TRW Insight / বাংলাদেশ
নতুন ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন লাইসেন্স, মালিকানা ও পর্ষদের নিয়ম কড়া করেছে, আর ২০২৬ সালে দুর্বল এনবিএফআই অবসায়নে যাচ্ছে। উদ্যোক্তা, আমানতকারী ও ঋণগ্রহীতা সবার জন্য এখন নিয়মগুলো জানা জরুরি।
এনবিএফআই লাইসেন্স ও ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন: ২০২৬ সালের পূর্ণ চিত্র
এনবিএফআই লাইসেন্স বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া সবচেয়ে কঠিন অনুমতিগুলোর একটি, আর ২০২৬ সালে এটি সবচেয়ে নজরে থাকা অনুমতিও বটে। ২০২৩ সালের ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন ১৯৯৩ সালের আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইনের জায়গা নিয়েছে; এখন লিজিং কোম্পানি, মেয়াদি আমানত সংগ্রহকারী বা ব্যাংকবহির্ভূত ঋণদাতা আইনের ভাষায় "ফাইন্যান্স কোম্পানি", যার লাইসেন্স দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক ধারা ৪-এর অধীনে।[1] একই সময়ে খাতটি দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকট পার করছে: খেলাপি ঋণ মোট ঋণের এক-তৃতীয়াংশ ছাড়িয়েছে, কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অবসায়নে গেছে এবং হাজারো আমানতকারী বছরের পর বছর টাকা ফেরত পাননি।[9]
এই লেখায় পাবেন ফাইন্যান্স কোম্পানি আইনের মূল বিধান ও ১৯৯৩ সালের আইনের সঙ্গে পার্থক্য, আবেদনের ধাপ, মূলধন, শেয়ার ও পরিচালকের শর্ত, আমানত ও ঋণের সীমা, ২০২৪–২০২৬ সালের সংকট, ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের অধীনে অবসায়ন এবং আমানতকারী ও ঋণগ্রহীতার করণীয়। লাইসেন্সের বিস্তারিত ইংরেজি বিশ্লেষণ পাবেন আমাদের NBFI licence guide-এ।

সারসংক্ষেপ: ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন ২০২৩ অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স ছাড়া কেউ অর্থায়ন ব্যবসা করতে পারে না। বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক অবস্থা, ব্যবস্থাপনা, মূলধনের পর্যাপ্ততা, সংঘস্মারকের উদ্দেশ্য ও জনস্বার্থ যাচাই করে লাইসেন্স দেয়। ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা, কোনো ব্যক্তি বা পরিবার ১৫ শতাংশের বেশি শেয়ার রাখতে পারে না, আর ফাইন্যান্স কোম্পানি চাহিবামাত্র পরিশোধযোগ্য আমানত নিতে পারে না। দুর্বল প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এখন ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬ প্রয়োগ হচ্ছে।
মূল বিষয়: ফাইন্যান্স কোম্পানি ব্যাংক নয়। এখানে সঞ্চয়ী বা চলতি হিসাব খোলা যায় না, চেক বা ডেবিট কার্ডে টাকা তোলা যায় না, আর আমানত সুরক্ষা তহবিলে ফাইন্যান্স কোম্পানির সদস্যপদ বাধ্যতামূলক হচ্ছে ১ জুলাই ২০২৮-এর মধ্যে। তাই উচ্চ সুদের মেয়াদি আমানত রাখার আগে প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ ও মূলধনের অবস্থা যাচাই করা আমানতকারীর নিজের দায়িত্ব।
এক নজরে
নতুন আইন
ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন ২০২৩ (২০২৩ সনের ৫৯ নং আইন), তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০২৩; ১৯৯৩ সালের আইনের স্থলাভিষিক্ত।
মূলধন
ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা, ঝুঁকিভিত্তিক মূলধনের চেয়ে কম হতে পারবে না।
শেয়ার সীমা
ব্যক্তি, স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষ বা পরিবার মিলে ১৫ শতাংশের বেশি নয়; ৫ শতাংশের বেশি হলে আগাম অনাপত্তি।
আমানত
চাহিবামাত্র আমানত নিষিদ্ধ; একক নামে ৫০ লাখ ও যৌথ নামে ১ কোটি টাকার সীমা, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে ২০২৬ সালে শিথিল।
অবসায়ন
আগস্ট ২০২৬-এ চারটি এনবিএফআইয়ে প্রশাসক; ব্যক্তি আমানতকারী আসল ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরো ফেরত পাবেন।
সূচিপত্র
ফাইন্যান্স কোম্পানি কী, আর ব্যাংকের সঙ্গে তফাত কোথায়
এনবিএফআই লাইসেন্স কাকে লাগে, তা বুঝতে আগে পরিভাষা। বাজারে এখনো "এনবিএফআই", "লিজিং কোম্পানি" বা "আর্থিক প্রতিষ্ঠান" কথাগুলো চলে, কিন্তু আইনের পরিভাষা এখন একটাই: ফাইন্যান্স কোম্পানি, অর্থাৎ ধারা ৪-এর অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোম্পানি। লাইসেন্স কেবল কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর অধীনে নিবন্ধিত কোম্পানিই পেতে পারে; অংশীদারি কারবার, সমিতি বা ব্যক্তি নয়।[1]
"অর্থায়ন ব্যবসা" মানে কী
ধারা ২(১) অনুযায়ী অর্থায়ন ব্যবসা হলো চাহিবামাত্র পরিশোধযোগ্য নয় এমন মেয়াদি আমানত গ্রহণ, ঋণ প্রদান, বিনিয়োগ ও ইজারা অর্থায়ন, সঙ্গে ধারা ২১-এ বর্ণিত কার্যাবলি। "আমানত" বলতে বোঝায় সুদ বা মুনাফার ভিত্তিতে পরিশোধের শর্তসহ রসিদের মাধ্যমে নেওয়া টাকা; শেয়ার মূলধন, বায়না, ডিলারশিপ জামানত বা পণ্য সরবরাহের অগ্রিম আমানত নয়।[1]
যা করা যাবে না
