অনুচ্ছেদ ৪ক: জাতির পিতার প্রতিকৃতি

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

বলবৎপ্রজাতন্ত্র

অনুচ্ছেদ ৪ক জাতির পিতার প্রতিকৃতি

জাতির পিতার প্রতিকৃতি

৪ক অনুচ্ছেদ সরকারি দপ্তর এবং বেসরকারিসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য একটি দায়িত্ব সৃষ্টি করে। সেই দায়িত্ব পালিত হবে কি না তা রাজনীতির সঙ্গে বদলেছে, যা একে সংস্কার বিতর্কাধীন বিধানের একটি স্পষ্ট দৃষ্টান্তে পরিণত করেছে।

অনুচ্ছেদ ৪ক — জাতির পিতার প্রতিকৃতি
বলবৎ

পাঠ অনুযায়ী বলবৎ। প্রতিবেদন অনুযায়ী অক্টোবর ২০২৫ সালে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জানতে চায় জুলাই জাতীয় সনদে ৪ক অনুচ্ছেদ বাতিলের প্রস্তাব রাখা হবে কি না; অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত কোনো সংশোধনী প্রণীত হয়নি।

সরকারি দপ্তরপ্রতিকৃতি
বিদ্যালয়প্রতিকৃতি
হাইকোর্টরিট আবেদন
UNION PARISHAD / CITY CORPORATIONঐকমত্য কমিশনরাজনৈতিক দল
1 / 4
  1. ৪ক অনুচ্ছেদ সেই দপ্তরগুলোর তালিকা দেয় যেখানে প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করতে হবে, বঙ্গভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শুরু করে জেলা কার্যালয়, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা ও বিদেশের দূতাবাস পর্যন্ত। দায়িত্বটি কেবল প্রদর্শনের নয়, সংরক্ষণেরও, যা একে একটি চলমান বাধ্যবাধকতায় পরিণত করে।

  2. দায়িত্বটি সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যন্ত বিস্তৃত। তাই কেবল রাষ্ট্রীয় দপ্তর নয়, একটি বেসরকারি কলেজও অনুচ্ছেদের শব্দাবলির আওতায় পড়ে। ২০১১ সালের পর সারা দেশের বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধানদের কাছে এটি মেনে চলার প্রত্যাশা করা হয়, এবং পরিদর্শনের সময় কখনো কখনো প্রতিকৃতি আছে কি না তা যাচাই করা হতো।

  3. আগস্ট ২০১৯ সালে একটি রিট আবেদনের শুনানিতে হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ দুই মাসের মধ্যে দেশের সকল আদালতকক্ষে প্রতিকৃতি টাঙানোর নির্দেশ দেয়, প্রদর্শনকে সংবিধান অনুযায়ী বাধ্যতামূলক গণ্য করে।

  4. অক্টোবর ২০২৫ সালে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোকে চিঠি দিয়ে জানতে চায় ৪ক অনুচ্ছেদ বাতিল জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত হবে কি না। অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত কোনো সংশোধনী পাস হয়নি, তাই পাঠটি বলবৎ রয়েছে।

সহজ ভাষায়

অনুচ্ছেদ ৪ক কীভাবে কাজ করে

৪ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতির পিতা হিসেবে বর্ণিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি বহু সরকারি স্থানে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার ও প্রধান বিচারপতির কার্যালয়, সরকারি ও আধা-সরকারি অফিস, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়, এবং বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশন। এটি ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনী দ্বারা যুক্ত হয়। ২০২৪ সাল থেকে অনুচ্ছেদটি রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত, এবং সংস্কার আলোচনায় এটি বাতিলের একটি প্রস্তাব রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে রাখা হয়, তবে পাঠ পরিবর্তিত হয়নি।

বাস্তবে

৪ক অনুচ্ছেদ প্রথম ২০০৪ সালে চতুর্দশ সংশোধনী দ্বারা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি বিষয়ে সন্নিবেশিত হয়, এবং ২০১১ সালে জাতির পিতাকে যুক্ত করে প্রতিস্থাপিত হয়। এক দশকের বেশি সময় এটি সক্রিয়ভাবে প্রয়োগ করা হয়, যার মধ্যে প্রতিটি আদালতকক্ষে প্রতিকৃতি প্রদর্শনের জন্য হাইকোর্ট বিভাগের ২০১৯ সালের একটি নির্দেশনাও রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী আগস্ট ২০২৪ সালের পর অনেক দপ্তরে চর্চা বদলে যায়, যদিও পাঠ একই থাকে। প্রতিবেদন অনুযায়ী পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগের ডিসেম্বর ২০২৪ সালের রায় ৪ক অনুচ্ছেদ বাতিল করেনি এবং অবশিষ্ট অধিকাংশ বিষয় সংসদের ওপর ছেড়ে দেয়। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন অক্টোবর ২০২৫ সালে বাতিলের বিষয়ে দলগুলোর মতামত চায়। যেকোনো বাতিলের জন্য ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে সংশোধনী প্রয়োজন হবে।

মূল পাঠ

অনুচ্ছেদ ৪ক-এ যা বলা আছে

[৪ক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার ও প্রধান বিচারপতির কার্যালয় এবং সকল সরকারী ও আধা-সরকারী অফিস, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষের প্রধান ও শাখা কার্যালয়, সরকারী ও বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনসমূহে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করিতে হইবে।]

সরকারি "বাংলাদেশ আইন" ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলা পাঠ, যা সংবিধানের ১৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রামাণ্য। আদালতের রায়ে অবস্থান বদলে গেলে ওপরের অবস্থা-নোটে তা বলা আছে।

ইতিহাস

সংশোধনী

  • চতুর্দশ সংশোধনী ২০০৪ →সরকারি দপ্তরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করে ৪ক অনুচ্ছেদ সন্নিবেশ করে।
  • পঞ্চদশ সংশোধনী ২০১১ →জাতির পিতার প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের বিধান করে ৪ক অনুচ্ছেদ প্রতিস্থাপন করে।

সংশ্লিষ্ট বিধান

সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ

প্রশ্নোত্তর

অনুচ্ছেদ ৪ক: সাধারণ প্রশ্নোত্তর

বাংলাদেশের সংবিধানের ৪ক অনুচ্ছেদ কী?

৪ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পীকার ও প্রধান বিচারপতির কার্যালয়ে, সরকারি দপ্তরে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবং বিদেশে বাংলাদেশের মিশনে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করতে হবে।

৪ক অনুচ্ছেদ কি বাতিল হয়েছে?

না। অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত পাঠটি সংবিধানে রয়েছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন অক্টোবর ২০২৫ সালে দলগুলোর কাছে জানতে চায় এর বাতিল জুলাই জাতীয় সনদের অংশ হবে কি না, কিন্তু বাতিলের জন্য সংসদে পাস করা সংবিধান সংশোধনী প্রয়োজন, এবং কোনোটি প্রণীত হয়নি।

উৎস

এই গাইড সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়। ২০২৬ সালে আলোচনাধীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইন হিসেবে পাস না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবিধানিক ও রিট আইনচর্চা

অনুচ্ছেদ ৪ক নিয়ে আইনি সহায়তা দরকার?

আমাদের আইনজীবীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন, মৌলিক অধিকার ও জনআইন বিষয়ে পরামর্শ দেন।

Message TRW on WhatsApp