অনুচ্ছেদ ৯৯ অবসরের পর বিচারকদের ওপর বিধিনিষেধ
অবসর গ্রহণের পর বিচারকগণের অক্ষমতা
এই নিয়ম বিচারকদের ভবিষ্যৎ সরকারি চাকরি বা লাভজনক আইন পেশার কথা ভেবে মামলার রায় দেওয়া থেকে বিরত রাখে। এতে আদালতে আসা প্রত্যেকের জন্য রায়ের ন্যায্যতা সুরক্ষিত থাকে।
সুপ্রীম কোর্টের একজন বিচারকের বয়স ৬৭ হয়, তিনি পদত্যাগ করেন বা অপসারিত হন। তখন থেকে সাবেক বিচারক কী কাজ নিতে পারবেন তা ৯৯ অনুচ্ছেদ নিয়ন্ত্রণ করে, যাতে দায়িত্বে থাকার সময়ের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ পুরস্কারের আশায় প্রভাবিত না হয়।
সাবেক বিচারক প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোনো লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত হতে পারেন না, যদি না তা বিচার বিভাগীয় বা আধা-বিচার বিভাগীয় হয়। সাধারণ প্রশাসকের পদ নিষিদ্ধ, তবে কোনো ট্রাইব্যুনাল, তদন্ত বা কমিশনের প্রধানের পদ অনুমোদিত হতে পারে।
সাবেক বিচারকদের প্রায়ই ট্রাইব্যুনাল, কমিশন ও তদন্তের সভাপতিত্ব করতে বলা হয়, কারণ এসব ভূমিকা বিচার বিভাগীয় বা আধা-বিচার বিভাগীয়। ৯৯ অনুচ্ছেদ এমন কাজের অনুমতি দেয়, তাঁদের অভিজ্ঞতার উপযোগিতা স্বীকার করে, আবার তাঁদের রাজনৈতিক ও নির্বাহী পদ থেকে দূরে রাখে।
হাইকোর্ট বিভাগের একজন সাবেক বিচারক আবার আইন পেশায় ফিরতে পারেন, তবে কেবল আপিল বিভাগে। এতে একজন সাবেক বিচারককে হাইকোর্ট বিভাগে তাঁর সাবেক সহকর্মীদের সামনে হাজির হতে হয় না। কখনো স্থায়ী না হওয়া সাবেক অতিরিক্ত বিচারক এসব সীমার বাইরে।
সহজ ভাষায়
অনুচ্ছেদ ৯৯ কীভাবে কাজ করে
৯৯ অনুচ্ছেদ সুপ্রীম কোর্টের একজন সাবেক বিচারক অবসরের পর কী করতে পারবেন, তা সীমিত করে। অবসরপ্রাপ্ত বা অপসারিত কোনো বিচারক কোনো আদালত বা কর্তৃপক্ষের কাছে ওকালতি বা আইনজীবী হিসেবে কাজ করতে পারেন না, এবং প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোনো লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত হতে পারেন না, যদি না পদটি বিচার বিভাগীয় বা আধা-বিচার বিভাগীয় হয়, যেমন কোনো ট্রাইব্যুনাল বা কমিশনের সভাপতির পদ। দুটি ব্যতিক্রম আছে। প্রথমত, হাইকোর্ট বিভাগের একজন সাবেক বিচারক আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে হাজির হতে পারেন। দ্বিতীয়ত, যিনি কেবল ৯৮ অনুচ্ছেদের অধীনে অতিরিক্ত বিচারক ছিলেন এবং কখনো স্থায়ী হননি, তাঁর ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য নয়।
বাস্তবে
৯৯ অনুচ্ছেদ মূলত নিয়োগের মাধ্যমে প্রযুক্ত হয়। সরকারগুলো বিচার বিভাগীয় বা আধা-বিচার বিভাগীয় পদের ব্যতিক্রমের ওপর নির্ভর করে নিয়মিতভাবে অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের তদন্ত কমিশন, ট্রাইব্যুনাল ও সংবিধিবদ্ধ কমিশনের মতো সংস্থায় নিয়োগ দেয়। কোনো নির্দিষ্ট পদ এই ব্যতিক্রমের আওতায় পড়ে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে, এবং সমালোচকরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন যে এমন পদের প্রতিশ্রুতিই বিচারকদের আচরণকে প্রভাবিত করতে পারে। অনুচ্ছেদটি আইন পেশাকেও প্রভাবিত করে: হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারকরা প্রায়ই আপিল বিভাগে জ্যেষ্ঠ এ্যাডভোকেট হিসেবে হাজির হন, যা পাঠে স্পষ্টভাবে অনুমোদিত। স্থায়ী না হওয়া অতিরিক্ত বিচারকরা যেকোনো আদালতে পূর্ণ পেশায় ফিরতে পারেন।
মূল পাঠ
অনুচ্ছেদ ৯৯-এ যা বলা আছে
