয়, সব লেনদেন মনোনীত এডি ব্যাংকের মাধ্যমে, বিতরণের ১৪ দিনের মধ্যে এবং চুক্তি সংশোধনের ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট, আর যেকোনো সময় ঋণকে ইকুইটিতে রূপান্তরের সুযোগ।[6] এর বাইরের আবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে যাবে।[6] ইকুইটি না ঋণ, এই সিদ্ধান্তে আমাদের ইংরেজি বিশ্লেষণ দেখুন।

ঋণ পরিশোধ ও সুদ পাঠানো

ইনভেস্ট বাংলাদেশ অনুমোদিত ঋণের সুদ, আসল ও গ্রহণযোগ্য চার্জ এডি ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকে পুনরায় না গিয়েই পাঠাতে পারে, যদি একই এডি ব্যাংক কর কেটে পাঠায়, ঋণপ্রাপ্তির সনদ দেয়, আর সাপ্লায়ার্স ক্রেডিটে যন্ত্রপাতি আসার বিল অব এন্ট্রি থাকে।[2] যেসব ক্ষেত্রে মূল ঋণ, ওভারড্রাফট বা গ্যারান্টিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন লেগেছিল, সেগুলোর নবায়নেও পূর্বানুমোদন লাগে।[2]

বিদেশি ঋণের বিপরীতে গ্যারান্টি

ইনভেস্ট বাংলাদেশ অনুমোদিত ঋণে নিবাসী ঋণগ্রহীতার কর্পোরেট, ব্যক্তিগত বা তৃতীয় পক্ষের গ্যারান্টিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি লাগে না। কিন্তু ব্যাংক গ্যারান্টি বা স্ট্যান্ডবাই এলসির মতো এডি ব্যাংকের পরিশোধ অঙ্গীকারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুনির্দিষ্ট অনুমতি লাগে, আর আবেদনে দেখাতে হয় যে ঋণ নীতিমালা ও একক গ্রাহক সীমা মানা হয়েছে, অঙ্গীকারের অন্তত ২৫ শতাংশ নগদ মার্জিন বা দায়মুক্ত নগদায়নযোগ্য আমানতে রাখা হয়েছে, ব্যাংকের বোর্ডের শর্তসাপেক্ষ অনুমোদন আছে এবং ঋণটি ইনভেস্ট বাংলাদেশ অনুমোদন করেছে।[2]

বিদেশে টাকা পাঠানো ও রেমিট্যান্সের অনুমতি

সার্কুলার নং ৪০ অনুযায়ী আমদানি ছাড়া যেকোনো বহির্গামী রেমিট্যান্স ফরম টিএম-এ করতে হয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনলাইন টিএম মনিটরিং সিস্টেমে রিপোর্ট হয়; কর ও ভ্যাট পরিশোধের তথ্য পরের মাসের ২৫ তারিখের মধ্যে দিতে হয়।[4] কোন কোন খাতে কত টাকা পাঠানো যায়, তার পূর্ণ বিবরণ আছে আমাদের বহির্গামী রেমিট্যান্স বিষয়ক ইংরেজি গাইডে; এখানে মূল কয়েকটি বিষয় দেওয়া হলো।

ব্যক্তিগত রেমিট্যান্স: ভ্রমণ, চিকিৎসা ও শিক্ষা

বিদেশ ভ্রমণে এডি ব্যাংক বার্ষিক কোটা থেকে সর্বোচ্চ ১৮,০০০ মার্কিন ডলার দিতে পারে, যার মধ্যে একবারে ৫,০০০ ডলার পর্যন্ত নগদ নোটে।[4] চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড বা বিশেষজ্ঞের সুপারিশ ও বিদেশি হাসপাতালের ব্যয় প্রাক্কলনের ভিত্তিতে ১৫,০০০ ডলার পর্যন্ত এডি ব্যাংক নিজেই দিতে পারে; এর বেশি হলে আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে যায়।[4] বাস্তবে আসল বাধা অঙ্ক নয়, কাগজপত্র।

