অনুচ্ছেদ ৭৮: সংসদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

বলবৎআইনসভা১ম পরিচ্ছেদ: সংসদ

অনুচ্ছেদ ৭৮ সংসদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি

সংসদ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি

অবাধ বিতর্কের জন্য সংসদ-সদস্যদের মামলার ভয় ছাড়া কথা বলতে পারা দরকার। একই সঙ্গে এই সুরক্ষা কেবল সংসদের ভেতরে যা ঘটে তার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, তাই সংসদের বাইরের বক্তব্য মানহানিসহ সাধারণ আইনের অধীন থাকে।

অনুচ্ছেদ ৭৮ — সংসদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি
সংসদ-সদস্যবিতর্ক
স্পীকারশৃঙ্খলা
সরকারি বিবরণীপ্রকাশনা
সুপ্রীম কোর্টবৈধতা
1 / 4
  1. বিতর্কের সময় একজন সংসদ-সদস্য কোনো কোম্পানি বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অন্যায়ের অভিযোগ তোলেন। ৭৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ওই বক্তব্যের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আদালতে মামলা বা ফৌজদারি কার্যধারা চলবে না, কারণ কথাগুলো সংসদে বলা হয়েছে। কমিটিতে দেওয়া বক্তব্যের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।

  2. স্পীকার কোনো সদস্যের আচরণ বিধিবহির্ভূত ঘোষণা করেন বা তাঁকে বক্তব্য প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। (২) দফার কারণে স্পীকারের এই ক্ষমতা প্রয়োগ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যায় না, কারণ এটি সংসদের নিজস্ব কার্যপরিচালনা নিয়ন্ত্রণ করে।

  3. সংসদ বিতর্কের বিবরণী প্রকাশ করে। (৪) দফা সংসদ কর্তৃক বা সংসদের কর্তৃত্বে প্রকাশিত কোনো রিপোর্ট, কাগজপত্র, ভোট বা কার্যধারার জন্য যেকোনো ব্যক্তিকে মামলা থেকে সুরক্ষা দেয়। সংবাদপত্র নিজ উদ্যোগে তা পুনর্মুদ্রণ করলে সেটি স্পষ্টভাবে এই সুরক্ষার আওতায় আসে না।

  4. (১) দফা অনুযায়ী আদালত সংসদের কার্যধারার অভ্যন্তরীণ বৈধতা পরীক্ষা করবে না। তবে কোনো আইন নিজে সংবিধানসম্মত কি না, আদালত তা এখনো পর্যালোচনা করতে পারে, কারণ ৭৮ অনুচ্ছেদ কার্যধারাকে রক্ষা করে, অসাংবিধানিক আইনকে নয়। এভাবেই বিভিন্ন সংবিধান সংশোধনী বাতিল হয়েছে।

সহজ ভাষায়

অনুচ্ছেদ ৭৮ কীভাবে কাজ করে

৭৮ অনুচ্ছেদ আদালতের হস্তক্ষেপ থেকে সংসদের স্বাধীনতা রক্ষা করে। সংসদের কার্যধারা বৈধ ছিল কি না, সে প্রশ্ন আদালত তুলতে পারে না। স্পীকার এবং কার্যপ্রণালী নিয়ন্ত্রণ, কার্যপরিচালনা বা শৃঙ্খলারক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য সদস্য বা কর্মচারীরা এসব ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে আদালতের এখতিয়ারের অধীন নন। সংসদ বা কোনো কমিটিতে কিছু বলা বা ভোট দেওয়ার জন্য কোনো সংসদ-সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা বা ফৌজদারি কার্যধারা চলে না। সংসদ কর্তৃক বা সংসদের কর্তৃত্বে প্রকাশিত কোনো রিপোর্ট, কাগজপত্র বা রেকর্ডের জন্য কারো বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না। সংসদ আইনের দ্বারা তার অন্যান্য বিশেষ অধিকার নির্ধারণ করতে পারে।

