ঢাকার আদালত গাইড: প্রতিটি আদালত, শাখা, কাউন্টার ও অফিসের সহজ ব্যাখ্যা

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

কেস জার্নি/আদালত গাইড

ঢাকার আদালত গাইড: প্রতিটি আদালত, শাখা, কাউন্টার ও অফিসের সহজ ব্যাখ্যা

এই ঢাকার আদালত গাইড আপনাকে সেই দুটি জায়গা ঘুরিয়ে দেখাবে, যেখানে ঢাকার প্রায় সব মামলা লড়া হয়: শাহবাগের সুপ্রিম কোর্ট চত্বর, যেখানে হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) ও আপিল বিভাগ (Appellate Division) বসে; এবং জনসন রোড ও কোর্ট হাউস স্ট্রিটের পুরোনো আদালতপাড়া, যেখানে সিএমএম আদালত (CMM Court), সিজেএম আদালত (CJM Court), ঢাকা জজ কোর্ট, মহানগর দায়রা আদালত, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও ঢাকা আইনজীবী সমিতি একে অপরের থেকে কয়েক মিনিটের হাঁটা পথে।

প্রতিটি ভবনের ভেতরে কী হয়, মানুষ কেন সেখানে যান, প্রতিটি কাউন্টারে কোন ধাপগুলো অনুসরণ করতে হয় এবং কোন কাগজপত্র লাগে, সবই এখানে পাবেন। নকশায় একটি ভবন বেছে নিন, "সেকশন", জিআর (GR) বা নকল বিভাগের মতো কোনো জায়গার নাম লিখে খুঁজুন, অথবা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটি বাস্তব কাজের ধাপ অনুসরণ করুন।

যা কভার করে
৬৯টি আদালত, শাখা, কাউন্টার ও অফিস
ধাপে ধাপে
২০টি বাস্তব কাজ, ধাপে ধাপে
যা থেকে তৈরি
আদালতের অফিশিয়াল লোকেটর, তলার নকশা, আইন ও বিধি
হালনাগাদ
অক্টোবর ২০২৬
পর্ব ১ · ৩৪টি স্থান · ১০টি ভবন ও এলাকা

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট: হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগের প্রাঙ্গণ

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট মধ্য ঢাকার শাহবাগের পাশে রমনায় একটি প্রাচীরঘেরা প্রাঙ্গণে অবস্থিত (ডাক ঠিকানা: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০)। দুটি বিভাগই এখানে কাজ করে। সর্বশেষ আপিল আদালত আপিল বিভাগ (Appellate Division) বসে গম্বুজওয়ালা মূল ভবনে। হাইকোর্ট বিভাগের (High Court Division) বেঞ্চগুলো ছড়িয়ে আছে মূল ভবন, অ্যানেক্স ভবন এবং নতুন ১২ তলা বিজয় একাত্তর (বিজয় ৭১) ভবনে।

হাইকোর্ট ১৯৬৭ সালের ১০ জুলাই মূল ভবনে আসে; তার আগে এটি বসত বর্তমানে পুরাতন হাইকোর্ট ভবন নামে পরিচিত ভবনটিতে। কাগজপত্রের বেশির ভাগ কাজ হয় এজলাসের বাইরে। রেজিস্ট্রির (Registry) বিভিন্ন ‘শাখা’ (section) নথি গ্রহণ করে, নম্বর দেয় ও সংরক্ষণ করে; এর বেশির ভাগই সুপ্রিম কোর্ট জাদুঘরের কাছে প্রশাসনিক ভবন ২, ৩ ও ৪-এ।

কেন্দ্রীয় নকল শাখা ও ই-ফাইলিং সেন্টার অ্যানেক্স ভবনের নিচতলায়, আর পেপার বুক শাখা হাইকোর্ট মাজার মসজিদের পাশে পুরাতন ভবনে। রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ও এই প্রাঙ্গণে। এখানে আপনার দেখা হবে আইনজীবী ও তাঁদের মুহুরি (clerk), বিচারপ্রার্থী ও তাঁদের তদবিরকারক (যিনি কোনো পক্ষের হয়ে মামলার খোঁজখবর রাখেন), রেজিস্ট্রির কর্মচারী, বেঞ্চ অফিসার, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের ল অফিসার এবং পুলিশের সঙ্গে।

এই গাইডে ভবন ও তলার নাম নেওয়া হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব অনলাইন ‘Find a Location’ মানচিত্র থেকে। যেখানে কোনো অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি, সেখানে তা উল্লেখ করা হয়েছে। দপ্তর স্থানান্তরিত হয়, তাই রওনা দেওয়ার আগে গেটে বা হেল্প ডেস্কে জেনে নিন।

ঢাকার আদালত গাইড: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা (অক্টোবর ২০১৭-এ তোলা ছবি)।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা (অক্টোবর ২০১৭-এ তোলা ছবি)। ছবি: Aminul joy, CC BY-SA 4.0, উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে।
ঠিকানা
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০ (শাহবাগ এলাকা)
আদালতের সময়
হাইকোর্ট বিভাগ: এজলাস সকাল ১০:৩০ থেকে বিকেল ৪:১৫ (বিরতি দুপুর ১:১৫-২:০০); দপ্তর সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৫:০০ (বিরতি দুপুর ১:৩০-২:০০)। শুক্র ও শনিবার বন্ধ; রমজান ও অবকাশকালীন সময় ভিন্ন (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস [HCD Rules], অধ্যায় ৩)।
নিকটতম পরিচিত স্থান
শাহবাগ। কার্জন হলের বিপরীতে কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ে পুরাতন হাইকোর্ট ভবন কাছেই, আর জাতীয় ঈদগাহ মাঠ আদালতের নিকটে; প্রাঙ্গণের পুরাতন ভবনের পাশে রয়েছে হাইকোর্ট মাজার মসজিদ।
যেভাবে যাবেন
দর্শনার্থীদের জন্য কোনো সরকারি পথনির্দেশ প্রকাশিত নেই। ট্যাক্সি, সিএনজি বা রাইড-শেয়ারে রমনার সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্ট বলুন; পরিচয়পত্র যাচাইয়ের জন্য সময় হাতে রাখুন এবং কোন গেট সাধারণের জন্য খোলা তা নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে জেনে নিন।
গুগল ম্যাপ: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (পুরো প্রাঙ্গণ)

This map is provided by Google, which may set cookies and receive your IP address. It loads only if you allow it.

Open in Google Maps ↗ · Cookie policy

স্থানাঙ্ক উইকিপিডিয়ার হাইকোর্ট বিভাগ নিবন্ধ থেকে নেওয়া। এটি পুরো প্রাঙ্গণ নির্দেশ করে, নির্দিষ্ট কোনো গেট নয়।

গুগল ম্যাপে খুলুন: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (পুরো প্রাঙ্গণ) · অ্যানেক্স ভবন (হাইকোর্ট বিভাগের আদালত, নকল, ই-ফাইলিং) · বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন · হাইকোর্ট মাজার মসজিদ / পুরাতন হাইকোর্ট ভবন এলাকা · অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়

ঘুরে দেখুন

ভবন ধরে ধরে পুরো প্রাঙ্গণ ঘুরুন

একটি ভবনে ট্যাপ করে কাছে যান, দেখুন তলাভিত্তিক তালিকা আর ভেতরের প্রতিটি অফিস। এই পর্বের প্রতিটি স্থানে খোঁজ করা যায়।

আদালতঅফিসবার ও আইনজীবীগেট, রাস্তা ও অন্যান্যপুলিশ
নকশাচিত্র, মাপ অনুযায়ী নয়
ধাপে ধাপে · ১০টি বাস্তব কাজ

একটি কাজ ধরে কাউন্টার থেকে কাউন্টারে চলুন

নকশাচিত্র, মাপ অনুযায়ী নয়
লেখা আকারে পড়ুন

প্রতিটি কাজ, বিস্তারিত লেখায়

০১সরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে রিট পিটিশন দাখিল৮টি ধাপ · নির্দেশক: নির্দেশনা দেওয়া থেকে রুল নিশি পর্যন্ত এক থেকে তিন সপ্তাহ; চূড়ান্ত শুনানি সাধারণত অনেক পরে হয়।

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীনে রিট পিটিশনে হাইকোর্ট বিভাগের কাছে কোনো মন্ত্রণালয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা অন্য সরকারি কর্তৃপক্ষের বেআইনি কাজ বা নিষ্ক্রিয়তার প্রতিকার চাওয়া হয়। এই ধাপে ধাপে বিবরণে একটি সাধারণ দাখিল অনুসরণ করা হয়েছে, আইনজীবীকে বিষয়টি বুঝিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে রিকুইজিট জমা ও রুল নিশির সার্টিফায়েড কপি পর্যন্ত। কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত আপনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করলে এবং পর্যাপ্ত বিকল্প প্রতিকার না থাকলে এটি ব্যবহার করুন।

সেদিন সঙ্গে আনুন: জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট, যে আদেশ, নোটিশ বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ (পাওয়া গেলে সার্টিফায়েড কপি), কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চিঠিপত্র, স্বাক্ষরিত ওকালতনামা, অন্য কেউ হলফনামা সম্পাদন করলে লিখিত ক্ষমতাপত্র, প্রত্যেক প্রতিপক্ষের জন্য পিটিশন ও সংযুক্তির একটি পূর্ণ কপি (রুলের পরে)

  1. বারে আপনার আইনজীবীকে বিষয়টি বুঝিয়ে দিন
    বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন (SCBA)

    বেশির ভাগ রিট শুরু হয় সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন ভবনে বা তার আশপাশে একটি বৈঠকের মাধ্যমে, যেখানে আইনজীবীদের কক্ষ আছে এবং তাঁদের মুহুরিরা কাজ করেন। আপনি যে সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করছেন, তা (সম্ভব হলে সার্টিফায়েড কপি হিসেবে) এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিনিময় হওয়া চিঠি ও নোটিশ হস্তান্তর করেন। আইনজীবী যাচাই করেন রিটই সঠিক প্রতিকার কি না, প্রতিপক্ষ কারা হবে, এবং আগে অন্য কোনো প্রতিকার নিতে হবে কি না। আপনি ওকালতনামায় স্বাক্ষর দেন। পরে হলফনামা সম্পাদনে আপনি উপস্থিত থাকতে না পারলে কেবল আদালতের অনুমতি নিয়েই কোনো প্রতিনিধি তা করতে পারবেন, তাই এখনই বিষয়টি ঠিক করে নিন।

    পরামর্শ: হাইকোর্ট বিভাগ রুলস অনুযায়ী অভিযোগকৃত দলিলের মূল বা সার্টিফায়েড কপি লাগে; ফটোকপির জন্য আদালতের অনুমতি লাগে।

    কে: আপনি + আপনার আইনজীবীসময়: বৈঠকে ১-২ ঘণ্টা; খসড়া তৈরিতে কয়েক দিন লাগে (নির্দেশক)সঙ্গে আনুন: জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টসঙ্গে আনুন: যেসব দলিলের বিরুদ্ধে অভিযোগসঙ্গে আনুন: কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চিঠিপত্রআপনি পাবেন: প্রতিকার ও প্রতিপক্ষ সম্পর্কে আইনজীবীর পরামর্শ
  2. রিট শাখায় পিটিশন দাখিল করুন
    রিট শাখা · দ্বিতীয় তলা, প্রশাসনিক ভবন ২

    আপনার আইনজীবীর মুহুরি টাইপ করা পিটিশন, সংযুক্তি ও ওকালতনামা নিয়ে প্রশাসনিক ভবন ২-এর দ্বিতীয় তলায় রিট শাখায় যান। হাইকোর্ট বিভাগ রুলস অনুযায়ী রিট মোশন দাখিল হয় শাখায়, কোনো বেঞ্চে নয়। শাখার কর্মচারীরা পরীক্ষা করেন কাগজপত্র ঠিক আছে কি না, যেমন মামলার শিরোনাম (cause title), সংযুক্তি ও ওকালতনামা। সন্তুষ্ট হলে তাঁরা নম্বর ও সালসহ এটিকে রিট পিটিশন হিসেবে নথিভুক্ত করেন, শপথের জন্য হলফনামা কমিশনারের কাছে পাঠান এবং মুহুরিকে রিট নম্বরসহ একটি স্লিপ দেন, যাতে বিষয়টি কোনো বেঞ্চে মেনশন করা যায়।

    পরামর্শ: নম্বরের স্লিপটি যত্ন করে রাখুন। শাখায় পরবর্তী সব খোঁজখবর রিট নম্বর ও সাল দিয়েই হয়।

    কে: আপনার আইনজীবীর মুহুরি + আদালতের কর্মচারীসময়: কাগজপত্র ঠিক থাকলে সেদিনই (নির্দেশক)ফি: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: সংযুক্তিসহ টাইপ করা পিটিশনসঙ্গে আনুন: ওকালতনামাআপনি পাবেন: রিট পিটিশন নম্বর ও সালসহ স্লিপ
  3. কমিশনারের সামনে হলফনামা সম্পাদন করুন
    হলফনামা কমিশনার (Commissioner of Affidavits) · নিচতলা, প্রশাসনিক ভবন ২

    আবেদনকারী, অথবা আদালতের অনুমতিপ্রাপ্ত প্রতিনিধি, সশরীরে প্রশাসনিক ভবন ২-এর নিচতলায় হলফনামা কমিশনারের কাছে যান। কমিশনার হলফকারীকে শনাক্ত করেন, শপথ বা প্রতিজ্ঞা পাঠ করান এবং স্বাক্ষর দেন। হাইকোর্ট বিভাগ রুলস অনুযায়ী পিটিশনে যথেষ্ট কোর্ট ফি স্ট্যাম্প আছে কি না, সে বিষয়েও কমিশনারকে সন্তুষ্ট হতে হয় এবং তিনি তা প্রত্যয়ন করেন। হলফকারী হলফনামা পড়তে না পারলে আগে তা পড়ে শোনাতে ও বুঝিয়ে দিতে হয়। শপথের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে রিটটি কোনো বেঞ্চে মেনশন করতে হবে; নইলে হলফনামার মেয়াদ শেষ হয়ে যায় এবং আবার শপথ নিতে হয়।

    পরামর্শ: ডায়েরিতে ৩০তম দিনটি চিহ্নিত করুন। রিটের হলফনামা মেনশনের জন্য মাত্র ৩০ দিন বৈধ।

    কে: আপনি + আদালতের কর্মচারীসময়: সারির ওপর নির্ভর করে এক ঘণ্টার কম (নির্দেশক)ফি: কোর্ট ভবনে গৃহীত হলফনামার জন্য কোনো ফি নেই (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ৪ বিধি ৩৩)সঙ্গে আনুন: জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টসঙ্গে আনুন: প্রতিনিধি হিসেবে শপথ নিলে লিখিত ক্ষমতাপত্রআপনি পাবেন: পিটিশনের অংশ হিসেবে শপথকৃত হলফনামা
  4. এজি অফিসে একটি কপি দিয়ে আসুন
    অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়

    কোনো মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর বা অন্য সরকারি সংস্থা প্রতিপক্ষ হলে প্রাঙ্গণের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করে। বাস্তবে মুহুরি সেখানে পিটিশন ও সংযুক্তির একটি অগ্রিম কপি রেখে আসেন এবং পৃষ্ঠাঙ্কন বা রসিদ চান, যাতে পিটিশন উত্থাপনের সময় একজন ডেপুটি বা সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নির্দেশনা নিয়ে হাজির হতে পারেন। কার্যালয়ের ভবন সরকারিভাবে প্রকাশিত নয়, তাই অনুসন্ধান ডেস্কে বা গেটে জিজ্ঞেস করুন। এই ধাপটি প্রচলিত চর্চা; যাচাই করা হাইকোর্ট বিভাগ রুলসের অধ্যায়গুলোতে অগ্রিম কপি দেওয়া বাধ্যতামূলক করে এমন কোনো লিখিত বিধি পাওয়া যায়নি।

    পরামর্শ: যে বেঞ্চে মেনশন করতে চান, সেখানে কোন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সংযুক্ত, তা এজি অফিসে জিজ্ঞেস করুন।

    কে: আপনার আইনজীবীর মুহুরিসময়: ১-২ ঘণ্টা (নির্দেশক)সঙ্গে আনুন: পিটিশন ও সংযুক্তির সম্পূর্ণ কপিআপনি পাবেন: জারির রসিদ বা পৃষ্ঠাঙ্কন
  5. বেঞ্চ অফিসারের কাছে রিটটি মেনশন করুন
    বেঞ্চ অফিসার ও বেঞ্চ রিডার (প্রতিটি বেঞ্চের আদালত-কর্মচারী)

    রিট নম্বর ব্যবহার করে আপনার আইনজীবী হাইকোর্ট বিভাগ রুলসে নির্ধারিত ফরমে একটি মেনশন স্লিপ পূরণ করেন: তারিখ, জেলা, মামলা নম্বর ও সাল, পক্ষগণ, সংক্ষিপ্ত উদ্দেশ্য এবং আইনজীবীর স্বাক্ষর। রিট এখতিয়ারসম্পন্ন বেঞ্চের মেনশন আওয়ারে স্লিপটি ওই বেঞ্চের বেঞ্চ অফিসারের কাছে যায়, যিনি ক্রমিক নম্বর যোগ করেন, স্বাক্ষর ও তারিখ দেন এবং বিকেল ৩টার আগে রিট শাখা থেকে নথি তলব করেন। শাখা সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে রিট মোশনগুলো নির্বাচিত বেঞ্চে পাঠায়; অন্য দিনে বেঞ্চকে স্লিপটি জরুরি হিসেবে গ্রহণ করতে হয়।

    পরামর্শ: মেনশন আওয়ারের শেষ দিকে জমা দেওয়া স্লিপ বিকেল ৩টার নথি তলব ধরতে না পেরে এক দিন পিছিয়ে যেতে পারে।

    কে: আপনার আইনজীবী + আদালতের কর্মচারীসময়: জমা দিতে কয়েক মিনিট; পরের কর্মদিবসে বা বেঞ্চের নির্দেশমতো তালিকাভুক্ত হয় (নির্দেশক)সঙ্গে আনুন: পূরণ করা মেনশন স্লিপসঙ্গে আনুন: রিট নম্বরের স্লিপআপনি পাবেন: বেঞ্চ অফিসারের দেওয়া ক্রমিক নম্বর
  6. মোশন শুনানিতে উপস্থিত থাকুন
    অ্যানেক্স ভবনে হাইকোর্ট বিভাগের এজলাস

    নির্ধারিত দিনে বিষয়টি বেঞ্চের দৈনিক কার্যতালিকায় একটি ক্রমিক নম্বরসহ ওঠে। কোর্ট নম্বর ও ভবন খুঁজে নিন, যেমন অ্যানেক্স ভবনের কোনো আদালত, এবং সকাল ১০:৩০-এর আগে কক্ষে থাকুন, কারণ সাধারণত তখনই এজলাস বসে। আপনার আইনজীবী পিটিশনটি উত্থাপন করেন এবং সরকারের পক্ষে একজন ডেপুটি বা সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জবাব দিতে পারেন। বেঞ্চ সন্তুষ্ট হলে প্রতিপক্ষদের কারণ দর্শাতে বলে রুল নিশি জারি করেন, ফেরতযোগ্য তারিখ নির্ধারণ করেন এবং স্থগিতাদেশের মতো অন্তর্বর্তী প্রতিকার দিতে পারেন। সন্তুষ্ট না হলে রুল জারি হলো না বলে লিপিবদ্ধ করেন।

    পরামর্শ: বেঞ্চ সব মোশন শুনতে না পারলে হাইকোর্ট বিভাগ রুলস অনুযায়ী সেগুলো ‘In Re’ আইটেম হিসেবে পরদিনের তালিকায় চলে যায়।

    কে: আপনি + আপনার আইনজীবী + আদালতের কর্মচারীসময়: মোশনের শুনানি কয়েক মিনিটে হতে পারে, তবে দিনের বেশির ভাগ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে (নির্দেশক)সঙ্গে আনুন: কার্যতালিকার সংশ্লিষ্ট অংশসঙ্গে আনুন: মামলার কাগজপত্রআপনি পাবেন: ফেরতযোগ্য তারিখসহ রুল নিশি, অথবা লিপিবদ্ধ প্রত্যাখ্যান
  7. রিট শাখায় রিকুইজিট জমা দিন
    রিট শাখা · দ্বিতীয় তলা, প্রশাসনিক ভবন ২

    রুল নিশি জারির পরে আবেদনকারীকে জারির জন্য ‘রিকুইজিট’ দিতে হয়। হাইকোর্ট বিভাগ রুলস অনুযায়ী এর অর্থ: প্রত্যেক প্রতিপক্ষের জন্য পুরো পিটিশন ও সব সংযুক্তির একটি পাঠযোগ্য কপি, প্রত্যেকের জন্য ডাকমাশুল-পরিশোধিত প্রাপ্তিস্বীকারপত্রসহ (AD) রেজিস্ট্রি খামসহ একটি নোটিশ, এবং আদালত বেশি সময় না দিলে আদেশের তিন কর্মদিবসের মধ্যে নগদ বা কোর্ট ফি স্ট্যাম্পে জারি ফি। রিকুইজিট না দেওয়া পর্যন্ত রিট শাখা রুল নিশির নোটিশ জারি করবে না বা আদেশের কোনো কপি দেবে না। পরে শাখা ফেরতযোগ্য তারিখের জন্য নথিটি বেঞ্চে উপস্থাপন করে।

    পরামর্শ: রিকুইজিটের সময়সীমা পার হলে নথি আদেশের জন্য আবার বেঞ্চে চলে যায়। একই সপ্তাহে কাজটি সেরে ফেলুন।

    কে: আপনার আইনজীবীর মুহুরি + আদালতের কর্মচারীসময়: বিধান: আদেশের ৩ কর্মদিবসের মধ্যে জারি ফিফি: নগদ বা কোর্ট ফি স্ট্যাম্পে জারি ফি (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ৪ বিধি ১৩(২)); পরিমাণ তফসিল অনুযায়ী; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: প্রত্যেক প্রতিপক্ষের জন্য পিটিশন ও সংযুক্তির একটি কপিসঙ্গে আনুন: ডাকমাশুল-পরিশোধিত রেজিস্ট্রি এডি খামসঙ্গে আনুন: জারি ফিআপনি পাবেন: জমা দেওয়া রিকুইজিটের এন্ট্রি বা রসিদ
  8. সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদন করুন
    কেন্দ্রীয় নকল শাখা (সার্টিফায়েড কপি) · নিচতলা, অ্যানেক্স ভবন

    রিকুইজিট জমা হয়ে গেলে রুল নিশির আদেশের সার্টিফায়েড কপির জন্য অ্যানেক্স ভবনের নিচতলায় কেন্দ্রীয় নকল শাখায় আবেদন করুন, যেমন কর্তৃপক্ষকে দেখানোর জন্য যে স্থগিতাদেশ বলবৎ আছে। ফরম নং ২৪ (দেওয়ানি) পূরণ করুন, কপিটি জরুরি কি না উল্লেখ করুন, এবং শাখার হিসাবমতো স্ট্যাম্প শিট, ফোলিও ও কোর্ট ফি স্ট্যাম্পে পরিশোধ করুন। জরুরি কপিতে প্রতি পৃষ্ঠায় অতিরিক্ত ১০ টাকা লাগে এবং সাধারণত হিসাবের অর্থ জমার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তা প্রস্তুত হওয়ার কথা। সাধারণ কপি জমার পঞ্চম দিনে দুপুর ১টার মধ্যে দেওয়ার কথা।

    পরামর্শ: কপি সংগ্রহের সময় মুড়ি দেখাতে হবে, তাই মামলার কাগজপত্রের সঙ্গে এটি রাখুন।

    কে: আপনার আইনজীবীর মুহুরি + আদালতের কর্মচারীসময়: বিধান: জমার পরে ৫ম দিনে দুপুর ১টার মধ্যে (সাধারণ) বা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে (জরুরি)ফি: প্রতি ১৫০ ইংরেজি বা ২০০ বাংলা শব্দে ২ টাকা; প্রতিটি দলিলে ৫ টাকা প্রত্যয়ন ফি; জরুরি কপিতে প্রতি পৃষ্ঠায় অতিরিক্ত ১০ টাকা (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ১৩ বিধি ৭খ, ১৫)সঙ্গে আনুন: রিট নম্বর ও আদেশের তারিখসঙ্গে আনুন: হিসাবমতো কোর্ট ফি স্ট্যাম্প ও ফোলিওআপনি পাবেন: সরবরাহের তারিখসহ মুড়িআপনি পাবেন: আদেশের সার্টিফায়েড কপি
০২হাইকোর্টের রায় বা আদেশের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ৫টি ধাপ · নির্দেশক: হিসাবের সময়সহ সাধারণ কপিতে প্রায় এক সপ্তাহ, জরুরি কপিতে তিন-চার দিন।

সার্টিফায়েড কপি হলো হাইকোর্ট বিভাগের রায়, আদেশ বা নথির সিলমোহরযুক্ত দাপ্তরিক কপি। আপিল বিভাগে আপিল করতে, নিম্ন আদালত বা কর্তৃপক্ষকে কী আদেশ হয়েছে তা দেখাতে, কিংবা অন্য মামলায় এর ওপর নির্ভর করতে এটি লাগে। এই ধাপে ধাপে বিবরণে আবেদন ফরম, হাইকোর্ট বিভাগ রুলস-নির্ধারিত ফি এবং কপি সংগ্রহের বিষয় রয়েছে।

সেদিন সঙ্গে আনুন: মামলা নম্বর ও সাল, রায় বা আদেশের তারিখ, ফরম নং ২৪ (দেওয়ানি), কোর্ট ফি স্ট্যাম্প ও ফোলিওর জন্য টাকা, জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট

  1. নকলের আবেদন ফরম সংগ্রহ করুন
    ফরমস ও স্টেশনারি শাখা · দ্বিতীয় তলা, প্রশাসনিক ভবন ৪

    সার্টিফায়েড কপির আবেদন করতে হয় হাইকোর্ট বিভাগ রুলসের পরিশিষ্ট ১-এর ফরম নং ২৪ (দেওয়ানি)-তে। প্রশাসনিক ভবন ৪-এর দ্বিতীয় তলার ফরমস ও স্টেশনারি শাখা নির্ধারিত ফরম সরবরাহ করে, এবং রুলস অনুযায়ী নকলের ফরমের দাম প্রতি শিট ৪ টাকা। আপনার আইনজীবীর মুহুরির কাছে সাধারণত কিছু ফরম থাকে, আর সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে Forms Download পাতা আছে। সার্টিফায়েড ফটোস্ট্যাট কপির জন্য ফরম নং ২৪ক (দেওয়ানি), যার দাম ৪ টাকার কোর্ট ফি স্ট্যাম্প। যে ধরনের কপি চান, সেই অনুযায়ী সঠিক ফরম নিন।

    পরামর্শ: প্রথমে আপনার আইনজীবীর মুহুরিকে জিজ্ঞেস করুন; বেশির ভাগের কাছেই ফাঁকা নকলের ফরম থাকে।

    কে: আপনি অথবা আপনার আইনজীবীর মুহুরিসময়: কয়েক মিনিট (নির্দেশক)ফি: ফরম নং ২৪ (দেওয়ানি): প্রতি শিট ৪ টাকা (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ১৩ বিধি ১৯); ফরম নং ২৪ক: ৪ টাকার কোর্ট ফি স্ট্যাম্প (বিধি ৩৮(৪))সঙ্গে আনুন: ফরমের জন্য খুচরা টাকাআপনি পাবেন: ফাঁকা ফরম নং ২৪ (দেওয়ানি) বা ২৪ক (দেওয়ানি)
  2. পূর্ণ বিবরণসহ ফরমটি পূরণ করুন
    কেন্দ্রীয় নকল শাখা (সার্টিফায়েড কপি) · নিচতলা, অ্যানেক্স ভবন

    মামলার ধরন, নম্বর ও সাল, পক্ষগণ, রায় বা আদেশের তারিখ এবং ঠিক কোন কোন দলিল চান তা লিখুন। হাইকোর্ট বিভাগ রুলস অনুযায়ী কপিটি জরুরি কি না (অর্থাৎ তিন দিনের আগে দরকার কি না) এবং কোন কাগজ ব্যবহার করা হবে, তা উল্লেখ করতে হয়: ১০০ গ্রামের অফসেট লিগ্যাল সাইজ কাগজ বা সরকারি স্ট্যাম্প ফোলিও। আপনি পক্ষ না হলে আপনার স্বার্থ ব্যাখ্যা করুন। জরুরি আবেদনে কপির প্রতি পৃষ্ঠার জন্য ১০ টাকা অতিরিক্ত কোর্ট ফি লাগে, যা আবেদনে কোর্ট ফি স্ট্যাম্প লাগিয়ে পরিশোধ করতে হয় এবং কোর্ট ফি রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ হয়।

    পরামর্শ: বিবরণ ভুল হলে এবং দলিল খুঁজে না পাওয়া গেলে আবেদনটি আদেশের জন্য সহকারী রেজিস্ট্রারের কাছে যায়, এতে সময় নষ্ট হয়।

    কে: আপনি অথবা আপনার আইনজীবীর মুহুরিসময়: ১৫-৩০ মিনিট (নির্দেশক)ফি: জরুরি কপি: কোর্ট ফি স্ট্যাম্পে প্রতি পৃষ্ঠায় অতিরিক্ত ১০ টাকা (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ১৩ বিধি ১৫)সঙ্গে আনুন: মামলা নম্বর, পক্ষগণ ও আদেশের তারিখ
  3. কেন্দ্রীয় নকল শাখায় তা জমা দিন
    কেন্দ্রীয় নকল শাখা (সার্টিফায়েড কপি) · নিচতলা, অ্যানেক্স ভবন

    অ্যানেক্স ভবনের নিচতলায় কেন্দ্রীয় নকল শাখায় আবেদনটি জমা দিন। সাধারণ আবেদন আদালত-দিবসে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে গৃহীত হয়; জরুরি আবেদন দপ্তরের সময়ের মধ্যে যেকোনো সময়। সুপারিনটেনডেন্ট প্রয়োজনীয় কোর্ট ফি স্ট্যাম্প ও ফোলিওর হিসাব করে সাধারণত পরদিনের মধ্যে পরিমাণ জানিয়ে দেন। আপনি এগুলো না দেওয়া পর্যন্ত আবেদন অসম্পূর্ণ থাকে, এবং জানানোর সাত দিনের মধ্যে না দিলে আবেদন নামঞ্জুর হয়। পরিশোধের পরে আপনার মুড়িতে সরবরাহের তারিখ লিখে দেওয়া হয়। নথি রেকর্ড রুমে থাকলে ৫ টাকা তল্লাশি ফি যোগ হয়।

    পরামর্শ: মুড়ি হারাবেন না। কেবল এটির বিনিময়েই কপি হস্তান্তর করা হয়।

    কে: আপনি অথবা আপনার আইনজীবীর মুহুরি + আদালতের কর্মচারীসময়: বিধান: পরদিনের মধ্যে হিসাব; নোটিশের ৭ দিনের মধ্যে স্ট্যাম্প ও ফোলিও জমাফি: প্রতি ১৫০ ইংরেজি বা ২০০ বাংলা শব্দে ২ টাকা; প্রতিটি দলিলে ৫ টাকা প্রত্যয়ন ফি; নথি রেকর্ড রুমে থাকলে ৫ টাকা তল্লাশি ফি (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ১৩ বিধি ৭খ, ৯)সঙ্গে আনুন: পূরণ করা ফরমসঙ্গে আনুন: হিসাবমতো কোর্ট ফি স্ট্যাম্প ও ফোলিওআপনি পাবেন: কপি প্রস্তুত হওয়ার তারিখসহ মুড়ি
  4. প্রয়োজনে রেজিস্ট্রারের অনুমতি নিন
    রেজিস্ট্রার জেনারেল ও হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রি দপ্তর · নিচতলা, মূল ভবন (অ্যাডমিন শাখা; সাধারণ ও সংস্থাপন শাখা)

    হাজির হওয়া পক্ষ নথির কপি পেতে পারেন, আর রায়, ডিক্রি বা আদেশ হয়ে গেলে যে কেউ তার কপি পেতে পারেন। পক্ষ নন এমন ব্যক্তির দুই ক্ষেত্রে বাড়তি কিছু লাগে: ডিক্রির আগে যথেষ্ট কারণ দেখিয়ে রেজিস্ট্রারের অনুমতি, এবং প্রদর্শনীর ক্ষেত্রে যে পক্ষ সেগুলো দাখিল করেছেন তাঁর সম্মতি। তখন আপনার আইনজীবী ফুলস্ক্যাপ কাগজে টাইপ করা একটি আবেদন লিখে কোনো বেঞ্চে নয়, রেজিস্ট্রারের কাছে পেশ করেন। রেজিস্ট্রির অ্যাডমিন শাখা মূল ভবনের নিচতলায়। রেজিস্ট্রার প্রত্যাখ্যান করলে সেই আদেশের বিরুদ্ধে লাওয়াজিমা বেঞ্চে আপিল করা যায়।

    পরামর্শ: বেশির ভাগ পক্ষের এই ধাপটি কখনো লাগে না। আপনি পক্ষ না হলে বা প্রদর্শনীর কপি চাইলে এটি প্রাসঙ্গিক।

    কে: আপনার আইনজীবী + আদালতের কর্মচারীসময়: রেজিস্ট্রারের তালিকার ওপর নির্ভর করে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ (নির্দেশক)ফি: রেজিস্ট্রারের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল: ২০ টাকা কোর্ট ফি (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ২ বিধি ২গ); অন্যান্য ফি তফসিল অনুযায়ী; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: টাইপ করা আবেদনসঙ্গে আনুন: মামলায় আপনার স্বার্থের প্রমাণআপনি পাবেন: আবেদনের ওপর রেজিস্ট্রারের আদেশ
  5. সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করে যাচাই করুন
    কেন্দ্রীয় নকল শাখা (সার্টিফায়েড কপি) · নিচতলা, অ্যানেক্স ভবন

    সরবরাহের তারিখে মুড়ি নিয়ে কেন্দ্রীয় নকল শাখায় ফিরে যান। স্ট্যাম্প ও ফোলিও জমার পরে সাধারণ কপি পঞ্চম দিনে দুপুর ১টার মধ্যে প্রস্তুত হওয়ার কথা; জরুরি কপি সাধারণত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে। সুপারিনটেনডেন্ট কপি ও অব্যবহৃত ফোলিও হস্তান্তর করেন এবং মুড়িতে আপনার স্বাক্ষর নেন। যাচাই করুন প্রতিটি পাতায় সহকারী রেজিস্ট্রারের অনুস্বাক্ষর আছে কি না, আদালতের সিলমোহর আছে কি না, এবং শেষ পাতায় সাক্ষ্য আইনের ধারা ৭৬-এর অধীনে ‘Certified to be true copy’ প্রত্যয়নসহ সংশ্লিষ্ট তারিখগুলো লেখা আছে কি না।

    পরামর্শ: দ্রুত সংগ্রহ করুন। রুলস অনুযায়ী পরের মাসের শেষ পর্যন্ত দাবি না করা কপি নষ্ট করে ফেলা হয়।

    কে: আপনি অথবা আপনার আইনজীবীর মুহুরি + আদালতের কর্মচারীসময়: বিধান: ৫ম দিনে দুপুর ১টার মধ্যে (সাধারণ) বা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে (জরুরি)সঙ্গে আনুন: মুড়িসঙ্গে আনুন: জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টআপনি পাবেন: সার্টিফায়েড কপিআপনি পাবেন: অব্যবহৃত ফোলিও, যদি থাকে
০৩আপনার মামলা কার্যতালিকায় আছে কি না জানা এবং তালিকাভুক্ত করানো৫টি ধাপ · নির্দেশক: মেনশন স্লিপের পরে এক বা দুই কর্মদিবস; নথি প্রস্তুত না থাকলে আরও বেশি।

যেকোনো শুনানির আগে আপনাকে জানতে হবে আপনার মামলা তালিকাভুক্ত হয়েছে কি না, কোথায় ও কবে। এই ধাপে ধাপে বিবরণে আছে অনলাইন কার্যতালিকা, কেস সার্চ ও কার্যতালিকা অ্যাপ দেখা, শাখায় নথি প্রস্তুত আছে কি না নিশ্চিত হওয়া, এবং মেনশন স্লিপ দিয়ে কোনো বেঞ্চকে বিষয়টি তালিকাভুক্ত করতে অনুরোধ করা। মামলা থেমে আছে মনে হলে বা কোনো আদেশ দরকার হলে এটি ব্যবহার করুন।

সেদিন সঙ্গে আনুন: মামলা নম্বর ও সাল, আপনার আইনজীবীর নাম, আপনার আইনজীবীর প্রস্তুত করা মেনশন স্লিপ, ওয়েবসাইট বা কার্যতালিকা অ্যাপসহ ফোন, জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট

  1. অনলাইন কার্যতালিকা ও অ্যাপ দেখুন
    বেঞ্চ অফিসার ও বেঞ্চ রিডার (প্রতিটি বেঞ্চের আদালত-কর্মচারী)

    অনলাইনে শুরু করুন। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে বেঞ্চভিত্তিক হাইকোর্ট বিভাগের দৈনিক কার্যতালিকা, আপিল বিভাগের আলাদা কার্যতালিকা এবং একটি কেস সার্চ পাতা প্রকাশিত হয়। ২০২০ সাল থেকে একটি কার্যতালিকা অ্যাপ পাওয়া যায়, প্রথমে গুগল প্লে-তে এবং পরে অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরে, যাতে উন্নত সার্চ ও মামলা বুকমার্ক করার সুবিধা আছে। মামলা নম্বর ও সাল দিয়ে অথবা আপনার আইনজীবীর নাম দিয়ে খুঁজুন। বেঞ্চ, ক্রমিক নম্বর, কোর্ট নম্বর এবং বিশেষ করে ভবনটি লিখে রাখুন: মূল, অ্যানেক্স, বিজয় ৭১ নাকি পুরাতন ভবন। বিষয়টি তালিকায় না থাকলে বুঝতে হবে এটি নির্ধারিত হয়নি, এবং আপনাকে পরের ধাপগুলো নিতে হবে।

    পরামর্শ: বিভিন্ন ভবনে একই কোর্ট নম্বর আছে। অ্যানেক্সের ‘কোর্ট ৫’ আর বিজয় ৭১-এর ‘কোর্ট ৫’ আলাদা কক্ষ।

    কে: আপনি অথবা আপনার আইনজীবীসময়: ১০-২০ মিনিট (নির্দেশক)সঙ্গে আনুন: মামলা নম্বর ও সালআপনি পাবেন: কোর্ট নম্বর, ভবন ও ক্রমিক নম্বর
  2. এখতিয়ারসম্পন্ন বেঞ্চ খুঁজে বের করুন
    বেঞ্চ শাখা · নিচতলা, প্রশাসনিক ভবন ৪

    আপনার বিষয়টি তালিকায় না থাকলে জেনে নিন আপনার শ্রেণির মামলা এখন কোন বেঞ্চ দেখছে। প্রধান বিচারপতি সময়ে সময়ে বেঞ্চ পুনর্গঠন করেন, এবং বিচারপতি, এজলাস কক্ষ ও এখতিয়ারসহ বর্তমান বেঞ্চ-তালিকা সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটের নোটিশ অংশে ‘About Bench’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়। বেঞ্চ শাখা প্রশাসনিক ভবন ৪-এর নিচতলায়, তবে এর জনসংশ্লিষ্ট ভূমিকা সরকারিভাবে বর্ণিত নেই, তাই নিশ্চিত হতে আপনার আইনজীবী বা সম্ভাব্য বেঞ্চের বেঞ্চ অফিসারই ভালো ব্যক্তি। অবকাশের পরে আবার দেখে নিন, কারণ তখন প্রায়ই এখতিয়ার বদলায়।

    পরামর্শ: শুধু সর্বশেষ বেঞ্চ-তালিকা ব্যবহার করুন। পুরোনো তালিকাগুলোও ওয়েবসাইটে থেকে যায় এবং সহজেই গুলিয়ে যায়।

    কে: আপনার আইনজীবীসময়: এক ঘণ্টার কম (নির্দেশক)সঙ্গে আনুন: মামলার ধরন ও নম্বরআপনি পাবেন: বেঞ্চের নাম ও এর এজলাস কক্ষ
  3. নথি প্রস্তুত আছে কি না নিশ্চিত হোন
    দেওয়ানি রুল ও রিভিশন শাখা (আঞ্চলিক রুল শাখা) · নিচতলা, প্রশাসনিক ভবন ৪ (রুল, ঢাকা-ময়মনসিংহ); নিচতলা, প্রশাসনিক ভবন ৩ (রুল, রাজশাহী-রংপুর); অন্যান্য রুল শাখার মানচিত্র নেই

    আপনার আইনজীবীর মুহুরি সেই শাখায় যান, যেখানে নথিটি থাকে, যেমন দেওয়ানি রিভিশনের জন্য আঞ্চলিক রুল শাখা: প্রশাসনিক ভবন ৪-এর নিচতলায় রুল (ঢাকা-ময়মনসিংহ), বা প্রশাসনিক ভবন ৩-এর নিচতলায় রুল (রাজশাহী-রংপুর)। শাখার কর্মচারীরা রেজিস্টার ও নথি দেখেন। মুহুরি নিশ্চিত হন যে রিকুইজিট জমা হয়েছে, নোটিশ জারি হয়েছে বা জারি ঘোষিত হয়েছে, এবং পেপার বুক (যদি থাকে) প্রস্তুত। হাইকোর্ট বিভাগ রুলস অনুযায়ী দপ্তরকক্ষ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয়, তাই বিচারপ্রার্থী সাধারণত মুহুরি বা লিখিত আবেদনের ওপর নির্ভর করেন।

    পরামর্শ: ৩০ দিনের বেশি আগে রেজিস্ট্রি ডাকে নোটিশ গিয়ে থাকলে এবং কোনো প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ফেরত না এলে, রুলস অনুযায়ী জারি ঘোষণা করা যায় কি না জিজ্ঞেস করুন।

    কে: আপনার আইনজীবীর মুহুরি + আদালতের কর্মচারীসময়: সেদিনই (নির্দেশক)সঙ্গে আনুন: মামলা নম্বর ও সালআপনি পাবেন: নথি সম্পর্কে মুহুরির প্রতিবেদন
  4. মেনশন স্লিপ জমা দিন
    বেঞ্চ অফিসার ও বেঞ্চ রিডার (প্রতিটি বেঞ্চের আদালত-কর্মচারী)

    আদেশের জন্য মামলাটি দৈনিক কার্যতালিকায় আনতে হাইকোর্ট বিভাগ রুলসে মেনশন স্লিপের ব্যবস্থা আছে। আপনার আইনজীবী নির্ধারিত ফরম পূরণ করেন (তারিখ, জেলা, মামলা নম্বর, পক্ষগণ, সংক্ষেপে উদ্দেশ্য ও স্বাক্ষর) এবং সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের মেনশন আওয়ারে বেঞ্চ অফিসারের কাছে জমা দেন। বেঞ্চ অফিসার ক্রমিক নম্বর, স্বাক্ষর ও তারিখ যোগ করেন, বিকেল ৩টার আগে শাখায় নথির তলবপত্র পাঠান এবং মেনশনকৃত বিষয়গুলোর মধ্যে মামলাটি তালিকায় ওঠার ব্যবস্থা করেন। বিচারাধীন মামলায় যেকোনো আবেদন এজলাস বসার অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে বেঞ্চ অফিসারের কাছে দাখিল করতে হয়।

    পরামর্শ: যেকোনো হলফনামা শুনানির অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে অপর পক্ষকে দিন, নইলে বেঞ্চ তা পড়তে অস্বীকার করতে পারেন।

    কে: আপনার আইনজীবী + আদালতের কর্মচারীসময়: বিধান: বিকেল ৩টার আগে নথি তলব; সাধারণত পরের কর্মদিবসে তালিকাভুক্ত হয় (নির্দেশক)সঙ্গে আনুন: পূরণ করা মেনশন স্লিপসঙ্গে আনুন: হলফনামাসহ যেকোনো আবেদনআপনি পাবেন: স্লিপে ক্রমিক নম্বর
  5. তালিকাভুক্ত দিনে আদালতে উপস্থিত হোন
    বিজয় ৭১ (বিজয় একাত্তর) ভবনের এজলাস · তৃতীয় থেকে দশম তলা, বিজয় ৭১ ভবন (তৃতীয় তলায় কোর্ট ১-৪ থেকে দশম তলায় কোর্ট ২৯-৩২)

    সকালের তালিকায় আইটেমটি আছে কি না নিশ্চিত হয়ে দেখানো কক্ষে যান। যেমন, সুপ্রিম কোর্টের লোকেটর অনুযায়ী বিজয় ৭১ ভবনের কোর্ট ১-৪ তৃতীয় তলায় এবং কোর্ট ২৯-৩২ দশম তলায়। এজলাস সাধারণত সকাল ১০:৩০ থেকে বিকেল ৪:১৫ পর্যন্ত চলে, দুপুর ১:১৫ থেকে ২:০০ পর্যন্ত বিরতি। আপনার আইটেমের জন্য এজলাসে বা তার কাছে অপেক্ষা করুন, ফোন সাইলেন্ট রাখুন এবং আপনার আইনজীবীর মুহুরির সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন, কারণ বিষয়টি প্রত্যাশার আগেই ডাকা হতে পারে বা অন্য দিনে চলে যেতে পারে।

    পরামর্শ: সকাল ১০:৩০-এর ঠিক আগে লিফটে ভিড় থাকতে পারে; আগেভাগে আসুন অথবা সিঁড়ি ব্যবহারের সময় হাতে রাখুন।

    কে: আপনি + আপনার আইনজীবীসময়: আধা দিন থেকে পুরো দিন (নির্দেশক)সঙ্গে আনুন: কার্যতালিকার সংশ্লিষ্ট অংশসঙ্গে আনুন: জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টআপনি পাবেন: বেঞ্চের আদেশ (পরে নকল শাখা থেকে কপি)
০৪হাইকোর্ট বিভাগে ডেথ রেফারেন্স৭টি ধাপ · নির্দেশক: পেপার বুক ও বিশেষ বেঞ্চের জন্য প্রায়ই দীর্ঘ অপেক্ষা, সাধারণত কয়েক বছর।

দায়রা জজ বা ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিলে হাইকোর্ট বিভাগ অনুমোদন না করা পর্যন্ত তা কার্যকর করা যায় না। মামলাটি ‘ডেথ রেফারেন্স’ হিসেবে ওঠে এবং সাধারণত দণ্ডিতের আপিলের সঙ্গে শুনানি হয়। এই ধাপে ধাপে বিবরণে পরিবার ও আইনজীবীদের জন্য পর্যায়গুলো ব্যাখ্যা করা হয়েছে: নিবন্ধন ও পেপার বুক থেকে শুনানি এবং আপিল বিভাগে পরবর্তী আপিল পর্যন্ত।

সেদিন সঙ্গে আনুন: বিচারিক আদালতের মামলা নম্বর ও রায়ের তারিখ, ডেথ রেফারেন্স নম্বর, সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি আপিল ও জেল আপিলের নম্বর, বিচারিক আদালতের রায়ের কপি, জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট

  1. রেফারেন্স নিবন্ধিত হয়
    ডেথ রেফারেন্স শাখা

    দায়রা জজ বা ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৪ অনুযায়ী কার্যধারা হাইকোর্ট বিভাগে পেশ করতে হয়, এবং হাইকোর্ট অনুমোদন না করা পর্যন্ত দণ্ড কার্যকর করা যায় না। ডেথ রেফারেন্স শাখা রেফারেন্সটি নিবন্ধন করে একটি ডেথ রেফারেন্স নম্বর দেয়, যা পরে পরিবার ও আইনজীবীরা প্রতিটি খোঁজখবরে উল্লেখ করেন। সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান-তালিকায় এই শাখার নাম আছে কিন্তু কোনো মানচিত্র প্রকাশিত নেই, তাই অনুসন্ধান ডেস্কে জিজ্ঞেস করুন; পুরাতন ভবনের নিচতলায় আলাদা একটি ‘রেফারেন্স শাখা’ মানচিত্রে দেখানো আছে, তবে এই শাখার সঙ্গে এর সম্পর্ক নিশ্চিত হয়নি।

    পরামর্শ: সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ডেথ রেফারেন্সের আলাদা কার্যতালিকা প্রকাশিত হয়; সাধারণ তালিকার পাশাপাশি সেটিও দেখুন।

    কে: আদালতের কর্মচারী + আপনার আইনজীবীসময়: বিচারিক আদালত কখন নথি পাঠায় তার ওপর নির্ভর করে (নির্দেশক)সঙ্গে আনুন: বিচারিক আদালতের মামলা নম্বর ও রায়ের তারিখআপনি পাবেন: ডেথ রেফারেন্স নম্বর
  2. দণ্ডিতের আপিলগুলো যুক্ত করান
    জেল আপিল শাখা

    দণ্ডিত সাধারণত নিজেও আপিল করেন—হয় আইনজীবীর মাধ্যমে, যেখানে আপিলটি ফৌজদারি আপিল শাখায় দাখিল ও সংরক্ষিত হয়, অথবা ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২০ অনুযায়ী কারাগারের মাধ্যমে, যেখানে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবেদন পাঠান এবং জেল আপিল শাখা তা নিবন্ধন করে। শাখাগুলো এসব আপিল ডেথ রেফারেন্সের সঙ্গে যুক্ত করে, যাতে সবগুলোর একসঙ্গে শুনানি হয়। পরিবারের উচিত কারাগারের কাছ থেকে জেল আপিল নম্বর জেনে ডেথ রেফারেন্স নম্বরসহ আইনজীবী বা সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসকে দেওয়া, যাতে কোনোটির আলাদা শুনানি না হয় বা কোনোটি বাদ না পড়ে।

    পরামর্শ: ব্যক্তিগত আইনজীবী না থাকলে আগেভাগেই সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসে যোগাযোগ করুন।

    কে: আপনি + আপনার আইনজীবী + আদালতের কর্মচারীসময়: কারাগার ও শাখার ওপর নির্ভর করে কয়েক সপ্তাহ (নির্দেশক)সঙ্গে আনুন: ডেথ রেফারেন্স নম্বরসঙ্গে আনুন: জেল আপিল নম্বর, যদি থাকেআপনি পাবেন: জেল আপিল বা ফৌজদারি আপিল নম্বর
  3. পেপার বুকের খোঁজ রাখুন
    পেপার বুক শাখা · নিচতলা, পুরাতন ভবন

