অনুচ্ছেদ ৬১: প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগের সর্বাধিনায়কতা

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

বলবৎনির্বাহী বিভাগ৪র্থ পরিচ্ছেদ: প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ

অনুচ্ছেদ ৬১ প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগের সর্বাধিনায়কতা

সর্বাধিনায়কতা

সামরিক বাহিনীর উপর বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ সাংবিধানিক গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি ভিত্তি, যার উপর বিনিয়োগকারী ও নাগরিক উভয়ই নির্ভর করেন।

অনুচ্ছেদ ৬১ — প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগের সর্বাধিনায়কতা
বলবৎ

পঞ্চদশ সংশোধনী ২০১১-এর ২২ ধারাবলে প্রতিস্থাপিত পাঠ। প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৪ ও ২০২৬ সালের রায়ে ২০ ও ২১ ধারা বাতিল হয়েছে, ২২ ধারা নয়, তাই তত্ত্বাবধায়ক মেয়াদে সর্বাধিনায়কতা সংক্রান্ত ১৯৯৬ সালের বিধানটি পুনর্বহাল হিসেবে দেখানো হয়নি; পর্যালোচিত প্রতিবেদনগুলোতে এই পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়টি আলোচিত হয়নি।

রাষ্ট্রপতিসশস্ত্র বাহিনী
সংসদবাহিনী আইন
প্রধানমন্ত্রীপ্রতিরক্ষা নীতি
সেনাবাহিনীনৌ ও বিমানবাহিনী
1 / 4
  1. সংবিধান প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগের সর্বাধিনায়কতা রাষ্ট্রপতির উপর ন্যস্ত করে। আনুষ্ঠানিক ও আইনগতভাবে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী কোনো বাহিনীপ্রধান বা রাজনৈতিক ব্যক্তির নয়, বরং সর্বাধিনায়ক হিসেবে রাষ্ট্রপ্রধানের অধীন।

  2. সর্বাধিনায়কতার প্রয়োগ আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, যেমন প্রতিটি বাহিনী পরিচালনাকারী আইন এবং ৬২ অনুচ্ছেদের অধীনে সংসদ প্রণীত আইন। এতে স্বেচ্ছাচারীভাবে বা সাংবিধানিক কাঠামোর বাইরে সর্বাধিনায়কতা প্রয়োগ রোধ হয়।

  3. ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয় বলে প্রতিরক্ষা নীতি ও উচ্চপর্যায়ের সামরিক সিদ্ধান্ত মূলত নির্বাচিত সরকারই নেয়, যা সশস্ত্র বাহিনীকে বেসামরিক, সাংবিধানিক নিয়ন্ত্রণে রাখে।

  4. জাতীয় প্রতিরক্ষা, দুর্যোগে ত্রাণ, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা, কিংবা আইনানুগভাবে আহ্বান করা হলে শৃঙ্খলা রক্ষায় বেসামরিক কর্তৃপক্ষকে সহায়তা, সব ক্ষেত্রেই প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ এই সাংবিধানিক কমান্ড কাঠামোর অধীনে কাজ করে।

সহজ ভাষায়

অনুচ্ছেদ ৬১ কীভাবে কাজ করে

৬১ অনুচ্ছেদ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সর্বাধিনায়কতা রাষ্ট্রপতির উপর ন্যস্ত করে। এই সর্বাধিনায়কতা কীভাবে প্রয়োগ হবে, তা আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে হয়। ৪৮(৩) অনুচ্ছেদের অধীনে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেন বলে সশস্ত্র বাহিনী সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবে নির্বাচিত সরকারই নেয়, আর রাষ্ট্রপতি প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগের আনুষ্ঠানিক প্রধান থাকেন। এতে সশস্ত্র বাহিনী বেসামরিক, সাংবিধানিক কর্তৃত্বের অধীনে থাকে। ২০১১ সালের আগে এই অনুচ্ছেদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সেই আইনের সরাসরি নিয়ন্ত্রণও রাষ্ট্রপতিকে দিত; পঞ্চদশ সংশোধনী সেই অংশ বাদ দেয়।

বাস্তবে

রাষ্ট্রপতির সর্বাধিনায়কতা আনুষ্ঠানিক; কার্যক্রম ও নীতিগত সিদ্ধান্ত সরকারের পরামর্শ অনুযায়ী হয়। সংবিধান (ত্রয়োদশ সংশোধন) আইন, ১৯৯৬ যুক্ত করে যে তত্ত্বাবধায়ক মেয়াদে সর্বাধিনায়কতা নিয়ন্ত্রণকারী আইন রাষ্ট্রপতি কর্তৃক পরিচালিত হবে। সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ সেই অংশ বাদ দিয়ে অনুচ্ছেদটি প্রতিস্থাপন করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হাইকোর্ট বিভাগ এবং ২০২৬ সালের জুলাইয়ে আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বিলোপকারী ২০ ও ২১ ধারা বাতিল করে, কিন্তু এই অনুচ্ছেদ প্রতিস্থাপনকারী ২২ ধারা বাতিল করেনি। ভবিষ্যৎ তত্ত্বাবধায়ক মেয়াদে পুনরুজ্জীবিত ৫৮ঙ অনুচ্ছেদ ও ৬১ অনুচ্ছেদের পারস্পরিক সম্পর্ক সংসদ বা আদালতকে নিষ্পত্তি করতে হতে পারে।

মূল পাঠ

অনুচ্ছেদ ৬১-এ যা বলা আছে

[৬১। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগসমূহের সর্বাধিনায়কতা রাষ্ট্রপতির উপর ন্যস্ত হইবে এবং আইনের দ্বারা তাহার প্রয়োগ নিয়ন্ত্রিত হইবে]

সরকারি "বাংলাদেশ আইন" ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলা পাঠ, যা সংবিধানের ১৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রামাণ্য। আদালতের রায়ে অবস্থান বদলে গেলে ওপরের অবস্থা-নোটে তা বলা আছে।

ইতিহাস

সংশোধনী

সংশ্লিষ্ট বিধান

সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ

প্রশ্নোত্তর

অনুচ্ছেদ ৬১: সাধারণ প্রশ্নোত্তর

বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক কে?

রাষ্ট্রপতি। ৬১ অনুচ্ছেদ প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগের সর্বাধিনায়কতা রাষ্ট্রপতির উপর ন্যস্ত করে, এবং এর প্রয়োগ আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বাস্তবে ৪৮(৩) অনুচ্ছেদের অধীনে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কি রাষ্ট্রপতি সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ করেন?

২০১১ সালের আগে ৬১ অনুচ্ছেদে বলা ছিল যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সর্বাধিনায়কতা নিয়ন্ত্রণকারী আইন রাষ্ট্রপতি পরিচালনা করবেন। ২০১১ সালে সেই অংশ বাদ দেওয়া হয় এবং এটি পুনর্বহাল হয়েছে বলে কোনো প্রতিবেদন নেই, যদিও পুনরুজ্জীবিত ৫৮ঙ অনুচ্ছেদ তত্ত্বাবধায়ক মেয়াদে পরামর্শের বিধান অকার্যকর করে।

উৎস

এই গাইড সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়। ২০২৬ সালে আলোচনাধীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইন হিসেবে পাস না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবিধানিক ও রিট আইনচর্চা

অনুচ্ছেদ ৬১ নিয়ে আইনি সহায়তা দরকার?

আমাদের আইনজীবীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন, মৌলিক অধিকার ও জনআইন বিষয়ে পরামর্শ দেন।

Message TRW on WhatsApp