অনুচ্ছেদ ২১ নাগরিক ও সরকারি কর্মচারীদের কর্তব্য
নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য
কর্মকর্তারা জনগণের পরিবর্তে নিজের বা কোনো দলের স্বার্থে কাজ করলে প্রায়ই ২১(২) অনুচ্ছেদের উল্লেখ করা হয়। এটি প্রশাসন ও পুলিশকে মনে করিয়ে দেয় যে তাদের ভূমিকা নাগরিকদের সেবা করা।
২১(১) অনুচ্ছেদ বলে যে নাগরিকদের সংবিধান ও আইন মান্য করতে, শৃঙ্খলা রক্ষা করতে, নাগরিক দায়িত্ব পালন করতে এবং জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করতে হবে। অস্থিরতার সময় সরকারি বাস বা ভবনের ক্ষতি করা এই কর্তব্যের পরিপন্থী, এবং সাধারণ আইনেও অপরাধ।
২১(২) অনুচ্ছেদ বলে যে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকে সকল সময়ে জনগণের সেবা করার চেষ্টা করতে হবে। ভূমি অফিসের একজন কেরানি বা একজন পুলিশ কর্মকর্তার কাছে ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থে নয়, জনগণের পক্ষে কাজ করার প্রত্যাশা করা হয়।
কর্মকর্তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করলে আদালত ও পর্যবেক্ষকরা প্রায়ই সাংবিধানিক মানদণ্ড হিসেবে ২১(২) অনুচ্ছেদের দিকে ইঙ্গিত করেন। অসদাচরণের প্রকৃত শাস্তির ব্যবস্থা করে শৃঙ্খলা বিধিমালা ও ফৌজদারি আইন। নাগরিকেরা দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগও করতে পারেন বা রিট চাইতে পারেন।
সহজ ভাষায়
অনুচ্ছেদ ২১ কীভাবে কাজ করে
২১ অনুচ্ছেদ অধিকার নয়, কর্তব্য নির্ধারণ করে। (১) দফা বলে যে সংবিধান ও আইন মান্য করা, শৃঙ্খলা রক্ষা করা, নাগরিক দায়িত্ব পালন করা এবং জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য। (২) দফা বলে যে সকল সময়ে জনগণের সেবা করার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য। এর মধ্যে সরকারি কর্মচারী, পুলিশ কর্মকর্তা এবং অন্যান্য সরকারি চাকরির সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত। এই কর্তব্যগুলো দ্বিতীয় ভাগের অংশ, তাই আদালতে সরাসরি বলবৎযোগ্য নয়। তবে কর্মকর্তাদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত তার মানদণ্ড এগুলো নির্ধারণ করে, এবং সরকারি পদের অপব্যবহারের সমালোচনায় আদালত কখনো কখনো (২) দফার উল্লেখ করে।
বাস্তবে
জনসেবার মূল্যবোধের সাংবিধানিক অভিব্যক্তি হিসেবে রায় ও জনপরিসরের আলোচনায় ২১ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করা হয়, বিশেষত পুলিশ ও সরকারি কর্মচারীদের দলীয় আচরণের অভিযোগের পর। এটি এককভাবে মামলার কারণ সৃষ্টি করে না। চাকরি বিধিমালা, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং ফৌজদারি আইনের মাধ্যমে শৃঙ্খলা বলবৎ করা হয়, এবং নাগরিকেরা তৃতীয় ভাগ ও ১০২ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে নিজেদের অধিকার বলবৎ করেন।
মূল পাঠ
অনুচ্ছেদ ২১-এ যা বলা আছে
২১৷ (১) সংবিধান ও আইন মান্য করা, শৃঙ্খলা রক্ষা করা, নাগরিকদায়িত্ব পালন করা এবং জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য৷
(২) সকল সময়ে জনগণের সেবা করিবার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য৷
সরকারি "বাংলাদেশ আইন" ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলা পাঠ, যা সংবিধানের ১৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রামাণ্য। আদালতের রায়ে অবস্থান বদলে গেলে ওপরের অবস্থা-নোটে তা বলা আছে।
সংশ্লিষ্ট বিধান
সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ
প্রশ্নোত্তর
অনুচ্ছেদ ২১: সাধারণ প্রশ্নোত্তর
বাংলাদেশের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ কী?
২১ অনুচ্ছেদ বলে যে সংবিধান ও আইন মান্য করা, শৃঙ্খলা রক্ষা করা, নাগরিক দায়িত্ব পালন করা এবং জাতীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য, এবং সকল সময়ে জনগণের সেবা করার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য।
২১ অনুচ্ছেদের অধীনে কি কোনো সরকারি কর্মচারীকে শাস্তি দেওয়া যায়?
সরাসরি নয়। ২১ অনুচ্ছেদ দ্বিতীয় ভাগে রয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য নয়। সরকারি কর্মচারীদের অসদাচরণ চাকরি ও শৃঙ্খলা বিধিমালা, দুর্নীতি দমন আইন এবং ফৌজদারি আইনের অধীনে নিষ্পত্তি হয়, আর ২১(২) অনুচ্ছেদ সেই সাংবিধানিক মানদণ্ড নির্ধারণ করে যা তাঁদের পূরণ করার কথা।
উৎস
- bdlaws: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ২১
- bdlaws: The Constitution of the People's Republic of Bangladesh, Article 21
এই গাইড সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়। ২০২৬ সালে আলোচনাধীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইন হিসেবে পাস না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবিধানিক ও রিট আইনচর্চা
অনুচ্ছেদ ২১ নিয়ে আইনি সহায়তা দরকার?
আমাদের আইনজীবীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন, মৌলিক অধিকার ও জনআইন বিষয়ে পরামর্শ দেন।