ধারা ২২ সোজাসাপ্টা: ফাইন্যান্স কোম্পানি স্বর্ণ বা বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন করতে পারবে না, আর আইনে বর্ণিত ব্যবসার বাইরে অন্য কোনো ব্যবসাও নয়।[1] ধারা ২৪(১) চাহিবামাত্র চেক, ড্রাফট, ডেবিট কার্ড বা আমানতকারীর আদেশে পরিশোধযোগ্য আমানত নিষিদ্ধ করেছে। ফলে সঞ্চয়ী বা চলতি হিসাব, চেকবই কিংবা কার্ড সেবা একান্তই ব্যাংকের এলাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৩ সালে আমানতের ন্যূনতম মেয়াদ তিন মাস ঠিক করেছে; তিন মাস পার হওয়ার পরই মেয়াদপূর্তির আগে নগদায়ন সম্ভব।[3]
লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা ও নাম ব্যবহার
ধারা ৪(১) অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া বাংলাদেশে কেউ অর্থায়ন ব্যবসা চালাতে পারে না। ধারা ৪(৬) লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানকে নামের অংশ হিসেবে "ফাইন্যান্স" শব্দটি এমনভাবে ব্যবহার করতে দেয় না, যাতে মনে হয় সেটি ফাইন্যান্স কোম্পানি; ব্যতিক্রম কেবল লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোম্পানির সাবসিডিয়ারি ও খাতের সমিতি।[1] আইনের সপ্তম অধ্যায় (ধারা ৪২–৪৭) বাংলাদেশ ব্যাংককে লাইসেন্সবিহীন অর্থায়ন ব্যবসার তথ্য তলব, ঘোষণা দেওয়া, জড়িত ব্যক্তির সম্পদ নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবসা অবসায়নের ক্ষমতা দিয়েছে। মাসিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে টাকা তোলা প্রতিষ্ঠান তাই সরাসরি এই আইনের আওতায় পড়ে।
ব্যাংকের আলাদা আইনি কাঠামো দেখুন Bank Company Act 1991 লেখায়, আর খাতের ২০২৬ সালের চিত্র Banking regulations in Bangladesh 2026-এ।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন ১৯৯৩ থেকে ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন ২০২৩: কী বদলেছে
১ নভেম্বর ২০২৩-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ফাইন্যান্স কোম্পানি বিল ২০২৩ সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়; ঘোষিত লক্ষ্য ছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণখেলাপি ঠেকানো।[6] আইনটি ১৩ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে ২০২৩ সনের ৫৯ নং আইন হিসেবে প্রকাশিত হয়; ধারা ৭০ রহিতকরণ ও হেফাজতের বিধান রেখেছে।[1]
পুরোনো আইনের দুর্বলতা ছিল স্পষ্ট। একজন ব্যক্তি বা পরিবার কত শতাংশ শেয়ার রাখতে পারবে তার সীমা ছিল না, পর্ষদে পরিচালকের সংখ্যা ও মেয়াদ নির্দিষ্ট ছিল না, সুদ মওকুফ নিয়ে নির্দেশনা ছিল না, আর জরিমানার অঙ্ক ছিল অল্প।[6] নতুন ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন এসব ফাঁক বন্ধ করেছে এবং প্রথমবারের মতো ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতার সংজ্ঞা ও শাস্তির কাঠামো দিয়েছে। পাসের সময়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিয়ম ভেঙে ঋণ দিলে প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ জরিমানা ১০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৫০ লাখ টাকা করা হয়েছে, আর পুরো সুদ কখনো মওকুফ করা যাবে না; আংশিক মওকুফেও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি লাগবে।[6]
একটি জিনিস বদলায়নি: ১৯৯৩ সালের আইনের অধীনে জারি করা প্রবিধান ও প্রজ্ঞাপন। ২০১১ সালের যে প্রজ্ঞাপনে ন্যূনতম মূলধন ১০০ কোটি টাকা ঠিক হয়েছিল, সেটি জারি হয়েছিল পুরোনো আইনের ক্ষমতাবলে।[2] নতুন আইনের ধারা ৮ মূলধনের অঙ্ক ঠিক করার ভার বাংলাদেশ ব্যাংককে দিয়েছে, আর ধারা ৬৭ প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা দিয়েছে।[1] তাই আবেদনের আগে সর্বশেষ প্রবিধান মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।
| বিষয় | ১৯৯৩ সালের আইন | ২০২৩ সালের আইন |
|---|---|---|
| প্রতিষ্ঠানের পরিচয় | আর্থিক প্রতিষ্ঠান | ফাইন্যান্স কোম্পানি, ধারা ৪-এর লাইসেন্সধারী |
| শেয়ার ধারণ | নির্দিষ্ট সীমা ছিল না | ব্যক্তি বা পরিবার সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ (ধারা ১০) |
| পর্ষদের আকার | সংখ্যা নির্দিষ্ট ছিল না | সর্বোচ্চ ১৫, অন্তত ২ স্বতন্ত্র (ধারা ১৪) |
| পরিচালকের মেয়াদ | সীমা ছিল না | ৩ বছর, টানা সর্বোচ্চ ৯ বছর (ধারা ১৬) |
| সুদ মওকুফ | নির্দেশনা ছিল না | বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি; পুরো সুদ মওকুফ নয় |
| ইচ্ছাকৃত খেলাপি | আলাদা কাঠামো ছিল না | সংজ্ঞা (ধারা ২(৫)), ভ্রমণ ও ট্রেড লাইসেন্সে নিষেধাজ্ঞা |
| সর্বোচ্চ জরিমানা | ১০ লাখ টাকা | ৫০ লাখ টাকা |
| আমানতের সীমা | — | একক ৫০ লাখ, যৌথ ১ কোটি টাকা (ধারা ২৪(২)) |
এনবিএফআই লাইসেন্স পেতে বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন
ধারা ৪(২) অনুযায়ী লাইসেন্সের জন্য আইনের অধীনে নির্ধারিত ফরমে বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর লিখিত আবেদন করতে হয়। লাইসেন্স দেওয়ার আগে ধারা ৪(৩) বাংলাদেশ ব্যাংককে পাঁচটি বিষয়ে সন্তুষ্ট হতে বলেছে: আবেদনকারীর আর্থিক অবস্থা; ব্যবস্থাপনার বৈশিষ্ট্য; মূলধনের পর্যাপ্ততা, কাঠামোগত যথার্থতা ও উপার্জনের সক্ষমতা; সংঘস্মারকে লেখা উদ্দেশ্য; এবং জনস্বার্থ।[1]
