অনুচ্ছেদ ৬৭: সংসদ-সদস্য কখন আসন হারান

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

বলবৎআইনসভা১ম পরিচ্ছেদ: সংসদ

অনুচ্ছেদ ৬৭ সংসদ-সদস্য কখন আসন হারান

সদস্যদের আসন শূন্য হওয়া

এই বিধানগুলো নির্বাচনী এলাকার জনগণকে জানায় কখন তাঁদের সংসদ-সদস্য আর তাঁদের প্রতিনিধিত্ব করেন না এবং উপনির্বাচন হতে পারে। গণপদত্যাগ বা দীর্ঘ বর্জন কেন সংসদের গঠন বদলে দিতে পারে, তাও এগুলো ব্যাখ্যা করে।

অনুচ্ছেদ ৬৭ — সংসদ-সদস্য কখন আসন হারান
নতুন সংসদ-সদস্য৯০ দিন
উপস্থিতিবৈঠক-দিবস
পদত্যাগপত্রস্পীকার
BALLOTশূন্য আসনউপনির্বাচন
1 / 4
  1. নবনির্বাচিত সংসদ-সদস্যকে সংসদের প্রথম বৈঠকের ৯০ দিনের মধ্যে তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত শপথ বা ঘোষণা গ্রহণ করতে হয়। সদস্য তা না পারলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে স্পীকার যথার্থ কারণে তা বাড়াতে পারেন; অন্যথায় আসন শূন্য হয়।

  2. সংসদ সচিবালয় উপস্থিতি লিপিবদ্ধ করে। কোনো সংসদ-সদস্য সংসদের অনুমতি ছাড়া একাদিক্রমে ৯০ বৈঠক-দিবস অনুপস্থিত থাকলে আসন শূন্য হয়। গণনা পঞ্জিকা দিবসে নয়, বৈঠক-দিবসে হয়, এ কারণেই দীর্ঘ বর্জনেও কদাচিৎ এটি কার্যকর হয়েছে।

  3. যে সংসদ-সদস্য পদ ছাড়তে চান, তিনি স্পীকারের নিকট একটি স্বাক্ষরযুক্ত পত্র লেখেন। স্পীকার, অথবা স্পীকারের পদ শূন্য থাকলে বা স্পীকার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে ডেপুটি স্পীকার, পত্রটি পাওয়ামাত্র আসন শূন্য হয়।

  4. সংসদ ভাঙা ছাড়া অন্য যেকোনো কারণে আসন শূন্য হলে সংবিধান ও নির্বাচনী আইনের অধীনে নির্বাচন কমিশন সেই নির্বাচনী এলাকায় উপনির্বাচনের ব্যবস্থা করে। সংসদ ভেঙে গেলে সব আসন একসঙ্গে শূন্য হয় এবং এরপর সাধারণ নির্বাচন হয়।

সহজ ভাষায়

অনুচ্ছেদ ৬৭ কীভাবে কাজ করে

একজন সংসদ-সদস্য কোন কোন উপায়ে আসন হারান, ৬৭ অনুচ্ছেদ তার তালিকা দেয়। সংসদের প্রথম বৈঠকের ৯০ দিনের মধ্যে শপথ না নিলে সদস্য আসন হারান, যদিও যথার্থ কারণে স্পীকার সেই সময় বাড়াতে পারেন। সংসদের অনুমতি ছাড়া একাদিক্রমে ৯০ বৈঠক-দিবস অনুপস্থিত থাকলেও আসন শূন্য হয়। সংসদ ভেঙে গেলে সব আসন শূন্য হয়। সদস্য ৬৬ অনুচ্ছেদের অধীনে অযোগ্য হলে, অথবা দল থেকে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদান সংক্রান্ত ৭০ অনুচ্ছেদের আওতায় পড়লেও আসন হারান। একজন সংসদ-সদস্য স্পীকারের নিকট স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন, এবং স্পীকার তা পাওয়ামাত্র আসন শূন্য হয়।

