অনুচ্ছেদ ৪৩: গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

বলবৎমৌলিক অধিকার

অনুচ্ছেদ ৪৩ গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ

গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ

গৃহ, ফোন ও অনলাইন বার্তাসহ গোপনীয়তার প্রধান সাংবিধানিক সুরক্ষা এটি। নজরদারি বা বেআইনি তল্লাশি নিয়ে উদ্বিগ্ন যে কারও জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।

অনুচ্ছেদ ৪৩ — গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ
পরিবারগৃহ
THANAপুলিশতল্লাশি পরোয়ানা
ফোনবার্তা
নাগরিকহাইকোর্ট বিভাগ
1 / 4
  1. একটি পরিবার তাদের ফ্ল্যাটে বাস করে। ৪৩(ক) অনুচ্ছেদ প্রবেশ, তল্লাশি ও আটক থেকে তাদের গৃহের নিরাপত্তা দেয়, তাই কর্মকর্তারা ইচ্ছামতো ঢুকে তাদের জিনিসপত্র নিয়ে যেতে পারেন না। এই সুরক্ষা নিজের মালিকানাধীন ও ভাড়া বাসা উভয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ভেতরে প্রবেশ, তল্লাশি বা কিছু আটক করার আগে কর্মকর্তাদের আইনগত কর্তৃত্ব থাকতে হয়।

  2. পুলিশ সন্দেহ করে যে ফ্ল্যাটে সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে। তল্লাশি অবশ্যই আইন দ্বারা অনুমোদিত হতে হবে, যেমন পরোয়ানা বা আইনি ক্ষমতার অধীনে, এবং জনশৃঙ্খলার মতো ভিত্তিতে যৌক্তিক হতে হবে। তল্লাশিকে সেই কর্তৃত্বের সীমার মধ্যে থাকতে হবে।

  3. ৪৩(খ) অনুচ্ছেদ চিঠি, ফোনকল ও বার্তার গোপনতা রক্ষা করে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা বা জনস্বাস্থ্যের জন্য যুক্তিসংগত বাধানিষেধ আরোপকারী আইনের অধীনেই কেবল আড়ি পাতা বৈধ। মেসেজিং অ্যাপ ও ইমেইল যোগাযোগের অন্যান্য উপায় হিসেবে এর আওতায় পড়ে।

  4. তল্লাশি বা আড়ি পাতার কোনো আইনগত ভিত্তি না থাকলে নাগরিক হাইকোর্ট বিভাগে প্রতিকার চাইতে পারেন, এবং ফৌজদারি কার্যধারায় সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আচরণ চ্যালেঞ্জ করা যায়। যে আইনের ওপর নির্ভর করা হয়েছে তা মানা হয়েছে কি না, আদালত তা নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করেন।

সহজ ভাষায়

অনুচ্ছেদ ৪৩ কীভাবে কাজ করে

৪৩ অনুচ্ছেদ গোপনীয়তার দুটি দিক রক্ষা করে। প্রথমত, প্রবেশ, তল্লাশি ও আটক থেকে নিজ গৃহে নিরাপত্তালাভের অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে। দ্বিতীয়ত, চিঠিপত্র ও যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ের গোপনতা রক্ষার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে, যার মধ্যে বর্তমানে ফোনকল, ইমেইল ও মেসেজিং অ্যাপ অন্তর্ভুক্ত। আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বাধানিষেধের মাধ্যমে এই অধিকারগুলো সীমিত করা যায়, তবে কেবল রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, জনসাধারণের নৈতিকতা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে। তাই পরোয়ানার মতো আইনগত কর্তৃত্ব থাকলে পুলিশ একটি বাড়িতে তল্লাশি চালাতে পারে, এবং কেবল এসব ভিত্তিতে অনুমতি দেয় এমন আইনের অধীনেই যোগাযোগে আড়ি পাতা যায়।

বাস্তবে

তল্লাশি ফৌজদারি কার্যবিধি এবং বিশেষ আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, যা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে পরোয়ানাসহ বা পরোয়ানা ছাড়া প্রবেশ ও আটকের অনুমতি দেয়। টেলিযোগাযোগ আইন নিরাপত্তার ভিত্তিতে যোগাযোগে আড়ি পাতার অনুমতি দেয়, এবং রাষ্ট্রীয় নজরদারির পরিধি জনউদ্বেগের বিষয় হয়ে আছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ পূর্বের সাইবার আইনের কিছু অংশ সংশোধন করেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংবিধান সংস্কার কমিশন গোপনীয়তার একটি সুস্পষ্ট অধিকারের সুপারিশ করে; এটি কেবল একটি প্রস্তাব।

মূল পাঠ

অনুচ্ছেদ ৪৩-এ যা বলা আছে

৪৩। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, জনসাধারণের নৈতিকতা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা নিষেধ-সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের

(ক) প্রবেশ, তল্লাশী ও আটক হইতে স্বীয় গৃহে নিরাপত্তালাভের অধিকার থাকিবে; এবং

(খ) চিঠিপত্রের ও যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ের গোপনতারক্ষার অধিকার থাকিবে।

সরকারি "বাংলাদেশ আইন" ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলা পাঠ, যা সংবিধানের ১৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রামাণ্য। আদালতের রায়ে অবস্থান বদলে গেলে ওপরের অবস্থা-নোটে তা বলা আছে।

সংশ্লিষ্ট বিধান

সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ

প্রশ্নোত্তর

অনুচ্ছেদ ৪৩: সাধারণ প্রশ্নোত্তর

সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদে কী বলা হয়েছে?

৪৩ অনুচ্ছেদ নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, জনসাধারণের নৈতিকতা বা জনস্বাস্থ্যের জন্য আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বাধানিষেধ সাপেক্ষে নাগরিকদের প্রবেশ, তল্লাশি ও আটক থেকে নিজ গৃহে নিরাপত্তালাভের এবং চিঠিপত্র ও অন্যান্য যোগাযোগের গোপনতার অধিকার দেয়।

বাংলাদেশে কি গোপনীয়তার অধিকার আছে?

হ্যাঁ, আংশিকভাবে। ৪৩ অনুচ্ছেদ গৃহ এবং চিঠিপত্র ও যোগাযোগের গোপনতা রক্ষা করে। এটি গোপনীয়তার কোনো সাধারণ অধিকার সৃষ্টি করে না, এবং ২০২৫ সালে সংবিধান সংস্কার কমিশন একটি সুস্পষ্ট অধিকার যুক্ত করার প্রস্তাব দেয়, যা আইনে পরিণত হয়নি।

উৎস

এই গাইড সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়। ২০২৬ সালে আলোচনাধীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইন হিসেবে পাস না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবিধানিক ও রিট আইনচর্চা

অনুচ্ছেদ ৪৩ নিয়ে আইনি সহায়তা দরকার?

আমাদের আইনজীবীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন, মৌলিক অধিকার ও জনআইন বিষয়ে পরামর্শ দেন।

Message TRW on WhatsApp