বিবেচনার ক্ষমতা ও সময়
এগুলো বিবেচনাভিত্তিক মানদণ্ড; আইন সিদ্ধান্তের সময়সীমা বাঁধেনি, আর জনস্বার্থের শর্তে সম্পূর্ণ আবেদনও ফেরানো যায়। যে খাতে ৩৫টি প্রতিষ্ঠানের গড় খেলাপি ঋণ ৩৭ শতাংশের ওপরে, সেখানে নতুন এনবিএফআই লাইসেন্স পেতে আবেদনকে প্রমাণ করতে হবে কেন এই প্রতিষ্ঠানটি আলাদা।[9]
শর্ত, শাখা ও তালিকা
লাইসেন্স দেওয়ার সময় বাংলাদেশ ব্যাংক যেকোনো শর্ত আরোপ করতে পারে এবং পরে যেকোনো সময় তা যোগ, বিয়োগ বা সংশোধন করতে পারে (ধারা ৪(৪) ও ৪(৫))। শর্ত ভাঙাই লাইসেন্স বাতিলের একটি কারণ। নতুন ব্যবসাকেন্দ্র, শাখা বা বুথ খোলা কিংবা স্থানান্তরে বাংলাদেশ ব্যাংকের লিখিত পূর্বানুমোদন লাগে, আর সে অনুমোদনেও ধারা ৪(৩)-এর একই পাঁচ বিষয় দেখা হয় (ধারা ৬)।[1]
নিচের ধাপগুলো একটি গুরুতর এনবিএফআই লাইসেন্স আবেদনের স্বাভাবিক ক্রম; নিবন্ধন ও মূলধন জমার ক্রম নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করুন।
ব্যবসায়িক পরিকল্পনা
লক্ষ্য খাত, তহবিলের উৎস, মুনাফার পথ ও তিন-পাঁচ বছরের মূলধন হিসাব দিয়ে বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা।
উদ্যোক্তা যাচাই
প্রতিটি উদ্যোক্তা ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সিআইবি, করনথি ও স্বার্থসংশ্লিষ্টতা যাচাই; কেউ ১৫ শতাংশের বেশি নয়।
পরিচালক বাছাই
ধারা ১৫(৮)-এর সাত অযোগ্যতা ও স্নাতক ডিগ্রির শর্তে প্রতিটি পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীকে যাচাই।
সংঘস্মারক খসড়া
উদ্দেশ্য অনুচ্ছেদ কেবল অর্থায়ন ব্যবসায় সীমিত রেখে সংঘস্মারক ও সংঘবিধি প্রস্তুত।
বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন
নির্ধারিত ফরমে লিখিত আবেদন, সঙ্গে পরিকল্পনা, প্রক্ষেপণ, পরিচালকদের তথ্য ও নীতিমালা।
যাচাই ও শর্ত
আর্থিক অবস্থা, ব্যবস্থাপনা, মূলধন, উদ্দেশ্য ও জনস্বার্থ যাচাই; প্রশ্নের জবাব ও শর্ত মেনে নেওয়া।
নিবন্ধন ও মূলধন
আরজেএসসিতে কোম্পানি নিবন্ধন এবং অন্তত ১০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন জমা।
ছয় মাসে যাত্রা
লাইসেন্সের ছয় মাসের মধ্যে অর্থায়ন ব্যবসা শুরু, নইলে লাইসেন্স বাতিলের ঝুঁকি।
এনবিএফআই লাইসেন্স হাতে পাওয়ার পর ঘড়ি চলতে শুরু করে। ধারা ৭(১)(গ) অনুযায়ী লাইসেন্স পাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে অর্থায়ন ব্যবসা শুরু করতে না পারলে লাইসেন্স বাতিল হতে পারে।[1]
এনবিএফআই লাইসেন্সের মূলধন শর্ত
ফাইন্যান্স কোম্পানি আইনে মূলধনের কোনো অঙ্ক সরাসরি লেখা নেই। ধারা ৮ বলেছে, প্রত্যেক লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত পরিমাণে, হারে ও পদ্ধতিতে মূলধন ও সংবিধিবদ্ধ সঞ্চিতি রাখবে।[1]
১০০ কোটি টাকার ন্যূনতম সীমা
কার্যকর অঙ্কটি এসেছে ২৪ জুলাই ২০১১ সালের প্রজ্ঞাপন থেকে, যা আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রবিধানমালা ১৯৯৪-এর প্রবিধান ৪ সংশোধন করে। বাংলাদেশে নিবন্ধিত কোম্পানির ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা; তবে পরিশোধিত মূলধন ও সংরক্ষিত তহবিল মিলিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত ঝুঁকিভিত্তিক ন্যূনতম মূলধনের চেয়ে কম হতে পারবে না। বিদেশে নিবন্ধিত কোম্পানিকে সমপরিমাণ অর্থ বাংলাদেশে রাখতে হয়।[2] একই সার্কুলারে পুরোনো প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৩০ জুন ২০১২-এর মধ্যে ঘাটতি পূরণ করতে বলা হয়েছিল, আর ঘাটতি থাকা অবস্থায় নগদ লভ্যাংশ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।[2]
১০০ কোটি টাকা ন্যূনতম, লক্ষ্য নয়
দ্রুত ঋণ বাড়াতে চাওয়া প্রতিষ্ঠান আগেই ঝুঁকিভিত্তিক মূলধনের শর্তে আটকে যায়, তাই পরিকল্পনায় তিন ও পাঁচ বছর পরের মূলধনও দেখান। ২১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ১০০ কোটি টাকার সীমা বদলানোর কোনো নতুন প্রবিধান আমরা পাইনি, তবে ধারা ৬৭ অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক যেকোনো সময় নতুন প্রবিধান করতে পারে; চাঁদা চুক্তি চূড়ান্ত করার আগে ফাইন্যান্স কোম্পানি রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট থেকে অঙ্কটি নিশ্চিত করুন।[1]
মূলধনের উৎস
মূলধন শুধু যথেষ্ট হলেই চলবে না, পরিষ্কারও হতে হবে। ধারা ১০(৩) অনুযায়ী কোম্পানি চাইলে শেয়ার ক্রেতাকে ঘোষণা দিতে হয় যে তিনি অন্যের মনোনীত হিসেবে বা বেনামে শেয়ার কিনছেন না; ঘোষণা মিথ্যা প্রমাণিত হলে ধারা ১০(৪) অনুযায়ী তার সব শেয়ার সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হয়।[1] ধার করা বা করের নথিবিহীন টাকায় গড়া মূলধন আবেদন আটকে দেয়।

শেয়ার ধারণের সীমা ও উদ্যোক্তার যোগ্যতা