বাস্তবে

৯০ বৈঠক-দিবসের নিয়ম নিয়ে ১৯৯০-এর দশক থেকে বিতর্ক চলছে, যখন বিরোধী দলের বর্জনে সদস্যরা সীমা অতিক্রম না করেই দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকতেন। এর পরিবর্তে পঞ্জিকা দিবস গণনার প্রস্তাব সংসদে উত্থাপিত হলেও গৃহীত হয়নি। ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি দ্বাদশ সংসদ ভেঙে দিলে (১)(গ) দফা কার্যকর হয় এবং একসঙ্গে সব আসন শূন্য হয়। (২) দফার অধীনে পদত্যাগ স্পীকারের নিকট পৌঁছানোমাত্র কার্যকর হয়, তাই একবার পৌঁছে দেওয়ার পর তা প্রত্যাহার করা যায় না।

মূল পাঠ

অনুচ্ছেদ ৬৭-এ যা বলা আছে

৬৭। (১) কোন সংসদ-সদস্যের আসন শূন্য হইবে, যদি

(ক) তাঁহার নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে নব্বই দিনের মধ্যে তিনি তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত শপথগ্রহণ বা ঘোষণা করিতে ও শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করিতে অসমর্থ হন:

তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ মেয়াদ অতিবাহিত হইবার পূর্বে স্পীকার যথার্থ কারণে তাহা বর্ধিত করিতে পারিবেন;

(খ) সংসদের অনুমতি না লইয়া তিনি একাদিক্রমে নব্বই বৈঠক-দিবস অনুপস্থিত থাকেন;

(গ) সংসদ ভাঙ্গিয়া যায়;

(ঘ) তিনি এই সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন অযোগ্য হইয়া যান; অথবা

(ঙ) এই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বর্ণিত পরিস্থিতির উদ্ভব হয়।

(২) কোন সংসদ-সদস্য স্পীকারের নিকট স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন, এবং স্পীকার- কিংবা স্পীকারের পদ শূন্য থাকিলে বা অন্য কোন কারণে স্পীকার স্বীয় দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে ডেপুটি স্পীকার- যখন উক্ত পত্র প্রাপ্ত হন, তখন হইতে উক্ত সদস্যের আসন শূন্য হইবে।

সরকারি "বাংলাদেশ আইন" ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলা পাঠ, যা সংবিধানের ১৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রামাণ্য। আদালতের রায়ে অবস্থান বদলে গেলে ওপরের অবস্থা-নোটে তা বলা আছে।

ইতিহাস

সংশোধনী

সংশ্লিষ্ট বিধান

সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ

প্রশ্নোত্তর

অনুচ্ছেদ ৬৭: সাধারণ প্রশ্নোত্তর

বাংলাদেশে একজন সংসদ-সদস্য কখন আসন হারান?

৬৭ অনুচ্ছেদের অধীনে ৯০ দিনের মধ্যে শপথ না নিলে, অনুমতি ছাড়া একাদিক্রমে ৯০ বৈঠক-দিবস অনুপস্থিত থাকলে, সংসদ ভেঙে গেলে, ৬৬ অনুচ্ছেদের অধীনে অযোগ্য হলে, ৭০ অনুচ্ছেদের অধীনে, অথবা স্পীকারের নিকট লিখিতভাবে পদত্যাগ করলে সংসদ-সদস্যের আসন শূন্য হয়।

সংসদ বর্জনের কারণে কি কোনো সংসদ-সদস্যকে অপসারণ করা যায়?

কেবল যদি সদস্য সংসদের অনুমতি ছাড়া একাদিক্রমে ৯০ বৈঠক-দিবস অনুপস্থিত থাকেন। নিয়মটি পঞ্জিকা দিবস নয়, বৈঠক-দিবস গণনা করে বলে সীমায় পৌঁছানোর আগে অল্প সময়ের জন্য ফিরে আসা সদস্যরা আসন ধরে রাখেন, এ কারণেই নিয়মটি পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক হয়েছে।

উৎস

এই গাইড সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়। ২০২৬ সালে আলোচনাধীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইন হিসেবে পাস না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবিধানিক ও রিট আইনচর্চা

অনুচ্ছেদ ৬৭ নিয়ে আইনি সহায়তা দরকার?

আমাদের আইনজীবীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন, মৌলিক অধিকার ও জনআইন বিষয়ে পরামর্শ দেন।

Message TRW on WhatsApp