অনুচ্ছেদ ২০: অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

বলবৎরাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি

অনুচ্ছেদ ২০ অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম

অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম

ন্যায্য মজুরি, বেকারত্ব ও অনুপার্জিত সম্পদ বিষয়ক বিতর্কের কাঠামো ২০ অনুচ্ছেদ নির্ধারণ করে। প্রস্তাবিত সংস্কার একে দুর্নীতি দমন এবং সরকারি পদের অপব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত করবে।

অনুচ্ছেদ ২০ — অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম
বলবৎ

বলবৎ। জুলাই জাতীয় সনদ (২) দফা এমনভাবে সংশোধনের প্রস্তাব করেছে যাতে কেউ ব্যক্তিগত লাভের জন্য সাংবিধানিক বা আইনগত ক্ষমতার অপব্যবহার করতে না পারে; প্রতিবেদন অনুযায়ী অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত কোনো সংশোধনী প্রণীত হয়নি।

কর্মীচাকরিপ্রার্থী
BANK৳মজুরিনিয়োগকর্তা
%৳কর কার্যালয়অনুপার্জিত আয়
YESNOজুলাই সনদদুর্নীতি দমন
1 / 4
  1. ২০(১) অনুচ্ছেদ বলে যে কর্মক্ষম প্রত্যেক নাগরিকের জন্য কর্ম একটি অধিকার, কর্তব্য ও সম্মানের বিষয়। চাকরিপ্রার্থী একজন তরুণ স্নাতক এবং মাঠে কাজ করা একজন কৃষক, উভয়েই এই নীতির আওতায় পড়েন।

  2. অনুচ্ছেদটি ‘প্রত্যেকের নিকট হইতে যোগ্যতানুসারে ও প্রত্যেককে কর্মানুযায়ী’ নীতি গ্রহণ করে। এটি মজুরি আইন এবং মানুষ প্রকৃতপক্ষে যে কাজ করেন তার জন্য ন্যায্য পারিশ্রমিক পাওয়ার ধারণাকে সমর্থন করে।

  3. ২০(২) অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রকে এমন অবস্থা সৃষ্টি করতে বলে যেখানে সাধারণভাবে মানুষ অনুপার্জিত আয় ভোগ করতে পারবেন না। কর নীতি এবং অবৈধ সম্পদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ এই লক্ষ্য অনুসরণের উপায়। নীতিটি একটি নির্দিষ্ট বিধি নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য।

  4. জুলাই জাতীয় সনদ ২০(২) অনুচ্ছেদ এমনভাবে সংশোধনের প্রস্তাব করে যাতে রাষ্ট্র নিশ্চিত করে যে কেউ ব্যক্তিগত লাভের জন্য সাংবিধানিক বা আইনগত ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারবেন না। অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত এটি একটি অনিষ্পন্ন প্রস্তাব ছিল। এটি ২০ অনুচ্ছেদকে দুর্নীতিবিরোধী প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত করবে।

সহজ ভাষায়

অনুচ্ছেদ ২০ কীভাবে কাজ করে

২০ অনুচ্ছেদ কর্মক্ষম প্রত্যেক নাগরিকের জন্য কর্মকে অধিকার, কর্তব্য ও সম্মানের বিষয় হিসেবে গণ্য করে। এতে ‘প্রত্যেকের নিকট হইতে যোগ্যতানুসারে ও প্রত্যেককে কর্মানুযায়ী’ নীতি ঘোষিত হয়েছে, অর্থাৎ মানুষ যে কাজ করেন তার জন্য পারিশ্রমিক পাবেন। (২) দফা রাষ্ট্রকে এমন অবস্থা সৃষ্টি করতে বলে যেখানে সাধারণ নিয়ম হিসেবে কেউ অনুপার্জিত আয় ভোগ করতে পারবেন না, এবং মানসিক বা কায়িক সকল প্রকার শ্রম সৃজনশীলতা ও ব্যক্তিত্বের পূর্ণতর অভিব্যক্তিতে পরিণত হবে। এটি একটি অবলবৎযোগ্য নীতি। ২০২৫ সালের সংস্কার প্রস্তাবে ব্যক্তিগত লাভের জন্য ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে একটি অঙ্গীকার যোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বাস্তবে

