অনুচ্ছেদ ৭২ অধিবেশন, স্থগিতকরণ ও সংসদ ভাঙা
সংসদের অধিবেশন
এই অনুচ্ছেদ নির্বাচনী সময়সূচি নির্ধারণ করে এবং কোনো সরকারকে দীর্ঘ সময় সংসদ ছাড়া শাসন করা থেকে বিরত রাখে। পাঁচ বছরের মেয়াদসীমা এবং ৬০ দিনের বিরতির নিয়ম জবাবদিহির মৌলিক নিশ্চয়তা।
সাধারণ নির্বাচনের পর নির্বাচন কমিশন ফলাফল ঘোষণা করে। (২) দফার অধীনে সেই ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে নতুন সংসদের বৈঠক আহ্বান করতে হয়। এতে নবনির্বাচিত সংসদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে কোনো বিলম্ব হয় না।
রাষ্ট্রপতি সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে প্রথম বৈঠকের সময় ও স্থান নির্ধারণ করেন। সংসদ আহ্বান, স্থগিত ও ভঙ্গ করার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শর্তাংশের অধীনে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেন। বিজ্ঞপ্তিটি সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়।
সংসদ অধিবেশনে বসে। এক অধিবেশনের সমাপ্তি ও পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের মধ্যে ৬০ দিনের বেশি বিরতি থাকতে পারে না, তাই সরকার সংসদকে দীর্ঘ সময় বসা থেকে বিরত রাখতে পারে না।
আগে ভেঙে দেওয়া না হলে প্রথম বৈঠকের পাঁচ বছর পর সংসদ ভেঙে যায় এবং সাধারণ নির্বাচন হয়। কেবল যুদ্ধের ক্ষেত্রেই আইনের মাধ্যমে এককালে এক বছর করে মেয়াদ বাড়ানো যায়। সংসদ ভেঙে গেলে প্রত্যেক সংসদ-সদস্যের আসন শূন্য হয়।
সহজ ভাষায়
অনুচ্ছেদ ৭২ কীভাবে কাজ করে
সংসদ কখন বসে এবং কখন এর অবসান হয়, ৭২ অনুচ্ছেদ তা নির্ধারণ করে। প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংসদ আহ্বান, স্থগিত (অধিবেশনের সমাপ্তি) ও ভঙ্গ করেন। দুই অধিবেশনের মধ্যে ৬০ দিনের বেশি বিরতি থাকতে পারে না। সাধারণ নির্বাচনের পর ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ আহ্বান করতে হয়। আগে ভেঙে না দেওয়া হলে প্রথম বৈঠক থেকে পাঁচ বছর সংসদের মেয়াদ। যুদ্ধকালে আইনের মাধ্যমে এর মেয়াদ এককালে এক বছর করে বাড়ানো যায়, তবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ছয় মাসের বেশি নয়। নতুন নির্বাচনের আগে যুদ্ধের কারণে প্রয়োজন হলে ভেঙে যাওয়া সংসদ পুনরাহ্বান করা যায়।
বাস্তবে
২০২৪ সালের ৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়ার পর রাষ্ট্রপতি দ্বাদশ সংসদ ভেঙে দেন, এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচন পর্যন্ত একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশ পরিচালনা করে। ২০২৬ সালের ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বৈঠক হয়। প্রথম শর্তাংশে ১২৩(৩)(ক) অনুচ্ছেদের উল্লেখসংবলিত অংশটি ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সন্নিবেশিত হয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হাইকোর্ট বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বিলোপকারী ধারাগুলো বাতিল করে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে আপিল বিভাগ ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য সেই ব্যবস্থা পুনর্বহাল করে, এবং ২০২৬ সালের ৯ জুলাই হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে। bdlaws-এ এখনো এসব রায়ের প্রতিফলন নেই, এবং এই শর্তাংশের সঙ্গে সেগুলোর সম্পর্ক প্রতিবেদিত কোনো সিদ্ধান্তে নিষ্পত্তি হয়নি।
মূল পাঠ
অনুচ্ছেদ ৭২-এ যা বলা আছে
৭২। (১) সরকারী বিজ্ঞপ্তি-দ্বারা রাষ্ট্রপতি সংসদ আহবান , স্থগিত ও ভঙ্গ করিবেন এবং সংসদ আহবানকালে রাষ্ট্রপতি প্রথম বৈঠকের সময় ও স্থান নির্ধারণ করিবেন:
[তবে শর্ত থাকে যে,[১২৩ অনুচ্ছেদের (৩) দফার (ক) উপ-দফায় উল্লিখিত নব্বই দিন সময় ব্যতীত অন্য সময়ে] সংসদের এক অধিবেশনের সমাপ্তি ও পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের মধ্যে ষাট দিনের অতিরিক্ত বিরতি থাকিবে না:
তবে আরও শর্ত থাকে যে, এই দফার অধীন তাঁহার দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক লিখিতভাবে প্রদত্ত পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করিবেন।]
(২) এই অনুচ্ছেদের (১) দফার বিধানাবলী সত্ত্বেও সংসদ-সদস্যদের যে কোন সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হইবার ত্রিশ দিনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠানের জন্য সংসদ আহবান করা হইবে।
(৩) রাষ্ট্রপতি পূর্বে ভাঙ্গিয়া না দিয়া থাকিলে প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে পাঁচ বৎসর অতিবাহিত হইলে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রজাতন্ত্র যুদ্ধে লিপ্ত থাকিবার কালে সংসদের আইন-দ্বারা অনুরূপ মেয়াদ এককালে অনধিক এক বৎসর বর্ধিত করা যাইতে পারিবে, তবে যুদ্ধ সমাপ্ত হইলে বর্ধিত মেয়াদ কোনক্রমে ছয় মাসের অধিক হইবে না।
...
