অনুচ্ছেদ ৩: রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

বলবৎপ্রজাতন্ত্র

অনুচ্ছেদ ৩ রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা

রাষ্ট্রভাষা

সরকারি বিজ্ঞপ্তি, আইন ও সরকারি ফরম বাংলায় হয়, ফলে নাগরিকেরা নিজের ভাষায় রাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। সরকারি সংস্থার সঙ্গে কাজ করা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে বাংলা দলিলের জন্য প্রস্তুত থাকতে হয় এবং প্রত্যয়িত অনুবাদের প্রয়োজন হতে পারে।

অনুচ্ছেদ ৩ — রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা
বলবৎ

বলবৎ। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে গণভোটে উপস্থাপিত জুলাই জাতীয় সনদ এখানে পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছে, তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত কোনো সংবিধান সংশোধনী প্রণীত হয়নি। সনদ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বহাল রেখে বাংলাদেশে প্রচলিত অন্যান্য ভাষাকে জাতীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতির প্রস্তাব করেছে।

অআকখবাংলা লিপিরাষ্ট্রভাষা
সরকারি দপ্তরবাংলা ফরম
YESNOজুলাই সনদঅন্যান্য ভাষা
1 / 3
  1. ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রতি সম্মান জানিয়ে ৩ অনুচ্ছেদ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করে। সরকারি দপ্তর চিঠি, বিজ্ঞপ্তি ও নথি বাংলায় প্রস্তুত করে, এবং সংসদের আইন বাংলায় পাস হয়, সঙ্গে সহায়ক হিসেবে ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয়।

  2. বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭ সরকারি দপ্তর, আদালত ও সরকারি চিঠিপত্রে বাংলা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে। ট্রেড লাইসেন্স বা পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারী নাগরিক ফরম ও উত্তর বাংলায় পাবেন, এবং দপ্তরের সঙ্গে বাংলায় যোগাযোগের দাবি করতে পারেন।

  3. জুলাই জাতীয় সনদ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বহাল রেখে বাংলাদেশে প্রচলিত অন্যান্য ভাষাকে জাতীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতির প্রস্তাব করে। এটি একটি অনিষ্পন্ন প্রস্তাব এবং অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত আইনে পরিণত হয়নি।

সহজ ভাষায়

অনুচ্ছেদ ৩ কীভাবে কাজ করে

৩ অনুচ্ছেদ বাংলাকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা করেছে। এর অর্থ বাংলা হলো সরকার, সংসদ, সরকারি নথি এবং নীতিগতভাবে আদালতের ভাষা। ১৯৮৮ সালে ইংরেজি পাঠে ‘Bengali’ শব্দের পরিবর্তে ‘Bangla’ করা হয়। এই অনুচ্ছেদে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রতিফলন রয়েছে, যখন উর্দু চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে বাংলা রক্ষায় মানুষ প্রাণ দেন; প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি সেই ঘটনা স্মরণ করা হয়। ৩ অনুচ্ছেদ অন্য ভাষা নিষিদ্ধ করে না। ব্যবসা-বাণিজ্যে ও উচ্চ আদালতে ইংরেজি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, এবং অনেক আদিবাসী জনগোষ্ঠী ঘরে ও বিদ্যালয়ে নিজস্ব ভাষায় কথা বলে।

বাস্তবে

সংসদ, সরকার ও অধস্তন আদালতে সর্বত্র বাংলা ব্যবহৃত হয়। সুপ্রিম কোর্টে অনেক রায় এখনও ইংরেজিতে লেখা হয়, যদিও বাংলার ব্যবহার বেড়েছে। বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭ ৩ অনুচ্ছেদকে বাস্তব রূপ দেয়। ২০২৪ সালের পর জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ও জুলাই জাতীয় সনদ আদিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভাষার মতো অন্যান্য ভাষাকে জাতীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতির প্রস্তাব করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী সেই প্রস্তাব অনিষ্পন্ন রয়েছে এবং অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত কোনো সংশোধনী হয়নি।

মূল পাঠ

অনুচ্ছেদ ৩-এ যা বলা আছে

৩৷ প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা৷

সরকারি "বাংলাদেশ আইন" ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলা পাঠ, যা সংবিধানের ১৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রামাণ্য। আদালতের রায়ে অবস্থান বদলে গেলে ওপরের অবস্থা-নোটে তা বলা আছে।

ইতিহাস

সংশোধনী

সংশ্লিষ্ট বিধান

সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ

প্রশ্নোত্তর

অনুচ্ছেদ ৩: সাধারণ প্রশ্নোত্তর

বাংলাদেশের সংবিধানের ৩ অনুচ্ছেদ কী?

৩ অনুচ্ছেদ বলে যে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। ১৯৭২ সাল থেকে এটি সংবিধানে রয়েছে; ১৯৮৮ সালে অষ্টম সংশোধনী ইংরেজি পাঠে ‘Bengali’ শব্দের পরিবর্তে ‘Bangla’ করে।

ইংরেজি কি বাংলাদেশের সরকারি ভাষা?

না। কেবল বাংলাকেই রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, উচ্চশিক্ষা ও সুপ্রিম কোর্টের অনেক রায়ে ইংরেজি এখনও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় এবং আইনের সরকারি ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয়, তবে এর কোনো সাংবিধানিক মর্যাদা নেই।

উৎস

এই গাইড সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়। ২০২৬ সালে আলোচনাধীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইন হিসেবে পাস না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবিধানিক ও রিট আইনচর্চা

অনুচ্ছেদ ৩ নিয়ে আইনি সহায়তা দরকার?

আমাদের আইনজীবীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন, মৌলিক অধিকার ও জনআইন বিষয়ে পরামর্শ দেন।

Message TRW on WhatsApp