অনুচ্ছেদ ৫১ আদালতের কার্যধারা থেকে রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি
রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি
এটি রাষ্ট্রপ্রধানের মর্যাদা ও ধারাবাহিকতা রক্ষা করে, আবার নিশ্চিত করে যে নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলো এর পরিবর্তে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে সরকারি কার্যক্রম চ্যালেঞ্জ করতে পারে।
একজন নাগরিক বা একটি প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রপতির নামে জারি করা একটি আদেশে অসন্তুষ্ট, হয়তো একটি নিয়োগ বা আইনি সিদ্ধান্ত। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেন বলে কাজটি আসলে সরকারের সিদ্ধান্ত।
৫১(১) অনুচ্ছেদ সরকারি কাজের জন্য ব্যক্তিগতভাবে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কার্যধারা নিষিদ্ধ করে, কিন্তু সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করার অধিকার স্পষ্টভাবে সংরক্ষণ করে। তাই ব্যক্তিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কর্তৃপক্ষকে পক্ষ করে মামলা করেন, প্রায়ই ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে রিট আবেদন।
রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি কার্যধারা শুরু বা চালু রাখা যায় না, এবং কোনো আদালত গ্রেপ্তার বা কারাবাসের পরোয়ানা জারি করতে পারেন না। এই সুরক্ষা ব্যক্তিগত ও সাময়িক, এবং মেয়াদ শেষ হলে তা শেষ হয়ে যায়।
দায়িত্বরত রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে প্রতিকার সংসদের হাতে। রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালে সাধারণ আদালতের কার্যধারার স্থান নেয় ৫২ অনুচ্ছেদের অধীনে অভিশংসন বা ৫৩ অনুচ্ছেদের অধীনে অসামর্থ্যের কারণে অপসারণ।
সহজ ভাষায়
অনুচ্ছেদ ৫১ কীভাবে কাজ করে
৫১ অনুচ্ছেদ দায়িত্বে থাকাকালে রাষ্ট্রপতিকে আদালতের মামলা থেকে সুরক্ষা দেয়। প্রথমত, পদের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বা দায়িত্ব পালনের দাবিতে করা কোনো কাজের জন্য রাষ্ট্রপতিকে কোনো আদালতে জবাবদিহি করতে হয় না। এতে মানুষ প্রতিকারহীন হয়ে পড়ে না: তাঁরা এখনো সরকারের বিরুদ্ধে কার্যধারা আনতে পারেন। দ্বিতীয়ত, মেয়াদকালে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা শুরু বা চালু রাখা যায় না, এবং কোনো আদালত রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তার বা কারারুদ্ধ করার আদেশ দিতে পারেন না। দায়িত্বরত রাষ্ট্রপতিকে জবাবদিহির আওতায় আনার একমাত্র পথ ৫২ অনুচ্ছেদের অধীনে অভিশংসন অথবা ৫৩ অনুচ্ছেদের অধীনে অসামর্থ্যের কারণে অপসারণ।
বাস্তবে
রাষ্ট্রপতি ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পরামর্শক্রমে কাজ করেন বলে রাষ্ট্রপতির নামে জারি করা আদেশের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ সরকারের বিরুদ্ধে আনা হয়, সাধারণত ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগের রিট এখতিয়ারের মাধ্যমে, যেখানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কর্তৃপক্ষকে পক্ষ করা হয়। (২) দফার ফৌজদারি দায়মুক্তি কার্যকালের মধ্যে সীমাবদ্ধ; এটি দায় মুছে দেয় না, কেবল স্থগিত রাখে। (১) দফা পদের দায়িত্ব পালনে করা বা করা হয়েছে বলে দাবিকৃত কাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, ব্যক্তিগত আচরণের ক্ষেত্রে নয়, যদিও (২) দফা মেয়াদকালে যে কোনো ধরনের ফৌজদারি কার্যধারা নিষিদ্ধ করে।
