অনুচ্ছেদ ২৯ সরকারি চাকরিতে সুযোগের সমতা
সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা
বাংলাদেশে সরকারি চাকরি সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত পেশাগুলোর একটি, এবং ২৯ অনুচ্ছেদ কোটার আইনি সীমা নির্ধারণ করে। ২০২৪ সালের কোটা বিরোধ দেখিয়েছে, এটি জাতীয় ঘটনাপ্রবাহকে কতটা সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে।
সরকারি কর্ম কমিশন ক্যাডার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়। ২৯(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের প্রতিযোগিতা করার সমান সুযোগ থাকতে হবে, যা সব আবেদনকারীর জন্য সমভাবে প্রযোজ্য নিয়মে বিচার করা হবে। বাছাই অবশ্যই প্রত্যেক প্রার্থীর জন্য ন্যায্য, উন্মুক্ত ও অভিন্ন নিয়মের ওপর ভিত্তি করে হতে হবে।
প্রত্যেক জেলা, ধর্ম ও পটভূমির আবেদনকারীরা পরীক্ষায় অংশ নেন। ২৯(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কাউকে সরকারি চাকরি থেকে বাদ দেওয়া বা অসুবিধায় ফেলা যায় না। সবার উত্তরপত্র একই মানদণ্ডে মূল্যায়ন করা হয়।
(৩) দফা নাগরিকদের অনগ্রসর অংশের উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে বিশেষ বিধানের সুযোগ দেয়। কোটাকে এই উদ্দেশ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হতে হবে। অতিরিক্ত বা অযৌক্তিক সংরক্ষণ সুযোগের সমতার নিশ্চয়তাকে ব্যর্থ করে বলে চ্যালেঞ্জ করা যায়। কোনো কোটা তার ঘোষিত উদ্দেশ্যের সঙ্গে আনুপাতিক কি না, আদালত তা বিবেচনা করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আপিল বিভাগ নির্দেশ দেন যে সিভিল সার্ভিসের ৯৩ শতাংশ পদ মেধার ভিত্তিতে পূরণ করা হবে, আর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিকদের জন্য থাকবে ছোট কোটা।
সহজ ভাষায়
অনুচ্ছেদ ২৯ কীভাবে কাজ করে
২৯ অনুচ্ছেদ প্রত্যেক নাগরিককে সিভিল সার্ভিসের মতো প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ ও পদলাভের সমান সুযোগের নিশ্চয়তা দেয়। কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিককে সরকারি চাকরির অযোগ্য ঘোষণা করা বা তাঁর প্রতি বৈষম্য করা যায় না। অনুচ্ছেদটিতে তিনটি ব্যতিক্রম রয়েছে। নাগরিকদের কোনো অনগ্রসর অংশ যাতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব পায়, সেজন্য রাষ্ট্র বিশেষ বিধান করতে পারে। আইন দ্বারা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পদ সংশ্লিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের জন্য সংরক্ষণ করা যায়। আর কাজের প্রকৃতির কারণে অন্য লিঙ্গের জন্য অনুপযোগী বিবেচিত হলে কিছু পদ এক লিঙ্গের জন্য সংরক্ষণ করা যায়। নিয়োগে কোটা এসব নিয়মের আলোকেই বিচার করা হয়।
বাস্তবে
২০২৪ সালের কোটা বিরোধের কেন্দ্রে ছিল ২৯ অনুচ্ছেদ। হাইকোর্ট বিভাগ ২০১৮ সালের আগের কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহাল করার পর দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২১ জুলাই আপিল বিভাগ সেই রায় বাতিল করেন এবং নির্দেশ দেন যে সিভিল সার্ভিসে নিয়োগের ৯৩ শতাংশ মেধাভিত্তিক হবে, ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের সন্তানদের জন্য, ১ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য এবং ১ শতাংশ প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিকদের জন্য। এই আন্দোলন ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। সাধারণ মামলায় আদালত নিয়োগবিধি, পদোন্নতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া পর্যালোচনায় ২৯ অনুচ্ছেদকে ২৭ অনুচ্ছেদের সঙ্গে প্রয়োগ করেন।
মূল পাঠ
অনুচ্ছেদ ২৯-এ যা বলা আছে
২৯। (১) প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকিবে।
(২) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের অযোগ্য হইবেন না কিংবা সেই ক্ষেত্রে তাঁহার প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাইবে না।
(৩) এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই-
