অনুচ্ছেদ ১১৮ নির্বাচন কমিশন
নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা
নাগরিকের প্রতিটি ভোট নির্ভর করে সরকারি চাপমুক্ত একটি কমিশনের ওপর। বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীরাও কমিশনকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, কারণ বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।
২০২২ সালের নিয়োগ আইনের অধীন একজন বিচারকের নেতৃত্বে একটি অনুসন্ধান কমিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারদের জন্য নাম প্রস্তাব করে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে আপিল বিভাগের একজন বিচারকের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি কমিটি এই কাজ করে এবং রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ পাঠায়।
১১৮(১) অনুচ্ছেদ এ বিষয়ে কোনো আইন সাপেক্ষে নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতিকে দেয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি এ এম এম নাসির উদ্দীনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং তাঁর সঙ্গে চারজন কমিশনার নিয়োগ দেন।
দায়িত্ব নেওয়ার আগে প্রত্যেক কমিশনার তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত শপথ গ্রহণ করেন, যা পাঠ করান প্রধান বিচারপতি। শপথে ব্যক্তিগত স্বার্থকে সরকারি আচরণ বা সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করতে না দেওয়ার অঙ্গীকার রয়েছে। শপথের পরেই পাঁচ বছরের মেয়াদ শুরু হয়।
দায়িত্ব গ্রহণের পর কমিশন কেবল সংবিধান ও আইনের অধীন। এটি নির্বাচনের তফসিল নির্ধারণ করে, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধান করে এবং ভোটগ্রহণ পরিচালনা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করে, ক্ষমতাসীন সরকারের কোনো আদেশ না নিয়ে।
সরকার চাইলেই কোনো কমিশনারকে বরখাস্ত করতে পারে না। অপসারণে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য একই পদ্ধতি ও কারণ অনুসরণ করতে হয়। পদের মেয়াদের এই নিরাপত্তাই কমিশনের স্বাধীনতার পেছনে প্রধান আইনি রক্ষাকবচ।
সহজ ভাষায়
অনুচ্ছেদ ১১৮ কীভাবে কাজ করে
১১৮ অনুচ্ছেদ নির্বাচন কমিশন সৃষ্টি করে, যে সংস্থা জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা করে। এতে একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনার থাকেন, যাঁদের সবাইকে নিয়োগ সংক্রান্ত সংসদের কোনো আইন সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন। প্রত্যেকের মেয়াদ পাঁচ বছর। সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার পরে কোনো সরকারি চাকরি নিতে পারেন না, যার উদ্দেশ্য আনুকূল্যের বিনিময়ে পুরস্কার ঠেকানো। অনুচ্ছেদটি ঘোষণা করে যে কমিশন স্বাধীন এবং কেবল সংবিধান ও আইনের অধীন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক যে পদ্ধতিতে ও যে কারণে অপসারিত হতে পারেন, সেই পদ্ধতি ও কারণ ছাড়া কমিশনারদের অপসারণ করা যায় না।
বাস্তবে
বাস্তবে ১১৮(৪) অনুচ্ছেদের প্রতিশ্রুত স্বাধীনতা মূলত প্রতিটি কমিশনের ওপর জনআস্থা দিয়েই বিচার করা হয়েছে। কয়েক দশক ধরে নিয়োগ হতো রাষ্ট্রপতির বিবেচনায়, যার বাস্তব অর্থ ছিল প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন ২০২২ একটি অনুসন্ধান কমিটির বিধান করে। ২০২৪ সালের আগস্টের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি নতুন কমিটি গঠন করে, এবং ২০২৪ সালের নভেম্বরে একটি নতুন কমিশন দায়িত্ব নেয়, যা ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পরিচালনা করে।
সংবিধান সংস্কার কমিশনসহ সংস্কার সংস্থাগুলো প্রস্তাব করেছে যে রাষ্ট্রীয় পদাধিকারীদের একটি বৃহত্তর পরিষদ কমিশনারদের নিয়োগ দেবে। এগুলো এখনও প্রস্তাব মাত্র এবং আইনে পরিণত হয়নি।
মূল পাঠ
অনুচ্ছেদ ১১৮-এ যা বলা আছে
১১৮ । [(১) প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনারকে লইয়া] বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকিবে এবং উক্ত বিষয়ে প্রণীত কোন আইনের বিধানাবলী-সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারকে নিয়োগদান করিবেন।
...
