অনুচ্ছেদ ১৪৫ক: আন্তর্জাতিক চুক্তি সংসদে পেশ

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

বলবৎবিবিধ

অনুচ্ছেদ ১৪৫ক আন্তর্জাতিক চুক্তি সংসদে পেশ

আন্তর্জাতিক চুক্তি

চুক্তি বাণিজ্য, সীমান্ত, পানিবণ্টন ও নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে পারে। এই অনুচ্ছেদ সংসদকে, এবং এর মাধ্যমে জনগণকে, সেসব চুক্তি দেখার অধিকার দেয়।

অনুচ্ছেদ ১৪৫ক — আন্তর্জাতিক চুক্তি সংসদে পেশ
চুক্তিবিদেশি রাষ্ট্র
রাষ্ট্রপতিপেশ
সংসদগোপন বৈঠক
1 / 3
  1. সরকার একটি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে, উদাহরণস্বরূপ, নদীর পানিবণ্টন বা ট্রানজিট বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তিটি নির্বাহী বিভাগ, সাধারণত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে, আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করে এবং একজন ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি তাতে স্বাক্ষর করেন।

  2. ১৪৫ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী চুক্তিটি রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করতে হবে। এরপর রাষ্ট্রপতিকে তা সংসদে পেশ করার ব্যবস্থা করতে হবে, তাই নির্বাহী বিভাগ চুক্তিটি অনির্দিষ্টকালের জন্য নির্বাচিত আইনসভা থেকে দূরে রাখতে পারে না।

  3. চুক্তিটি সংসদে পেশ করা হয়, যেখানে সদস্যরা তা পড়তে ও বিতর্ক করতে পারেন। প্রতিরক্ষা চুক্তির মতো জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হলে তা জনসাধারণ ও গণমাধ্যমের জন্য বন্ধ সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করা হয়।

সহজ ভাষায়

অনুচ্ছেদ ১৪৫ক কীভাবে কাজ করে

১৪৫ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত সকল চুক্তি রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করতে হয়, এবং রাষ্ট্রপতিকে তা সংসদে পেশ করার ব্যবস্থা করতে হয়। জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো চুক্তি সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করতে হয়। চুক্তি পেশ করার অর্থ সংসদ সদস্যরা যাতে এর শর্তাবলী জানতে পারেন সেজন্য তা উপস্থাপন করা; অনুচ্ছেদটি নিজে থেকে সংসদকে ভোট দিয়ে তা অনুমোদন করতে বলে না। নিয়মটির লক্ষ্য সরকারের আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতিগুলো প্রকাশ্যে আনা, যাতে জনগণের প্রতিনিধিরা দেখতে পারেন দেশ কী বিষয়ে সম্মত হয়েছে এবং চাইলে তা নিয়ে বিতর্ক করতে পারেন।

বাস্তবে

১৪৫ক অনুচ্ছেদকে দুর্বল বলে সমালোচনা করা হয়েছে, কারণ এটি কেবল পেশ করতে বলে, অনুমোদন নয়, এবং "চুক্তি" শব্দটির সংজ্ঞা নেই, ফলে অনেক চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও ঋণচুক্তি আদৌ পেশ করা হয় না। চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশীয় আইনে পরিণত হয় না; ব্যক্তির অধিকার ও দায়িত্ব প্রভাবিত হলে বাস্তবায়নকারী আইন প্রয়োজন। সংবিধান সংস্কার কমিশন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রস্তাব করে যে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিগুলোর জন্য সংসদীয় অনুসমর্থন বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। সেই প্রস্তাব আইন হিসেবে প্রণীত হয়নি।

মূল পাঠ

অনুচ্ছেদ ১৪৫ক-এ যা বলা আছে

[১৪৫ক। বিদেশের সহিত সম্পাদিত সকল চুক্তি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হইবে, এবং রাষ্ট্রপতি তাহা সংসদে পেশ করিবার ব্যবস্থা করিবেনঃ

তবে শর্ত থাকে যে, জাতীয় নিরাপত্তার সহিত সংশ্লিষ্ট অনুরুপ কোন চুক্তি কেবলমাত্র সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করা হইবে।]

সরকারি "বাংলাদেশ আইন" ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলা পাঠ, যা সংবিধানের ১৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রামাণ্য। আদালতের রায়ে অবস্থান বদলে গেলে ওপরের অবস্থা-নোটে তা বলা আছে।

ইতিহাস

সংশোধনী

সংশ্লিষ্ট বিধান

সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ

প্রশ্নোত্তর

অনুচ্ছেদ ১৪৫ক: সাধারণ প্রশ্নোত্তর

বাংলাদেশে কি সংসদ চুক্তি অনুমোদন করে?

বর্তমান পাঠ অনুযায়ী না। ১৪৫ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী চুক্তি রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করে সংসদে পেশ করতে হয়, জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত চুক্তি গোপন বৈঠকে, কিন্তু অনুমোদনের জন্য ভোটের প্রয়োজন নেই। সংস্কার প্রস্তাবগুলোতে অনুসমর্থন বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে।

সব আন্তর্জাতিক চুক্তি কি সংসদে পেশ করা হয়?

১৪৫ক অনুচ্ছেদ বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তবে সংবিধান "চুক্তি" শব্দের সংজ্ঞা দেয় না। বাস্তবে সমঝোতা স্মারকের মতো অনেক চুক্তি পেশ করা হয়নি, যাকে সমালোচকেরা সংসদীয় তদারকির ঘাটতি হিসেবে দেখেন।

উৎস

এই গাইড সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়। ২০২৬ সালে আলোচনাধীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইন হিসেবে পাস না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবিধানিক ও রিট আইনচর্চা

অনুচ্ছেদ ১৪৫ক নিয়ে আইনি সহায়তা দরকার?

আমাদের আইনজীবীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন, মৌলিক অধিকার ও জনআইন বিষয়ে পরামর্শ দেন।

Message TRW on WhatsApp