ধারা ১০(১) ফাইন্যান্স কোম্পানির শেয়ার এক ব্যক্তি, তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষ বা একই পরিবারের হাতে কেন্দ্রীভূত হতে দেয় না। তারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, একক বা যৌথভাবে, ১৫ শতাংশের বেশি শেয়ার কিনতে পারবেন না। "পরিবার" মানে স্বামী বা স্ত্রী, পিতা, মাতা, পুত্র, কন্যা, ভাই, বোন এবং নির্ভরশীল ব্যক্তি।[1] আইন কার্যকরের দুই বছরের মধ্যে অতিরিক্ত শেয়ার পরিবারের বাইরের এমন ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করতে হতো, যিনি নিজে সর্বোচ্চ সীমায় নেই; না করলে অতিরিক্ত শেয়ার সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হয়। সরকারি মালিকানার ফাইন্যান্স কোম্পানিতে এই সীমা প্রযোজ্য নয়।[1]
উল্লেখযোগ্য শেয়ারধারক
পরিশোধিত মূলধনের ৫ শতাংশের বেশি শেয়ারের মালিক "উল্লেখযোগ্য শেয়ারধারক"। এমন অবস্থানে যাওয়ার আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র লাগে। একটি ফাইন্যান্স কোম্পানি অন্য ফাইন্যান্স কোম্পানি বা ব্যাংকের উল্লেখযোগ্য শেয়ারধারক হতে পারে না, আর কোনো ব্যক্তি এক ফাইন্যান্স কোম্পানিতে উল্লেখযোগ্য শেয়ারধারক হলে অন্য ফাইন্যান্স কোম্পানি বা ব্যাংকে তা হতে পারেন না।[1]
বাস্তব প্রভাব ও বিদেশি বিনিয়োগ
১৫ শতাংশের সীমার মানে, পূর্ণ চাঁদার জন্য অন্তত সাতটি সম্পর্কহীন উদ্যোক্তা গোষ্ঠী লাগবে, আর আইন স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষকে একসঙ্গে গণনা করে। বিদেশি ব্যক্তির সর্বোচ্চ শেয়ার ধারণের সীমা বাংলাদেশ ব্যাংক ঠিক করে (ধারা ১০(১)), আর বিদেশি শেয়ারধারকের পক্ষে পরিচালকের সংখ্যাও বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারণ করে (ধারা ১৫(১))।[1] যৌথ উদ্যোগ চুক্তিতে নিয়ন্ত্রকের লিখিত সম্মতির বাইরে কোনো প্রতিশ্রুতি না দেওয়াই নিরাপদ।
পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীর যোগ্যতা: ফিট অ্যান্ড প্রপার
যোগ্যতা ও উপযুক্ততার মানদণ্ড এখন শুধু সার্কুলারে নয়, আইনেই। ধারা ১৫(৮) অনুযায়ী নিচের যেকোনো একটি কারণ থাকলে কেউ পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী হতে পারবেন না:[1]
- বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত ব্যবস্থাপনা, ব্যবসায়িক বা পেশাগত অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা;
- ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হওয়া;
- সরকারি সংস্থা বা বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে জালিয়াতি, প্রতারণা বা আর্থিক অপরাধে জড়িত পাওয়া;
- আর্থিক খাতের কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধি, প্রবিধান বা নিয়মাচার লঙ্ঘন;
- নিবন্ধন বা লাইসেন্স বাতিল হওয়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকা;
- নিজে বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান খেলাপি ঋণগ্রহীতা হওয়া;
- আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত হওয়া।
২০২৬ সালে পঞ্চম কারণটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ: অবসায়নে যাওয়া কোনো এনবিএফআইয়ের পর্ষদে থাকা ব্যক্তির জন্য এই যোগসূত্রই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫ সালের এপ্রিলের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেক পরিচালককে অন্তত স্নাতক ডিগ্রিধারী হতে হবে, বিকল্প পরিচালকের ক্ষেত্রে মূল পরিচালকের যোগ্যতার মানদণ্ড এবং প্রতিনিধি পরিচালকের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র পরিচালকের মানদণ্ড প্রযোজ্য।[4]
পর্ষদের গঠন ও মেয়াদ
ধারা ১৪ অনুযায়ী পর্ষদে সর্বোচ্চ ১৫ জন পরিচালক, যাদের মধ্যে অন্তত দুজন স্বতন্ত্র। কোনো পরিবার ৫ শতাংশের বেশি শেয়ারের মালিক হলে সেই পরিবার থেকে সর্বোচ্চ দুজন, আর ২ থেকে ৫ শতাংশ হলে একজন পরিচালক থাকতে পারেন (ধারা ১৫(১))। একজন পরিচালক একই সময়ে অন্য ফাইন্যান্স কোম্পানি, ব্যাংক বা বীমা কোম্পানির পরিচালক হতে পারেন না (ধারা ১৫(৭))। পরিচালক নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন লাগে, অনুমোদন ছাড়া অপসারণও করা যায় না (ধারা ১৫(১১))।[1] পরিচালকের মেয়াদ তিন বছর; টানা তিন মেয়াদ বা নয় বছরের পর তিন বছর বিরতি দিয়ে তবেই আবার নির্বাচিত হওয়া যায় (ধারা ১৬)।[1]
প্রধান নির্বাহী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অপসারণ ক্ষমতা
ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী নিয়োগে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন লাগে, অনুমোদন ছাড়া তাকে সরানো যায় না, আর পদটি টানা তিন মাসের বেশি শূন্য রাখা যায় না (ধারা ১৮)।[1] আমানতকারীর স্বার্থে, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে, সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে বা বেনামি ঋণ ও জালিয়াতি ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংক চেয়ারম্যান, পরিচালক বা প্রধান নির্বাহীকে অপসারণ করতে পারে (ধারা ১৯), এবং ধারা ২০ অনুযায়ী পুরো পর্ষদ বাতিল করতে পারে।[1]