    পেপার বুক প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত ডেথ রেফারেন্সের শুনানি হতে পারে না। এটি বিচারপতি ও আইনজীবীদের ব্যবহৃত সংকলিত নথি: এজাহার, অভিযোগপত্র, জবানবন্দি, প্রদর্শনী ও বিচারিক রায়। হাইকোর্ট মাজার মসজিদের পাশে পুরাতন ভবনের নিচতলার পেপার বুক শাখা হাইকোর্ট বিভাগ রুলসের অধ্যায় ৯ অনুযায়ী এটি ব্যবস্থাপনা করে। ২০২৬ সালের একটি মামলায় পেপার বুক সরকারি বিজি প্রেসে মুদ্রিত হয়ে তালিকাভুক্তির আগে যাচাই করা হয়েছিল। এটি এসেছে কি না, যাচাই ও বিতরণ হয়েছে কি না, তা জানতে আইনজীবীর মুহুরিরা ডেথ রেফারেন্স নম্বর দিয়ে শাখায় খোঁজ নেন।

    পরামর্শ: আগেভাগেই পেপার বুকের খোঁজ নিন। রেফারেন্স আটকে থাকার সবচেয়ে সাধারণ কারণ এটিই।

    কে: আপনার আইনজীবীর মুহুরি + আদালতের কর্মচারীসময়: প্রায়ই কয়েক মাস (নির্দেশক)ফি: হাইকোর্ট বিভাগ রুলসের অধ্যায় ৯ অনুযায়ী নিরূপিত পেপার বুকের খরচ; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: ডেথ রেফারেন্স নম্বরআপনি পাবেন: পেপার বুকের অবস্থাআপনি পাবেন: আইনজীবীর জন্য পেপার বুকের কপি
  4. দণ্ডিতের আইনজীবী আছে কি না নিশ্চিত করুন
    সলিসিটর উইং (আইন ও বিচার বিভাগ)

    শুনানিতে প্রত্যেক দণ্ডিতের একজন আইনজীবী থাকা উচিত। কারও আইনজীবী না থাকলে হাইকোর্ট রাষ্ট্রকে একজন আইনজীবী দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন। জুন ২০২৬-এ হাইকোর্ট একটি ডেথ রেফারেন্সে দণ্ডিতদের জন্য ফৌজদারি আইনে অভিজ্ঞ একজন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ দিতে আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর উইংকে নির্দেশ দেন। সলিসিটর উইং সরাসরি আসা দর্শনার্থীর ভিত্তিতে নয়, আদালতের আদেশে কাজ করে, তাই যেসব পরিবারের আইনজীবী রাখার সামর্থ্য নেই তাঁদের সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসেও যোগাযোগ করা উচিত, যা জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিলকে সহায়তাযোগ্য বিষয়ের তালিকায় রেখেছে।

    পরামর্শ: নিযুক্ত আইনজীবীর নাম ও ফোন নম্বর চেয়ে নিন, যাতে পরিবার তথ্য পৌঁছে দিতে পারে।

    কে: আদালতের কর্মচারী + আপনার আইনজীবীসময়: আদালতের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করে (নির্দেশক)সঙ্গে আনুন: আদালতের আদেশের কপি, যদি থাকেআপনি পাবেন: নিযুক্ত রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর নাম
  5. রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য উপস্থাপিত হয়
    অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়

    শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের একজন ডেপুটি বা সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। ল অফিসার পেপার বুকের সাক্ষ্য তুলে ধরেন এবং মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করা উচিত কি না সে বিষয়ে যুক্তি দেন। আদালত দণ্ড অনুমোদন করতে, অন্য দণ্ড দিতে, অধিকতর তদন্ত বা অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণের আদেশ দিতে, অথবা খালাস দিতে পারেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সাধারণত শুনানির আগে পেপার বুক ও সময় নিয়ে ল অফিসারের সঙ্গে কথা বলেন। এজি অফিসের ভবন সরকারিভাবে প্রকাশিত নয়, তাই খুঁজে পেতে হলে অনুসন্ধান ডেস্কে জিজ্ঞেস করুন।

    পরামর্শ: পরিবারের সদস্যরা এজলাস থেকে শুনানি দেখতে পারেন; কোন দিনগুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা আইনজীবীকে জিজ্ঞেস করুন।

    কে: আপনার আইনজীবী + আদালতের কর্মচারীসময়: শুনানি কয়েক দিন ধরে চলতে পারে (নির্দেশক)সঙ্গে আনুন: পেপার বুকসঙ্গে আনুন: সাক্ষ্যের নোট
  6. বিশেষ বেঞ্চে শুনানি
    মূল ভবনে হাইকোর্ট বিভাগের এজলাস

    ডেথ রেফারেন্সের জন্য প্রধান বিচারপতির গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ আপিলগুলোর সঙ্গে রেফারেন্সটির শুনানি করেন। বেঞ্চগুলো মূল ভবন ও অন্যান্য আদালত ভবনে বসে, তাই ডেথ রেফারেন্সের কার্যতালিকায় কোর্ট নম্বর ও ভবন দেখে নিন। এজলাস সাধারণত সকাল ১০:৩০-এ শুরু হয়। বেঞ্চ দণ্ড অনুমোদন করতে, অন্য দণ্ড দিতে বা দোষী সাব্যস্তকরণ বাতিল করতে পারেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৭ অনুযায়ী অনুমোদনের আদেশ অন্তত দুজন বিচারপতিকে দিতে ও স্বাক্ষর করতে হবে। পরে রায় স্বাক্ষরিত হয় এবং নথি শাখায় ফিরে যায়।

    পরামর্শ: রায় হওয়ামাত্র সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদন করুন; যেকোনো লিভ পিটিশনের সময় রায়ের তারিখ থেকে গণনা হয়।

    কে: আপনি + আপনার আইনজীবী + আদালতের কর্মচারীসময়: এক বা একাধিক শুনানির দিন (নির্দেশক)সঙ্গে আনুন: কার্যতালিকার সংশ্লিষ্ট অংশসঙ্গে আনুন: জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টআপনি পাবেন: হাইকোর্ট বিভাগের রায় (সার্টিফায়েড কপির জন্য আলাদা আবেদন করতে হয়)
  7. আপিল বিভাগে পরবর্তী আপিল
    আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রি (লিভ পিটিশন ও আপিল দাখিল)

    পরাজিত পক্ষ মামলাটি আপিল বিভাগে নিতে পারে। আপিল বিভাগ রুলস অনুযায়ী হাইকোর্টের রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে ফৌজদারি আপিলের অনুমতির আবেদন দাখিল করতে হয়, এবং খালাসের বিরুদ্ধে লিভ চাইতে অ্যাটর্নি জেনারেল বা অন্য ল অফিসারের ৬০ দিন সময় থাকে। একজন অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড রায়ের সার্টিফায়েড কপিসহ আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রিতে পিটিশন দাখিল করেন। রেজিস্ট্রির ভবন সরকারিভাবে প্রকাশিত নয়, তাই অনুসন্ধান ডেস্কে জিজ্ঞেস করুন। আর কোনো আপিল না হলে রায় ও নথি বিচারিক আদালতে ফিরে যায়।

    পরামর্শ: আইনজীবী নিয়োগের আগে কপির অপেক্ষা করবেন না; সময় রায়ের তারিখ থেকে গণনা হয়।

    কে: আপনার আইনজীবীসময়: বিধান: ফৌজদারি লিভ পিটিশনের জন্য ৩০ দিন (খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের জন্য ৬০ দিন)ফি: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: হাইকোর্টের রায়ের সার্টিফায়েড কপিসঙ্গে আনুন: ওকালতনামাআপনি পাবেন: লিভ পিটিশন নম্বর
০৫নিম্ন আদালত জামিন নামঞ্জুর করলে হাইকোর্ট বিভাগে জামিন চাওয়া৬টি ধাপ · নির্দেশক: তালিকার ওপর নির্ভর করে দাখিল থেকে আদেশ পর্যন্ত কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ।

নিম্ন আদালত জামিন নামঞ্জুর করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৮ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করতে পারেন। এই ধাপে ধাপে বিবরণে সাধারণ পথটি অনুসরণ করা হয়েছে: নিম্ন আদালতের আদেশ সংগ্রহ, হলফনামা সম্পাদন, ফৌজদারি শাখায় দাখিল, রাষ্ট্রপক্ষকে কপি দেওয়া, ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি, এবং অভিযুক্তের মুক্তির জন্য জামিন আদেশ নিম্ন আদালতে পৌঁছানো নিশ্চিত করা।

সেদিন সঙ্গে আনুন: জামিন নামঞ্জুরের নিম্ন আদালতের আদেশের সার্টিফায়েড কপি, এজাহার বা নালিশি দরখাস্ত এবং অভিযোগপত্রের (যদি থাকে) কপি, যেসব চিকিৎসা বা হেফাজত সংক্রান্ত কাগজের ওপর নির্ভর করা হচ্ছে, তদবিরকারকের জাতীয় পরিচয়পত্র, স্বাক্ষরিত ওকালতনামা

  1. নিম্ন আদালতের কাগজপত্র সংগ্রহ করুন
    কেন্দ্রীয় নকল শাখা (সার্টিফায়েড কপি) · নিচতলা, অ্যানেক্স ভবন

    কিছু দাখিলের আগে জামিন নামঞ্জুরের নিম্ন আদালতের আদেশের সার্টিফায়েড কপি সেই আদালতের নিজস্ব নকল বিভাগ থেকে সংগ্রহ করুন, সুপ্রিম কোর্ট থেকে নয়। হাইকোর্ট বিভাগ রুলস অনুযায়ী ফৌজদারি মোশনের সঙ্গে চ্যালেঞ্জকৃত আদেশের সার্টিফায়েড কপি এবং নির্ভরযোগ্য অন্যান্য আদেশের সার্টিফায়েড কপি, অথবা আদালতের অনুমতি নিয়ে সত্যায়িত ফটোকপি দিতে হয়। এজাহার বা নালিশি দরখাস্ত, অভিযোগপত্র (যদি থাকে) এবং চিকিৎসা বা হেফাজত সংক্রান্ত কাগজের কপি জোগাড় করুন। পরে হাইকোর্টের আদেশের কপি লাগলে অ্যানেক্স ভবনের নিচতলার কেন্দ্রীয় নকল শাখা তা দেয়।

    পরামর্শ: পাঠযোগ্য, সম্পূর্ণ এক সেট কাগজপত্র থাকলে কাগজের অভাবে বেঞ্চ মুলতবি করেন না।

    কে: আপনি + আপনার আইনজীবীর মুহুরিসময়: নিম্ন আদালতের ওপর নির্ভর করে কয়েক দিন (নির্দেশক)সঙ্গে আনুন: নিম্ন আদালতের মামলা নম্বরসঙ্গে আনুন: অভিযুক্তের বিবরণআপনি পাবেন: জামিন নামঞ্জুরের আদেশের সার্টিফায়েড কপি
  2. সমর্থনকারী হলফনামা সম্পাদন করুন
    হলফনামা কমিশনার (Commissioner of Affidavits) · নিচতলা, প্রশাসনিক ভবন ২

    ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৮-এর অধীনে জামিনের আবেদন একটি ফৌজদারি মোশন, এবং এর সমর্থনে হলফনামা লাগে। হাইকোর্ট বিভাগ রুলস অনুযায়ী আবেদনকারী নিজে অথবা একজন তদবিরকারক, প্রায়ই মামলার খোঁজ রাখা পরিবারের কোনো সদস্য, এটি সম্পাদন করতে পারেন। হলফকারী সশরীরে প্রশাসনিক ভবন ২-এর নিচতলায় হলফনামা কমিশনারের কাছে যান, শনাক্ত হন, শপথ বা প্রতিজ্ঞা করেন এবং স্বাক্ষর দেন। কমিশনার স্ট্যাম্পের প্রত্যয়ন দেন। এরপর শপথের ৪৫ দিনের মধ্যে বেঞ্চ অফিসারের কাছে মোশন দাখিল করতে হয়; এর পরে হলফনামার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।

    পরামর্শ: ৪৫ দিনের বৈধতা কোনো তামাদির সময়সীমা বাড়ায় না।

    কে: আপনি + আদালতের কর্মচারীসময়: এক ঘণ্টার কম (নির্দেশক)ফি: কোর্ট ভবনে গৃহীত হলফনামার জন্য কোনো ফি নেই (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ৪ বিধি ৩৩)সঙ্গে আনুন: তদবিরকারকের জাতীয় পরিচয়পত্রসঙ্গে আনুন: হলফনামাসহ জামিনের আবেদনআপনি পাবেন: শপথকৃত হলফনামা
  3. ফৌজদারি শাখায় দাখিল করুন
    ফাইলিং শাখা (ফৌজদারি) · নিচতলা, প্রশাসনিক ভবন ২

    আপনার আইনজীবীর মুহুরি হলফনামা ও সংযুক্তিসহ আবেদনটি প্রশাসনিক ভবন ২-এর নিচতলায় ফাইলিং শাখায় (ফৌজদারি), অথবা শাখার নির্দেশমতো দাখিল করেন, কারণ এর গ্রহণের সুনির্দিষ্ট নিয়ম প্রকাশিত নেই। বিষয়টি ফৌজদারি বিবিধ মামলা হিসেবে নিবন্ধিত হয় এবং নথি অ্যানেক্স ভবনের চতুর্থ তলায় ফৌজদারি বিবিধ শাখায় সংরক্ষিত থাকে। ফৌজদারি বিবিধ নম্বরটি লিখে রাখুন: পরবর্তী সব খোঁজখবর, আদেশ ও নকলের আবেদন—সবকিছুতে এটি লাগে।

    পরামর্শ: মামলা নম্বর দেওয়ামাত্র তা আপনাকে এসএমএস করতে মুহুরিকে বলুন।

    কে: আপনার আইনজীবীর মুহুরি + আদালতের কর্মচারীসময়: সেদিনই (নির্দেশক)ফি: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: হলফনামাসহ আবেদনসঙ্গে আনুন: নিম্ন আদালতের আদেশের সার্টিফায়েড কপিসঙ্গে আনুন: ওকালতনামাআপনি পাবেন: ফৌজদারি বিবিধ মামলার নম্বর
  4. রাষ্ট্রপক্ষকে একটি কপি দিন
    অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়

    হাইকোর্টের ফৌজদারি বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করে। বাস্তবে জামিনের আবেদনের একটি কপি এজি অফিসে দেওয়া হয়, যাতে বেঞ্চে সংযুক্ত ডেপুটি বা সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নির্দেশনা নিতে পারেন। শুনানিতে ল অফিসার জামিনের বিরোধিতা করতে পারেন বা নির্দেশনা পেতে সময় চাইতে পারেন, যেমন পুলিশের কাছ থেকে প্রতিবেদন। এজি অফিসের ভবন সরকারিভাবে প্রকাশিত নয়, তাই অনুসন্ধান ডেস্কে বা গেটে জিজ্ঞেস করুন। আপনার কপিতে জারির পৃষ্ঠাঙ্কন রেখে দিন।

    পরামর্শ: কপি না দেওয়া আবেদন প্রায়ই মুলতবি হয়। বিষয়টি মেনশনের আগেই কপি দিন।

    কে: আপনার আইনজীবীর মুহুরিসময়: ১-২ ঘণ্টা (নির্দেশক)সঙ্গে আনুন: আবেদন ও সংযুক্তির কপিআপনি পাবেন: জারির পৃষ্ঠাঙ্কন
  5. ডিভিশন বেঞ্চে জামিনের আবেদন উত্থাপন করুন
    বেঞ্চ অফিসার ও বেঞ্চ রিডার (প্রতিটি বেঞ্চের আদালত-কর্মচারী)

    আপনার আইনজীবী ফৌজদারি বিবিধ এখতিয়ারসম্পন্ন কোনো বেঞ্চের বেঞ্চ অফিসারের কাছে মোশন দাখিল করেন। ফৌজদারি মোশন সাধারণত সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে দাখিল করা হয়, অথবা জরুরি হলে বেঞ্চের অনুমতি নিয়ে অন্য দিনে। বেঞ্চ অফিসার এতে ক্রমিক নম্বর দিয়ে মুহুরিকে জানান। হাইকোর্ট বিভাগ রুলস অনুযায়ী ধারা ৪৯৮-এর জামিনের আবেদন একক বেঞ্চে নয়, দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি হতে হবে। শুনানিতে বেঞ্চ জামিন দিতে, নামঞ্জুর করতে, অথবা রুল জারি করে নিম্ন আদালতের নথি বা প্রতিবেদন চাইতে পারেন।

    পরামর্শ: আগে বেঞ্চ-তালিকা দেখুন; ভুল বেঞ্চে দাখিল করলে কয়েক দিন নষ্ট হয়।

    কে: আপনার আইনজীবী + আদালতের কর্মচারীসময়: তালিকার ওপর নির্ভর করে দাখিলের কয়েক দিনের মধ্যে শুনানি (নির্দেশক)সঙ্গে আনুন: হলফনামাসহ মোশনসঙ্গে আনুন: প্রয়োজনে মেনশন স্লিপআপনি পাবেন: ক্রমিক নম্বরআপনি পাবেন: জামিন বিষয়ে বেঞ্চের আদেশ
  6. জামিন আদেশ নিম্ন আদালতে পাঠান
    বেইল কনফার্মেশন সেন্টার · তৃতীয় তলা, অ্যানেক্স ভবন

    জামিন মঞ্জুর হলে আদেশ স্বাক্ষরিত হয়ে শাখার মাধ্যমে ফেরত যায়, এবং নিম্ন আদালত জামিননামা গ্রহণ করলে অভিযুক্তকে মুক্তি দেয়। বেইল কনফার্মেশন সেন্টার অ্যানেক্স ভবনের তৃতীয় তলায়, এবং ওয়েবসাইটে একটি অনলাইন জামিন নিশ্চিতকরণ সেবার লিংক আছে। নাম থেকে বোঝা যায়, এগুলোর মাধ্যমে নিম্ন আদালত ও অন্যরা হাইকোর্টের জামিন আদেশ আসল কি না নিশ্চিত হতে পারেন, তবে বিস্তারিত পদ্ধতি প্রকাশিত নেই। আদেশটি কীভাবে নিম্ন আদালতে পৌঁছাবে, তা আপনার আইনজীবীকে জিজ্ঞেস করুন এবং প্রয়োজনে সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদন করুন।

    পরামর্শ: আদেশে থাকা নাম ও মামলা নম্বর নিম্ন আদালতের নথির সঙ্গে হুবহু মেলে কি না দেখে নিন।

    কে: আপনার আইনজীবী + আদালতের কর্মচারীসময়: নিম্ন আদালতে আদেশ পৌঁছানোর ওপর নির্ভর করে কয়েক দিন (নির্দেশক)সঙ্গে আনুন: ফৌজদারি বিবিধ নম্বরসঙ্গে আনুন: জামিন আদেশের তারিখসঙ্গে আনুন: আদেশে যেভাবে আছে হুবহু সেভাবে অভিযুক্তের নামআপনি পাবেন: জামিন আদেশের নিশ্চিতকরণআপনি পাবেন: নিম্ন আদালত জামিননামা গ্রহণের পরে মুক্তি
০৬আপিল বিভাগে আপিল এবং চেম্বার জজের কাছে স্থগিতাদেশ চাওয়া৫টি ধাপ · নির্দেশক: রায়ের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দাখিল; জরুরি স্থগিতাদেশ চেম্বার জজ কয়েক দিনের মধ্যে শুনতে পারেন; লিভের শুনানি সাধারণত পরে হয়।

হাইকোর্ট বিভাগে হেরে যাওয়া পক্ষ আপিল বিভাগে আপিলের অনুমতি চাইতে পারেন, এবং জরুরি ক্ষেত্রে এর মধ্যে চেম্বার জজের কাছে স্থগিতাদেশ বা জামিন চাইতে পারেন। এই ধাপে ধাপে বিবরণে আছে সার্টিফায়েড কপি, আপিল বিভাগের সময়সীমা, অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ডের মাধ্যমে দাখিল, চেম্বার কোর্ট এবং ডিজিটাল প্রবেশ পাস নিয়ে শুনানিতে উপস্থিতি।

সেদিন সঙ্গে আনুন: হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের সার্টিফায়েড কপি, অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ডের জন্য ওকালতনামা, জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট, এজলাসের জন্য ডিজিটাল প্রবেশ পাস

  1. জরুরি ভিত্তিতে সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করুন
    কেন্দ্রীয় নকল শাখা (সার্টিফায়েড কপি) · নিচতলা, অ্যানেক্স ভবন

    হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের সার্টিফায়েড কপির জন্য সঙ্গে সঙ্গে অ্যানেক্স ভবনের নিচতলায় কেন্দ্রীয় নকল শাখায় আবেদন করুন এবং আবেদনটি জরুরি চিহ্নিত করুন। জরুরি কপিতে প্রতি পৃষ্ঠায় অতিরিক্ত ১০ টাকা লাগে এবং সাধারণত হিসাবকৃত স্ট্যাম্প ও ফোলিও জমার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তা প্রস্তুত হওয়ার কথা। আপিল বিভাগ রুলস অনুযায়ী দেওয়ানি লিভ পিটিশন ৬০ দিনের মধ্যে এবং ফৌজদারি লিভ পিটিশন ৩০ দিনের মধ্যে দাখিল করতে হয়, যা গণনা হয় হাইকোর্টের রায়ের তারিখ থেকে। কপির অপেক্ষায় থাকার সময়েই একজন অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ডকে বিষয়টি বুঝিয়ে দিন।

    পরামর্শ: কপির তারিখ নয়, রায়ের তারিখ থেকে ৬০ বা ৩০ দিনের সময়সীমা ডায়েরিতে লিখে রাখুন।

    কে: আপনার আইনজীবীর মুহুরি + আদালতের কর্মচারীসময়: বিধান: জরুরি কপির জন্য জমার ৭২ ঘণ্টার মধ্যেফি: প্রতি ১৫০ ইংরেজি বা ২০০ বাংলা শব্দে ২ টাকা; প্রতিটি দলিলে ৫ টাকা প্রত্যয়ন ফি; জরুরি কপিতে প্রতি পৃষ্ঠায় অতিরিক্ত ১০ টাকা (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ১৩ বিধি ৭খ, ১৫)সঙ্গে আনুন: মামলা নম্বর ও রায়ের তারিখসঙ্গে আনুন: কোর্ট ফি স্ট্যাম্প ও ফোলিওআপনি পাবেন: রায়ের সার্টিফায়েড কপি
  2. লিভ পিটিশন দাখিল করুন
    আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রি (লিভ পিটিশন ও আপিল দাখিল)

    একজন অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড যুক্তি, রায়ের সার্টিফায়েড কপি ও কোর্ট ফিসহ আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রিতে দেওয়ানি বা ফৌজদারি আপিলের অনুমতির আবেদন (সিপিএলএ বা ক্রিমিনাল পিএলএ) দাখিল করেন। আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার প্রতিস্থাপন ও নথি তলবের মতো বহু কার্যপ্রণালীগত বিষয় নিষ্পত্তি করতে পারেন। আপিল বিভাগ রুলসের পাঠ অনুযায়ী কর্মদিবসে দপ্তর সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত খোলা, এবং শেষ এক ঘণ্টায় অ-জরুরি বিষয় গ্রহণ করা হয় না; এটি প্রধান বিচারপতির আদেশসাপেক্ষ, তাই বর্তমান সময় যাচাই করুন। রেজিস্ট্রির ভবন সরকারিভাবে প্রকাশিত নয়; অনুসন্ধান ডেস্কে জিজ্ঞেস করুন।

    পরামর্শ: দিনের শুরুতেই দাখিল করুন; আপিল বিভাগ রুলসের পাঠ অনুযায়ী দপ্তরের শেষ ঘণ্টায় অ-জরুরি বিষয় গ্রহণ করা হয় না।

    কে: আপনার আইনজীবী + আদালতের কর্মচারীসময়: বিধান: রায় থেকে দেওয়ানি ৬০ দিন, ফৌজদারি ৩০ দিনফি: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: রায়ের সার্টিফায়েড কপিসঙ্গে আনুন: ওকালতনামাআপনি পাবেন: লিভ পিটিশন নম্বর
  3. চেম্বার জজের কাছে স্থগিতাদেশ চান
    চেম্বার কোর্ট (আপিল বিভাগের চেম্বার জজ) · দ্বিতীয় তলা, মূল ভবন

    জরুরি অন্তর্বর্তী প্রতিকার দরকার হলে, যেমন লিভ পিটিশন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত বা জামিন, আপনার অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড চেম্বার জজের কাছে আবেদন দাখিল করেন। চেম্বার কোর্ট মূল ভবনের দ্বিতীয় তলায়। আপিল বিভাগ রুলসের আদেশ ৫ অনুযায়ী চেম্বার জজ স্থগিতাদেশ, জামিন ও তালিকাভুক্ত অন্যান্য বিষয় নিষ্পত্তি করতে পারেন। চেম্বার জজ অন্তর্বর্তী প্রতিকার দিতে, ‘নো অর্ডার’ দিতে অথবা বিষয়টি নিয়মিত বেঞ্চে পাঠাতে পারেন। অন্তত তিনজন বিচারপতির বেঞ্চ চেম্বার জজের আদেশ পুনর্বিবেচনা করতে পারেন।

    পরামর্শ: পরবর্তী শুনানির জন্য প্রস্তুত থাকুন; নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানো খুবই সাধারণ।

    কে: আপনার আইনজীবী + আদালতের কর্মচারীসময়: জরুরি হলে প্রায়ই কয়েক দিনের মধ্যে শুনানি হয় (নির্দেশক)ফি: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: হলফনামাসহ স্থগিতাদেশ বা জামিনের আবেদনসঙ্গে আনুন: লিভ পিটিশন নম্বরআপনি পাবেন: চেম্বার জজের আদেশ
  4. ডিজিটাল প্রবেশ পাস বুক করুন
    প্রবেশ গেট, পরিচয়পত্র যাচাই ও প্রাঙ্গণে আচরণবিধি

    ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ থেকে আপিল বিভাগের এজলাসে বা এর সংলগ্ন এলাকায় ঢুকতে বিচারপ্রার্থীদের ডিজিটাল প্রবেশ পাস লাগে। আগের দিন সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রবেশের তারিখ, মামলা নম্বর, আপনার নাম, মোবাইল নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দিয়ে এটি বুক করুন। পাসটি প্রিন্ট করুন বা স্ক্রিনশট রাখুন। নির্ধারিত দিনে জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট নিয়ে প্রাঙ্গণে ঢুকুন, কারণ আগস্ট ২০২৫-এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিরাপত্তাকর্মীরা তা দেখতে চাইতে পারেন। গেটে তল্লাশির জন্য সময় হাতে রাখুন এবং নিরাপত্তাকর্মীদের জানান যে আপনি মূল ভবনে যাচ্ছেন।

    পরামর্শ: পাস ছাড়া আপনাকে আপিল বিভাগের এজলাসে ঢুকতে না-ও দেওয়া হতে পারে।

    কে: আপনিসময়: বুক করতে ও নিরাপত্তা পার হতে ১৫-৩০ মিনিট (নির্দেশক)সঙ্গে আনুন: জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টসঙ্গে আনুন: মামলা নম্বরসঙ্গে আনুন: মোবাইল ফোনআপনি পাবেন: ডিজিটাল প্রবেশ পাস
  5. লিভের শুনানিতে উপস্থিত হোন
    আপিল বিভাগের এজলাস (কোর্ট নং ১, ২ ও ৩) · দ্বিতীয় তলা, মূল ভবন

    লিভ পিটিশনের শুনানি হয় মূল ভবনের দ্বিতীয় তলায় কোর্ট ১, ২ বা ৩-এর কোনো একটিতে। লিভ পিটিশন দুজন বিচারপতি শুনানি করতে পারেন; আপিল সাধারণত অন্তত তিনজন। আপনার পক্ষে কেবল আপনার অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড বা অন্য কোনো আইনজীবী কথা বলবেন। লিভ নামঞ্জুর হলে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকে, তবে ৩০ দিনের মধ্যে রিভিউ পিটিশনের সুযোগ থাকে। লিভ মঞ্জুর হলে আপিলটি নথি, মামলার বিবরণী (statement of case) ও শুনানি বিষয়ে আপিল বিভাগ রুলস অনুসরণ করে চলে, এবং পরে কী লাগবে তা আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রি আপনার আইনজীবীকে জানাবে।

    পরামর্শ: আপিল বিভাগের আদালতগুলো মূল ভবনে, অ্যানেক্স বা বিজয় ৭১-এ নয়।

    কে: আপনি + আপনার আইনজীবীসময়: ডাক পড়লে লিভের শুনানি প্রায়ই সংক্ষিপ্ত হয় (নির্দেশক)সঙ্গে আনুন: ডিজিটাল প্রবেশ পাসসঙ্গে আনুন: জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টসঙ্গে আনুন: কার্যতালিকার সংশ্লিষ্ট অংশআপনি পাবেন: লিভ মঞ্জুর বা নামঞ্জুরের আদেশ
০৭সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে বিনা খরচে আইনি সহায়তা৫টি ধাপ · নির্দেশক: সিদ্ধান্তের জন্য কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ, তারপর মামলার স্বাভাবিক সময়।

যাঁদের আইনজীবী রাখার সামর্থ্য নেই, তাঁরা আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর অধীনে ২০১৫ সালে চালু হওয়া সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে বিনা খরচে আইনজীবী পেতে পারেন। এটি আপিল, রিভিশন, জেল আপিল, রিট এবং আপিল বিভাগে লিভ পিটিশনে সহায়তা দেয়। এই ধাপে ধাপে বিবরণে আছে অফিস খুঁজে পাওয়া, আবেদন, প্যানেল আইনজীবী নিয়োগ এবং পরবর্তী দাখিল।

সেদিন সঙ্গে আনুন: জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট, আয় বা অসহায়ত্বের প্রমাণ, যে রায় চ্যালেঞ্জ করা হবে তার কপি, মামলার অন্যান্য কাগজপত্র, যোগাযোগের ফোন নম্বর

  1. প্রাঙ্গণে ঢুকে অফিসটি খুঁজে নিন
    প্রবেশ গেট, পরিচয়পত্র যাচাই ও প্রাঙ্গণে আচরণবিধি

    জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ঢুকুন, কারণ আগস্ট ২০২৫-এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিরাপত্তাকর্মীরা তা দেখতে চাইতে পারেন। লিগ্যাল এইড অফিস কোন ভবনে, তা সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে বলা নেই, তাই নিরাপত্তাকর্মী বা অনুসন্ধান ডেস্কে জিজ্ঞেস করুন, অথবা রওনা দেওয়ার আগে ওয়েবসাইটে দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের যোগাযোগ নম্বরে ফোন করুন। কর্মদিবসে দপ্তরের সময়ে যান, শুক্র বা শনিবারে নয়। আপিলের সময়সীমার মতো কোনো সময়সীমা থাকলে পৌঁছানোমাত্র তা জানান।

    পরামর্শ: আগে প্রকাশিত যোগাযোগ নম্বরে ফোন করুন; দপ্তর স্থানান্তরিত হতে পারে।

    কে: আপনিসময়: প্রবেশের তল্লাশির জন্য ১৫-৩০ মিনিট (নির্দেশক)সঙ্গে আনুন: জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টআপনি পাবেন: অফিসের পথনির্দেশ
  2. আপনার আবেদন জমা দিন
    সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস

    সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসে একটি লিখিত আবেদন জমা দিন। আপনি কে, কোন রায় বা আদেশ চ্যালেঞ্জ বা সমর্থন করতে চান, এবং কেন আইনজীবীর খরচ দিতে পারছেন না, তা ব্যাখ্যা করুন। আয় বা অসহায়ত্বের মতো যোগ্যতার প্রমাণ এবং রায় ও মামলার অন্যান্য কাগজের কপি সংযুক্ত করুন। অফিসের ওয়েব পাতায় প্রথম আপিল ও দেওয়ানি রিভিশন, ফৌজদারি আপিল ও রিভিশন, জেল আপিল, রিট পিটিশন এবং আপিল বিভাগে লিভ পিটিশনে সহায়তার পাশাপাশি আইনি পরামর্শ ও মামলার গুণাগুণ সম্পর্কে মতামতের কথা বলা আছে।

    পরামর্শ: সার্টিফায়েড কপি থাকলে সঙ্গে আনুন; প্যানেল আইনজীবীর সেগুলো লাগবে।

    কে: আপনি + আদালতের কর্মচারীসময়: প্রায় এক ঘণ্টা (নির্দেশক)ফি: যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য বিনা খরচেসঙ্গে আনুন: আবেদনসঙ্গে আনুন: যোগ্যতার প্রমাণসঙ্গে আনুন: মামলার কাগজপত্রআপনি পাবেন: আপনার আবেদনের রসিদ বা রেফারেন্স
  3. একজন প্যানেল আইনজীবী নিয়োগ পান
    সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস

    অফিস আবেদনটি যাচাই করে। গৃহীত হলে সুপ্রিম কোর্টের আইনগত সহায়তা প্যানেল থেকে একজন আইনজীবী বিনা খরচে আপনার জন্য নিয়োগ পান, এবং সরকার সরাসরি আইনজীবীর সম্মানী পরিশোধ করে। অফিস মামলার প্রকৃত খরচও বহন করতে পারে। অফিসের প্রধান চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার, যিনি একজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা। প্যানেল আইনজীবীর নাম ও ফোন নম্বর চেয়ে নিন এবং দেখা করার ব্যবস্থা করুন। কোনো সময়সীমা থাকলে সঙ্গে সঙ্গে আইনজীবীকে জানান, কারণ আইনগত সহায়তার প্রক্রিয়া চলার সময়েও তামাদির মেয়াদ চলতে থাকে।

    পরামর্শ: আইনগত সহায়তার আবেদন দ্রুত করিয়ে দেওয়ার দাবি করা কাউকে টাকা দেবেন না।

    কে: আদালতের কর্মচারী + আপনার আইনজীবীসময়: কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ (নির্দেশক)ফি: বিনা খরচে; সরকার সরাসরি প্যানেল আইনজীবীকে পরিশোধ করেসঙ্গে আনুন: যোগাযোগের ফোন নম্বরআপনি পাবেন: প্যানেল আইনজীবীর নাম ও যোগাযোগ
  4. আইনজীবী সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করেন
    কেন্দ্রীয় নকল শাখা (সার্টিফায়েড কপি) · নিচতলা, অ্যানেক্স ভবন

    প্যানেল আইনজীবী দেখেন কোন কোন সার্টিফায়েড কপি লাগবে এবং যেগুলো নেই সেগুলো সংগ্রহ করেন। হাইকোর্ট বিভাগের রায় ও আদেশের কপি আসে অ্যানেক্স ভবনের নিচতলার কেন্দ্রীয় নকল শাখা থেকে, ফরম নং ২৪ (দেওয়ানি)-তে আবেদন করে। নিম্ন আদালতের রায়ের কপি আসে সংশ্লিষ্ট আদালতের নকল বিভাগ থেকে। আইনজীবী তামাদির মেয়াদও যাচাই করেন এবং প্রয়োজনে জরুরি কপি চান, যা রুলস অনুযায়ী সাধারণত হিসাবকৃত স্ট্যাম্প ও ফোলিও জমার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রস্তুত হওয়ার কথা।

    পরামর্শ: প্রকৃত খরচের অংশ হিসেবে নকলের খরচ বহন করা হবে কি না, লিগ্যাল এইড অফিসে জিজ্ঞেস করুন।

    কে: আপনার আইনজীবী + আদালতের কর্মচারীসময়: সাধারণ কপিতে প্রায় এক সপ্তাহ (নির্দেশক)ফি: প্রতি ১৫০ ইংরেজি বা ২০০ বাংলা শব্দে ২ টাকা; প্রতিটি দলিলে ৫ টাকা প্রত্যয়ন ফি; জরুরি কপিতে প্রতি পৃষ্ঠায় অতিরিক্ত ১০ টাকা (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ১৩ বিধি ৭খ, ১৫)সঙ্গে আনুন: ইতিমধ্যে সংগৃহীত কপিআপনি পাবেন: দাখিলের জন্য প্রয়োজনীয় সার্টিফায়েড কপি
  5. মামলা দাখিল ও পরিচালনা করা হয়
    ফৌজদারি আপিল শাখা · তৃতীয় তলা, প্রশাসনিক ভবন ৩

    প্যানেল আইনজীবী সঠিক শাখায় মামলা দাখিল করেন, যেমন প্রশাসনিক ভবন ৩-এর তৃতীয় তলায় ফৌজদারি আপিল শাখায় ফৌজদারি আপিল, এবং শুনানিতে মামলা পরিচালনা করেন। শাখা আপিল নিবন্ধন করে, নির্দেশ থাকলে নিম্ন আদালতের নথি তলব করে, এবং প্রস্তুত হলে শুনানির জন্য উপস্থাপন করে। আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন, মামলা নম্বর লিখে রাখুন এবং অনলাইন কার্যতালিকা দেখুন। মক্কেল কারাগারে থাকলে কোনো জেল আপিলের কথাও আইনজীবীকে জানান, যাতে দুটি যুক্ত হয়।

    পরামর্শ: প্রতিটি শুনানির পরে কী হলো এবং এরপর কী, তা আপনাকে জানাতে আইনজীবীকে বলুন।

    কে: আপনার আইনজীবী + আদালতের কর্মচারীসময়: কয়েক দিনের মধ্যে নিবন্ধন; শুনানি পরে (নির্দেশক)ফি: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: মামলার কাগজপত্রআপনি পাবেন: মামলা নম্বরআপনি পাবেন: শুনানির তারিখ
০৮অ্যাটর্নি জেনারেল ও সরকারি প্রতিপক্ষের ওপর রুল নিশি জারি৭টি ধাপ · নির্দেশক: রুলের এক সপ্তাহের মধ্যে রিকুইজিট; জারি ও ফেরত আসতে সাধারণত কয়েক সপ্তাহ লাগে।

রিটে হাইকোর্ট রুল নিশি জারি করার পরে মামলার শুনানির আগে প্রতিপক্ষদের ওপর তা জারি করতে হয়। হাইকোর্ট বিভাগ রুলস অনুযায়ী আবেদনকারী কপি, খাম ও জারি ফি সরবরাহ করেন। কোনো মন্ত্রণালয় বা সরকারি সংস্থা প্রতিপক্ষ হলে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় তার পক্ষে কাজ করে। এই ধাপে ধাপে বিবরণে আদেশ থেকে ফেরতযোগ্য তারিখের পরের শুনানি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ রয়েছে।

সেদিন সঙ্গে আনুন: রিট পিটিশন নম্বর ও রুল নিশির আদেশ, প্রত্যেক প্রতিপক্ষের জন্য পিটিশন ও সংযুক্তির একটি পূর্ণ কপি, প্রত্যেক প্রতিপক্ষের সঠিক ঠিকানা, ডাকমাশুল-পরিশোধিত প্রাপ্তিস্বীকারপত্রসহ রেজিস্ট্রি খাম, জারি ফির জন্য টাকা

  1. রুল ও এর নির্দেশনাগুলো লিখে রাখুন
    অ্যানেক্স ভবনে হাইকোর্ট বিভাগের এজলাস

    বেঞ্চ রুল নিশি জারি করলে আদেশে প্রতিপক্ষদের নাম থাকে, জারির জন্য নির্দিষ্ট একটি ফেরতযোগ্য তারিখ নির্ধারিত হয় এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিকুইজিট দিতে আবেদনকারীকে নির্দেশ দেওয়া হয়। আপনার আইনজীবী বেঞ্চ থেকে এগুলো লিখে নেন এবং নথি রিট শাখায় ফিরে এলে স্বাক্ষরিত আদেশটি মিলিয়ে দেখেন। হাইকোর্ট বিভাগ রুলস অনুযায়ী আদালত সময় না বাড়ালে আদেশের তিন কর্মদিবসের মধ্যে জারি ফি দিতে হয়। শুনানির পরপরই রিকুইজিটের সময়সীমা ও ফেরতযোগ্য তারিখ দুটোই ডায়েরিতে লিখে রাখুন।

    পরামর্শ: এখনই প্রতিপক্ষদের ঠিকানা যাচাই করুন; ভুল ঠিকানা মানে জারি ব্যর্থ।

    কে: আপনার আইনজীবীসময়: সেদিনই (নির্দেশক)সঙ্গে আনুন: মামলার শিরোনামসহ পিটিশনের কপিআপনি পাবেন: আদেশ ও সময়সীমার নোট
  2. জারি ফি পরিশোধ করুন
    রিট শাখা · দ্বিতীয় তলা, প্রশাসনিক ভবন ২

    আপনার আইনজীবীর মুহুরি প্রশাসনিক ভবন ২-এর দ্বিতীয় তলায় রিট শাখায় গিয়ে নগদ বা কোর্ট ফি স্ট্যাম্পে রুল নিশির নোটিশ জারির ফি পরিশোধ করেন। আদালত অন্য কোনো নির্দেশ না দিলে হাইকোর্ট বিভাগ রুলস আদেশ থেকে তিন কর্মদিবস সময় দেয়। শাখার কর্মচারীরা রিট নম্বরের বিপরীতে পরিশোধ লিপিবদ্ধ করেন। পরিশোধটি নথিতে লিপিবদ্ধ করাতে বলুন এবং কোনো রসিদ থাকলে রেখে দিন, কারণ এটি ছাড়া শাখা নোটিশ পাঠাবে না বা আদেশের কপি দেবে না।

    পরামর্শ: সময়সীমা মানতে না পারলে তা শেষ হওয়ার আগেই বেঞ্চের কাছে আরও সময় চান।

    কে: আপনার আইনজীবীর মুহুরি + আদালতের কর্মচারীসময়: বিধান: আদেশের ৩ কর্মদিবসের মধ্যেফি: নগদ বা কোর্ট ফি স্ট্যাম্পে জারি ফি (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ৪ বিধি ১৩(২)); পরিমাণ তফসিল অনুযায়ী; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: রিট নম্বরসঙ্গে আনুন: জারি ফিআপনি পাবেন: ফির রসিদ বা নথিতে এন্ট্রি
  3. কপি ও রেজিস্ট্রি খাম জমা দিন
    রিট শাখা · দ্বিতীয় তলা, প্রশাসনিক ভবন ২

    একই শাখায়, যাঁদের ওপর রুল জারি হয়েছে তাঁদের প্রত্যেকের জন্য পুরো রিট পিটিশন ও সব সংযুক্তির একটি পাঠযোগ্য কপি জমা দিন। প্রত্যেক প্রতিপক্ষের জন্য নোটিশের একটি কপি এবং নোটিশ, পিটিশন ও সংযুক্তি ধরে এমন বড়, পূর্ণ ও সঠিক ঠিকানা লেখা, ডাকমাশুল-পরিশোধিত প্রাপ্তিস্বীকারপত্রসহ একটি রেজিস্ট্রি খামও দাখিল করুন। সাধারণ জারির সঙ্গে একই সময়ে রেজিস্ট্রি এগুলো রেজিস্ট্রি ডাকে পাঠায়। এর সবকিছু না দেওয়া পর্যন্ত রিট শাখা নোটিশ বা আদেশের কোনো কপি দিতে পারবে না।

    পরামর্শ: রুলস যেখানে পাঠযোগ্যতা চায়, সেখানে টাইপ করা বা মুদ্রিত কপি লাগে; অস্পষ্ট ফটোকপি এড়িয়ে চলুন।

    কে: আপনার আইনজীবীর মুহুরি + আদালতের কর্মচারীসময়: শাখায় ১-২ ঘণ্টা (নির্দেশক)ফি: প্রাপ্তিস্বীকারপত্রসহ রেজিস্ট্রি ডাকের মাশুল; পরিমাণ ডাকঘরের হার অনুযায়ীসঙ্গে আনুন: পিটিশন ও সংযুক্তির কপিসঙ্গে আনুন: ডাকমাশুল-পরিশোধিত রেজিস্ট্রি এডি খামসঙ্গে আনুন: নোটিশের কপিআপনি পাবেন: রিকুইজিট জমার নোট
  4. এজি অফিসে একটি কপি দিন
    অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়

    হাইকোর্ট বিভাগে মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়। বাস্তবে আইনজীবীরা রুল নিশির আদেশ, পিটিশন ও সংযুক্তির একটি কপিও এজি অফিসে পৌঁছে দেন, যাতে বেঞ্চে সংযুক্ত ডেপুটি বা সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে নির্দেশনা ও আপত্তিমূলক হলফনামা (affidavit-in-opposition) সংগ্রহ করতে পারেন। নিজের কপিতে পৃষ্ঠাঙ্কন বা রসিদ চান। কার্যালয়ের ভবন সরকারিভাবে প্রকাশিত নয়, তাই অনুসন্ধান ডেস্কে বা গেটে জিজ্ঞেস করুন।

    পরামর্শ: পৃষ্ঠাঙ্কিত কপিটি রেখে দিন; রাষ্ট্রপক্ষের ওপর জারি হয়েছে কি না, বেঞ্চ তা জানতে চাইতে পারেন।

    কে: আপনার আইনজীবীর মুহুরিসময়: ১-২ ঘণ্টা (নির্দেশক)সঙ্গে আনুন: আদেশ, পিটিশন ও সংযুক্তির কপিআপনি পাবেন: জারির পৃষ্ঠাঙ্কন বা রসিদ
  5. জারির ফেরত প্রতিবেদন দেখুন
    রিট শাখা · দ্বিতীয় তলা, প্রশাসনিক ভবন ২

    জারি প্রমাণিত হয় ফেরত প্রতিবেদন দিয়ে। প্রতিপক্ষ বা তাঁর প্রতিনিধির স্বাক্ষরিত প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ফেরত এলে, অথবা ডাকঘর গ্রহণে অস্বীকৃতির কথা পৃষ্ঠাঙ্কন করলে, রেজিস্ট্রি নোটিশ জারি হয়েছে বলে ঘোষণা লিপিবদ্ধ করে। নোটিশ সঠিক ঠিকানায় রেজিস্ট্রি ডাকে পাঠানো হয়ে থাকলে, ডাকে পাঠানোর ত্রিশ দিনের মধ্যে কোনো প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ফেরত না এলেও রেজিস্ট্রি সেই ঘোষণা দিতে পারে। ফেরতযোগ্য তারিখ ঘনিয়ে এলে আপনার আইনজীবীর মুহুরি এসব ফেরত প্রতিবেদন ও ঘোষণার জন্য রিট শাখায় নথি দেখেন।

    পরামর্শ: রিট বিষয়ে আদালত জারির কোনো পদ্ধতি থেকে অব্যাহতি দিতে পারেন; কোনো প্রতিপক্ষের কাছে পৌঁছানো না গেলে আপনার আইনজীবীকে জিজ্ঞেস করুন।

    কে: আপনার আইনজীবীর মুহুরি + আদালতের কর্মচারীসময়: বিধান: প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ছাড়া ৩০ দিন পরে ঘোষণা দেওয়া সম্ভবসঙ্গে আনুন: রিট নম্বরআপনি পাবেন: প্রত্যেক প্রতিপক্ষের ওপর জারির রেকর্ড
  6. কর্তৃপক্ষের জন্য সার্টিফায়েড কপি নিন
    কেন্দ্রীয় নকল শাখা (সার্টিফায়েড কপি) · নিচতলা, অ্যানেক্স ভবন

    রিকুইজিট জমা হয়ে গেলে আপনি অ্যানেক্স ভবনের নিচতলার কেন্দ্রীয় নকল শাখা থেকে রুল নিশির আদেশ ও স্থগিতাদেশের (যদি থাকে) সার্টিফায়েড কপি নিতে পারেন। কোনো অন্তর্বর্তী আদেশ বলবৎ আছে, তা কর্তৃপক্ষকে দেখাতে সার্টিফায়েড কপি কাজে লাগে। ফরম নং ২৪ (দেওয়ানি)-তে আবেদন করুন এবং প্রয়োজনে জরুরি চিহ্নিত করুন। রিকুইজিট দেওয়ার আগে রুলস অনুযায়ী শাখা ও অন্যান্য বিভাগ আদেশের বা এর ফলে দেওয়া স্থগিতাদেশ বা স্থিতাবস্থার মতো কোনো আদেশের কপি দিতে পারে না।

    পরামর্শ: সার্টিফায়েড কপিটি এমন পদ্ধতিতে কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান, যাতে পৌঁছানোর প্রমাণ থাকে।

    কে: আপনার আইনজীবীর মুহুরি + আদালতের কর্মচারীসময়: বিধান: জমার পরে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে (জরুরি) বা ৫ম দিনের মধ্যে (সাধারণ)ফি: প্রতি ১৫০ ইংরেজি বা ২০০ বাংলা শব্দে ২ টাকা; প্রতিটি দলিলে ৫ টাকা প্রত্যয়ন ফি; জরুরি কপিতে প্রতি পৃষ্ঠায় অতিরিক্ত ১০ টাকা (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ১৩ বিধি ৭খ, ১৫)সঙ্গে আনুন: রিট নম্বর ও আদেশের তারিখসঙ্গে আনুন: কোর্ট ফি স্ট্যাম্প ও ফোলিওআপনি পাবেন: আদেশের সার্টিফায়েড কপি
  7. ফেরতযোগ্য তারিখের পরে তালিকাভুক্ত করান
    বেঞ্চ অফিসার ও বেঞ্চ রিডার (প্রতিটি বেঞ্চের আদালত-কর্মচারী)

    সব জারি প্রতিবেদন আসুক বা না আসুক, ফেরতযোগ্য তারিখের কাছাকাছি সময়ে রিট শাখাকে বিষয়টি রুল জারিকারী বেঞ্চে বা উপযুক্ত কোনো বেঞ্চে উপস্থাপন করতে হয় এবং আদেশের জন্য ১৫ দিনের মধ্যে জারি সম্পর্কে নোট লিপিবদ্ধ করতে হয়। এরপর আপনার আইনজীবী কার্যতালিকার দিকে নজর রাখেন। বিষয়টি না উঠলে মেনশন আওয়ারে বেঞ্চ অফিসারের কাছে মেনশন স্লিপ দেওয়া যায়, যিনি বিকেল ৩টার আগে নথি তলব করেন। জারি সম্পন্ন হলে এবং হলফনামা বিনিময় হলে রুলের শুনানি হতে পারে।

    পরামর্শ: আকস্মিক মুলতবি এড়াতে মন্ত্রণালয় আপত্তিমূলক হলফনামা দেবে কি না, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে জিজ্ঞেস করুন।

    কে: আপনার আইনজীবী + আদালতের কর্মচারীসময়: বিধান: ফেরতযোগ্য তারিখের ১৫ দিনের মধ্যে শাখা জারির নোট দেয়সঙ্গে আনুন: মেনশন স্লিপসঙ্গে আনুন: রিট নম্বরআপনি পাবেন: আদেশ বা শুনানির জন্য তালিকাভুক্তি
০৯কোম্পানি বা অ্যাডমিরালটি বিষয় ই-ফাইলিং৭টি ধাপ · নির্দেশক: কাগজপত্র প্রস্তুত থাকলে দাখিলে কয়েক দিন; প্রথম শুনানি কোম্পানি বা অ্যাডমিরালটি বেঞ্চের তালিকার ওপর নির্ভর করে।

