অনুচ্ছেদ ১০৪: সম্পূর্ণ ন্যায়বিচারের জন্য আপিল বিভাগের ক্ষমতা

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

বলবৎবিচারবিভাগ১ম পরিচ্ছেদ: সুপ্রীম কোর্ট

অনুচ্ছেদ ১০৪ সম্পূর্ণ ন্যায়বিচারের জন্য আপিল বিভাগের ক্ষমতা

আপীল বিভাগের পরোয়ানা জারী ও নির্বাহ

এই ক্ষমতা সর্বোচ্চ আদালতকে এমন প্রতিকার নির্ধারণের সুযোগ দেয়, যা সাধারণ পদ্ধতিতে সম্ভব নয়, এবং যাদের মামলা সর্বোচ্চ আদালতে পৌঁছায় সেই মানুষ ও ব্যবসার জন্য তা বাস্তব ফলাফল নির্ধারণ করতে পারে।

অনুচ্ছেদ ১০৪ — সম্পূর্ণ ন্যায়বিচারের জন্য আপিল বিভাগের ক্ষমতা
আপিল বিভাগবিচারাধীন মামলা
সাক্ষীদলিলপত্র
নির্দেশনাসম্পূর্ণ ন্যায়বিচার
THANAকর্তৃপক্ষআদেশ পালন
1 / 4
  1. একটি আপিল বা অন্য কোনো বিষয় আপিল বিভাগে বিচারাধীন। পদ্ধতির কঠোর নিয়ম মানলে একটি ফাঁক থেকে যায়: পক্ষগুলো যে প্রতিকার চেয়েছে, তা মামলায় উন্মোচিত সমস্যার পূর্ণ সমাধান করে না।

  2. বিভাগটি কোনো ব্যক্তিকে আদালতে হাজির হওয়ার, অথবা কোনো দলিল উদ্ঘাটন বা দাখিলের আদেশ দিতে পারে। অধস্তন আদালত ওই সাক্ষ্য সংগ্রহ না করলেও এতে সিদ্ধান্তের আগে পুরো চিত্র দেখা সম্ভব হয়।

  3. এরপর বিভাগটি সম্পূর্ণ ন্যায়বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো নির্দেশ, আদেশ, ডিক্রী বা রীট জারি করতে পারে। এগুলো দাবিকৃত সুনির্দিষ্ট প্রতিকারের বাইরেও যেতে পারে, যাতে চূড়ান্ত ফলাফল বিরোধটির ন্যায্য ও কার্যকর নিষ্পত্তি করে।

  4. ১১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সকল নির্বাহী ও বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষকে সুপ্রীম কোর্টের সহায়তায় কাজ করতে হয়। তাই কর্মকর্তা ও সংস্থাগুলোকে ১০৪ অনুচ্ছেদের অধীনে দেওয়া বিভাগের আদেশ পালন করতে হয়, এবং তা না করলে আদালত অবমাননার কার্যধারা শুরু হতে পারে।

সহজ ভাষায়

অনুচ্ছেদ ১০৪ কীভাবে কাজ করে

১০৪ অনুচ্ছেদ আপিল বিভাগকে তার সামনে থাকা যেকোনো মামলায় পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ব্যাপক ক্ষমতা দেয়। বিচারাধীন কোনো মামলা বা বিষয়ে সম্পূর্ণ ন্যায়বিচারের জন্য যে নির্দেশ, আদেশ, ডিক্রী বা রীট প্রয়োজন, বিভাগটি তা জারি করতে পারে। এর মধ্যে ব্যবহারিক আদেশও রয়েছে, যেমন কোনো ব্যক্তিকে আদালতে হাজির হতে বলা বা কোনো দলিল উদ্ঘাটন ও দাখিল করতে বলা। ক্ষমতাটি ব্যাপক, তবে সীমাহীন নয়: এটি কেবল আপিল বিভাগের সামনে ইতিমধ্যে থাকা মামলায় প্রযোজ্য, এবং সাধারণ পদ্ধতিতে কোনো পক্ষ পূর্ণ প্রতিকার থেকে বঞ্চিত হলে সেই ফাঁক পূরণে আদালত এটি ব্যবহার করে।

