অনুচ্ছেদ ৪: জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

বলবৎপ্রজাতন্ত্র

অনুচ্ছেদ ৪ জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক

জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক

এই প্রতীকগুলো মুদ্রা, পাসপোর্ট ও সরকারি ভবনে দেখা যায়। ব্র্যান্ডিংয়ে পতাকা বা প্রতীক ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে এই অনুচ্ছেদের অধীনে প্রণীত বিধিমালা মেনে চলতে হয়।

অনুচ্ছেদ ৪ — জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক
জাতীয় পতাকালাল ও সবুজ
শিক্ষার্থীজাতীয় সঙ্গীত
পতাকা বিধিমালাপ্রতীক
1 / 3
  1. ৪ অনুচ্ছেদ পতাকাকে সবুজ ক্ষেত্রের ওপর স্থাপিত একটি লাল বৃত্ত হিসেবে নির্ধারণ করে। সরকারি ভবনে প্রতিদিন তা উত্তোলন করা হয় এবং পতাকা বিধিমালা অনুযায়ী জাতীয় শোক দিবসে অর্ধনমিত রাখা হয়। এর অনুপাত ও রং ওই বিধিমালায় বিস্তারিতভাবে নির্ধারিত।

  2. জাতীয় সঙ্গীত হলো ‘আমার সোনার বাংলা’র প্রথম দশ চরণ। বিদ্যালয়ের সমাবেশ, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক খেলায় এটি গাওয়া হয়, এবং বাজানোর সময় নাগরিকদের দাঁড়ানোর কথা। এর কথা ও সুর ৪ অনুচ্ছেদ দ্বারা নির্ধারিত এবং সংশোধনী ছাড়া তা পরিবর্তন করা যায় না।

  3. (৪) দফা সংসদকে বিস্তারিত বিধান করার সুযোগ দেয়। পতাকা বিধিমালা ও সংশ্লিষ্ট আইন আকার, রং, প্রদর্শন ও অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে, তাই সরকারি কাগজপত্র ও মুদ্রায় প্রতীকটি একটি নির্দিষ্ট নকশা অনুসরণ করে। এই প্রতীকগুলোর অপব্যবহারে সংশ্লিষ্ট বিধিমালার অধীনে দণ্ড হতে পারে।

সহজ ভাষায়

অনুচ্ছেদ ৪ কীভাবে কাজ করে

৪ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রের প্রধান প্রতীকগুলো নির্ধারণ করে। জাতীয় সঙ্গীত হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আমার সোনার বাংলা’র প্রথম দশ চরণ। জাতীয় পতাকা হলো সবুজ ক্ষেত্রের ওপর একটি লাল বৃত্ত। জাতীয় প্রতীক হলো পানিতে ভাসমান জাতীয় ফুল শাপলা, যার দুই পাশে ধানের শীষ, ওপরে পাটগাছের তিনটি পরস্পরসংযুক্ত পাতা এবং পাতাগুলোর দুই পাশে দুটি করে তারকা। এই প্রতীকগুলোর ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত বিধান করার ক্ষমতা অনুচ্ছেদটি সংসদকে দেয়, যা পতাকা ও সঙ্গীত বিষয়ক আইন ও বিধিমালার মাধ্যমে করা হয়েছে।

বাস্তবে

১৯৭২ সাল থেকে ৪ অনুচ্ছেদ অপরিবর্তিত রয়েছে। পতাকার বিস্তারিত ব্যবহার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, এবং প্রতীকটি সরকারি দলিল ও মুদ্রায় দেখা যায়। প্রকাশিত সারসংক্ষেপ অনুযায়ী জুলাই জাতীয় সনদের সংস্কার প্রস্তাবে জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা বা প্রতীকে কোনো পরিবর্তন নেই, এবং অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত অনুচ্ছেদটি অপরিবর্তিত।

মূল পাঠ

অনুচ্ছেদ ৪-এ যা বলা আছে

৪৷ (১) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সঙ্গীত “আমার সোনার বাংলা”র প্রথম দশ চরণ৷

(২) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা হইতেছে সবুজ ক্ষেত্রের উপর স্থাপিত রক্তবর্ণের একটি ভরাট বৃত্ত৷

(৩) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীক হইতেছে উভয় পার্শ্বে ধান্যশীর্ষবেষ্টিত, পানিতে ভাসমান জাতীয় পুষ্প শাপলা, তাহার শীর্ষদেশে পাটগাছের তিনটি পরস্পরসংযুক্ত পত্র, তাহার উভয় পার্শ্বে দুইটি করিয়া তারকা৷

(৪) উপরি-উক্ত দফাসমূহ-সাপেক্ষে জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক সম্পর্কিত বিধানাবলী আইনের দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷

সরকারি "বাংলাদেশ আইন" ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলা পাঠ, যা সংবিধানের ১৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রামাণ্য। আদালতের রায়ে অবস্থান বদলে গেলে ওপরের অবস্থা-নোটে তা বলা আছে।

সংশ্লিষ্ট বিধান

সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ

প্রশ্নোত্তর

অনুচ্ছেদ ৪: সাধারণ প্রশ্নোত্তর

৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত কী?

৪(১) অনুচ্ছেদ বলে যে জাতীয় সঙ্গীত হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান ‘আমার সোনার বাংলা’র প্রথম দশ চরণ। ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে সংবিধান কার্যকর হওয়ার সময় থেকে এটি জাতীয় সঙ্গীত।

বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকে কী আছে?

৪(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতীকটি হলো পানিতে ভাসমান জাতীয় ফুল শাপলা, যার দুই পাশে ধানের শীষ, শীর্ষে পাটগাছের তিনটি পরস্পরসংযুক্ত পাতা এবং পাতাগুলোর দুই পাশে দুটি করে তারকা।

উৎস

এই গাইড সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়। ২০২৬ সালে আলোচনাধীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইন হিসেবে পাস না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবিধানিক ও রিট আইনচর্চা

অনুচ্ছেদ ৪ নিয়ে আইনি সহায়তা দরকার?

আমাদের আইনজীবীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন, মৌলিক অধিকার ও জনআইন বিষয়ে পরামর্শ দেন।

Message TRW on WhatsApp