আমানত গ্রহণ ও একক ঋণগ্রহীতার সীমা
আমানতের সীমা ও ২০২৬ সালের শিথিলতা
ধারা ২৪(২) অনুযায়ী কোনো প্রাকৃতিক ব্যক্তির কাছ থেকে একক নামে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা এবং যৌথ নামে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা, অথবা বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত সীমার বেশি আমানত নেওয়া যায় না।[1] ১৫ জুলাই ২০২৬-এর সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিকভাবে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের জন্য এই সীমা তুলে দিয়েছে। শর্ত তিনটি একসঙ্গে পূরণ করতে হবে: সর্বশেষ প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশ বা তার কম, মূলধন পর্যাপ্ততার হার অন্তত ১০ শতাংশ, এবং নিয়ন্ত্রকের দেওয়া কোনো প্রভিশন ডেফারাল সুবিধা না থাকা। আদালত বা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিষেধাজ্ঞায় থাকা প্রতিষ্ঠান এই সুবিধা পাবে না।[7] [5]
একক ঋণগ্রহীতা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ঋণ
ধারা ২৫(১) অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষকে দেওয়া মোট ঋণের আসল পরিশোধিত মূলধন ও রিজার্ভের বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত হারের বেশি হবে না, আর সেই হার কোনো অবস্থাতেই ৩০ শতাংশ ছাড়াবে না। নিজের শেয়ার জামানত রেখে ঋণ দেওয়া, বেনামি বা অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়া নিষিদ্ধ। ব্যক্তিকে জামানতবিহীন ঋণ ১০ লাখ টাকা বা বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত অঙ্কের বেশি নয়; কৃষি ও সিএমএসএমই ঋণে আলাদা নির্দেশনা চলে।[1]
পরিচালক, তার পরিবার বা তাদের নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানকে বিনা জামানতে ঋণ দেওয়া যায় না, আর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে লেনদেনের শর্ত সাধারণ গ্রাহকের মতোই হতে হবে। জামানতের মূল্যায়ন করতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান দিয়ে (ধারা ২৫(৫)–(৭))।[1]
পুঁজিবাজার, সাবসিডিয়ারি ও তারল্য
পুঁজিবাজারে মোট বিনিয়োগ পরিশোধিত মূলধন ও রিজার্ভের ২৫ শতাংশের বেশি হবে না, আর সাবসিডিয়ারি ছাড়া অন্য কোনো কোম্পানিতে ৫ শতাংশের বেশি শেয়ার রাখা যাবে না (ধারা ২৬)। সাবসিডিয়ারি গঠন, তাতে ঋণ বা বিনিয়োগ এবং অবলোপনে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন লাগে (ধারা ২৭)। আমানত ও দায়ের বিপরীতে নগদ তহবিল ও তরল সম্পদ রাখতে হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত হারে (ধারা ৯)।[1]
খেলাপি ও ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতা
ধারা ২(১০) অনুযায়ী খেলাপি ঋণগ্রহীতা সেই দেনাদার, যার ঋণ বা সুদ বাংলাদেশ ব্যাংকের সংজ্ঞা অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর ছয় মাস পার হয়েছে। "দেনাদার" সংজ্ঞায় জামিনদারও অন্তর্ভুক্ত।[1]
ইচ্ছাকৃত খেলাপি কারা
ধারা ২(৫) চারটি অবস্থাকে ইচ্ছাকৃত খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করেছে: সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ঋণ শোধ না করা; জালিয়াতি, প্রতারণা বা মিথ্যা তথ্যে ঋণ নিয়ে ফেরত না দেওয়া; যে উদ্দেশ্যে ঋণ নেওয়া হয়েছে তার বাইরে টাকা ব্যবহার করা; এবং ফাইন্যান্স কোম্পানির লিখিত অনুমতি ছাড়া জামানত হস্তান্তর বা স্থানান্তর।[1] সংসদে পাসের সময়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঘোষিত ব্যক্তি বিদেশ ভ্রমণ ও ট্রেড লাইসেন্সে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েন, নির্ধারিত সময়ে টাকা না দিলে ফৌজদারি মামলাও হতে পারে, আর তালিকা বিএসইসি ও আরজেএসসি পর্যন্ত পৌঁছায়।[6]
পরিচালকের ব্যক্তিগত দায়
ইচ্ছাকৃত খেলাপি না হলেও খেলাপি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের পর্ষদের সম্মতি ছাড়া পদত্যাগ করে দায় এড়াতে পারেন না, এবং মেয়াদ শেষে পদে না থাকলেও দেনা নিয়মিত না হওয়া পর্যন্ত খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত থাকেন (ধারা ১৬(৪))। সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ দেওয়া পরিচালক এর ব্যতিক্রম।[1] ফাইন্যান্স কোম্পানির পাওনা আদায়ের মামলা সাধারণত অর্থ ঋণ আদালতে যায়; সেই প্রক্রিয়া, জারি ও জামিনদারের দায় বিস্তারিত দেখুন আমাদের অর্থ ঋণ আদালত লেখায়।
লাইসেন্স বাতিল, স্থগিতাদেশ, একীভূতকরণ ও অবসায়ন
ধারা ৭(১) নয়টি কারণে লাইসেন্স বাতিলের ক্ষমতা দিয়েছে: শর্ত ভঙ্গ; মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য; ছয় মাসে ব্যবসা শুরু না করা; আমানতকারীর স্বার্থহানিকর ব্যবসা; আমানতকারীর দায় শোধে সম্পদের অপর্যাপ্ততা; ন্যূনতম মূলধনের কম রেখে ব্যবসা; মূল উদ্দেশ্যের কাজ না করা; আদালতে দণ্ডিত হওয়া; এবং অনুমতি ছাড়া কার্যক্রম বন্ধ রাখা।[1]