কোম্পানি বিষয় (যেমন অবসায়ন, স্কিম বা রেজিস্টার সংশোধন) এবং অ্যাডমিরালটি মোকদ্দমা হাইকোর্ট বিভাগ তার আদি এখতিয়ারে শুনানি করে। ৯ ডিসেম্বর ২০২১ থেকে এগুলো সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পোর্টালের মাধ্যমে ই-ফাইলিং করা বাধ্যতামূলক, তবে হার্ড কপিও জমা দিতে হয়। এই ধাপে ধাপে বিবরণে আছে প্রবেশাধিকার পাওয়া, আপলোড, হলফনামা, অরিজিনাল শাখায় নিবন্ধন এবং প্রথম শুনানি।

সেদিন সঙ্গে আনুন: আইনজীবীর পোর্টাল ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড, স্পষ্ট পিডিএফ আকারে পিটিশন, হলফনামা ও সংযুক্তি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত বা ক্ষমতাপত্র, স্বাক্ষরিত ওকালতনামা, হলফকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট

  1. শাখার সঙ্গে পোর্টালে প্রবেশাধিকারের ব্যবস্থা করুন
    অরিজিনাল শাখা (কোম্পানি ও অ্যাডমিরালটি বিষয়) · তৃতীয় তলা, প্রশাসনিক ভবন ৪

    কোম্পানি ও অ্যাডমিরালটি বিষয় প্রশাসনিক ভবন ৪-এর তৃতীয় তলায় অরিজিনাল শাখা সংরক্ষণ করে। আইনজীবী ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সুপ্রিম কোর্টের ‘Case Filing System for Lawyers’ (আইনজীবীদের প্যানেল)-এর মাধ্যমে দাখিল করেন। প্রবেশাধিকার কীভাবে দেওয়া হয় তা ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নেই, তাই প্রথম দাখিলের সময় লগইন তথ্য কীভাবে পাওয়া যাবে, তা আপনার আইনজীবীর অরিজিনাল শাখা বা ই-ফাইলিং সেন্টারে জিজ্ঞেস করা উচিত। ওয়েবসাইটের Tutorial পাতায় আইনজীবী প্যানেল কীভাবে কাজ করে, সে বিষয়ে ই-ফাইলিংয়ের ভিডিও টিউটোরিয়াল আছে।

    পরামর্শ: সময়সীমার আগেই প্রবেশাধিকারের বিষয়টি ঠিক করে নিন; প্রথমবারের সেটআপে দাখিলের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে।

    কে: আপনার আইনজীবী + আদালতের কর্মচারীসময়: প্রথম দাখিলের আগে এক-দুইবার যাওয়া (নির্দেশক)সঙ্গে আনুন: আইনজীবীর বিবরণআপনি পাবেন: পোর্টাল ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড
  2. পিটিশন ও দলিলপত্র আপলোড করুন
    ই-ফাইলিং সেন্টার · নিচতলা, অ্যানেক্স ভবন

    আপনার আইনজীবী পোর্টালে লগইন করে আবেদন, কোর্ট ফি ও সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র আপলোড বা স্ক্যান করেন, সঙ্গে ব্যবস্থাটি যে কোম্পানি বা অ্যাডমিরালটি তথ্য চায় তা দেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী এই ব্যবস্থায় যেকোনো সময় ও যেকোনো জায়গা থেকে দাখিল করা যায়। সমস্যা হলে অ্যানেক্স ভবনের নিচতলার ই-ফাইলিং সেন্টার সহায়তা দেয়। স্ক্যান পাঠযোগ্য রাখুন: হাইকোর্ট বিভাগ রুলস অনুযায়ী সংযুক্তি পাঠযোগ্য হতে হবে, সম্ভব হলে টাইপ করা বা মুদ্রিত কপি দিয়ে। দাখিলের রেকর্ড সংরক্ষণ বা প্রিন্ট করুন।

    পরামর্শ: ফাইলের নাম স্পষ্ট দিন (পিটিশন, হলফনামা, সংযুক্তি ক, খ ইত্যাদি), যাতে শাখা হার্ড কপির সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারে।

    কে: আপনার আইনজীবীসময়: পিডিএফ প্রস্তুত থাকলে এক-দুই ঘণ্টা (নির্দেশক)ফি: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: পিডিএফ আকারে পিটিশন ও সংযুক্তিসঙ্গে আনুন: কোর্ট ফির বিবরণআপনি পাবেন: অনলাইন দাখিলের রেকর্ড
  3. হলফনামা সম্পাদন করুন
    হলফনামা কমিশনার (Commissioner of Affidavits) · নিচতলা, প্রশাসনিক ভবন ২

    পিটিশনের জন্য এখনো শপথকৃত হলফনামা লাগে। হলফকারী, কোম্পানির ক্ষেত্রে সাধারণত একজন পরিচালক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ছবিসহ পরিচয়পত্র ও পর্ষদের ক্ষমতাপত্র (যদি থাকে) নিয়ে প্রশাসনিক ভবন ২-এর নিচতলায় হলফনামা কমিশনারের কাছে যান, শপথ বা প্রতিজ্ঞা করেন এবং স্বাক্ষর দেন। কমিশনার স্ট্যাম্পের প্রত্যয়ন দেন। হাইকোর্ট বিভাগ রুলস দেওয়ানি মোশনের হলফনামার মেয়াদ ৪৫ দিনে সীমিত করেছে; আপনার দাখিলে তা প্রযোজ্য কি না, আপনার আইনজীবীকে জিজ্ঞেস করুন। শপথ ও আপলোডের ক্রম আপনার আইনজীবীর সঙ্গে ঠিক করে নিন, যাতে আপলোড করা সংস্করণ শপথকৃত সংস্করণের সঙ্গে মেলে।

    পরামর্শ: নিশ্চিত হোন যে শপথকারী পরিচালকই পর্ষদের সিদ্ধান্তে নামধারী ব্যক্তি।

    কে: আপনি + আদালতের কর্মচারীসময়: এক ঘণ্টার কম (নির্দেশক)ফি: কোর্ট ভবনে গৃহীত হলফনামার জন্য কোনো ফি নেই (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ৪ বিধি ৩৩)সঙ্গে আনুন: হলফকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টসঙ্গে আনুন: পর্ষদের সিদ্ধান্ত বা ক্ষমতাপত্রআপনি পাবেন: শপথকৃত হলফনামা
  4. নিবন্ধনের জন্য হার্ড কপি জমা দিন
    অরিজিনাল শাখা (কোম্পানি ও অ্যাডমিরালটি বিষয়) · তৃতীয় তলা, প্রশাসনিক ভবন ৪

    ই-ফাইলিং কাগজকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করেনি: সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী আইনজীবীদের এখনো ডিজিটাল ও প্রচলিত দুই পদ্ধতিতেই দাখিল করতে হয়। আপনার আইনজীবীর মুহুরি মুদ্রিত পিটিশন, শপথকৃত হলফনামা ও সংযুক্তি অরিজিনাল শাখায় জমা দেন, যা কোম্পানি ম্যাটার বা অ্যাডমিরালটি মোকদ্দমার নম্বর দিয়ে বিষয়টি নিবন্ধন করে কোম্পানি বা অ্যাডমিরালটি বেঞ্চে উপস্থাপন করে। শাখার কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন সহকারী রেজিস্ট্রার (আদি এখতিয়ার) আছেন। নম্বরটি লিখে রাখুন; পরবর্তী সব ধাপে এটি লাগে।

    পরামর্শ: শাখা চাইতে পারে, তাই অনলাইন দাখিলের রেকর্ড সঙ্গে আনুন।

    কে: আপনার আইনজীবীর মুহুরি + আদালতের কর্মচারীসময়: সেদিনই থেকে কয়েক দিন (নির্দেশক)ফি: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: মুদ্রিত পিটিশন, হলফনামা ও সংযুক্তিসঙ্গে আনুন: ওকালতনামাআপনি পাবেন: কোম্পানি ম্যাটার বা অ্যাডমিরালটি মোকদ্দমার নম্বর
  5. কোম্পানি বা অ্যাডমিরালটি বেঞ্চে মেনশন করুন
    বেঞ্চ অফিসার ও বেঞ্চ রিডার (প্রতিটি বেঞ্চের আদালত-কর্মচারী)

    বিষয়টির শুনানি করাতে আপনার আইনজীবী কোম্পানি বা অ্যাডমিরালটি এখতিয়ারসম্পন্ন বেঞ্চের মেনশন আওয়ারে বেঞ্চ অফিসারের কাছে মেনশন স্লিপ দাখিল করেন। বর্তমানে কোন বেঞ্চের সেই এখতিয়ার আছে, তা ওয়েবসাইটের ‘About Bench’ তালিকায় দেখুন। বেঞ্চ অফিসার ক্রমিক নম্বর যোগ করেন, বিকেল ৩টার আগে শাখা থেকে নথি তলব করেন এবং বিষয়টি তালিকায় ওঠে। প্রথম শুনানিতে বেঞ্চ বিষয়টি গ্রহণ করে নির্দেশনা দিতে পারেন, যেমন বিজ্ঞাপন প্রকাশ বা পাওনাদার বা শেয়ারহোল্ডারদের নোটিশ দেওয়া।

    পরামর্শ: প্রতিটি নির্দেশনা ও তার সময়সীমা লিখিতভাবে রাখতে আপনার আইনজীবীকে বলুন।

    কে: আপনার আইনজীবী + আদালতের কর্মচারীসময়: সাধারণত মেনশনের পরের কর্মদিবসে তালিকাভুক্ত হয় (নির্দেশক)সঙ্গে আনুন: মেনশন স্লিপসঙ্গে আনুন: মামলা নম্বরআপনি পাবেন: বেঞ্চের নির্দেশনা
  6. বেঞ্চের নির্দেশনা পালন করুন
    অরিজিনাল শাখা (কোম্পানি ও অ্যাডমিরালটি বিষয়) · তৃতীয় তলা, প্রশাসনিক ভবন ৪

    প্রথম শুনানির পরে বেঞ্চের নির্দেশনাগুলো পালন করে প্রতিপালনের বিবরণ দাখিল করতে হয়। নির্দেশনার মধ্যে থাকতে পারে বিজ্ঞাপন প্রকাশ, পাওনাদার, শেয়ারহোল্ডার বা যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের রেজিস্ট্রারকে নোটিশ দেওয়া, অথবা অ্যাডমিরালটি মোকদ্দমায় জাহাজ বা এর মালিকদের ওপর জারি। আপনার আইনজীবী অরিজিনাল শাখায় প্রতিপালনের হলফনামা দাখিল করেন, যা বিষয়টি আবার বেঞ্চে উপস্থাপন করে। কোনো নির্দেশনা বাদ পড়লে সাধারণত মুলতবি হয়, তাই পত্রিকার পাতা ও ডাকের রসিদের কপি রেখে দিন।

    পরামর্শ: আদেশের দিনেই প্রতিপালনের প্রতিটি সময়সীমা ডায়েরিতে লিখে রাখুন।

    কে: আপনি + আপনার আইনজীবী + আদালতের কর্মচারীসময়: নির্দেশনার ওপর নির্ভর করে কয়েক সপ্তাহ (নির্দেশক)ফি: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: পত্রিকার কপিসঙ্গে আনুন: ডাকের রসিদসঙ্গে আনুন: প্রতিপালনের হলফনামাআপনি পাবেন: নথিতে প্রতিপালনের রেকর্ড
  7. আদেশের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করুন
    কেন্দ্রীয় নকল শাখা (সার্টিফায়েড কপি) · নিচতলা, অ্যানেক্স ভবন

    বেঞ্চ চূড়ান্ত আদেশ দিলে, যেমন কোনো স্কিম অনুমোদন বা কোম্পানির অবসায়ন, সাধারণত সার্টিফায়েড কপি লাগবে, যেমন যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের রেজিস্ট্রারের কাছে দাখিল করতে বা অ্যাডমিরালটি ডিক্রি কার্যকর করতে। অ্যানেক্স ভবনের নিচতলার কেন্দ্রীয় নকল শাখায় ফরম নং ২৪ (দেওয়ানি)-তে আবেদন করুন। খরচ হাইকোর্ট বিভাগ রুলস-নির্ধারিত; কোনো নিয়ন্ত্রক সময়সীমা থাকলে আবেদন জরুরি চিহ্নিত করুন।

    পরামর্শ: মূল সার্টিফায়েড কপি দরকার এমন প্রতিটি কর্তৃপক্ষের জন্য যথেষ্ট কপি চান।

    কে: আপনার আইনজীবীর মুহুরি + আদালতের কর্মচারীসময়: বিধান: জমার পরে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে (জরুরি) বা ৫ম দিনের মধ্যে (সাধারণ)ফি: প্রতি ১৫০ ইংরেজি বা ২০০ বাংলা শব্দে ২ টাকা; প্রতিটি দলিলে ৫ টাকা প্রত্যয়ন ফি; জরুরি কপিতে প্রতি পৃষ্ঠায় অতিরিক্ত ১০ টাকা (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ১৩ বিধি ৭খ, ১৫)সঙ্গে আনুন: মামলা নম্বর ও আদেশের তারিখসঙ্গে আনুন: কোর্ট ফি স্ট্যাম্প ও ফোলিওআপনি পাবেন: আদেশের সার্টিফায়েড কপি
১০নিম্ন দেওয়ানি আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে দেওয়ানি রিভিশন দাখিল৭টি ধাপ · নির্দেশক: রুল পর্যন্ত এক থেকে তিন সপ্তাহ; চূড়ান্ত শুনানি সাধারণত অনেক পরে হয়।

দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫-এর অধীনে দেওয়ানি রিভিশনে, আইন যেখানে অনুমতি দেয় সেখানে, নিম্ন দেওয়ানি আদালতের আদেশ সংশোধনের জন্য হাইকোর্ট বিভাগের কাছে আবেদন করা হয়। এটি বেঞ্চে মোশন হিসেবে উত্থাপিত হয়। বেঞ্চ রুল জারি করলে মামলাটি একটি আঞ্চলিক রুল শাখায় যায়। এই ধাপে ধাপে বিবরণে কাগজপত্র, হলফনামা, মোশন, রিকুইজিট এবং মামলা তালিকাভুক্ত করানোর বিষয় রয়েছে।

সেদিন সঙ্গে আনুন: নিম্ন আদালতগুলোর রায় ও আদেশের সার্টিফায়েড কপি, আরজি-জবাব ও নির্ভরযোগ্য অন্যান্য কাগজপত্র, হলফকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট, স্বাক্ষরিত ওকালতনামা, রুলের পরে প্রত্যেক প্রতিপক্ষের জন্য কপি

  1. সার্টিফায়েড কপিসহ আইনজীবীকে বিষয়টি বুঝিয়ে দিন
    বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন (SCBA)

    আপনার আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করুন, প্রায়ই সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন ভবনে বা তার কাছে। নিম্ন আদালতের যে রায়, আদেশ ও ডিক্রি (যদি থাকে) রিভিশন করাতে চান, তার সার্টিফায়েড কপি সঙ্গে আনুন। এগুলো আসে নিম্ন আদালতগুলোর নিজস্ব নকল বিভাগ থেকে। হাইকোর্ট বিভাগ রুলস অনুযায়ী দেওয়ানি মোশনের সঙ্গে এই সার্টিফায়েড কপি, নির্ভরযোগ্য অন্যান্য আদেশের সার্টিফায়েড কপি এবং অন্যান্য দলিলের মূল বা সার্টিফায়েড কপি দিতে হয়; সত্যায়িত ফটোকপির জন্য আদালতের অনুমতি লাগে। আইনজীবী তামাদির মেয়াদ ও রিভিশনের যুক্তি যাচাই করেন।

    পরামর্শ: নিম্ন আদালতের সার্টিফায়েড কপির জন্য আগেভাগে আবেদন করুন; সাধারণত এটিই সবচেয়ে ধীর অংশ।

    কে: আপনি + আপনার আইনজীবীসময়: ১-২ ঘণ্টা; খসড়া তৈরিতে কয়েক দিন লাগে (নির্দেশক)সঙ্গে আনুন: নিম্ন আদালতের আদেশের সার্টিফায়েড কপিসঙ্গে আনুন: আরজি-জবাবসঙ্গে আনুন: জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টআপনি পাবেন: যুক্তি ও সময় সম্পর্কে আইনজীবীর পরামর্শ
  2. হলফনামা সম্পাদন করুন
    হলফনামা কমিশনার (Commissioner of Affidavits) · নিচতলা, প্রশাসনিক ভবন ২

    দেওয়ানি রিভিশন একটি মোশন, এবং এর সমর্থনে হলফনামা লাগে। হাইকোর্ট বিভাগ রুলস অনুযায়ী আবেদনকারী নিজে অথবা তাঁর তদবিরকারক, অর্থাৎ যিনি পক্ষের হয়ে মামলার খোঁজ রাখেন, এটি সম্পাদন করতে পারেন। হলফকারী ছবিসহ পরিচয়পত্র নিয়ে প্রশাসনিক ভবন ২-এর নিচতলায় হলফনামা কমিশনারের কাছে যান, শপথ বা প্রতিজ্ঞা করেন এবং স্বাক্ষর দেন, আর কমিশনার প্রত্যয়ন করেন যে আবেদনে যথেষ্ট স্ট্যাম্প আছে। শপথের ৪৫ দিনের মধ্যে বেঞ্চ অফিসারের কাছে মোশন দাখিল করতে হবে, নইলে হলফনামার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।

    পরামর্শ: এই ৪৫ দিন রিভিশনের নিজস্ব তামাদির মেয়াদ বাড়ায় না।

    কে: আপনি + আদালতের কর্মচারীসময়: এক ঘণ্টার কম (নির্দেশক)ফি: কোর্ট ভবনে গৃহীত হলফনামার জন্য কোনো ফি নেই (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ৪ বিধি ৩৩)সঙ্গে আনুন: জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টসঙ্গে আনুন: রিভিশন পিটিশনআপনি পাবেন: স্ট্যাম্প-প্রত্যয়নসহ শপথকৃত হলফনামা
  3. বেঞ্চ অফিসারের কাছে মোশন দাখিল করুন
    বেঞ্চ অফিসার ও বেঞ্চ রিডার (প্রতিটি বেঞ্চের আদালত-কর্মচারী)

    দেওয়ানি মোশন উপযুক্ত মোশন বেঞ্চের বেঞ্চ অফিসারের কাছে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে দাখিল করা হয়; অন্য কর্মদিবসে কেবল জরুরি হলে বেঞ্চের অনুমতি নিয়ে। দেওয়ানি রিভিশনাল এখতিয়ারসম্পন্ন বেঞ্চের জন্য ‘About Bench’ তালিকা দেখুন। বেঞ্চ অফিসার পিটিশনে ক্রমিক নম্বর, অনুস্বাক্ষর, তারিখ ও সিল দেন এবং আপনার আইনজীবী বা মুহুরিকে ক্রমিক নম্বরটি জানান। এরপর মোশনটি ওই বেঞ্চের তালিকায় ওঠে।

    পরামর্শ: জরুরি কারণে অন্য দিনে দাখিল করলে বেঞ্চের কাছে জরুরিতা ব্যাখ্যা করতে প্রস্তুত থাকুন।

    কে: আপনার আইনজীবীর মুহুরি + আদালতের কর্মচারীসময়: দাখিলে কয়েক মিনিট (নির্দেশক)ফি: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: হলফনামা ও সংযুক্তিসহ পিটিশনআপনি পাবেন: বেঞ্চ অফিসারের দেওয়া ক্রমিক নম্বর
  4. বেঞ্চে রিভিশন উত্থাপন করুন
    অ্যানেক্স ভবনে হাইকোর্ট বিভাগের এজলাস

    তালিকাভুক্ত দিনে আপনার আইনজীবী বেঞ্চে রিভিশনটি উত্থাপন করেন; বেঞ্চটি অ্যানেক্স, মূল বা বিজয় ৭১ ভবনে বসতে পারে, তাই তালিকা দেখে নিন। বেঞ্চ গ্রহণ করলে প্রতিপক্ষদের কারণ দর্শাতে বলে রুল জারি করেন, ফেরতযোগ্য তারিখ দেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিকুইজিট দিতে নির্দেশ দেন; নিম্ন আদালতের কার্যক্রমও স্থগিত করতে পারেন। গ্রহণ না করলে একটি আদেশ লিপিবদ্ধ করেন। একবার উত্থাপিত মোশন এখতিয়ারের অভাব ছাড়া প্রত্যাহার করা যায় না, এবং সরাসরি নামঞ্জুর হওয়া মোশন একই যুক্তিতে আবার দাখিল করা যায় না।

    পরামর্শ: প্রথমবারেই সঠিকভাবে উপস্থাপন করুন; নামঞ্জুর হওয়া মোশন একই যুক্তিতে আবার দাখিল করা যায় না।

    কে: আপনি + আপনার আইনজীবীসময়: ডাক পড়লে কয়েক মিনিটে শুনানি; সারা দিন অপেক্ষা করতে হতে পারে (নির্দেশক)সঙ্গে আনুন: কার্যতালিকার সংশ্লিষ্ট অংশসঙ্গে আনুন: মামলার কাগজপত্রআপনি পাবেন: ফেরতযোগ্য তারিখসহ রুল, অথবা লিপিবদ্ধ আদেশ
  5. রুল শাখা মামলাটি নথিভুক্ত করে
    দেওয়ানি রুল ও রিভিশন শাখা (আঞ্চলিক রুল শাখা) · নিচতলা, প্রশাসনিক ভবন ৪ (রুল, ঢাকা-ময়মনসিংহ); নিচতলা, প্রশাসনিক ভবন ৩ (রুল, রাজশাহী-রংপুর); অন্যান্য রুল শাখার মানচিত্র নেই

    আদেশ স্বাক্ষরিত হওয়ার পরে বেঞ্চ অফিসার পিটিশনটি শাখায় পাঠান, যা নম্বর ও সালসহ এটিকে দেওয়ানি রিভিশন হিসেবে নথিভুক্ত করে। আঞ্চলিক রুল শাখাগুলোর মধ্যে আছে প্রশাসনিক ভবন ৪-এর নিচতলায় রুল (ঢাকা-ময়মনসিংহ) এবং প্রশাসনিক ভবন ৩-এর নিচতলায় রুল (রাজশাহী-রংপুর); অন্যগুলোর মানচিত্র নেই। তিন কর্মদিবসের মধ্যে জারি ফি দিন এবং প্রত্যেক প্রতিপক্ষের জন্য আবেদনের একটি পূর্ণ কপি, সঙ্গে প্রত্যেকের জন্য একটি নোটিশ ও ডাকমাশুল-পরিশোধিত প্রাপ্তিস্বীকারপত্রসহ রেজিস্ট্রি খাম দাখিল করুন।

    পরামর্শ: মামলাটি যে জেলা থেকে এসেছে, সেই অনুযায়ী রুল শাখায় যান।

    কে: আপনার আইনজীবীর মুহুরি + আদালতের কর্মচারীসময়: বিধান: আদেশের ৩ কর্মদিবসের মধ্যে জারি ফিফি: নগদ বা কোর্ট ফি স্ট্যাম্পে জারি ফি (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ৪ বিধি ১৩(২)); পরিমাণ তফসিল অনুযায়ী; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: প্রত্যেক প্রতিপক্ষের জন্য কপিসঙ্গে আনুন: ডাকমাশুল-পরিশোধিত রেজিস্ট্রি এডি খামসঙ্গে আনুন: জারি ফিআপনি পাবেন: দেওয়ানি রিভিশন নম্বরআপনি পাবেন: রিকুইজিট জমার নোট
  6. স্থগিতাদেশ নিম্ন আদালতে পাঠান
    কেন্দ্রীয় নকল শাখা (সার্টিফায়েড কপি) · নিচতলা, অ্যানেক্স ভবন

    বেঞ্চ নিম্ন আদালতের কার্যক্রম স্থগিত করে থাকলে নিম্ন আদালতকে তা জানাতে হবে। হাইকোর্ট বিভাগ রুলস অনুযায়ী রিকুইজিট না দেওয়া পর্যন্ত রুলের কোনো কপি বা এর ফলে দেওয়া স্থগিতাদেশের মতো কোনো আদেশ ইস্যু বা প্রেরণ করা হয় না। রিকুইজিট দেওয়া হয়ে গেলে অ্যানেক্স ভবনের নিচতলার কেন্দ্রীয় নকল শাখায় সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদন করুন, নিম্ন আদালতের তারিখ কাছে হলে জরুরি চিহ্নিত করে। জরুরি কপি সাধারণত হিসাবকৃত স্ট্যাম্প ও ফোলিও জমার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রস্তুত হওয়ার কথা।

    পরামর্শ: নিম্ন আদালতের পরবর্তী তারিখের আগে সার্টিফায়েড কপি দাখিল করুন, পরে নয়।

    কে: আপনার আইনজীবীর মুহুরি + আদালতের কর্মচারীসময়: বিধান: জরুরি কপির জন্য জমার ৭২ ঘণ্টার মধ্যেফি: প্রতি ১৫০ ইংরেজি বা ২০০ বাংলা শব্দে ২ টাকা; প্রতিটি দলিলে ৫ টাকা প্রত্যয়ন ফি; জরুরি কপিতে প্রতি পৃষ্ঠায় অতিরিক্ত ১০ টাকা (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ১৩ বিধি ৭খ, ১৫)সঙ্গে আনুন: মামলা নম্বর ও আদেশের তারিখসঙ্গে আনুন: কোর্ট ফি স্ট্যাম্প ও ফোলিওআপনি পাবেন: স্থগিতাদেশের সার্টিফায়েড কপি
  7. শুনানির জন্য রুলটি তালিকাভুক্ত করান
    বেঞ্চ অফিসার ও বেঞ্চ রিডার (প্রতিটি বেঞ্চের আদালত-কর্মচারী)

    দেওয়ানি মোশনের ক্ষেত্রে শাখাকে ফেরতযোগ্য তারিখে বা তার আগে লাওয়াজিমা বিষয় দেখা বেঞ্চের কার্যতালিকায় নথি উপস্থাপন করতে হয় এবং এর ১৫ দিনের মধ্যে জারি সম্পর্কে নোট লিপিবদ্ধ করতে হয়। জারি সম্পন্ন হলে এবং পেপার বুক বা নথি (যদি থাকে) প্রস্তুত হলে দেওয়ানি রিভিশনাল এখতিয়ারসম্পন্ন বেঞ্চে রুলটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হতে পারে। আপনার আইনজীবী কার্যতালিকার দিকে নজর রাখেন এবং প্রয়োজনে তালিকাভুক্ত করাতে বেঞ্চ অফিসারের কাছে মেনশন স্লিপ দেন।

    পরামর্শ: যেকোনো সম্পূরক হলফনামা শুনানির অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে অপর পক্ষকে দিন।

    কে: আপনার আইনজীবী + আদালতের কর্মচারীসময়: বিধান: ফেরতযোগ্য তারিখের ১৫ দিনের মধ্যে জারির নোট; শুনানির তারিখ ভিন্ন হয় (নির্দেশক)সঙ্গে আনুন: মেনশন স্লিপসঙ্গে আনুন: দেওয়ানি রিভিশন নম্বরআপনি পাবেন: শুনানির জন্য তালিকাভুক্তি
তালিকা

পর্ব ১-এর প্রতিটি স্থান, ভবন অনুযায়ী

আপিল বিভাগের এজলাস (কোর্ট নং ১, ২ ও ৩)দ্বিতীয় তলা, মূল ভবন

আপিল বিভাগ (কোর্ট নং ১, ২, ৩)

আপিল বিভাগএডি (AD)কোর্ট নং ১
কোথায়
দ্বিতীয় তলা, মূল ভবন
প্রয়োজনীয় সময়
ডাক পড়লে লিভ পিটিশনের শুনানি কয়েক মিনিটেই হতে পারে, তবে এজলাসের বেশির ভাগ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে (নির্দেশক)
ফি
তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন

আপিল বিভাগ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত। এটি হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ও আপিলের অনুমতির আবেদন (লিভ পিটিশন) শুনানি করে এবং নিজের রায় রিভিউ (review) করে। সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান-মানচিত্রে কোর্ট নং ১, কোর্ট নং ২ ও কোর্ট নং ৩—তিনটিই মূল ভবনের দ্বিতীয় তলায়। কোনো মামলা, আপিল বা বিষয় সাধারণত প্রধান বিচারপতির মনোনীত অন্তত তিনজন বিচারপতি শুনানি করেন।

লিভ পিটিশন এবং হাইকোর্টের একক বিচারপতির আপিল বা রিভিশনাল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দুজন বিচারপতিও শুনানি করতে পারেন। ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ থেকে আপিল বিভাগের এজলাসে বা এর সংলগ্ন এলাকায় ঢুকতে বিচারপ্রার্থীর ডিজিটাল প্রবেশ পাস লাগে।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • লিভ পিটিশন, আপিল বা রিভিউয়ের শুনানিতে উপস্থিত থাকতে
  • আপিল বিভাগের দৈনিক কার্যতালিকা ধরে শুনানি চলা দেখতে
  • নিজের মামলার রায় ঘোষণা দেখতে

সেখানে যা করবেন

  1. আগের দিন সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে আপিল বিভাগের কার্যতালিকা দেখুন
  2. বিচারপ্রার্থীরা: ওয়েবসাইটে ডিজিটাল প্রবেশ পাসের জন্য নিবন্ধন করুন (প্রবেশের তারিখ, মামলা নম্বর, নাম, মোবাইল নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর), তারপর প্রিন্ট করুন বা স্ক্রিনশট রাখুন
  3. মূল ভবনের দ্বিতীয় তলায় যান
  4. আপনার ক্রমিক ডাকা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। আপনার পক্ষে কেবল আপনার অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড বা অন্য কোনো আইনজীবী কথা বলবেন

যা নিয়ে ফিরবেন

আপিল বিভাগের আদেশ বা রায় (সার্টিফায়েড কপির জন্য আলাদা আবেদন করতে হয়)

মামলা ও বিষয়

  • দেওয়ানি ও ফৌজদারি আপিলের অনুমতির আবেদন (লিভ পিটিশন)
  • সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩-এর অধীনে অধিকারবলে আপিল
  • রিভিউ পিটিশন
  • আপিল বিভাগে আদালত অবমাননা ও অন্যান্য বিষয়

কাগজপত্র

  • ডিজিটাল প্রবেশ পাস (বিচারপ্রার্থীদের জন্য)
  • জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট
  • কার্যতালিকার সংশ্লিষ্ট অংশের কপি

যা এড়াবেন

  1. ডিজিটাল প্রবেশ পাস ছাড়া চলে আসা।
  2. ভুল ‘কোর্ট নং ১’-এ যাওয়া: আপিল বিভাগের আদালতগুলো মূল ভবনে।

এখানে কারা কাজ করেন

আপিল বিভাগের বিচারপতিগণ ও তাঁদের বেঞ্চ রিডার। ওয়েবসাইটে আপিল বিভাগের কর্মকর্তাদের তালিকায় ‘Bench Readers’ নামে একটি শ্রেণি আছে।

আইন

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৪, ১০৩, ১০৪, ১০৫সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮, আদেশ ১১
পরামর্শপ্রবেশ পাস ছাড়া বিচারপ্রার্থীরা ঢুকতে না-ও পারেন। আগের দিন সন্ধ্যায় নিবন্ধন করুন।
চেম্বার কোর্ট (আপিল বিভাগের চেম্বার জজ)দ্বিতীয় তলা, মূল ভবন

চেম্বার আদালত / চেম্বার জজ

চেম্বার জজচেম্বার জজ (Judge-in-Chamber)চেম্বার কোর্ট
কোথায়
দ্বিতীয় তলা, মূল ভবন
প্রয়োজনীয় সময়
ডাক পড়লে সংক্ষিপ্ত শুনানি; ফলাফল হতে পারে স্থগিতাদেশ, ‘নো অর্ডার’ বা পূর্ণ বেঞ্চে পাঠানো (নির্দেশক)
ফি
তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন

চেম্বার জজ হলেন আপিল বিভাগের একজন একক বিচারপতি, যাঁকে প্রধান বিচারপতি আপিল বিভাগ রুলস অনুযায়ী ‘চেম্বারে’ শুনানিযোগ্য আবেদনগুলো শোনার জন্য নিয়োগ দেন। সরকারি অবস্থান-মানচিত্রে ‘চেম্বার কোর্ট’ মূল ভবনের দ্বিতীয় তলায়। বাস্তবে হাইকোর্ট বিভাগে হেরে যাওয়া পক্ষ জরুরি অন্তর্বর্তী প্রতিকারের জন্য প্রথমে এখানেই আসে: লিভ পিটিশন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের আদেশ বা ডিক্রি স্থগিত, দণ্ড স্থগিত বা জামিন।

আপিল বিভাগ রুলসের আদেশ ৫-এ এর ক্ষমতাগুলো দেওয়া আছে, যেমন জারি স্থগিত, জামিন, প্রত্যাহার, উত্তরাধিকারী প্রতিস্থাপন ও আপসের আবেদন। চেম্বার জজের আদেশ অন্তত তিনজন বিচারপতির বেঞ্চ পুনর্বিবেচনা করতে পারেন, এবং চেম্বার জজ প্রায়ই বিষয়টি পূর্ণ বেঞ্চে (‘নিয়মিত বেঞ্চ’) পাঠিয়ে দেন।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • হাইকোর্ট বিভাগের রায় বা আদেশ স্থগিত চাইতে
  • লিভ পিটিশন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিন বা দণ্ড স্থগিত চাইতে
  • আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রারের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে (১৫ দিনের মধ্যে)

সেখানে যা করবেন

  1. অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ডের মাধ্যমে আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রিতে লিভ পিটিশন (সিপিএলএ বা ক্রিমিনাল পিএলএ) এবং স্থগিতাদেশ বা জামিনের আবেদন দাখিল করুন
  2. বিষয়টি মেনশন করুন বা চেম্বার জজের কার্যতালিকায় তালিকাভুক্ত করান
  3. চেম্বারে শুনানি। রাষ্ট্র বা অপর পক্ষের প্রতিনিধি থাকতে পারেন, যেমন অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়
  4. আদেশ সংগ্রহ করুন। লিভ পিটিশনের সঙ্গে শুনানির জন্য এটি নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানো হতে পারে

যা নিয়ে ফিরবেন

চেম্বার জজের আদেশ (স্থগিতাদেশ, জামিন, নো অর্ডার বা বেঞ্চে প্রেরণ)

মামলা ও বিষয়

  • দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিষয়ে স্থগিতাদেশের আবেদন
  • জামিনের আবেদন
  • আপিল বিভাগ রুলসের আদেশ ৫-এর অধীনে কার্যপ্রণালীগত আবেদন

কাগজপত্র

  • হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের সার্টিফায়েড কপি
  • হলফনামাসহ লিভ পিটিশন এবং স্থগিতাদেশ বা জামিনের আবেদন
  • অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ডের অনুকূলে ওকালতনামা

যা এড়াবেন

  1. লিভ পিটিশন দাখিল না করে বা দাখিলের জন্য প্রস্তুত না রেখে স্থগিতাদেশ চাওয়া।
  2. চেম্বার জজের আদেশকে চূড়ান্ত ধরে নেওয়া; অন্তত তিনজন বিচারপতির বেঞ্চ তা পুনর্বিবেচনা করতে পারেন।

এখানে কারা কাজ করেন

চেম্বার জজ (প্রধান বিচারপতি কর্তৃক নিযুক্ত আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি) এবং বেঞ্চ রিডার।

আইন

আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮, আদেশ ৫ বিধি ২-৪আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮, আদেশ ১১ বিধি ৩
পরামর্শচেম্বার জজের ‘নো অর্ডার’ বা নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানো খুবই সাধারণ। পরবর্তী শুনানির তারিখের জন্য প্রস্তুত থাকুন।
রেজিস্ট্রার জেনারেল ও হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রি দপ্তরনিচতলা, মূল ভবন (অ্যাডমিন শাখা; সাধারণ ও সংস্থাপন শাখা)

রেজিস্ট্রার জেনারেল / হাইকোর্ট বিভাগ রেজিস্ট্রি

রেজিস্ট্রার জেনারেলরেজিস্ট্রাররেজিস্ট্রিঅ্যাডমিন শাখা
কোথায়
নিচতলা, মূল ভবন (অ্যাডমিন শাখা; সাধারণ ও সংস্থাপন শাখা)
সময়সূচি
দপ্তর-দিবস (শুক্র ও শনিবার বন্ধ): সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৫:০০, বিরতি দুপুর ১:৩০-২:০০; দীর্ঘ অবকাশে সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৪:০০ (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ৩ বিধি ৪(২))
প্রয়োজনীয় সময়
রেজিস্ট্রারের আদেশ পেতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ (নির্দেশক)
ফি
রেজিস্ট্রারের আদেশের বিরুদ্ধে লাওয়াজিমা বেঞ্চে আপিল: নির্ধারিত কোর্ট ফি ২০ টাকা (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ২ বিধি ২গ); তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন

‘রেজিস্ট্রি’ হলো আদালতের দপ্তরগুলোর সম্মিলিত নাম। হাইকোর্ট বিভাগ রুলস অনুযায়ী রেজিস্ট্রার এটি নিয়ন্ত্রণ করেন এবং প্রধান বিচারপতির কাছে জবাবদিহি করেন। অতিরিক্ত, ডেপুটি ও সহকারী রেজিস্ট্রাররা এর বিভাগ ও শাখাগুলো তদারক করেন।

ওয়েবসাইটে পুরো সুপ্রিম কোর্টের জন্য একজন রেজিস্ট্রার জেনারেল এবং হাইকোর্ট বিভাগের জন্য একজন রেজিস্ট্রার, একজন রেজিস্ট্রার (বিচার) ও বিশেষায়িত অতিরিক্ত, ডেপুটি ও সহকারী রেজিস্ট্রারের নাম আছে, যেমন আদি এখতিয়ার, কোর্ট কিপিং এবং বেঞ্চ ও ডিক্রির দায়িত্বে। রেজিস্ট্রার নিজেই বহু কার্যপ্রণালীগত আবেদন নিষ্পত্তি করেন, যেমন নকল, পেপার বুকের লাওয়াজিমা (Lawazima) সংক্রান্ত বিষয়, ওকালতনামার ত্রুটি ও নোটিশ জারি।

রেজিস্ট্রারের আদেশের বিরুদ্ধে লাওয়াজিমা বেঞ্চে আপিল করা যায়। সরকারি মানচিত্রে অ্যাডমিন শাখা এবং সাধারণ ও সংস্থাপন শাখা মূল ভবনের নিচতলায় দেখানো হয়েছে।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • এমন আবেদন দাখিল করতে, যা কেবল রেজিস্ট্রারই শুনতে পারেন
  • রেজিস্ট্রির কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল বা অভিযোগ করতে
  • কোনো শাখার প্রশাসনিক সমস্যা তুলে ধরতে

সেখানে যা করবেন

  1. ফুলস্ক্যাপ কাগজে আবেদন লিখুন (টাইপ করা বা মুদ্রিত) এবং কোনো বেঞ্চে নয়, রেজিস্ট্রারের কাছে পেশ করুন
  2. ডাকা হলে উপস্থিত হোন
  3. আপনি একমত না হলে রেজিস্ট্রারের আদেশের বিরুদ্ধে লাওয়াজিমা বেঞ্চে আপিল করুন (নির্ধারিত কোর্ট ফি ২০ টাকা)

যা নিয়ে ফিরবেন

আপনার আবেদনে রেজিস্ট্রারের আদেশ

মামলা ও বিষয়

  • উত্তরাধিকারী প্রতিস্থাপন (যেখানে তামাদির প্রশ্ন নেই)
  • নেক্সট ফ্রেন্ড ও মামলার জন্য অভিভাবক (guardian ad litem) সংক্রান্ত বিষয়
  • নকলের আবেদন
  • নোটিশ জারির সমস্যা
  • দলিলপত্র ফেরত

কাগজপত্র

  • টাইপ করা আবেদন
  • প্রয়োজনে সমর্থনকারী হলফনামা
  • কোর্ট ফি

যা এড়াবেন

  1. রেজিস্ট্রারের কাছে দেওয়ার আবেদন বেঞ্চে পেশ করা; রুলস অনুযায়ী তা রেজিস্ট্রারের কাছেই যায়।
  2. হাতে লেখা, পড়তে কষ্ট হয় এমন আবেদন দাখিল করা; রুলস টাইপ করা বা মুদ্রিত লেখাকে অগ্রাধিকার দেয়।

এখানে কারা কাজ করেন

রেজিস্ট্রার জেনারেল, হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার এবং অতিরিক্ত, ডেপুটি ও সহকারী রেজিস্ট্রারগণ, যাঁদের অনেকেই প্রেষণে আসা বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা।

আইন

হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, ১৯৭৩, অধ্যায় ১ক বিধি ১১হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, ১৯৭৩, অধ্যায় ২ বিধি ২, ২খ, ২গ, ৩
পরামর্শরুলস অনুযায়ী দপ্তরকক্ষ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয়। আইনজীবী ও তাঁদের মুহুরিরা রেজিস্ট্রির সঙ্গে কাজ করেন, এবং বিচারপ্রার্থী সাধারণত তাঁদের মাধ্যমেই যান।
মূল ভবনে হাইকোর্ট বিভাগের এজলাসমূল ভবন

মূল ভবনের হাইকোর্ট বেঞ্চ

মূল ভবনের আদালতকোর্ট নং ৫-৩১ (মূল ভবন)
কোথায়
মূল ভবন
সময়সূচি
আদালত-দিবস (শুক্র ও শনিবার বন্ধ): এজলাস সকাল ১০:৩০ থেকে বিকেল ৪:১৫, বিরতি দুপুর ১:১৫-২:০০ (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ৩ বিধি ৪(১))
প্রয়োজনীয় সময়
আপনার ক্রমিক নম্বরের ওপর নির্ভর করে; পুরো দিন হাতে রাখুন (নির্দেশক)

লোকেশন ফাইন্ডারে ‘Main Building Court No. 5’ থেকে ‘Court No. 31’ পর্যন্ত তালিকা আছে। এগুলো মূল ভবনে হাইকোর্ট বিভাগের বেঞ্চ, একই ভবনের দ্বিতীয় তলায় আপিল বিভাগের ১-৩ নম্বর আদালত থেকে আলাদা। কোন বেঞ্চ কোন কক্ষে বসবে এবং কী ধরনের মামলা শুনবে (‘এখতিয়ার’), তা প্রধান বিচারপতি প্রতিবার বেঞ্চ পুনর্গঠন করলে বদলে যায়।

তাই দৈনিক কার্যতালিকায় কোর্ট নম্বর ও ভবন দুটোই দেওয়া থাকে। বিভিন্ন ভবনে একই কোর্ট নম্বর আছে: মূল ভবন, অ্যানেক্স ও বিজয় ৭১ ভবন—তিন জায়গাতেই একটি করে কোর্ট নং ৫ আছে। সব সময় নম্বরের সঙ্গে ভবনও মিলিয়ে নিন।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • সেখানে বসা কোনো বেঞ্চে তালিকাভুক্ত শুনানিতে উপস্থিত থাকতে
  • সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের বেঞ্চ অফিসারের কাছে মেনশন স্লিপ জমা দিতে

সেখানে যা করবেন

  1. দৈনিক কার্যতালিকায় আপনার বেঞ্চ, কোর্ট নম্বর ও ভবন খুঁজে নিন
  2. কক্ষটি কোন তলা ও কোন অংশে, তা দেখতে অনলাইন ‘Find a Location’ টুল ব্যবহার করুন
  3. সকাল ১০:৩০-এর আগে পৌঁছান, কারণ সাধারণত তখনই এজলাস বসে

যা নিয়ে ফিরবেন

বেঞ্চের আদেশ, যা পরে স্বাক্ষরিত হয়ে শাখায় পাঠানো হয়

মামলা ও বিষয়

  • বেঞ্চের বর্তমান এখতিয়ার যা-ই হোক: রিট, দেওয়ানি, ফৌজদারি, কোম্পানি ইত্যাদি

কাগজপত্র

  • কার্যতালিকার প্রিন্টআউট
  • মামলা নম্বর

যা এড়াবেন

  1. সঠিক কোর্ট নম্বরে কিন্তু ভুল ভবনে যাওয়া।
  2. সকাল ১০:৩০-এর পরে পৌঁছে আগেভাগে ডাক পড়া মিস করা।

এখানে কারা কাজ করেন

হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিগণ, বেঞ্চ অফিসার ও আদালতের কর্মচারীরা।

আইন

হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, ১৯৭৩, অধ্যায় ৩ বিধি ৪ (এজলাসের সময়)সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৭ (বেঞ্চ গঠনে প্রধান বিচারপতির ক্ষমতা)
পরামর্শভবনের নামটি গুরুত্বপূর্ণ। অ্যানেক্সের ‘কোর্ট ১২’ আর মূল ভবনের ‘কোর্ট ১২’ আলাদা কক্ষ।
অ্যানেক্স ভবনে হাইকোর্ট বিভাগের এজলাসঅ্যানেক্স ভবন

এনেক্স ভবনের হাইকোর্ট বেঞ্চ

অ্যানেক্সঅ্যানেক্স ভবন কোর্ট নং ১-৩৫
কোথায়
অ্যানেক্স ভবন
সময়সূচি
আদালত-দিবস (শুক্র ও শনিবার বন্ধ): এজলাস সকাল ১০:৩০ থেকে বিকেল ৪:১৫, বিরতি দুপুর ১:১৫-২:০০ (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ৩ বিধি ৪(১))
প্রয়োজনীয় সময়
আপনার ক্রমিক নম্বরের ওপর নির্ভর করে; পুরো দিন হাতে রাখুন (নির্দেশক)

হাইকোর্ট বিভাগের সবচেয়ে বেশি বেঞ্চ অ্যানেক্স ভবনে। সরকারি লোকেটরে ‘Annex Building Court No. 1’ থেকে ‘Court No. 35’ পর্যন্ত এবং বিচারপতিদের কয়েকটি চেম্বারের তালিকা আছে। অনেক রিট, দেওয়ানি রিভিশন, ফৌজদারি ও বিবিধ বেঞ্চ এখানে বসেছে। এই ভবনে বিচারপ্রার্থীদের বেশি দরকার পড়ে এমন তিনটি দপ্তরও আছে: নিচতলায় কেন্দ্রীয় নকল শাখা ও ই-ফাইলিং সেন্টার, এবং তৃতীয় তলায় বেইল কনফার্মেশন সেন্টার।

ফৌজদারি বিবিধ শাখা চতুর্থ তলায়, আর নিচতলায় ‘চেম্বার জজ ২’ তালিকাভুক্ত আছে।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • শুনানিতে উপস্থিত থাকতে
  • বেঞ্চ অফিসারের কাছে মোশন বা মেনশন স্লিপ জমা দিতে
  • নকল, ই-ফাইলিং বা জামিন নিশ্চিতকরণ দপ্তর ব্যবহার করতে

সেখানে যা করবেন

  1. কার্যতালিকায় ভবন ও কোর্ট নম্বর দেখুন
  2. অবস্থান-মানচিত্রে দেখানো তলায় যান
  3. সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের মেনশন আওয়ারে বেঞ্চ অফিসারের হাতে মেনশন স্লিপ দিন

যা নিয়ে ফিরবেন

বেঞ্চের আদেশ, যা পরে স্বাক্ষরিত হয়ে শাখায় পাঠানো হয়

মামলা ও বিষয়

  • প্রতিটি বেঞ্চের বর্তমান এখতিয়ারের ওপর নির্ভর করে

কাগজপত্র

  • কার্যতালিকার সংশ্লিষ্ট অংশ
  • মেনশন স্লিপ
  • মামলার কাগজপত্র

যা এড়াবেন

  1. সঠিক কোর্ট নম্বরে কিন্তু ভুল ভবনে যাওয়া।
  2. বেঞ্চের মেনশন আওয়ারের বাইরে মেনশন স্লিপ জমা দেওয়া।

এখানে কারা কাজ করেন

হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিগণ, বেঞ্চ অফিসার ও সহকারী বেঞ্চ অফিসার।

আইন

হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, ১৯৭৩, অধ্যায় ৪ক
পরামর্শসকাল ১০:৩০-এর দিকে লিফট ও করিডরে ভিড় থাকে। ক্রমিকে জায়গা ধরে রাখতে মুহুরিরা প্রায়ই আগেভাগে চলে যান।
বেঞ্চ অফিসার ও বেঞ্চ রিডার (প্রতিটি বেঞ্চের আদালত-কর্মচারী)অ্যানেক্স ভবন

বেঞ্চ অফিসার / বেঞ্চ রিডার

বিও (BO)বেঞ্চ অফিসারবেঞ্চ রিডার
কোথায়
অ্যানেক্স ভবন
সময়সূচি
আদালত-দিবসে প্রতিটি বেঞ্চের মেনশন আওয়ারে; মেনশন আওয়ারের সময় বেঞ্চভেদে ভিন্ন
প্রয়োজনীয় সময়
বিধান: বেঞ্চ অফিসার বিকেল ৩টার আগে নথি তলব করেন; সাধারণত পরের কর্মদিবসে তালিকাভুক্ত হয় (নির্দেশক)

হাইকোর্ট বিভাগের প্রতিটি বেঞ্চে একজন বেঞ্চ অফিসার থাকেন, যিনি এজলাসের কাগজপত্রের কাজ পরিচালনা করেন এবং সহকারী বেঞ্চ অফিসার ও বিচারপতির অন্যান্য কর্মচারীদের তদারক করেন। হাইকোর্ট বিভাগ রুলস অনুযায়ী দেওয়ানি ও ফৌজদারি মোশন সংশ্লিষ্ট মোশন বেঞ্চের বেঞ্চ অফিসারের কাছে দাখিল করা হয়, সাধারণত সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে।

বেঞ্চ অফিসার মোশনে ক্রমিক নম্বর দেন, অনুস্বাক্ষর ও তারিখ দেন এবং আইনজীবী বা মুহুরিকে ক্রমিক নম্বরটি জানান। মেনশন স্লিপও বেঞ্চ অফিসারের কাছে দেওয়া হয়, যিনি বিকেল ৩টার আগে শাখা থেকে নথি তলব করবেন, যাতে মামলাটি পরদিনের তালিকায় ওঠে। শুনানির পরে বেঞ্চ অফিসার আদেশে স্বাক্ষর করিয়ে নথি শাখায় ফেরত পাঠান। আপিল বিভাগে একই ধরনের কর্মকর্তাকে বলা হয় বেঞ্চ রিডার।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • দেওয়ানি বা ফৌজদারি মোশন দাখিল করতে
  • মামলা তালিকাভুক্ত করাতে মেনশন স্লিপ জমা দিতে
  • আপনার বিষয়ের ক্রমিক নম্বর জানতে
  • স্বাক্ষরিত আদেশ শাখায় ফেরত গেছে কি না দেখতে

সেখানে যা করবেন

  1. কার্যতালিকা থেকে বেঞ্চের এজলাস কক্ষ খুঁজে নিন
  2. মেনশন আওয়ারে মেনশন স্লিপ বা মোশন হস্তান্তর করুন
  3. বেঞ্চ অফিসারের দেওয়া ক্রমিক নম্বর লিখে রাখুন
  4. পরদিন দেখে নিন বিষয়টি দৈনিক কার্যতালিকায় উঠেছে কি না

