অনুচ্ছেদ ১০১ হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ার
হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ার
কোন বিষয় হাইকোর্ট বিভাগে শুরু হয় এবং কোনটি আপিলে সেখানে পৌঁছায় তা জানলে নাগরিক ও কোম্পানি সঠিক আদালত বেছে নিতে এবং ব্যয়বহুল বিলম্ব এড়াতে পারে।
হাইকোর্ট বিভাগের কিছু ক্ষমতা সরাসরি সংবিধান থেকে আসে। এর মধ্যে রয়েছে ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে রিট এখতিয়ার, ১০৯ অনুচ্ছেদের অধীনে অধস্তন আদালতের ওপর তত্ত্বাবধান, এবং ১১০ অনুচ্ছেদের অধীনে অধস্তন আদালত থেকে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক মামলা প্রত্যাহারের ক্ষমতা।
সংসদ আইনের দ্বারা হাইকোর্ট বিভাগকে আরও এখতিয়ার দিতে পারে। বিভিন্ন আইন কোম্পানি ও নৌ-অধিকরণ বিষয় এবং নির্বাচনী দরখাস্তের মতো নির্দিষ্ট ধরনের মামলা সরাসরি বিভাগটিতে পাঠায়, এবং অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনাল থেকে আপিল ও রিভিশনের বিধান করে।
জেলা আদালত বা দায়রা আদালতে হেরে যাওয়া পক্ষ প্রায়ই হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে বা সিদ্ধান্তটি রিভিশনের আবেদন করতে পারেন। দায়রা আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে বিভাগটি তা অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানও করে।
যেসব বিষয়ে কোনো আইন বিভাগটিকে আদি এখতিয়ার দেয়, সেখানে মামলা অধস্তন আদালতে নয়, এখানেই শুরু হয়। একজন একক বিচারক বা একটি বেঞ্চ সাক্ষ্য ও যুক্তি শোনেন, এবং তাঁদের সিদ্ধান্ত পরে ১০৩ অনুচ্ছেদের অধীনে আপিল বিভাগে নেওয়া যায়।
সহজ ভাষায়
অনুচ্ছেদ ১০১ কীভাবে কাজ করে
১০১ অনুচ্ছেদ একটি সংক্ষিপ্ত প্রবেশদ্বারমূলক বিধান। এটি বলে, সংবিধান বা অন্য কোনো আইন হাইকোর্ট বিভাগকে যে আদি, আপিল ও অন্যান্য ক্ষমতা দেয়, এই বিভাগের সেই ক্ষমতা থাকবে। কিছু ক্ষমতা সরাসরি সংবিধান থেকে আসে, যেমন ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে রিট এখতিয়ার, ১০৯ অনুচ্ছেদের অধীনে অধস্তন আদালতের তত্ত্বাবধান এবং ১১০ অনুচ্ছেদের অধীনে মামলা স্থানান্তরের ক্ষমতা। আরও অনেক ক্ষমতা আসে সংসদের পাস করা সাধারণ আইন থেকে, যা নির্দিষ্ট কিছু মামলা সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে পাঠায় অথবা জেলা আদালত ও ট্রাইব্যুনাল থেকে আপিল ও রিভিশনের সুযোগ দেয়। তাই সংসদ আইনের দ্বারা বিভাগটির কাজ বাড়াতে বা সমন্বয় করতে পারে, কিন্তু সংবিধান নিজে যে ক্ষমতা দেয় তা কেড়ে নিতে পারে না।
বাস্তবে
১০১ অনুচ্ছেদ নিজে কদাচিৎ মামলার বিষয় হয়, তবে এটি ব্যাখ্যা করে কেন হাইকোর্ট বিভাগ এত বৈচিত্র্যময় কাজ করে। সাংবিধানিক রিট এখতিয়ারের পাশাপাশি বিভিন্ন আইন একে কোম্পানি, নৌ-অধিকরণ ও সংসদ নির্বাচনী দরখাস্তের মতো বিষয়ে আদি এখতিয়ার, এবং দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালতের ওপর আপিল ও রিভিশনাল এখতিয়ার দেয়। দায়রা জজদের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য এখানে আসে। এসব ক্ষমতা সংবিধান বা অন্য আইনের ওপর নির্ভরশীল বলে বিভাগটি নিজের জন্য নতুন এখতিয়ার সৃষ্টি করতে পারে না, এবং কোনো আইন যথাযথভাবে এখতিয়ার দিয়েছে বা বাদ দিয়েছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক বাস্তবে সাধারণ ব্যাপার।
মূল পাঠ
অনুচ্ছেদ ১০১-এ যা বলা আছে
[১০১। এই সংবিধান বা অন্য কোন আইনের দ্বারা হাইকোর্ট বিভাগের উপর যেরূপ আদি, আপীল ও অন্যপ্রকার এখতিয়ার ও ক্ষমতা অর্পিত হইয়াছে, উক্ত বিভাগের সেইরূপ এখতিয়ার ও ক্ষমতা থাকিবে।]
সরকারি "বাংলাদেশ আইন" ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলা পাঠ, যা সংবিধানের ১৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রামাণ্য। আদালতের রায়ে অবস্থান বদলে গেলে ওপরের অবস্থা-নোটে তা বলা আছে।
ইতিহাস
সংশোধনী
- পঞ্চদশ সংশোধনী ২০১১ →বিডিলজে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১-এর ৩১ ধারাবলে ষষ্ঠ ভাগের ১ম পরিচ্ছেদ (৯৪ থেকে ১১৩ অনুচ্ছেদ) প্রতিস্থাপিত হয়।
সংশ্লিষ্ট বিধান
সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ
প্রশ্নোত্তর
অনুচ্ছেদ ১০১: সাধারণ প্রশ্নোত্তর
হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ার কী?
১০১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধান বা অন্য কোনো আইন হাইকোর্ট বিভাগকে যে আদি, আপিল ও অন্যান্য এখতিয়ার ও ক্ষমতা দেয়, এই বিভাগের তা রয়েছে। এর মধ্যে আছে ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে রিট এখতিয়ার, অধস্তন আদালতের তত্ত্বাবধান, আপিল ও রিভিশন, মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের মামলা (ডেথ রেফারেন্স), এবং কোম্পানি ও নৌ-অধিকরণ মামলার মতো আদি বিষয়।
সংসদ কি হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা পরিবর্তন করতে পারে?
সংসদ সাধারণ আইনের দ্বারা হাইকোর্ট বিভাগের এখতিয়ার বাড়াতে পারে, যেমন নতুন ধরনের মামলা সেখানে পাঠিয়ে। কিন্তু সংবিধান সংশোধন ছাড়া সংবিধান নিজে যে ক্ষমতা দেয়, যেমন ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে রিট এখতিয়ার, তা বিলোপ করতে পারে না, এবং এমন সংশোধনীও মৌলিক কাঠামোর পর্যালোচনার অধীন থাকে।
উৎস
- Laws of Bangladesh: Constitution, Article 101 (bdlaws section page)
- বিডিলজ: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০১
এই গাইড সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়। ২০২৬ সালে আলোচনাধীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইন হিসেবে পাস না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবিধানিক ও রিট আইনচর্চা
অনুচ্ছেদ ১০১ নিয়ে আইনি সহায়তা দরকার?
আমাদের আইনজীবীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন, মৌলিক অধিকার ও জনআইন বিষয়ে পরামর্শ দেন।