অনুচ্ছেদ ১৩ মালিকানার রূপ
মালিকানার নীতি
১৩ অনুচ্ছেদ নিশ্চিত করে যে ব্যক্তিগত মালিকানা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। আইনি ঝুঁকি মূল্যায়নে বিনিয়োগকারীরা ৪২ অনুচ্ছেদের বলবৎযোগ্য সম্পত্তির অধিকারের সঙ্গে এর ওপর নির্ভর করতে পারেন।
১৩(ক) অনুচ্ছেদের অধীনে রাষ্ট্র একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সরকারি খাতের মাধ্যমে প্রধান খাতগুলোর মালিক হতে পারে। দৃষ্টান্ত হিসেবে জনগণের পক্ষে পরিচালিত রাষ্ট্রীয় সেবা সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও কর্পোরেশনের কথা বলা যায়। কোন খাত সরকারি মালিকানায় থাকবে তা সংসদ ঠিক করে।
১৩(খ) অনুচ্ছেদ সমবায়ী মালিকানাকে স্বীকৃতি দেয়, যেমন কৃষক ও মৎস্যজীবীদের সমবায়, যারা সদস্যদের জন্য সম্পদ একত্র করে। সমবায় সমিতি আইন দ্বারা সমবায় নিয়ন্ত্রিত হয় এবং সেগুলোকে এর সীমার মধ্যে থাকতে হয়। এগুলো ক্ষুদ্র উৎপাদকদের দরকষাকষির ক্ষমতা ও যৌথ সম্পদ দেয়।
১৩(গ) অনুচ্ছেদ আইনের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে ব্যক্তির মালিকানাকে স্বীকৃতি দেয়। একটি পারিবারিক ব্যবসা, একটি কারখানা বা একটি বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানি ভূমির সর্বোচ্চ সীমা ও খাতভিত্তিক বিধির মতো আইন সাপেক্ষে সম্পত্তির মালিক হতে পারে। আজকের অর্থনীতিতে ব্যক্তিগত মালিকানাই প্রধান রূপ।
সহজ ভাষায়
অনুচ্ছেদ ১৩ কীভাবে কাজ করে
১৩ অনুচ্ছেদ বলে যে উৎপাদনযন্ত্র ও বণ্টনব্যবস্থার মালিক বা নিয়ন্ত্রক হবেন জনগণ, এবং এটি তিন ধরনের মালিকানাকে স্বীকৃতি দেয়। রাষ্ট্রীয় মালিকানা বলতে বোঝায় অর্থনীতির প্রধান ক্ষেত্রগুলো নিয়ে জনগণের পক্ষে রাষ্ট্র পরিচালিত সরকারি খাত। সমবায়ী মালিকানা বলতে বোঝায় আইনের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে সদস্যদের পক্ষে সমবায়ের সম্পত্তির মালিকানা। ব্যক্তিগত মালিকানা বলতে বোঝায় আইনের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে ব্যক্তির সম্পত্তির মালিকানা। ফলে অনুচ্ছেদটি স্পষ্টভাবে বেসরকারি ব্যবসার অনুমতি দেয়, আবার সংসদকে সীমা নির্ধারণের সুযোগও দেয়। দ্বিতীয় ভাগের নীতি হওয়ায় এটি নীতি নির্ধারণে পথ দেখায়, তবে নিজে কাউকে মামলার অধিকার দেয় না।
বাস্তবে
১৯৭২ সালে ১৩ অনুচ্ছেদের রাষ্ট্রীয় মালিকানা অংশের অধীনে বহু শিল্প জাতীয়করণ করা হয়। ১৯৭০-এর দশকের শেষভাগ থেকে সরকারগুলো ব্যক্তিগত মালিকানা অংশের ওপর নির্ভর করে বহু প্রতিষ্ঠান বেসরকারীকরণ করে এবং অর্থনীতি উন্মুক্ত করে। আদালত এই পরিবর্তনগুলোকে অসাংবিধানিক গণ্য করেনি, কারণ ১৩ অনুচ্ছেদ তিন ধরনের মালিকানারই অনুমতি দেয় এবং সরাসরি বলবৎযোগ্য নয়। ব্যক্তিগত সম্পত্তির বলবৎযোগ্য সুরক্ষা আসে ৪২ অনুচ্ছেদ থেকে, যা কেবল আইনের দ্বারা অধিগ্রহণের অনুমতি দেয়।
মূল পাঠ
অনুচ্ছেদ ১৩-এ যা বলা আছে
১৩৷ উৎপাদনযন্ত্র, উৎপাদনব্যবস্থা ও বন্টনপ্রণালীসমূহের মালিক বা নিয়ন্ত্রক হইবেন জনগণ এবং এই উদ্দেশ্যে মালিকানা-ব্যবস্থা নিম্নরূপ হইবে:
(ক) রাষ্ট্রীয় মালিকানা, অর্থাৎ অর্থনৈতিক জীবনের প্রধান প্রধান ক্ষেত্র লইয়া সুষ্ঠু ও গতিশীল রাষ্ট্রায়ত্ত সরকারী খাত সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণের পক্ষে রাষ্ট্রের মালিকানা;
(খ) সমবায়ী মালিকানা, অর্থাৎ আইনের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে সমবায়সমূহের সদস্যদের পক্ষে সমবায়সমূহের মালিকানা; এবং
(গ) ব্যক্তিগত মালিকানা, অর্থাৎ আইনের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে ব্যক্তির মালিকানা৷
সরকারি "বাংলাদেশ আইন" ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলা পাঠ, যা সংবিধানের ১৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রামাণ্য। আদালতের রায়ে অবস্থান বদলে গেলে ওপরের অবস্থা-নোটে তা বলা আছে।
সংশ্লিষ্ট বিধান
সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ
প্রশ্নোত্তর
অনুচ্ছেদ ১৩: সাধারণ প্রশ্নোত্তর
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩ অনুচ্ছেদ কী?
১৩ অনুচ্ছেদ বলে যে উৎপাদনযন্ত্র, উৎপাদনব্যবস্থা ও বণ্টনপ্রণালীর মালিক বা নিয়ন্ত্রক হবেন জনগণ, তিনটি রূপে: রাষ্ট্রীয় মালিকানা, সমবায়ী মালিকানা ও ব্যক্তিগত মালিকানা, যার শেষ দুটি আইনের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে।
বাংলাদেশের সংবিধান কি ব্যক্তিগত সম্পত্তি সুরক্ষা করে?
হ্যাঁ। ১৩ অনুচ্ছেদ ব্যক্তিগত মালিকানাকে মালিকানার একটি রূপ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, এবং ৪২ অনুচ্ছেদ আইনের দ্বারা আরোপিত বাধানিষেধ সাপেক্ষে সম্পত্তি অর্জন, ধারণ ও হস্তান্তরের বলবৎযোগ্য অধিকার দেয়। বাধ্যতামূলক অধিগ্রহণ অবশ্যই আইনের অধীনে করতে হবে।
উৎস
- bdlaws: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১৩
- bdlaws: The Constitution of the People's Republic of Bangladesh, Article 13
এই গাইড সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়। ২০২৬ সালে আলোচনাধীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইন হিসেবে পাস না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবিধানিক ও রিট আইনচর্চা
অনুচ্ছেদ ১৩ নিয়ে আইনি সহায়তা দরকার?
আমাদের আইনজীবীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন, মৌলিক অধিকার ও জনআইন বিষয়ে পরামর্শ দেন।