নবম সংশোধনী সংবিধান (নবম সংশোধন) আইন, ১৯৮৯
১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৯১ থেকে কার্যকর দ্বাদশ সংশোধনী চতুর্থ ভাগের রাষ্ট্রপতিশাসিত পরিচ্ছেদগুলো প্রতিস্থাপন করে এবং উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলুপ্ত করে, ফলে এর উপ-রাষ্ট্রপতি সংক্রান্ত বিধানগুলো অকার্যকর হয়ে যায়।
১৯৮৯ সালে রাষ্ট্রপতি ছিলেন নির্বাহী বিভাগের প্রধান এবং তিনি উপ-রাষ্ট্রপতিকে নিয়োগ দিতেন। তখন বলবৎ সংবিধানে একজন রাষ্ট্রপতি কত মেয়াদ দায়িত্ব পালন করতে পারবেন তার কোনো সীমা ছিল না। রাষ্ট্রপতির সহকারী ও উত্তরসূরি উপ-রাষ্ট্রপতি বাছাইয়ে সংসদের কোনো ভূমিকা ছিল না।
১৯৮৯ সালের জুলাইয়ে চতুর্থ সংসদ সংবিধান (নবম সংশোধন) বিল পাস করে, এবং এটি ১৯৮৯ সনের ৩৮ নং আইন হয়। এটি চতুর্থ ভাগে রাষ্ট্রপতি ও উপ-রাষ্ট্রপতি সংক্রান্ত বিধান নতুন করে লেখে এবং ১২৫ ও ১৫২ অনুচ্ছেদে সংশ্লিষ্ট পরিবর্তন আনে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপ-রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে একই পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য সরাসরি নির্বাচনে নির্বাচিত হবেন। শূন্য পদ পূরণে নিযুক্ত উপ-রাষ্ট্রপতির জন্য সংসদের অনুমোদন লাগবে, ফলে রাষ্ট্রপতি আর একা নিজের সহকারী বেছে নিতে পারবেন না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি পাঁচ বছরের একাদিক্রমে দুই মেয়াদের বেশি রাষ্ট্রপতির পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না। নির্বাচনী বিষয়কে সাধারণ আদালতের চ্যালেঞ্জ থেকে সুরক্ষা দেওয়া ১২৫ অনুচ্ছেদকে রাষ্ট্রপতি ও উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পর্যন্ত প্রসারিত করা হয়।
এই নিয়মের অধীনে কোনো রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়নি। ১৯৯১ সালে দ্বাদশ সংশোধনী সংসদীয় সরকার পুনর্বহাল করে, রাষ্ট্রপতিশাসিত পরিচ্ছেদগুলো প্রতিস্থাপন করে, উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলুপ্ত করে এবং রাষ্ট্রপতির পদকে সংসদ কর্তৃক নির্বাচিত পদে পরিণত করে। মেয়াদের সীমা নতুন ৫০ অনুচ্ছেদে স্থানান্তরিত হয়।
সহজ ভাষায়
সংবিধান (নবম সংশোধন) আইন, ১৯৮৯
নবম সংশোধনী তৎকালীন রাষ্ট্রপতিশাসিত পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনে। বাংলাপিডিয়া ও দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে উপ-রাষ্ট্রপতির সরাসরি নির্বাচনের বিধান করা হয়, একজন রাষ্ট্রপতির জন্য পাঁচ বছর মেয়াদের একাদিক্রমে দুই মেয়াদের সীমা নির্ধারিত হয়, এবং শূন্য পদে নিযুক্ত উপ-রাষ্ট্রপতির জন্য সংসদের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়। সরকারি পাদটীকায় দুটি সংশ্লিষ্ট পরিবর্তন লিপিবদ্ধ আছে: ১২৫ অনুচ্ছেদকে রাষ্ট্রপতি ও উপ-রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচন পর্যন্ত প্রসারিত করা হয়, এবং একটি সংজ্ঞা যুক্ত করার সুযোগ রাখতে ১৫২ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়।
১৯৯১ সালের দ্বাদশ সংশোধনী সংসদীয় সরকার পুনর্বহাল ও উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলুপ্ত করার আগে এটিই ছিল রাষ্ট্রপতিশাসিত পদ্ধতিতে শেষ পরিবর্তন।
প্রেক্ষাপট
১৯৭৫ সাল থেকে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতিশাসিত পদ্ধতি চালু ছিল, যেখানে রাষ্ট্রপতি নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন এবং উপ-রাষ্ট্রপতিকে নিয়োগ দিতেন। ১৯৮৯ সালে ১৯৮৮ সালের মার্চে নির্বাচিত চতুর্থ সংসদ উপ-রাষ্ট্রপতির পদকে সরাসরি নির্বাচিত পদ করতে এবং রাষ্ট্রপতির মেয়াদের সীমা নির্ধারণ করতে নবম সংশোধনী পাস করে। পরিবর্তনগুলো চতুর্থ ভাগের রাষ্ট্রপতিশাসিত পরিচ্ছেদগুলোর মধ্যেই করা হয়। মাত্র দুই বছর পর, ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে রাষ্ট্রপতি এরশাদের পদত্যাগ এবং ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত পঞ্চম সংসদের সংসদীয় পদ্ধতি পুনর্বহালের পক্ষে ভোটের পর ওই পরিচ্ছেদগুলোই প্রতিস্থাপিত হয়।
কী বদলেছে
নবম সংশোধনী: অনুচ্ছেদ ধরে পরিবর্তন
অনুচ্ছেদ ৪৮
নবম সংশোধনীপ্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে উপ-রাষ্ট্রপতির সরাসরি নির্বাচনের বিধান করে, একজন রাষ্ট্রপতিকে পাঁচ বছরের একাদিক্রমে দুই মেয়াদে সীমিত করে, এবং শূন্য পদে নিযুক্ত উপ-রাষ্ট্রপতির জন্য সংসদের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করে।
এই পরিবর্তনগুলো চতুর্থ ভাগের তৎকালীন ১ম পরিচ্ছেদের মধ্যে করা হয়। সঠিক অনুচ্ছেদ ও ধারাগুলো নিশ্চিত নয়, কারণ ১৯৯১ সালে দ্বাদশ সংশোধনী পুরো পরিচ্ছেদটি প্রতিস্থাপন করে।
অনুচ্ছেদ ১২৫
নবম সংশোধনী... রাষ্ট্রপতি-পদে ...
