অনুচ্ছেদ ৭৪ স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার
স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার
স্পীকার আলোচনা নিয়ন্ত্রণ করেন, অর্থবিল প্রত্যয়ন করেন এবং সংসদে শৃঙ্খলা বিষয়ে রুলিং দেন, তাই এই পদের নিরপেক্ষতা প্রতিটি আইন ও বিরোধী দলের প্রতিটি কণ্ঠকে প্রভাবিত করে। ধারাবাহিকতার বিধানের অর্থ আইনগতভাবে পদটি কখনো শূন্য থাকে না।
সাধারণ নির্বাচনের পর নতুন সংসদের প্রথম বৈঠকে সদস্যরা নিজেদের মধ্য থেকে স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার পদে প্রার্থী মনোনয়ন দেন। সংসদ ভোট দেয় এবং (১) দফার অধীনে বিজয়ীদের নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। কেবল একটি নাম প্রস্তাবিত হলে প্রস্তাবটি সরাসরি সংসদে উপস্থাপন করা হয়।
তৃতীয় তফসিলের বিধান অনুযায়ী নবনির্বাচিত স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার রাষ্ট্রপতির নিকট শপথ গ্রহণ করেন। এরপর তাঁরা সংসদে সভাপতিত্ব করেন, শুরুতে সদস্যদের শপথ গ্রহণ এবং অধিবেশনের কার্যাবলী দিয়ে।
স্পীকার অনুপস্থিত থাকলে, দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে বা রাষ্ট্রপতিরূপে কার্য করলে (৩) দফার অধীনে ডেপুটি স্পীকার স্পীকারের দায়িত্ব পালন করেন। উভয় পদ শূন্য হলে কার্যপ্রণালী-বিধি অনুযায়ী নির্বাচিত একজন সদস্য সভাপতিত্ব করেন।
স্পীকারকে অপসারণের প্রস্তাবের জন্য অন্তত ১৪ দিনের নোটিশ এবং কেবল উপস্থিত সদস্যদের নয়, মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট প্রয়োজন। প্রস্তাবটি আলোচনাকালে স্পীকার সভাপতিত্ব করতে পারেন না, তবে সদস্য হিসেবে বক্তব্য রাখতে ও ভোট দিতে পারেন।
সহজ ভাষায়
অনুচ্ছেদ ৭৪ কীভাবে কাজ করে
৭৪ অনুচ্ছেদ বলে যে প্রত্যেক সাধারণ নির্বাচনের পর প্রথম বৈঠকে সংসদ নিজ সদস্যদের মধ্য থেকে একজন স্পীকার ও একজন ডেপুটি স্পীকার নির্বাচন করে। কোনো পদ শূন্য হলে সাত দিনের মধ্যে, অথবা সংসদ বৈঠকরত না থাকলে পরবর্তী প্রথম বৈঠকে তা পূরণ করতে হয়। স্পীকার বা ডেপুটি স্পীকার সংসদ-সদস্য না থাকলে, মন্ত্রী হলে, রাষ্ট্রপতির নিকট লিখিতভাবে পদত্যাগ করলে, অথবা অন্তত ১৪ দিনের নোটিশের পর মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সমর্থিত প্রস্তাবে অপসারিত হলে পদ ছাড়েন। স্পীকার অনুপস্থিত থাকলে, দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে বা রাষ্ট্রপতিরূপে কার্য করলে ডেপুটি স্পীকার দায়িত্ব পালন করেন। সংসদ ভেঙে যাওয়ার পরও প্রত্যেক পদধারী উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত পদে বহাল থাকেন।
বাস্তবে
২০২৪ সালের ৬ আগস্ট দ্বাদশ সংসদ ভেঙে দেওয়ার পর ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর স্পীকার শিরীন শারমিন চৌধুরী রাষ্ট্রপতির নিকট পত্রযোগে পদত্যাগ করেন। (৬) দফার অধীনে স্পীকার সাধারণত উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত বহাল থাকেন, তাই এই পদত্যাগে নতুন সংসদের বৈঠক পর্যন্ত পদটি শূন্য থাকে। ২০২৬ সালের ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বৈঠকে স্পীকারের আসন শূন্য ছিল এবং একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য সভাপতিত্ব করেন, এ সময় সংসদ মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদকে স্পীকার এবং কায়সার কামালকে ডেপুটি স্পীকার নির্বাচিত করে। একই দিন রাষ্ট্রপতি দুজনকে শপথ পাঠ করান।
মূল পাঠ
অনুচ্ছেদ ৭৪-এ যা বলা আছে
৭৪। (১) কোন সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকে সংসদ-সদস্যদের মধ্য হইতে সংসদ একজন স্পীকার ও একজন ডেপুটি স্পীকার নির্বাচিত করিবেন, এবং এই দুই পদের যে কোনটি শূন্য হইলে সাত দিনের মধ্যে কিংবা ঐ সময়ে সংসদ বৈঠকরত না থাকিলে পরবর্তী প্রথম বৈঠকে তাহা পূর্ণ করিবার জন্য সংসদ-সদস্যদের মধ্য হইতে একজনকে নির্বাচিত করিবেন।
(২) স্পীকার বা ডেপুটি স্পীকারের পদ শূন্য হইবে, যদি-
(ক) তিনি সংসদ-সদস্য না থাকেন;
(খ) তিনি মন্ত্রী-পদ গ্রহণ করেন;
(গ) পদ হইতে তাঁহার অপসারণ দাবী করিয়া মোট সংসদ-সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সমর্থিত কোন প্রস্তাব (প্রস্তাবটি উত্থাপনের অভিপ্রায় জ্ঞাপন করিয়া অন্যূন চৌদ্দ দিনের নোটিশ প্রদানের পর) সংসদে গৃহীত হয়;
(ঘ) তিনি রাষ্ট্রপতির নিকট স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে তাঁহার পদ ত্যাগ করেন;
(ঙ) কোন সাধারণ নির্বাচনের পর অন্য কোন সদস্য তাঁহার কার্যভার গ্রহণ করেন; অথবা
(চ) ডেপুটি স্পীকারের ক্ষেত্রে, তিনি স্পীকারের পদে যোগদান করেন।
...
