ষষ্ঠ সংশোধনী সংবিধান (ষষ্ঠ সংশোধন) আইন, ১৯৮১
এর পরিবর্তনগুলো রাষ্ট্রপতিশাসিত পদ্ধতি ও উপ-রাষ্ট্রপতির পদ সংক্রান্ত ছিল। ৬ আগস্ট ১৯৯১ তারিখের দ্বাদশ সংশোধনী সেই বিধানগুলো প্রতিস্থাপন করে এবং উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলুপ্ত করে।
৩০ মে ১৯৮১ তারিখে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। উপ-রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হন, এবং রাষ্ট্রপতির পদ পূরণের জন্য সংবিধান অনুযায়ী একটি নির্বাচন অনুষ্ঠান বাধ্যতামূলক ছিল।
১৯৮১ সালে দ্বিতীয় সংসদ সংবিধান (ষষ্ঠ সংশোধন) আইন পাস করে। এটি ৫১ ও ৬৬ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে, যেগুলো তখন রাষ্ট্রপতির পদসমূহ এবং সংসদে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা সংক্রান্ত ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত উপ-রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে উপ-রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য করবেন। সংসদে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বা উপ-রাষ্ট্রপতিকে সদস্য হিসেবে আসন গ্রহণের জন্য ওই পদ ছেড়ে দিতে হবে।
১৫ নভেম্বর ১৯৮১ তারিখে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, এবং ওই নির্বাচনে আবদুস সাত্তার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। পরে ২৪ মার্চ ১৯৮২ তারিখের সামরিক অভ্যুত্থানে তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়।
১৯৯১ সালের দ্বাদশ সংশোধনী সংসদীয় সরকার পুনর্বহাল করে, চতুর্থ ভাগের নির্বাহী পরিচ্ছেদগুলো প্রতিস্থাপন করে এবং উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলুপ্ত করে, ফলে ষষ্ঠ সংশোধনীর আর কোনো কার্যকারিতা থাকে না।
সহজ ভাষায়
সংবিধান (ষষ্ঠ সংশোধন) আইন, ১৯৮১
১৯৮১ সালে পাস হওয়া ষষ্ঠ সংশোধনী তৎকালীন রাষ্ট্রপতিশাসিত পদ্ধতির অধীনে বিদ্যমান সংবিধানের ৫১ ও ৬৬ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এতে বিধান করা হয় যে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত উপ-রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে উপ-রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য করবেন, এবং সংসদ-সদস্য নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বা উপ-রাষ্ট্রপতিকে আসন গ্রহণের জন্য ওই পদ ছাড়তে হবে। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর উপ-রাষ্ট্রপতি যখন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তখন এটি পাস হয়। ১৯৯১ সালে দ্বাদশ সংশোধনী সংসদীয় সরকার পুনর্বহাল করলে এর বিধানগুলো অকার্যকর হয়ে যায়।
প্রেক্ষাপট
৩০ মে ১৯৮১ তারিখে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন, এবং উপ-রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হন। তখন বলবৎ রাষ্ট্রপতিশাসিত পদ্ধতির অধীনে একটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠান করা বাধ্যতামূলক ছিল। দ্বিতীয় সংসদ ১৯৮১ সালে ষষ্ঠ সংশোধনী পাস করে, যাতে ওই নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রপতি, উপ-রাষ্ট্রপতি ও সংসদ-সদস্যের পদগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারিত হয়। ১৫ নভেম্বর ১৯৮১ তারিখে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আবদুস সাত্তার জয়ী হন।
কী বদলেছে
ষষ্ঠ সংশোধনী: অনুচ্ছেদ ধরে পরিবর্তন
অনুচ্ছেদ ৫১
ষষ্ঠ সংশোধনীবাংলাপিডিয়ার তালিকা অনুযায়ী সংশোধিত, যাতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত উপ-রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে উপ-রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য করেন, প্রতিবেদন অনুযায়ী।
