অনুচ্ছেদ ১১২: সকল কর্তৃপক্ষকে সুপ্রিম কোর্টের সহায়তা করতে হবে

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

বলবৎবিচার বিভাগ১ম পরিচ্ছেদ: সুপ্রীম কোর্ট

অনুচ্ছেদ ১১২ সকল কর্তৃপক্ষকে সুপ্রিম কোর্টের সহায়তা করতে হবে

সুপ্রীম কোর্টের সহায়তা

রায়ের মূল্য তার বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করে। নাগরিক ও ব্যবসার পক্ষে দেওয়া আদালতের আদেশ কার্যকর করতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে বাধ্য করে ১১২ অনুচ্ছেদ।

অনুচ্ছেদ ১১২ — সকল কর্তৃপক্ষকে সুপ্রিম কোর্টের সহায়তা করতে হবে
আদালতের আদেশসুপ্রিম কোর্ট
মন্ত্রণালয়আদেশ পালন
THANAপুলিশঅধস্তন আদালত
অবমাননাকার্যকরকরণ
1 / 4
  1. সুপ্রিম কোর্ট কোনো কর্তৃপক্ষকে কিছু করার আদেশ দেয়, যেমন আটক ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়া, কোনো কর্মকর্তাকে পুনর্বহাল করা বা কোনো নীতিগত নির্দেশ বাস্তবায়ন করা। আদেশটি বাধ্যতামূলক, কিন্তু আদালতের নিজের কোনো পুলিশ বাহিনী নেই।

  2. ১১২ অনুচ্ছেদ মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাসহ সকল নির্বাহী কর্তৃপক্ষকে সুপ্রিম কোর্টের সহায়তা করতে বাধ্য করে। আদেশ কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ তাদের নিতে হবে, বিলম্ব করা বা তা ব্যর্থ করা চলবে না।

  3. অধস্তন আদালতের মতো বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশের মতো প্রয়োগকারী সংস্থাকেও সহায়তা করতে হয়। কোনো ব্যক্তিকে হাজির করা, ডিক্রি জারি করা বা সুপ্রিম কোর্টের তলব করা নথি সংগ্রহের জন্য তাদের প্রয়োজন হতে পারে।

  4. কোনো কর্তৃপক্ষ আদেশ উপেক্ষা করলে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ আবার আদালতে যেতে পারেন। আদেশ যথাযথভাবে কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবমাননার কার্যধারা শুরু করতে এবং আরও নির্দেশ দিতে পারে। কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা দিতে তলব করা হতে পারে।

সহজ ভাষায়

অনুচ্ছেদ ১১২ কীভাবে কাজ করে

১১২ অনুচ্ছেদ একটি ছোট কিন্তু শক্তিশালী নির্দেশ: প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ও বিচার বিভাগীয় সকল কর্তৃপক্ষকে সুপ্রিম কোর্টের সহায়তা করতে হবে। এর অর্থ, সরকারি মন্ত্রণালয়, পুলিশ, স্থানীয় সংস্থা, সংবিধিবদ্ধ করপোরেশন ও অধস্তন আদালতকে সুপ্রিম কোর্টের আদেশ কার্যকর করতে সাহায্য করতে হবে এবং তাতে বাধা দেওয়া যাবে না। রাষ্ট্রের সহযোগিতা ছাড়া কোনো আদালত নিজের রায় কার্যকর করতে পারে না, তাই এই অনুচ্ছেদ রায়কে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেয়। কোনো কর্তৃপক্ষ আদেশ পালন না করলে আদালত ১০৮ অনুচ্ছেদের অধীন অবমাননার ক্ষমতা এবং অন্যান্য ক্ষমতা ব্যবহার করে আদেশ পালনে বাধ্য করতে পারে।

বাস্তবে

কর্মকর্তারা রায় বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে ১১২ অনুচ্ছেদ প্রায়ই ১০৮ অনুচ্ছেদের সঙ্গে একত্রে প্রয়োগ করা হয়। অধস্তন বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করা সংক্রান্ত মাসদার হোসেন মামলার নির্দেশনার দীর্ঘ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া একটি বহুল উদ্ধৃত উদাহরণ, যা দেখায় আদেশ পালন কীভাবে আদালতের ধারাবাহিক চাপের ওপর নির্ভর করতে পারে।

