অনুচ্ছেদ ২৪: জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থান

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

বলবৎরাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি

অনুচ্ছেদ ২৪ জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থান

জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন, প্রভৃতি

কোনো স্থানে নির্মাণের আগে ডেভেলপার ও সম্পত্তির মালিকদের যাচাই করে নিতে হয় যে সেটি সংরক্ষিত ঐতিহ্যবাহী স্থান কি না। ২৪ অনুচ্ছেদ এ ধরনের স্থানের আইনগত সুরক্ষাকে সমর্থন করে।

অনুচ্ছেদ ২৪ — জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন ও ঐতিহ্যবাহী স্থান
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরঐতিহ্য তালিকা
পুরোনো ভবনডেভেলপার
সংরক্ষণকর্মীহাইকোর্ট বিভাগ
1 / 3
  1. ২৪ অনুচ্ছেদ বিশেষ ঐতিহাসিক বা শৈল্পিক গুরুত্বসম্পন্ন স্মৃতিনিদর্শন ও স্থান রক্ষা করতে রাষ্ট্রকে নির্দেশ দেয়। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর পুরাকীর্তি আইনের অধীনে প্রাচীন বিহার ও ঐতিহাসিক মসজিদের মতো সংরক্ষিত স্থানের তালিকা করে। তালিকাভুক্ত হলে সেই স্থানের পরিবর্তন বা অপসারণ সীমিত হয়ে যায়।

  2. একজন ডেভেলপার পুরান ঢাকার একটি পুরোনো ভবন ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা করেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণকারী সংগঠনগুলো আপত্তি জানায় যে ভবনটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, এবং ২৪ অনুচ্ছেদ ও পরিকল্পনা আইনের অধীনে তা রক্ষা করতে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে।

  3. ঐতিহ্য সংরক্ষণকর্মীরা জনস্বার্থে রিট মামলা দায়ের করেন। কর্তৃপক্ষ আইন মেনেছে কি না তা পরীক্ষা করার সময় আদালত ভবন ভাঙা স্থগিত রাখতে পারেন, আর এ ক্ষেত্রে ২৪ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রের কর্তব্য বোঝার নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করে। এরপর পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষকে তাদের অনুমোদনের যৌক্তিকতা দেখাতে হয়।

সহজ ভাষায়

অনুচ্ছেদ ২৪ কীভাবে কাজ করে

২৪ অনুচ্ছেদ বিশেষ শৈল্পিক বা ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন স্মৃতিনিদর্শন, বস্তু ও স্থানকে বিকৃতি, বিনাশ বা অপসারণ থেকে রক্ষা করতে রাষ্ট্রকে নির্দেশ দেয়। প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার ও মসজিদ থেকে শুরু করে ঔপনিবেশিক আমলের ভবন এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ পর্যন্ত সবই এর আওতায় পড়ে। বাস্তবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর পুরাকীর্তি আইনের অধীনে তালিকাভুক্ত স্থানগুলো সংরক্ষণ করে, এবং নির্মাণকাজের অনুমোদন দেওয়ার সময় পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ঐতিহ্যের বিষয়টি বিবেচনা করার প্রত্যাশা থাকে। দ্বিতীয় ভাগের অন্যান্য মূলনীতির মতো ২৪ অনুচ্ছেদ সরাসরি আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য নয়, তবে ঐতিহ্যবাহী ভবন ভাঙা ঠেকাতে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় এটি প্রায়ই উল্লেখ করা হয়।

বাস্তবে

২৪ অনুচ্ছেদ পুরাকীর্তি আইন এবং নগর পরিকল্পনা বিধিমালার ঐতিহ্য সংরক্ষণ বিধানের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। এটি নিজে বলবৎযোগ্য নয়, তবে ঐতিহ্য সংরক্ষণকারী সংগঠনগুলো সংশ্লিষ্ট আইন ও ২৪ অনুচ্ছেদের অধীন রাষ্ট্রের কর্তব্যের ওপর ভিত্তি করে জনস্বার্থে রিট দায়ের করে ঢাকা ও অন্যান্য স্থানে ঐতিহাসিক ভবন ভাঙার ওপর স্থগিতাদেশ চেয়েছে। সংরক্ষিত স্থানের কাছে নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার সময় পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষ ঐতিহ্যের বিষয়টি বিবেচনা করবে, আদালত এমনটাই প্রত্যাশা করেন।

মূল পাঠ

অনুচ্ছেদ ২৪-এ যা বলা আছে

২৪। বিশেষ শৈল্পিক কিংবা ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন বা তাৎপর্যমন্ডিত স্মৃতিনিদর্শন, বস্তু বা স্থান-সমূহকে বিকৃতি, বিনাশ বা অপসারণ হইতে রক্ষা করিবার জন্য রাষ্ট্র ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

সরকারি "বাংলাদেশ আইন" ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলা পাঠ, যা সংবিধানের ১৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রামাণ্য। আদালতের রায়ে অবস্থান বদলে গেলে ওপরের অবস্থা-নোটে তা বলা আছে।

সংশ্লিষ্ট বিধান

সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ

প্রশ্নোত্তর

অনুচ্ছেদ ২৪: সাধারণ প্রশ্নোত্তর

সংবিধানের ২৪ অনুচ্ছেদে কী বলা হয়েছে?

২৪ অনুচ্ছেদ বলে, বিশেষ শৈল্পিক বা ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন বা তাৎপর্যমণ্ডিত সকল স্মৃতিনিদর্শন, বস্তু বা স্থানকে বিকৃতি, বিনাশ বা অপসারণ থেকে রক্ষা করতে রাষ্ট্র ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এটি জাতীয়, শৈল্পিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন স্থানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

বাংলাদেশে কি কোনো ঐতিহ্যবাহী ভবন ভেঙে ফেলা যায়?

এটি ভবনটির আইনগত মর্যাদার ওপর নির্ভর করে। পুরাকীর্তি আইনের অধীনে সংরক্ষিত বা পরিকল্পনা বিধিমালায় তালিকাভুক্ত স্থান অনুমোদন ছাড়া আইনসম্মতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা অপসারণ করা যায় না। ২৪ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রের কর্তব্য নির্ধারণ করে, এবং রিট আবেদনের মাধ্যমে বেআইনি ভাঙন বন্ধ করতে আদালতের কাছে আবেদন করা যায়।

উৎস

এই গাইড সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়। ২০২৬ সালে আলোচনাধীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইন হিসেবে পাস না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবিধানিক ও রিট আইনচর্চা

অনুচ্ছেদ ২৪ নিয়ে আইনি সহায়তা দরকার?

আমাদের আইনজীবীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন, মৌলিক অধিকার ও জনআইন বিষয়ে পরামর্শ দেন।

Message TRW on WhatsApp