[৯৯। (১) কোন ব্যক্তি (এই সংবিধানের ৯৮ অনুচ্ছেদের বিধানাবলী-অনুসারে অতিরিক্ত বিচারকরূপে দায়িত্ব পালন ব্যতীত) বিচারকরূপে দায়িত্ব পালন করিয়া থাকিলে উক্ত পদ হইতে অবসর গ্রহণের বা অপসারিত হইবার পর তিনি কোন আদালত বা কোন কর্তৃপক্ষের নিকট ওকালতি বা কার্য করিবেন না এবং বিচার বিভাগীয় বা আধা-বিচার বিভাগীয় পদ ব্যতীত প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোন লাভজনক পদে নিয়োগ লাভের যোগ্য হইবেন না।
(২) (১) দফায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ব্যক্তি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক পদে বহাল থাকিলে উক্ত পদ হইতে অবসর গ্রহণের পর তিনি আপীল বিভাগে ওকালতি বা কার্য করিতে পারিবেন।]
সরকারি "বাংলাদেশ আইন" ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলা পাঠ, যা সংবিধানের ১৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রামাণ্য। আদালতের রায়ে অবস্থান বদলে গেলে ওপরের অবস্থা-নোটে তা বলা আছে।
ইতিহাস
সংশোধনী
- ত্রয়োদশ সংশোধনী ১৯৯৬ →(১) দফায় 'আধা-বিচার বিভাগীয় পদ'-এর পর 'অথবা প্রধান উপদেষ্টা বা উপদেষ্টার পদ' শব্দগুলো সন্নিবেশ করে, যাতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারকরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারে দায়িত্ব পালন করতে পারেন (৫ ধারা)।
- পঞ্চদশ সংশোধনী ২০১১ →বিডিলজে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১-এর ৩১ ধারাবলে ষষ্ঠ ভাগের ১ম পরিচ্ছেদ (৯৪ থেকে ১১৩ অনুচ্ছেদ) প্রতিস্থাপিত হয়।
সংশ্লিষ্ট বিধান
সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ
প্রশ্নোত্তর
অনুচ্ছেদ ৯৯: সাধারণ প্রশ্নোত্তর
বাংলাদেশে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক কি আইন পেশায় যুক্ত হতে পারেন?
সুপ্রীম কোর্টের একজন সাবেক বিচারক কোনো আদালত বা কর্তৃপক্ষের কাছে ওকালতি বা কার্য করতে পারেন না, একটি ব্যতিক্রম ছাড়া: হাইকোর্ট বিভাগের একজন সাবেক বিচারক আপিল বিভাগে হাজির হতে পারেন। যিনি কেবল অতিরিক্ত বিচারক ছিলেন এবং স্থায়ী হননি, তাঁর ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়।
সুপ্রীম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক কি সরকারি পদে অধিষ্ঠিত হতে পারেন?
কেবল পদটি বিচার বিভাগীয় বা আধা-বিচার বিভাগীয় হলে। অন্যথায় ৯৯ অনুচ্ছেদ সাবেক বিচারকদের প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোনো লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত হওয়া নিষিদ্ধ করে। এ কারণেই অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের সাধারণ নির্বাহী পদে নয়, সাধারণত ট্রাইব্যুনাল, কমিশন ও তদন্তের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
উৎস
- Laws of Bangladesh: Constitution, Article 99 (bdlaws section page)
- বিডিলজ: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৯৯
এই গাইড সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়। ২০২৬ সালে আলোচনাধীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইন হিসেবে পাস না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবিধানিক ও রিট আইনচর্চা
অনুচ্ছেদ ৯৯ নিয়ে আইনি সহায়তা দরকার?
আমাদের আইনজীবীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন, মৌলিক অধিকার ও জনআইন বিষয়ে পরামর্শ দেন।