২০২৪ সালের পর বিচার বিভাগীয় সংস্কার নিয়ে প্রশ্নটি আবার উঠেছে: ২০২৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগ তিন মাসের মধ্যে একটি পৃথক সচিবালয় গঠনের আদেশ দেয়, কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে এবং ২০২৬ সালের ৯ জুন আপিল বিভাগ সেই আদেশ স্থগিত করে, ফলে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদেশ পালনের দায়িত্ব স্থগিত থাকে।

মূল পাঠ

অনুচ্ছেদ ১১২-এ যা বলা আছে

১১২। প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানার অন্তর্ভুক্ত সকল নির্বাহী ও বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ সুপ্রীম কোর্টের সহায়তা করিবেন।

সরকারি "বাংলাদেশ আইন" ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলা পাঠ, যা সংবিধানের ১৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রামাণ্য। আদালতের রায়ে অবস্থান বদলে গেলে ওপরের অবস্থা-নোটে তা বলা আছে।

গুরুত্বপূর্ণ মামলা

আদালত যেভাবে ব্যাখ্যা করেছে

আপিল বিভাগ · ১৯৯৯

Secretary, Ministry of Finance v Md. Masdar Hossain

52 DLR (AD) 82

রায় দেওয়া হয় যে বিচার-কর্মবিভাগ বেসামরিক প্রশাসনিক কর্মবিভাগ থেকে স্বতন্ত্র, এবং অধস্তন বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়; “সুপ্রিম কোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে” কথাটিকে এমনভাবে পড়া হয় যাতে আদালতের মতামত প্রকৃত গুরুত্ব পায়।

মামলার সংক্ষিপ্তসার কেবল ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি রায়ের বিকল্প নয়।

ইতিহাস

সংশোধনী

  • পঞ্চদশ সংশোধনী ২০১১ →বিডিলজের উল্লেখ অনুযায়ী, ষষ্ঠ ভাগের প্রথম পরিচ্ছেদ (অনুচ্ছেদ ৯৪ থেকে ১১৩) সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১-এর ৩১ ধারা দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়।

সংশ্লিষ্ট বিধান

সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ

প্রশ্নোত্তর

অনুচ্ছেদ ১১২: সাধারণ প্রশ্নোত্তর

সুপ্রিম কোর্টের সহায়তা করা বলতে কী বোঝায়?

এর অর্থ, বাংলাদেশের প্রতিটি নির্বাহী ও বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষকে সুপ্রিম কোর্টের আদেশ কার্যকর করতে সাহায্য করতে হবে এবং তাতে বাধা দেওয়া যাবে না। মন্ত্রণালয়, পুলিশ, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা ও অধস্তন আদালত সবাই এর আওতায়। ব্যর্থ হলে ১০৮ অনুচ্ছেদের অধীন অবমাননার কার্যধারা হতে পারে।

বাংলাদেশে সরকার আদালতের আদেশ উপেক্ষা করলে কী করা যায়?

যে আদালত আদেশ দিয়েছে সেখানে আবেদন করা যায়, সাধারণত অবমাননার দরখাস্তের মাধ্যমে। ১০৮ ও ১১২ অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট দায়ী কর্মকর্তাদের তলব করতে, ব্যাখ্যা ও আদেশ পালনের নির্দেশ দিতে এবং আইন সাপেক্ষে ইচ্ছাকৃত অমান্যকে অবমাননা হিসেবে শাস্তি দিতে পারে।

উৎস

এই গাইড সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়। ২০২৬ সালে আলোচনাধীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইন হিসেবে পাস না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবিধানিক ও রিট আইনচর্চা

অনুচ্ছেদ ১১২ নিয়ে আইনি সহায়তা দরকার?

আমাদের আইনজীবীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন, মৌলিক অধিকার ও জনআইন বিষয়ে পরামর্শ দেন।

Call the Dhaka office+880 1708 000660WhatsApp · message usMessage our team
Message TRW on WhatsApp