অনুচ্ছেদ ৭৭: ন্যায়পাল

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

বলবৎআইনসভা১ম পরিচ্ছেদ: সংসদ

অনুচ্ছেদ ৭৭ ন্যায়পাল

ন্যায়পাল

ন্যায়পাল থাকলে নাগরিক ও ব্যবসায়ীরা আদালতে না গিয়েই কম খরচে প্রশাসনিক অনিয়মের প্রতিকার চাইতে পারেন। পদটি আসলে কার্যকর আছে কি না, তার ওপর নির্ভর করে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ অভিযোগ কত সহজে নিষ্পত্তি হবে।

অনুচ্ছেদ ৭৭ — ন্যায়পাল
ন্যায়পাল আইনসংসদ
অভিযোগকারীসরকারি দপ্তর
ন্যায়পালতদন্ত
বার্ষিক প্রতিবেদনসংসদ-সদস্য
1 / 4
  1. সংসদ একটি আইন প্রণয়ন করে ন্যায়পালের পদ সৃষ্টি করে এবং তাঁর ক্ষমতা নির্ধারণ করে, যার মধ্যে ৭৭(২) অনুচ্ছেদের চাহিদা অনুযায়ী যেকোনো মন্ত্রণালয়, সরকারি কর্মচারী বা সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষের কাজ তদন্তের ক্ষমতা থাকে। এমন আইন না থাকলে পদটির অস্তিত্ব থাকতে পারে না, কারণ ৭৭ অনুচ্ছেদ কেবল সংসদকে পদটি সৃষ্টির অনুমতি দেয়।

  2. কোনো ব্যক্তি যদি মনে করেন যে কোনো সরকারি দপ্তর অন্যায় আচরণ করেছে, অকারণে দেরি করেছে বা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে, তবে তিনি ব্যয়বহুল মামলা না করে ন্যায়পালের কাছে অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে কী ঘটেছে এবং তিনি কী প্রতিকার চান, তা উল্লেখ থাকে।

  3. আইনে প্রদত্ত ক্ষমতা ব্যবহার করে ন্যায়পাল নথিপত্র পরীক্ষা করেন এবং কর্মকর্তাদের কাছে তাঁদের কাজের ব্যাখ্যা চান। শেষে ন্যায়পাল প্রশাসনিক অনিয়ম পেয়েছেন বলে সিদ্ধান্ত দিতে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রতিকারের সুপারিশ করতে পারেন। তাঁর সুপারিশের জনপরিসরে গুরুত্ব থাকে।

  4. প্রতি বছর ন্যায়পাল তাঁর দায়িত্ব পালন সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেন, যা (৩) দফা অনুযায়ী সংসদে উপস্থাপিত হয়। এরপর সদস্যরা তা নিয়ে আলোচনা করতে এবং প্রতিবেদনে উল্লিখিত বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়গুলোর ওপর চাপ দিতে পারেন।

সহজ ভাষায়

অনুচ্ছেদ ৭৭ কীভাবে কাজ করে

৭৭ অনুচ্ছেদ সংসদকে আইনের দ্বারা ন্যায়পালের পদ সৃষ্টি করার সুযোগ দেয়। ন্যায়পাল একজন স্বাধীন কর্মকর্তা, যিনি সরকারি কাজকর্ম সম্পর্কে অভিযোগ তদন্ত করেন। তাঁর ক্ষমতা ও দায়িত্ব সংসদ নির্ধারণ করবে, এবং তার মধ্যে অবশ্যই কোনো মন্ত্রণালয়, সরকারি কর্মচারী বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের কাজ তদন্ত করার ক্ষমতা থাকতে হবে। ন্যায়পাল তাঁর কাজের বিষয়ে একটি বার্ষিক প্রতিবেদন তৈরি করবেন, এবং সেই প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপিত হবে। অনুচ্ছেদটি অনুমতিমূলক: এতে বলা হয়েছে সংসদ পদটি সৃষ্টি "করিতে পারিবেন", তাই এটি নিজে থেকে রাষ্ট্রকে ন্যায়পাল নিয়োগে বাধ্য করে না।

বাস্তবে

সংসদ ১৯৮০ সালে ন্যায়পাল আইন পাস করে, কিন্তু সাধারণভাবে প্রতিবেদিত তথ্য অনুযায়ী এই আইনের অধীনে কখনো কোনো সাধারণ ন্যায়পাল নিয়োগ দেওয়া হয়নি, তাই ৭৭ অনুচ্ছেদের বাস্তব প্রভাব সামান্য। সরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ সাধারণত খাতভিত্তিক সংস্থা, দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বা ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে যায়। ২০২৪ সালের পরসহ সংস্কার আলোচনায় ন্যায়পাল চালু করার প্রশ্ন বারবার উঠেছে, তবে ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী তখনো কোনো দপ্তর গঠিত হয়নি।

মূল পাঠ

অনুচ্ছেদ ৭৭-এ যা বলা আছে

৭৭। (১) সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালের পদ-প্রতিষ্ঠার জন্য বিধান করিতে পারিবেন।

(২) সংসদ আইনের দ্বারা ন্যায়পালকে কোন মন্ত্রণালয়, সরকারী কর্মচারী বা সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষের যে কোন কার্য সম্পর্কে তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাসহ যেরূপ ক্ষমতা কিংবা যেরূপ দায়িত্ব প্রদান করিবেন, ন্যায়পাল সেইরূপ ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করিবেন।

(৩) ন্যায়পাল তাঁহার দায়িত্বপালন সম্পর্কে বাৎসরিক রিপোর্ট প্রণয়ন করিবেন এবং অনুরূপ রিপোর্ট সংসদে উপস্থাপিত হইবে।

সরকারি "বাংলাদেশ আইন" ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলা পাঠ, যা সংবিধানের ১৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রামাণ্য। আদালতের রায়ে অবস্থান বদলে গেলে ওপরের অবস্থা-নোটে তা বলা আছে।

সংশ্লিষ্ট বিধান

সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ

প্রশ্নোত্তর

অনুচ্ছেদ ৭৭: সাধারণ প্রশ্নোত্তর

বাংলাদেশে কি ন্যায়পাল আছে?

৭৭ অনুচ্ছেদ সংসদকে পদটি সৃষ্টির অনুমতি দেয়, এবং ১৯৮০ সালে একটি ন্যায়পাল আইন পাস হয়েছিল। তবে সাধারণভাবে প্রতিবেদিত তথ্য অনুযায়ী কোনো সাধারণ ন্যায়পাল নিয়োগ দেওয়া হয়নি, তাই বাস্তবে পদটি কার্যকর হয়নি।

৭৭ অনুচ্ছেদের অধীনে ন্যায়পাল কী তদন্ত করতে পারেন?

কোনো মন্ত্রণালয়, সরকারি কর্মচারী বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের যেকোনো কাজ, এবং সংসদ আইনের দ্বারা যে অন্যান্য ক্ষমতা দেয়। ন্যায়পাল এসব দায়িত্ব পালন সম্পর্কে প্রতি বছর সংসদে প্রতিবেদন দেন।

উৎস

এই গাইড সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়। ২০২৬ সালে আলোচনাধীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইন হিসেবে পাস না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবিধানিক ও রিট আইনচর্চা

অনুচ্ছেদ ৭৭ নিয়ে আইনি সহায়তা দরকার?

আমাদের আইনজীবীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন, মৌলিক অধিকার ও জনআইন বিষয়ে পরামর্শ দেন।

Message TRW on WhatsApp