লভ্যাংশ, শাখার মুনাফা ও রয়্যালটি

অনিবাসী শেয়ারহোল্ডারকে চূড়ান্ত ও অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ এডি ব্যাংক নিজেই পাঠাতে পারে, নির্ধারিত ফরমে নিরীক্ষকের প্রত্যয়নসহ আবেদন, নিরীক্ষিত হিসাব, লভ্যাংশ ঘোষণার বোর্ড রেজোলিউশন ও কর কর্তনের সনদ পেলে।[4] রয়্যালটি, কারিগরি জ্ঞান বা সহায়তা ফি ও ফ্র্যাঞ্চাইজ ফির ক্ষেত্রে ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬ এর ধারা ২৭ অনুযায়ী অনুমোদিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হয়; সাবেক বিডার ২০২১ সালের নির্দেশিকার তফসিলের সীমার মধ্যে থাকলে এডি ব্যাংক নিজেই, কর ও ভ্যাট কেটে, পাঠাতে পারে।[4]

ব্যাংকের অনুমোদন — ব্যাংক গ্যারান্টি বিরোধে উচ্চ আদালতের শুনানি
প্রতারণা ছাড়া নগদায়ন আটকানো কঠিন

ব্যাংক গ্যারান্টি মামলা: নগদায়ন, নিষেধাজ্ঞা ও প্রতারণার ব্যতিক্রম

বিরোধ শুরু হয় যখন সুবিধাভোগী (বেনিফিশিয়ারি) নগদায়ন দাবি করেন আর ঠিকাদার মনে করেন দাবিটি অন্যায্য। হাইকোর্ট বিভাগ ৯ জুলাই ২০২৫ তারিখের কামরুল আশরাফ খান বনাম বিসিআইসি মামলায় বলেছে, ব্যাংক গ্যারান্টি একটি আলাদা চুক্তি, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যেকোনো সময় তা নগদায়ন করা যায়, এবং সময়মতো দাবি এলে প্রতারণার প্রশ্ন ছাড়া ইস্যুকারী ব্যাংকের অর্থ প্রদানে অস্বীকারের আইনি অধিকার নেই।[12]

আপিল বিভাগের নীতি: প্রতারণাই একমাত্র ব্যতিক্রম

এই অবস্থানের ভিত্তি আপিল বিভাগের উত্তরা ব্যাংক বনাম ম্যাকনিল অ্যান্ড কিলবার্ন, ৩৩ ডিএলআর (এডি) ২৯৮ মামলা, যেখানে বলা হয়েছে ব্যাংক গ্যারান্টির ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যায় না। নুভিস্তা ফার্মা বনাম জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ৬৫ ডিএলআর (এডি) ৩০২ মামলাতেও একই কথা।[12] হাইকোর্ট বিভাগের ভাষায়, একমাত্র ব্যতিক্রম এমন প্রতারণা, যার বিষয়ে ব্যাংক অবহিত।[12][14] কামরুল আশরাফ খান মামলায় আবেদনকারী প্রতারণার অভিযোগই করেননি, তাই সালিশ আইনের ধারা ৭ক অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন প্রত্যাখ্যান বহাল থেকেছে।[12]

প্রতারণা মানে চুক্তির দায় নিয়ে মতবিরোধ নয়। কাজ শেষের সনদের পর লঙ্ঘনের দাবি বা জাল দলিলের মতো ক্ষেত্রেই যুক্তিটি দাঁড়ায়, আর প্রমাণ হতে হয় দালিলিক। ভারতের "অপূরণীয় অবিচার" ব্যতিক্রমকে এই রায়গুলো স্বতন্ত্র ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেনি; প্রতারণাকেই একমাত্র ব্যতিক্রম বলেছে।[12][14]

সালিশ আইনের ধারা ৭ক: হাইকোর্ট বিভাগে ভিন্নমত

পুরো চিত্র অবশ্য এক রঙের নয়। ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের পূবালী ট্রেডার্স বনাম খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় মামলায় হাইকোর্ট বিভাগের একটি দ্বৈত বেঞ্চ ২০১০ সালের ১১,৯৬,১০৭.৫০ মার্কিন ডলারের পারফরম্যান্স গ্যারান্টির নগদায়ন স্থগিত করেছে।[13] আদালত বলেছে, সালিশ আইন, ২০০১ একটি বিশেষ আইন, যা দেওয়ানি কার্যবিধির সাধারণ বিধানের ওপর প্রাধান্য পায়; তাই ধারা ৭ক(১) এর অধীনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যায়। সালিশি রোয়েদাদ বাতিলের মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মন্ত্রণালয়কে নগদায়ন থেকে বিরত রাখা হয়েছে, আর জেলা জজকে ছয় মাসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।[13]

