অনুচ্ছেদ ১৭: অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

বলবৎরাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি

অনুচ্ছেদ ১৭ অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা

অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা

অবৈতনিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উপবৃত্তি কর্মসূচির ভিত্তি ১৭ অনুচ্ছেদ। সাধারণ, মাদ্রাসা ও ইংরেজি মাধ্যমের মতো বিভিন্ন শিক্ষাধারা নিয়ে বিতর্কের কাঠামোও এটি নির্ধারণ করে।

অনুচ্ছেদ ১৭ — অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা
শিশুপ্রাথমিক বিদ্যালয়
শিক্ষকশিক্ষাক্রম
বয়স্ক শিক্ষার্থীসাক্ষরতা ক্লাস
1 / 3
  1. ১৭(ক) অনুচ্ছেদ এবং প্রাথমিক শিক্ষা (বাধ্যতামূলককরণ) আইন, ১৯৯০ অনুযায়ী প্রাথমিক বয়সের শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হবে, এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কোনো বেতন নেয় না। প্রতি শিক্ষাবর্ষের শুরুতে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হয়।

  2. ১৭(খ) অনুচ্ছেদ বলে যে শিক্ষা সমাজের প্রয়োজন মেটাবে। বৃত্তিমূলক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ, শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষাক্রম সংস্কারের মাধ্যমে রাষ্ট্র প্রশিক্ষিত ও উদ্যমী নাগরিক তৈরির চেষ্টা করে। পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও কারিগরি বিদ্যালয় এই প্রচেষ্টার অংশ।

  3. ১৭(গ) অনুচ্ছেদ আইনের দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরক্ষরতা দূর করতে রাষ্ট্রকে নির্দেশ দেয়। বয়স্ক সাক্ষরতা কর্মসূচি এবং মেয়েদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখার উপবৃত্তি এই প্রচেষ্টার অংশ, যা এখনও অসম্পূর্ণ। ১৯৭২ সাল থেকে সাক্ষরতার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

সহজ ভাষায়

অনুচ্ছেদ ১৭ কীভাবে কাজ করে

১৭ অনুচ্ছেদ শিক্ষা বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে রাষ্ট্রকে নির্দেশ দেয়। প্রথমত, রাষ্ট্রকে একই পদ্ধতির গণমুখী ও সার্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল শিশুকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষা সমাজের প্রয়োজন মেটাবে এবং সুপ্রশিক্ষিত ও উদ্যমী নাগরিক তৈরি করবে। তৃতীয়ত, আইনের দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রকে নিরক্ষরতা দূর করতে হবে। সংসদ প্রাথমিক শিক্ষা (বাধ্যতামূলককরণ) আইন, ১৯৯০-এর মাধ্যমে একে কার্যকর করে, যা প্রাথমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করেছে। দ্বিতীয় ভাগের নীতি হিসেবে ১৭ অনুচ্ছেদ নীতি নির্ধারণে পথ দেখায়, তবে এককভাবে আদালতে বলবৎ করা যায় না।

বাস্তবে

১৭ অনুচ্ছেদ অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা, বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক ও উপবৃত্তি প্রকল্পের সম্প্রসারণকে রূপ দিয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা (বাধ্যতামূলককরণ) আইন, ১৯৯০ বাধ্যতামূলক বিদ্যালয়-শিক্ষার আইনগত ভিত্তি দেয়। সাধারণ, মাদ্রাসা ও ইংরেজি মাধ্যমের সহাবস্থানের কারণে একই পদ্ধতির শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্য নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আদালত ১৭ অনুচ্ছেদকে বলবৎযোগ্য অধিকার নয়, নির্দেশিকা হিসেবে গণ্য করে, তবে শিক্ষা বিষয়ক জনস্বার্থ মামলায় সমতার অধিকারের পাশাপাশি প্রায়ই এর উল্লেখ করা হয়।

মূল পাঠ

অনুচ্ছেদ ১৭-এ যা বলা আছে

১৭৷ রাষ্ট্র

(ক) একই পদ্ধতির গণমুখী ও সার্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদানের জন্য;

(খ) সমাজের প্রয়োজনের সহিত শিক্ষাকে সঙ্গতিপূর্ণ করিবার জন্য এবং সেই প্রয়োজন সিদ্ধ করিবার উদ্দেশ্যে যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও সদিচ্ছাপ্রণোদিত নাগরিক সৃষ্টির জন্য;

(গ) আইনের দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরক্ষরতা দূর করিবার জন্য

কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন৷

সরকারি "বাংলাদেশ আইন" ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলা পাঠ, যা সংবিধানের ১৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রামাণ্য। আদালতের রায়ে অবস্থান বদলে গেলে ওপরের অবস্থা-নোটে তা বলা আছে।

সংশ্লিষ্ট বিধান

সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ

প্রশ্নোত্তর

অনুচ্ছেদ ১৭: সাধারণ প্রশ্নোত্তর

বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদ কী?

১৭ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রকে একই পদ্ধতির গণমুখী ও সার্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে, আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল শিশুকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা দিতে, শিক্ষাকে সমাজের প্রয়োজনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ করতে এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরক্ষরতা দূর করতে নির্দেশ দেয়।

বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষা কি অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক?

হ্যাঁ। ১৭ অনুচ্ছেদ লক্ষ্য নির্ধারণ করে এবং প্রাথমিক শিক্ষা (বাধ্যতামূলককরণ) আইন, ১৯৯০ প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বেতনমুক্ত এবং রাষ্ট্র বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করে, যদিও মান ও সুযোগ দেশজুড়ে এখনও ভিন্ন ভিন্ন।

উৎস

এই গাইড সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়। ২০২৬ সালে আলোচনাধীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইন হিসেবে পাস না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবিধানিক ও রিট আইনচর্চা

অনুচ্ছেদ ১৭ নিয়ে আইনি সহায়তা দরকার?

আমাদের আইনজীবীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন, মৌলিক অধিকার ও জনআইন বিষয়ে পরামর্শ দেন।

Message TRW on WhatsApp