(৬) এই অনুচ্ছেদের (২) দফার বিধানাবলী সত্ত্বেও ক্ষেত্রমত স্পীকার বা ডেপুটি স্পীকার তাঁহার উত্তরাধিকারী কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল রহিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।
মূল দফাগুলো দেখানো হয়েছে; বাদ দেওয়া অংশ "..." দিয়ে চিহ্নিত। পূর্ণ পাঠ সরকারি ওয়েবসাইটে পড়ুন।
সরকারি "বাংলাদেশ আইন" ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলা পাঠ, যা সংবিধানের ১৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রামাণ্য। আদালতের রায়ে অবস্থান বদলে গেলে ওপরের অবস্থা-নোটে তা বলা আছে।
ইতিহাস
সংশোধনী
- সংবিধান (চতুর্থ সংশোধন) আইন, ১৯৭৫ →(৩) দফায় "রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে রত থাকিলে" শব্দগুলোর পরিবর্তে স্পীকার "রাষ্ট্রপতিরূপে কার্য করিলে" শব্দগুলো প্রতিস্থাপন করে (১০ ধারা)।
সংশ্লিষ্ট বিধান
সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ
প্রশ্নোত্তর
অনুচ্ছেদ ৭৪: সাধারণ প্রশ্নোত্তর
বাংলাদেশে স্পীকার কীভাবে নির্বাচিত হন?
৭৪(১) অনুচ্ছেদের অধীনে প্রত্যেক সাধারণ নির্বাচনের পর প্রথম বৈঠকে সংসদ নিজ সদস্যদের মধ্য থেকে স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার নির্বাচন করে। ২০২৬ সালের ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদ মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদকে স্পীকার নির্বাচিত করে, পদটির জন্য একটিমাত্র মনোনয়ন ছিল।
বাংলাদেশে কি স্পীকারকে অপসারণ করা যায়?
হ্যাঁ। ৭৪(২)(গ) অনুচ্ছেদ অন্তত ১৪ দিনের নোটিশের পর মোট সংসদ-সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সমর্থিত প্রস্তাবের মাধ্যমে অপসারণের সুযোগ দেয়। সংসদ-সদস্য না থাকলে, মন্ত্রী হলে বা রাষ্ট্রপতির নিকট লিখিতভাবে পদত্যাগ করলেও স্পীকারের পদ শূন্য হয়।
পদ শূন্য থাকলে কে স্পীকারের দায়িত্ব পালন করেন?
৭৪(৩) অনুচ্ছেদের অধীনে ডেপুটি স্পীকার স্পীকারের দায়িত্ব পালন করেন। সেই পদও শূন্য থাকলে কার্যপ্রণালী-বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত একজন সদস্য সভাপতিত্ব করেন, যেমনটি ২০২৬ সালের মার্চে ত্রয়োদশ সংসদের উদ্বোধনী বৈঠকে একজন জ্যেষ্ঠ সদস্যের সভাপতিত্বে ঘটেছিল।
উৎস
- Constitution of the People's Republic of Bangladesh, Article 74 (Laws of Bangladesh)
- Prothom Alo English: Speaker Shirin Sharmin Chaudhury resigns (2 September 2024)
- Prothom Alo English: 13th parliament's first session begins (12 March 2026)
- Prothom Alo English: President administers oath to Speaker and Deputy Speaker (12 March 2026)
- Bernama: Bangladesh President dissolves parliament (6 August 2024)
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, ৭৪ অনুচ্ছেদ (বাংলা পাঠ, বাংলাদেশ আইন সংকলন)
এই গাইড সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়। ২০২৬ সালে আলোচনাধীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইন হিসেবে পাস না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবিধানিক ও রিট আইনচর্চা
অনুচ্ছেদ ৭৪ নিয়ে আইনি সহায়তা দরকার?
আমাদের আইনজীবীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন, মৌলিক অধিকার ও জনআইন বিষয়ে পরামর্শ দেন।











