অনুচ্ছেদ ৫২ সংসদ কর্তৃক রাষ্ট্রপতির অভিশংসন
রাষ্ট্রপতির অভিশংসন
৫১ অনুচ্ছেদ সাধারণ আদালতের মামলা নিষিদ্ধ করায় দায়িত্বরত রাষ্ট্রপতিকে জবাবদিহির আওতায় আনার প্রধান উপায় অভিশংসন। উচ্চ সীমা পদটিকে স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক কারণে অপসারণ থেকে রক্ষা করে।
যেসব সংসদ-সদস্য মনে করেন রাষ্ট্রপতি সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণ করেছেন, তাঁরা অভিযোগের বিবরণসহ একটি প্রস্তাবের নোটিশ প্রস্তুত করেন। এতে মোট সংসদ-সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের স্বাক্ষর থাকতে হবে এবং তা স্পিকারের কাছে দিতে হবে।
সংসদ অধিবেশনরত না থাকলে স্পিকারকে অবিলম্বে তা আহ্বান করতে হয়। নোটিশ দেওয়ার চৌদ্দ দিনের আগে বা ত্রিশ দিনের পরে প্রস্তাবটি আলোচনা করা যায় না, যা প্রস্তুতির সময় দেয় কিন্তু বিলম্বের সুযোগ দেয় না।
সংসদ রাষ্ট্রপতির আচরণ অভিযোগ তদন্তের জন্য নিজের নিযুক্ত বা আখ্যায়িত কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য সংস্থার কাছে পাঠাতে পারে। অভিযোগ বিবেচনার পুরো সময়ে রাষ্ট্রপতির উপস্থিত থাকার ও প্রতিনিধি পাঠানোর অধিকার রয়েছে।
অভিযোগ বিবেচনার পর সংসদ মোট সদস্যের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে অভিযোগ যথার্থ বলে ঘোষণা করে প্রস্তাব গ্রহণ করলে রাষ্ট্রপতি সেদিনই পদ ছেড়ে দেন। এরপর ব্যক্তিটি আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার জন্য স্থায়ীভাবে অযোগ্য হন।
সহজ ভাষায়
অনুচ্ছেদ ৫২ কীভাবে কাজ করে
৫২ অনুচ্ছেদ সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের জন্য সংসদকে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের সুযোগ দেয়। প্রক্রিয়াটি শুরু হয় অভিযোগের বিবরণসহ একটি লিখিত প্রস্তাবের নোটিশ দিয়ে, যা সংসদের মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের স্বাক্ষরে স্পিকারের কাছে দিতে হয়। নোটিশ দেওয়ার ১৪ দিনের আগে বা ৩০ দিনের পরে প্রস্তাবটি আলোচনা করা যায় না। সংসদ অভিযোগটি তদন্তের জন্য কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য সংস্থার কাছে পাঠাতে পারে, এবং রাষ্ট্রপতির উপস্থিত থাকার ও প্রতিনিধি পাঠানোর অধিকার রয়েছে। মোট সংসদ-সদস্যের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ অভিযোগ প্রমাণিত বলে ভোট দিলে রাষ্ট্রপতি সেদিনই পদ ছেড়ে দেন। এভাবে অপসারিত ব্যক্তি আর কখনো রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে পারেন না।
বাস্তবে
সীমাগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে উঁচু রাখা হয়েছে: প্রক্রিয়া শুরু করতে মোট সংসদ-সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ, এবং অপসারণে কেবল উপস্থিতদের নয়, মোট সংসদ-সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশ প্রয়োজন। ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার রাষ্ট্রপতি হিসেবে কাজ করলে প্রক্রিয়ায় স্পিকারের ভূমিকা পালন করেন ডেপুটি স্পিকার। অভিশংসনের জন্য সংসদ বহাল থাকা প্রয়োজন। ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট সংসদ ভেঙে দেওয়া থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচন পর্যন্ত কোনো সংসদ ছিল না, তাই সে সময় রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে জনপরিসরে যত বিতর্কই হোক, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এই পথ খোলা ছিল না।
মূল পাঠ
অনুচ্ছেদ ৫২-এ যা বলা আছে
৫২। (১) এই সংবিধান লংঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসিত করা যাইতে পারিবে; ইহার জন্য সংসদের মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের স্বাক্ষরে অনুরূপ অভিযোগের বিবরণ লিপিবদ্ধ করিয়া একটি প্রস্তাবের নোটিশ স্পীকারের নিকট প্রদান করিতে হইবে; স্পীকারের নিকট অনুরূপ নোটিশ প্রদানের দিন হইতে চৌদ্দ দিনের পূর্বে বা ত্রিশ দিনের পর এই প্রস্তাব আলোচিত হইতে পারিবে না; এবং সংসদ অধিবেশনরত না থাকিলে স্পীকার অবিলম্বে সংসদ আহবান করিবেন।
...
(৪) অভিযোগ-বিবেচনার পর মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে অভিযোগ যথার্থ বলিয়া ঘোষণা করিয়া সংসদ কোন প্রস্তাব গ্রহণ করিলে প্রস্তাব গৃহীত হইবার তারিখে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হইবে।
...
মূল দফাগুলো দেখানো হয়েছে; বাদ দেওয়া অংশ "..." দিয়ে চিহ্নিত। পূর্ণ পাঠ সরকারি ওয়েবসাইটে পড়ুন।
সরকারি "বাংলাদেশ আইন" ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলা পাঠ, যা সংবিধানের ১৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রামাণ্য। আদালতের রায়ে অবস্থান বদলে গেলে ওপরের অবস্থা-নোটে তা বলা আছে।
ইতিহাস
সংশোধনী
- দ্বাদশ সংশোধনী ১৯৯১ →১৯৯১ সালের ২৮ নং আইনের ৩ ধারাবলে পূর্বের ১ম ও ২য় পরিচ্ছেদের স্থলে চতুর্থ ভাগের ১ম, ২য় ও ৩য় পরিচ্ছেদ প্রতিস্থাপিত হয়, যা সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে।
সংশ্লিষ্ট বিধান
সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ
প্রশ্নোত্তর
অনুচ্ছেদ ৫২: সাধারণ প্রশ্নোত্তর
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে কীভাবে অভিশংসিত করা যায়?
সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগের বিবরণসহ মোট সংসদ-সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের স্বাক্ষরে একটি প্রস্তাবের নোটিশ স্পিকারের কাছে দেওয়া হয়। তদন্ত ও শুনানির পর মোট সংসদ-সদস্যের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ অভিযোগ যথার্থ বলে ভোট দিলে রাষ্ট্রপতি অপসারিত হন।
অভিশংসিত রাষ্ট্রপতি কি আবার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন?
না। ৪৮(৪)(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য নন। এই অযোগ্যতা স্থায়ী এবং কত সময় পেরিয়েছে তার ওপর নির্ভর করে না।
উৎস
- Constitution of the People's Republic of Bangladesh, Article 52 (Laws of Bangladesh)
- বিডিলজ: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৫২
- The Financial Express: Interim government formed on SC nod (10 August 2024)
এই গাইড সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়। ২০২৬ সালে আলোচনাধীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইন হিসেবে পাস না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবিধানিক ও রিট আইনচর্চা
অনুচ্ছেদ ৫২ নিয়ে আইনি সহায়তা দরকার?
আমাদের আইনজীবীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন, মৌলিক অধিকার ও জনআইন বিষয়ে পরামর্শ দেন।