(৫) এই অনুচ্ছেদের (১) দফার বিধানাবলী-সাপেক্ষে কার্যপ্রণালী-বিধি-দ্বারা বা অন্যভাবে সংসদ যেরূপ নির্ধারণ করিবেন, সংসদের বৈঠকসমূহ সেইরূপ সময়ে ও স্থানে অনুষ্ঠিত হইবে।
মূল দফাগুলো দেখানো হয়েছে; বাদ দেওয়া অংশ "..." দিয়ে চিহ্নিত। পূর্ণ পাঠ সরকারি ওয়েবসাইটে পড়ুন।
সরকারি "বাংলাদেশ আইন" ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলা পাঠ, যা সংবিধানের ১৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রামাণ্য। আদালতের রায়ে অবস্থান বদলে গেলে ওপরের অবস্থা-নোটে তা বলা আছে।
ইতিহাস
সংশোধনী
- সংবিধান (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ১৯৭৩ →বাংলাপিডিয়ার তালিকা অনুযায়ী সংশোধিত; সঠিক শব্দাবলি আইনের পাঠের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়নি।
- সংবিধান (চতুর্থ সংশোধন) আইন, ১৯৭৫ →বাংলাপিডিয়ার তালিকা অনুযায়ী সংশোধিত; বিস্তারিত শব্দাবলি আইনের পাঠের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়নি।
- সংবিধান (দ্বাদশ সংশোধন) আইন, ১৯৯১ →(১) দফার শর্তাংশগুলো প্রতিস্থাপন করে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করার বিধান করে, এবং (৪ক) দফা বিলুপ্ত করে।
- সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ →১২৩(৩)(ক) অনুচ্ছেদের নব্বই দিনের সময়কে ৬০ দিনের নিয়মের ব্যতিক্রম করে এমন শব্দাবলি সন্নিবেশ করে।
সংশ্লিষ্ট বিধান
সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ
প্রশ্নোত্তর
অনুচ্ছেদ ৭২: সাধারণ প্রশ্নোত্তর
বাংলাদেশে কে সংসদ ভেঙে দিতে পারেন?
৭২(১) অনুচ্ছেদের অধীনে প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংসদ ভেঙে দেন। আগে ভেঙে দেওয়া না হলে প্রথম বৈঠকের পাঁচ বছর পর সংসদ আপনা থেকেই ভেঙে যায়।
বাংলাদেশের সংসদের মেয়াদ কত?
৭২(৩) অনুচ্ছেদের অধীনে প্রথম বৈঠকের তারিখ থেকে পাঁচ বছর। কেবল প্রজাতন্ত্র যুদ্ধে লিপ্ত থাকাকালে আইনের মাধ্যমে এককালে এক বছর করে তা বাড়ানো যায়, এবং যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর কখনোই ছয় মাসের বেশি নয়।
নির্বাচনের পর কত দ্রুত নতুন সংসদের বৈঠক হতে হবে?
৭২(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে সংসদ আহ্বান করতে হয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর ২০২৬ সালের ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বৈঠক হয়।
উৎস
- Constitution of the People's Republic of Bangladesh, Article 72 (Laws of Bangladesh)
- Bernama: Bangladesh President dissolves parliament (6 August 2024)
- Prothom Alo English: 13th parliament's first session begins (12 March 2026)
- Prothom Alo English: Caretaker govt reinstated as some provisions scrapped (High Court, 17 December 2024)
- Prothom Alo English: Restoration of caretaker govt (Appellate Division, 20 November 2025)
- Prothom Alo English: SC verdict upholds reinstatement of caretaker govt and referendum provisions (9 July 2026)
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, ৭২ অনুচ্ছেদ (বাংলা পাঠ, বাংলাদেশ আইন সংকলন)
এই গাইড সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়। ২০২৬ সালে আলোচনাধীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইন হিসেবে পাস না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবিধানিক ও রিট আইনচর্চা
অনুচ্ছেদ ৭২ নিয়ে আইনি সহায়তা দরকার?
আমাদের আইনজীবীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন, মৌলিক অধিকার ও জনআইন বিষয়ে পরামর্শ দেন।