(ক) নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশ যাহাতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব লাভ করিতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে তাঁহাদের অনুকূলে বিশেষ বিধান-প্রণয়ন করা হইতে,
(খ) কোন ধর্মীয় বা উপ-সম্প্রদায়ভুক্ত প্রতিষ্ঠানে উক্ত ধর্মাবলম্বী বা উপ-সম্প্রদায়ভুক্ত ব্যক্তিদের জন্য নিয়োগ সংরক্ষণের বিধান-সংবলিত যে কোন আইন কার্যকর করা হইতে,
(গ) যে শ্রেণীর কর্মের বিশেষ প্রকৃতির জন্য তাহা নারী বা পুরুষের পক্ষে অনুপযোগী বিবেচিত হয়, সেইরূপ যে কোন শ্রেণীর নিয়োগ বা পদ যথাক্রমে পুরুষ বা নারীর জন্য সংরক্ষণ করা হইতে
রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।
সরকারি "বাংলাদেশ আইন" ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলা পাঠ, যা সংবিধানের ১৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রামাণ্য। আদালতের রায়ে অবস্থান বদলে গেলে ওপরের অবস্থা-নোটে তা বলা আছে।
গুরুত্বপূর্ণ মামলা
আদালত যেভাবে ব্যাখ্যা করেছে
আপিল বিভাগ · ২০২৪
Civil service quota appeal (Government of Bangladesh v writ petitioners)
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২১ জুলাই পুরোনো কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালকারী হাইকোর্ট বিভাগের রায় বাতিল করা হয় এবং ৯৩ শতাংশ মেধাভিত্তিক নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়, যেখানে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য, ১ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য এবং ১ শতাংশ প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য।
মামলার সংক্ষিপ্তসার কেবল ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি রায়ের বিকল্প নয়।
সংশ্লিষ্ট বিধান
সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ
প্রশ্নোত্তর
অনুচ্ছেদ ২৯: সাধারণ প্রশ্নোত্তর
সংবিধানের ২৯ অনুচ্ছেদে কী বলা হয়েছে?
২৯ অনুচ্ছেদ সকল নাগরিককে সরকারি চাকরিতে সুযোগের সমতার নিশ্চয়তা দেয়। এটি কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে সরকারি চাকরিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ করে, তবে অনগ্রসর অংশের জন্য বিশেষ বিধান এবং কিছু সংরক্ষণের সুযোগ দেয়।
বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা কি সাংবিধানিক?
২৯(৩)(ক) অনুচ্ছেদ নাগরিকদের অনগ্রসর অংশের উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে বিশেষ বিধানের সুযোগ দেয়, তাই কোটা বৈধ হতে পারে। তবে কোটাকে সেই উদ্দেশ্য পূরণ করতে হবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আপিল বিভাগ ছোট কোটাসহ ৯৩ শতাংশ মেধাভিত্তিক ব্যবস্থার নির্দেশ দেন।
২০২৪ সালে কোটা নিয়ে আপিল বিভাগ কী সিদ্ধান্ত দেন?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২১ জুলাই আপিল বিভাগ পুরোনো কোটা পুনর্বহালকারী হাইকোর্ট বিভাগের রায় বাতিল করেন এবং ৯৩ শতাংশ মেধাভিত্তিক নিয়োগের নির্দেশ দেন, যেখানে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য, ১ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য এবং ১ শতাংশ প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য।
উৎস
- Laws of Bangladesh: The Constitution, Article 29
- বিডিলজ: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ২৯
- The Daily Star editorial: A timely verdict (24 July 2024)
এই গাইড সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়। ২০২৬ সালে আলোচনাধীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইন হিসেবে পাস না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবিধানিক ও রিট আইনচর্চা
অনুচ্ছেদ ২৯ নিয়ে আইনি সহায়তা দরকার?
আমাদের আইনজীবীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন, মৌলিক অধিকার ও জনআইন বিষয়ে পরামর্শ দেন।