যা নিয়ে ফিরবেন

মোশন বা মেনশন স্লিপে ক্রমিক নম্বরবেঞ্চের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্তি

মামলা ও বিষয়

  • দেওয়ানি ও ফৌজদারি মোশন
  • তালিকাভুক্তির জন্য মেনশন
  • শুনানির পরের আদেশ

কাগজপত্র

  • নির্ধারিত ফরমে মেনশন স্লিপ
  • হলফনামাসহ মোশন পিটিশন
  • মামলা নম্বর ও সাল

যা এড়াবেন

  1. এত দেরিতে স্লিপ জমা দেওয়া যে বিকেল ৩টার আগে নথি তলব করা সম্ভব হয় না।
  2. নির্ধারিত মেনশন স্লিপের ঘর খালি রাখা।

এখানে কারা কাজ করেন

বেঞ্চ অফিসার ও সহকারী বেঞ্চ অফিসার (হাইকোর্ট বিভাগ)। বেঞ্চ রিডার (আপিল বিভাগ)।

আইন

হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, ১৯৭৩, অধ্যায় ৩ বিধি ৮হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, ১৯৭৩, অধ্যায় ৪ক বিধি ৩ ও ৮
পরামর্শদিনের শেষ দিকে জমা দেওয়া মেনশন স্লিপ বিকেল ৩টার নথি তলব ধরতে না-ও পারে। মেনশন আওয়ারের শুরুতেই জমা দিন।
ফৌজদারি বিবিধ শাখাচতুর্থ তলা, অ্যানেক্স ভবন

ফৌজদারি বিবিধ শাখা

ক্রিমিনাল মিস শাখামিস শাখা
কোথায়
চতুর্থ তলা, অ্যানেক্স ভবন
সময়সূচি
দপ্তর-দিবস (শুক্র ও শনিবার বন্ধ): সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৫:০০, বিরতি দুপুর ১:৩০-২:০০; দীর্ঘ অবকাশে সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৪:০০ (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ৩ বিধি ৪(২))
প্রয়োজনীয় সময়
তালিকার ওপর নির্ভর করে দাখিলের কয়েক দিনের মধ্যে জামিনের শুনানি হতে পারে (নির্দেশক)
ফি
তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন

ফৌজদারি বিবিধ শাখা হাইকোর্ট বিভাগের ফৌজদারি বিবিধ মামলাগুলো দেখে। এর প্রধানগুলো হলো ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৮-এর অধীনে জামিনের আবেদন এবং কার্যক্রম বাতিলের জন্য ধারা ৫৬১ক-এর অধীনে আবেদন। সরকারি মানচিত্রে এটি অ্যানেক্স ভবনের চতুর্থ তলায়। হাইকোর্টে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় আসা বিষয়গুলোর মধ্যে এগুলো অন্যতম।

নথি তল্লাশি, আদেশ স্বাক্ষরিত হয়ে নিচে পাঠানো হয়েছে কি না দেখা এবং জামিন আদেশের কপি নিতে আইনজীবীর মুহুরিরা প্রতিদিন শাখায় যান। প্রতিটি জামিন বা বাতিলের বিষয় নিজস্ব একটি ফৌজদারি বিবিধ নম্বর পায়, যা পরবর্তী সব খোঁজখবরে উল্লেখ করতে হয়।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • জামিন বা কার্যক্রম বাতিলের আবেদনের খোঁজ রাখতে
  • জামিন আদেশ স্বাক্ষরিত হয়ে পাঠানো হয়েছে কি না দেখতে
  • শুনানির তারিখের জন্য নথি প্রস্তুত করাতে

সেখানে যা করবেন

  1. হলফনামা (প্রায়ই তদবিরকারকের) এবং নিম্ন আদালতের আদেশের সার্টিফায়েড কপিসহ আবেদন দাখিল করুন
  2. ফৌজদারি বিবিধ এখতিয়ারসম্পন্ন বেঞ্চে তা উত্থাপন করুন
  3. আদেশের পরে নথি এই শাখায় ফিরে আসে
  4. সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করুন, অথবা জামিন নিশ্চিতকরণের পথ ব্যবহার করুন

যা নিয়ে ফিরবেন

ফৌজদারি বিবিধ মামলার নম্বরজামিন বা কার্যক্রম বাতিলের আদেশ (নকল শাখার মাধ্যমে কপি)

মামলা ও বিষয়

  • ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৮-এর অধীনে জামিন
  • ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৬১ক-এর অধীনে কার্যক্রম বাতিল
  • অন্যান্য ফৌজদারি বিবিধ আবেদন

কাগজপত্র

  • হলফনামাসহ আবেদন
  • নিম্ন আদালতের আদেশের সার্টিফায়েড কপি
  • এজাহার (FIR)/অভিযোগপত্রের কপি
  • ওকালতনামা

যা এড়াবেন

  1. দাখিলের সময় ফৌজদারি বিবিধ নম্বর লিখে না রাখা।
  2. হলফনামার ৪৫ দিনের বৈধতা শেষ হওয়ার পরে দাখিল করা।

এখানে কারা কাজ করেন

রেজিস্ট্রির অধীন শাখার কর্মচারীরা।

আইন

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮, ধারা ৪৯৮, ৫৬১কহাইকোর্ট বিভাগ রুলস, ১৯৭৩, অধ্যায় ৪ক বিধি ৬
পরামর্শদাখিলের সময় ফৌজদারি বিবিধ মামলার নম্বর লিখে রাখুন। পরবর্তী সব খোঁজখবর ওই নম্বর দিয়েই হয়।
ই-ফাইলিং সেন্টারনিচতলা, অ্যানেক্স ভবন

ই-ফাইলিং সেন্টার

ই-ফাইলিংMyCase / আইনজীবীদের মামলা দাখিল ব্যবস্থা
কোথায়
নিচতলা, অ্যানেক্স ভবন
সময়সূচি
আলাদাভাবে প্রকাশিত নয়; দপ্তর-দিবসে হাইকোর্ট বিভাগের দপ্তরের সময় সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৫:০০ (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ৩ বিধি ৪(২)), তাই সেন্টারে নিশ্চিত হয়ে নিন
প্রয়োজনীয় সময়
পিডিএফ প্রস্তুত থাকলে আপলোডে এক-দুই ঘণ্টা (নির্দেশক)
ফি
তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন

ই-ফাইলিং সেন্টার অ্যানেক্স ভবনের নিচতলায়। এটি সুপ্রিম কোর্টের ইলেকট্রনিক দাখিল ব্যবস্থায় সহায়তা দেয়। ওয়েবসাইটে ‘Case Filing System for Lawyers’ (আইনজীবীদের প্যানেল), ‘Case Management (Sections)’ প্যানেল এবং বেঞ্চ অফিসারদের জন্য ‘Case and List Management (BO)’ প্যানেলের লিংক আছে। ডিসেম্বর ২০২১ থেকে কোম্পানি ও অ্যাডমিরালটি বিষয়ে ই-ফাইলিং বাধ্যতামূলক।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রক্রিয়াটি এভাবে বর্ণিত: আইনজীবী একটি পাসওয়ার্ড নেন, ইউজার আইডি তৈরি করেন, পিডিএফ দলিল আপলোড করেন এবং তারপর হলফনামাসহ একটি মুদ্রিত কপি জমা দেন। ওয়েবসাইটে ভিডিও টিউটোরিয়ালও আছে।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • ই-ফাইলিংয়ের লগইন তথ্য বা আপলোড নিয়ে সহায়তা পেতে
  • কোন ধরনের মামলা ই-ফাইলিং করা যায় বা বাধ্যতামূলক, তা জানতে

সেখানে যা করবেন

  1. সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে পাসওয়ার্ড নিন
  2. দাখিল ব্যবস্থায় আইনজীবীর ইউজার আইডি তৈরি করুন
  3. পিটিশন ও দলিলপত্র পিডিএফ আকারে আপলোড করুন
  4. প্রিন্ট করুন, হলফনামা সম্পাদন করুন এবং নির্দেশনা অনুযায়ী হার্ড কপি জমা দিন

যা নিয়ে ফিরবেন

অনলাইন দাখিলের রেকর্ডশাখায় জমা দেওয়ার জন্য মুদ্রিত কপি

মামলা ও বিষয়

  • কোম্পানি বিষয়
  • অ্যাডমিরালটি বিষয়
  • সুপ্রিম কোর্টের প্রজ্ঞাপিত অন্যান্য শ্রেণি

কাগজপত্র

  • আইনজীবীর বিবরণ
  • পিটিশন ও সংযুক্তির পিডিএফ ফাইল
  • দাখিলের জন্য মুদ্রিত কপি

যা এড়াবেন

  1. ঝাপসা স্ক্যান আপলোড করা; সংযুক্তিগুলো পাঠযোগ্য হতে হবে।
  2. ধরে নেওয়া যে সব ধরনের মামলাই ই-ফাইলিংয়ের আওতায়; সর্বশেষ নোটিশ দেখে নিন।

এখানে কারা কাজ করেন

আইসিটি বিভাগ ও রেজিস্ট্রির কর্মচারীরা।

আইন

সুপ্রিম কোর্টের ১ ডিসেম্বর ২০২১-এর সার্কুলার
পরামর্শ২০২৫-এর পরে ই-ফাইলিংয়ে নতুন কোনো ধরনের মামলা যুক্ত হয়েছে কি না, সুপ্রিম কোর্টের নোটিশে দেখে নিন।
কেন্দ্রীয় নকল শাখা (সার্টিফায়েড কপি)নিচতলা, অ্যানেক্স ভবন

কেন্দ্রীয় নকল শাখা

নকল শাখাসার্টিফায়েড কপি শাখানকল
কোথায়
নিচতলা, অ্যানেক্স ভবন
সময়সূচি
সাধারণ নকলের আবেদন: আদালত-দিবসে সকাল ১০:০০ থেকে বিকেল ৪:০০; জরুরি আবেদন: দপ্তরের সময়ের মধ্যে যেকোনো সময় (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ১৩ বিধি ১৮)
প্রয়োজনীয় সময়
বিধান: স্ট্যাম্প ও ফোলিও জমার পরে সাধারণ নকল ৫ম দিনে দুপুর ১টার মধ্যে, জরুরি নকল ৭২ ঘণ্টার মধ্যে
ফি
প্রতি ১৫০ ইংরেজি বা ২০০ বাংলা শব্দ বা তার অংশের জন্য ২ টাকা (স্ট্যাম্প শিট/ফোলিও), এবং পরবর্তী প্রতি ১৫০/২০০ শব্দের জন্য ২ টাকার কোর্ট ফি স্ট্যাম্প (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ১৩ বিধি ৭খ); প্রত্যয়ন ফি: প্রতিটি দলিলে ৫ টাকা (বিধি ৭খ); তল্লাশি ফি: নথি রেকর্ড রুমে থাকলে প্রতি আবেদনে ৫ টাকা (বিধি ৯); জরুরি নকল (৩ দিনের মধ্যে): কোর্ট ফি স্ট্যাম্পে প্রতি পৃষ্ঠায় অতিরিক্ত ১০ টাকা (বিধি ১৫); সার্টিফায়েড ফটোস্ট্যাট কপি: আবেদন সাধারণ ১০ টাকা বা জরুরি ১৫ টাকা; প্রতি পৃষ্ঠা ৩ টাকা; প্রত্যয়ন ৫ টাকা (রায়), ১০ টাকা (ডিক্রি), ৫ টাকা (অন্যান্য); তল্লাশি ৫ টাকা (বিধি ৩৮(৫))

কেন্দ্রীয় নকল শাখা অ্যানেক্স ভবনের নিচতলায়। এটি হাইকোর্ট বিভাগের রায়, আদেশ ও নথির সার্টিফায়েড কপি (জাবেদা নকল) প্রস্তুত করে। হাইকোর্ট বিভাগ রুলস অনুযায়ী পক্ষ নথির কপি পেতে পারেন, আর পক্ষ নন এমন ব্যক্তি রায়, ডিক্রি ও আদেশের কপি পেতে পারেন।

কপির আবেদন করা হয় ফরম নং ২৪ (দেওয়ানি)-তে, যাতে জরুরি কি না এবং কোন কাগজ ব্যবহৃত হবে (অফসেট লিগ্যাল সাইজ কাগজ বা সরকারি স্ট্যাম্প ফোলিও) উল্লেখ করতে হয়। প্রতিটি পৃষ্ঠায় অনুস্বাক্ষর দেওয়া হয় এবং সাক্ষ্য আইনের ধারা ৭৬-এর অধীনে একজন সহকারী রেজিস্ট্রার কপিটিকে সত্য কপি হিসেবে প্রত্যয়ন করেন।

খরচ রুলস-নির্ধারিত: প্রতি ১৫০ ইংরেজি বা ২০০ বাংলা শব্দে ২ টাকা, প্রতিটি দলিলের জন্য ৫ টাকা প্রত্যয়ন ফি, এবং নথি রেকর্ড রুমে থাকলে ৫ টাকা তল্লাশি ফি।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • আপিল বিভাগে আপিলের জন্য রায় বা আদেশের সার্টিফায়েড কপি পেতে
  • নিম্ন আদালতে বা সরকারি দপ্তরে জমা দেওয়ার জন্য কপি পেতে
  • প্রদর্শনী (exhibit) বা জবানবন্দির কপি পেতে

সেখানে যা করবেন

  1. ফরম নং ২৪ (দেওয়ানি) সংগ্রহ করুন (ফরমস ও স্টেশনারি শাখা থেকে, অথবা আপনার আইনজীবীর মুহুরির কাছ থেকে)
  2. মামলা নম্বর, যে দলিল চান, জরুরি কি না ও কাগজের ধরন লিখুন এবং স্ট্যাম্প বা ফোলিও সংযুক্ত করুন
  3. নকল কাউন্টারে আবেদন জমা দিন এবং রসিদ নম্বর লিখে রাখুন
  4. নির্ধারিত তারিখে সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করুন

যা নিয়ে ফিরবেন

সরবরাহের তারিখসহ মুড়িসার্টিফায়েড কপিঅব্যবহৃত ফোলিও, যদি থাকে

মামলা ও বিষয়

  • রিট, দেওয়ানি আপিল ও রিভিশন, ফৌজদারি বিষয় এবং কোম্পানি বিষয়ের কপি

কাগজপত্র

  • ফরম নং ২৪-এর আবেদন
  • মামলা নম্বর ও আদেশের তারিখ
  • কোর্ট ফি স্ট্যাম্প / ফোলিও
  • নথি রেকর্ড রুমে থাকলে তল্লাশি ফি

যা এড়াবেন

  1. মুড়ি হারিয়ে ফেলা, অথচ কপি সংগ্রহের সময় তা দেখাতে হয়।
  2. ৭ দিনের মধ্যে আনুমানিক স্ট্যাম্প ও ফোলিও জমা না দেওয়া, ফলে আবেদন নামঞ্জুর হয়।
  3. পরের মাস শেষ হওয়ার পরেও কপি সংগ্রহ না করা; তখন তা নষ্ট করে ফেলা হয়।

এখানে কারা কাজ করেন

নকল শাখার সুপারিনটেনডেন্ট ও নকলনবিশগণ। কপি প্রত্যয়ন করেন একজন সহকারী রেজিস্ট্রার।

আইন

হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, ১৯৭৩, অধ্যায় ১৩ (নকল)হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, ১৯৭৩, অধ্যায় ১ক বিধি ১২সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২, ধারা ৭৬
পরামর্শতামাদির সময়সীমা থাকলে ‘জরুরি’ কপি চান। আপিল বিভাগ রুলস লিভের সময় হাইকোর্টের রায়ের তারিখ থেকে গণনা করে, তাই নকলের সময় বাদ দেওয়া যাবে কি না, তা আগেভাগেই আপনার আইনজীবীকে জিজ্ঞেস করুন।
বেইল কনফার্মেশন সেন্টারতৃতীয় তলা, অ্যানেক্স ভবন

জামিন কনফার্মেশন সেন্টার

জামিন নিশ্চিতকরণঅনলাইন জামিন নিশ্চিতকরণ
কোথায়
তৃতীয় তলা, অ্যানেক্স ভবন
প্রয়োজনীয় সময়
প্রকাশিত নয়; আপনার আইনজীবীকে জিজ্ঞেস করুন (নির্দেশক)

বেইল কনফার্মেশন সেন্টার (জামিন নিশ্চিতকরণ কেন্দ্র) অ্যানেক্স ভবনের তৃতীয় তলায়। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে একটি ‘Online Bail Confirmation’ সেবার লিংকও আছে (bail.supremecourt.gov.bd)। নাম ও অনলাইন লিংক থেকে বোঝা যায়, এর মাধ্যমে নিম্ন আদালত ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মুক্তির আগে হাইকোর্ট বিভাগের জামিন আদেশ আসল কি না তা নিশ্চিত হতে পারেন, যা জাল জামিন আদেশ ঠেকাতে সাহায্য করে।

ওয়েবসাইটে কেন্দ্রটির বিস্তারিত নিয়ম প্রকাশিত নেই, তাই আপনার মামলায় আদেশটি কীভাবে পৌঁছাবে, তা আপনার আইনজীবীর কাছে জেনে নিন।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • জামিন আদেশ নিশ্চিত বা প্রেরিত হয়েছে কি না দেখতে
  • হাইকোর্টের জামিন আদেশের পরে মুক্তিতে বিলম্বের সমাধান করতে

সেখানে যা করবেন

  1. আপনার আইনজীবীর কাছ থেকে জামিন আদেশের নম্বর ও তারিখ নিন
  2. অনলাইন জামিন নিশ্চিতকরণ লিংক ব্যবহার করুন অথবা কেন্দ্রে খোঁজ নিন
  3. নিম্ন আদালত নিশ্চিতকৃত আদেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয় এবং জামিননামা গ্রহণ করে

যা নিয়ে ফিরবেন

হাইকোর্টের জামিন আদেশ আসল হওয়ার নিশ্চয়তা (পদ্ধতি প্রকাশিত নয়)

মামলা ও বিষয়

  • হাইকোর্ট বিভাগের জামিন আদেশ

কাগজপত্র

  • ফৌজদারি বিবিধ বা আপিল নম্বর
  • জামিন আদেশের তারিখ
  • অভিযুক্তের নাম

যা এড়াবেন

  1. জামিন আদেশ ও নিম্ন আদালতের নথির মধ্যে বানানের অমিল।
  2. জামিন আদেশের অনানুষ্ঠানিক ফটোকপির ওপর নির্ভর করা।

এখানে কারা কাজ করেন

সুপ্রিম কোর্টের কর্মচারী (আইসিটি ও ফৌজদারি অংশ)।

আইন

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮, ধারা ৪৯৮
পরামর্শআদেশের বিবরণ হুবহু ঠিক রাখুন। আদেশ ও নিম্ন আদালতের নথির মধ্যে বানানের অমিল হলে বিলম্ব হয়।
বিজয় ৭১ (বিজয় একাত্তর) ভবনের এজলাসতৃতীয় থেকে দশম তলা, বিজয় ৭১ ভবন (তৃতীয় তলায় কোর্ট ১-৪ থেকে দশম তলায় কোর্ট ২৯-৩২)

বিজয় ৭১ ভবন

বিজয় একাত্তরবিজয় ৭১নতুন ভবন
কোথায়
তৃতীয় থেকে দশম তলা, বিজয় ৭১ ভবন (তৃতীয় তলায় কোর্ট ১-৪ থেকে দশম তলায় কোর্ট ২৯-৩২)
সময়সূচি
আদালত-দিবস (শুক্র ও শনিবার বন্ধ): এজলাস সকাল ১০:৩০ থেকে বিকেল ৪:১৫, বিরতি দুপুর ১:১৫-২:০০ (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ৩ বিধি ৪(১))
প্রয়োজনীয় সময়
আপনার ক্রমিক নম্বরের ওপর নির্ভর করে; পুরো দিন হাতে রাখুন (নির্দেশক)

বিজয় একাত্তর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের একটি ১২ তলা ভবন, যার উদ্বোধন হয় ৩১ মার্চ ২০২২। সরকারি লোকেশন ফাইন্ডারে তৃতীয় থেকে দশম তলায় ‘Bijoy 71 Building Court No. 1’ থেকে ‘Court No. 32’ পর্যন্ত তালিকা আছে, প্রতি তলায় মোটামুটি চারটি আদালত। যেমন, কোর্ট ১-৪ তৃতীয় তলায় এবং কোর্ট ২৯-৩২ দশম তলায়। ষষ্ঠ তলায় একজন বিচারপতির চেম্বার তালিকাভুক্ত আছে।

অন্যান্য ভবনের মতোই কোন বেঞ্চ কোথায় বসবে তা বর্তমান বেঞ্চ-তালিকার ওপর নির্ভর করে।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • সেখানে বসা কোনো বেঞ্চের শুনানিতে উপস্থিত থাকতে
  • সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের বেঞ্চ অফিসারের কাছে মেনশন স্লিপ জমা দিতে

সেখানে যা করবেন

  1. কার্যতালিকা থেকে কোর্ট নম্বর ও ‘বিজয় ৭১’ লিখে নিন
  2. লিফটে সংশ্লিষ্ট তলায় যান: কোর্ট ১-৪ তৃতীয় তলায়, ৫-৮ চতুর্থ তলায়, ৯-১২ পঞ্চম তলায়, ১৩-১৬ ষষ্ঠ তলায়, ১৭-২০ সপ্তম তলায়, ২১-২৪ অষ্টম তলায়, ২৫-২৮ নবম তলায় এবং ২৯-৩২ দশম তলায়
  3. আপনার ক্রমিক নম্বরের জন্য অপেক্ষা করুন

যা নিয়ে ফিরবেন

বেঞ্চের আদেশ, যা পরে স্বাক্ষরিত হয়ে শাখায় পাঠানো হয়

মামলা ও বিষয়

  • প্রতিটি বেঞ্চের বর্তমান এখতিয়ারের ওপর নির্ভর করে

কাগজপত্র

  • কার্যতালিকার সংশ্লিষ্ট অংশ
  • মামলার কাগজপত্র

যা এড়াবেন

  1. বিজয় ৭১-এর ‘কোর্ট ১’-কে অ্যানেক্স বা মূল ভবনের ‘কোর্ট ১’-এর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা।
  2. বেঞ্চ পুনর্বিন্যাসের পরেও পুরোনো তলার তথ্যের ওপর ভরসা করা।

এখানে কারা কাজ করেন

হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিগণ ও বেঞ্চের কর্মচারীরা।

আইন

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৭
পরামর্শওপরের তলার নম্বরগুলো সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব লোকেটর থেকে নেওয়া। বেঞ্চ পুনর্বিন্যাস হলে আবার যাচাই করুন।
রিট শাখাদ্বিতীয় তলা, প্রশাসনিক ভবন ২

রিট শাখা

শাখা (রিটের জন্য)রিট শাখাডব্লিউপি শাখা (WP section)
কোথায়
দ্বিতীয় তলা, প্রশাসনিক ভবন ২
সময়সূচি
দপ্তর-দিবস (শুক্র ও শনিবার বন্ধ): সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৫:০০, বিরতি দুপুর ১:৩০-২:০০; দীর্ঘ অবকাশে সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৪:০০ (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ৩ বিধি ৪(২))
প্রয়োজনীয় সময়
কাগজপত্র ঠিক থাকলে সেদিনই নম্বর (নির্দেশক); রুল নিশির ৩ কর্মদিবসের মধ্যে জারি ফি দিতে হয় (বিধান)
ফি
তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন; রুল নিশির জারি ফি: ৩ কর্মদিবসের মধ্যে নগদ বা কোর্ট ফি স্ট্যাম্পে (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ৪ বিধি ১৩(২)); পরিমাণ তফসিল অনুযায়ী

রিট শাখা হলো রেজিস্ট্রির সেই শাখা, যা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীনে দায়ের করা রিট পিটিশনের নথি গ্রহণ করে, নম্বর দেয় ও সংরক্ষণ করে। সরকারি মানচিত্রে এটি প্রশাসনিক ভবন ২-এর দ্বিতীয় তলায়। হাইকোর্ট বিভাগ রুলস অনুযায়ী রিট মোশন দাখিল হয় শাখায়, বেঞ্চে নয়।

শাখা পিটিশন পরীক্ষা করে, নম্বর ও সালসহ রিট পিটিশন হিসেবে নথিভুক্ত করে এবং শপথের জন্য হলফনামা কমিশনারের কাছে পাঠায়। এরপর দাখিলকারী আইনজীবী বা মুহুরিকে নম্বরসহ একটি স্লিপ দেয়, যাতে বিষয়টি মেনশন করা যায়। রুল নিশি (Rule Nisi) জারি হলে আবেদনকারীকে শাখায় ‘রিকুইজিট’ (requisites) জমা দিতে হয়, অর্থাৎ প্রত্যেক প্রতিপক্ষের জন্য পিটিশন ও সংযুক্তির কপি।

এগুলো জমা না হওয়া পর্যন্ত শাখা রুল জারি করবে না বা কোনো সার্টিফায়েড কপি দেবে না। ফেরতযোগ্য তারিখে (return date) শাখা নথিটি বেঞ্চে উপস্থাপন করে।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • নতুন রিট পিটিশন দাখিল করে তার নম্বর পেতে
  • রুল নিশির পরে রিকুইজিট জমা দিতে
  • নথি তল্লাশি বা জারির প্রতিবেদন দেখতে
  • শুনানির আগে নথি কোথায় আছে জানতে

সেখানে যা করবেন

  1. সংযুক্তিসহ টাইপ করা পিটিশন শাখায় পেশ করুন
  2. শাখা তা পরীক্ষা করে, ডব্লিউপি নম্বর দেয় এবং হলফনামা কমিশনারের কাছে পাঠায়
  3. ডব্লিউপি নম্বরসহ স্লিপ সংগ্রহ করুন এবং হলফনামার ৩০ দিনের মধ্যে কোনো বেঞ্চে বিষয়টি মেনশন করুন
  4. রুল নিশির পরে নির্দেশিত সময়ের মধ্যে রিকুইজিট (প্রত্যেক প্রতিপক্ষের জন্য কপি) জমা দিন
  5. জারি ও ফেরতযোগ্য তারিখের খোঁজ রাখুন

যা নিয়ে ফিরবেন

রিট পিটিশন নম্বর ও সালসহ স্লিপরিকুইজিট জমার নোট

মামলা ও বিষয়

  • অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীনে রিট পিটিশন: সার্টিওরারি, ম্যান্ডামাস, প্রোহিবিশন, হেবিয়াস কর্পাস, কো-ওয়ারেন্টো
  • জনস্বার্থে মামলা

কাগজপত্র

  • হলফনামাসহ রিট পিটিশন
  • আপত্তিকৃত দলিলপত্রের কপি (পাওয়া গেলে সার্টিফায়েড)
  • ওকালতনামা
  • রিকুইজিট: প্রত্যেক প্রতিপক্ষের জন্য পিটিশন ও সংযুক্তির কপি

যা এড়াবেন

  1. মেনশনের আগেই হলফনামার ৩০ দিনের সময়সীমা পার হতে দেওয়া।
  2. কম সেট জমা দেওয়া: প্রত্যেক প্রতিপক্ষের জন্য সংযুক্তিসহ একটি পূর্ণ কপি লাগে।
  3. রিকুইজিট জমার আগেই রুল নিশির কপি আশা করা।

এখানে কারা কাজ করেন

সহকারী, ডেপুটি ও অতিরিক্ত রেজিস্ট্রারদের অধীনে কর্মরত শাখার কর্মচারীরা। কোনো বিচারপতিকেও একটি শাখার দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে (অধ্যায় ১ক বিধি ৮খ)।

আইন

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, ১৯৭৩, অধ্যায় ৪ক বিধি ৩-৪
পরামর্শরিটের হলফনামা মেনশনের জন্য মাত্র ৩০ দিন বৈধ থাকে। এই সময় পেরিয়ে গেলে মেনশনের আগে আবার শপথ নিন।
হলফনামা কমিশনার (Commissioner of Affidavits)নিচতলা, প্রশাসনিক ভবন ২

এফিডেভিট কমিশনার

হলফনামা কমিশনারওথ কমিশনার (হাইকোর্ট)হলফনামা শাখা
কোথায়
নিচতলা, প্রশাসনিক ভবন ২
সময়সূচি
দপ্তর-দিবস (শুক্র ও শনিবার বন্ধ): সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৫:০০, বিরতি দুপুর ১:৩০-২:০০; দীর্ঘ অবকাশে সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৪:০০ (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ৩ বিধি ৪(২))
প্রয়োজনীয় সময়
সারির ওপর নির্ভর করে এক ঘণ্টার কম (নির্দেশক)
ফি
কোর্ট ভবনে গৃহীত হলফনামার জন্য কোনো ফি নেই (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ৪ বিধি ৩৩)

হলফনামা কমিশনার হাইকোর্ট বিভাগে ব্যবহৃত হলফনামার শপথ ও প্রতিজ্ঞা পাঠ করান। সরকারি মানচিত্রে ‘Commissioner of Affidavit’ প্রশাসনিক ভবন ২-এর নিচতলায়। বেশির ভাগ মোশনের কাগজপত্রের সঙ্গে হলফনামা লাগে: রিট পিটিশন, দেওয়ানি রিভিশন ও অন্যান্য দেওয়ানি মোশন, এবং ফৌজদারি আবেদন, যেমন ফৌজদারি কার্যবিধির (CrPC) ধারা ৪৯৮-এর অধীনে জামিন বা ধারা ৫৬১ক-এর অধীনে কার্যক্রম বাতিল।

হাইকোর্ট বিভাগ রুলস অনুযায়ী আবেদনে যথেষ্ট কোর্ট ফি স্ট্যাম্প আছে কি না, তা যাচাই করে প্রত্যয়ন করাও কমিশনারের দায়িত্ব। রিটের হলফনামা আবেদনকারী নিজে বা তাঁর ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি সম্পাদন করতে পারেন। দেওয়ানি বা ফৌজদারি মোশনের হলফনামা পক্ষ নিজে বা তাঁর তদবিরকারক সম্পাদন করতে পারেন। আদালতের অনুবাদকেরা হলফকারীকে হলফনামা বুঝিয়ে দিতে পারেন।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • পিটিশনের সমর্থনে হলফনামা সম্পাদন করতে
  • কোর্ট ফি স্ট্যাম্পের প্রত্যয়ন করাতে

সেখানে যা করবেন

  1. হলফকারীকে ছবিসহ পরিচয়পত্র নিয়ে সশরীরে আনুন
  2. হলফনামা সংযুক্ত করে পিটিশন পেশ করুন
  3. হলফকারী শপথ বা প্রতিজ্ঞা করেন, আর কমিশনার স্বাক্ষর করে স্ট্যাম্পের প্রত্যয়ন দেন
  4. বৈধতার মেয়াদের মধ্যে শপথকৃত কাগজপত্র শাখায় বা বেঞ্চ অফিসারের কাছে ফেরত নিন

যা নিয়ে ফিরবেন

কমিশনারের স্বাক্ষরিত, স্ট্যাম্প-প্রত্যয়নসহ শপথকৃত হলফনামা

মামলা ও বিষয়

  • রিট পিটিশন
  • দেওয়ানি রিভিশন ও দেওয়ানি মোশন
  • ফৌজদারি মোশন (জামিন, কার্যক্রম বাতিল, রিভিশন)
  • সম্পূরক হলফনামা

কাগজপত্র

  • পিটিশন ও হলফনামা
  • হলফকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট
  • প্রতিনিধি শপথ নিলে ক্ষমতাপত্র

যা এড়াবেন

  1. আদালতের অনুমতি ছাড়া রিটের হলফনামা সম্পাদনে প্রতিনিধি পাঠানো।
  2. খুব আগেভাগে শপথ নেওয়া: রিটের জন্য বৈধতা ৩০ দিন, দেওয়ানি ও ফৌজদারি মোশনের জন্য ৪৫ দিন।
  3. শপথের ‘ব্যবস্থা’ করে দেওয়ার জন্য কাউকে টাকা দেওয়া; কোর্ট ভবনে কোনো ফি নেওয়ার বিধান নেই।

এখানে কারা কাজ করেন

হাইকোর্ট বিভাগের হলফনামা কমিশনারগণ। রেজিস্ট্রার কোর্ট ভবনের বাইরেও শপথ গ্রহণের জন্য কমিশনার নিয়োগ করতে পারেন।

আইন

হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, ১৯৭৩, অধ্যায় ৪ বিধি ৩হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, ১৯৭৩, অধ্যায় ৪ক বিধি ৪-৬হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, ১৯৭৩, অধ্যায় ২ বিধি ২(৯ক)
পরামর্শহলফনামার বৈধতা গণনা হয় শপথের তারিখ থেকে: রিট মেনশনের জন্য ৩০ দিন, দেওয়ানি বা ফৌজদারি মোশন দাখিলের জন্য ৪৫ দিন।
স্ট্যাম্প রিপোর্টার শাখানিচতলা, প্রশাসনিক ভবন ২

স্ট্যাম্প রিপোর্টার শাখা

স্ট্যাম্প রিপোর্টারকোর্ট ফি যাচাই
কোথায়
নিচতলা, প্রশাসনিক ভবন ২
সময়সূচি
দপ্তর-দিবস (শুক্র ও শনিবার বন্ধ): সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৫:০০, বিরতি দুপুর ১:৩০-২:০০; দীর্ঘ অবকাশে সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৪:০০ (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ৩ বিধি ৪(২))
প্রয়োজনীয় সময়
সেদিনই থেকে কয়েক দিন (নির্দেশক)
ফি
তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন

স্ট্যাম্প রিপোর্টার যাচাই করেন আপিলের স্মারকলিপি (memorandum of appeal), ক্রস-অবজেকশন, রিভিশন, রিভিউ বা অনুরূপ আবেদনে প্রদত্ত কোর্ট ফি যথেষ্ট কি না। যে আবেদনে হলফনামা লাগে না, সেখানে হাইকোর্ট বিভাগ রুলস অনুযায়ী কোর্ট ফির পর্যাপ্ততা সম্পর্কে স্ট্যাম্প রিপোর্টারের প্রত্যয়নপত্র লাগে।

আইনজীবী ও মুহুরিরা যেসব উদ্দেশ্যে আদালতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, রুলস তার একটি হিসেবে ‘স্ট্যাম্প রিপোর্টারের কাছ থেকে দাপ্তরিক প্রতিবেদন সংগ্রহ’ উল্লেখ করেছে। সরকারি মানচিত্রে স্ট্যাম্প রিপোর্টার শাখা প্রশাসনিক ভবন ২-এর নিচতলায়।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • আপিল বা রিভিশনের কোর্ট ফি যাচাই ও প্রত্যয়ন করাতে
  • ঘাটতি কোর্ট ফির আপত্তি নিষ্পত্তি করতে

সেখানে যা করবেন

  1. কোর্ট ফি স্ট্যাম্প সংযুক্ত করে স্মারকলিপি বা আবেদন পেশ করুন
  2. স্ট্যাম্প রিপোর্টারের প্রতিবেদন গ্রহণ করুন
  3. ঘাটতি থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাকি অর্থ পরিশোধ করুন

যা নিয়ে ফিরবেন

কোর্ট ফির পর্যাপ্ততা সম্পর্কে স্ট্যাম্প রিপোর্টারের প্রতিবেদন

মামলা ও বিষয়

  • প্রথম আপিল
  • দেওয়ানি রিভিশন
  • রিভিউ
  • দরিদ্র (in forma pauperis) হিসেবে মামলার আবেদন

কাগজপত্র

  • স্মারকলিপি বা আবেদন
  • কোর্ট ফি স্ট্যাম্প
  • মূল্যায়ন বিবরণী

যা এড়াবেন

  1. আপিল বা রিভিশনের মূল্যমান কম দেখানো, যার ফলে ঘাটতির প্রতিবেদন আসে।
  2. প্রতিবেদিত ঘাটতি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ না করা।

এখানে কারা কাজ করেন

স্ট্যাম্প রিপোর্টার ও রেজিস্ট্রির কর্মচারীরা।

আইন

হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, ১৯৭৩, অধ্যায় ১ক বিধি ১২(ক)হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, ১৯৭৩, অধ্যায় ৪ বিধি ৩কোর্ট-ফি আইন, ১৮৭০ (Court-fees Act)
পরামর্শআপিল বা রিভিশনের মূল্যমান সঠিকভাবে উল্লেখ করুন। দাখিল আটকে যাওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর একটি হলো কোর্ট ফির ঘাটতি।
ফাইলিং শাখা (ফৌজদারি)নিচতলা, প্রশাসনিক ভবন ২

ফাইলিং শাখা (ফৌজদারি)

ফৌজদারি দাখিলদাখিল কাউন্টার (ফৌজদারি)
কোথায়
নিচতলা, প্রশাসনিক ভবন ২
সময়সূচি
দপ্তর-দিবস (শুক্র ও শনিবার বন্ধ): সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৫:০০, বিরতি দুপুর ১:৩০-২:০০; দীর্ঘ অবকাশে সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৪:০০ (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ৩ বিধি ৪(২))
প্রয়োজনীয় সময়
সেদিনই (নির্দেশক)
ফি
তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন

সুপ্রিম কোর্টের লোকেশন ফাইন্ডারে প্রশাসনিক ভবন ২-এর নিচতলায় আলাদা একটি ‘ফাইলিং শাখা (ফৌজদারি)’ তালিকাভুক্ত আছে। ফৌজদারি কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি শাখায় (ফৌজদারি আপিল, ফৌজদারি রিভিশন বা ফৌজদারি বিবিধ) যাওয়ার আগে এখানে গৃহীত হয়। ওয়েবসাইটে এর গ্রহণের সুনির্দিষ্ট নিয়ম প্রকাশিত নেই। মামলার ধরনভেদে চর্চা ভিন্ন হতে পারে, এবং দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল প্রায়ই সরাসরি ফৌজদারি আপিল শাখায় যায়।

আপনার ধরনের দাখিল কোন কাউন্টারে নেওয়া হয়, তা শাখার কর্মচারী বা আপনার আইনজীবীর মুহুরির কাছে জেনে নিন।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • ফৌজদারি কাগজপত্র দাখিল করতে (আপিল, রিভিশন, বিবিধ আবেদন)
  • কোনো ফৌজদারি দাখিল কোথায় যাবে তা জানতে

সেখানে যা করবেন

  1. হলফনামাসহ পিটিশন এবং নিম্ন আদালতের আদেশের সার্টিফায়েড কপি প্রস্তুত করুন
  2. ফৌজদারি দাখিল কাউন্টারে তা পেশ করুন
  3. নম্বর বা রসিদ এবং যে শাখায় তা পাঠানো হলো তা লিখে রাখুন

যা নিয়ে ফিরবেন

দাখিল নম্বর বা রসিদনথি যে শাখায় যাচ্ছে তার নোট

মামলা ও বিষয়

  • ফৌজদারি আপিল
  • ফৌজদারি রিভিশন
  • ফৌজদারি বিবিধ মামলা (ধারা ৪৯৮-এর জামিন, ধারা ৫৬১ক)

কাগজপত্র

  • পিটিশন
  • হলফনামা
  • আপত্তিকৃত আদেশ বা রায়ের সার্টিফায়েড কপি
  • ওকালতনামা

যা এড়াবেন

  1. ভুল কাউন্টারে সারিতে দাঁড়ানো; এই কাউন্টার কোন দাখিল নেয় তা নিশ্চিত হয়ে নিন।
  2. নিম্ন আদালতের আদেশের সার্টিফায়েড কপি ছাড়া দাখিল করা।

এখানে কারা কাজ করেন

রেজিস্ট্রির কর্মচারী (ফৌজদারি অংশ)।

আইন

হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, ১৯৭৩, অধ্যায় ৪ক বিধি ৬ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮
পরামর্শসরকারি তালিকায় এই কাউন্টারের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা স্পষ্ট করা নেই। সারিতে দাঁড়ানোর আগে কাউন্টারে জেনে নিন।
দেওয়ানি আপিল ও প্রথম আপিল শাখানিচতলা, প্রশাসনিক ভবন ৩ (প্রথম আপিল, ঢাকা); চতুর্থ তলা, প্রশাসনিক ভবন ২ (প্রথম আপিল, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী)

দেওয়ানি আপিল / প্রথম আপিল শাখা

এফএ শাখা (FA section)প্রথম আপিল শাখাদেওয়ানি আপিল শাখা
কোথায়
নিচতলা, প্রশাসনিক ভবন ৩ (প্রথম আপিল, ঢাকা); চতুর্থ তলা, প্রশাসনিক ভবন ২ (প্রথম আপিল, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী)
সময়সূচি
দপ্তর-দিবস (শুক্র ও শনিবার বন্ধ): সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৫:০০, বিরতি দুপুর ১:৩০-২:০০; দীর্ঘ অবকাশে সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৪:০০ (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ৩ বিধি ৪(২))
প্রয়োজনীয় সময়
কয়েক দিনের মধ্যে নিবন্ধন; শুনানি পর্যন্ত পৌঁছাতে সাধারণত অনেক বেশি সময় লাগে (নির্দেশক)
ফি
কোর্ট-ফি আইনের তফসিল অনুযায়ী আপিলের স্মারকলিপির কোর্ট ফি; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন

প্রথম আপিল হলো দেওয়ানি আদালতের মূল ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল, যেমন উচ্চ মূল্যমানের মোকদ্দমায় যুগ্ম জেলা জজের ডিক্রি। লোকেশন ফাইন্ডারে প্রতিটি আঞ্চলিক গ্রুপের জন্য আলাদা প্রথম আপিল শাখা তালিকাভুক্ত আছে। প্রথম আপিল (ঢাকা) প্রশাসনিক ভবন ৩-এর নিচতলায়। প্রথম আপিল (চট্টগ্রাম) ও প্রথম আপিল (রাজশাহী) দুটিই প্রশাসনিক ভবন ২-এর চতুর্থ তলায়।

একটি ‘দেওয়ানি আপিল শাখা’-ও তালিকায় আছে, তবে এর কোনো মানচিত্র প্রকাশিত হয়নি। এই শাখাগুলো আপিলের নথি সংরক্ষণ করে, জারি ও পেপার বুকের মতো লাওয়াজিমা (প্রাথমিক) ধাপগুলো সম্পন্ন করে এবং আপিল তালিকাভুক্ত করে। হাইকোর্ট বিভাগ রুলস অনুযায়ী রেজিস্ট্রার ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল গ্রহণ করেন এবং দেওয়ানি কার্যবিধির (CPC) আদেশ ৪১ বিধি ১১-এর অধীনে শুনানির জন্য উপস্থাপন করেন।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • প্রথম আপিল দাখিল বা তার খোঁজ রাখতে
  • জারি, রিকুইজিট ও পেপার বুকের অবস্থা দেখতে
  • শুনানির আগে নথি তল্লাশি করতে

সেখানে যা করবেন

  1. ডিক্রি ও রায়ের সার্টিফায়েড কপিসহ আপিলের স্মারকলিপি পেশ করুন
  2. স্ট্যাম্প রিপোর্টার কোর্ট ফি যাচাই করেন
  3. শাখা আপিলটি নিবন্ধন করে (এফএ নম্বর)
  4. আপিল শুনানির জন্য প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত লাওয়াজিমা ধাপগুলো (জারি, পেপার বুক) অনুসরণ করুন

যা নিয়ে ফিরবেন

প্রথম আপিল নম্বরদাখিলের রসিদ

মামলা ও বিষয়

  • মূল ডিক্রির বিরুদ্ধে প্রথম আপিল
  • আদেশের বিরুদ্ধে বিবিধ আপিল (এফএমএ), যেখানে এই শাখাগুলো তা দেখে

কাগজপত্র

  • আপিলের স্মারকলিপি
  • রায় ও ডিক্রির সার্টিফায়েড কপি
  • কোর্ট ফি
  • ওকালতনামা

যা এড়াবেন

  1. ভুল আঞ্চলিক শাখা বা ভবনে যাওয়া।
  2. রায় ও ডিক্রি দুটিরই সার্টিফায়েড কপি ছাড়া দাখিল করা।

এখানে কারা কাজ করেন

রেজিস্ট্রির অধীন শাখার কর্মচারীরা।

আইন

দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮, ধারা ৯৬ ও আদেশ ৪১হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, ১৯৭৩, অধ্যায় ২ বিধি ২(৩)
পরামর্শআপনার মামলা যে জেলা থেকে এসেছে, সেই অঞ্চলের শাখায় যান। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী আলাদা ভবনে।
ফৌজদারি আপিল শাখাতৃতীয় তলা, প্রশাসনিক ভবন ৩

ফৌজদারি আপিল শাখা

ফৌজদারি আপিল শাখা
কোথায়
তৃতীয় তলা, প্রশাসনিক ভবন ৩
সময়সূচি
দপ্তর-দিবস (শুক্র ও শনিবার বন্ধ): সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৫:০০, বিরতি দুপুর ১:৩০-২:০০; দীর্ঘ অবকাশে সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৪:০০ (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ৩ বিধি ৪(২))
প্রয়োজনীয় সময়
কয়েক দিনের মধ্যে নিবন্ধন; শুনানি সাধারণত অনেক পরে (নির্দেশক)
ফি
তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন

ফৌজদারি আপিল শাখা হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারি আপিলের নথি সংরক্ষণ করে। এর মধ্যে আছে দায়রা জজ ও বিশেষ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৭-এর অধীনে খালাসের বিরুদ্ধে সরকারের আপিল। সরকারি মানচিত্রে এটি প্রশাসনিক ভবন ৩-এর তৃতীয় তলায়।

শাখা আপিল নথিভুক্ত করে, নির্দেশ থাকলে নিম্ন আদালতের নথি তলব করে, পেপার বুকের কাজ দেখে এবং আপিল শুনানির জন্য উপস্থাপন করে। মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা সাত বছরের বেশি কারাদণ্ডের আপিল দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি হতে হবে।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • ফৌজদারি আপিল দাখিল বা তার খোঁজ রাখতে
  • নিম্ন আদালতের নথি এসেছে কি না দেখতে
  • পেপার বুকের খোঁজ নিতে

সেখানে যা করবেন

  1. রায়ের সার্টিফায়েড কপিসহ আপিলের স্মারকলিপি দাখিল করুন
  2. শাখা তা নিবন্ধন করে এবং গ্রহণের (admission) জন্য তালিকাভুক্ত হয়
  3. গ্রহণের পরে নথি তলব করা হয় এবং জামিন চাওয়া যেতে পারে
  4. প্রস্তুত হলে শাখা আপিলটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করে

যা নিয়ে ফিরবেন

ফৌজদারি আপিল নম্বর

মামলা ও বিষয়

  • দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল
  • খালাসের বিরুদ্ধে আপিল (ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪১৭)
  • বিশেষ আইনের অধীনে আপিল

কাগজপত্র

  • আপিলের স্মারকলিপি
  • রায় ও দণ্ডাদেশের সার্টিফায়েড কপি
  • ওকালতনামা

যা এড়াবেন

  1. নকলের অপেক্ষায় থেকে আপিলের সময়সীমা পার হয়ে যাওয়া।
  2. সমান্তরাল জেল আপিলের কথা শাখাকে না জানানো, ফলে দুটি যুক্ত হয় না।

এখানে কারা কাজ করেন

রেজিস্ট্রির অধীন শাখার কর্মচারীরা।

আইন

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮, ধারা ৪১০, ৪১৭হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, ১৯৭৩, অধ্যায় ২ বিধি ৭
পরামর্শকারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পাঠানো আপিল আলাদা জেল আপিল শাখা দেখে।
ফৌজদারি রিভিশন শাখাদ্বিতীয় তলা, প্রশাসনিক ভবন ৩

ফৌজদারি রিভিশন শাখা

ফৌজদারি রিভিশন শাখা
কোথায়
দ্বিতীয় তলা, প্রশাসনিক ভবন ৩
সময়সূচি
দপ্তর-দিবস (শুক্র ও শনিবার বন্ধ): সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৫:০০, বিরতি দুপুর ১:৩০-২:০০; দীর্ঘ অবকাশে সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৪:০০ (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ৩ বিধি ৪(২))
প্রয়োজনীয় সময়
আদেশের কয়েক দিনের মধ্যে রুল নথিভুক্ত হয় (নির্দেশক)
ফি
তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন

ফৌজদারি রিভিশন শাখা নিম্ন ফৌজদারি আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৫ ও ৪৩৯-এর অধীনে আনা ফৌজদারি রিভিশনের নথি সংরক্ষণ করে। সরকারি মানচিত্রে এটি প্রশাসনিক ভবন ৩-এর দ্বিতীয় তলায়। রিভিশন ফৌজদারি মোশন হিসেবে উত্থাপিত হয়, সঙ্গে থাকে হলফনামা ও আপত্তিকৃত আদেশের সার্টিফায়েড কপি। রুল জারি হলে শাখা তা নথিভুক্ত করে এবং জারি ও তালিকাভুক্তির কাজ করে।

নিম্ন আদালতের নথি তলব হয়েছে কি না এবং প্রতিপক্ষের ওপর রুল জারি হয়েছে কি না, তা দেখতে আইনজীবীর মুহুরিরা শাখায় যান।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • ফৌজদারি রিভিশনের খোঁজ রাখতে
  • রিকুইজিট জমা দিতে
  • ফেরতযোগ্য তারিখ দেখতে

সেখানে যা করবেন

  1. বেঞ্চ অফিসারের মাধ্যমে বেঞ্চে রিভিশন উত্থাপন করুন
  2. রুল জারি হলে শাখা তা নথিভুক্ত করে
  3. রিকুইজিট জমা দিন
  4. ফেরতযোগ্য তারিখে বা তার পরে বিষয়টি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হয়

যা নিয়ে ফিরবেন

ফৌজদারি রিভিশন নম্বররিকুইজিট জমার নোট

মামলা ও বিষয়

  • ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৫/৪৩৯-এর অধীনে ফৌজদারি রিভিশন

কাগজপত্র

  • রিভিশন পিটিশন
  • হলফনামা
  • আপত্তিকৃত আদেশের সার্টিফায়েড কপি

যা এড়াবেন

  1. আপত্তিকৃত আদেশের সার্টিফায়েড কপি ছাড়া দাখিল করা।
  2. ডিভিশন বেঞ্চে যাওয়ার কথা এমন বিষয় একক বেঞ্চে নেওয়া।

এখানে কারা কাজ করেন

রেজিস্ট্রির অধীন শাখার কর্মচারীরা।

আইন

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮, ধারা ৪৩৫, ৪৩৯হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, ১৯৭৩, অধ্যায় ৪ক বিধি ৬
পরামর্শগুরুতর মামলায় খালাসের বিরুদ্ধে রিভিশন ডিভিশন বেঞ্চে যেতে হবে (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ২ বিধি ৭)।
দেওয়ানি রুল ও রিভিশন শাখা (আঞ্চলিক রুল শাখা)নিচতলা, প্রশাসনিক ভবন ৪ (রুল, ঢাকা-ময়মনসিংহ); নিচতলা, প্রশাসনিক ভবন ৩ (রুল, রাজশাহী-রংপুর); অন্যান্য রুল শাখার মানচিত্র নেই

