অনুচ্ছেদ ১৪১ পিএসসির বার্ষিক রিপোর্ট
বার্ষিক রিপোর্ট
বার্ষিক রিপোর্টের মাধ্যমেই সংসদ ও জনগণ জানতে পারে সরকার নিয়োগে মেধাভিত্তিক পরামর্শ উপেক্ষা করেছে কি না। এটি পরামর্শের বাধ্যবাধকতাকে যাচাইযোগ্য করে তোলে।
বছরের শুরুতে সরকারী কর্ম কমিশন পূর্ববর্তী পঞ্জিকাবর্ষে তার কাজের ওপর একটি রিপোর্ট সংকলন করে: অনুষ্ঠিত পরীক্ষা, সুপারিশকৃত প্রার্থী, প্রাপ্ত পরামর্শের অনুরোধ ও প্রদত্ত পরামর্শ। মার্চের প্রথম দিনের মধ্যে রিপোর্টটি রাষ্ট্রপতির কাছে দিতে হয়।
রিপোর্টের সঙ্গে সংযুক্ত একটি স্মারকলিপিতে প্রতিটি ক্ষেত্র উল্লেখ থাকে, যেখানে সরকার কমিশনের পরামর্শ গ্রহণ করেনি, এবং যেখানে কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত ছিল অথচ করা হয়নি, কমিশন যতদূর জানে ততদূর কারণসহ।
কমিশন রিপোর্ট ও স্মারকলিপি রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করে। রাষ্ট্রপতির তা আটকে রাখার সুযোগ নেই: ১৪১(৩) অনুচ্ছেদ বলে, রাষ্ট্রপতি ৩১ মার্চের পর সংসদের প্রথম বৈঠকে সেগুলো সংসদে উপস্থাপনের ব্যবস্থা করবেন।
রিপোর্টটি সংসদে উপস্থাপিত হয়, যেখানে সদস্যরা কমিশনের পরামর্শ উপেক্ষিত হওয়ার ঘটনাগুলো নিয়ে সরকারকে প্রশ্ন করতে পারেন। উপস্থাপিত রিপোর্টটি নাগরিক ও গণমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত সরকারি নথিতেও পরিণত হয়।
সহজ ভাষায়
অনুচ্ছেদ ১৪১ কীভাবে কাজ করে
১৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক সরকারী কর্ম কমিশনকে প্রতি বছর রিপোর্ট দিতে হয়। ১ মার্চের মধ্যে কমিশনকে পূর্ববর্তী পঞ্জিকাবর্ষে তার কার্যাবলী সম্পর্কে রাষ্ট্রপতির কাছে রিপোর্ট পাঠাতে হয়। রিপোর্টের সঙ্গে একটি স্মারকলিপি থাকতে হয়, যাতে যেসব ক্ষেত্রে কমিশনের পরামর্শ গৃহীত হয়নি এবং কেন, আর যেসব ক্ষেত্রে কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত ছিল অথচ করা হয়নি এবং কেন, তার তালিকা থাকে। এরপর রাষ্ট্রপতিকে ৩১ মার্চের পর সংসদের প্রথম বৈঠকে রিপোর্ট ও স্মারকলিপি সংসদে উপস্থাপনের ব্যবস্থা করতে হয়। এতে কমিশনকে পাশ কাটানোর সরকারি যেকোনো চেষ্টা জনসমক্ষে আসে।
বাস্তবে
কমিশন তার বার্ষিক রিপোর্ট প্রকাশ করে, যাতে পরীক্ষা ও সুপারিশের পরিসংখ্যান থাকে। কখনো কখনো রিপোর্ট উপস্থাপনে দেরি হয়েছে, এবং এগুলো নিয়ে সংসদীয় আলোচনা সীমিত থেকেছে। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের নির্বাচন পর্যন্ত সংসদ ভেঙে দেওয়া অবস্থায় থাকায় নতুন সংসদের প্রথম বৈঠক না হওয়া পর্যন্ত রিপোর্ট উপস্থাপন করা যায়নি। রাজনীতিকৃত নিয়োগের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রণ হিসেবে প্রত্যাখ্যাত পরামর্শের স্মারকলিপি নিয়ে আরও পূর্ণাঙ্গ আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কারপন্থীরা।
মূল পাঠ
অনুচ্ছেদ ১৪১-এ যা বলা আছে
১৪১। (১) প্রত্যেক কমিশন প্রতি বৎসর মার্চ মাসের প্রথম দিবসে বা তাহার পূর্বে পূর্ববর্তী একত্রিশে ডিসেম্বরে সমাপ্ত এক বৎসরে স্বীয় কার্যাবলী সম্বন্ধে রিপোর্ট প্রস্তুত করিবেন এবং তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করিবেন।
(২) রিপোর্টের সহিত একটি স্মারকলিপি থাকিবে, যাহাতে
(ক) কোন ক্ষেত্রে কমিশনের কোন পরামর্শ গৃহীত না হইয়া থাকিলে সেই ক্ষেত্র এবং পরামর্শ গৃহীত না হইবার কারণ; এবং
(খ) যে সকল ক্ষেত্রে কমিশনের সহিত পরামর্শ করা উচিত ছিল অথচ পরামর্শ করা হয় নাই, সেই সকল ক্ষেত্র এবং পরামর্শ না করিবার কারণ;
সম্বন্ধে কমিশন যতদূর অবগত, ততদূর লিপিবদ্ধ করিবেন।
(৩) যে বৎসর রিপোর্ট পেশ করা হইয়াছে, সেই বৎসর একত্রিশে মার্চের পর অনুষ্ঠিত সংসদের প্রথম বৈঠকে রাষ্ট্রপতি উক্ত রিপোর্ট ও স্মারকলিপি সংসদে উপস্থাপনের ব্যবস্থা করিবেন।
সরকারি "বাংলাদেশ আইন" ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলা পাঠ, যা সংবিধানের ১৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রামাণ্য। আদালতের রায়ে অবস্থান বদলে গেলে ওপরের অবস্থা-নোটে তা বলা আছে।
সংশ্লিষ্ট বিধান
সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ
প্রশ্নোত্তর
অনুচ্ছেদ ১৪১: সাধারণ প্রশ্নোত্তর
পিএসসিকে কখন বার্ষিক রিপোর্ট পেশ করতে হয়?
১৪১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক কমিশনকে প্রতি বছর মার্চের প্রথম দিনের মধ্যে পূর্ববর্তী ৩১ ডিসেম্বরে সমাপ্ত সময়ের কার্যাবলী সম্পর্কে রাষ্ট্রপতির কাছে রিপোর্ট পেশ করতে হয়।
পিএসসির রিপোর্ট কি সংসদে যায়?
হ্যাঁ। ১৪১(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রিপোর্ট পেশের বছরে ৩১ মার্চের পর অনুষ্ঠিত সংসদের প্রথম বৈঠকে রাষ্ট্রপতিকে রিপোর্ট ও স্মারকলিপি সংসদে উপস্থাপনের ব্যবস্থা করতে হয়, যাতে সদস্যরা তা পর্যালোচনা করতে পারেন।
উৎস
- বিডিলজ: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১৪১
- Laws of Bangladesh: Article 141, Annual report
এই গাইড সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়। ২০২৬ সালে আলোচনাধীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইন হিসেবে পাস না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবিধানিক ও রিট আইনচর্চা
অনুচ্ছেদ ১৪১ নিয়ে আইনি সহায়তা দরকার?
আমাদের আইনজীবীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন, মৌলিক অধিকার ও জনআইন বিষয়ে পরামর্শ দেন।