(৩) এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে কোন নির্বাচন কমিশনারের পদের মেয়াদ তাঁহার কার্যভার গ্রহণের তারিখ হইতে পাঁচ বৎসরকাল হইবে এবং
...
(৪) নির্বাচন কমিশন দায়িত্বপালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকিবেন এবং কেবল এই সংবিধান ও আইনের অধীন হইবেন।
(৫) সংসদ কর্তৃক প্রণীত যে কোন আইনের বিধানাবলী-সাপেক্ষে নির্বাচন কমিশনারদের কর্মের শর্তাবলী রাষ্ট্রপতি আদেশের দ্বারা যেরূপ নির্ধারণ করিবেন, সেইরূপ হইবে;
তবে শর্ত থাকে যে, সুপ্রীম কোর্টের বিচারক যেরূপ পদ্ধতি ও কারণে অপসারিত হইতে পারেন, সেইরূপ পদ্ধতি ও কারণ ব্যতীত কোন নির্বাচন কমিশনার অপসারিত হইবেন না।
...
মূল দফাগুলো দেখানো হয়েছে; বাদ দেওয়া অংশ "..." দিয়ে চিহ্নিত। পূর্ণ পাঠ সরকারি ওয়েবসাইটে পড়ুন।
সরকারি "বাংলাদেশ আইন" ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলা পাঠ, যা সংবিধানের ১৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রামাণ্য। আদালতের রায়ে অবস্থান বদলে গেলে ওপরের অবস্থা-নোটে তা বলা আছে।
ইতিহাস
সংশোধনী
- পঞ্চদশ সংশোধনী ২০১১ →কমিশনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চারজন কমিশনারে নির্দিষ্ট করে, এবং অপসারণ সংক্রান্ত শর্তাংশে সুপ্রিম কোর্টের উল্লেখ সমন্বয় করে।
সংশ্লিষ্ট বিধান
সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ
প্রশ্নোত্তর
অনুচ্ছেদ ১১৮: সাধারণ প্রশ্নোত্তর
বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশন কে নিয়োগ দেন?
১১৮(১) অনুচ্ছেদের অধীন কোনো আইন সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের নিয়োগ দেন। ২০২২ সাল থেকে একটি আইন অনুযায়ী প্রথমে একটি অনুসন্ধান কমিটিকে নাম সুপারিশ করতে হয়। ২০২৪ সালের নভেম্বরে আপিল বিভাগের একজন বিচারকের নেতৃত্বে একটি কমিটি বর্তমান কমিশনের জন্য সুপারিশ করে।
সরকার কি কোনো নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ করতে পারে?
না, ইচ্ছামতো নয়। ১১৮(৫) অনুচ্ছেদ বলে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য একই পদ্ধতি ও কারণ ছাড়া কোনো কমিশনারকে অপসারণ করা যায় না। এটি নির্বাচনের সময় অজনপ্রিয় সিদ্ধান্তের কারণে বরখাস্ত হওয়া থেকে কমিশনারদের রক্ষা করে।
একজন নির্বাচন কমিশনারের মেয়াদ কত?
কমিশনারের কার্যভার গ্রহণের দিন থেকে পাঁচ বছর। সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার পরবর্তীকালে প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোনো পদে নিয়োগের অযোগ্য, আর অন্য কমিশনাররা কেবল প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগ পেতে পারেন।
উৎস
- Laws of Bangladesh: Article 118, Establishment of Election Commission
- TBS News: New CEC and four commissioners take oath (November 2024)
- Dhaka Tribune: Constitution Reform Commission proposals
- বিডিলজ: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১১৮
এই গাইড সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়। ২০২৬ সালে আলোচনাধীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইন হিসেবে পাস না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবিধানিক ও রিট আইনচর্চা
অনুচ্ছেদ ১১৮ নিয়ে আইনি সহায়তা দরকার?
আমাদের আইনজীবীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন, মৌলিক অধিকার ও জনআইন বিষয়ে পরামর্শ দেন।