দেওয়ানি রুল ও রিভিশন শাখা

রুল শাখাসিআর শাখা (CR section)দেওয়ানি রিভিশন শাখা
কোথায়
নিচতলা, প্রশাসনিক ভবন ৪ (রুল, ঢাকা-ময়মনসিংহ); নিচতলা, প্রশাসনিক ভবন ৩ (রুল, রাজশাহী-রংপুর); অন্যান্য রুল শাখার মানচিত্র নেই
সময়সূচি
দপ্তর-দিবস (শুক্র ও শনিবার বন্ধ): সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৫:০০, বিরতি দুপুর ১:৩০-২:০০; দীর্ঘ অবকাশে সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৪:০০ (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ৩ বিধি ৪(২))
প্রয়োজনীয় সময়
আদেশের কয়েক দিনের মধ্যে রুল নথিভুক্ত হয় (নির্দেশক); ৩ কর্মদিবসের মধ্যে জারি ফি দিতে হয় (বিধান)
ফি
তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন; রুলের জারি ফি: ৩ কর্মদিবসের মধ্যে নগদ বা কোর্ট ফি স্ট্যাম্পে (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ৪ বিধি ১৩(২)); পরিমাণ তফসিল অনুযায়ী

দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫-এর অধীনে দেওয়ানি রিভিশন মোশন হিসেবে উত্থাপন করা হয়। বেঞ্চ ‘রুল’ জারি করলে মামলাটি একটি রুল শাখায় সংরক্ষিত ও প্রক্রিয়াকৃত হয়। লোকেশন ফাইন্ডারে একটি সাধারণ ‘দেওয়ানি রুল ও রিভিশন শাখা’ আছে, যার কোনো মানচিত্র প্রকাশিত নেই, এবং চারটি আঞ্চলিক রুল শাখা আছে। রুল (ঢাকা-ময়মনসিংহ) প্রশাসনিক ভবন ৪-এর নিচতলায়। রুল (রাজশাহী-রংপুর) প্রশাসনিক ভবন ৩-এর নিচতলায়।

রুল (চট্টগ্রাম-সিলেট) ও রুল (খুলনা-বরিশাল)-এর কোনো মানচিত্র প্রকাশিত নেই। শাখা রুলটি নথিভুক্ত করে, রিকুইজিট ও জারির কাজ দেখে এবং ফেরতযোগ্য তারিখে বা তার আগে নথি সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করে।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • রুল জারির পরে দেওয়ানি রিভিশনের খোঁজ রাখতে
  • রিকুইজিট জমা দিতে
  • জারি ও ফেরতযোগ্য তারিখ দেখতে

সেখানে যা করবেন

  1. বেঞ্চ অফিসারের মাধ্যমে মোশন বেঞ্চে রিভিশন পিটিশন উত্থাপন করুন
  2. রুল জারি হলে স্বাক্ষরিত আদেশ ও পিটিশন রুল শাখায় যায়, যা তা নথিভুক্ত করে
  3. নির্দেশিত সময়ের মধ্যে রিকুইজিট জমা দিন
  4. প্রস্তুত হলে শাখা বিষয়টি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করে

যা নিয়ে ফিরবেন

দেওয়ানি রিভিশন (রুল) নম্বররিকুইজিট জমার নোট

মামলা ও বিষয়

  • দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫-এর অধীনে দেওয়ানি রিভিশন
  • দেওয়ানি মোশন থেকে উদ্ভূত রুল
  • স্মল কজ কোর্টের রিভিশন

কাগজপত্র

  • হলফনামাসহ রিভিশন পিটিশন
  • নিম্ন আদালতগুলোর রায় ও আদেশের সার্টিফায়েড কপি
  • রিকুইজিট

যা এড়াবেন

  1. মোশনের হলফনামার ৪৫ দিনের বৈধতা পার হয়ে যাওয়া।
  2. রিকুইজিট দিতে ভুলে যাওয়া, ফলে নিম্ন আদালতে কোনো স্থগিতাদেশ পাঠানো হয় না।

এখানে কারা কাজ করেন

রেজিস্ট্রির অধীন শাখার কর্মচারীরা।

আইন

দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮, ধারা ১১৫হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, ১৯৭৩, অধ্যায় ৪ক বিধি ৩ ও ৫
পরামর্শমামলার উৎস-জেলা লিখে রাখুন। আঞ্চলিক রুল শাখাগুলো বিভাগভিত্তিক ভাগ করা।
অরিজিনাল শাখা (কোম্পানি ও অ্যাডমিরালটি বিষয়)তৃতীয় তলা, প্রশাসনিক ভবন ৪

অরিজিনাল শাখা

আদি এখতিয়ার শাখাকোম্পানি শাখাঅ্যাডমিরালটি শাখা
কোথায়
তৃতীয় তলা, প্রশাসনিক ভবন ৪
সময়সূচি
দপ্তর-দিবস (শুক্র ও শনিবার বন্ধ): সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৫:০০, বিরতি দুপুর ১:৩০-২:০০; দীর্ঘ অবকাশে সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৪:০০ (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ৩ বিধি ৪(২))
প্রয়োজনীয় সময়
ই-ফাইলিং ও হার্ড কপি জমার কয়েক দিনের মধ্যে নিবন্ধন (নির্দেশক)
ফি
কোর্ট-ফি আইনের তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি, ই-ফাইলিংয়ের সঙ্গে আপলোড করতে হয়; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন

কিছু ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ প্রথম দৃষ্টান্তের আদালত হিসেবেও কাজ করে, প্রধানত কোম্পানি আইনের অধীনে কোম্পানি বিষয়ে (অবসায়ন, স্কিম, রেজিস্টার সংশোধন, সভা) এবং অ্যাডমিরালটি মোকদ্দমায়। লোকেশন ফাইন্ডারে প্রশাসনিক ভবন ৪-এর তৃতীয় তলায় একটি ‘অরিজিনাল শাখা’ তালিকাভুক্ত আছে। হাইকোর্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের তালিকায় একজন সহকারী রেজিস্ট্রার (আদি এখতিয়ার) এবং একজন ডেপুটি রেজিস্ট্রার (সাধারণ ও আদি এখতিয়ার) আছেন।

৯ ডিসেম্বর ২০২১ থেকে কোম্পানি ও অ্যাডমিরালটি বিষয় ই-ফাইলিং করা বাধ্যতামূলক।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • কোম্পানি ও অ্যাডমিরালটি বিষয় দাখিল বা তার খোঁজ রাখতে
  • বিজ্ঞাপন ও জারি সংক্রান্ত নির্দেশনা পালন করতে
  • আদি এখতিয়ারের বিষয়ে আদেশ ও ডিক্রি চূড়ান্ত করতে

সেখানে যা করবেন

  1. আইনজীবীদের পোর্টালের মাধ্যমে কোম্পানি বা অ্যাডমিরালটি বিষয়টি ই-ফাইলিং করুন
  2. শাখার চাহিদামতো মুদ্রিত কপি ও হলফনামা জমা দিন
  3. শাখা বিষয়টি নিবন্ধন করে এবং কোম্পানি বা অ্যাডমিরালটি বেঞ্চে তালিকাভুক্ত করে
  4. নির্দেশনা (বিজ্ঞাপন, নোটিশ) পালন করুন এবং প্রতিপালনের বিবরণ দাখিল করুন

যা নিয়ে ফিরবেন

কোম্পানি ম্যাটার বা অ্যাডমিরালটি মোকদ্দমার নম্বর

মামলা ও বিষয়

  • কোম্পানি বিষয় (অবসায়ন, স্কিম, রেজিস্টার সংশোধন, সভা)
  • অ্যাডমিরালটি মোকদ্দমা

কাগজপত্র

  • ই-ফাইলিংয়ের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড
  • পিডিএফ আকারে পিটিশন, হলফনামা ও সংযুক্তি
  • কোর্ট ফি
  • প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত

যা এড়াবেন

  1. শুধু কাগজে দাখিল করা; ৯ ডিসেম্বর ২০২১ থেকে কোম্পানি ও অ্যাডমিরালটি বিষয় ই-ফাইলিং করা বাধ্যতামূলক।
  2. ভুলে যাওয়া যে ই-ফাইলিংয়ের পাশাপাশি হার্ড কপিও জমা দিতে হয়।

এখানে কারা কাজ করেন

সহকারী রেজিস্ট্রার (আদি এখতিয়ার), ডেপুটি রেজিস্ট্রার (সাধারণ ও আদি এখতিয়ার) এবং শাখার কর্মচারীরা।

আইন

কোম্পানি আইন, ১৯৯৪অ্যাডমিরালটি কোর্ট আইন, ২০০০ই-ফাইলিং বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের ১ ডিসেম্বর ২০২১-এর সার্কুলার
পরামর্শই-ফাইলিংয়ের পাসওয়ার্ড সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে নিতে হয়, তাই প্রথম ই-ফাইলিংয়ের আগে একবার সেখানে যান।
ডিক্রি শাখাতৃতীয় তলা, প্রশাসনিক ভবন ৪

ডিক্রি শাখা

ডিক্রি শাখা
কোথায়
তৃতীয় তলা, প্রশাসনিক ভবন ৪
সময়সূচি
দপ্তর-দিবস (শুক্র ও শনিবার বন্ধ): সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৫:০০, বিরতি দুপুর ১:৩০-২:০০; দীর্ঘ অবকাশে সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৪:০০ (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ৩ বিধি ৪(২))
প্রয়োজনীয় সময়
রায় স্বাক্ষরের পরে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ (নির্দেশক)
ফি
তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন

হাইকোর্ট বিভাগ আপিল নিষ্পত্তি করার পরে ডিক্রি শাখা আনুষ্ঠানিক ডিক্রি প্রস্তুত করে। হাইকোর্ট বিভাগ রুলস অনুযায়ী আইনজীবী ও মুহুরিরা ডিক্রি শাখার সুপারিনটেনডেন্টের কাছে আবেদন দাখিল করতে এবং খসড়া ডিক্রি চূড়ান্ত করতে তাঁর সামনে হাজির হতে পারেন। সরকারি মানচিত্রে ডিক্রি শাখা প্রশাসনিক ভবন ৪-এর তৃতীয় তলায়। হাইকোর্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের তালিকায় একজন সহকারী রেজিস্ট্রার (বেঞ্চ ও ডিক্রি) আছেন।

রায় স্বাক্ষরিত হওয়ার পরে এখানে যান, কারণ ডিক্রি রায়ের পরে তৈরি হয় এবং নিম্ন আদালত এটিই জারি করে।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • প্রস্তুতকৃত ডিক্রি চূড়ান্ত বা সংগ্রহ করতে
  • জারির জন্য ডিক্রি নিম্ন আদালতে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে

সেখানে যা করবেন

  1. ডিক্রির জন্য আবেদন দাখিল করুন
  2. বলা হলে খসড়া চূড়ান্ত করতে উপস্থিত হোন
  3. নকলের পথে ডিক্রির সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করুন

যা নিয়ে ফিরবেন

প্রস্তুতকৃত ডিক্রি (নকল শাখার মাধ্যমে সার্টিফায়েড কপি)

মামলা ও বিষয়

  • প্রথম আপিল ও অন্যান্য দেওয়ানি আপিলের ডিক্রি

কাগজপত্র

  • মামলা নম্বর
  • রায়ের তারিখ
  • আবেদন

যা এড়াবেন

  1. রায়ের কপির জন্য আবেদন করা কিন্তু ডিক্রির জন্য না করা।
  2. খসড়া ডিক্রি চূড়ান্ত করতে ডাকা হলে উপস্থিত না হওয়া।

এখানে কারা কাজ করেন

ডিক্রি শাখার সুপারিনটেনডেন্ট এবং সহকারী রেজিস্ট্রার (বেঞ্চ ও ডিক্রি)।

আইন

হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, ১৯৭৩, অধ্যায় ১ক বিধি ১২(জ)
পরামর্শআপিল বিভাগে আপিলের জন্য সাধারণত সার্টিফায়েড রায় এবং ডিক্রি প্রস্তুত হয়ে থাকলে তা-ও লাগে। দুটির জন্য একসঙ্গে আবেদন করুন।
হিসাব শাখাতৃতীয় তলা, প্রশাসনিক ভবন ৪

হিসাব শাখা

হিসাবজমা শাখা
কোথায়
তৃতীয় তলা, প্রশাসনিক ভবন ৪
সময়সূচি
দপ্তর-দিবস (শুক্র ও শনিবার বন্ধ): সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৫:০০, বিরতি দুপুর ১:৩০-২:০০; দীর্ঘ অবকাশে সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৪:০০ (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ৩ বিধি ৪(২))
প্রয়োজনীয় সময়
সেদিনই থেকে কয়েক দিন (নির্দেশক)
ফি
বেঞ্চ বা রেজিস্ট্রারের নির্দেশিত পরিমাণ

হিসাব শাখা আদালতে জমা হওয়া ও আদালত থেকে পরিশোধিত অর্থ দেখে, যেমন জামানত, বেঞ্চের নির্দেশে জমা এবং ফেরত। হাইকোর্ট বিভাগ রুলস আইনজীবী ও মুহুরিদের আদালতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের বৈধ কারণগুলোর একটি হিসেবে হিসাব শাখায় ‘অর্থ জমা ও উত্তোলন সংক্রান্ত কাজ সম্পাদন’ উল্লেখ করেছে। সরকারি মানচিত্রে এটি প্রশাসনিক ভবন ৪-এর তৃতীয় তলায়, যেখানে একটি স্টেটমেন্ট শাখাও তালিকাভুক্ত।

স্থগিতাদেশ বা আপিলের শর্ত হিসেবে নির্দেশিত জমা এখানে অথবা আদেশে যেভাবে বলা আছে সেভাবে করতে হয়, এবং যেকোনো উত্তোলনের জন্য বেঞ্চ বা রেজিস্ট্রারের সুনির্দিষ্ট আদেশ লাগে।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • আদালতের নির্দেশিত অর্থ জমা দিতে
  • আদেশের পরে অর্থ উত্তোলন করতে

সেখানে যা করবেন

  1. জমা বা উত্তোলনের জন্য আদালতের আদেশ সংগ্রহ করুন
  2. হিসাব শাখায় তা পেশ করুন
  3. নির্দেশিত পদ্ধতিতে পরিশোধ করুন বা গ্রহণ করুন এবং রসিদ রেখে দিন

যা নিয়ে ফিরবেন

জমা বা পরিশোধের রসিদ

মামলা ও বিষয়

  • স্থগিতাদেশের শর্ত হিসেবে জমা
  • ফেরত ও উত্তোলন

কাগজপত্র

  • আদেশের সার্টিফায়েড কপি বা নোট
  • পরিচয়ের কাগজপত্র
  • প্রয়োজনে ব্যাংক হিসাবের বিবরণ

যা এড়াবেন

  1. সুনির্দিষ্ট আদেশ ছাড়া অর্থ উত্তোলনের চেষ্টা করা।
  2. জমার রসিদ হারিয়ে ফেলা।

এখানে কারা কাজ করেন

হিসাব কর্মকর্তারা। একজন সহকারী রেজিস্ট্রার (অর্থ) তালিকাভুক্ত আছেন।

আইন

হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, ১৯৭৩, অধ্যায় ১ক বিধি ১২(ঘ)
পরামর্শউত্তোলনের জন্য সুনির্দিষ্ট আদেশ লাগে। আদেশের নম্বর ও তারিখ সঙ্গে আনুন।
ফরমস ও স্টেশনারি শাখাদ্বিতীয় তলা, প্রশাসনিক ভবন ৪

ফর্ম ও স্টেশনারি শাখা

ফরমস ক্লার্ক
কোথায়
দ্বিতীয় তলা, প্রশাসনিক ভবন ৪
সময়সূচি
দপ্তর-দিবস (শুক্র ও শনিবার বন্ধ): সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৫:০০, বিরতি দুপুর ১:৩০-২:০০; দীর্ঘ অবকাশে সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৪:০০ (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ৩ বিধি ৪(২))
প্রয়োজনীয় সময়
কয়েক মিনিট (নির্দেশক)
ফি
নকলের আবেদন, ফরম নং ২৪ (দেওয়ানি): প্রতি শিট ৪ টাকা (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ১৩ বিধি ১৯); ফটোস্ট্যাট কপির আবেদন, ফরম নং ২৪ক (দেওয়ানি): ৪ টাকার কোর্ট ফি স্ট্যাম্প (অধ্যায় ১৩ বিধি ৩৮(৪))

হাইকোর্ট বিভাগে ব্যবহৃত নির্ধারিত ফরম, যেমন নকলের আবেদন ফরম, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ফরমস ক্লার্কের কাছ থেকে পাওয়া যায়। সরকারি মানচিত্রে ফরমস ও স্টেশনারি শাখা প্রশাসনিক ভবন ৪-এর দ্বিতীয় তলায়। কিছু ফরম সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটের ‘Forms Download’ লিংক থেকেও নামানো যায়। সঠিক ফরম ব্যবহার করলে শাখা আপনার কাগজপত্র ফেরত দেয় না।

বিচারপ্রার্থীদের সবচেয়ে বেশি লাগে নকলের আবেদন ফরম (ফরম নং ২৪ (দেওয়ানি))।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • নির্ধারিত ফরম সংগ্রহ করতে

সেখানে যা করবেন

  1. নাম বা নম্বর বলে ফরমটি চান
  2. কোনো মূল্য থাকলে পরিশোধ করুন
  3. পূরণ করে সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দিন

যা নিয়ে ফিরবেন

নির্ধারিত ফাঁকা ফরম

মামলা ও বিষয়

  • নকল, আবেদন ও রেজিস্টারের ফরম

কাগজপত্র

  • মামলার বিবরণ ছাড়া আর কিছু নয়

যা এড়াবেন

  1. পুরোনো বা ভুল ফরম ব্যবহার করা।

এখানে কারা কাজ করেন

ফরমস ক্লার্ক ও শাখার কর্মচারীরা।

আইন

হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, ১৯৭৩, অধ্যায় ১ক বিধি ১২(ঠ)
পরামর্শপ্রথমে ওয়েবসাইটের Forms Download পাতাটি দেখুন। এতে একবার আসা-যাওয়া বেঁচে যেতে পারে।
বেঞ্চ শাখানিচতলা, প্রশাসনিক ভবন ৪

বেঞ্চ শাখা

বেঞ্চ শাখা
কোথায়
নিচতলা, প্রশাসনিক ভবন ৪
সময়সূচি
দপ্তর-দিবস (শুক্র ও শনিবার বন্ধ): সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৫:০০, বিরতি দুপুর ১:৩০-২:০০; দীর্ঘ অবকাশে সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৪:০০ (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ৩ বিধি ৪(২))
প্রয়োজনীয় সময়
এক ঘণ্টার কম (নির্দেশক)

বেঞ্চ শাখা প্রশাসনিক ভবন ৪-এর নিচতলায় তালিকাভুক্ত। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে এর জনসংশ্লিষ্ট কাজের বর্ণনা নেই। হাইকোর্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের তালিকায় একজন সহকারী রেজিস্ট্রার (বেঞ্চ ও ডিক্রি) আছেন, এবং ওয়েবসাইটের নোটিশে ‘About Bench’ নামে একটি শ্রেণি আছে, যেখানে বেঞ্চ গঠনের তালিকা প্রকাশ করা হয়। আইনজীবীদের মূলত প্রকাশিত বেঞ্চ-তালিকাটি দরকার হয়, যাতে দেখা যায় কোন বিচারপতিরা কোন আদালতে কোন এখতিয়ারে বসছেন।

এই তালিকা ওয়েবসাইটের ‘About Bench’ অংশে এবং দৈনিক কার্যতালিকায় পাওয়া যায়।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • বর্তমান বেঞ্চ-তালিকা খুঁজে পেতে (কোন বেঞ্চ কী শুনছে)
  • বেঞ্চের কর্মচারী সংক্রান্ত প্রশাসনিক বিষয়

সেখানে যা করবেন

  1. অনলাইনে ‘About Bench’ নোটিশগুলো দেখুন
  2. স্পষ্ট না হলে শাখায় বা সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের বেঞ্চ অফিসারকে জিজ্ঞেস করুন

যা নিয়ে ফিরবেন

বর্তমান বেঞ্চের তথ্য

মামলা ও বিষয়

  • বেঞ্চ গঠন ও এখতিয়ারের তালিকা

কাগজপত্র

  • কিছু লাগে না

যা এড়াবেন

  1. বেঞ্চ পুনর্গঠনের পরেও পুরোনো বেঞ্চ-তালিকার ওপর নির্ভর করা।

এখানে কারা কাজ করেন

সহকারী রেজিস্ট্রার (বেঞ্চ ও ডিক্রি) ও শাখার কর্মচারীরা।

আইন

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৭হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, ১৯৭৩, অধ্যায় ২ বিধি ১৫
পরামর্শপ্রধান বিচারপতি বেঞ্চ পুনর্গঠন করলে, প্রায়ই অবকাশের পরে, বেঞ্চের এখতিয়ার বদলে যায়। প্রতি মেয়াদে তালিকাটি আবার দেখে নিন।
পেপার বুক শাখানিচতলা, পুরাতন ভবন

পেপারবুক শাখা

পেপার বুকপিবি শাখা (PB section)
কোথায়
নিচতলা, পুরাতন ভবন
সময়সূচি
দপ্তর-দিবস (শুক্র ও শনিবার বন্ধ): সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৫:০০, বিরতি দুপুর ১:৩০-২:০০; দীর্ঘ অবকাশে সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৪:০০ (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ৩ বিধি ৪(২))
প্রয়োজনীয় সময়
প্রায়ই কয়েক মাস (নির্দেশক)
ফি
হাইকোর্ট বিভাগ রুলসের অধ্যায় ৯ অনুযায়ী নিরূপিত পেপার বুকের খরচ; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন

পেপার বুক হলো নথির মুদ্রিত বা টাইপ করা সংকলন, যা আপিল বা রেফারেন্সের শুনানিতে বিচারপতি ও আইনজীবীরা ব্যবহার করেন: আরজি-জবাব, সাক্ষ্য, প্রদর্শনী ও নিম্ন আদালতের রায়। হাইকোর্ট বিভাগ রুলসের অধ্যায় ৯ এর আকার, সম্পাদনা, বিষয়বস্তু (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড), খরচ ও প্রস্তুতি নিয়ন্ত্রণ করে।

যেখানে কোনো পক্ষকে নিজে এটি প্রস্তুতের অনুমতি দেওয়া হয়, সেখানে তাকে খরচের হিসাব করে ১২টি কপি দাখিল করতে হয়। সরকারি মানচিত্রে পেপার বুক শাখা হাইকোর্ট মাজার মসজিদের পাশে পুরাতন ভবনের নিচতলায়। পেপার বুক প্রস্তুতি সংক্রান্ত লাওয়াজিমা প্রতিবেদন রেজিস্ট্রার দেখেন।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • আপনার আপিল বা ডেথ রেফারেন্সের পেপার বুক প্রস্তুত হয়েছে কি না দেখতে
  • পেপার বুকের খরচ জমা দিতে
  • নিজে প্রস্তুত করা পেপার বুক দাখিল করতে

সেখানে যা করবেন

  1. মামলা নম্বর দিয়ে শাখার কাছে পেপার বুকের অবস্থা জানতে চান
  2. আনুমানিক খরচ জমা দিন অথবা নিজে প্রস্তুতের অনুমতি চান
  3. অধ্যায় ৯-এ নির্ধারিত আকারে প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় কপি দাখিল করুন
  4. শাখা প্রস্তুতির প্রতিবেদন দেয়, যাতে মামলা তালিকাভুক্ত হতে পারে

যা নিয়ে ফিরবেন

পেপার বুকের অবস্থাজমা দেওয়া খরচের রসিদ

মামলা ও বিষয়

  • প্রথম আপিল
  • ফৌজদারি আপিল
  • ডেথ রেফারেন্স

কাগজপত্র

  • মামলা নম্বর
  • খরচ জমার রসিদ
  • পেপার বুকের কপি

যা এড়াবেন

  1. আগেভাগে পেপার বুকের অবস্থা না দেখা।
  2. নিজে পেপার বুক প্রস্তুত করার সময় প্রয়োজনের চেয়ে কম কপি দাখিল করা।

এখানে কারা কাজ করেন

একজন ডেপুটি রেজিস্ট্রারের তত্ত্বাবধানে শাখার কর্মচারীরা।

আইন

হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, ১৯৭৩, অধ্যায় ৯হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, ১৯৭৩, অধ্যায় ২ বিধি ২(১৭)
পরামর্শপেপার বুক প্রস্তুত না হলে মামলার শুনানি খুব কমই হয়। আগেভাগে খোঁজ নিলে কয়েক মাস বাঁচে।
কোর্ট নিরাপত্তা (পুলিশ) বিভাগনিচতলা, সুপ্রিম কোর্ট জাদুঘরের পাশের ভবন

কোর্ট নিরাপত্তা (পুলিশ) বিভাগ

কোর্ট পুলিশনিরাপত্তা
কোথায়
নিচতলা, সুপ্রিম কোর্ট জাদুঘরের পাশের ভবন
প্রয়োজনীয় সময়
কয়েক মিনিট (নির্দেশক)

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা দেয় পুলিশ। সরকারি অবস্থান-মানচিত্রে ‘কোর্ট নিরাপত্তা (পুলিশ) বিভাগ’ সুপ্রিম কোর্ট জাদুঘরের পাশের ভবনের নিচতলায়। আগস্ট ২০২৫-এর একটি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিরাপত্তাকর্মীরা চাইলে প্রাঙ্গণে থাকা ব্যক্তিদের জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট বা দাপ্তরিক পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। পরবর্তী নিরাপত্তা বিজ্ঞপ্তির জন্য সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইট দেখুন।

আপনাকে থামানো হলে বৈধ ছবিসহ পরিচয়পত্র এবং আপনি কোন ভবন ও দপ্তরে যাচ্ছেন তার স্পষ্ট বিবরণ দিলেই সাধারণত বিষয়টি মিটে যায়।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • প্রাঙ্গণে কিছু হারালে বা নিরাপত্তাজনিত ঘটনা ঘটলে জানাতে
  • নিরাপত্তা ছাড়পত্র সংক্রান্ত প্রশ্ন

সেখানে যা করবেন

  1. নিরাপত্তা চৌকি বা বিভাগে যান
  2. সমস্যাটি ব্যাখ্যা করুন এবং পরিচয়পত্র দেখান

মামলা ও বিষয়

  • প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা

কাগজপত্র

  • জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট বা দাপ্তরিক পরিচয়পত্র

যা এড়াবেন

  1. ছবিসহ পরিচয়পত্র ছাড়া প্রাঙ্গণে আসা।

এখানে কারা কাজ করেন

আদালতের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তারা।

আইন

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি (আগস্ট ২০২৫)
পরামর্শসুপ্রিম কোর্টে প্রতিবার আসার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন (SCBA)সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন

বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতি

এসসিবিএ (SCBA)বারসুপ্রিম কোর্ট বার
কোথায়
সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন
প্রয়োজনীয় সময়
আপনার সাক্ষাতের সময়ের ওপর নির্ভর করে (নির্দেশক)

১৯৭২ সালে গঠিত সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন সুপ্রিম কোর্টে পেশাচর্চাকারী আইনজীবীদের সমিতি। প্রাঙ্গণে এর ভবনে সমিতির দপ্তর ও আইনজীবীদের কক্ষ রয়েছে। আইনজীবীদের মুহুরি, টাইপিস্ট এবং ফটোকপি ও স্টেশনারির দোকানগুলো এর চারপাশে, তাই অনেক বিচারপ্রার্থীর সঙ্গে তাঁদের আইনজীবী বা মুহুরির প্রথম দেখা এখানেই হয়।

ভবনের ভেতরে কোন কোন হলঘর, লাইব্রেরি কক্ষ ও চেম্বার আছে, তা এই গাইডের জন্য যাচাই করা হয়নি; সমিতির দপ্তরে জিজ্ঞেস করুন।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • আপনার আইনজীবী বা তাঁর মুহুরির সঙ্গে দেখা করতে
  • আদালতের কাছে টাইপ, ফটোকপি ও স্টেশনারির জন্য
  • বারের অনুষ্ঠান ও নোটিশের জন্য

সেখানে যা করবেন

  1. নির্দিষ্ট একটি জায়গায় আপনার আইনজীবী বা মুহুরির সঙ্গে দেখা করার ব্যবস্থা করুন
  2. কাগজপত্র হস্তান্তর করুন এবং ওকালতনামা ও হলফনামার কাগজে স্বাক্ষর দিন
  3. মুহুরির সঙ্গে শাখায় বা হলফনামা কমিশনারের কাছে যান

যা নিয়ে ফিরবেন

আপনার আইনজীবী বা মুহুরির সঙ্গে সাক্ষাৎস্বাক্ষরিত ওকালতনামা

মামলা ও বিষয়

  • এটি আদালত নয়। সব ধরনের মামলায় হাজির হওয়া আইনজীবীদের এটি সহায়তা করে

কাগজপত্র

  • আপনার মামলার কাগজপত্র
  • জাতীয় পরিচয়পত্র
  • স্বাক্ষরিত ওকালতনামা

যা এড়াবেন

  1. বার ভবনের কাছে অযাচিতভাবে এগিয়ে আসা লোকজনকে টাকা দেওয়া।
  2. সুনির্দিষ্ট দেখা করার জায়গা ও ফোন নম্বর ঠিক না করা।

এখানে কারা কাজ করেন

এসসিবিএ-র আইনজীবী, পদাধিকারী ও কর্মচারী এবং আইনজীবীদের মুহুরিরা।

আইন

বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২
পরামর্শআপনার আইনজীবীর মুহুরির সঙ্গে সুনির্দিষ্ট দেখা করার জায়গা ও ফোন নম্বর ঠিক করে নিন। দুপুরের দিকে বার ভবনের আশপাশে প্রচণ্ড ভিড় থাকে।
আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রি (লিভ পিটিশন ও আপিল দাখিল)যেসব গেট ও দপ্তরের অবস্থান এখনো নির্ধারিত হয়নি

আপিল বিভাগ রেজিস্ট্রি

আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রিআপিল বিভাগের শাখাআপিল বিভাগে দাখিল
কোথায়
যেসব গেট ও দপ্তরের অবস্থান এখনো নির্ধারিত হয়নি
সময়সূচি
আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর পাঠ অনুযায়ী: কর্মদিবসে দপ্তর সকাল ৮:০০ থেকে দুপুর ২:০০ পর্যন্ত খোলা, এবং শেষ এক ঘণ্টায় অ-জরুরি বিষয় গ্রহণ করা হয় না; এটি প্রধান বিচারপতির আদেশসাপেক্ষ, তাই বর্তমান সময় যাচাই করুন
প্রয়োজনীয় সময়
বিধান: হাইকোর্টের রায়ের ৬০ দিনের মধ্যে দেওয়ানি লিভ পিটিশন ও ৩০ দিনের মধ্যে ফৌজদারি লিভ পিটিশন; রিভিউ ৩০ দিনের মধ্যে
ফি
তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন

আপিলের অনুমতির আবেদন, আপিল, রিভিউ পিটিশন ও আপিল বিভাগে অন্যান্য আবেদন জমা দেওয়া হয় আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রিতে, যা পরিচালনা করেন আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার। রেজিস্ট্রার বহু কার্যপ্রণালীগত বিষয় নিষ্পত্তি করতে পারেন (আদেশ ৫, বিধি ১), যেমন প্রতিস্থাপন, কোর্ট ফি পরিশোধে বিলম্ব মার্জনা, তৃতীয় পক্ষকে কপি প্রদান এবং নথি তলব।

আপিল বিভাগ রুলস অনুযায়ী সময়সীমা: হাইকোর্টের রায়ের ৬০ দিনের মধ্যে দেওয়ানি লিভ পিটিশন, ৩০ দিনের মধ্যে ফৌজদারি লিভ পিটিশন, ৩০ দিনের মধ্যে রিভিউ, এবং খালাসের বিরুদ্ধে অ্যাটর্নি জেনারেল বা অন্য কোনো ল অফিসারের লিভ পিটিশনের জন্য ৬০ দিন। সুপ্রিম কোর্টের লোকেশন ফাইন্ডারে আপিল বিভাগের দপ্তরগুলো তালিকাভুক্ত নেই, তাই এখানে এদের ভবন নিশ্চিত নয়।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • সিপিএলএ, ক্রিমিনাল পিএলএ, আপিল বা রিভিউ দাখিল করতে
  • কার্যপ্রণালীগত আবেদন নিয়ে আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রারের কাছে যেতে
  • আপিল বিভাগের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করতে

সেখানে যা করবেন

  1. হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করুন
  2. একজন অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড নিয়োগ করুন, যিনি আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রিতে পিটিশন দাখিল করবেন
  3. কোর্ট ফি এবং প্রয়োজনীয় জামানত পরিশোধ করুন
  4. আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় তালিকাভুক্তি নজরে রাখুন

যা নিয়ে ফিরবেন

পিটিশন নম্বর (যেমন সিপিএলএ বা ক্রিমিনাল পিএলএ)দাখিলের পৃষ্ঠাঙ্কন বা রসিদ

মামলা ও বিষয়

  • দেওয়ানি আপিলের অনুমতির আবেদন (সিপিএলএ, CPLA)
  • ফৌজদারি আপিলের অনুমতির আবেদন (ক্রিমিনাল পিএলএ, CrlPLA)
  • দেওয়ানি ও ফৌজদারি আপিল
  • রিভিউ পিটিশন

কাগজপত্র

  • আপত্তিকৃত রায়ের সার্টিফায়েড কপি
  • যুক্তিসহ পিটিশন
  • ওকালতনামা
  • কোর্ট ফি

যা এড়াবেন

  1. রায়ের তারিখের বদলে সার্টিফায়েড কপি হাতে আসার তারিখ থেকে লিভের সময় গণনা করা।
  2. অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড ছাড়া দাখিলের চেষ্টা করা।

এখানে কারা কাজ করেন

আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রির রেজিস্ট্রার ও কর্মচারীরা।

আইন

আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮, আদেশ ৫, আদেশ ১৩ (দেওয়ানি লিভ), আদেশ ২৪ (ফৌজদারি লিভ) ও আদেশ ২৬ (রিভিউ)সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩
পরামর্শআপিল বিভাগ রুলস ৬০ বা ৩০ দিন গণনা করে হাইকোর্টের রায়ের তারিখ থেকে। পরামর্শ নেওয়ার জন্য সার্টিফায়েড কপির অপেক্ষায় থাকবেন না।
জেল আপিল শাখাযেসব গেট ও দপ্তরের অবস্থান এখনো নির্ধারিত হয়নি

জেল আপিল শাখা

জেল আপিল
কোথায়
যেসব গেট ও দপ্তরের অবস্থান এখনো নির্ধারিত হয়নি
সময়সূচি
দপ্তর-দিবস (শুক্র ও শনিবার বন্ধ): সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৫:০০, বিরতি দুপুর ১:৩০-২:০০; দীর্ঘ অবকাশে সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৪:০০ (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ৩ বিধি ৪(২))
প্রয়োজনীয় সময়
কারাগার কখন আপিল পাঠায় এবং সংশ্লিষ্ট মামলার ওপর নির্ভর করে (নির্দেশক)

দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দী ব্যক্তিগত আইনজীবী ছাড়াই কারাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে আপিল করতে পারেন। কারাগার আপিলের আবেদন আদালতে পাঠায় (ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২০), এবং হাইকোর্ট বিভাগের জেল আপিল শাখা তা নিবন্ধন ও প্রক্রিয়া করে। শাখাটি সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান-তালিকায় আছে, তবে এর কোনো মানচিত্র প্রকাশিত নেই। জেল আপিল প্রায়ই একই মামলার ডেথ রেফারেন্স বা নিয়মিত আপিলের সঙ্গে একত্রে শুনানি হয়।

সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস একজন প্যানেল আইনজীবী দিতে পারে।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • বন্দীর দাখিল করা জেল আপিলের অবস্থা জানতে
  • জেল আপিলকে নিয়মিত আপিল বা ডেথ রেফারেন্সের সঙ্গে যুক্ত করাতে

সেখানে যা করবেন

  1. বন্দী কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল দেন
  2. কারাগার তা হাইকোর্ট বিভাগে পাঠায়
  3. জেল আপিল শাখা তা নিবন্ধন করে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যুক্ত করে
  4. সংশ্লিষ্ট মামলার সঙ্গে বা আলাদাভাবে শুনানি হয়

যা নিয়ে ফিরবেন

জেল আপিল নম্বর

মামলা ও বিষয়

  • দণ্ড ও সাজার বিরুদ্ধে জেল আপিল

কাগজপত্র

  • জেল আপিল নম্বর
  • বন্দীর নাম ও বিচারিক আদালতের মামলা নম্বর

যা এড়াবেন

  1. পরিবারের সদস্যরা কারাগারের কাছে জেল আপিল নম্বর না চাওয়া।
  2. ধরে নেওয়া যে জেল আপিল আইনজীবীর করা আপিলের বিকল্প; একজন আইনজীবীকে জিজ্ঞেস করুন।

এখানে কারা কাজ করেন

রেজিস্ট্রির অধীন শাখার কর্মচারীরা।

আইন

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮, ধারা ৪২০
পরামর্শপরিবারের সদস্যদের উচিত কারাগার থেকে জেল আপিল নম্বর জেনে নেওয়া, তারপর আইনজীবী বা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে শাখায় খোঁজ নেওয়া।
ডেথ রেফারেন্স শাখাযেসব গেট ও দপ্তরের অবস্থান এখনো নির্ধারিত হয়নি

ডেথ রেফারেন্স শাখা

ডেথ রেফারেন্সডিআর শাখা (DR section)
কোথায়
যেসব গেট ও দপ্তরের অবস্থান এখনো নির্ধারিত হয়নি
সময়সূচি
দপ্তর-দিবস (শুক্র ও শনিবার বন্ধ): সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৫:০০, বিরতি দুপুর ১:৩০-২:০০; দীর্ঘ অবকাশে সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৪:০০ (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ৩ বিধি ৪(২))
প্রয়োজনীয় সময়
পেপার বুক ও বিশেষ বেঞ্চের জন্য প্রায়ই দীর্ঘ অপেক্ষা (নির্দেশক)

দায়রা জজ বা ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিলে কার্যধারা হাইকোর্ট বিভাগে পাঠাতে হয়, এবং হাইকোর্ট অনুমোদন (confirm) না করা পর্যন্ত দণ্ড কার্যকর করা যায় না (ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৪)। ডেথ রেফারেন্স শাখা এসব রেফারেন্স নিবন্ধন করে এবং নথি ও পেপার বুক ব্যবস্থাপনা করে। সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান-তালিকায় মানচিত্রবিহীন একটি ‘ডেথ রেফারেন্স শাখা’ এবং আলাদাভাবে পুরাতন ভবনের নিচতলায় একটি ‘রেফারেন্স শাখা’-র নাম আছে।

রেফারেন্সগুলো বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি হয়, সাধারণত দণ্ডিতদের আপিল ও জেল আপিলের সঙ্গে একত্রে। অনুমোদনের আদেশে অন্তত দুজন বিচারপতির স্বাক্ষর থাকতে হবে (ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৭)।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • ডেথ রেফারেন্সের শুনানি কবে হবে জানতে
  • দণ্ডিতের আপিল বা জেল আপিল যুক্ত করাতে
  • পেপার বুক প্রস্তুত হয়েছে কি না দেখতে

সেখানে যা করবেন

  1. বিচারিক আদালত রেফারেন্স ও নথি হাইকোর্ট বিভাগে পাঠায়
  2. শাখা ডেথ রেফারেন্স নিবন্ধন করে
  3. পেপার বুক প্রস্তুত করা হয় (২০২৬ সালের একটি মামলায় তা এসেছিল সরকারি বিজি প্রেস থেকে)
  4. মামলা বিশেষ বেঞ্চে উপস্থাপিত হয়; প্রয়োজনে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ করা হয়
  5. রায় বিচারিক আদালতে ফেরত পাঠানো হয়

যা নিয়ে ফিরবেন

ডেথ রেফারেন্স নম্বর

মামলা ও বিষয়

  • ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৪-এর অধীনে ডেথ রেফারেন্স
  • সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি আপিল ও জেল আপিল

কাগজপত্র

  • ডেথ রেফারেন্স নম্বর
  • বিচারিক আদালতের মামলা নম্বর
  • সংশ্লিষ্ট আপিলের নম্বর

যা এড়াবেন

  1. যাচাই না করে পুরাতন ভবনের ‘রেফারেন্স শাখা’-কেই ডেথ রেফারেন্স শাখা ধরে নেওয়া।
  2. খোঁজখবরের সময় সংশ্লিষ্ট আপিলের নম্বর উল্লেখ না করা।

এখানে কারা কাজ করেন

রেজিস্ট্রির অধীন শাখার কর্মচারীরা।

আইন

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮, ধারা ৩৭৪-৩৭৯
পরামর্শরেফারেন্সগুলো সাধারণত পুরোনো থেকে নতুন ক্রমে শুনানির জন্য নেওয়া হয়, তবে প্রধান বিচারপতি আগে শুনানির অনুমতি দিতে পারেন। ওয়েবসাইটে ডেথ রেফারেন্সের আলাদা কার্যতালিকা প্রকাশ করা হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়যেসব গেট ও দপ্তরের অবস্থান এখনো নির্ধারিত হয়নি

অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়

এজি অফিসঅ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসএজি-র কার্যালয়
কোথায়
যেসব গেট ও দপ্তরের অবস্থান এখনো নির্ধারিত হয়নি
প্রয়োজনীয় সময়
কপি জারি করতে ১-২ ঘণ্টা (নির্দেশক)

অ্যাটর্নি জেনারেল সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৪-এর অধীনে একটি সাংবিধানিক পদ। পদধারী সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা এবং সুপ্রিম কোর্টে রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন; সব আদালতে তাঁর বক্তব্য পেশের অধিকার আছে। কার্যালয়টি সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের ভেতরে, কিন্তু এর ভবন ও কক্ষ সরকারিভাবে প্রকাশিত নয়, তাই অনুসন্ধান ডেস্কে বা গেটে ‘এজি অফিস’ কোথায় জিজ্ঞেস করুন।

বাংলাদেশ ল অফিসার্স অর্ডার, ১৯৭২-এর অধীনে অতিরিক্ত, ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁরা রিটে সরকার ও সরকারি সংস্থার পক্ষে, হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারি বিষয়ে (জামিন, ডেথ রেফারেন্স ও আপিলসহ) রাষ্ট্রের পক্ষে, এবং সরকারের আপিল ও লিভ পিটিশনে হাজির হন। সাংবিধানিক ও কোর্ট ফি সংক্রান্ত বিষয়ে আদালত অ্যাটর্নি জেনারেলকে নোটিশ দেওয়ার নির্দেশও দিতে পারেন।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • সরকার প্রতিপক্ষ হলে রিট পিটিশনের নোটিশ বা অগ্রিম কপি জারি করতে
  • কোনো বিষয়ে কোন ডেপুটি বা সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রপক্ষ দেখছেন জানতে
  • রাষ্ট্রের ওপর জামিনের আবেদন বা অন্য ফৌজদারি মোশনের কপি জারি করতে
  • সাংবিধানিক বা কোর্ট ফি সংক্রান্ত বিষয়ে আদালত অ্যাটর্নি জেনারেলকে নোটিশের নির্দেশ দিলে

সেখানে যা করবেন

  1. এজি অফিসের জন্য পিটিশনের একটি অতিরিক্ত কপি প্রস্তুত করুন
  2. এজি অফিসে তা পৌঁছে দিন এবং রসিদ বা পৃষ্ঠাঙ্কন নিন
  3. শুনানিতে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে সংযুক্ত ডেপুটি বা সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রের পক্ষে হাজির হন
  4. সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বা প্রতিপালন প্রতিবেদন নিয়ে ল অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন

যা নিয়ে ফিরবেন

আপনার কপিতে জারির রসিদ বা পৃষ্ঠাঙ্কন

মামলা ও বিষয়

  • সরকার ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার বিরুদ্ধে রিট পিটিশন (অনুচ্ছেদ ১০২)
  • রাষ্ট্র পক্ষ এমন ফৌজদারি জামিন, রিভিশন ও আপিল
  • ডেথ রেফারেন্স
  • সরকারের আপিল ও লিভ পিটিশন, খালাসের বিরুদ্ধেও (আপিল বিভাগে ৬০ দিনের সময়সীমা)
  • সাংবিধানিক রেফারেন্স (অনুচ্ছেদ ১০৬)

কাগজপত্র

  • সংযুক্তিসহ পিটিশনের কপি
  • মামলা নম্বর ও বেঞ্চ
  • জারির পৃষ্ঠাঙ্কন বা রসিদ

যা এড়াবেন

  1. সংযুক্তি ছাড়া কপি রেখে আসা।
  2. কোন ল অফিসার আপনার বেঞ্চ দেখেন, তা না জেনে নেওয়া।

এখানে কারা কাজ করেন

অ্যাটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলগণ এবং দপ্তরের কর্মচারীরা।

আইন

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৪, ১০২, ১০৬বাংলাদেশ ল অফিসার্স অর্ডার, ১৯৭২ (১৯৭২ সালের পি.ও. ৬)হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, ১৯৭৩, অধ্যায় ২ বিধি ১৮-১৯আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮, আদেশ ২৪ বিধি ২ (ব্যতিক্রম)
পরামর্শল অফিসাররা সাধারণত নির্দিষ্ট বেঞ্চে সংযুক্ত থাকেন। কোন ডিএজি আপনার বেঞ্চ দেখেন, তা এজি অফিস বা বেঞ্চ অফিসারকে জিজ্ঞেস করে সরাসরি তাঁকে কপি দিন।
সলিসিটর উইং (আইন ও বিচার বিভাগ)যেসব গেট ও দপ্তরের অবস্থান এখনো নির্ধারিত হয়নি

সলিসিটর অনুবিভাগ

সলিসিটরসলিসিটরের কার্যালয়সরকারি সলিসিটর
কোথায়
যেসব গেট ও দপ্তরের অবস্থান এখনো নির্ধারিত হয়নি
প্রয়োজনীয় সময়
আদালতের আদেশ বা মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে কাজ করে; সরাসরি সাক্ষাতের কোনো সময়সূচি নেই (নির্দেশক)

সলিসিটর উইং আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের একটি অংশ। এটি সরকারি মামলা-মোকদ্দমা এবং ল অফিসারদের প্রশাসন নিয়ে কাজ করে। ২০২৫ সালে ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগের প্রজ্ঞাপনগুলোতে সলিসিটর স্বাক্ষর করেছিলেন। জুন ২০২৬-এ হাইকোর্ট একটি ডেথ রেফারেন্সে দণ্ডিতদের জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে একজন ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিতে সলিসিটর উইংকে নির্দেশ দেন।

ব্যক্তিগত পক্ষের কাছে সলিসিটর উইংয়ের গুরুত্ব মূলত এই যে, এটি রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ দেয় এবং মামলা পরিচালনার প্রশাসনিক কাজে সরকারের দিকটি দেখে। এই গাইডের জন্য এর দপ্তরের অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • আদালত সলিসিটর উইংকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দিলে
  • সরকারি মামলা পরিচালনার প্রশাসন (কর্মকর্তাদের জন্য)

সেখানে যা করবেন

  1. সাধারণত সরাসরি আসা দর্শনার্থীর ভিত্তিতে নয়, আদালতের আদেশ বা মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে কাজ করে
  2. আইনজীবীরা আইন ও বিচার বিভাগের মাধ্যমে খোঁজখবর রাখেন

মামলা ও বিষয়

  • ডেথ রেফারেন্সে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ
  • সরকারি মামলা পরিচালনার প্রশাসন

কাগজপত্র

  • আদালতের আদেশের কপি

যা এড়াবেন

  1. এখানে আদালতের কাগজপত্র দাখিলের চেষ্টা করা; এটি একটি প্রশাসনিক দপ্তর।

এখানে কারা কাজ করেন

সলিসিটর ও আইন ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা।

আইন

কার্যবণ্টন তালিকা (Allocation of Business) (আইন ও বিচার বিভাগ: সরকারের পক্ষে মামলা পরিচালনা)
পরামর্শএখানে নিজে কিছু দাখিল করার আশা করবেন না। এটি মামলা-মোকদ্দমার জন্য সরকারের প্রশাসনিক শাখা।
সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসযেসব গেট ও দপ্তরের অবস্থান এখনো নির্ধারিত হয়নি

সুপ্রীম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস

আইনগত সহায়তাসুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড
কোথায়
যেসব গেট ও দপ্তরের অবস্থান এখনো নির্ধারিত হয়নি
প্রয়োজনীয় সময়
আবেদনের সিদ্ধান্ত পেতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ (নির্দেশক)
ফি
যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য বিনা খরচে; সরকার সরাসরি প্যানেল আইনজীবীর সম্মানী পরিশোধ করে

প্রধান বিচারপতি ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ এবং ২০১৫ সালের সুপ্রিম কোর্ট আইনগত সহায়তা প্রবিধান অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস উদ্বোধন করেন। যোগ্য দরিদ্র ও অসহায় আবেদনকারীরা এই অফিসে আবেদন করেন। যাচাইয়ের পরে বিনা খরচে একজন প্যানেল আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়, এবং সরকার সরাসরি আইনজীবীর সম্মানী পরিশোধ করে।

অফিসের ওয়েব পাতায় প্রথম আপিল ও দেওয়ানি রিভিশন, ফৌজদারি আপিল ও রিভিশন, জেল আপিল, রিট পিটিশন এবং আপিল বিভাগে লিভ পিটিশনে সহায়তার কথা বলা আছে। এটি আইনি পরামর্শ ও মামলার গুণাগুণ সম্পর্কে মতামতও দেয় এবং প্রকৃত খরচ বহন করে। অফিসের প্রধান একজন চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার, যিনি একজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা। ওয়েবসাইটে অফিসটি কোন ভবনে তা উল্লেখ নেই।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • হাইকোর্ট বা আপিল বিভাগে বিনা খরচে আইনজীবী পেতে আবেদন করতে
  • আপিলের গুণাগুণ আছে কি না সে বিষয়ে পরামর্শ পেতে

সেখানে যা করবেন

  1. অফিসে যান, অথবা আজ এটি কোথায় তা জানতে সুপ্রিম কোর্টের হেল্পলাইনে ফোন করুন
  2. যোগ্যতার প্রমাণ ও মামলার কাগজপত্রসহ আবেদন জমা দিন
  3. কমিটি বা অফিস আবেদনটি যাচাই করে
  4. একজন প্যানেল আইনজীবী নিয়োগ পান এবং মামলা দাখিল বা পরিচালনা করেন