এটি তখন বলবৎ রাষ্ট্রপতিশাসিত পরিচ্ছেদের ৫১ অনুচ্ছেদ। ১৯৯১ সালের দ্বাদশ সংশোধনী (৩ ধারা) চতুর্থ ভাগের ১ম পরিচ্ছেদ প্রতিস্থাপন করে, এবং বর্তমান ৫১ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি বিষয়ক।
অনুচ্ছেদ ৬৬
ষষ্ঠ সংশোধনীবাংলাপিডিয়ার তালিকা অনুযায়ী সংশোধিত, যাতে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বা উপ-রাষ্ট্রপতিকে আসন গ্রহণের জন্য ওই পদ শূন্য করতে হয়, প্রতিবেদন অনুযায়ী।
বিস্তারিত শব্দচয়ন আইনের পাঠের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা সম্ভব হয়নি। ৬৬ অনুচ্ছেদ পরে ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনী দ্বারা সংশোধিত হয়।
পরবর্তী ঘটনা
ষষ্ঠ সংশোধনী: পরে যা ঘটেছে
ষষ্ঠ সংশোধনী আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়নি। পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে এটি গুরুত্ব হারায়: ১৯৮১ সালের নভেম্বরের নির্বাচনের পর গঠিত সরকার ২৪ মার্চ ১৯৮২ তারিখে ক্ষমতাচ্যুত হয়, এবং ১৯৮৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দেশ সামরিক আইনের অধীনে ছিল। ১৯৯১ সালের দ্বাদশ সংশোধনী সংসদীয় সরকার পুনর্বহাল করে, চতুর্থ ভাগের ১ম পরিচ্ছেদ প্রতিস্থাপন করে এবং উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলুপ্ত করে, ফলে ১৯৮১ সালের ব্যবস্থার আর কোনো কার্যকারিতা নেই। বর্তমান ৫১ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি বিষয়ক।
সময়রেখা
- রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত
- ষষ্ঠ সংশোধনী পাস, প্রতিবেদন অনুযায়ী
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
- সামরিক অভ্যুত্থান
- দ্বাদশ সংশোধনী উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলুপ্ত করে
প্রশ্নোত্তর
ষষ্ঠ সংশোধনী: সাধারণ প্রশ্নোত্তর
ষষ্ঠ সংশোধনী কী করেছিল?
এটি তৎকালীন ৫১ ও ৬৬ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি উপ-রাষ্ট্রপতির রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া এবং রাষ্ট্রপতি বা উপ-রাষ্ট্রপতির সংসদে নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে বিধান করে, যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আগের পদ শূন্য করতে হয়।
১৯৮১ সালে এটি কেন পাস করা হয়?
৩০ মে ১৯৮১ তারিখে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর উপ-রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হন এবং একটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আসন্ন হয়। সংশোধনীটি ওই নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রপতি, উপ-রাষ্ট্রপতি ও সংসদ-সদস্যের পদগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ করে।
ষষ্ঠ সংশোধনীর কি এখনও কোনো কার্যকারিতা আছে?
না। ১৯৯১ সালের দ্বাদশ সংশোধনী সংসদীয় সরকার পুনর্বহাল করে এবং উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলুপ্ত করে। বর্তমান ৫১ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি বিষয়ক, উপ-রাষ্ট্রপতি বিষয়ক নয়।
উৎস
- bdlaws: The Constitution of the People's Republic of Bangladesh (full text with footnotes)
- Banglapedia: Constitutional Amendments
- The Daily Star: 50 Years of Bangladesh Constitution in a nutshell
এই গাইড সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়। ২০২৬ সালে আলোচনাধীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইন হিসেবে পাস না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবিধানিক ও রিট আইনচর্চা
ষষ্ঠ সংশোধনী নিয়ে আইনি সহায়তা দরকার?
আমাদের আইনজীবীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন, মৌলিক অধিকার ও জনআইন বিষয়ে পরামর্শ দেন।