বাস্তবে

সংসদে সদস্যদের বক্তব্যের সমালোচনা হলে বা স্পীকারের রুলিং চ্যালেঞ্জ করা হলে প্রায়ই ৭৮ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ ওঠে, এবং আদালত সাধারণত সংসদের অভ্যন্তরীণ কার্যধারায় হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকৃতি জানায়। তবু সুপ্রীম কোর্ট আইন ও সংশোধনীর সাংবিধানিকতা পর্যালোচনা করে, যেমন অষ্টম, পঞ্চম, ত্রয়োদশ, পঞ্চদশ ও ষোড়শ সংশোধনী মামলায়, কারণ (১) দফা আইনের বিষয়বস্তুকে নয়, কার্যধারাকে সুরক্ষা দেয়। সংসদের বিশেষ অধিকারের বিষয়গুলো মূলত কার্যপ্রণালী-বিধি এবং বিশেষ অধিকার কমিটির মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়।

মূল পাঠ

অনুচ্ছেদ ৭৮-এ যা বলা আছে

৭৮। (১) সংসদের কার্যধারার বৈধতা সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।

(২) সংসদের যে সদস্য বা কর্মচারীর উপর সংসদের কার্যপ্রণালীনিয়ন্ত্রণ, কার্যপরিচালনা বা শৃঙ্খলারক্ষার ক্ষমতা ন্যস্ত থাকিবে, তিনি এই সকল ক্ষমতাপ্রয়োগ সম্পর্কিত কোন ব্যাপারে কোন আদালতের এখতিয়ারের অধীন হইবেন না।

(৩) সংসদে বা সংসদের কোন কমিটিতে কিছু বলা বা ভোটদানের জন্য কোন সংসদ-সদস্যের বিরুদ্ধে কোন আদালতে কার্যধারা গ্রহণ করা যাইবে না।

(৪) সংসদ কর্তৃক বা সংসদের কর্তৃত্বে কোন রিপোর্ট, কাগজপত্র, ভোট বা কার্যধারা প্রকাশের জন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন আদালতে কোন কার্যধারা গ্রহণ করা যাইবে না।

(৫) এই অনুচ্ছেদ-সাপেক্ষে সংসদের আইন-দ্বারা সংসদের, সংসদের কমিটিসমূহের এবং সংসদ-সদস্যদের বিশেষ-অধিকার নির্ধারণ করা যাইতে পারিবে।

সরকারি "বাংলাদেশ আইন" ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলা পাঠ, যা সংবিধানের ১৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রামাণ্য। আদালতের রায়ে অবস্থান বদলে গেলে ওপরের অবস্থা-নোটে তা বলা আছে।

সংশ্লিষ্ট বিধান

সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ

প্রশ্নোত্তর

অনুচ্ছেদ ৭৮: সাধারণ প্রশ্নোত্তর

সংসদে বলা কথার জন্য কি কোনো সংসদ-সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করা যায়?

না। ৭৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ বা এর কোনো কমিটিতে কিছু বলা বা ভোট দেওয়ার জন্য কোনো সংসদ-সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো আদালতে কার্যধারা গ্রহণ করা যায় না। সংসদের বাইরে দেওয়া বক্তব্য এই সুরক্ষার আওতায় পড়ে না।

৭৮ অনুচ্ছেদ থাকা সত্ত্বেও কি আদালত সংসদের আইন পর্যালোচনা করতে পারে?

হ্যাঁ। ৭৮(১) অনুচ্ছেদ সংসদের কার্যধারার বৈধতা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলা নিষিদ্ধ করে, কিন্তু কোনো আইন বা সংশোধনী সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা আদালত ৭ ও ২৬ অনুচ্ছেদের অধীনে এখনো নির্ধারণ করতে পারে।

উৎস

এই গাইড সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়। ২০২৬ সালে আলোচনাধীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইন হিসেবে পাস না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবিধানিক ও রিট আইনচর্চা

অনুচ্ছেদ ৭৮ নিয়ে আইনি সহায়তা দরকার?

আমাদের আইনজীবীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন, মৌলিক অধিকার ও জনআইন বিষয়ে পরামর্শ দেন।

Message TRW on WhatsApp