বাতিলের আগে অনিয়ম লিপিবদ্ধ করে অনূর্ধ্ব ১৫ দিনের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে হয়। বাতিলের নোটিশ সরকারি গেজেটে প্রকাশের দিন থেকে প্রতিষ্ঠানটি কোনো আর্থিক লেনদেন করতে পারে না, তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতিতে প্রশাসনিক কাজ চলে, আর প্রতিষ্ঠানের প্রতি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কারও অধিকার বা দাবি ক্ষুণ্ণ হয় না।[1]
সাময়িক স্থগিতাদেশ, পুনর্গঠন ও একীভূতকরণ
আমানতকারী বা জনস্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে ছয় মাসের জন্য, প্রয়োজনে আরও অনধিক ছয় মাস, কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির ব্যবসা স্থগিত রাখতে পারে। এ সময় অনুমতি ছাড়া আমানতকারী বা পাওনাদারকে টাকা দেওয়া যায় না। স্থগিতাদেশ চলাকালে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটিকে পুনর্গঠন বা অন্য ফাইন্যান্স কোম্পানি বা ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার স্কিম করতে পারে, যা সরকারের অনুমোদনে কার্যকর হয় (ধারা ৪৯)।[1] স্কিমে আমানতকারী বা পাওনাদারের আগের দাবি কমানোর বিধানও থাকতে পারে। স্বেচ্ছায় একীভূতকরণ বা পুনর্গঠনেও বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন লাগে (ধারা ৫০)।[1] আইনে আদালতের মাধ্যমে অবসায়ন, অবসায়ক নিয়োগ, স্বেচ্ছায় অবসায়ন এবং পাওনাদারের সঙ্গে আপস-নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে (ধারা ৫১–৫৪)।[1]
২০২৪–২০২৬ এনবিএফআই সংকট ও ব্যাংক রেজল্যুশন আইন
সংকটের মাত্রা সংখ্যায় স্পষ্ট। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দেশের ৩৫টি এনবিএফআইয়ের খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় ২৯,৪০৮.৬৬ কোটি টাকা, মোট ৭৯,২৫১.১১ কোটি টাকা ঋণের ৩৭.১১ শতাংশ; এক বছর আগে হার ছিল ৩৫.৫২ শতাংশ।[9] ২০২৫ সালের মে মাসে আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ ২০টি এনবিএফআইয়ের লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক।[10]
নয় থেকে পাঁচ: অবসায়নের সিদ্ধান্ত
২০২৫ সালের নভেম্বরের শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫-এর অধীনে নয়টি এনবিএফআই অবসায়নের অনুমোদন দেয়: এফএএস ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। এই নয়টিতে আটকে ছিল ১৫,৩৭০ কোটি টাকার আমানত, যার ৩,৫২৫ কোটি টাকা ব্যক্তি আমানতকারীর।[8]
নির্বাচিত সরকারের সময়ে, ২০২৬ সালের মে মাসে, পর্ষদ নীতিগতভাবে তালিকা ছোট করে পাঁচটিতে আনে: এফএএস, ফারইস্ট, আভিভা, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। জানুয়ারির শুনানির পর প্রাইম, জিএসপি ও বিআইএফসিকে তিন থেকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়।[9]
আগস্ট ২০২৬: চার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক
৯ আগস্ট ২০২৬ বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬-এর অধীনে আভিভা ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংকে অকার্যকর ঘোষণা করে। পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়, ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সরানো হয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। কারণ হিসেবে বলা হয় তীব্র মূলধন ঘাটতি, বিপুল খেলাপি ঋণ, ধারাবাহিক তারল্য সংকট ও দায় পরিশোধে অক্ষমতা। আইনি জটিলতার কারণে পিপলস লিজিং এই তালিকায় আসেনি।[10]
সেপ্টেম্বর ২০২৬: আমানত ফেরতের স্কিম
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ এই চার প্রতিষ্ঠানের আমানত ফেরতের স্কিম অনুমোদন করে। ব্যক্তি আমানতকারী আসল ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরোটাই ফেরত পাবেন; এর বেশি আমানতে নির্দিষ্ট হারে কর্তন বা "হেয়ারকাট" হবে। ১ কোটি টাকা পর্যন্ত আমানতে সর্বোচ্চ ৬০ লাখ, ১ থেকে দেড় কোটিতে ৮০ লাখ, দেড় থেকে ২ কোটিতে ১ কোটি ৫ লাখ, আর ২ কোটির বেশিতে সর্বোচ্চ ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রাইম, জিএসপি, বিআইএফসি ও প্রিমিয়ার লিজিং উন্নতির জন্য তিন মাস সময় পেয়েছে, আর পিপলস লিজিংয়ের সিদ্ধান্ত আইনি জটিলতায় ঝুলে আছে।[11]
ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ থেকে আইন
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫ সংসদে আইনে পরিণত হয়েছে: ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬ (২০২৬ সনের ৮৮ নং আইন), তারিখ ১০ এপ্রিল ২০২৬। এর ধারা ৭১ ফাইন্যান্স কোম্পানির ওপর আইনটির প্রয়োগের বিধান রেখেছে; অস্থায়ী প্রশাসন, শেয়ার ও সম্পদ হস্তান্তর, ব্রিজ প্রতিষ্ঠান, সাময়িক সরকারি মালিকানা ও অবসায়নের ক্ষমতা তাই দুর্বল এনবিএফআইয়েও প্রয়োগযোগ্য।[12] আইন পাসের সময় যোগ হওয়া ধারা ১৮ক, যা আগের মালিকদের শর্তসাপেক্ষে প্রতিষ্ঠান ফেরত পাওয়ার সুযোগ দিত, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল পাসের মাধ্যমে বিলুপ্ত হয়েছে।[13]
একীভূতকরণের পথ কি বন্ধ?