যা নিয়ে ফিরবেন

আপনার আবেদনের সিদ্ধান্তঅনুমোদিত হলে প্যানেল আইনজীবী নিয়োগ

মামলা ও বিষয়

  • প্রথম আপিল ও দেওয়ানি রিভিশন
  • ফৌজদারি আপিল ও রিভিশন
  • জেল আপিল
  • রিট পিটিশন
  • আপিল বিভাগে লিভ পিটিশন

কাগজপত্র

  • আবেদন
  • জাতীয় পরিচয়পত্র
  • আয় বা অসহায়ত্বের প্রমাণ
  • রায় ও মামলার কাগজপত্রের কপি

যা এড়াবেন

  1. যোগ্যতার প্রমাণ ছাড়া আসা।
  2. খুব দেরিতে আবেদন করে তামাদির সময়সীমা পার করে ফেলা।

এখানে কারা কাজ করেন

সুপ্রিম কোর্টের চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার (একজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা) ও কর্মচারীরা। সুপ্রিম কোর্ট আইনগত সহায়তা কমিটির সভাপতি একজন বিচারপতি।

আইন

আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০সুপ্রিম কোর্ট আইনগত সহায়তা প্রবিধান, ২০১৫
পরামর্শসার্টিফায়েড কপি থাকলে সঙ্গে আনুন। যেকোনো আপিলের জন্য প্যানেল আইনজীবীর সেগুলো লাগবে।
প্রবেশ গেট, পরিচয়পত্র যাচাই ও প্রাঙ্গণে আচরণবিধিযেসব গেট ও দপ্তরের অবস্থান এখনো নির্ধারিত হয়নি

প্রবেশ ফটক

গেটপ্রবেশ পাস
কোথায়
যেসব গেট ও দপ্তরের অবস্থান এখনো নির্ধারিত হয়নি
প্রয়োজনীয় সময়
প্রবেশের তল্লাশির জন্য ১৫-৩০ মিনিট হাতে রাখুন (নির্দেশক)

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের গেটগুলো পাহারাধীন। এগুলোর নাম এবং কোনগুলো সাধারণের জন্য খোলা, তা এই গাইডের জন্য যাচাই করা হয়নি। আগস্ট ২০২৫ থেকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী, তাঁদের সহকারী, বিচারপ্রার্থী ও কর্মচারীদের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে এবং নিরাপত্তাকর্মীরা চাইলে তা দেখাতে বলেছে। ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ থেকে আপিল বিভাগের এজলাসে প্রবেশকারী বিচারপ্রার্থীদের ডিজিটাল প্রবেশ পাস লাগে, যা সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বুক করতে হয়।

হাইকোর্ট বিভাগ রুলস অনুযায়ী আদালতের দপ্তরগুলো জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয়। বিচারপ্রার্থীরা সাধারণত তাঁদের আইনজীবী বা মুহুরির মাধ্যমে শাখার সঙ্গে কাজ করেন এবং লিখিত আবেদনের মাধ্যমে তথ্য পান।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • শুনানির দিনে প্রবেশ
  • আপনার আইনজীবী, কোনো শাখা বা এজি অফিসে যাওয়া

সেখানে যা করবেন

  1. জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট সঙ্গে রাখুন
  2. আপিল বিভাগে গেলে প্রবেশ পাস বুক করে প্রিন্ট করুন
  3. কোন ভবনে যাচ্ছেন তা নিরাপত্তাকর্মীদের জানান
  4. এজলাসে ফোন সাইলেন্ট রাখুন এবং বেঞ্চের কর্মচারীদের নির্দেশনা মেনে চলুন

যা নিয়ে ফিরবেন

প্রাঙ্গণে প্রবেশবুক করা থাকলে আপিল বিভাগের প্রবেশ পাসের প্রিন্টআউট

মামলা ও বিষয়

  • সব দর্শনার্থী

কাগজপত্র

  • জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট
  • প্রয়োজনে আপিল বিভাগের প্রবেশ পাস
  • কার্যতালিকার সংশ্লিষ্ট অংশ

যা এড়াবেন

  1. জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট আনতে ভুলে যাওয়া।
  2. আগের দিন সন্ধ্যায় আপিল বিভাগের প্রবেশ পাস বুক না করা।

এখানে কারা কাজ করেন

পুলিশ ও সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তাকর্মীরা।

আইন

হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, ১৯৭৩, অধ্যায় ১ক বিধি ১২সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তি (২০২৩, ২০২৫)
পরামর্শআইনজীবীরা গাউন পরে হাজির হন। দর্শনার্থীদের শালীন পোশাক পরা উচিত। দর্শনার্থীদের জন্য প্রকাশিত কোনো পোশাকবিধি বা ফোন-নীতি পাওয়া যায়নি, তাই কর্মচারীদের নির্দেশনা মেনে চলুন।
পর্ব ২ · ৩৫টি স্থান · ৮টি ভবন ও এলাকা

ঢাকার নিম্ন আদালত: পুরান ঢাকার জনসন রোড ও কোর্ট হাউস স্ট্রিটের আদালতপাড়া

ঢাকার বেশির ভাগ ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা শুরু হয় এবং শেষও হয় নিম্ন আদালতে, সুপ্রিম কোর্টে নয়। এই আদালতগুলো পুরান ঢাকায় পাশাপাশি অবস্থিত—জনসন রোড ও কোর্ট হাউস স্ট্রিটের মাঝের আদালতপাড়ায়, বাহাদুর শাহ পার্ক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরে, কোতোয়ালি ও সূত্রাপুর এলাকায়।

বিচার বিভাগের সরকারি পোর্টালে এই ঠিকানাগুলো দেওয়া আছে: মুখ্য মহানগর হাকিম (CMM) আদালত ১৯ জনসন রোডে, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মুখ্য বিচারিক হাকিম (CJM) আদালত ১৮ জনসন রোডে, জেলা ও দায়রা জজ আদালত ("ঢাকা জজ কোর্ট") ১৬ জনসন রোডে এবং মহানগর দায়রা জজ (Metropolitan Sessions Judge) আদালত ৪০-৪৫ জনসন রোডে।

ওপেনস্ট্রিটম্যাপ (OpenStreetMap) অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (কালেক্টরেট) জনসন রোডে সিএমএম আদালত ও জজ কোর্টের মাঝখানে এবং ঢাকা আইনজীবী সমিতি (Dhaka Bar Association) কোর্ট হাউস স্ট্রিটে। এখানে চার ধরনের মানুষ আসেন। ফৌজদারি মামলার পক্ষদের কাজ পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে: গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কেরানীগঞ্জ কারাগার বা থানা থেকে আদালতের হাজতখানায় আনা হয়, আর পুলিশের প্রসিকিউশন কর্মী ও জিআর (GR) শাখা তাঁদের নথি দেখে।

দেওয়ানি মামলার পক্ষরা যান জজ কোর্টের দেওয়ানি আদালত, পারিবারিক আদালত, অর্থঋণ আদালত ও ট্রাইব্যুনালে। ভূমি ও রাজস্ব-সংক্রান্ত বিষয় যায় কালেক্টরেটে, যা সরকারের অংশ, বিচার বিভাগের নয়। আইনজীবীরা কাজ করেন আইনজীবী সমিতি থেকে, সেখানেই তাঁদের মুহুরি, নোটারি ও স্ট্যাম্প বিক্রেতাদের পাওয়া যায়। এলাকাটি ভিড়ে ঠাসা, ভবনগুলো উঁচু এবং কোন তলায় কী আছে তা বদলায়, তাই সব সময় দিনের কার্যতালিকায় (cause list) আদালত নম্বর মিলিয়ে নিন এবং অনুসন্ধান ডেস্কে জিজ্ঞেস করুন।

ঢাকার আদালত গাইড: ঢাকা জেলা জজ আদালত ভবনের একাংশ, ২০১০ সালের ডিসেম্বরে তোলা, নতুন ৮ তলা ভবন চালু হওয়ার আগে।
ঢাকা জেলা জজ আদালত ভবনের একাংশ, ২০১০ সালের ডিসেম্বরে তোলা, নতুন ৮ তলা ভবন চালু হওয়ার আগে। ছবি: Rashed Ali, CC BY-SA 3.0, উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে।
ঢাকার আদালত গাইড: ঢাকা জেলা জজ আদালত ভবন (আংশিক দৃশ্য), ডিসেম্বর ২০১০।
ঢাকা জেলা জজ আদালত ভবন (আংশিক দৃশ্য), ডিসেম্বর ২০১০। ছবি: Rashed Ali, CC BY-SA 3.0, উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে।
ঢাকার আদালত গাইড: বাহাদুর শাহ পার্ক, আদালতপাড়ার ঠিক দক্ষিণ-পূর্বের পরিচিত স্থান, ২০২১।
বাহাদুর শাহ পার্ক, আদালতপাড়ার ঠিক দক্ষিণ-পূর্বের পরিচিত স্থান, ২০২১। ছবি: Zaheed Sarwer Khan, CC0, উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে।
ঠিকানা
জনসন রোড, ঢাকা-১১০০ (কোতোয়ালি, পুরান ঢাকা): সিএমএম আদালত ১৯, সিজেএম আদালত ১৮, জেলা ও দায়রা জজ আদালত ১৬, মহানগর দায়রা জজ আদালত ৪০-৪৫ জনসন রোড (বিচার বিভাগের সরকারি পোর্টাল)।
আদালতের সময়
আদালত সাধারণত রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার বসে। ঢাকার পোর্টালগুলোতে এসব আদালতের এজলাস বা অফিসের সময় প্রকাশ করা নেই, তাই আপনার আইনজীবীর কাছ থেকে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন এবং সকাল সকাল পৌঁছান।
নিকটতম চিহ্ন
বাহাদুর শাহ পার্ক, আদালতপাড়ার ঠিক দক্ষিণ-পূর্বে; কাছেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (ওপেনস্ট্রিটম্যাপ)।
যেভাবে যাবেন
সড়কপথে পুরান ঢাকার জনসন রোডে যান; "জজ কোর্ট" বা "সিএমএম কোর্ট" বললেই চলবে। আদালত খোলার দিনে ধীরগতির যানজট ও পার্কিংয়ের সংকট থাকে, তাই হাতে বাড়তি সময় রাখুন (ব্যবহারিক পরামর্শ)।
গুগল ম্যাপ: চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা

This map is provided by Google, which may set cookies and receive your IP address. It loads only if you allow it.

Open in Google Maps ↗ · Cookie policy

স্থানাঙ্ক ওপেনস্ট্রিটম্যাপ থেকে (way ২৩৪১৩৪৭৭২, 'চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত')। ঠিকানা ঢাকা মহানগর বিচার বিভাগের পোর্টাল থেকে।

গুগল ম্যাপে খুলুন: চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা · চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা · জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা (ঢাকা জজ কোর্ট) · মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা · জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (কালেক্টরেট), ঢাকা · ঢাকা আইনজীবী সমিতি · কোতোয়ালি থানা · ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরানীগঞ্জ

ঘুরে দেখুন

ভবন ধরে ধরে পুরো প্রাঙ্গণ ঘুরুন

একটি ভবনে ট্যাপ করে কাছে যান, দেখুন তলাভিত্তিক তালিকা আর ভেতরের প্রতিটি অফিস। এই পর্বের প্রতিটি স্থানে খোঁজ করা যায়।

আদালতঅফিসবার ও আইনজীবীগেট, রাস্তা ও অন্যান্যপুলিশ
নকশাচিত্র, মাপ অনুযায়ী নয়
ধাপে ধাপে · ১০টি বাস্তব কাজ

একটি কাজ ধরে কাউন্টার থেকে কাউন্টারে চলুন

নকশাচিত্র, মাপ অনুযায়ী নয়
লেখা আকারে পড়ুন

প্রতিটি কাজ, বিস্তারিত লেখায়

০১গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে সিএমএম আদালতে হাজির করা হলো: রিমান্ড না জামিন৭টি ধাপ · নির্দেশক: প্রথম শুনানির জন্য আদালতের এক দিন; দায়রা জজের কাছে গেলে আরও কয়েক দিন

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কোনো থানা কাউকে গ্রেপ্তার করলে পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে একজন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হয়। এই ধাপে ধাপে বিবরণে পরিবারটিকে অনুসরণ করা হয়েছে—জিআর শাখা ও আদালতের হাজতখানা থেকে রিমান্ড ও জামিনের শুনানি, কারাগারে মুক্তির আদেশ পাঠানো, এবং জামিন নামঞ্জুর হলে মহানগর দায়রা জজের কাছে নতুন জামিনের দরখাস্ত পর্যন্ত।

সেদিন সঙ্গে আনুন: এজাহার নম্বর ও থানা, আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ঠিকানার প্রমাণসহ একজন জামিনদার, এজাহার বা ফরওয়ার্ডিং রিপোর্টের কপি, যদি পাওয়া যায়, আসামির চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজপত্র, যদি থাকে, আইনজীবীর ফি ও স্ট্যাম্পের টাকা, রসিদের বিনিময়ে পরিশোধযোগ্য

  1. আপনার মামলার জিআর ডেস্ক খুঁজে বের করুন
    মহানগর জিআর শাখা (জিআর অফিস / জিআরও) · সিজেএম ভবনের ৫ম তলা

    পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হয়, সঙ্গে একটি ফরওয়ার্ডিং রিপোর্ট থাকে, যাতে মামলার বিবরণ ও রিমান্ডের আবেদন (যদি থাকে) লেখা থাকে। কাগজপত্র যায় ওই থানার জিআর অফিসারের (GRO) কাছে, সিজেএম ভবনের ৫ম তলার মহানগর জিআর শাখায়। একজন আত্মীয় বা আইনজীবীর মুহুরি জিআরওকে থানার নাম, এজাহার নম্বর ও আসামির নাম জানান। জিআরও রেজিস্টার দেখে বলে দেন সেদিন কোন আমলি আদালতে মামলার শুনানি হচ্ছে এবং জিআর নম্বর কী।

    পরামর্শ: পুলিশ যেভাবে বলে ঠিক সেভাবে থানা ও এজাহার নম্বর লিখে নিন; ডেস্কগুলো থানা অনুযায়ী সাজানো।

    কে: আপনি ও আপনার আইনজীবীর মুহুরিসময়: নির্দেশক: এক ঘণ্টার কমসঙ্গে আনুন: এজাহার নম্বর ও তারিখ, জানা থাকলেসঙ্গে আনুন: আসামির নামসঙ্গে আনুন: আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রআপনি পাবেন: জিআর নম্বরআপনি পাবেন: শুনানির আদালত নম্বর
  2. আসামি হাজতখানায় আছেন কি না নিশ্চিত হোন
    আদালতের হাজতখানা (lock-up) · সিজেএম ভবনের ২য় তলা; নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনের ২য় তলা। সিএমএম হাজতখানা প্রকাশিত তালিকায় নেই

    হাজিরের দিন আসামি আদালতের হাজতখানায় অপেক্ষা করেন, যা ডিএমপি প্রসিকিউশন বিভাগের হাজতখানা শাখা চালায়। সেখানে দেখা করার কোনো অধিকার আত্মীয়দের নেই। আইনজীবী সাধারণত হাজতখানার কর্মীদের মাধ্যমে ওকালতনামায় সই করিয়ে নিতে পারেন, যার ফলে তিনি আসামির পক্ষে হাজির হতে পারেন। ফটকে খাবার বা কাপড় গ্রহণ করা হতে পারে, তবে ভেতরে দেওয়া সবকিছু পুলিশ তল্লাশি করে। আসামিকে আসলেই আদালতে আনা হয়েছে কি না, তা জিআর অফিসার বা হাজতখানার কর্মীদের কাছে নিশ্চিত হয়ে নিন।

    পরামর্শ: "সাক্ষাতের" জন্য ফটকে কাউকে টাকা দেবেন না। নিয়মিত সাক্ষাৎ হয় কারাগারে, জেল কোড অনুযায়ী।

    কে: আপনার আইনজীবী ও পুলিশসময়: নির্দেশক: সময় ভিন্ন হয়; বন্দিরা সাধারণত সকাল থেকেই সেখানে থাকেনসঙ্গে আনুন: আইনজীবীর কাছ থেকে ওকালতনামাসঙ্গে আনুন: আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রআপনি পাবেন: সই করা ওকালতনামা
  3. ঢাকা বারে আইনজীবী নিয়োগ দিন
    ঢাকা আইনজীবী সমিতি

    পরিবার একজন আইনজীবী নিয়োগ দেয়, সাধারণত কোর্ট হাউস স্ট্রিটের ঢাকা আইনজীবী সমিতির ভবনের কোনো চেম্বার থেকে। আইনজীবী জামিনের দরখাস্ত এবং রিমান্ডের আবেদনের বিরুদ্ধে লিখিত আপত্তির খসড়া করেন। ফরওয়ার্ডিং রিপোর্ট, এজাহারের কপি এবং যিনি জামিনদার হবেন তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র ও ঠিকানার বিবরণ সংযুক্ত করুন। আসামির স্বাস্থ্য, পেশা, পরিবার ও স্থায়ী ঠিকানার কথা আইনজীবীকে জানান, কারণ এগুলো জামিনের পক্ষে যুক্তি জোগায়। কাজ শুরুর আগে ফি ঠিক করে নিন এবং রসিদ চান।

    পরামর্শ: এমন জামিনদার বেছে নিন যাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র ও ঢাকায় স্থায়ী ঠিকানা আছে এবং যিনি সেদিন আদালতে আসতে পারবেন।

    কে: আপনি ও আপনার আইনজীবীসময়: নির্দেশক: শুনানির আগে এক-দুই ঘণ্টাফি: আইনজীবীর ফি সমঝোতা অনুযায়ী; দরখাস্তে তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: এজাহার বা ফরওয়ার্ডিং রিপোর্টের কপিসঙ্গে আনুন: জামিনদারের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ঠিকানার বিবরণসঙ্গে আনুন: চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজ, যদি থাকেআপনি পাবেন: জামিনের দরখাস্ত ও রিমান্ডের বিরুদ্ধে আপত্তিআপনি পাবেন: ফির রসিদ
  4. রিমান্ড ও জামিনের শুনানিতে হাজির থাকুন
    মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের এজলাস (সিএমএম আদালত) · আদালত ১-২৮: সিএমএম মূল ভবনের ২য় থেকে ৯ম তলা; আদালত ২৯-৩৭: সিজেএম ভবনের ৮ম ও ৯ম তলা

    আমলি আদালতের এজলাসে জিআরও বা কোর্ট পুলিশ ফরওয়ার্ডিং রিপোর্ট ও রিমান্ডের আবেদন (যদি থাকে) উপস্থাপন করেন। পেশকার মামলা ডাকলে আপনার আইনজীবী জামিনের দরখাস্ত উপস্থাপন করেন এবং রিমান্ডের বিরোধিতা করেন। ম্যাজিস্ট্রেট রিমান্ড নামঞ্জুর করতে পারেন, ২০২৬ সালে সংশোধিত ফৌজদারি কার্যবিধির মোট ১৫ দিনের সর্বোচ্চ সীমার মধ্যে রিমান্ড মঞ্জুর করতে পারেন, অথবা শর্তসাপেক্ষে জামিন দিতে পারেন। পুলিশ যদি আসামিকে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় ("শ্যোন অ্যারেস্ট"), তবে ধারা ১৬৭ক মানতে হবে। আদেশ আদেশনামায় লেখা হয়।

    পরামর্শ: আদালত নম্বর অনুযায়ী নির্দিষ্ট। ২৯-৩৭ নম্বর আদালত বসে সিজেএম ভবনের ৮ম ও ৯ম তলায়, সিএমএম মূল ভবনে নয়।

    কে: আপনার আইনজীবী ও পুলিশসময়: নির্দেশক: শুনানি অল্প সময়ের, তবে সকালের বেশির ভাগ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারেসঙ্গে আনুন: জাতীয় পরিচয়পত্রসহ জামিনদার নিজেআপনি পাবেন: রিমান্ড বা জামিনের আদেশআপনি পাবেন: পরবর্তী তারিখ
  5. জামিননামা ও মুক্তির আদেশ সম্পন্ন করুন
    নেজারত (প্রসেস শাখা), সিএমএম আদালত · সিএমএম মূল ভবনের ৩য় তলা (প্রশাসনিক, হিসাব ও ডেসপাচ শাখার সঙ্গে)

    জামিন মঞ্জুর হলে আদালতের সামনে জামিননামা ও জামিনদারের কাগজপত্রে সই করা হয়। জামিননামায় কোনো কোর্ট ফি লাগে না। এরপর মুক্তির আদেশ ডেসপাচ শাখা থেকে—যা সিএমএম মূল ভবনের ৩য় তলায় নেজারতের সঙ্গে বসে—কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যায়। আদেশ পৌঁছালে বন্দিকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়, যা সেদিন সন্ধ্যায় বা পরদিন হতে পারে। ডেসপাচ কর্মচারীর কাছে জিজ্ঞেস করুন আদেশটি পাঠানো হয়েছে কি না।

    পরামর্শ: আদালতে নয়, কেরানীগঞ্জ কারাগারের ফটকে অপেক্ষা করুন। আদেশ কারাগারে পৌঁছালেই কেবল মুক্তি হয়।

    কে: আপনি, আপনার আইনজীবীর মুহুরি ও আদালতের কর্মচারীসময়: নির্দেশক: একই দিন থেকে পরদিনফি: জামিননামা: কোনো কোর্ট ফি নেই (কোর্ট-ফি আইন, ১৮৭০-এর ধারা ১৯(xv))সঙ্গে আনুন: জাতীয় পরিচয়পত্রসহ জামিনদারআপনি পাবেন: সম্পাদিত জামিননামাআপনি পাবেন: কারাগারে পাঠানো মুক্তির আদেশ
  6. জরুরি সার্টিফায়েড কপির দরখাস্ত দিন
    নকল শাখা (নকলখানা), সিএমএম আদালত · সিএমএম মূল ভবনের ৫ম তলা; সিজেএম মামলা: সিজেএম ভবনের ৪র্থ তলা

    জামিন নামঞ্জুর হলে সঙ্গে সঙ্গে মূল ভবনের ৫ম তলার সিএমএম নকল শাখায় (নকলখানা) আদেশনামার জরুরি সার্টিফায়েড কপির দরখাস্ত করুন। মামলা সিজেএম অংশের কোনো আদালতে হলে নকল শাখা সিজেএম ভবনের ৪র্থ তলায়। নকলের ফরমে মামলা নম্বর, আদালত নম্বর ও আদেশের তারিখ লিখুন এবং আপনার আইনজীবীর বলে দেওয়া স্ট্যাম্প লাগান। রসিদ রেখে দিন। সার্টিফায়েড কপি ছাড়া পরবর্তী জামিনের দরখাস্ত দাখিল করা যায় না।

    পরামর্শ: দরখাস্তে "জরুরি" লিখুন, এবং কাউন্টার ছাড়ার আগে নকলের সিলমোহর ও সই দেখে নিন।

    কে: আপনার আইনজীবীর মুহুরিসময়: নির্দেশক: জরুরি নকল দ্রুত আসে; সরবরাহের তারিখ জেনে নিনফি: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট-ফি ও ফোলিও স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: মামলা নম্বর, আদালত নম্বর ও আদেশের তারিখসঙ্গে আনুন: নকলের দরখাস্তের স্ট্যাম্পআপনি পাবেন: নকলের রসিদআপনি পাবেন: আদেশের সার্টিফায়েড কপি
  7. মহানগর দায়রা জজের কাছে জামিনের আবেদন করুন
    মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা · মহানগর দায়রা জজ ও অতিরিক্ত আদালত ১-৪: মূল ভবনের ২য় তলা; অন্যান্য অতিরিক্ত ও যুগ্ম আদালত নিচতলা, ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম তলায়; অতিরিক্ত আদালত ৯-১৬ টিনশেড ভবনে

    সার্টিফায়েড কপি নিয়ে আপনার আইনজীবী ৪০-৪৫ জনসন রোডের মহানগর দায়রা জজের কাছে, যিনি মূল ভবনের ২য় তলায় বসেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৮ অনুযায়ী জামিনের দরখাস্ত দাখিল করেন। দরখাস্তটি সেখানেই শুনানি হতে পারে, অথবা কোনো অতিরিক্ত বা যুগ্ম আদালতে পাঠানো হতে পারে, যার কয়েকটি টিনশেড ভবনে বসে। একটি কপি মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটরের দপ্তরে দেওয়া হয়। জামিন মঞ্জুর হলে জামিননামা ও মুক্তির আদেশ আগের মতোই একই পথে কারাগারে যায়।

    পরামর্শ: কার্যতালিকায় আদালতের সঠিক নাম দেখে নিন; অনেক অতিরিক্ত আদালত টিনশেড ভবনে বসে।

    কে: আপনার আইনজীবীসময়: নির্দেশক: সাধারণত দাখিলের কয়েক দিনের মধ্যে শুনানি হয়ফি: দরখাস্তে তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশের সার্টিফায়েড কপিসঙ্গে আনুন: ওকালতনামাসঙ্গে আনুন: জামিনদারের জাতীয় পরিচয়পত্রআপনি পাবেন: ফৌজদারি বিবিধ মামলা নম্বরআপনি পাবেন: জামিনের আদেশ বা নামঞ্জুর
০২ঢাকা মহানগরে নালিশি (সিআর) মামলা দায়ের৬টি ধাপ · নির্দেশক: দাখিল এক দিনে; প্রথম আদেশ একই দিনে বা পরে; এরপর মামলা কয়েক মাস চলে

নালিশি (সিআর) মামলার মাধ্যমে ভুক্তভোগী পুলিশের কাছে না গিয়ে সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফৌজদারি অভিযোগ আনতে পারেন। পুলিশ এজাহার নিতে না চাইলে, অপরাধটি কেবল নালিশের মাধ্যমে বিচারযোগ্য হলে, অথবা চেক ডিজঅনার মামলার ক্ষেত্রে এটি দরকার হয়। এই বিবরণে খসড়া, দাখিল, শপথপূর্বক জবানবন্দি এবং প্রথম আদেশগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

সেদিন সঙ্গে আনুন: আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র, নালিশের সমর্থনে কাগজপত্র (চেক, লিগ্যাল নোটিশ, ডাকের রসিদ, চিকিৎসার কাগজ), সাক্ষীদের নাম ও ঠিকানা, আসামিদের নাম ও ঠিকানা, স্ট্যাম্প ও আইনজীবীর ফির টাকা, রসিদের বিনিময়ে পরিশোধযোগ্য

  1. বারে আপনার আইনজীবীকে বিস্তারিত জানান
    ঢাকা আইনজীবী সমিতি

    ঢাকা বারে একজন আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করে কী ঘটেছে, কোথায় ও কখন—তা বুঝিয়ে বলুন। আইনজীবী যাচাই করেন ঘটনাস্থল কোনো ডিএমপি থানার এলাকায় পড়ে কি না, যাতে মামলাটি সিএমএম আদালতের এখতিয়ারভুক্ত হয়, এবং অপরাধটি নালিশি মামলার উপযোগী কি না। কাগজপত্র দিন: চেক মামলায় ডিজঅনার হওয়া চেক, লিগ্যাল নোটিশ ও ডাকের রসিদ; মারধরের ঘটনায় চিকিৎসার কাগজ। আইনজীবী নালিশি দরখাস্ত ও সাক্ষীর তালিকার খসড়া করেন, আর আপনি ওকালতনামায় সই করেন।

    পরামর্শ: মূল কাগজ ও এক সেট ফটোকপি আনুন; আইনজীবী কপি রেখে মূল কাগজ ফেরত দেন।

    কে: আপনি ও আপনার আইনজীবীসময়: নির্দেশক: একটি সাক্ষাৎফি: আইনজীবীর ফি সমঝোতা অনুযায়ীসঙ্গে আনুন: জাতীয় পরিচয়পত্রসঙ্গে আনুন: সহায়ক কাগজপত্রসঙ্গে আনুন: সাক্ষীদের নাম ও ঠিকানাআপনি পাবেন: নালিশি দরখাস্তের খসড়াআপনি পাবেন: সাক্ষীর তালিকা
  2. স্ট্যাম্প কিনুন ও কপি করান
    স্ট্যাম্প বিক্রেতা, কোর্ট-ফি বিক্রেতা ও টাইপিস্ট

    নালিশি দরখাস্তে কোন কোর্ট-ফি স্ট্যাম্প লাগবে তা আপনার আইনজীবী বলে দেবেন। আদালত বা বারের কাছের কোনো লাইসেন্সধারী স্ট্যাম্প বিক্রেতার কাছ থেকে তা কিনুন এবং রসিদ বা রেজিস্টারে এন্ট্রি চান। এরপর দরখাস্ত ও প্রতিটি সহায়ক কাগজের ফটোকপি করুন: এক সেট আদালতের নথির জন্য, প্রত্যেক আসামির জন্য এক সেট এবং নিজের কাছে রাখার জন্য এক সেট। আশপাশের টাইপিং দোকান কপিতে সাহায্য করতে পারে, তবে দাখিলের আগে চূড়ান্ত সংস্করণ আপনার আইনজীবীর দেখে নেওয়া উচিত।

    পরামর্শ: বিক্রেতার কাছ থেকে চলে আসার আগে প্রতিটি স্ট্যাম্প আসল ও অব্যবহৃত কি না দেখে নিন।

    কে: আপনি বা আপনার আইনজীবীর মুহুরিসময়: নির্দেশক: এক ঘণ্টার কমফি: নালিশি দরখাস্তে তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: স্ট্যাম্পের মূল্য লেখা আইনজীবীর নোটআপনি পাবেন: কোর্ট-ফি স্ট্যাম্পআপনি পাবেন: বিক্রেতার রসিদআপনি পাবেন: কপির সেট
  3. আমলি আদালতে নালিশ উপস্থাপন করুন
    আমলি আদালতে নালিশি (সিআর) মামলা দায়ের

    অপরাধস্থলের থানার ওপর আমলি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে নালিশ উপস্থাপন করুন। পোর্টালে সিআর দাখিলের একক কোনো কাউন্টার প্রকাশিত নেই, তাই সেদিন কোন এজলাস নতুন নালিশ নিচ্ছে তা আপনার আইনজীবী বা জুডিশিয়াল মুন্সিখানা নিশ্চিত করবে। আপনাকে নিজে হাজির থাকতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০০ অনুযায়ী অভিযোগের বিষয়ে আপনাকে শপথ করিয়ে জবানবন্দি নেন, যা লিখে রাখা হয় ও সই করা হয়। আদালতের কর্মচারীরা নালিশটি নিবন্ধন করে একটি সিআর নম্বর দেন।

    পরামর্শ: ম্যাজিস্ট্রেটকে সোজাসাপ্টা উত্তর দিন এবং যা দেখেছেন বা জানেন তার মধ্যেই থাকুন; জবানবন্দি লিখে রাখা হয় ও সই করা হয়।

    কে: আপনি ও আপনার আইনজীবীসময়: নির্দেশক: সাধারণত একই দিনেসঙ্গে আনুন: জাতীয় পরিচয়পত্রসঙ্গে আনুন: মূল কাগজপত্রআপনি পাবেন: সিআর মামলা নম্বরআপনি পাবেন: আপনার জবানবন্দির রেকর্ড
  4. ম্যাজিস্ট্রেটের প্রথম আদেশ শুনুন
    মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের এজলাস (সিএমএম আদালত) · আদালত ১-২৮: সিএমএম মূল ভবনের ২য় থেকে ৯ম তলা; আদালত ২৯-৩৭: সিজেএম ভবনের ৮ম ও ৯ম তলা

    জবানবন্দির পর ম্যাজিস্ট্রেট ধারা ২০৩ অনুযায়ী নালিশ খারিজ করতে পারেন, ধারা ২০২ অনুযায়ী অনুসন্ধান বা তদন্তে পাঠাতে পারেন (প্রায়ই পুলিশ বা পিবিআইয়ের কাছে), অথবা অপরাধ আমলে নিয়ে ধারা ২০৪ অনুযায়ী সমন বা পরোয়ানা জারি করতে পারেন। আদেশ আদেশনামায় লেখা হয়, আর আপনার আইনজীবী পরবর্তী তারিখ লিখে নেন। এরপর থেকে আদালত নম্বর ও মামলা নম্বর দিয়ে কার্যতালিকায় বা "আমার আদালত" অ্যাপে মামলাটি অনুসরণ করুন এবং প্রতিটি তারিখের একটি তালিকা রাখুন।

    পরামর্শ: ম্যাজিস্ট্রেটের নাম দিয়ে নয়, আদালত নম্বর ও মামলা নম্বর দিয়ে মামলা অনুসরণ করুন; বিচারক বদলান।

    কে: আপনার আইনজীবীসময়: নির্দেশক: একই দিনে বা পরবর্তী কোনো তারিখেআপনি পাবেন: নালিশের ওপর আদেশআপনি পাবেন: পরবর্তী তারিখ
  5. সমন বা পরোয়ানার খোঁজ রাখুন
    নেজারত (প্রসেস শাখা), সিএমএম আদালত · সিএমএম মূল ভবনের ৩য় তলা (প্রশাসনিক, হিসাব ও ডেসপাচ শাখার সঙ্গে)

    ম্যাজিস্ট্রেট প্রসেস জারি করলে প্রসেস ফি থাকলে তা দিন এবং রসিদ রেখে দিন। ফৌজদারি মামলায় প্রসেস সাধারণত পুলিশের মাধ্যমে তামিল হয়, তাই তা আটকে যেতে পারে। সিএমএম মূল ভবনের ৩য় তলার নেজারতে জিজ্ঞেস করুন সমন বা পরোয়ানা জারি হয়েছে কি না এবং তা ফেরত এসেছে কি না। এরপর জিআর বা নন-জিআর অফিসারের কাছে খোঁজ নিন। পরবর্তী তারিখের মধ্যে আসামির ওপর জারি না হলে আপনার আইনজীবী আদালতকে নতুন করে প্রসেস জারির অনুরোধ করতে পারেন।

    পরামর্শ: প্রতিটি প্রসেস ফির রসিদ নথিতে রাখুন; জারিতে দেরি হলে এটি প্রমাণ করে যে আপনি আপনার দায়িত্ব পালন করেছেন।

    কে: আপনার আইনজীবীর মুহুরিসময়: নির্দেশক: প্রতিটি তারিখের আগে খোঁজ নিনফি: তফসিল অনুযায়ী প্রসেস ফি; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: মামলা ও আদালত নম্বরসঙ্গে আনুন: প্রসেস ফির রসিদআপনি পাবেন: জারি ও ফেরতের রেজিস্টার বিবরণ
  6. গুরুত্বপূর্ণ আদেশের সার্টিফায়েড কপি নিন
    নকল শাখা (নকলখানা), সিএমএম আদালত · সিএমএম মূল ভবনের ৫ম তলা; সিজেএম মামলা: সিজেএম ভবনের ৪র্থ তলা

    গুরুত্বপূর্ণ আদেশের, বিশেষ করে ধারা ২০৩-এর খারিজ আদেশের সার্টিফায়েড কপির জন্য মূল ভবনের ৫ম তলার সিএমএম নকল শাখায় দরখাস্ত করুন। খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে মহানগর দায়রা জজের কাছে রিভিশন করা যায়, এবং রিভিশনের দরখাস্তের সঙ্গে সার্টিফায়েড কপি সংযুক্ত করতে হয়। ফরমে মামলা নম্বর, আদালত নম্বর ও আদেশের তারিখ লিখুন, আপনার আইনজীবীর বলে দেওয়া স্ট্যাম্প লাগান এবং সরবরাহের তারিখসহ রসিদ রেখে দিন।

    পরামর্শ: খারিজ আদেশ চ্যালেঞ্জ করার পরিকল্পনা থাকলে "জরুরি" হিসেবে দরখাস্ত করুন, কারণ রিভিশনের মেয়াদ চলছে।

    কে: আপনার আইনজীবীর মুহুরিসময়: নির্দেশক: জরুরি নকল দ্রুত আসে; সরবরাহের তারিখ জেনে নিনফি: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট-ফি ও ফোলিও স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: মামলা নম্বর, আদালত নম্বর ও আদেশের তারিখসঙ্গে আনুন: স্ট্যাম্পআপনি পাবেন: আদেশের সার্টিফায়েড কপি
০৩ঢাকা জজ কোর্টে দেওয়ানি মোকদ্দমা দায়ের৭টি ধাপ · নির্দেশক: কাগজপত্র প্রস্তুত থাকলে দাখিল এক-দুই দিনে; প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মোকদ্দমায় কয়েক বছর লাগে

মালিকানা, দখল, বাঁটোয়ারা, টাকার দাবি, নিষেধাজ্ঞা এবং এ ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আদালতের কাছে যাওয়ার পথ হলো দেওয়ানি মোকদ্দমা। ঢাকা জেলায় মোকদ্দমা দায়ের হয় ঢাকা জজ কোর্টের দেওয়ানি আদালতগুলোতে। এই বিবরণে আগে মধ্যস্থতা, ভূমি রেকর্ড সংগ্রহ, মূল্যমান নির্ধারণ ও কোর্ট ফি, সেরেস্তায় দাখিল, সমন জারি এবং ডিক্রির নকল তোলা পর্যন্ত তুলে ধরা হয়েছে।

সেদিন সঙ্গে আনুন: আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র, স্বত্বের দলিল ও নামজারি খতিয়ান, খতিয়ানের সার্টিফায়েড কপি (সিএস, এসএ, আরএস, সিটি জরিপ) ও মৌজা ম্যাপ, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ (ডিসিআর), প্রত্যেক বিবাদীর পূর্ণ নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর, কোর্ট ফি, প্রসেস ফি ও আইনজীবীর টাকা, রসিদের বিনিময়ে পরিশোধযোগ্য

  1. আগে লিগ্যাল এইডে মধ্যস্থতার বিষয়ে জিজ্ঞেস করুন
    জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, ঢাকা

    দাখিলের আগে জিজ্ঞেস করুন আপনার ধরনের বিরোধে দাখিল-পূর্ব মধ্যস্থতা বাধ্যতামূলক কি না। আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন, ২০২৬ সরকার-প্রজ্ঞাপিত জেলাগুলোতে নির্দিষ্ট কিছু বিরোধে এটি বাধ্যতামূলক করেছে, তবে ঢাকায় তা প্রযোজ্য কি না নিশ্চিত হয়নি, তাই জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে জিজ্ঞেস করুন। যেকোনো ক্ষেত্রে সেখানে মধ্যস্থতা বিনা খরচে। বিরোধ মিটে গেলে আপস লিপিবদ্ধ হয় এবং আপনি বছরের পর বছর আদালতে ঘোরা থেকে বাঁচেন। ব্যর্থ হলে মোকদ্দমা দায়েরের দিকে এগোন।

    পরামর্শ: প্রতিপক্ষের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর আনুন, যাতে অফিস তাঁদের ডাকতে পারে।

    কে: আপনিসময়: নির্দেশক: দরখাস্ত একই দিনে; মধ্যস্থতা কয়েক সপ্তাহ ধরেফি: যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য বিনা খরচে (আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০)সঙ্গে আনুন: জাতীয় পরিচয়পত্রসঙ্গে আনুন: বিরোধ-সংক্রান্ত মূল কাগজপত্রসঙ্গে আনুন: প্রতিপক্ষের যোগাযোগের তথ্যআপনি পাবেন: দরখাস্তের রসিদআপনি পাবেন: মধ্যস্থতার তারিখ বা আপসের রেকর্ড
  2. ভূমি রেকর্ডের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করুন
    ডিসি রেকর্ড রুম (ভূমি রেকর্ড, খতিয়ানের নকল)

    জমির মোকদ্দমার জন্য ডিসি অফিসের রেকর্ড রুমে, অথবা ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-পর্চা সেবার মাধ্যমে অনলাইনে, জমিটির প্রতিটি জরিপের খতিয়ানের (সিএস, এসএ, আরএস ও সিটি জরিপ) এবং মৌজা ম্যাপের সার্টিফায়েড কপির দরখাস্ত করুন। মৌজা, জেএল, খতিয়ান ও দাগ নম্বর হুবহু দিন, কারণ একটি নম্বর ভুল হলেই ভুল রেকর্ড আসে। সঙ্গে আপনার স্বত্বের দলিল, নামজারি খতিয়ান ও ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ যোগ করুন। আদালত প্রথম জরিপ থেকে শুরু করে রেকর্ডের পুরো ধারাবাহিকতা যাচাই করে।

    পরামর্শ: জমিটির প্রতিটি জরিপের খতিয়ান তুলুন; রেকর্ডের ধারাবাহিকতায় ফাঁক জমির মামলার একটি সাধারণ দুর্বলতা।

    কে: আপনি বা আপনার আইনজীবীর মুহুরিসময়: নির্দেশক: এক থেকে তিন সপ্তাহফি: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / চালান; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: মৌজা, জেএল, খতিয়ান ও দাগ নম্বরসঙ্গে আনুন: ফিআপনি পাবেন: খতিয়ানের সার্টিফায়েড কপিআপনি পাবেন: মৌজা ম্যাপ
  3. আরজির খসড়া ও মূল্যমান নির্ধারণ করান
    ঢাকা আইনজীবী সমিতি

    আপনার আইনজীবী আরজির খসড়া করেন, মোকদ্দমার মূল্যমান নির্ধারণ করেন এবং আদালত বাছাই করেন। দেওয়ানি আদালত আইনের সীমা অনুযায়ী সিভিল জজ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত, সিনিয়র সিভিল জজ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং এর বেশি হলে যুগ্ম জেলা জজ মোকদ্দমা শোনেন। আঞ্চলিক এখতিয়ার মূলত নির্ভর করে জমি কোথায় বা নালিশের কারণ কোথায় উদ্ভূত হয়েছে তার ওপর। শুরুতেই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হবে কি না, তাও আইনজীবী ঠিক করেন। আপনি আরজি ও ওকালতনামায় সই করেন।

    পরামর্শ: সই করার আগে খসড়াটি মন দিয়ে পড়ুন এবং প্রতিটি নাম, দাগ নম্বর ও চৌহদ্দি মিলিয়ে নিন।

    কে: আপনি ও আপনার আইনজীবীসময়: নির্দেশক: কয়েক দিনফি: আইনজীবীর ফি সমঝোতা অনুযায়ীসঙ্গে আনুন: জমি ও স্বত্বের সব কাগজসঙ্গে আনুন: বিবাদীদের বিবরণআপনি পাবেন: আরজিআপনি পাবেন: সই করা ওকালতনামা
  4. কোর্ট-ফি স্ট্যাম্প কিনুন
    স্ট্যাম্প বিক্রেতা, কোর্ট-ফি বিক্রেতা ও টাইপিস্ট

    লাইসেন্সধারী বিক্রেতার কাছ থেকে আরজির জন্য কোর্ট-ফি স্ট্যাম্প কিনুন। অনেক মোকদ্দমায় ফি মূল্যানুপাতিক, অর্থাৎ কোর্ট-ফি আইনের তফসিল অনুযায়ী মোকদ্দমার মূল্যমানের সঙ্গে বাড়ে, তাই আপনার আইনজীবী তা হিসাব করেন। ওকালতনামা এবং অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মতো অন্তর্বর্তী দরখাস্তের স্ট্যাম্পও কিনুন। রসিদ বা রেজিস্টারে এন্ট্রি চান এবং তা নথির সঙ্গে রাখুন। আরজিতে লাগানোর আগে প্রতিটি স্ট্যাম্প আসল ও অব্যবহৃত কি না দেখে নিন।

    পরামর্শ: কম ফি দিলে আদালত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঘাটতি পরিশোধের আদেশ দিতে বা আরজি নাকচ করতে পারেন (ধারা ৬(২))।

    কে: আপনি বা আপনার আইনজীবীর মুহুরিসময়: নির্দেশক: এক ঘণ্টার কমফি: আরজি: কোর্ট-ফি আইনের তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি, প্রায়ই মূল্যানুপাতিক; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: আইনজীবীর ফি-হিসাবআপনি পাবেন: কোর্ট-ফি স্ট্যাম্পআপনি পাবেন: রসিদ
  5. আদালতের সেরেস্তায় দাখিল করুন
    দেওয়ানি আদালত: সিনিয়র সিভিল জজ, সিভিল জজ, যুগ্ম জেলা জজ, ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল, সালিশি আদালত · সিনিয়র সিভিল জজ আদালত ("সিনিয়র সিভিল জজ" নামে তালিকাভুক্ত) ও তাদের সেরেস্তা: ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম তলা; যুগ্ম জেলা জজ অতিরিক্ত আদালত: ৭ম তলা, নতুন ৮ তলা ভবন। অন্যান্য দেওয়ানি আদালত তালিকায় নেই

    এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের সেরেস্তায় (আদালতের দপ্তর) আরজি দাখিল করুন। সিনিয়র সিভিল জজ আদালত ও তাদের সেরেস্তা নতুন ৮ তলা ভবনের ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম তলায়; অন্যান্য আদালতের কক্ষ প্রকাশিত নেই, তাই অনুসন্ধান ডেস্কে জিজ্ঞেস করুন। সেরেস্তার কর্মচারীরা কোর্ট ফি, কপি ও ওকালতনামা যাচাই করে মোকদ্দমা নিবন্ধন করেন এবং একটি নম্বর ও প্রথম তারিখ দেন। বিষয়টি জরুরি হলে নিষেধাজ্ঞার দরখাস্ত একই দিনে উপস্থাপন করা হয়।

    পরামর্শ: আদালত কোন তলায় তা অনুসন্ধান ডেস্কে জিজ্ঞেস করুন; প্রকাশিত তলাভিত্তিক তালিকায় শুধু কিছু দেওয়ানি আদালত আছে।

    কে: আপনার আইনজীবী ও আদালতের কর্মচারীসময়: নির্দেশক: একই দিনেসঙ্গে আনুন: স্ট্যাম্পসহ আরজিসঙ্গে আনুন: ওকালতনামাসঙ্গে আনুন: কাগজপত্রের কপিআপনি পাবেন: মোকদ্দমা নম্বরআপনি পাবেন: প্রথম তারিখআপনি পাবেন: নিষেধাজ্ঞার দরখাস্তের ওপর আদেশ
  6. সমনের জন্য প্রসেস ফি দিন
    নেজারত ও নাজির (প্রসেস জারি), জজ কোর্ট

    প্রত্যেক বিবাদীর কাছে সমন জারির জন্য নেজারতে প্রসেস ফি (তলবানা) জমা দিন। পূর্ণ ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর দিন, কারণ অসম্পূর্ণ ঠিকানাই সমন জারি ব্যর্থ হওয়ার প্রধান কারণ। ২০২৬ সালের দেওয়ানি কার্যবিধি সংশোধনী অনুযায়ী সমন এসএমএস বা ই-মেইলেও জারি করা যায়, তবে নেজারত এখনো জারিকারকদের মাধ্যমে সশরীরে জারি করে। পরবর্তী তারিখের আগে দেখে নিন জারিকারকের প্রতিবেদন নথিতে আছে কি না। জারি ব্যর্থ হলে আপনার আইনজীবী বিকল্প পদ্ধতিতে জারির দরখাস্ত করতে পারেন।

    পরামর্শ: প্রত্যেক বিবাদীর মোবাইল নম্বর দিন; ২০২৬ সালের দেওয়ানি কার্যবিধি সংশোধনী এসএমএস বা ই-মেইলে জারির সুযোগ দিয়েছে।

    কে: আপনার আইনজীবীর মুহুরিসময়: নির্দেশক: পরবর্তী তারিখের আগে জারির প্রতিবেদন দেখুনফি: তফসিল অনুযায়ী প্রসেস ফি (তলবানা); আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: বিবাদীদের ঠিকানা ও মোবাইল নম্বরসঙ্গে আনুন: জারির জন্য আরজির কপিআপনি পাবেন: প্রসেস ফির রসিদআপনি পাবেন: নথিতে জারির প্রতিবেদন
  7. ডিক্রির সার্টিফায়েড কপি নিন
    অনুলিপি বিভাগ (নকলখানা), জজ কোর্ট · নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনের ২য় তলা

    রায়ের পর নতুন ৮ তলা ভবনের ২য় তলার অনুলিপি বিভাগে রায় ও ডিক্রির সার্টিফায়েড কপির দরখাস্ত করুন। আপিল বা ডিক্রি জারির জন্য এগুলো লাগে। ২০২৬ সালের দেওয়ানি কার্যবিধি সংশোধনী অনুযায়ী ডিক্রি জারি নতুন মামলা হিসেবে নয়, একই মোকদ্দমার মধ্যে চলে। তামাদি আইনের ধারা ১২ অনুযায়ী নকল পেতে ব্যয়িত সময় আপিলের মেয়াদ থেকে বাদ যায়, তাই নকলের দরখাস্তের রসিদ কাগজপত্রের সঙ্গে রাখুন।

    পরামর্শ: রায়ের দিনই দরখাস্ত করুন এবং রসিদ রেখে দিন; নকল পেতে কত সময় লেগেছে তা এটিই প্রমাণ করে।

    কে: আপনার আইনজীবীর মুহুরিসময়: নির্দেশক: জরুরি নকল দ্রুত আসে; সরবরাহের তারিখ জেনে নিনফি: নকলের দরখাস্ত: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট-ফি ও ফোলিও স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: মোকদ্দমা নম্বর ও রায়ের তারিখসঙ্গে আনুন: স্ট্যাম্পআপনি পাবেন: রায় ও ডিক্রির সার্টিফায়েড কপি
০৪নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা৬টি ধাপ · নির্দেশক: এজাহার ও প্রথম হাজির কয়েক দিনের মধ্যে; আইনে সময়সীমা থাকা সত্ত্বেও বিচারে কয়েক মাস বা তার বেশি লাগে

ধর্ষণ, যৌতুকের জন্য নির্যাতন এবং নারী ও শিশু অপহরণের মতো অপরাধের বিচার করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। এই বিবরণে ভুক্তভোগীর পরিবারকে অনুসরণ করা হয়েছে—এজাহার ও ডাক্তারি পরীক্ষা থেকে ম্যাজিস্ট্রেট, আইনগত সহায়তা, স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর, ট্রাইব্যুনালে বিচার এবং সংক্ষিপ্ত আপিলের মেয়াদ পর্যন্ত।

সেদিন সঙ্গে আনুন: ভুক্তভোগীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ, মেডিকেল সনদ ও হাসপাতালের কাগজপত্র, এজাহার নম্বর ও এজাহারের কপি, সাক্ষীদের নাম ও ঠিকানা, কোনো হুমকি পেয়ে থাকলে তারিখসহ লিখিত বিবরণ

  1. থানায় এজাহার দায়ের করুন
    কোতোয়ালি থানা এবং কেরানীগঞ্জের সঙ্গে প্রিজন ভ্যানের যোগাযোগ