মূল পাঠ
অনুচ্ছেদ ৫১-এ যা বলা আছে
৫১। (১) এই সংবিধানের ৫২ অনুচ্ছেদের হানি না ঘটাইয়া বিধান করা হইতেছে যে, রাষ্ট্রপতি তাঁহার দায়িত্ব পালন করিতে গিয়া কিংবা অনুরূপ বিবেচনায় কোন কার্য করিয়া থাকিলে বা না করিয়া থাকিলে সেইজন্য তাঁহাকে কোন আদালতে জবাবদিহি করিতে হইবে না, তবে এই দফা সরকারের বিরুদ্ধে কার্যধারা গ্রহণে কোন ব্যক্তির অধিকার ক্ষুন্ন করিবে না।
(২) রাষ্ট্রপতির কার্যভারকালে তাঁহার বিরুদ্ধে কোন আদালতে কোন প্রকার ফৌজদারী কার্যধারা দায়ের করা বা চালু রাখা যাইবে না এবং তাঁহার গ্রেফতার বা কারাবাসের জন্য কোন আদালত হইতে পরোয়ানা জারী করা যাইবে না।
সরকারি "বাংলাদেশ আইন" ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলা পাঠ, যা সংবিধানের ১৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রামাণ্য। আদালতের রায়ে অবস্থান বদলে গেলে ওপরের অবস্থা-নোটে তা বলা আছে।
ইতিহাস
সংশোধনী
- ষষ্ঠ সংশোধনী ১৯৮১ →প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাপিডিয়ার তালিকা অনুসারে তৎকালীন বলবৎ রাষ্ট্রপতি সংক্রান্ত পরিচ্ছেদের ৫১ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়, যাতে উপরাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে রাষ্ট্রপতির পদে কার্যভার গ্রহণের সময় উপরাষ্ট্রপতির পদ শূন্য করেন। সেই পরিচ্ছেদ দ্বাদশ সংশোধনী দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়, এবং বর্তমান ৫১ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি সংক্রান্ত।
- দ্বাদশ সংশোধনী ১৯৯১ →১৯৯১ সালের ২৮ নং আইনের ৩ ধারাবলে পূর্বের ১ম ও ২য় পরিচ্ছেদের স্থলে চতুর্থ ভাগের ১ম, ২য় ও ৩য় পরিচ্ছেদ প্রতিস্থাপিত হয়, যা সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে।
সংশ্লিষ্ট বিধান
সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ
প্রশ্নোত্তর
অনুচ্ছেদ ৫১: সাধারণ প্রশ্নোত্তর
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কি মামলা করা যায়?
সরকারি কাজের জন্য ব্যক্তিগতভাবে নয়। ৫১(১) অনুচ্ছেদ বলে, পদের দায়িত্ব পালনে করা কাজের জন্য রাষ্ট্রপতিকে কোনো আদালতে জবাবদিহি করতে হয় না, তবে যে কেউ এখনো সরকারের বিরুদ্ধে কার্যধারা আনতে পারেন, সাধারণত ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে রিটের মাধ্যমে।
বাংলাদেশে দায়িত্বরত রাষ্ট্রপতিকে কি গ্রেপ্তার করা যায়?
না। ৫১(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কার্যকালে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি কার্যধারা শুরু বা চালু রাখা যায় না, এবং কোনো আদালত গ্রেপ্তার বা কারাবাসের পরোয়ানা জারি করতে পারেন না। রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়লে এই সুরক্ষা শেষ হয়।
উৎস
- Constitution of the People's Republic of Bangladesh, Article 51 (Laws of Bangladesh)
- বিডিলজ: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৫১
এই গাইড সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়। ২০২৬ সালে আলোচনাধীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইন হিসেবে পাস না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবিধানিক ও রিট আইনচর্চা
অনুচ্ছেদ ৫১ নিয়ে আইনি সহায়তা দরকার?
আমাদের আইনজীবীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন, মৌলিক অধিকার ও জনআইন বিষয়ে পরামর্শ দেন।