এনবিএফআইয়ের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান পদক্ষেপ অবসায়ন ও প্রশাসক নিয়োগ, একীভূতকরণ নয়। পথটি অবশ্য খোলা: ফাইন্যান্স কোম্পানি আইনের ধারা ৪৯ ও ৫০ এবং ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের হস্তান্তর ক্ষমতা।[1] [12] দুর্বল এনবিএফআইয়ের ঋণ পোর্টফোলিও কিনতে আগ্রহী শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানকে ধরে নিতে হবে, শর্ত ঠিক করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আমানতকারীর সুরক্ষা: আমানত সুরক্ষা আইন ২০২৬
ব্যাংক রেজল্যুশন আইন অবসায়নের পথ দিয়েছে, কিন্তু টাকা ফেরতের নিশ্চয়তা দেয় সুরক্ষা তহবিল। দীর্ঘদিন ফাইন্যান্স কোম্পানির আমানতকারীর জন্য কোনো বিমা বা সুরক্ষা তহবিল ছিল না। ১০ এপ্রিল ২০২৬ সংসদে পাস হওয়া আমানত সুরক্ষা বিল ২০২৬ সেই অবস্থা বদলাচ্ছে। প্রতি আমানতকারীর সুরক্ষার সীমা ১ লাখ থেকে বেড়ে ২ লাখ টাকা, যা প্রতি তিন বছর পর পর্যালোচনা হবে। ফাইন্যান্স কোম্পানি প্রথমবারের মতো এর আওতায় এসেছে, ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আলাদা দুটি তহবিল থাকবে।[14]
দুটি বিষয় মনে রাখুন। প্রথমত, বিদ্যমান ও নতুন ফাইন্যান্স কোম্পানিকে তহবিলের সদস্য হতে হবে ১ জুলাই ২০২৮-এর মধ্যে; তার আগে এই সুরক্ষা পুরোপুরি কার্যকর হবে না। দ্বিতীয়ত, অবসায়নের আদেশের পর অবসায়ক ১০ কর্মদিবসে আমানতকারীর তালিকা জমা দেবেন, আর বাংলাদেশ ব্যাংক ৭ কর্মদিবসে সুরক্ষিত অঙ্ক পরিশোধ করবে।[14] বর্তমানে অবসায়নে যাওয়া চার প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীরা টাকা পাচ্ছেন সরকারি তহবিলনির্ভর বিশেষ স্কিমে, এই তহবিল থেকে নয়।[10] [11]
আমানতকারী ও ঋণগ্রহীতার যা জানা দরকার
আমানতকারীর জন্য
- আমানত রাখার আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তালিকায় প্রতিষ্ঠানটির নাম মিলিয়ে নিন (ধারা ৫); "ফাইন্যান্স" নাম থাকলেই লাইসেন্স আছে এমন নয়।[1]
- প্রকাশিত আর্থিক বিবরণীতে খেলাপি ঋণের হার ও মূলধন পর্যাপ্ততা দেখুন; বাজারের চেয়ে অনেক বেশি সুদ প্রায়ই তারল্য সংকটের লক্ষণ।
- আমানতের রসিদ, নমিনি মনোনয়ন ও সব চিঠিপত্র গুছিয়ে রাখুন; আইনে আমানতকারীর প্রতিনিধি মনোনয়ন ও অদাবিকৃত আমানতের বিধান আছে (ধারা ৬১–৬২)।[1]
- প্রতিষ্ঠান অবসায়নে গেলে প্রশাসক বা অবসায়কের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করে প্রমাণসহ দাবি জমা দিন; ব্যক্তি আমানতকারী অগ্রাধিকার পান।[10]
- বড় অঙ্কের আমানতে হেয়ারকাট ও আদালতের প্রতিকার নিয়ে আগেভাগে পরামর্শ নিন।
ঋণগ্রহীতার জন্য
- প্রতিষ্ঠান অবসায়নে গেলেও আপনার দেনা মাফ হয় না; ব্যাংক রেজল্যুশন আইন বা ফাইন্যান্স কোম্পানি আইনের অধীনে নিযুক্ত প্রশাসক বা অবসায়ক আদায় চালিয়ে যাবেন, কারণ লাইসেন্স বাতিলেও দাবি টিকে থাকে।[1]
- জামানতের সম্পত্তি লিখিত অনুমতি ছাড়া হস্তান্তর করলে আপনি ইচ্ছাকৃত খেলাপি গণ্য হতে পারেন; ইচ্ছাকৃত খেলাপি তালিকায় নাম উঠলে নতুন ঋণ ও ব্যবসা দুটোই আটকে যায়।[1]
- জুলাই ২০২৬-এ বাংলাদেশ ব্যাংক ফাইন্যান্স কোম্পানির ঋণগ্রহীতাদের জন্য এককালীন এক্সিট ও ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতার পুনর্গঠন সুবিধার সার্কুলার দিয়েছে; আগস্টের নির্দেশনা অনুযায়ী এই সুবিধা নেওয়ার আগে গ্রাহকের অভিযোগ প্রত্যাহার করতে হয়।[5]
- ঋণচুক্তিতে সালিসের ধারা থাকলে কোন ফোরামে বিরোধ যাবে তা আগে বুঝে নিন; বিস্তারিত Banking arbitration in Bangladesh লেখায়।
সামনে কী দেখবেন
২০২৬ সালের বাকি সময়ে তিনটি বিষয় এনবিএফআই লাইসেন্স ও খাতের গতিপথ ঠিক করবে। প্রথমত, চার প্রতিষ্ঠানের আমানত ফেরতের বাস্তবায়ন এবং প্রাইম, জিএসপি, বিআইএফসি ও প্রিমিয়ার লিজিংয়ের ভাগ্য।[11] দ্বিতীয়ত, ২৮ জুন ২০২৬ নতুন নাম পাওয়া ফাইন্যান্স কোম্পানি রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট ১৯৯৪ সালের প্রবিধানের জায়গায় নতুন লাইসেন্স ও মূলধন প্রবিধান আনে কি না।[5] তৃতীয়ত, ২০২৮ সালের মধ্যে আমানত সুরক্ষা তহবিলে ফাইন্যান্স কোম্পানির অন্তর্ভুক্তি, যা মেয়াদি আমানতের দাম ও বিপণন বদলে দেবে।[14]
সাধারণ জিজ্ঞাসা
এনবিএফআই লাইসেন্স কোন আইনে দেওয়া হয়?
ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন ২০২৩ (২০২৩ সনের ৫৯ নং আইন)-এর ধারা ৪ অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক লাইসেন্স দেয়। আইনটির তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০২৩, এবং এটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন ১৯৯৩-এর জায়গা নিয়েছে।[1]
ফাইন্যান্স কোম্পানি খুলতে ন্যূনতম মূলধন কত?
বাংলাদেশে নিবন্ধিত কোম্পানির ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা, আর মূলধন ও সংরক্ষিত তহবিল ঝুঁকিভিত্তিক মূলধনের চেয়ে কম হতে পারবে না। আবেদনের আগে সর্বশেষ প্রবিধান মিলিয়ে নিন।[2]
একজন উদ্যোক্তা কত শতাংশ শেয়ার রাখতে পারেন?
কোনো ব্যক্তি, স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষ বা পরিবার মিলে ১৫ শতাংশের বেশি নয়। ৫ শতাংশের বেশি শেয়ার নেওয়ার আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র লাগে।[1]
আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন ১৯৯৩ ও ফাইন্যান্স কোম্পানি আইনের মূল পার্থক্য কী?
ফাইন্যান্স কোম্পানিতে কি সঞ্চয়ী হিসাব খোলা যায়?
এক ব্যক্তি ফাইন্যান্স কোম্পানিতে কত টাকা আমানত রাখতে পারেন?
এনবিএফআই লাইসেন্স পেতে কত সময় লাগে?
আইনে সিদ্ধান্তের কোনো সময়সীমা নেই, আর নতুন লাইসেন্স খুব কমই দেওয়া হয়। লাইসেন্স পাওয়ার পর ছয় মাসের মধ্যে ব্যবসা শুরু না করলে তা বাতিল হতে পারে।[1]
কোন এনবিএফআইগুলো অবসায়নে যাচ্ছে?
অবসায়িত এনবিএফআইয়ের আমানতকারী কত টাকা ফেরত পাবেন?
চার প্রতিষ্ঠানের স্কিমে ব্যক্তি আমানতকারী আসল ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরোটা পাবেন; বেশি হলে হেয়ারকাট, ২ কোটির বেশি আমানতে সর্বোচ্চ ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা।[11]
ফাইন্যান্স কোম্পানির আমানত কি সুরক্ষিত?
আমানত সুরক্ষা আইন ২০২৬ ফাইন্যান্স কোম্পানিকে প্রথমবার আওতায় এনেছে, সীমা ২ লাখ টাকা। তবে সদস্য হওয়ার শেষ সময় ১ জুলাই ২০২৮, তাই সুরক্ষা এখনো পুরোপুরি কার্যকর নয়।[14]
সূত্র তালিকা
প্রাথমিক আইনি ও নিয়ন্ত্রক সূত্র
উপকরণ যাচাইয়ের তারিখ ২১ অক্টোবর ২০২৬। কোনো বিধানের ওপর নির্ভর করার আগে সর্বশেষ সরকারি পাঠ মিলিয়ে নিন।
- ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৫৯ নং আইন) — বাংলাদেশ আইন (bdlaws)
- বাংলাদেশ ব্যাংক, ডিএফআইএম সার্কুলার নং ৫, ২৪ জুলাই ২০১১ — আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন উন্নীতকরণ
- বাংলাদেশ ব্যাংক, ডিএফআইএম সার্কুলার নং ৯, ১ ডিসেম্বর ২০১৩ — আমানত গ্রহণের ন্যূনতম মেয়াদ পুনর্নির্ধারণ
- বাংলাদেশ ব্যাংক, ডিএফআইএম সার্কুলার লেটার নং ৯, ১৬ এপ্রিল ২০২৫ — পরিচালক পর্ষদ গঠন ও পরিচালকদের দায়িত্ব
- Bangladesh Bank — Circulars, Finance Company Regulation and Policy Department (FCRPD, formerly DFIM)
- The Financial Express, 1 November 2023 — Finance Companies Bill 2023 passed in JS
- দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, ১৬ জুলাই ২০২৬ — আর্থিকভাবে শক্তিশালী এনবিএফআইয়ের আমানত সীমা শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক
- The Daily Star, 1 December 2025 — BB board clears winding up of nine non-banks
- The Daily Star, 13 May 2026 — What Bangladesh Bank's NBFI liquidation plan means for depositors
- The Daily Star, 10 August 2026 — Bangladesh Bank moves to liquidate four NBFIs
- Dhaka Tribune, 26 September 2026 — Depositors of 4 NBFIs to receive up to Tk50 lakh
- ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৮৮ নং আইন) — বাংলাদেশ আইন (bdlaws)
- দৈনিক ইত্তেফাক, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ — ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিল পাস
- BSS, April 2026 — JS passes Deposit Protection Bill, 2026
TRW-এর সহায়তা
তথ্য থেকে সুনির্দিষ্ট পরবর্তী পদক্ষেপে
TRW এনবিএফআই লাইসেন্স আবেদন, উদ্যোক্তা ও পরিচালক যাচাই, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন, লাইসেন্স-পরবর্তী পরিপালন এবং দুর্বল ফাইন্যান্স কোম্পানির রেজল্যুশন ও অবসায়নে আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীর পক্ষে পরামর্শ দেয়। দেখুন আমাদের ব্যাংকিং ও ফাইন্যান্স প্র্যাকটিস, অথবা আপনার বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে TRW-এর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।