    যেখানে অপরাধ ঘটেছে সেই এলাকার থানায় যান; আদালতপাড়ার ক্ষেত্রে সেটি কোতোয়ালি। তারিখ, স্থান ও নামসহ পরিষ্কার লিখিত বিবরণ দিন। অফিসার-ইন-চার্জ এজাহার লিপিবদ্ধ করেন, আর আপনি এজাহার নম্বর নিয়ে ফিরবেন। প্রমাণ সংরক্ষণের জন্য দ্রুত কোনো সরকারি হাসপাতাল বা ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে বিনা খরচে ডাক্তারি পরীক্ষা করানো উচিত। পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকার করলে পরে সরাসরি ট্রাইব্যুনালে নালিশ দাখিল করা যায়।

    পরামর্শ: পুলিশ যে কাগজ দেয় তার প্রতিটি রেখে দিন, এবং যে কর্মকর্তা এজাহার লিপিবদ্ধ করেছেন তাঁর নাম লিখে রাখুন।

    কে: আপনি ও পুলিশসময়: নির্দেশক: একই দিনেফি: এজাহার দায়েরের কোনো ফি প্রকাশিত নেই; কাউকে টাকা দেবেন নাসঙ্গে আনুন: তারিখ, স্থান ও নামসহ লিখিত বিবরণসঙ্গে আনুন: জাতীয় পরিচয়পত্রআপনি পাবেন: এজাহার নম্বর
  2. ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজিরের সময় উপস্থিত থাকুন
    মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের এজলাস (সিএমএম আদালত) · আদালত ১-২৮: সিএমএম মূল ভবনের ২য় থেকে ৯ম তলা; আদালত ২৯-৩৭: সিজেএম ভবনের ৮ম ও ৯ম তলা

    আসামি গ্রেপ্তার হলে তাঁকে রিমান্ড বা জামিনের জন্য একজন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে, অথবা থানা মহানগরের বাইরে হলে সিজেএম অংশের কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৪ অনুযায়ী একজন ম্যাজিস্ট্রেট ভুক্তভোগীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করতে পারেন। ভুক্তভোগীর সঙ্গে পরিবারের একজন সদস্য বা সহায়তাকারী ব্যক্তির যাওয়া উচিত। মামলা অনুসরণের জন্য জিআর অফিসারের কাছ থেকে জিআর নম্বর ও আদালত জেনে নিন, এবং ধার্য প্রতিটি তারিখের তালিকা রাখুন।

    পরামর্শ: জবানবন্দি লিপিবদ্ধের সময় একজন সহায়তাকারী ব্যক্তি ভুক্তভোগীর সঙ্গে থাকতে পারেন; আইনজীবীকে এর ব্যবস্থা করতে বলুন।

    কে: আপনি, আপনার আইনজীবী ও পুলিশসময়: নির্দেশক: একই দিন বা পরবর্তী কার্যদিবসসঙ্গে আনুন: এজাহার নম্বরসঙ্গে আনুন: ভুক্তভোগীর পরিচয়পত্রআপনি পাবেন: জিআর নম্বরআপনি পাবেন: রিমান্ড বা জামিনের আদেশ
  3. বিনা খরচে আইনগত সহায়তার জন্য দরখাস্ত করুন
    জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, ঢাকা

    ভুক্তভোগী, অথবা শিশুর ক্ষেত্রে পরিবার, বিনা খরচে আইনজীবী এবং তদন্ত ও বিচারের সময় সহায়তার জন্য জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে দরখাস্ত করতে পারেন। পরিচয়পত্র ও মামলার কাগজপত্র আনুন। অফিসটি জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার অংশ। এর কক্ষ প্রকাশিত নেই, তাই জজ কোর্টের অনুসন্ধান ডেস্কে জিজ্ঞেস করুন অথবা জাতীয় হেল্পলাইন ১৬৪৩০-এ ফোন করুন। প্যানেল আইনজীবী নিয়োগ পেলে আপনার কাছে থাকা সবকিছুর কপি তাঁকে দিন।

    পরামর্শ: অভিযোগপত্র দাখিলের আগেই দরখাস্ত করুন, যাতে আইনজীবী শুরু থেকেই তদন্ত অনুসরণ করতে পারেন।

    কে: আপনিসময়: নির্দেশক: দরখাস্ত একই দিনেফি: যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য বিনা খরচে (আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০)সঙ্গে আনুন: ভুক্তভোগীর পরিচয়পত্রসঙ্গে আনুন: মামলার কাগজপত্রআপনি পাবেন: দরখাস্তের রসিদআপনি পাবেন: নিযুক্ত প্যানেল আইনজীবী
  4. স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটরকে মামলার বিষয়ে জানান
    পাবলিক প্রসিকিউটর ও সরকারি কৌঁসুলির (জিপি) দপ্তর

    ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনা করেন ওই ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর। শুনানির আগে স্পেশাল পিপি বা তাঁর সহকারীর সঙ্গে দেখা করে মেডিকেল সনদ, সাক্ষীদের বিবরণ এবং পাওয়া কোনো হুমকির নোটের কপি দিন। বাদীর নিজের আইনজীবী, লিগ্যাল এইডের আইনজীবীসহ, রাষ্ট্রপক্ষকে সহায়তা করতে পারেন। পিপি দপ্তরের অবস্থান পোর্টালে প্রকাশিত নেই, তাই বারে বা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে ট্রাইব্যুনালের দপ্তরে জিজ্ঞেস করুন।

    পরামর্শ: কোনো হুমকি পেলে সঙ্গে সঙ্গে প্রসিকিউটরকে জানান; তিনি তা ট্রাইব্যুনালের নজরে আনতে পারেন।

    কে: আপনার আইনজীবীসময়: নির্দেশক: ট্রাইব্যুনালের প্রথম তারিখের আগেসঙ্গে আনুন: মেডিকেল সনদের কপিসঙ্গে আনুন: সাক্ষীদের বিবরণসঙ্গে আনুন: হুমকির নোটআপনি পাবেন: গ্রহণ-কপি
  5. ট্রাইব্যুনালে বিচার অনুসরণ করুন
    ট্রাইব্যুনাল: নারী ও শিশু, দ্রুত বিচার, সাইবার, সন্ত্রাসবিরোধী, মানব পাচার, জননিরাপত্তা

    অভিযোগপত্র যায় ১-৯ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের কোনো একটিতে। পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকার করলে হলফনামাসহ ট্রাইব্যুনালে নালিশ দাখিল করা যায়। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করে, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ও তারপর আসামিপক্ষের বক্তব্য শোনে, এবং আইনগত সময়সীমার মধ্যে রায় দেয়, যদিও মামলা প্রায়ই বেশি সময় নেয়। ট্রাইব্যুনালগুলোর কক্ষ প্রকাশিত নেই, তাই কার্যতালিকা দেখুন এবং জজ কোর্টের অনুসন্ধান ডেস্কে জিজ্ঞেস করুন।

    পরামর্শ: প্রতিটি তারিখের আগে কার্যতালিকা দেখুন; প্রকাশিত তলাভিত্তিক তালিকায় ট্রাইব্যুনালগুলোর কক্ষ নেই।

    কে: আপনি ও আপনার আইনজীবীসময়: নির্দেশক: কয়েক মাস বা তার বেশিসঙ্গে আনুন: সাক্ষীসঙ্গে আনুন: মূল চিকিৎসার কাগজপত্রআপনি পাবেন: পরবর্তী তারিখআপনি পাবেন: রায়
  6. দ্রুত আপিলের জন্য নকলের দরখাস্ত দিন
    অনুলিপি বিভাগ (নকলখানা), জজ কোর্ট · নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনের ২য় তলা

    রায়ের পর সঙ্গে সঙ্গে নতুন ৮ তলা ভবনের ২য় তলায় জজ কোর্টের অনুলিপি বিভাগে জরুরি সার্টিফায়েড কপির দরখাস্ত করুন। ২০২৬ সালের সংশোধনীর (২০২৬ সালের ৮৫ নং আইন, ধারা ২০) পর থেকে ধারা ২৮ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে আপিল ৬০ দিনের বদলে ৩০ দিনের মধ্যে দাখিল করতে হয়। নকলের সিলমোহর, সই ও তারিখ দেখে নিন এবং একই দিনে আপিল পরিচালনাকারী আইনজীবীর হাতে দিন।

    পরামর্শ: নকলের দরখাস্তের রসিদ রেখে দিন; ৩০ দিন গোনার সময় নকল পেতে ব্যয়িত সময় বাদ দেওয়া হয়।

    কে: আপনার আইনজীবীর মুহুরিসময়: নির্দেশক: রায়ের দিনই দরখাস্ত করুনফি: নকলের দরখাস্ত: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট-ফি ও ফোলিও স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: মামলা নম্বর ও রায়ের তারিখসঙ্গে আনুন: স্ট্যাম্পআপনি পাবেন: রায়ের সার্টিফায়েড কপি
০৫ডিসি অফিসে সার্টিফিকেট মামলা৬টি ধাপ · নির্দেশক: কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস; আইনগত সময়সীমা ৩০ দিন (ধারা ৯), ১৫ দিন (ধারা ৫১) ও ছয় মাস (ধারা ৩৪)

সরকারি সংস্থা ও কিছু ঋণদাতা দেওয়ানি মোকদ্দমা ছাড়াই সরকারি পাওনা আদায় আইন, ১৯১৩ অনুযায়ী সার্টিফিকেট মামলার মাধ্যমে পাওনা আদায় করে। সার্টিফিকেট নোটিশ পেলে সঙ্গে সঙ্গে স্বল্প সময়সীমা চলতে শুরু করে। এই বিবরণে পরামর্শ নেওয়া, দায় অস্বীকার করে ৩০ দিনের দরখাস্ত, শুনানি, আপিল এবং ছয় মাসের দেওয়ানি মোকদ্দমা তুলে ধরা হয়েছে।

সেদিন সঙ্গে আনুন: জারির তারিখ লেখা ধারা ৭-এর নোটিশ ও সার্টিফিকেটের কপি, পরিশোধের রসিদ ও ঋণের স্টেটমেন্ট, পাওনা দাবিকারী সংস্থার সঙ্গে চিঠিপত্র, আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র

  1. সার্টিফিকেট নোটিশ মন দিয়ে পড়ুন
    সার্টিফিকেট মামলা (সরকারি পাওনা আদায়)

    কোনো সরকারি সংস্থা বা তালিকাভুক্ত ঋণদাতা পিডিআর আইনের ধারা ৪-৬ অনুযায়ী সার্টিফিকেট দাখিলের জন্য সার্টিফিকেট অফিসারকে অনুরোধ করে, এরপর আপনার ওপর সার্টিফিকেটের কপিসহ ধারা ৭-এর নোটিশ জারি হয়। দাবিকৃত অঙ্ক, কোন সংস্থা দাবি করছে এবং দাবির ভিত্তি পড়ে দেখুন। নোটিশ পাওয়ার তারিখ লিখে রাখুন, কারণ সময়সীমা সেই তারিখ থেকে গোনা হয়। মূল নোটিশ ও খাম যত্ন করে রাখুন, কারণ পরের প্রতিটি ধাপে সেগুলো লাগবে।

    পরামর্শ: মূল নোটিশ ও খাম রেখে দিন; জারির তারিখ থেকেই প্রতিটি সময়সীমা নির্ধারিত হয়।

    কে: আপনিসময়: নির্দেশক: যেদিন নোটিশ আসে সেদিনইসঙ্গে আনুন: ধারা ৭-এর নোটিশ
  2. নোটিশ নিয়ে আইনজীবীর কাছে যান
    ঢাকা আইনজীবী সমিতি

    সঙ্গে সঙ্গে নোটিশ নিয়ে ঢাকা বারের কোনো আইনজীবীর কাছে যান। আইনজীবী যাচাই করেন দাবিটি এভাবে আদায়যোগ্য "সরকারি পাওনা" কি না, অঙ্কটি ঠিক কি না, ইতিমধ্যে পরিশোধিত বা তামাদিতে বারিত কি না, এবং ধারা ৯ অনুযায়ী দায় অস্বীকারের দরখাস্ত যুক্তিযুক্ত কি না। সেই দরখাস্ত জারির ৩০ দিনের মধ্যে দাখিল করতে হয়। যথাযথ কারণ ছাড়া তা পার হলে পরে ধারা ৩৪ অনুযায়ী দেওয়ানি মোকদ্দমার অধিকার হারাতে পারেন, তাই দেরি করবেন না।

    পরামর্শ: প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই যান; ধারা ৯-এর দরখাস্তের জন্য যেসব কাগজ লাগে তা জোগাড় করতে সময় লাগে।

    কে: আপনি ও আপনার আইনজীবীসময়: নির্দেশক: জারির কয়েক দিনের মধ্যেফি: আইনজীবীর ফি সমঝোতা অনুযায়ীসঙ্গে আনুন: নোটিশ ও সার্টিফিকেটের কপিসঙ্গে আনুন: পরিশোধের রেকর্ডআপনি পাবেন: ধারা ৯-এর দরখাস্ত বিষয়ে পরামর্শ
  3. সত্যপাঠযুক্ত দরখাস্ত হলফ করে সম্পাদন করুন
    নোটারি, ওথ কমিশনার ও হলফনামার ডেস্ক

    আপনার আইনজীবী ধারা ৯-এর দরখাস্তের পরামর্শ দিলে তা সত্যপাঠযুক্ত হতে হবে। একজন ওথ কমিশনারের সামনে হলফ করুন, যিনি আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে পরিচয় নিশ্চিত করবেন, এবং তাঁর উপস্থিতিতে সই করুন। দাবি ভুল, ইতিমধ্যে পরিশোধিত বা তামাদিতে বারিত—এমন প্রমাণ দেয় এমন পরিশোধের রসিদ, ঋণের স্টেটমেন্ট ও চিঠিপত্র সংযুক্ত করুন। সই করার আগে পুরো দরখাস্ত পড়ুন এবং প্রতিটি অঙ্ক ও তারিখ নিজের রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। ওথ কমিশনার সই ও সিলমোহর দিয়ে তাঁর রেজিস্টারে শপথ লিপিবদ্ধ করেন।

    পরামর্শ: সই করার আগে প্রতিটি অঙ্ক ও তারিখ নিজের রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে নিন; শপথ করে মিথ্যা বিবৃতি দেওয়া অপরাধ।

    কে: আপনিসময়: নির্দেশক: খসড়া প্রস্তুত থাকলে কয়েক মিনিটফি: আপনার আইনজীবী যেমন বলবেন সেই মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প পেপার বা স্ট্যাম্প; ওথ কমিশনারের ফি প্রকাশিত নেইসঙ্গে আনুন: জাতীয় পরিচয়পত্রসঙ্গে আনুন: দরখাস্তের খসড়াসঙ্গে আনুন: রসিদ ও স্টেটমেন্টআপনি পাবেন: সত্যপাঠযুক্ত ধারা ৯-এর দরখাস্ত
  4. দরখাস্ত দাখিল করে শুনানিতে উপস্থিত থাকুন
    সার্টিফিকেট মামলা (সরকারি পাওনা আদায়)

    ৩০ দিনের মধ্যে ডিসি অফিসে সার্টিফিকেট অফিসারের কাছে ধারা ৯-এর দরখাস্ত দাখিল করুন এবং তারিখযুক্ত গ্রহণ-কপি নিন। আপনার আইনজীবী ও কাগজপত্র নিয়ে শুনানিতে উপস্থিত থাকুন। পাওনাটি প্রাপ্য কি না, সার্টিফিকেট অফিসার তা নির্ধারণ করেন। পাওনা দাবিকারী সংস্থা আপনার গ্রেপ্তার চাইলে আগে আপনাকে কারণ দর্শানোর শুনানির সুযোগ এবং কারণসহ লিখিত আদেশ দিতে হবে (ধারা ২৯), আর এই আইনে কোনো নারীকে গ্রেপ্তার করা যায় না (ধারা ৩৩)।

    পরামর্শ: তারিখের সিলযুক্ত গ্রহণ-কপি নিন; এটিই প্রমাণ করে আপনি ৩০ দিনের মধ্যে দাখিল করেছেন।

    কে: আপনি ও আপনার আইনজীবীসময়: নির্দেশক: কয়েক সপ্তাহ ধরে শুনানিফি: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: সত্যপাঠযুক্ত দরখাস্তসঙ্গে আনুন: সহায়ক কাগজপত্রআপনি পাবেন: গ্রহণ-কপিআপনি পাবেন: সার্টিফিকেট অফিসারের আদেশ
  5. সময়মতো কালেক্টরের কাছে আপিল করুন
    জেলা প্রশাসক ও কালেক্টর, ঢাকা; এডিসি (রাজস্ব) ও রাজস্ব আদালত

    সার্টিফিকেট অফিসারের আদেশের বিরুদ্ধে ধারা ৫১ অনুযায়ী ১৫ দিনের মধ্যে কালেক্টরের কাছে—কার্যত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের কাছে—আপিল করুন। কালেক্টরের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আপিল করা যায়। ধারা ৫৩ অনুযায়ী রিভিশন চলে কালেক্টর ও বিভাগীয় কমিশনারের কাছে; সেখানে উল্লিখিত ভূমি প্রশাসন বোর্ড ১৯৮৯ সালে বিলুপ্ত হয়েছে। যে আদেশ চ্যালেঞ্জ করছেন তার সার্টিফায়েড কপি আপিলের মেমোরেন্ডামের সঙ্গে সংযুক্ত করুন।

    পরামর্শ: সার্টিফিকেট অফিসার যেদিন আদেশ দেন, সেদিনই তার সার্টিফায়েড কপির দরখাস্ত করুন।

    কে: আপনার আইনজীবীসময়: নির্দেশক: ১৫ দিনের মধ্যে দাখিল করুনফি: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: আদেশের সার্টিফায়েড কপিসঙ্গে আনুন: আপিলের মেমোআপনি পাবেন: আপিল নম্বরআপনি পাবেন: আপিলের ওপর আদেশ
  6. প্রয়োজনে দেওয়ানি আদালতে মোকদ্দমা করুন
    দেওয়ানি আদালত: সিনিয়র সিভিল জজ, সিভিল জজ, যুগ্ম জেলা জজ, ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল, সালিশি আদালত · সিনিয়র সিভিল জজ আদালত ("সিনিয়র সিভিল জজ" নামে তালিকাভুক্ত) ও তাদের সেরেস্তা: ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম তলা; যুগ্ম জেলা জজ অতিরিক্ত আদালত: ৭ম তলা, নতুন ৮ তলা ভবন। অন্যান্য দেওয়ানি আদালত তালিকায় নেই

    পাওনাটিই যদি ভুল হয়, তবে নোটিশ, ধারা ৯-এর সিদ্ধান্ত বা আপিলের সিদ্ধান্তের ছয় মাসের মধ্যে সার্টিফিকেট রদ বা সংশোধনের জন্য দেওয়ানি মোকদ্দমা করতে পারেন (ধারা ৩৪)। এই পথের বাইরে দেওয়ানি মোকদ্দমা চলে কেবল প্রতারণার ভিত্তিতে (ধারা ৩৭)। মোকদ্দমা দাখিল করা হয় জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে এখতিয়ারসম্পন্ন দেওয়ানি আদালতের সেরেস্তায়, সার্টিফিকেট মামলার আদেশগুলোর সার্টিফায়েড কপি সংযুক্ত করে।

    পরামর্শ: সঠিক শুরুর তারিখ থেকে ছয় মাস সাবধানে গুনুন; কোন তারিখ প্রযোজ্য তা আপনার আইনজীবীকে জিজ্ঞেস করুন।

    কে: আপনার আইনজীবীসময়: নির্দেশক: ছয় মাসের মধ্যে দাখিল করুনফি: আরজি: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: সার্টিফিকেট মামলার সার্টিফায়েড আদেশসঙ্গে আনুন: পরিশোধের রেকর্ডআপনি পাবেন: মোকদ্দমা নম্বর
০৬ভূমি রেকর্ডের নকল তোলা ও নামজারি চ্যালেঞ্জ করা৫টি ধাপ · নির্দেশক: নকল এক থেকে তিন সপ্তাহে; নামজারির আপিল কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসে; স্বত্বের মোকদ্দমা কয়েক বছরে

জমির বিরোধ শুরু হয় কাগজ দিয়ে। এই বিবরণে দেখানো হয়েছে কীভাবে ডিসি অফিসের রেকর্ড রুম থেকে জরিপ খতিয়ান ও মৌজা ম্যাপের সার্টিফায়েড কপি তুলবেন, ভুল নামজারির আদেশের বিরুদ্ধে কীভাবে আপিল করবেন, কখন বিরোধটি এর বদলে দেওয়ানি আদালত বা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের বিষয়, এবং জেতার পর কীভাবে রেকর্ড হালনাগাদ করবেন।

সেদিন সঙ্গে আনুন: মৌজার নাম, জেএল, খতিয়ান ও দাগ নম্বর, স্বত্বের দলিল, এসি ল্যান্ডের নামজারি আদেশের সার্টিফায়েড কপি, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ (ডিসিআর), আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র

  1. খতিয়ানের সার্টিফায়েড কপির দরখাস্ত করুন
    ডিসি রেকর্ড রুম (ভূমি রেকর্ড, খতিয়ানের নকল)

    ডিসি অফিসের রেকর্ড রুমে, অথবা ই-পর্চার মাধ্যমে অনলাইনে, জমিটির প্রতিটি জরিপের খতিয়ানের (সিএস, এসএ, আরএস ও সিটি জরিপ) এবং মৌজা ম্যাপের সার্টিফায়েড কপির দরখাস্ত করুন। মৌজা, জেএল, খতিয়ান ও দাগ নম্বর হুবহু দিন, কারণ একটি নম্বর ভুল হলেই ভুল রেকর্ড আসে। জরুরি বা সাধারণ সরবরাহ বেছে নিন। ঢাকার নিজস্ব সরবরাহের সময় প্রকাশিত নেই; তুলনার জন্য, যশোরের ডিসি অফিস জরুরি নকল ৭ কার্যদিবসে ও সাধারণ নকল ১৫ কার্যদিবসে দেয়।

    পরামর্শ: সংগ্রহ করার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি কপি আপনার দলিলের জমির বিবরণের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।

    কে: আপনি বা আপনার আইনজীবীর মুহুরিসময়: নির্দেশক: ঢাকার সময়সীমা প্রকাশিত নেইফি: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / চালান; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: জমির বিবরণসঙ্গে আনুন: ফিআপনি পাবেন: খতিয়ানের সার্টিফায়েড কপিআপনি পাবেন: মৌজা ম্যাপ
  2. ফি দিন ও রসিদ রেখে দিন
    স্ট্যাম্প বিক্রেতা, কোর্ট-ফি বিক্রেতা ও টাইপিস্ট

    প্রতিটি নকলের কোর্ট ফি বা চালান পরিশোধ করুন এবং রসিদগুলো আপনার জমির নথিতে রাখুন। আদালত ও ভূমি অফিস ফটোকপি নয়, সার্টিফায়েড কপি চায়, এবং প্রথম জরিপ থেকে শুরু করে রেকর্ডের পুরো ধারাবাহিকতা যাচাই করে। ধারাবাহিকতায় কোনো জরিপ বাদ পড়া দাবি ব্যর্থ হওয়ার একটি সাধারণ কারণ, তাই যেকোনো শুনানি বা দাখিলের তারিখের অনেক আগেই সবগুলোর দরখাস্ত করেছেন কি না নিশ্চিত হোন। আপনার আইনজীবীকে তালিকাটি দেখে নিতে বলুন।

    পরামর্শ: সব রসিদ নকলগুলোর সঙ্গে এক নথিতে রাখুন; কবে দরখাস্ত করেছিলেন তা প্রমাণ করতে হতে পারে।

    কে: আপনিসময়: নির্দেশক: এক ঘণ্টার কমফি: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / চালান; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: দরখাস্তের বিবরণআপনি পাবেন: রসিদ
  3. ভুল নামজারি আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করুন
    জেলা প্রশাসক ও কালেক্টর, ঢাকা; এডিসি (রাজস্ব) ও রাজস্ব আদালত

    এসি ল্যান্ডের নামজারি আদেশ ভুল হলে ৩০ দিনের মধ্যে আদেশের সার্টিফায়েড কপি ও আপিলের কারণসহ কালেক্টরেটে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) কাছে বিবিধ আপিল দাখিল করুন। প্রতিপক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয় এবং আপিলের শুনানি হয়। এরপর আপিল বা রিভিশন চলে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে, তারপর ভূমি আপিল বোর্ডে। মনে রাখবেন, রাজস্ব আদালত রেকর্ড সংশোধন করে; জমির মালিক কে, তা নির্ধারণ করে না।

    পরামর্শ: রাজস্ব আদালত রেকর্ড নির্ধারণ করে, মালিকানা নয়; এখানে স্বত্বের রায় আশা করবেন না।

    কে: আপনি ও আপনার আইনজীবীসময়: নির্দেশক: ৩০ দিনের মধ্যে দাখিল; শুনানি কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসফি: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: আদেশের সার্টিফায়েড কপিসঙ্গে আনুন: আপিলের মেমোসঙ্গে আনুন: খতিয়ান, দলিল, ডিসিআরআপনি পাবেন: আপিল নম্বরআপনি পাবেন: আপিলের ওপর আদেশ
  4. মালিকানা নিয়ে বিরোধ হলে আদালতে যান
    দেওয়ানি আদালত: সিনিয়র সিভিল জজ, সিভিল জজ, যুগ্ম জেলা জজ, ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল, সালিশি আদালত · সিনিয়র সিভিল জজ আদালত ("সিনিয়র সিভিল জজ" নামে তালিকাভুক্ত) ও তাদের সেরেস্তা: ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম তলা; যুগ্ম জেলা জজ অতিরিক্ত আদালত: ৭ম তলা, নতুন ৮ তলা ভবন। অন্যান্য দেওয়ানি আদালত তালিকায় নেই

    আসল বিরোধ যদি মালিকানা নিয়ে হয়, তবে এর বদলে দেওয়ানি আদালতে স্বত্ব ঘোষণার মোকদ্দমা করুন, কারণ নামজারি স্বত্ব নির্ধারণ করে না। চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত জরিপ খতিয়ান ভুল হলে মামলা যায় রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ধারা ১৪৫ক অনুযায়ী ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে। আপনার আইনজীবী সার্টিফায়েড খতিয়ান, দলিল ও নামজারির কাগজ সংযুক্ত করে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের সেরেস্তায় দাখিল করেন, এবং আদালত প্রথম তারিখ ধার্য করে।

    পরামর্শ: নামজারি স্বত্ব নির্ধারণ করে না। প্রতিপক্ষ মালিকানা দাবি করলে সাধারণত দেওয়ানি মোকদ্দমা লাগে।

    কে: আপনার আইনজীবীসময়: নির্দেশক: প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মোকদ্দমায় কয়েক বছরফি: আরজি: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: সার্টিফায়েড খতিয়ানসঙ্গে আনুন: দলিলসঙ্গে আনুন: নামজারির কাগজআপনি পাবেন: মোকদ্দমা বা ট্রাইব্যুনালের মামলা নম্বর
  5. নামজারির জন্য ডিক্রি নিয়ে ফিরে যান
    অনুলিপি বিভাগ (নকলখানা), জজ কোর্ট · নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনের ২য় তলা

    দেওয়ানি আদালতে জেতার পর নতুন ৮ তলা ভবনের ২য় তলার অনুলিপি বিভাগে রায় ও ডিক্রির সার্টিফায়েড কপির দরখাস্ত করুন। সেগুলো নিয়ে এসি ল্যান্ডের কাছে যান এবং ডিক্রির ভিত্তিতে নতুন নামজারির আবেদন করুন। নতুন নামজারি খতিয়ান ও ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ (ডিসিআর) আপনার স্বত্বের কাগজের সঙ্গে রাখুন, এবং অফিস ছাড়ার আগে নতুন এন্ট্রিটি ডিক্রির সঙ্গে মন দিয়ে মিলিয়ে নিন।

    পরামর্শ: ভূমি অফিস ছাড়ার আগে নতুন নামজারি এন্ট্রিতে কোনো ভুল আছে কি না দেখে নিন।

    কে: আপনি বা আপনার আইনজীবীর মুহুরিসময়: নির্দেশক: নকল কয়েক দিনে; নতুন নামজারিতে বেশি সময় লাগেফি: নকলের দরখাস্ত: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট-ফি ও ফোলিও স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: মোকদ্দমা নম্বরসঙ্গে আনুন: স্ট্যাম্পআপনি পাবেন: রায় ও ডিক্রির সার্টিফায়েড কপিআপনি পাবেন: নতুন নামজারি খতিয়ান
০৭বারে হলফনামা সম্পাদন৫টি ধাপ · নির্দেশক: কয়েক ঘণ্টা, প্রায়ই এক সকালেই

আদালতের অনেক দরখাস্ত ও দাপ্তরিক আবেদনে শপথপূর্বক হলফনামা লাগে, যেমন নাম বা বয়সের ঘোষণা, অথবা দেওয়ানি মোকদ্দমায় জবানবন্দি। এই বিবরণে দেখানো হয়েছে কীভাবে হলফনামার খসড়া করাবেন, সঠিক স্ট্যাম্প পেপারে তুলবেন, আইনজীবীকে দিয়ে যাচাই করাবেন, ওথ কমিশনার বা নোটারির সামনে হলফ করবেন এবং আদালত বা দপ্তরে দাখিল করবেন।

সেদিন সঙ্গে আনুন: জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট, হলফনামায় উল্লিখিত তথ্যের প্রমাণপত্র, যে আদালত বা দপ্তরের জন্য তার বিবরণ

  1. কী লিখতে হবে তা আইনজীবীকে বলুন
    ঢাকা আইনজীবী সমিতি

    হলফনামায় কী লিখতে হবে, কোন আদালত বা দপ্তরের জন্য, এবং এটি ওথ কমিশনারের সামনে হলফ করতে হবে নাকি নোটারি পাবলিকের সত্যায়ন লাগবে—তা আপনার আইনজীবীকে জিজ্ঞেস করুন। আইনজীবীকে তথ্যগুলো এবং সেগুলোর প্রমাণপত্র দিন, যেমন জাতীয় পরিচয়পত্র, সনদ বা আগের আদালতের কাগজ। আইনজীবী বা মুহুরি প্রয়োজনীয় ফরম ও ভাষায় হলফনামার খসড়া করেন। আদালতের জন্য হলফনামা সাধারণত ওথ কমিশনারের সামনে হলফ করা হয়; বিদেশে ব্যবহারের কাগজ সাধারণত নোটারির কাছে যায়।

    পরামর্শ: দপ্তরে ওথ কমিশনার লাগবে নাকি নোটারি, তা জিজ্ঞেস করুন; ভুল জনের কাছে গেলে আবার করতে হতে পারে।

    কে: আপনি ও আপনার আইনজীবীসময়: নির্দেশক: একটি সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎফি: আইনজীবীর ফি সমঝোতা অনুযায়ীসঙ্গে আনুন: জাতীয় পরিচয়পত্রসঙ্গে আনুন: সহায়ক কাগজপত্রআপনি পাবেন: হলফনামার খসড়া
  2. স্ট্যাম্প পেপার কিনুন
    স্ট্যাম্প বিক্রেতা, কোর্ট-ফি বিক্রেতা ও টাইপিস্ট

    বারের কাছের কোনো লাইসেন্সধারী স্ট্যাম্প বিক্রেতার কাছ থেকে আপনার আইনজীবীর বলে দেওয়া মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প পেপার কিনুন। বিক্রেতারা ক্রেতার তথ্য লিখে রাখতে পারেন, তাই জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন। আশপাশের কোনো টাইপিং দোকানে খসড়াটি স্ট্যাম্প পেপারে টাইপ করিয়ে নিন। এগোনোর আগে প্রতিটি নাম, তারিখ ও নম্বর আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র ও কাগজপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। এখনই কিছুতে সই করবেন না; সত্যায়নকারী কর্মকর্তার সামনেই সই করতে হবে।

    পরামর্শ: শুধু লাইসেন্সধারী বিক্রেতার কাছ থেকে কিনুন এবং রসিদ বা রেজিস্টারে এন্ট্রি চান।

    কে: আপনি বা আপনার আইনজীবীর মুহুরিসময়: নির্দেশক: কয়েক মিনিটফি: আপনার আইনজীবী যে মূল্যের কথা বলবেন সেই মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প পেপার (স্ট্যাম্প আইন, ১৮৯৯)সঙ্গে আনুন: স্ট্যাম্পের মূল্য লেখা আইনজীবীর নোটসঙ্গে আনুন: জাতীয় পরিচয়পত্রআপনি পাবেন: স্ট্যাম্প পেপারআপনি পাবেন: টাইপ করা হলফনামা
  3. খসড়াটি আইনজীবীকে দিয়ে যাচাই করান
    ঢাকা আইনজীবী সমিতি

    টাইপ করা হলফনামা আপনার আইনজীবীর কাছে ফিরিয়ে নিন; তিনি খসড়া ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে ভাষা মিলিয়ে দেখবেন। নিজেও ধীরে ধীরে আবার পড়ুন এবং যা বুঝছেন না তা জিজ্ঞেস করুন। কর্মকর্তার যদি আপনাকে শনাক্ত করার জন্য কাউকে দরকার হয়, আইনজীবী শনাক্তকারী হতে পারেন। মিথ্যা হলফনামা মিথ্যা সাক্ষ্যের অপরাধ, তাই যা প্রমাণ করতে পারবেন না তা বাদ দিন। স্ট্যাম্প পেপারে টাইপের ভুল হলে নতুন পেপার কিনতে হতে পারে, তাই এগোনোর আগে ভালো করে দেখে নিন।

    পরামর্শ: যা প্রমাণ করতে পারবেন শুধু তা-ই হলফ করুন; যে বিষয়ে নিশ্চিত নন তা আইনজীবীর বাদ দেওয়া উচিত।

    কে: আপনার আইনজীবীসময়: নির্দেশক: কয়েক মিনিটসঙ্গে আনুন: টাইপ করা হলফনামাসঙ্গে আনুন: জাতীয় পরিচয়পত্রআপনি পাবেন: হলফের জন্য প্রস্তুত, যাচাই করা হলফনামা
  4. ওথ কমিশনারের সামনে হলফ করুন
    নোটারি, ওথ কমিশনার ও হলফনামার ডেস্ক

    জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট নিয়ে নিজে ওথ কমিশনার বা নোটারির সামনে হাজির হন, যিনি সাধারণত বারের আশপাশের কোনো চেম্বারে বসেন। কর্মকর্তা আপনার পরিচয় যাচাই করেন, বিষয়বস্তু বুঝেছেন কি না জিজ্ঞেস করেন, তারপর আপনাকে সই করতে দেখেন। কর্মকর্তা শপথ লিপিবদ্ধ করেন, হলফনামায় সই ও সিলমোহর দেন এবং রেজিস্টারে এন্ট্রি করেন। কাজ শুরুর আগে ফি জিজ্ঞেস করুন এবং রসিদ নিন। নিজের রেকর্ডের জন্য শপথকৃত হলফনামার একটি ফটোকপি রাখুন।

    পরামর্শ: চলে যাওয়ার আগে নিশ্চিত হোন যে হলফনামায় কর্মকর্তার সিলমোহর, সই ও রেজিস্টার নম্বর আছে।

    কে: আপনিসময়: নির্দেশক: কয়েক মিনিটফি: নোটারি বা ওথ কমিশনারের ফি: প্রকাশিত নেই; আগে জিজ্ঞেস করুন এবং রসিদ নিনসঙ্গে আনুন: জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টসঙ্গে আনুন: যাচাই করা হলফনামাআপনি পাবেন: শপথকৃত, সিলমোহরযুক্ত হলফনামা
  5. হলফনামা দাখিল করুন
    দেওয়ানি আদালত: সিনিয়র সিভিল জজ, সিভিল জজ, যুগ্ম জেলা জজ, ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল, সালিশি আদালত · সিনিয়র সিভিল জজ আদালত ("সিনিয়র সিভিল জজ" নামে তালিকাভুক্ত) ও তাদের সেরেস্তা: ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম তলা; যুগ্ম জেলা জজ অতিরিক্ত আদালত: ৭ম তলা, নতুন ৮ তলা ভবন। অন্যান্য দেওয়ানি আদালত তালিকায় নেই

    যে আদালত বা দপ্তর হলফনামা চেয়েছে, সেখানে শপথকৃত হলফনামা দাখিল করুন। যেমন দেওয়ানি মোকদ্দমায় ২০২৬ সালের দেওয়ানি কার্যবিধি সংশোধনী অনুযায়ী জবানবন্দি হলফনামায় দেওয়া যায়, এবং হলফনামাটি আদালতের সেরেস্তায় দাখিল করা হয়। তবু হলফকারীকে জেরার জন্য ডাকা হতে পারে। গ্রহণ-কপি চান, অথবা দাখিলের তারিখ ও কর্মচারীর এন্ট্রি লিখে রাখুন, এবং আপনার ফটোকপি মামলার নথির সঙ্গে রাখুন।

    পরামর্শ: একটি ফটোকপি রাখুন এবং কবে দাখিল করেছেন তা লিখে রাখুন।

    কে: আপনার আইনজীবীসময়: নির্দেশক: একই দিনেসঙ্গে আনুন: শপথকৃত হলফনামাসঙ্গে আনুন: ফটোকপিআপনি পাবেন: দাখিলের স্বীকৃতি
০৮ফৌজদারি আদালতের আদেশের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ৫টি ধাপ · নির্দেশক: জরুরি নকল কয়েক দিনে; নথি রেকর্ড রুম থেকে বের করতে হলে বেশি সময়

জামিনের আবেদন করতে, উচ্চ আদালতে আপিল বা রিভিশন দাখিল করতে, অথবা অন্য মামলায় আদেশটি ব্যবহার করতে ফৌজদারি আদালতের আদেশের সার্টিফায়েড কপি লাগে। এই বিবরণে দেখানো হয়েছে কীভাবে মামলার বিবরণ সঠিকভাবে জানবেন, স্ট্যাম্প কিনবেন, সঠিক নকল শাখায় দরখাস্ত করবেন, রেকর্ড রুমে চলে যাওয়া নথির ক্ষেত্রে কী করবেন এবং নকলটি কীভাবে ব্যবহার করবেন।

সেদিন সঙ্গে আনুন: মামলা নম্বর, আদালত নম্বর ও আদেশের তারিখ, আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র, স্ট্যাম্পের টাকা, রসিদের বিনিময়ে পরিশোধযোগ্য

  1. মামলার বিবরণ নিশ্চিত করুন
    মহানগর জিআর শাখা (জিআর অফিস / জিআরও) · সিজেএম ভবনের ৫ম তলা

    যে আদেশের নকল দরকার তার মামলা নম্বর, আদালত নম্বর ও তারিখ নিশ্চিত করুন। পুলিশি মামলায় থানার জিআর ডেস্ক এগুলো জানায়; মহানগর জিআর ডেস্ক সিজেএম ভবনের ৫ম তলায় আর জেলার ডেস্ক ৪র্থ তলায়। কার্যতালিকা বা "আমার আদালত" অ্যাপেও দেখে নিতে পারেন। ভুল নম্বরসহ নকলের দরখাস্ত ফেরত আসে এবং কয়েক দিন নষ্ট হয়, তাই সবকিছু হুবহু লিখে রাখুন।

    পরামর্শ: মামলা নম্বর স্মৃতি থেকে নয়, কোনো দাপ্তরিক কাগজ থেকে টুকে নিন।

    কে: আপনি বা আপনার আইনজীবীর মুহুরিসময়: নির্দেশক: এক ঘণ্টার কমসঙ্গে আনুন: এজাহার নম্বর ও থানাআপনি পাবেন: মামলা নম্বর, আদালত নম্বর ও আদেশের তারিখ
  2. নকলের স্ট্যাম্প কিনুন
    স্ট্যাম্প বিক্রেতা, কোর্ট-ফি বিক্রেতা ও টাইপিস্ট

    নকলের দরখাস্তের জন্য প্রয়োজনীয় কোর্ট-ফি ও ফোলিও স্ট্যাম্প লাইসেন্সধারী বিক্রেতার কাছ থেকে কিনুন। ফোলিও স্ট্যাম্পের সংখ্যা কাগজের দৈর্ঘ্যের ওপর নির্ভর করে, তাই কেনার আগে নকল শাখার কাউন্টারে বা আপনার আইনজীবীর মুহুরির কাছে জিজ্ঞেস করুন কাগজটি কত ফোলিও। স্ট্যাম্প আসল ও অব্যবহৃত কি না দেখে নিন। পরে কোনো বিরোধ হলে কাজে লাগবে, তাই রসিদ বা রেজিস্টারে এন্ট্রি চান এবং কাগজপত্রের সঙ্গে রাখুন।

    পরামর্শ: কেনার আগে জিজ্ঞেস করুন কাগজটি কত ফোলিও, যাতে ঠিক পরিমাণ কিনতে পারেন।

    কে: আপনি বা আপনার আইনজীবীর মুহুরিসময়: নির্দেশক: কয়েক মিনিটফি: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট-ফি ও ফোলিও স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: মামলার বিবরণআপনি পাবেন: স্ট্যাম্পআপনি পাবেন: রসিদ
  3. সঠিক নকল শাখায় দরখাস্ত করুন
    নকল শাখা (নকলখানা), সিএমএম আদালত · সিএমএম মূল ভবনের ৫ম তলা; সিজেএম মামলা: সিজেএম ভবনের ৪র্থ তলা

    মূল ভবনের ৫ম তলার সিএমএম নকল শাখায় (নকলখানা), অথবা সিজেএম মামলার জন্য সিজেএম ভবনের ৪র্থ তলার সিজেএম নকল শাখায় নকলের ফরম পূরণ করুন। মামলা নম্বর, আদালত নম্বর ও কোন কাগজ দরকার তা লিখুন, স্ট্যাম্প লাগান এবং কাউন্টারে ফরম জমা দিন। কর্মচারীরা বিবরণ যাচাই করে সরবরাহের তারিখসহ রসিদ দেন। কোনো সময়সীমা চলতে থাকলে জরুরি বেছে নিন।

    পরামর্শ: জামিন, আপিল বা রিভিশনের সময়সীমা চলতে থাকলে "জরুরি" বেছে নিন।

    কে: আপনি বা আপনার আইনজীবীর মুহুরিসময়: নির্দেশক: জরুরি নকল দ্রুত আসে; সরবরাহের তারিখ জেনে নিনফি: নকলের দরখাস্ত: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট-ফি ও ফোলিও স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: মামলার বিবরণসঙ্গে আনুন: স্ট্যাম্পআপনি পাবেন: নকলের রসিদআপনি পাবেন: সার্টিফায়েড কপি
  4. নিষ্পত্তি হওয়া মামলার জন্য তল্লাশির অনুরোধ করুন
    রেকর্ড রুম, সিএমএম আদালত · সিএমএম মূল ভবনের ১০ম তলা; সিজেএম মামলা: সিজেএম ভবনের ২য় তলা

    মামলা নিষ্পত্তি হয়ে নথি রেকর্ড রুমে চলে গেলে নকল তৈরির আগে কর্মচারীদের তা বের করতে হয়। সিএমএম রেকর্ড রুম মূল ভবনের ১০ম তলায়, আর সিজেএম রেকর্ড রুম সিজেএম ভবনের ২য় তলায়। মামলা নম্বর, আদালত ও নিষ্পত্তির সাল দিয়ে আগে তল্লাশির দরখাস্ত করুন, কারণ নথি বের করতে কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ বাড়তি লাগতে পারে এবং কিছু পুরোনো নথি হয়তো বিনষ্ট করা হয়েছে।

    পরামর্শ: আগে তল্লাশি চান; খুব পুরোনো নথি হয়তো বিধি অনুযায়ী ইতিমধ্যে বিনষ্ট করা হয়েছে।

    কে: আপনি বা আপনার আইনজীবীর মুহুরিসময়: নির্দেশক: কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহফি: তফসিল অনুযায়ী তল্লাশি ও নকলের ফি; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: নিষ্পত্তি হওয়া মামলার নম্বর ও সালআপনি পাবেন: তল্লাশির ফলআপনি পাবেন: সার্টিফায়েড কপি
  5. উচ্চ আদালতে নকলটি ব্যবহার করুন
    মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা · মহানগর দায়রা জজ ও অতিরিক্ত আদালত ১-৪: মূল ভবনের ২য় তলা; অন্যান্য অতিরিক্ত ও যুগ্ম আদালত নিচতলা, ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম তলায়; অতিরিক্ত আদালত ৯-১৬ টিনশেড ভবনে

    সার্টিফায়েড কপি দিয়ে মহানগর দায়রা জজের কাছে—যাঁর আদালত ৪০-৪৫ জনসন রোডের মূল ভবনের ২য় তলায়—আপিল, রিভিশন বা জামিনের দরখাস্ত দাখিল করুন। তামাদির মেয়াদ গোনার সময় নকল পেতে ব্যয়িত সময় বাদ যায়, তাই নকলের দরখাস্তের রসিদ রেখে দিন। শুনানির আগে দরখাস্তের একটি কপি মহানগর পিপির দপ্তরে দেওয়া হয়, এবং মামলা নম্বর কার্যতালিকায় আসে।

    পরামর্শ: নকলের দরখাস্তের রসিদ রেখে দিন; নকল পেতে ব্যয়িত সময় তামাদির মেয়াদ থেকে বাদ যায়।

    কে: আপনার আইনজীবীসময়: নির্দেশক: নকল আসামাত্র দাখিল করুনফি: দরখাস্ত বা আপিলের মেমোরেন্ডাম: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: সার্টিফায়েড কপিসঙ্গে আনুন: ওকালতনামাআপনি পাবেন: উচ্চ আদালতে মামলা নম্বর
০৯পারিবারিক আদালতে পারিবারিক মামলা দায়ের৯টি ধাপ · নির্দেশক: দাখিল এক দিনে; আইনে ৩০ দিনের ধাপ নির্ধারিত, তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মামলায় কয়েক মাস লাগে

দেনমোহর, ভরণপোষণ, সন্তানের হেফাজত বা অভিভাবকত্ব, বিবাহবিচ্ছেদ এবং দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধারের দাবি পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ অনুযায়ী পারিবারিক আদালতে যায়। এই বিবরণে আরজির খসড়া, ২০০ টাকা কোর্ট ফি, সঠিক সংখ্যক কপিসহ দাখিল, সমন জারি, বিচার-পূর্ব শুনানি ও আপস-মীমাংসা, বিচার, নকল এবং ৩০ দিনের আপিল তুলে ধরা হয়েছে।

সেদিন সঙ্গে আনুন: মূল কাবিননামা এবং কাজীর রেজিস্টার থেকে তোলা সার্টিফায়েড কপি, সন্তানদের জন্মনিবন্ধন সনদ, উভয় পক্ষের আয়ের প্রমাণ, আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র, বিবাদীর পূর্ণ ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ও জানা থাকলে ই-মেইল, আপনার সাক্ষীদের নাম ও ঠিকানা

  1. আইনজীবী নিয়োগ দিন ও কাগজপত্র জোগাড় করুন
    ঢাকা আইনজীবী সমিতি

    ঢাকা বারে একজন আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করে দাবিটি বুঝিয়ে বলুন: দেনমোহর, ভরণপোষণ, হেফাজত, বিবাহবিচ্ছেদ বা দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার। কাবিননামা, সন্তানদের জন্মনিবন্ধন সনদ ও আয়ের প্রমাণ আনুন। আইনজীবী যাচাই করেন কোন পারিবারিক আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ার আছে: যেখানে নালিশের কারণ উদ্ভূত হয়েছে, অথবা যেখানে পক্ষরা বাস করেন বা সর্বশেষ একসঙ্গে বাস করেছেন। বিবাহবিচ্ছেদ, দেনমোহর বা ভরণপোষণের ক্ষেত্রে স্ত্রী সাধারণত যেখানে বাস করেন সেখানকার আদালতেরও এখতিয়ার আছে (ধারা ৬(১))।

    পরামর্শ: মূল কাবিননামা এবং কাজীর রেজিস্টার থেকে তোলা সার্টিফায়েড কপি আনুন; দেনমোহরের দাবি এর ওপরই নির্ভর করে।

    কে: আপনি ও আপনার আইনজীবীসময়: নির্দেশক: এক-দুটি সাক্ষাৎফি: আইনজীবীর ফি সমঝোতা অনুযায়ীসঙ্গে আনুন: কাবিননামাসঙ্গে আনুন: সন্তানদের জন্মনিবন্ধন সনদসঙ্গে আনুন: আয়ের প্রমাণসঙ্গে আনুন: জাতীয় পরিচয়পত্রআপনি পাবেন: আরজির খসড়াআপনি পাবেন: সই করা ওকালতনামা
  2. বিনা খরচে আইনগত সহায়তা বা মধ্যস্থতার কথা ভাবুন
    জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, ঢাকা

    আইনজীবী রাখার সামর্থ্য না থাকলে প্যানেল আইনজীবীর জন্য জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে দরখাস্ত করুন। মামলা দায়েরের আগে অফিসটি বিনা খরচে পারিবারিক বিরোধের মধ্যস্থতাও করতে পারে, আর সেখানে আপস হলে কয়েক মাস বাঁচে। ২০২৬ সালের সংশোধনী অনুযায়ী ঢাকায় পারিবারিক বিরোধে দাখিল-পূর্ব মধ্যস্থতা বাধ্যতামূলক কি না নিশ্চিত হয়নি, তাই অফিসে জিজ্ঞেস করুন। এর কক্ষ প্রকাশিত নেই; জজ কোর্টের অনুসন্ধান ডেস্কে জিজ্ঞেস করুন অথবা জাতীয় হেল্পলাইন ১৬৪৩০-এ ফোন করুন।

    পরামর্শ: ঢাকায় এখন পারিবারিক বিরোধে দাখিল-পূর্ব মধ্যস্থতা প্রযোজ্য কি না, অফিসে জিজ্ঞেস করুন।

    কে: আপনিসময়: নির্দেশক: দরখাস্ত একই দিনেফি: যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য বিনা খরচে (আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০)সঙ্গে আনুন: জাতীয় পরিচয়পত্রসঙ্গে আনুন: আয় বা অবস্থার প্রমাণআপনি পাবেন: দরখাস্তের রসিদআপনি পাবেন: প্যানেল আইনজীবী বা মধ্যস্থতার তারিখ
  3. ২০০ টাকা কোর্ট ফি দিন
    স্ট্যাম্প বিক্রেতা, কোর্ট-ফি বিক্রেতা ও টাইপিস্ট

    দাবির অঙ্ক যা-ই হোক, পারিবারিক আদালতের আরজিতে কোর্ট ফি পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৫ অনুযায়ী ২০০ টাকা নির্ধারিত। লাইসেন্সধারী বিক্রেতার কাছ থেকে কোর্ট-ফি স্ট্যাম্প কিনুন এবং রসিদ রেখে দিন। দাখিলের সময় সমনের খরচও দিতে হয়, যা দেওয়ানি কার্যবিধির মতোই, এবং নোটিশের রেজিস্ট্রি ডাকের খরচ (ধারা ৭(৫))। ফি বা এসব খরচ না দিলে আরজি নাকচ হয় (ধারা ৬(৮))।

