অনুচ্ছেদ ১৯ সুযোগের সমতা
সুযোগের সমতা
১৯ অনুচ্ছেদ মেয়েদের উপবৃত্তি, দরিদ্রতর অঞ্চলে উন্নয়ন ব্যয় এবং জনজীবনে নারীদের অন্তর্ভুক্তির পদক্ষেপের মতো নীতিকে সমর্থন করে। এটি বলবৎযোগ্য সমতার অধিকার ব্যাখ্যায়ও আদালতকে সাহায্য করে।
১৯(১) অনুচ্ছেদ সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে বলে। সরকারি বৃত্তি, উন্মুক্ত নিয়োগ এবং সেবায় ন্যায্য প্রবেশাধিকার এই নীতি অনুসরণের বাস্তব উপায়। সরকারি পরীক্ষায় সমান সুযোগ এর একটি দৃষ্টান্ত।
১৯(২) অনুচ্ছেদ সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য দূর করতে এবং প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র উন্নয়নের সমান স্তর অর্জন করতে রাষ্ট্রকে বলে। পিছিয়ে পড়া জেলাগুলোর জন্য বাজেট বরাদ্দে এই লক্ষ্যের প্রতিফলন রয়েছে। দরিদ্রতর ও উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য বিশেষ কর্মসূচি রয়েছে।
২০১১ সালে যুক্ত ১৯(৩) অনুচ্ছেদ জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে নারীর সুযোগের সমতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে বলে। সংরক্ষিত আসন, মেয়েদের উপবৃত্তি এবং কর্মক্ষেত্রের পদক্ষেপ এই নীতি থেকে প্রেরণা নেয়। সংসদে পঞ্চাশটি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত।
সহজ ভাষায়
অনুচ্ছেদ ১৯ কীভাবে কাজ করে
১৯ অনুচ্ছেদের তিনটি অংশ। (১) দফা বলে যে রাষ্ট্র সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে। (২) দফা রাষ্ট্রকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য দূর করতে, সম্পদ ও সুযোগের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে এবং দেশজুড়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমান স্তর অর্জন করতে বলে। ২০১১ সালে যুক্ত (৩) দফা জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে নারীর সুযোগের সমতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করতে রাষ্ট্রকে নির্দেশ দেয়। এগুলো এমন নীতি যার ভিত্তিতে সরাসরি মামলা করা যায় না। বলবৎযোগ্য সমতার অধিকার তৃতীয় ভাগে, বিশেষত ২৭, ২৮ ও ২৯ অনুচ্ছেদে রয়েছে।
বাস্তবে
১৯ অনুচ্ছেদ সরাসরি বলবৎযোগ্য নয়, তবে বৈষম্য ও সরকারি নিয়োগ বিষয়ক মামলার সিদ্ধান্তে আদালত একে ২৭, ২৮ ও ২৯ অনুচ্ছেদের সঙ্গে মিলিয়ে পড়ে। (৩) দফা পঞ্চদশ সংশোধনী ২০১১ দ্বারা যুক্ত হয়। মেয়েদের শিক্ষা উপবৃত্তি, নারী প্রতিনিধিত্ব এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন বাজেট বিষয়ক নীতির যৌক্তিকতা দেখাতে সাধারণত ১৯ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করা হয়। সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে বিরোধ সাধারণত বলবৎযোগ্য অধিকার ২৯ অনুচ্ছেদের অধীনে নিষ্পত্তি হয়।
মূল পাঠ
অনুচ্ছেদ ১৯-এ যা বলা আছে
১৯৷ (১) সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হইবেন৷
(২) মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বিলোপ করিবার জন্য, নাগরিকদের মধ্যে সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করিবার জন্য এবং প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমান স্তর অর্জনের উদ্দেশ্যে সুষম সুযোগ-সুবিধাদান নিশ্চিত করিবার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন৷
[(৩) জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন।]
সরকারি "বাংলাদেশ আইন" ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলা পাঠ, যা সংবিধানের ১৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রামাণ্য। আদালতের রায়ে অবস্থান বদলে গেলে ওপরের অবস্থা-নোটে তা বলা আছে।
ইতিহাস
সংশোধনী
- পঞ্চদশ সংশোধনী ২০১১ →নারীর সুযোগের সমতা ও অংশগ্রহণ বিষয়ে (৩) দফা যোগ করে।
সংশ্লিষ্ট বিধান
সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ
প্রশ্নোত্তর
অনুচ্ছেদ ১৯: সাধারণ প্রশ্নোত্তর
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৯ অনুচ্ছেদ কী?
১৯ অনুচ্ছেদ বলে যে রাষ্ট্র সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করার, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য দূর করার, সম্পদ ও সুযোগের সুষম বণ্টনের, এবং জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে নারীর সুযোগের সমতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে।
১৯ অনুচ্ছেদ ও ২৭ অনুচ্ছেদের মধ্যে পার্থক্য কী?
১৯ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্র পরিচালনার একটি নীতি, যা রাষ্ট্রকে পথ দেখায় কিন্তু আদালতে বলবৎ করা যায় না। তৃতীয় ভাগের ২৭ অনুচ্ছেদ আইনের দৃষ্টিতে সমতা ও আইনের সমান আশ্রয়ের নিশ্চয়তাদানকারী একটি বলবৎযোগ্য মৌলিক অধিকার, যা রিট আবেদনের মাধ্যমে বলবৎ করা যায়।
উৎস
- bdlaws: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১৯
- bdlaws: The Constitution of the People's Republic of Bangladesh, Article 19
এই গাইড সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়। ২০২৬ সালে আলোচনাধীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইন হিসেবে পাস না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবিধানিক ও রিট আইনচর্চা
অনুচ্ছেদ ১৯ নিয়ে আইনি সহায়তা দরকার?
আমাদের আইনজীবীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন, মৌলিক অধিকার ও জনআইন বিষয়ে পরামর্শ দেন।