লক্ষণীয়, নিষেধাজ্ঞা গেছে সুবিধাভোগীর বিরুদ্ধে, ব্যাংকের বিরুদ্ধে নয়, এবং তা একটি নির্দিষ্ট সালিশি ধাপের সঙ্গে যুক্ত।[13] আপিল বিভাগ বিরোধটি নিষ্পত্তি না করা পর্যন্ত শুধু সালিশের যুক্তিতে ভর না করে প্রতারণা বা দাবির অসংগতির প্রমাণ সঙ্গে রাখুন। সালিশ সংক্রান্ত মামলার পূর্ণ বিশ্লেষণ পাবেন আমাদের ব্যাংক গ্যারান্টি নগদায়ন বিষয়ক ইংরেজি গাইডে।

দাবি আদায়: সুবিধাভোগী ব্যাংকের বিরুদ্ধে

সুবিধাভোগীর দিক থেকে প্রশ্ন উল্টো: ব্যাংক টাকা না দিলে কী করবেন। ইউনিক সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ বনাম বাংলাদেশ ব্যাংক মামলায় ইসলামী ব্যাংকের দেওয়া ৫০ লাখ টাকার গ্যারান্টির মেয়াদ ছিল ১৮ এপ্রিল ২০১৬ পর্যন্ত; সুবিধাভোগী ২০ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে মেয়াদের মধ্যেই দাবি করেছিলেন। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে মেয়াদ শেষ হয়, আর ব্যাংক মেয়াদোত্তীর্ণের যুক্তিতে গ্যারান্টি বাতিল করে।[14]

৮ মে ২০২৫ তারিখের রায়ে হাইকোর্ট বিভাগ ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ধারা ৪৫ ও ৪৯ এর ক্ষমতা ব্যবহার করে বাংলাদেশ ব্যাংককে ৩০ দিনের মধ্যে গ্যারান্টি নগদায়নের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে।[14] অর্থাৎ অস্বীকারকারী ব্যাংকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ ও প্রয়োজনে রিট একটি কার্যকর দাবি আদায়ের পথ।

নগদায়নের পর: ব্যাংকের দাবি ও আবেদনকারীর ক্ষতিপূরণ

নগদায়নের পর ব্যাংক কাউন্টার-ইনডেমনিটির ভিত্তিতে আবেদনকারীর কাছ থেকে টাকা আদায় করে; শোধ না হলে ব্যাংক বিশেষ আদালতে মামলা করতে পারে, যার প্রক্রিয়া দেখুন আমাদের অর্থ ঋণ আদালত বিষয়ক বাংলা গাইডে। অন্যদিকে আবেদনকারী মনে করলে দাবিটি অন্যায্য ছিল, তিনি সুবিধাভোগীর বিরুদ্ধে মূল চুক্তির ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ চাইবেন, চুক্তিতে সালিশ থাকলে সালিশে। নতুন বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ কার্যকর হওয়ায় কোন আদালতে দাবি যাবে, তা মামলার আগে যাচাই করে নিন।

বিদেশি পক্ষের গ্যারান্টি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম

নিবাসী ও অনিবাসীর মধ্যে গ্যারান্টি বৈদেশিক মুদ্রা আইনের ধারা ৩, ৪, ৫, ১৮ ও ২০ এর আওতায় নিয়ন্ত্রিত। বিদেশি ব্যাংকের ব্যাক-টু-ব্যাক গ্যারান্টি থাকলে এডি ব্যাংক পূর্বানুমোদন ছাড়াই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দেশি সুবিধাভোগীর অনুকূলে গ্যারান্টি দিতে পারে; অন্য ক্ষেত্রে পূর্বানুমোদন লাগে, নগদায়ন হলে ব্যাংক কীভাবে টাকা ফেরত পাবে তা দেখিয়ে।[2] পারফরম্যান্স গ্যারান্টি আটকানোর প্রথম ৪৮ ঘণ্টার করণীয় দেখুন আমাদের ইংরেজি নির্দেশিকায়।