বাস্তবে

১০৪ অনুচ্ছেদ প্রায়ই আপিল বিভাগের আপিল ও পুনর্বিবেচনার ক্ষমতার সঙ্গে একত্রে প্রয়োগ করা হয়। এটি আদালতকে সরকারের প্রতি নির্দেশনা প্রণয়ন, আইনের ফাঁক পূরণে নির্দেশিকা প্রদান, অথবা ফলাফল কার্যকর করতে প্রতিকারে পরিবর্তনের সুযোগ দেয়। ক্ষমতাটি এত ব্যাপক বলে এর ব্যবহার নিয়ে প্রায়ই বিতর্ক হয়, এবং তবু এটি সংবিধান ও আইনের মধ্যেই প্রয়োগ করতে হয়। এটি কেবল আপিল বিভাগে বিচারাধীন বিষয়ে প্রযোজ্য; হাইকোর্ট বিভাগের এর সমতুল্য কোনো সাধারণ ক্ষমতা নেই এবং এটি মূলত ১০২ অনুচ্ছেদ ও আইনগত এখতিয়ারের মাধ্যমে কাজ করে।

মূল পাঠ

অনুচ্ছেদ ১০৪-এ যা বলা আছে

১০৪। কোন ব্যক্তির হাজিরা কিংবা কোন দলিলপত্র উদ্ঘাটন বা দাখিল করিবার আদেশসহ আপীল বিভাগের নিকট বিচারাধীন যে কোন মামলা বা বিষয়ে সম্পূর্ণ ন্যায়বিচারের জন্য যেরূপ প্রয়োজনীয় হইতে পারে, উক্ত বিভাগ সেইরূপ নির্দেশ, আদেশ, ডিক্রী বা রীট জারী করিতে পারিবেন।

সরকারি "বাংলাদেশ আইন" ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলা পাঠ, যা সংবিধানের ১৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রামাণ্য। আদালতের রায়ে অবস্থান বদলে গেলে ওপরের অবস্থা-নোটে তা বলা আছে।

ইতিহাস

সংশোধনী

  • পঞ্চদশ সংশোধনী ২০১১ →বিডিলজে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১-এর ৩১ ধারাবলে ষষ্ঠ ভাগের ১ম পরিচ্ছেদ (৯৪ থেকে ১১৩ অনুচ্ছেদ) প্রতিস্থাপিত হয়।

সংশ্লিষ্ট বিধান

সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ

প্রশ্নোত্তর

অনুচ্ছেদ ১০৪: সাধারণ প্রশ্নোত্তর

১০৪ অনুচ্ছেদের অধীনে সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার বলতে কী বোঝায়?

এর অর্থ হলো, সাধারণ পদ্ধতিগত নিয়মে ফাঁক থেকে গেলেও আপিল বিভাগ একটি বিচারাধীন মামলার পূর্ণ ও ন্যায্য নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো নির্দেশ, আদেশ, ডিক্রী বা রীট জারি করতে পারে। এটি ব্যক্তিদের হাজির হওয়ার এবং দলিল দাখিলের আদেশও দিতে পারে।

হাইকোর্ট বিভাগের কি ১০৪ অনুচ্ছেদের ক্ষমতা আছে?

না। ১০৪ অনুচ্ছেদ কেবল আপিল বিভাগ এবং তার সামনে বিচারাধীন মামলার মধ্যে সীমিত। হাইকোর্ট বিভাগ মূলত ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে রিট এখতিয়ার, ১০৯ অনুচ্ছেদের অধীনে তত্ত্বাবধান এবং বিভিন্ন আইনে প্রদত্ত এখতিয়ারের মাধ্যমে কাজ করে।

উৎস

এই গাইড সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়। ২০২৬ সালে আলোচনাধীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইন হিসেবে পাস না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবিধানিক ও রিট আইনচর্চা

অনুচ্ছেদ ১০৪ নিয়ে আইনি সহায়তা দরকার?

আমাদের আইনজীবীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন, মৌলিক অধিকার ও জনআইন বিষয়ে পরামর্শ দেন।

Call the Dhaka office+880 1708 000660WhatsApp · message usMessage our team
Message TRW on WhatsApp