অনুচ্ছেদ ৩৭ শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতা
সমাবেশের স্বাধীনতা
শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ নাগরিকদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার অন্যতম প্রধান উপায়, যেমনটি ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দেখিয়েছে। রাষ্ট্র কতদূর পর্যন্ত একে সীমিত করতে পারে, এই অনুচ্ছেদ তার সীমা নির্ধারণ করে।
একদল নাগরিক একটি নীতি পরিবর্তনের দাবিতে সমাবেশ ও মিছিলের সিদ্ধান্ত নেন। শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র থাকলে ৩৭ অনুচ্ছেদ তাঁদের সমবেত হওয়ার ও মিছিল করার অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়। মানববন্ধন, মিছিল ও জনসভা সবই এই সুরক্ষার আওতায় পড়ে।
আয়োজকেরা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৬-এর মতো আইনের অধীনে পুলিশ জনশৃঙ্খলার স্বার্থে সময়, স্থান বা পথের ওপর শর্ত আরোপ করতে পারে। এই শর্তগুলো আনুপাতিক হওয়া উচিত এবং সম্ভব হলে আগেই ঘোষণা করা উচিত।
কর্তৃপক্ষ যদি সমাবেশ নিষিদ্ধ করে, যেমন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারার অধীনে আদেশের মাধ্যমে, তবে বাধানিষেধটি আইনের দ্বারা আরোপিত ও যুক্তিসংগত হতে হবে, এবং জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের ভিত্তিতে যৌক্তিক হতে হবে।
আয়োজকেরা স্বেচ্ছাচারী বা ঢালাও নিষেধাজ্ঞা হাইকোর্ট বিভাগে রিটের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। আদালত দেখেন, বাধানিষেধটি সত্যিই জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজন, নাকি তা নিছক আইনসম্মত প্রতিবাদ দমন করে। আদালত ঘটনা, উল্লিখিত আইন এবং নিষেধাজ্ঞার পরিধি বিবেচনা করেন।
সহজ ভাষায়
অনুচ্ছেদ ৩৭ কীভাবে কাজ করে
৩৭ অনুচ্ছেদ প্রত্যেক নাগরিককে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হওয়ার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়ার অধিকার দেয়। সমাবেশ, বিক্ষোভ, মিছিল ও মানববন্ধন সবই এর আওতায় পড়ে। আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বাধানিষেধের মাধ্যমে এই অধিকার সীমিত করা যায়, তবে কেবল জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে। তাই পুলিশ শোভাযাত্রার সময়, স্থান বা পথ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, এবং মহামারির সময় সমাবেশ সীমিত করা যায়। তবে আইনসম্মত ও যুক্তিসংগত ভিত্তি ছাড়া ঢালাও নিষেধাজ্ঞা এই অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করবে। সমাবেশ সহিংস হলে বা অংশগ্রহণকারীরা অস্ত্র বহন করলে এই সুরক্ষা আর থাকে না।
বাস্তবে
বাস্তবে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা এবং মহানগর পুলিশ আইনের মাধ্যমে সমাবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়, যা কর্তৃপক্ষকে জনশৃঙ্খলার স্বার্থে সমাবেশ সীমিত করার সুযোগ দেয়। রাজনৈতিক সমাবেশ প্রায়ই হয়, এবং স্থান ও পথের অনুমতি নিয়ে বিরোধ সাধারণ ঘটনা। সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলন গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়, এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পদত্যাগ করেন। সেই আন্দোলনের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারের বিষয়, যার মধ্যে প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বরের রায় রয়েছে। আদালত সাধারণত যে কোনো বাধানিষেধের সুস্পষ্ট আইনগত ভিত্তি এবং জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যগত যৌক্তিকতা দাবি করেন।
মূল পাঠ
অনুচ্ছেদ ৩৭-এ যা বলা আছে
৩৭। জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হইবার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় যোগদান করিবার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে।
সরকারি "বাংলাদেশ আইন" ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলা পাঠ, যা সংবিধানের ১৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রামাণ্য। আদালতের রায়ে অবস্থান বদলে গেলে ওপরের অবস্থা-নোটে তা বলা আছে।
সংশ্লিষ্ট বিধান
সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ
প্রশ্নোত্তর
অনুচ্ছেদ ৩৭: সাধারণ প্রশ্নোত্তর
সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদে কী বলা হয়েছে?
৩৭ অনুচ্ছেদ জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বাধানিষেধ সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিককে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হওয়ার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় যোগদানের অধিকার দেয়।
বাংলাদেশে সমাবেশ করতে কি পুলিশের অনুমতি লাগে?
৩৭ অনুচ্ছেদ সমবেত হওয়ার অধিকার রক্ষা করে, তবে মহানগর পুলিশ অধ্যাদেশের মতো আইন পুলিশকে জনশৃঙ্খলার স্বার্থে সমাবেশ ও শোভাযাত্রা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেয়। আয়োজকেরা সাধারণত অবহিত করেন বা অনুমতি চান, এবং বাধানিষেধ অবশ্যই যুক্তিসংগত হতে হবে।
সরকার কি প্রতিবাদ নিষিদ্ধ করতে পারে?
কেবল জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বাধানিষেধের মাধ্যমে, যেমন ১৪৪ ধারার আদেশ। স্বেচ্ছাচারী বা প্রয়োজনের চেয়ে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা হাইকোর্ট বিভাগে চ্যালেঞ্জ করা যায়।
উৎস
- Laws of Bangladesh: The Constitution, Article 37
- বিডিলজ: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৩৭
- Dhaka Tribune: Attorney General on the ICT-1 verdict (17 November 2025)
এই গাইড সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়। ২০২৬ সালে আলোচনাধীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইন হিসেবে পাস না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবিধানিক ও রিট আইনচর্চা
অনুচ্ছেদ ৩৭ নিয়ে আইনি সহায়তা দরকার?
আমাদের আইনজীবীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন, মৌলিক অধিকার ও জনআইন বিষয়ে পরামর্শ দেন।