অনুচ্ছেদ ১৩৪: রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী পদে বহাল থাকা

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

বলবৎবাংলাদেশের কর্মবিভাগ১ম পরিচ্ছেদ: কর্মবিভাগসমূহ

অনুচ্ছেদ ১৩৪ রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী পদে বহাল থাকা

কর্মের মেয়াদ

এটি ব্যাখ্যা করে কেন সরকারি চাকরি কোনো বেসরকারি চাকরির চুক্তি নয়, এবং কেন ১৩৫ অনুচ্ছেদ ও চাকরি-সংক্রান্ত আইনের সুরক্ষা সরকারি কর্মচারীদের কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুচ্ছেদ ১৩৪ — রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী পদে বহাল থাকা
সংবিধানসন্তোষের নিয়ম
বিশেষ মেয়াদরক্ষাকবচ
কর্মকর্তাকারণ দর্শানো
ট্রাইব্যুনালপর্যালোচনা
1 / 4
  1. ১৩৪ অনুচ্ছেদের সূচনা এই অবস্থান থেকে যে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী পদে বহাল থাকেন। আইনের দৃষ্টিতে এর অর্থ, তাঁদের পদ সাধারণ চাকরির চুক্তির মতো বলবৎযোগ্য কোনো বেসরকারি চুক্তি নয়, বরং সরকারি আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একটি মর্যাদা।

  2. "এই সংবিধানের দ্বারা অন্যরূপ বিধান না করা হইয়া থাকিলে" কথাগুলো বড় ধরনের ব্যতিক্রম তৈরি করে। বিচারক, নির্বাচন কমিশনার, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও সরকারী কর্ম কমিশনের সদস্যদের কেবল বিশেষ পদ্ধতিতে অপসারণ করা যায়, এবং অসামরিক কর্মচারীরা বরখাস্তের বিরুদ্ধে ১৩৫ অনুচ্ছেদের রক্ষাকবচ পান।

  3. একজন সরকারি কর্মকর্তাকে জানানো হলো যে তাঁকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হচ্ছে। সরকার কেবল সন্তোষের নীতির ওপর নির্ভর করতে পারে না; স্বীকৃত কোনো ব্যতিক্রম প্রযোজ্য না হলে তাকে ১৩৫ অনুচ্ছেদ ও প্রযোজ্য চাকরি-বিধিমালা মানতে হবে, যার মধ্যে কারণ দর্শানোর যুক্তিসঙ্গত সুযোগ দেওয়াও রয়েছে।

  4. যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া বরখাস্ত হলে কর্মকর্তা প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে আদেশটি চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। বাংলাদেশের আদালত সন্তোষের নীতিকে সংবিধান ও ১৩৩ অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত বিধিমালার অধীন বলে গণ্য করেছে।

সহজ ভাষায়

অনুচ্ছেদ ১৩৪ কীভাবে কাজ করে

১৩৪ অনুচ্ছেদ সন্তোষের নীতি (doctrine of pleasure) ঘোষণা করে। সংবিধানে অন্যরূপ বিধান না থাকলে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী পদে বহাল থাকেন। ঐতিহাসিকভাবে এর অর্থ ছিল, রাজশক্তি ইচ্ছামতো কর্মচারীদের বরখাস্ত করতে পারত। বাংলাদেশে এই নীতি ব্যাপকভাবে সীমিত। ১৩৫ অনুচ্ছেদ অসামরিক কর্মচারীদের বরখাস্তের বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত সুরক্ষা দেয়, ১৩৩ অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত আইন আরও রক্ষাকবচ যোগ করে, এবং বিচারক, নির্বাচন কমিশনার ও মহা হিসাব-নিরীক্ষকের মতো কিছু পদাধিকারীর বিশেষ সাংবিধানিক মেয়াদ রয়েছে, যা সন্তোষের নীতি স্পর্শ করে না।

বাস্তবে

বাস্তবে সন্তোষের নীতি মূলত চাকরি-সংক্রান্ত আইনের অধীন বাধ্যতামূলক অবসর ও বদলির ক্ষমতার সমর্থনে ব্যবহৃত হয়। যেমন, নির্দিষ্ট মেয়াদ চাকরি পূর্ণ হওয়ার পর সরকারকে কোনো কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানোর ক্ষমতা দেওয়া বিধানগুলোকে সন্তোষের নীতির অংশ হিসেবে যৌক্তিক বলা হয়, তবে তা সরল বিশ্বাসে ও সংশ্লিষ্ট আইন মেনে প্রয়োগ করতে হয়। ব্যাপকভাবে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টের পর বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয় বা বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়, এবং এতে এসব ক্ষমতার সীমা নিয়ে জনপরিসরে বিতর্ক শুরু হয়।

মূল পাঠ

অনুচ্ছেদ ১৩৪-এ যা বলা আছে

১৩৪। এই সংবিধানের দ্বারা অন্যরূপ বিধান না করা হইয়া থাকিলে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী সময়সীমা পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন।

সরকারি "বাংলাদেশ আইন" ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলা পাঠ, যা সংবিধানের ১৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রামাণ্য। আদালতের রায়ে অবস্থান বদলে গেলে ওপরের অবস্থা-নোটে তা বলা আছে।

সংশ্লিষ্ট বিধান

সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ

প্রশ্নোত্তর

অনুচ্ছেদ ১৩৪: সাধারণ প্রশ্নোত্তর

রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী পদে বহাল থাকার অর্থ কী?

এর অর্থ, একজন সরকারি কর্মচারীর পদ কোনো বেসরকারি চুক্তির অধীনে নয়, বরং রাষ্ট্রের ইচ্ছার অধীনে থাকে। বাংলাদেশে এই নিয়ম ১৩৫ অনুচ্ছেদ, চাকরি-সংক্রান্ত আইন এবং বিচারক ও কিছু সাংবিধানিক পদাধিকারীকে সংবিধান প্রদত্ত বিশেষ মেয়াদ দ্বারা সীমিত।

সরকার কি ইচ্ছামতো একজন সরকারি কর্মচারীকে বরখাস্ত করতে পারে?

না। ১৩৪ অনুচ্ছেদ সন্তোষের নীতি ঘোষণা করলেও ১৩৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধস্তন কোনো কর্তৃপক্ষ একজন অসামরিক কর্মচারীকে বরখাস্ত বা পদাবনমিত করতে পারে না এবং সাধারণত আগে তাঁকে কারণ দর্শানোর যুক্তিসঙ্গত সুযোগ দিতে হয়। চাকরি-বিধিমালা আরও পদ্ধতি যোগ করে।

উৎস

এই গাইড সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়। ২০২৬ সালে আলোচনাধীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইন হিসেবে পাস না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবিধানিক ও রিট আইনচর্চা

অনুচ্ছেদ ১৩৪ নিয়ে আইনি সহায়তা দরকার?

আমাদের আইনজীবীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন, মৌলিক অধিকার ও জনআইন বিষয়ে পরামর্শ দেন।

Message TRW on WhatsApp