... রাষ্ট্রপতি ও উপ-রাষ্ট্রপতি পদে ...
১৪ ধারা, (খ) দফায়। দ্বাদশ সংশোধনীর ১৬ ধারা "ও উপ-রাষ্ট্রপতি" শব্দগুলো বিলুপ্ত করে।
অনুচ্ছেদ ১৫২
নবম সংশোধনী"কর" (taxation)-এর সংজ্ঞা, যা দাঁড়ি দিয়ে শেষ হতো।
দাঁড়ির জায়গায় সেমিকোলন বসানো হয়, যাতে এর পরে আরেকটি সংজ্ঞা যুক্ত করা যায়।
১৬ ধারা। "উপ-রাষ্ট্রপতি" অভিব্যক্তিটি পরে দ্বাদশ সংশোধনীর ২৩ ধারা দ্বারা বিলুপ্ত হয়।
পরবর্তী ঘটনা
নবম সংশোধনী: পরে যা ঘটেছে
নবম সংশোধনী আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়নি। দুই বছরের মধ্যেই এর মূল উদ্দেশ্য অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে। ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ তারিখে রাষ্ট্রপতি এরশাদ পদত্যাগ করেন, এবং ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত পঞ্চম সংসদ দ্বাদশ সংশোধনী পাস করে। গণভোটে অনুমোদিত এবং ১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৯১ থেকে কার্যকর এই সংশোধনী চতুর্থ ভাগের নতুন ১ম থেকে ৩য় পরিচ্ছেদ প্রতিস্থাপন করে, উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলুপ্ত করে, রাষ্ট্রপতির পদকে সংসদ-সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত পদে পরিণত করে, এবং ১২৫ ও ১৫২ অনুচ্ছেদসহ গোটা সংবিধান থেকে উপ-রাষ্ট্রপতির উল্লেখ বাদ দেয়। দুই মেয়াদের সীমা বর্তমান ৫০(২) অনুচ্ছেদে টিকে আছে।
সময়রেখা
- চতুর্থ সংসদ নির্বাচিত
- সংসদে নবম সংশোধনী পাস, প্রতিবেদন অনুযায়ী
- রাষ্ট্রপতি এরশাদের পদত্যাগ
- দ্বাদশ সংশোধনী কার্যকর হয় এবং উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলুপ্ত করে
প্রশ্নোত্তর
নবম সংশোধনী: সাধারণ প্রশ্নোত্তর
নবম সংশোধনী কী পরিবর্তন করেছিল?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি উপ-রাষ্ট্রপতির পদকে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে একত্রে সরাসরি নির্বাচিত পদ করে, একজন রাষ্ট্রপতিকে পাঁচ বছরের একাদিক্রমে দুই মেয়াদে সীমিত করে, এবং শূন্য পদে নিযুক্ত উপ-রাষ্ট্রপতির জন্য সংসদের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করে। এটি ১২৫ অনুচ্ছেদকে রাষ্ট্রপতি ও উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পর্যন্ত প্রসারিত করে।
বাংলাদেশে কি এখনও উপ-রাষ্ট্রপতি আছেন?
না। ১৯৯১ সালের দ্বাদশ সংশোধনী সংসদীয় সরকার পুনর্বহালের সময় পদটি বিলুপ্ত করে। এটি ৬৬, ১২৫, ১৪৭ ও ১৫২ অনুচ্ছেদ এবং তৃতীয় তফসিল থেকে উপ-রাষ্ট্রপতির উল্লেখ বাদ দেয়, এবং চতুর্থ ভাগের রাষ্ট্রপতিশাসিত পরিচ্ছেদগুলো প্রতিস্থাপন করে।
রাষ্ট্রপতির জন্য কি এখনও দুই মেয়াদের সীমা আছে?
হ্যাঁ। দ্বাদশ সংশোধনী দ্বারা প্রতিস্থাপিত পরিচ্ছেদের ৫০(২) অনুচ্ছেদ বলে, একাদিক্রমে হোক বা না হোক, কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি রাষ্ট্রপতির পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন না।
উৎস
- Archived English text of the Constitution with pre-2004 footnotes, Part VII (RESDAL copy)
- Archived English text of the Constitution with pre-2004 footnotes, Part XI (RESDAL copy)
- Laws of Bangladesh (bdlaws): Constitution, Article 125 (footnotes on the Ninth and Twelfth Amendments)
- Laws of Bangladesh (bdlaws): Constitution, Article 152 (footnotes on the Ninth and Twelfth Amendments)
- Banglapedia: Constitutional Amendments
- The Daily Star Law and Our Rights (3 April 2004): summary of constitutional amendments
এই গাইড সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়। ২০২৬ সালে আলোচনাধীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইন হিসেবে পাস না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবিধানিক ও রিট আইনচর্চা
নবম সংশোধনী নিয়ে আইনি সহায়তা দরকার?
আমাদের আইনজীবীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন, মৌলিক অধিকার ও জনআইন বিষয়ে পরামর্শ দেন।