অনুচ্ছেদ ৮৫: সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনার নিয়ম

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

বলবৎআইনসভা২য় পরিচ্ছেদ: আইন প্রণয়ন ও অর্থসংক্রান্ত পদ্ধতি

অনুচ্ছেদ ৮৫ সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনার নিয়ম

সরকারী অর্থের নিয়ন্ত্রণ

সরকারি অর্থ নিয়ে স্পষ্ট আইনি বিধান থাকলে অপব্যবহারের সুযোগ কমে, এবং মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও সংসদ নিরীক্ষার একটি মানদণ্ড পান।

অনুচ্ছেদ ৮৫ — সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনার নিয়ম
বাজেট আইনসংসদ
হিসাবরক্ষণ অফিসকর্মকর্তা
মহা হিসাব-নিরীক্ষকনিরীক্ষা রিপোর্ট
1 / 3
  1. সংসদ সরকারি অর্থের রক্ষণাবেক্ষণ, জমা ও প্রত্যাহার নিয়ন্ত্রণে একটি আইন পাস করে, যেমন বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন। ৮৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এসব বিষয় আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে হয়, তাই কাঠামোটি প্রকাশ্যে আলোচিত হয় এবং আইনে স্থির থাকে।

  2. অর্থ গ্রহণ বা তহবিল উত্তোলনের সময় মন্ত্রণালয় ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তারা ওই আইন ও তার অধীনে প্রণীত বিধির পদ্ধতি অনুসরণ করেন। অর্থ প্রত্যাহার নির্দিষ্টকরণ আইনে প্রদত্ত কর্তৃত্ব ও নির্ধারিত পদ্ধতি মেনে হতে হয়।

  3. মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক পরীক্ষা করেন, অর্থ আইন ও বিধি অনুযায়ী রাখা ও ব্যয় করা হয়েছে কি না। অনিয়মের রিপোর্ট সংসদে যায়, যেখানে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত কমিটি দায়ী কর্মকর্তাদের প্রশ্ন করতে এবং অর্থ আদায় বা সংশোধনমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করতে পারে।

সহজ ভাষায়

অনুচ্ছেদ ৮৫ কীভাবে কাজ করে

৮৫ অনুচ্ছেদ বলে, সরকারি অর্থের রক্ষণাবেক্ষণ, সংযুক্ত তহবিল ও সরকারী হিসাবে অর্থ জমা ও সেখান থেকে অর্থ প্রত্যাহার এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সংসদের আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে হবে। সংসদ এমন আইন না করা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি বিধি প্রণয়ন করতে পারেন। অর্থাৎ সরকারি অর্থ কীভাবে রাখা, স্থানান্তর ও উত্তোলন করা হবে, সেই প্রক্রিয়া কর্মকর্তাদের ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়নি। তা আইনে নির্ধারিত, যার ফলে অর্থ ব্যবস্থাপনার জন্য সংসদ ও নিরীক্ষকরা সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনতে পারেন।

বাস্তবে

৮৫ অনুচ্ছেদের আওতাভুক্ত ক্ষেত্রে প্রণীত প্রধান আইন হলো সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৯, যার পাশাপাশি অর্থ বিভাগের জারি করা ট্রেজারি ও আর্থিক বিধিও রয়েছে। আগে এই অনুচ্ছেদের বিকল্প বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির প্রণীত বিধি ট্রেজারি পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করত। সরকারি অর্থের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন সাধারণত আদালতে নয়, নিরীক্ষা আপত্তি ও সরকারি হিসাব সম্পর্কিত কমিটির শুনানিতে ওঠে।

মূল পাঠ

অনুচ্ছেদ ৮৫-এ যা বলা আছে

৮৫। সরকারী অর্থের রক্ষণাবেক্ষণ, ক্ষেত্রমত সংযুক্ত তহবিলে অর্থপ্রদান বা তাহা হইতে অর্থ প্রত্যাহার কিংবা প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাবে অর্থপ্রদান বা তাহা হইতে অর্থ প্রত্যাহার এবং উপরি-উক্ত বিষয়সমূহের সহিত সংশ্লিষ্ট বা আনুষঙ্গিক সকল বিষয় সংসদের আইন-দ্বারা এবং অনুরূপ আইনের বিধান না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত বিধিসমূহ-দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হইবে।

সরকারি "বাংলাদেশ আইন" ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলা পাঠ, যা সংবিধানের ১৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রামাণ্য। আদালতের রায়ে অবস্থান বদলে গেলে ওপরের অবস্থা-নোটে তা বলা আছে।

সংশ্লিষ্ট বিধান

সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ

প্রশ্নোত্তর

অনুচ্ছেদ ৮৫: সাধারণ প্রশ্নোত্তর

বাংলাদেশে কোন আইন সরকারি অর্থ নিয়ন্ত্রণ করে?

৮৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারি অর্থের রক্ষণাবেক্ষণ, প্রদান ও প্রত্যাহার সংসদকে আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। সরকারি অর্থ ও বাজেট ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৯ এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক বিধি এই কাঠামোর বড় অংশ তৈরি করে।

রাষ্ট্রপতি কি সরকারি অর্থ নিয়ে বিধি প্রণয়ন করতে পারেন?

কেবল বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে। সংসদ আইনের দ্বারা বিধান না করা পর্যন্ত ৮৫ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতির প্রণীত বিধির অনুমতি দেয়। কোনো আইন বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করলে সেই আইনই প্রযোজ্য হয়, এবং রাষ্ট্রপতির কোনো বিধি কেবল আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকে।

উৎস

এই গাইড সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়। ২০২৬ সালে আলোচনাধীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইন হিসেবে পাস না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবিধানিক ও রিট আইনচর্চা

অনুচ্ছেদ ৮৫ নিয়ে আইনি সহায়তা দরকার?

আমাদের আইনজীবীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন, মৌলিক অধিকার ও জনআইন বিষয়ে পরামর্শ দেন।

Message TRW on WhatsApp