অনুচ্ছেদ ১৩৮ পিএসসি সদস্যদের নিয়োগ
সদস্য-নিয়োগ
কমিশনে কারা থাকেন, তার ওপর নির্ভর করে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ কতটা ন্যায্যভাবে হয়। অভিজ্ঞতার শর্তটি রাজনৈতিক পছন্দ ও প্রশাসনিক দক্ষতার মধ্যে ভারসাম্য আনার লক্ষ্যে।
সরকারী কর্ম কমিশনে পদ শূন্য হলে সরকার প্রার্থী চিহ্নিত করে, যাঁদের মধ্যে প্রশাসনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা এবং সরকারি চাকরির বাইরের কিছু শিক্ষাবিদ বা পেশাজীবী থাকেন, এবং সিদ্ধান্তের আগে তাঁদের পটভূমি যাচাই করে।
শর্তাংশ অনুযায়ী অন্তত অর্ধেক সদস্যকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে সরকারি কর্মে বিশ বছর বা ততোধিককাল কোনো পদে অধিষ্ঠিত থাকতে হবে। সরকারকে কেবল প্রতিটি নতুন নিয়োগে নয়, পুরো কমিশন জুড়ে এই ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়।
রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে সভাপতি ও সদস্যদের নিয়োগ দেন এবং আদেশের মাধ্যমে তাঁদের কর্মের শর্তাবলী নির্ধারণ করেন। এরপর কাজ শুরুর আগে তাঁরা প্রধান বিচারপতির পরিচালনায় তৃতীয় তফসিলে বর্ণিত শপথ গ্রহণ করেন।
সহজ ভাষায়
অনুচ্ছেদ ১৩৮ কীভাবে কাজ করে
১৩৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক সরকারী কর্ম কমিশনের সভাপতি ও অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করেন। কমিশনের অন্তত অর্ধেক সদস্যকে বাংলাদেশে কার্যরত কোনো সরকারের কর্মে বিশ বছর বা ততোধিককাল কাজ করে থাকতে হবে। এর উদ্দেশ্য অভিজ্ঞ প্রশাসকদের কমিশনে আনা। সংসদের প্রণীত যেকোনো আইন-সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি আদেশের মাধ্যমে সদস্যদের কর্মের শর্তাবলীও নির্ধারণ করেন। নিয়োগের ক্ষমতা আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির, তবে ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তা প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে প্রয়োগ করা হয়।
বাস্তবে
এই অনুচ্ছেদের অধীনে নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেওয়া হয়, কোনো আইনি অনুসন্ধান কমিটি ছাড়াই। সমালোচকদের মতে, এতে কমিশন দলীয় প্রভাবের ঝুঁকিতে থাকে, এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবসহ বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাবে সাংবিধানিক কমিশনগুলোর জন্য একটি বিস্তৃত নিয়োগকারী সংস্থার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব প্রস্তাব আইন হিসেবে প্রণীত হয়নি। ১৪৭ অনুচ্ছেদ সদস্যদের বেতন ও বিশেষ-অধিকার তাঁদের পক্ষে অসুবিধাজনকভাবে তারতম্য করা থেকে সুরক্ষা দেয়।
মূল পাঠ
অনুচ্ছেদ ১৩৮-এ যা বলা আছে
১৩৮। (১) প্রত্যেক সরকারী কর্ম কমিশনের সভাপতি ও অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রত্যেক কমিশনের যতদূর সম্ভব অর্ধেক (তবে অর্ধেকের কম নহে) সংখ্যক সদস্য এমন ব্যক্তিগণ হইবেন, যাঁহারা কুড়ি বৎসর বা ততোধিককাল বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার মধ্যে যে কোন সময়ে কার্যরত কোন সরকারের কর্মে কোন পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
(২) সংসদ কর্তৃক প্রণীত যে কোন আইন-সাপেক্ষে কোন সরকারী কর্ম কমিশনের সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যের কর্মের শর্তাবলী রাষ্ট্রপতি আদেশের দ্বারা যেরূপ নির্ধারণ করিবেন, সেইরূপ হইবে।
সরকারি "বাংলাদেশ আইন" ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলা পাঠ, যা সংবিধানের ১৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রামাণ্য। আদালতের রায়ে অবস্থান বদলে গেলে ওপরের অবস্থা-নোটে তা বলা আছে।
সংশ্লিষ্ট বিধান
সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ
প্রশ্নোত্তর
অনুচ্ছেদ ১৩৮: সাধারণ প্রশ্নোত্তর
সরকারী কর্ম কমিশনের সভাপতিকে কে নিয়োগ দেন?
১৩৮(১) অনুচ্ছেদের অধীনে রাষ্ট্রপতি সভাপতি ও সদস্যদের নিয়োগ দেন। ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে কাজ করেন, তাই কার্যত ক্ষমতাসীন সরকারই তাঁদের বাছাই করে।
পিএসসি সদস্যদের কী যোগ্যতা প্রয়োজন?
সংবিধান কেবল একটি শর্ত নির্ধারণ করে: কমিশনের অন্তত অর্ধেক সদস্যকে বাংলাদেশে কার্যরত কোনো সরকারের কর্মে বিশ বছর বা ততোধিককাল কোনো পদে অধিষ্ঠিত থাকতে হবে। অন্যান্য যোগ্যতা আইনের মাধ্যমে নির্ধারণ করা যেতে পারে।
উৎস
- বিডিলজ: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১৩৮
- Laws of Bangladesh: Article 138, Appointment of members
- Dhaka Tribune: Constitution Reform Commission proposals
এই গাইড সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়। ২০২৬ সালে আলোচনাধীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইন হিসেবে পাস না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবিধানিক ও রিট আইনচর্চা
অনুচ্ছেদ ১৩৮ নিয়ে আইনি সহায়তা দরকার?
আমাদের আইনজীবীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন, মৌলিক অধিকার ও জনআইন বিষয়ে পরামর্শ দেন।