২০ অনুচ্ছেদ সরাসরি বলবৎযোগ্য নয়। শ্রম আইন, কর নীতি এবং বেকারত্ব ও অবৈধ সম্পদ নিয়ে জনপরিসরের আলোচনায় এর বিষয়বস্তু দেখা যায়। ২০২৪ সালের পর জুলাই জাতীয় সনদ ব্যক্তিগত লাভের জন্য সাংবিধানিক বা আইনগত ক্ষমতার অপব্যবহার রোধের লক্ষ্যে (২) দফা সংশোধনের প্রস্তাব করে। ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে ভোটাররা সনদের প্রস্তাবগুচ্ছ সমর্থন করেন, তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত কোনো সংশোধনী প্রণীত হয়নি।

মূল পাঠ

অনুচ্ছেদ ২০-এ যা বলা আছে

২০৷ (১) কর্ম হইতেছে কর্মক্ষম প্রত্যেক নাগরিকের পক্ষে অধিকার, কর্তব্য ও সম্মানের বিষয়, এবং “প্রত্যেকের নিকট হইতে যোগ্যতানুসারে ও প্রত্যেককে কর্মানুযায়ী”-এই নীতির ভিত্তিতে প্রত্যেকে স্বীয় কর্মের জন্য পারিশ্রমিক লাভ করিবেন৷

(২) রাষ্ট্র এমন অবস্থাসৃষ্টির চেষ্টা করিবেন, যেখানে সাধারণ নীতি হিসাবে কোন ব্যক্তি অনুপার্জিত আয় ভোগ করিতে সমর্থ হইবেন না এবং যেখানে বুদ্ধিবৃত্তিমূলক ও কায়িক-সকল প্রকার শ্র্রম সৃষ্টিধর্মী প্রয়াসের ও মানবিক ব্যক্তিত্বের পূর্ণতর অভিব্যক্তিতে পরিণত হইবে৷

সরকারি "বাংলাদেশ আইন" ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলা পাঠ, যা সংবিধানের ১৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রামাণ্য। আদালতের রায়ে অবস্থান বদলে গেলে ওপরের অবস্থা-নোটে তা বলা আছে।

সংশ্লিষ্ট বিধান

সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ

প্রশ্নোত্তর

অনুচ্ছেদ ২০: সাধারণ প্রশ্নোত্তর

বাংলাদেশের সংবিধানের ২০ অনুচ্ছেদ কী?

২০ অনুচ্ছেদ বলে যে কর্মক্ষম প্রত্যেক নাগরিকের জন্য কর্ম একটি অধিকার, কর্তব্য ও সম্মানের বিষয়, যেখানে কৃত কাজের ভিত্তিতে পারিশ্রমিক দেওয়া হবে, এবং রাষ্ট্রকে এমন অবস্থা সৃষ্টি করতে বলে যেখানে মানুষ অনুপার্জিত আয় ভোগ করতে পারবেন না।

২০ অনুচ্ছেদ কি চাকরির নিশ্চয়তা দেয়?

না। ২০ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্র পরিচালনার একটি নীতি এবং ৮(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য নয়। এটি কর্মসংস্থান ও মজুরি নীতিকে পথ দেখায়, তবে কেবল ২০ অনুচ্ছেদের ওপর নির্ভর করে কেউ চাকরির জন্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন না।

উৎস

এই গাইড সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়। ২০২৬ সালে আলোচনাধীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইন হিসেবে পাস না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবিধানিক ও রিট আইনচর্চা

অনুচ্ছেদ ২০ নিয়ে আইনি সহায়তা দরকার?

আমাদের আইনজীবীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন, মৌলিক অধিকার ও জনআইন বিষয়ে পরামর্শ দেন।

Message TRW on WhatsApp