ব্যাংকের অনুমোদন নিতে যে ভুলগুলো এড়াবেন

ভুল নিয়ন্ত্রকের কাছে যাওয়া। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিদেশি ঋণ ও রয়্যালটি এখন ইনভেস্ট বাংলাদেশের হাতে; আর ইনভেস্ট বাংলাদেশে নিবন্ধিত নয় এমন বিশেষায়িত অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানের মেয়াদি ঋণ বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে।[3][4] সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দেওয়া। এডি ব্যাংকের সুপারিশ ছাড়া গ্রাহকের চিঠি আবেদন হিসেবে গণ্য হয় না।[4] মেয়াদোত্তীর্ণ সার্কুলারের ওপর নির্ভর করা। সমন্বিত সার্কুলার এক বছর বৈধ এবং মাঝপথে সংশোধিত হয়।[2]

মূল্যায়ন হালকাভাবে নেওয়া। শেয়ার হস্তান্তরে অনুমোদন না লাগলেও ন্যায্যমূল্যের শর্ত আছে।[5] ভুল খরচের মানদণ্ড। মেয়াদি ঋণে বাণিজ্য অর্থায়নের সীমা, বা প্যারেন্ট ঋণে বেঞ্চমার্ক মার্জিন ধরা।[6][7] গ্যারান্টি দাবিতে দেরি। সুবিধাভোগীর জন্য মেয়াদের মধ্যে নির্ভুল দাবিই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।[14]

ব্যাংকিং ও ফাইন্যান্স আইনজীবীর সেবা তাই কেবল মামলায় সীমাবদ্ধ নয়; কাঠামো, আবেদন ও বিরোধ একই ফাইলের ধাপ। ইংরেজিতে বিস্তারিত পড়তে চাইলে দেখুন আমাদের বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদন বিষয়ক ইংরেজি গাইড, আর বিরোধের ক্ষেত্রে আমাদের ব্যাংকিং ও ফাইন্যান্স লিটিগেশন প্র্যাকটিস।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

কখন বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন লাগে?

যখন লেনদেনটি চলতি সমন্বিত সার্কুলারে এডি ব্যাংককে দেওয়া সাধারণ অনুমতির বাইরে পড়ে; অনুমতি ছাড়া অনিবাসীকে অর্থ প্রদান নিষিদ্ধ।[1][4]

আমি কি সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করতে পারি?

না। আবেদন যায় এডি ব্যাংকের মাধ্যমে, সুপারিশসহ; অনুমতি সাধারণত ৪৫ দিন বৈধ।[4]

বিদেশি বিনিয়োগকারীর কাছে শেয়ার বিক্রিতে কি অনুমোদন লাগে?

অতালিকাভুক্ত কোম্পানিতে ন্যায্যমূল্যে হস্তান্তর হলে লাগে না। চুক্তিমূল্য ১ কোটি টাকার বেশি হলে মূল্যায়ন প্রতিবেদন লাগে, আর এডি ব্যাংক ১৪ দিনের মধ্যে এফইআইডিতে রিপোর্ট করে।[5]

শেয়ার বিক্রির টাকা কত পর্যন্ত অনুমতি ছাড়া বিদেশে নেওয়া যায়?

নিট সম্পদমূল্যের মধ্যে থাকলে যেকোনো অঙ্ক; অন্যথায় স্বাধীন ন্যায্য মূল্যায়ন থাকলে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত। এর বেশি হলে এডি ব্যাংক তিন কর্মদিবসে আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠায়।[5][11]

বিদেশি ঋণ অনুমোদন এখন কে দেয়?

বেসরকারি শিল্পে ইনভেস্ট বাংলাদেশের স্ক্রুটিনি কমিটি; সেখানে নিবন্ধিত নয় এমন বিশেষায়িত অঞ্চলের প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংক।[2][3]

বিদেশি ঋণে সুদের হারের সীমা কত?

স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্য অর্থায়নে বেঞ্চমার্ক যোগ ৩ শতাংশ, প্যারেন্ট ঋণে ৩ শতাংশ; স্ক্রুটিনি কমিটির মেয়াদি ঋণে নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই, যৌক্তিকতা যাচাই হয়।[2][6][7]

প্যারেন্ট কোম্পানি থেকে কি অনুমতি ছাড়া ঋণ নেওয়া যায়?

সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠান পারে, এফইআইডি সার্কুলার ০৩/২০২৬ এর সীমা ও ৩ শতাংশ খরচসীমা মেনে।[6]

বিদেশি ঋণ কি চলতি মূলধনে ব্যবহার করা যায়?

স্ক্রুটিনি কমিটির পথে নয়। তবে সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান প্যারেন্ট থেকে স্বল্পমেয়াদি সুদমুক্ত চলতি মূলধন ঋণ নিতে পারে।[10][6]

আদালত কি ব্যাংক গ্যারান্টির নগদায়ন আটকাতে পারে?

খুব সীমিত ক্ষেত্রে; একমাত্র স্বীকৃত ব্যতিক্রম ব্যাংকের জানা প্রতারণা। তবে পূবালী ট্রেডার্স মামলায় সালিশ আইনের ধারা ৭ক এর অধীনে নগদায়ন স্থগিত হয়েছে।[12][13]

নিষেধাজ্ঞা চলাকালে গ্যারান্টির মেয়াদ শেষ হলে কী হয়?

মেয়াদের মধ্যে দাবি হয়ে থাকলে তা টিকে থাকতে পারে; ইউনিক সিমেন্ট মামলায় তাই হয়েছে।[14]

সূত্র তালিকা

প্রাথমিক আইনি ও নিয়ন্ত্রক সূত্র

উপকরণ যাচাইয়ের তারিখ ২১ অক্টোবর ২০২৬। কোনো বিধানের ওপর নির্ভর করার আগে সর্বশেষ সরকারি পাঠ মিলিয়ে নিন।

  1. বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন — Foreign Exchange Regulation Act, 1947 (Act No. VII of 1947), ধারা ৫, ১৮খ, ২০, ২৩ — বাংলাদেশ আইন (bdlaws)
  2. Bangladesh Bank, FEPD-1 Circular No. 32 (2 September 2026) — loans, overdrafts, guarantees and external borrowings
  3. Bangladesh Bank, FEPD-1 Circular No. 35 (14 September 2026) — medium/long-term external borrowing in specialized zones
  4. Bangladesh Bank, FEPD-1 Circular No. 40 (30 September 2026) — outward remittances on current account
  5. Bangladesh Bank, FEID Circular No. 01 (8 March 2026) — transfer of shares and repatriation of sale proceeds
  6. Bangladesh Bank, FEID Circular No. 03 (15 July 2026) — external borrowing from parent companies, associates and shareholders
  7. Bangladesh Bank, FEPD-1 Circular No. 10 (11 May 2026) — all-in-cost ceiling for short-term trade finance
  8. বাংলাদেশ ব্যাংক, বিআরপিডি-১ সার্কুলার নং ০১ (৪ জানুয়ারি ২০২৬) — অভিন্ন পার্সোনাল গ্যারান্টি ফরম
  9. ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ১০৪ নং আইন) — বাংলাদেশ আইন (bdlaws)
  10. BIDA — Procedure to obtain prior permission to avail a foreign loan
  11. বিডিনিউজ২৪, ১৫ জুলাই ২০২৬ — বিদেশি কোম্পানির ঋণ নেওয়ার শর্ত আরও শিথিল
  12. সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ — Kamrul Ashraf Khan v BCIC, Civil Revision No. 481 of 2024 (রায় ৯ জুলাই ২০২৫)
  13. সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ — M/S Pubali Traders v Ministry of Food and Disaster Management, Civil Revision No. 1042 of 2025 (রায় ৯ ডিসেম্বর ২০২৫)
  14. সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ — Unique Cement Industries v Bangladesh Bank, Writ Petition No. 4737 of 2018 (রায় ৮ মে ২০২৫)

TRW-এর সহায়তা

তথ্য থেকে সুনির্দিষ্ট পরবর্তী পদক্ষেপে

TRW বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ও ইনভেস্ট বাংলাদেশের আবেদন, শেয়ার হস্তান্তরের মূল্যায়ন, বিদেশি ঋণের কাঠামো, সার্কুলার ব্যাখ্যা এবং ব্যাংক গ্যারান্টি বিরোধে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শ দেয়। দেখুন আমাদের ব্যাংকিং ও ফাইন্যান্স প্র্যাকটিস, অথবা আপনার লেনদেন নিয়ে আলোচনা করতে TRW-এর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

Message TRW on WhatsApp