    পরামর্শ: দাবির অঙ্ক যা-ই হোক, ফি ২০০ টাকা নির্ধারিত; কাউকে এর বেশি দেবেন না।

    কে: আপনি বা আপনার আইনজীবীর মুহুরিসময়: নির্দেশক: এক ঘণ্টার কমফি: আরজি: ২০০ টাকা কোর্ট ফি (পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৫); দাখিলের সময় সমন ও রেজিস্ট্রি ডাকের খরচও দিতে হয় (ধারা ৭(৫))সঙ্গে আনুন: প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প লেখা আইনজীবীর নোটআপনি পাবেন: কোর্ট-ফি স্ট্যাম্পআপনি পাবেন: রসিদ
  4. পর্যাপ্ত কপিসহ আরজি দাখিল করুন
    পারিবারিক আদালত · নতুন ৮ তলা ভবনের নিচতলা (শুধু ২য় ও ৩য় অতিরিক্ত পারিবারিক আদালত, "সিভিল জজ" নামে তালিকাভুক্ত)। অন্যান্য পারিবারিক আদালত তালিকায় নেই

    পারিবারিক আদালতে আরজি দাখিল করুন। ২য় ও ৩য় অতিরিক্ত পারিবারিক আদালত নতুন ৮ তলা ভবনের নিচতলায়; অন্যগুলোর জন্য অনুসন্ধান ডেস্কে জিজ্ঞেস করুন। আরজিতে আপনার সাক্ষীদের একটি তফসিল এবং যেসব কাগজের ওপর নির্ভর করছেন তার তালিকা থাকতে হবে, এবং বিবাদীর সংখ্যার দ্বিগুণ সংখ্যক কপি দাখিল করতে হবে (ধারা ৬)। তালিকায় বাদ পড়া কাগজ পরে গ্রহণ না-ও করা হতে পারে। আদালত হাজিরার তারিখ ধার্য করে, সাধারণত ৩০ দিনের মধ্যে (ধারা ৭)।

    পরামর্শ: যাওয়ার আগে কপি গুনে নিন: বিবাদীর সংখ্যার দ্বিগুণ, সঙ্গে তফসিল ও কাগজের তালিকা।

    কে: আপনার আইনজীবী ও আদালতের কর্মচারীসময়: নির্দেশক: একই দিনেসঙ্গে আনুন: আরজিসঙ্গে আনুন: কপিসঙ্গে আনুন: যেসব মূল কাগজের ওপর নির্ভর করছেনআপনি পাবেন: মামলা নম্বরআপনি পাবেন: হাজিরার তারিখ
  5. সমন জারি নিশ্চিত করুন
    নেজারত ও নাজির (প্রসেস জারি), জজ কোর্ট

    আদালত সমন জারি করে এবং প্রাপ্তিস্বীকারপত্রসহ রেজিস্ট্রি ডাকে নোটিশ পাঠায়, আর আপনার খরচে ই-মেইলেও সমন পাঠাতে পারে (ধারা ৭)। সমন নিজে জারি হয় দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৫-এর পদ্ধতিতে, আদালতের জারিকারকদের মাধ্যমে। বিবাদীর পূর্ণ ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর দিন, আর জানা থাকলে ই-মেইল ঠিকানাও। হাজিরার তারিখের আগে আইনজীবীর মাধ্যমে দেখে নিন জারির প্রতিবেদন বা ডাকের প্রাপ্তিস্বীকারপত্র নথিতে আছে কি না।

    পরামর্শ: বিবাদীর ই-মেইল ঠিকানা জানা থাকলে দিন; আদালত ই-মেইলেও সমন পাঠাতে পারে।

    কে: আপনার আইনজীবীর মুহুরিসময়: নির্দেশক: হাজিরার তারিখের আগেসঙ্গে আনুন: বিবাদীর ঠিকানা, মোবাইল ও ই-মেইলআপনি পাবেন: নথিতে জারির প্রতিবেদন
  6. বিচার-পূর্ব শুনানিতে উপস্থিত থাকুন
    পারিবারিক আদালত · নতুন ৮ তলা ভবনের নিচতলা (শুধু ২য় ও ৩য় অতিরিক্ত পারিবারিক আদালত, "সিভিল জজ" নামে তালিকাভুক্ত)। অন্যান্য পারিবারিক আদালত তালিকায় নেই

    হাজিরার তারিখে দুই পক্ষ উপস্থিত হয়, এবং বিবাদী জবাব দাখিল করেন অথবা আরও ২১ দিন পর্যন্ত সময় পান (ধারা ৮)। এরপর আদালত ৩০ দিনের মধ্যে বিচার-পূর্ব শুনানি ধার্য করে (ধারা ১১)। সেখানে বিচারক আরজি, জবাব ও কাগজপত্র পরীক্ষা করেন, বিরোধের বিষয়গুলো চিহ্নিত করেন এবং পক্ষদের মধ্যে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করেন। আপস না হলে বিচার্য বিষয় গঠন করা হয় এবং ৩০ দিনের মধ্যে সাক্ষ্যের তারিখ ধার্য হয়। যেকোনো পক্ষ রুদ্ধদ্বার কক্ষে (in camera) শুনানির অনুরোধ করতে পারেন (ধারা ১২)।

    পরামর্শ: আপস নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি নিয়ে আসুন; এই পর্যায়ে বিচারককে পক্ষদের মধ্যে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করতেই হয়।

    কে: আপনি ও আপনার আইনজীবীসময়: নির্দেশক: জবাব দাখিলের ৩০ দিনের মধ্যেসঙ্গে আনুন: আপনার কাগজপত্রসঙ্গে আনুন: জাতীয় পরিচয়পত্রআপনি পাবেন: জবাবের কপিআপনি পাবেন: গঠিত বিচার্য বিষয় ও সাক্ষ্যের তারিখ
  7. সাক্ষ্য দিন ও রায় শুনুন
    পারিবারিক আদালত · নতুন ৮ তলা ভবনের নিচতলা (শুধু ২য় ও ৩য় অতিরিক্ত পারিবারিক আদালত, "সিভিল জজ" নামে তালিকাভুক্ত)। অন্যান্য পারিবারিক আদালত তালিকায় নেই

    সাক্ষ্যের তারিখে প্রতিটি পক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা হয়, এবং আদালত হলফনামায় সাক্ষ্য গ্রহণের অনুমতি দিতে পারে (ধারা ১৩)। আদালতকে দিয়ে কোনো সাক্ষীকে সমন করাতে চাইলে বিচার্য বিষয় গঠনের তিন দিনের মধ্যে তা জানাতে হবে। সাক্ষ্যের পর আদালত আবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করে (ধারা ১৪)। তা ব্যর্থ হলে রায় ও ডিক্রি দেয়, এবং সাত দিনের মধ্যে রায়ের নোটিশ আসে। আদালত টাকার ডিক্রি কিস্তিতে পরিশোধের অনুমতি দিতে পারে (ধারা ১৭)।

    পরামর্শ: আদালতকে দিয়ে কোনো সাক্ষীকে সমন করাতে চাইলে বিচার্য বিষয় গঠনের তিন দিনের মধ্যে জানান (ধারা ১৩(২))।

    কে: আপনি, আপনার আইনজীবী ও আদালতের কর্মচারীসময়: নির্দেশক: কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসসঙ্গে আনুন: সাক্ষীসঙ্গে আনুন: মূল কাগজপত্রআপনি পাবেন: রায় ও ডিক্রি
  8. ডিক্রির সার্টিফায়েড কপির দরখাস্ত দিন
    অনুলিপি বিভাগ (নকলখানা), জজ কোর্ট · নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনের ২য় তলা

    নতুন ৮ তলা ভবনের ২য় তলার অনুলিপি বিভাগে রায় ও ডিক্রির সার্টিফায়েড কপির দরখাস্ত করুন। আপিলের জন্য এবং ডিক্রি কার্যকর করার জন্যও এগুলো লাগে, কারণ সময়মতো পরিশোধ না হওয়া টাকার ডিক্রি এক বছরের মধ্যে দরখাস্ত করে কার্যকর করা যায় (ধারা ১৭)। আপিল করতে পারেন এমন হলে জরুরি বেছে নিন। কাউন্টার ছাড়ার আগে সিলমোহর, সই ও তারিখ দেখে নিন, এবং রসিদ কাগজপত্রের সঙ্গে রাখুন।

    পরামর্শ: নকলের রসিদ রেখে দিন; ৩০ দিনের আপিলের মেয়াদ থেকে নকল পেতে ব্যয়িত সময় বাদ যায়।

    কে: আপনার আইনজীবীর মুহুরিসময়: নির্দেশক: রায়ের দিনই দরখাস্ত করুনফি: নকলের দরখাস্ত: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট-ফি ও ফোলিও স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: মামলা নম্বর ও রায়ের তারিখসঙ্গে আনুন: স্ট্যাম্পআপনি পাবেন: রায় ও ডিক্রির সার্টিফায়েড কপি
  9. সময়মতো জেলা জজের কাছে আপিল করুন
    জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা · জেলা জজের আদালত ও দায়রা (ফৌজদারি) শাখা: ৩য় তলা; দেওয়ানি শাখা: ৪র্থ তলা; অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত ২য়, ৪র্থ ও ৫ম তলায়, নতুন ৮ তলা ভবন

    আপিল চলে জেলা জজের আদালতে, যা আলাদা আদালত গঠিত না হওয়া পর্যন্ত পারিবারিক আপিল আদালত হিসেবে কাজ করে; নকল পেতে ব্যয়িত সময় বাদ দিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে (ধারা ১৮-১৯)। আপিল লিখিত হতে হবে, তাতে কারণ ও পক্ষদের বিবরণ থাকতে হবে, সই থাকতে হবে এবং সার্টিফায়েড কপি সংযুক্ত করতে হবে। বেশির ভাগ বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রি এবং ৫০,০০০ টাকা বা তার কম দেনমোহরের ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল চলে না। জেলা জজ বসেন ৩য় তলায়; আপিল কোথায় গ্রহণ করা হয় তা ৪র্থ তলার দেওয়ানি শাখায় জিজ্ঞেস করুন।

    পরামর্শ: আগে দেখে নিন আপিল চলে কি না: বেশির ভাগ বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রি এবং ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত দেনমোহরের ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করা যায় না।

    কে: আপনার আইনজীবীসময়: নির্দেশক: নকলের সময় বাদ দিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে দাখিল করুনফি: আপিলের মেমোরেন্ডাম: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: রায় ও ডিক্রির সার্টিফায়েড কপিসঙ্গে আনুন: আপিলের মেমোরেন্ডামআপনি পাবেন: আপিল নম্বরআপনি পাবেন: শুনানির তারিখ
১০জামিনে থাকা আসামি হিসেবে আদালতে হাজিরা৭টি ধাপ · নির্দেশক: প্রতিটি তারিখের জন্য এক সকাল

জামিনে থাকলে মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ধার্য প্রতিটি তারিখে আপনাকে আদালতে হাজির হতে হবে। কোনো তারিখে অনুপস্থিত থাকলে পরোয়ানা জারি এবং আপনার জামিননামা বাজেয়াপ্ত হতে পারে। এই বিবরণে জামিনের শর্ত যাচাই, সঠিক আদালত খুঁজে বের করা, শুনানিতে আপনার হাজিরা লিপিবদ্ধ করানো, পরবর্তী তারিখ লিখে রাখা এবং তারিখে অনুপস্থিত থাকলে কী করবেন তা তুলে ধরা হয়েছে।

সেদিন সঙ্গে আনুন: জামিনের আদেশ ও জামিননামার কপি, আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র, মামলা নম্বর, আদালত নম্বর ও পরবর্তী তারিখ, আপনার আইনজীবীর মোবাইল নম্বর, নিজে হাজির হতে না পারলে মেডিকেল সনদ

  1. আইনজীবীর সঙ্গে জামিনের শর্ত যাচাই করুন
    ঢাকা আইনজীবী সমিতি

    তারিখের আগে বারে আপনার আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করুন বা চেম্বারে ফোন করুন। জামিনের আদেশ সঙ্গে আনুন এবং এর শর্তগুলো দেখে নিন, যেমন প্রতিটি তারিখে হাজির থাকা, অনুমতি ছাড়া দেশ না ছাড়া বা থানায় হাজিরা দেওয়া। মামলা নম্বর, আদালত নম্বর ও তারিখ নিশ্চিত করুন, এবং সেদিন কে আপনার হাজিরা দাখিল করবেন তা ঠিক করে নিন। অসুস্থতার কারণে হাজির হতে না পারলে আগেভাগে আইনজীবীকে জানান, যাতে সময়মতো মেডিকেল সনদসহ দরখাস্ত দাখিল করা যায়।

    পরামর্শ: অসুস্থতার কারণে হাজির হতে না পারলে তারিখের পরে নয়, আগেই আইনজীবীকে জানান।

    কে: আপনি ও আপনার আইনজীবীসময়: নির্দেশক: একটি সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ বা ফোনফি: আইনজীবীর ফি সমঝোতা অনুযায়ীসঙ্গে আনুন: জামিনের আদেশসঙ্গে আনুন: জাতীয় পরিচয়পত্রআপনি পাবেন: নিশ্চিত আদালত নম্বর ও তারিখ
  2. আদালত ও পরবর্তী তারিখ নিশ্চিত করুন
    মহানগর জিআর শাখা (জিআর অফিস / জিআরও) · সিজেএম ভবনের ৫ম তলা

    পুলিশি (জিআর) মামলায় আপনার থানার জিআর ডেস্ক আদালত নম্বর ও পরবর্তী তারিখ নিশ্চিত করতে পারে। মহানগর জিআর ডেস্ক সিজেএম ভবনের ৫ম তলায়, আর জেলা পুলিশের ডেস্ক ৪র্থ তলায়। আদালত ও মামলা নম্বর দিয়ে কার্যতালিকা বা "আমার আদালত" অ্যাপেও দেখে নিতে পারেন। ১-২৮ নম্বর আদালত বসে সিএমএম মূল ভবনের ২য় থেকে ৯ম তলায়, আর ২৯-৩৭ নম্বর আদালত সিজেএম ভবনের ৮ম ও ৯ম তলায়।

    পরামর্শ: আদালত নম্বর লিখে রাখুন; ২৯-৩৭ নম্বর আদালত সিজেএম ভবনের ৮ম ও ৯ম তলায়।

    কে: আপনি বা আপনার আইনজীবীর মুহুরিসময়: নির্দেশক: এক ঘণ্টার কমসঙ্গে আনুন: থানা এবং এজাহার বা জিআর নম্বরআপনি পাবেন: আদালত নম্বর ও পরবর্তী তারিখ
  3. নথি সরে গেলে তার খোঁজ নিন
    জুডিশিয়াল মুন্সিখানা (জেপি শাখা), সিএমএম আদালত · সিএমএম মূল ভবনের ৬ষ্ঠ তলা ("জেপি শাখা" নামে তালিকাভুক্ত); সিজেএম আদালতগুলোর মুন্সিখানা সিজেএম ভবনের ২য় তলায়

    আপনার মামলা আদালতের কার্যতালিকায় না থাকলে হয়তো তা অন্য আদালতে বদলি হয়েছে বা বিচারের জন্য দায়রা আদালতে পাঠানো হয়েছে। সিএমএম মূল ভবনের ৬ষ্ঠ তলার জুডিশিয়াল মুন্সিখানায় (জেপি শাখা) সেই রেজিস্টার থাকে, যাতে দেখা যায় মামলা কোথায় গেছে। মামলা নম্বর, থানা ও সাল দিন, কর্মচারী রেজিস্টার দেখবেন। সিজেএম মামলার জন্য মুন্সিখানা সিজেএম ভবনের ২য় তলায়। এরপর সরাসরি নতুন আদালতে যান।

    পরামর্শ: কার্যতালিকায় না থাকা মামলা সাধারণত বদলি হয়েছে, শেষ হয়নি।

    কে: আপনি বা আপনার আইনজীবীর মুহুরিসময়: নির্দেশক: অপেক্ষা করতে করতেইসঙ্গে আনুন: মামলা নম্বর, থানা ও সালআপনি পাবেন: মামলা এখন যে আদালতে আছে তার নাম
  4. আপনার হাজিরা লিপিবদ্ধ করান
    মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের এজলাস (সিএমএম আদালত) · আদালত ১-২৮: সিএমএম মূল ভবনের ২য় থেকে ৯ম তলা; আদালত ২৯-৩৭: সিজেএম ভবনের ৮ম ও ৯ম তলা

    আদালত মামলা ডাকা শুরু করার বেশ আগে পৌঁছান এবং এজলাসের ভেতরে বা ঠিক বাইরে অপেক্ষা করুন। আপনি উপস্থিত আছেন তা লিপিবদ্ধ করতে আপনার আইনজীবী পেশকারের কাছে হাজিরার দরখাস্ত দাখিল করেন। আপনার নাম বা মামলা নম্বর ডাকা হলে দাঁড়িয়ে সাড়া দিন। ফোন বন্ধ রাখুন। মামলা উঠতে অনেক দেরি হলেও দিনের আদেশ না হওয়া পর্যন্ত চলে যাবেন না, কারণ আদালত কে উপস্থিত ছিলেন তা লিপিবদ্ধ করে।

    পরামর্শ: মামলা দেরিতে ডাকা হলেও দিনের আদেশ না হওয়া পর্যন্ত চলে যাবেন না।

    কে: আপনি ও আপনার আইনজীবীসময়: নির্দেশক: সকালের বেশির ভাগ সময়ফি: হাজিরার দরখাস্ত: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: জাতীয় পরিচয়পত্রসঙ্গে আনুন: জামিনের আদেশের কপিআপনি পাবেন: আদেশনামায় হাজিরা লিপিবদ্ধ
  5. পরবর্তী তারিখ ও নির্দেশনা লিখে রাখুন
    মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের এজলাস (সিএমএম আদালত) · আদালত ১-২৮: সিএমএম মূল ভবনের ২য় থেকে ৯ম তলা; আদালত ২৯-৩৭: সিজেএম ভবনের ৮ম ও ৯ম তলা

    ম্যাজিস্ট্রেট আদেশনামায় কারণ লিখে মামলা পরবর্তী তারিখ পর্যন্ত মুলতবি করেন (ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৪৪), অথবা মামলাকে পরের ধাপে নেন, যেমন অভিযোগ গঠন বা সাক্ষ্য। পরবর্তী তারিখ ও যেকোনো নির্দেশনা লিখে রাখুন। প্রতিটি তারিখে হাজির হওয়া কঠিন হলে আপনার আইনজীবী আদালতকে আপনার ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিতে অনুরোধ করতে পারেন: সমন মামলায় ধারা ২০৫ অনুযায়ী, আপনার প্রতিনিধি থাকলে ধারা ৫৪০ক অনুযায়ী, অথবা তদন্ত পর্যায়ে তদন্ত প্রতিবেদনের শুনানি পর্যন্ত (ধারা ৫৪০ক(৩))।

    পরামর্শ: তারিখগুলোর নিজস্ব একটি তালিকা রাখুন এবং প্রতিটি শুনানির পর আদেশনামার সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

    কে: আপনি ও আপনার আইনজীবীসময়: নির্দেশক: কয়েক মিনিটআপনি পাবেন: পরবর্তী তারিখআপনি পাবেন: ব্যক্তিগত হাজিরা বিষয়ে কোনো আদেশ
  6. তারিখে অনুপস্থিত থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন
    নেজারত (প্রসেস শাখা), সিএমএম আদালত · সিএমএম মূল ভবনের ৩য় তলা (প্রশাসনিক, হিসাব ও ডেসপাচ শাখার সঙ্গে)

    কোনো তারিখে অনুপস্থিত থাকলে আদালত পরোয়ানা জারি করতে পারে এবং আপনার জামিননামা বাজেয়াপ্তের কার্যক্রম শুরু করতে পারে (ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫১৪), আর আপনার জামিনদারকে টাকা দিতে বলা হতে পারে। একই দিনে আপনার আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আইনজীবী সাধারণত মেডিকেল সনদের মতো প্রমাণসহ অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করে দরখাস্ত দাখিল করেন এবং আদালতকে পরোয়ানা প্রত্যাহারের অনুরোধ করেন; এর জন্য প্রায়ই আপনাকে নিজে হাজির হতে হয়। পরোয়ানা ইতিমধ্যে থানায় চলে গেছে কি না, নেজারত বা ডেসপাচ শাখায় জিজ্ঞেস করুন।

    পরামর্শ: পুলিশ আসার অপেক্ষায় থাকবেন না; আইনজীবীকে নিয়ে দ্রুত আদালতে ফিরে যাওয়া সাধারণত সহায়ক হয়।

    কে: আপনি ও আপনার আইনজীবীসময়: নির্দেশক: একই দিন বা পরবর্তী কার্যদিবসসঙ্গে আনুন: মেডিকেল সনদ বা অন্য প্রমাণসঙ্গে আনুন: জামিনের আদেশআপনি পাবেন: পরোয়ানা ও জামিননামা বিষয়ে আদেশ
  7. আদেশনামার একটি কপি রাখুন
    নকল শাখা (নকলখানা), সিএমএম আদালত · সিএমএম মূল ভবনের ৫ম তলা; সিজেএম মামলা: সিজেএম ভবনের ৪র্থ তলা

    আপনার হাজিরা ও পরবর্তী তারিখ দেখানো আদেশনামার সার্টিফায়েড কপির জন্য সিএমএম মূল ভবনের ৫ম তলার নকল শাখায়, অথবা সিজেএম মামলার জন্য সিজেএম ভবনের ৪র্থ তলায় দরখাস্ত করুন। ভুল করে পরোয়ানা জারি হলে, ভ্রমণের জন্য আদালতের অনুমতি দরকার হলে, বা আইনজীবী বদলালে এটি কাজে লাগে। এটি জামিনের আদেশের সঙ্গে রাখুন, এবং প্রতিটি শুনানির পর তারিখগুলোর নিজস্ব তালিকা হালনাগাদ করুন।

    পরামর্শ: কপিটি জামিনের আদেশের সঙ্গে রাখুন; ভুল করে পরোয়ানা জারি হলে বা আইনজীবী বদলালে এটি কাজে দেয়।

    কে: আপনি বা আপনার আইনজীবীর মুহুরিসময়: নির্দেশক: জরুরি নকল দ্রুত আসে; সরবরাহের তারিখ জেনে নিনফি: নকলের দরখাস্ত: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট-ফি ও ফোলিও স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেনসঙ্গে আনুন: মামলা ও আদালত নম্বরসঙ্গে আনুন: স্ট্যাম্পআপনি পাবেন: আদেশনামার সার্টিফায়েড কপি
তালিকা

পর্ব ২-এর প্রতিটি স্থান, ভবন অনুযায়ী

মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের এজলাস (সিএমএম আদালত)আদালত ১-২৮: সিএমএম মূল ভবনের ২য় থেকে ৯ম তলা; আদালত ২৯-৩৭: সিজেএম ভবনের ৮ম ও ৯ম তলা

চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত

সিএমএম কোর্টসিএমএমমেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতআদালত নম্বর X
কোথায়
আদালত ১-২৮: সিএমএম মূল ভবনের ২য় থেকে ৯ম তলা; আদালত ২৯-৩৭: সিজেএম ভবনের ৮ম ও ৯ম তলা
প্রয়োজনীয় সময়
নির্দেশক: শুনানি অল্প সময়ের, তবে আপনার ক্রমিক নম্বর আসতে সকালের বেশির ভাগ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে
ফি
জামিননামা: কোনো কোর্ট ফি নেই (কোর্ট-ফি আইন, ১৮৭০-এর ধারা ১৯(xv)); দরখাস্ত ও আবেদন: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন

চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, ঢাকার আদালত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (DMP) থানাগুলোতে দায়ের হওয়া অপরাধের মামলা দেখে। সিএমএম বসেন মূল ভবনের ৩য় তলার পশ্চিম পাশে ১ নম্বর আদালতে। অতিরিক্ত সিএমএমরা বসেন ২-৫ নম্বর আদালতে, আর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটরা ৬-২৮ নম্বর আদালতে—মূল ভবনের ২য় থেকে ৯ম তলায়, পূর্ব ও পশ্চিম অংশে। ২৯-৩৭ নম্বর আদালত সিজেএম ভবনের ৮ম ও ৯ম তলায়।

গ্রেপ্তারের পর আসামিদের এখানে হাজির করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেটরা রিমান্ড ও জামিনের আবেদন শোনেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৪ অনুযায়ী স্বীকারোক্তি ও জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন, পুলিশ প্রতিবেদন ও নালিশের ভিত্তিতে অপরাধ আমলে নেন (cognisance), ম্যাজিস্ট্রেটের বিচার্য অপরাধের বিচার করেন, এবং যেসব মামলা কেবল দায়রা আদালতে বিচার্য সেগুলো মহানগর দায়রা জজের কাছে পাঠান। প্রতিটি থানা একটি নির্দিষ্ট "আমলি" আদালতের সঙ্গে যুক্ত।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • গ্রেপ্তার হওয়া আত্মীয়কে হাজির করা হচ্ছে, বা রিমান্ড কিংবা জামিনের শুনানি তালিকায় আছে
  • আসামি, বাদী বা সাক্ষী হিসেবে বিচারে হাজির হতে
  • মহানগর এলাকার কোনো অপরাধ নিয়ে নালিশি (সিআর) মামলা দায়ের করতে
  • ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৪ অনুযায়ী ভুক্তভোগী বা সাক্ষীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করাতে

সেখানে যা করবেন

  1. আইনজীবী, জিআর শাখা বা কার্যতালিকা ("আমার আদালত" অ্যাপেও আছে) থেকে মামলা নম্বর ও আদালত নম্বর জেনে নিন
  2. নম্বর ধরে এজলাসে যান (মূল ভবনের পূর্ব বা পশ্চিম অংশ, অথবা ২৯-৩৭ নম্বর আদালতের জন্য সিজেএম ভবন)
  3. পেশকার (bench assistant) মামলা ডাকা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন; আইনজীবী আবেদন উপস্থাপন করবেন
  4. ম্যাজিস্ট্রেট আদেশ দেন (জামিন, রিমান্ড, পরবর্তী তারিখ, আমলে গ্রহণ)
  5. আদেশনামা থেকে পরবর্তী তারিখ জেনে নিন এবং প্রয়োজনে সার্টিফায়েড কপির জন্য দরখাস্ত করুন

যা নিয়ে ফিরবেন

আদেশনামায় লিপিবদ্ধ আদেশ (জামিন, রিমান্ড, আমলে গ্রহণ বা পরবর্তী তারিখ)পরবর্তী তারিখজামিন মঞ্জুর হলে কারাগারে পাঠানো মুক্তির আদেশ

মামলা ও বিষয়

  • ডিএমপি এলাকায় দণ্ডবিধির (Penal Code) অপরাধ
  • হাজিরের সময় রিমান্ড ও জামিন
  • নালিশি (সিআর) মামলা
  • ম্যাজিস্ট্রেটের বিচার্য মাদক, অস্ত্র ও বিশেষ আইনের মামলা
  • ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অঙ্কের এনআই অ্যাক্টের চেক মামলা (২০২৬ সালের সংশোধনী অনুযায়ী এর বেশি অঙ্কের চেক যায় যুগ্ম মহানগর দায়রা জজের কাছে)
  • ধারা ১৬৪-এর জবানবন্দি ও স্বীকারোক্তি

কাগজপত্র

  • ওকালতনামা
  • এজাহার/ফরওয়ার্ডিংয়ের কপিসহ জামিনের দরখাস্ত
  • জামিনদারের জাতীয় পরিচয়পত্র
  • আগের আদেশগুলোর সার্টিফায়েড কপি

যা এড়াবেন

  1. ২৯-৩৭ নম্বর আদালতের জন্য মূল ভবনে যাওয়া, অথচ এগুলো বসে সিজেএম ভবনে।
  2. আদালত নম্বরের বদলে ম্যাজিস্ট্রেটের নাম দিয়ে খোঁজা।
  3. মামলা ডাকার আগেই চলে যাওয়া।

এখানে কারা কাজ করেন

চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত সিএমএম ও মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণ (বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা), সঙ্গে পেশকার ও স্টেনোগ্রাফার

আইন

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ (ধারা ৪, ৬১, ১৬৪, ১৬৭, ১৯০, ২০০, ২০৫গ, ৪৯৬-৪৯৮)ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ২০২৬: মোট রিমান্ডের সর্বোচ্চ সীমা ১৫ দিন, ধারা ১৬৭ক-তে শ্যোন অ্যারেস্ট (shown arrest)
পরামর্শ১-৩৭ নম্বর আদালতের নম্বর নির্দিষ্ট, কিন্তু বিচারক বদলান। সব সময় আদালত নম্বর ও মামলা নম্বর দিয়ে খুঁজুন, বিচারকের নাম দিয়ে নয়।
আমলি আদালতে নালিশি (সিআর) মামলা দায়েরসিএমএম আদালতের মূল ভবন

নালিশি মামলা (সিআর) দায়ের

সিআর মামলানালিশি মামলাপিটিশন মামলাআমলি আদালত
কোথায়
সিএমএম আদালতের মূল ভবন
প্রয়োজনীয় সময়
নির্দেশক: দাখিল ও শপথপূর্বক জবানবন্দি সাধারণত একই দিনে হয়; প্রথম আদেশ সেদিন বা পরে আসতে পারে
ফি
নালিশি দরখাস্ত: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন; সরকারি কর্মচারীর দায়ের করা নালিশ: কোনো কোর্ট ফি নেই (কোর্ট-ফি আইন, ১৮৭০-এর ধারা ১৯(xviii))

ভুক্তভোগী পুলিশের কাছে না গিয়ে সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০০ অনুযায়ী নালিশি দরখাস্ত দিয়ে অভিযোগ আনতে পারেন। এটি সিআর (নালিশি রেজিস্টার) মামলা হিসেবে নিবন্ধিত হয়। ঢাকা মহানগরে নালিশ দাখিল করা হয় সিএমএম আদালতে, এবং তা যায় সেই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে, যাঁর হাতে অপরাধস্থলের থানার আমলি (cognisance) এখতিয়ার। ম্যাজিস্ট্রেট বাদীকে শপথ করিয়ে জবানবন্দি নেন।

এরপর তিনি নালিশ খারিজ করতে পারেন, তদন্ত বা অনুসন্ধানের আদেশ দিতে পারেন (ধারা ২০২, প্রায়ই পুলিশ বা পিবিআইকে দিয়ে), অথবা সমন বা পরোয়ানা জারি করতে পারেন (ধারা ২০৪)। বিচার বিভাগের পোর্টালে সিআর দাখিলের আলাদা কোনো কাউন্টার প্রকাশিত নেই, তাই সেদিন কোন এজলাস নতুন নালিশ গ্রহণ করছে তা আইনজীবী বা জুডিশিয়াল মুন্সিখানায় জিজ্ঞেস করুন।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • পুলিশ এজাহার নিতে অস্বীকার করেছে
  • অপরাধটি শুধু নালিশের মাধ্যমে চলে, যেমন মানহানি বা বিবাহ-সংক্রান্ত অপরাধ
  • চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করতে

সেখানে যা করবেন

  1. বারে আইনজীবীর সঙ্গে বসে নালিশি দরখাস্তের খসড়া করুন
  2. লাইসেন্সধারী বিক্রেতার কাছ থেকে কেনা কোর্ট-ফি স্ট্যাম্প লাগান
  3. নতুন মামলার জন্য নির্ধারিত সময়ে আমলি আদালতে তা উপস্থাপন করুন
  4. বাদীর শপথপূর্বক জবানবন্দি নেওয়া হয় (ধারা ২০০)
  5. আদালত অনুসন্ধান/তদন্তের আদেশ দেন, খারিজ করেন, বা প্রসেস জারি করেন
  6. পরবর্তী তারিখ অনুসরণ করুন; প্রসেস পুলিশ বা আদালতের মাধ্যমে জারি হয়

যা নিয়ে ফিরবেন

সিআর মামলা নম্বরনালিশের ওপর আদেশ: খারিজ, অনুসন্ধান বা তদন্ত, অথবা সমন বা পরোয়ানাপরবর্তী তারিখ

মামলা ও বিষয়

  • মারধর, প্রতারণা, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, মানহানি
  • এনআই অ্যাক্টের ধারা ১৩৮-এর চেক মামলা
  • পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগযুক্ত নালিশ

কাগজপত্র

  • নালিশি দরখাস্ত
  • সহায়ক কাগজপত্র (চেক, লিগ্যাল নোটিশ, ডাকের রসিদ)
  • সাক্ষীর তালিকা
  • ওকালতনামা
  • বাদীর পরিচয়পত্র

যা এড়াবেন

  1. শুধু আইনজীবীকে পাঠানো, অথচ বাদীর শপথপূর্বক জবানবন্দি নিতে হয়।
  2. যে আদালতের ওই থানার ওপর আমলি এখতিয়ার নেই, সেখানে দাখিল করা।
  3. জরুরি কাগজ বাদ দেওয়া, যেমন চেক মামলায় লিগ্যাল নোটিশ।

এখানে কারা কাজ করেন

আমলি আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট; পেশকার

আইন

ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৯০, ২০০-২০৫গহস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১ (Negotiable Instruments Act)-এর ধারা ১৩৮ ও ১৪১
পরামর্শদাখিলের দিন শপথপূর্বক জবানবন্দির জন্য বাদীকে নিজে হাজির থাকতে হয়, তাই শুধু আইনজীবীকে পাঠাবেন না।
জুডিশিয়াল মুন্সিখানা (জেপি শাখা), সিএমএম আদালতসিএমএম মূল ভবনের ৬ষ্ঠ তলা ("জেপি শাখা" নামে তালিকাভুক্ত); সিজেএম আদালতগুলোর মুন্সিখানা সিজেএম ভবনের ২য় তলায়

জুডিসিয়াল মুন্সিখানা

মুন্সিখানাজেপি শাখাজুডিশিয়াল শাখা
কোথায়
সিএমএম মূল ভবনের ৬ষ্ঠ তলা ("জেপি শাখা" নামে তালিকাভুক্ত); সিজেএম আদালতগুলোর মুন্সিখানা সিজেএম ভবনের ২য় তলায়
প্রয়োজনীয় সময়
নির্দেশক: মামলার পূর্ণ বিবরণ আনলে সাধারণত অপেক্ষা করতে করতেই রেজিস্টার তল্লাশি হয়ে যায়
ফি
রেজিস্টার তল্লাশির কোনো ফি প্রকাশিত নেই; শুধু সরকারি রসিদের বিনিময়ে টাকা দিন

জুডিশিয়াল মুন্সিখানা হলো আদালতের নিজস্ব বিচারিক রেজিস্ট্রি। এখানে আগত মামলা লিপিবদ্ধ হয়, আদালতগুলোর মধ্যে বণ্টন হয়, রেজিস্টার রাখা হয় এবং বিচারিক চিঠিপত্র দেখা হয়—যেমন উচ্চ আদালতে নথি তলব ও ফেরত পাঠানো। মহানগর পোর্টালে এটিকে সিএমএম মূল ভবনের ৬ষ্ঠ তলায় "জেপি শাখা" নামে দেখানো আছে। সিজেএম ভবনে সিজেএম আদালতগুলোর জন্য আলাদা একটি জুডিশিয়াল মুন্সিখানা আছে।

আইনজীবীদের মুহুরিরা এখানে আসেন খুঁজে দেখতে যে মামলা কোন আদালতে গেছে, বা নথি দায়রা আদালত কিংবা হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে কি না।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • মামলা এখন কোন আদালতে আছে তা জানতে
  • নথি দায়রা জজ বা হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে কি না যাচাই করতে
  • উচ্চ আদালত থেকে পাঠানো কোনো আদেশের খোঁজ নিতে

সেখানে যা করবেন

  1. মামলা নম্বর, থানা ও সাল সঙ্গে আনুন
  2. কর্মচারীকে রেজিস্টার দেখতে বলুন
  3. যে আদালতে বদলি হয়েছে তার নাম বা ডেসপাচ মেমো নম্বর লিখে নিন

যা নিয়ে ফিরবেন

মামলা এখন যে আদালতে আছে তার নামনথি উচ্চ আদালতে গেলে ডেসপাচ মেমো নম্বর

মামলা ও বিষয়

  • সিএমএম এখতিয়ারের সব ফৌজদারি মামলা

কাগজপত্র

  • মামলা নম্বর, থানা, সাল
  • উচ্চ আদালতের কোনো আদেশ থাকলে তার কপি

যা এড়াবেন

  1. থানা, মামলা নম্বর ও সাল ছাড়া চলে আসা।
  2. কার্যতালিকায় মামলা নেই বলে ধরে নেওয়া যে মামলা শেষ হয়ে গেছে।

এখানে কারা কাজ করেন

সিএমএমের প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে আদালতের কর্মচারীরা

আইন

ফৌজদারি কার্যবিধি; ক্রিমিনাল রুলস অ্যান্ড অর্ডারস (Criminal Rules and Orders) (চর্চা ও পদ্ধতি)
পরামর্শকোনো মামলা কার্যতালিকা থেকে "উধাও" হয়ে গেছে মনে হলে সাধারণত সেটি বদলি হয়েছে বা দায়রা আদালতে পাঠানো হয়েছে। মুন্সিখানার রেজিস্টারে দেখা যাবে কোথায়।
আদালতের মালখানা (আলামত ভান্ডার)সিএমএম আদালতের মূল ভবন

কোর্ট মালখানা

মালখানাআলামত ভান্ডার
কোথায়
সিএমএম আদালতের মূল ভবন
প্রয়োজনীয় সময়
নির্দেশক: আদালতের আদেশ থেকে হস্তান্তর পর্যন্ত ফেরত পাওয়ায় কয়েকটি ধাপ আছে; আপনার আইনজীবীকে জিজ্ঞেস করুন
ফি
ফেরতের দরখাস্ত: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন

মালখানায় জব্দকৃত মালামাল ও আলামত রাখা হয়, যেমন অস্ত্র, মাদক, কাগজপত্র, ফোন ও যানবাহনের কাগজ। এগুলোই আলামত, যা বিচারে সাক্ষ্য হিসেবে উপস্থাপিত হয়। ডিএমপির মামলার জন্য ডিএমপি তার প্রসিকিউশন বিভাগের অধীনে একটি "কোর্ট মালখানা" ও মালখানা শাখার কথা উল্লেখ করে। সিজেএম আদালতের দায়িত্ব বণ্টনে একজন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে "নকল বিভাগ ও মালখানা"-র দায়িত্বে দেখানো আছে, অর্থাৎ আদালতও এর তত্ত্বাবধান করে।

মালিকরা জিম্মায় (custody bond) অথবা চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে মালামাল ফেরত পেতে আদালতে দরখাস্ত করেন। বিচার বিভাগের পোর্টালে মালখানা কোথায় তা প্রকাশিত নেই।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • আদালতের আদেশের পর জব্দকৃত মালামাল (ফোন, কাগজপত্র, যানবাহন) ফেরত পেতে
  • বিচারে আলামত হাজির করা নিশ্চিত করতে

সেখানে যা করবেন

  1. মালামাল জিম্মায় বা ফেরত পেতে বিচারিক বা আমলি আদালতে দরখাস্ত করুন
  2. আদেশের সার্টিফায়েড কপি নিন
  3. জিআর শাখার মাধ্যমে আদেশটি মালখানা কর্মকর্তার কাছে নিয়ে যান
  4. মালামাল বুঝে নেওয়ার সময় রসিদ বা জিম্মানামায় সই করুন

যা নিয়ে ফিরবেন

রসিদ বা জিম্মানামায় আপনার সইয়ের বিনিময়ে মালামালফেরতের আদেশের কপি

মামলা ও বিষয়

  • ফৌজদারি মামলায় জব্দকৃত মালামাল

কাগজপত্র

  • মালামাল ফেরতের আদালতের আদেশ
  • মালিকানার প্রমাণ
  • জব্দতালিকা
  • পরিচয়পত্র

যা এড়াবেন

  1. আদালতের আদেশের সার্টিফায়েড কপি ছাড়া মালখানায় যাওয়া।
  2. দাবি না করে মালামাল ফেলে রাখা, যতক্ষণ না তা নষ্ট হয়।
  3. মালিকানার প্রমাণ ছাড়া আসা।

এখানে কারা কাজ করেন

আদালতের তত্ত্বাবধানে ডিএমপি প্রসিকিউশন বিভাগের মালখানা শাখা (পরিদর্শক/এসআই)

আইন

ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫১৬ক ও ৫১৭ (মালামালের হেফাজত ও নিষ্পত্তি)
পরামর্শআপনার আইনজীবীকে শুরুতেই জিম্মার দরখাস্ত করতে বলুন। বছরের পর বছর মালখানায় পড়ে থাকা মালামাল নষ্ট হয়ে যায়।
নকল শাখা (নকলখানা), সিএমএম আদালতসিএমএম মূল ভবনের ৫ম তলা; সিজেএম মামলা: সিজেএম ভবনের ৪র্থ তলা

নকল শাখা / নকলখানা

নকলখানানকল বিভাগসার্টিফায়েড কপি শাখা
কোথায়
সিএমএম মূল ভবনের ৫ম তলা; সিজেএম মামলা: সিজেএম ভবনের ৪র্থ তলা
প্রয়োজনীয় সময়
নির্দেশক: জরুরি নকল সাধারণ নকলের চেয়ে দ্রুত আসে; কাউন্টার থেকে সরবরাহের তারিখ দেওয়া হয়
ফি
নকলের দরখাস্ত: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট-ফি ও ফোলিও স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন

নকল শাখা আদালতের নথিতে থাকা আদেশ, রায়, অভিযোগপত্র, সাক্ষীর জবানবন্দি ও অন্যান্য কাগজের সার্টিফায়েড কপি দেয়। উচ্চ আদালতে জামিন, আপিল, রিভিশন এবং অন্য মামলায় ব্যবহারের জন্য এগুলো দরকার হয়। মহানগর পোর্টালে সিএমএম আদালতের নকলখানা মূল ভবনের ৫ম তলায় দেখানো আছে। সিজেএম আদালতগুলোর নিজস্ব নকলখানা সিজেএম ভবনের ৪র্থ তলায়। জজ কোর্টের অনুলিপি বিভাগ নতুন ৮ তলা ভবনের ২য় তলায়।

নির্ধারিত ফরমে ফোলিও ও স্ট্যাম্প ফি দিয়ে দরখাস্ত করতে হয়। সাধারণ দরখাস্তে জরুরি দরখাস্তের চেয়ে বেশি সময় লাগে।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • দায়রা জজ বা হাইকোর্ট বিভাগে যাওয়ার জন্য জামিন নামঞ্জুরের আদেশের সার্টিফায়েড কপি
  • আপিল করার জন্য রায়ের কপি
  • এজাহার, অভিযোগপত্র বা জবানবন্দির কপি

সেখানে যা করবেন

  1. নকলের দরখাস্ত ফরম পূরণ করুন—মামলা নম্বর, আদালত ও কোন কাগজ চান তা লিখে
  2. কোর্ট-ফি ও ফোলিও স্ট্যাম্প লাগান
  3. কাউন্টারে জমা দিন এবং রসিদ নম্বর লিখে রাখুন
  4. সাধারণ বা জরুরি—যে তারিখ দেওয়া হয় সেদিন সংগ্রহ করুন

যা নিয়ে ফিরবেন

দরখাস্ত নম্বর ও সরবরাহের তারিখসহ রসিদসিলমোহর ও সইযুক্ত সার্টিফায়েড কপি

মামলা ও বিষয়

  • সিএমএম আদালতগুলোর সব ফৌজদারি মামলা

কাগজপত্র

  • নকলের দরখাস্ত ফরম
  • কোর্ট-ফি/ফোলিও স্ট্যাম্প
  • মামলার বিবরণ

যা এড়াবেন

  1. ফরমে ভুল মামলা বা আদালত নম্বর লেখা।
  2. সময়সীমা চলার সময় "সাধারণ" হিসেবে দরখাস্ত করা।
  3. সিলমোহর ও সই না দেখেই চলে যাওয়া।

এখানে কারা কাজ করেন

নকলনবিশ ও নকল শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা

আইন

ক্রিমিনাল রুলস অ্যান্ড অর্ডারস (নকল)কোর্ট-ফি আইন, ১৮৭০
পরামর্শতামাদির মেয়াদ চলতে থাকলে "জরুরি" হিসেবে দরখাস্ত করুন। আপিলের মেয়াদ রায়ের তারিখ থেকে গোনা হয়, তবে নকল পেতে যে সময় লাগে তা বাদ যায়।
রেকর্ড রুম, সিএমএম আদালতসিএমএম মূল ভবনের ১০ম তলা; সিজেএম মামলা: সিজেএম ভবনের ২য় তলা

রেকর্ড রুম

রেকর্ড রুমরেকর্ড শাখা
কোথায়
সিএমএম মূল ভবনের ১০ম তলা; সিজেএম মামলা: সিজেএম ভবনের ২য় তলা
প্রয়োজনীয় সময়
নির্দেশক: পুরোনো নথি বের করতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে
ফি
তফসিল অনুযায়ী তল্লাশি ও নকলের ফি; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন

মামলা নিষ্পত্তির পর নথি সংরক্ষণের জন্য রেকর্ড রুমে যায় এবং পরে বিধি অনুযায়ী বিনষ্ট করা হয়। মহানগর পোর্টালে সিএমএম আদালতের রেকর্ড রুম (রেকর্ড শাখা) মূল ভবনের ১০ম তলায় দেখানো আছে। সিজেএম আদালতগুলোর রেকর্ড রুম সিজেএম ভবনের ২য় তলায়। পুরোনো রায়ের কপি পেতে, আপিল আদালতে নথি পাঠাতে বা আগের খালাস কিংবা দণ্ড প্রমাণ করতে আইনজীবীদের রেকর্ড রুমের প্রয়োজন হয়।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • নিষ্পত্তি হওয়া পুরোনো মামলার রায়ের কপি
  • আপিল আদালতে নিম্ন আদালতের নথি তলব করাতে
  • আগের দণ্ড বা খালাস প্রমাণ করতে

সেখানে যা করবেন

  1. নিষ্পত্তি হওয়া মামলার নম্বর ও সাল খুঁজে বের করুন
  2. নকল শাখার মাধ্যমে তল্লাশি বা নকলের দরখাস্ত করুন
  3. রেকর্ড রুমের কর্মীরা নথির বান্ডিল বের করেন; নকল দেওয়া হয়

যা নিয়ে ফিরবেন

তল্লাশির ফলনকল শাখার মাধ্যমে দেওয়া সার্টিফায়েড কপি

মামলা ও বিষয়

  • নিষ্পত্তি হওয়া ফৌজদারি মামলা

কাগজপত্র

  • মামলা নম্বর, আদালত ও নিষ্পত্তির সাল
  • নকলের দরখাস্ত ও স্ট্যাম্প

যা এড়াবেন

  1. নথি এখনো আছে কি না তল্লাশিতে নিশ্চিত হওয়ার আগেই নকলের টাকা দেওয়া।
  2. নিষ্পত্তির সাল না জানা।

এখানে কারা কাজ করেন

রেকর্ড কিপার ও রেকর্ড রুমের কর্মীরা

আইন

ক্রিমিনাল রুলস অ্যান্ড অর্ডারস (নথি সংরক্ষণ ও বিনষ্টকরণ)
পরামর্শখুব পুরোনো নথি হয়তো ইতিমধ্যে বিনষ্ট করা হয়েছে। নকলের টাকা দেওয়ার আগে প্রথমে "তল্লাশি" চান।
নেজারত (প্রসেস শাখা), সিএমএম আদালতসিএমএম মূল ভবনের ৩য় তলা (প্রশাসনিক, হিসাব ও ডেসপাচ শাখার সঙ্গে)

নেজারত শাখা

নেজারতনাজিরের দপ্তর
কোথায়
সিএমএম মূল ভবনের ৩য় তলা (প্রশাসনিক, হিসাব ও ডেসপাচ শাখার সঙ্গে)
প্রয়োজনীয় সময়
নির্দেশক: রেজিস্টার যাচাই সাধারণত একই দিনে হয়
ফি
তফসিল অনুযায়ী প্রসেস ফি; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন

নেজারত হলো আদালতের প্রসেস ও হিসাব দপ্তর। এর প্রধান নাজির, এবং এখান থেকে সমন ও পরোয়ানা জারি ও ফেরত, আদালতে জমা ও জরিমানা এবং প্রসেস ফি দেখা হয়। মহানগর পোর্টাল অনুযায়ী সিএমএম আদালতের নেজারত মূল ভবনের ৩য় তলায়, প্রশাসনিক, হিসাব ও ডেসপাচ শাখার সঙ্গে।

ফৌজদারি মামলায় বেশির ভাগ প্রসেস পুলিশের মাধ্যমে জারি হয়, তবে নেজারত তার হিসাব রাখে, আর ডেসপাচ শাখা কারাগারে মুক্তির আদেশসহ বিভিন্ন আদেশ পাঠায়।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • সমন বা পরোয়ানা জারি বা ফেরত হয়েছে কি না যাচাই করতে
  • প্রসেস ফি বা জমার টাকা দিতে
  • কারাগারে পাঠানো মুক্তির আদেশের খোঁজ নিতে

সেখানে যা করবেন

  1. মামলা ও আদালত নম্বর সঙ্গে আনুন
  2. নেজারত বা ডেসপাচ কর্মচারীর কাছে জারি/ফেরত রেজিস্টারের এন্ট্রি দেখতে চান
  3. প্রসেস ফি থাকলে দিন এবং রসিদ রেখে দিন

যা নিয়ে ফিরবেন

প্রসেস ফির রসিদজারি ও ফেরত রেজিস্টারের বিবরণমুক্তির আদেশ পাঠানোর বিবরণ

মামলা ও বিষয়

  • ফৌজদারি মামলার প্রসেস

কাগজপত্র

  • মামলা নম্বর
  • প্রসেস ফি

যা এড়াবেন

  1. প্রসেস ফির রসিদ না রাখা।
  2. যাচাই না করেই ধরে নেওয়া যে মুক্তির আদেশ কারাগারে পৌঁছে গেছে।

এখানে কারা কাজ করেন

নাজির ও নেজারতের কর্মচারীরা; ডেসপাচ কর্মচারী

আইন

ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৬৮-৯০ (সমন ও পরোয়ানা)
পরামর্শজামিনপ্রাপ্ত বন্দি ছাড়া না পেলে ডেসপাচ শাখায় জিজ্ঞেস করুন মুক্তির আদেশ (জামিননামা) কারাগারে গেছে কি না।
স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসিএমএম আদালতের মূল ভবন

স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট

সিটি করপোরেশন আদালতডিপিডিসি আদালতডেসকো আদালতপল্লী বিদ্যুৎ আদালতমেরিন আদালত
কোথায়
সিএমএম আদালতের মূল ভবন
প্রয়োজনীয় সময়
নির্দেশক: মামলার ওপর নির্ভর করে; সেবা সংস্থার মামলা প্রায়ই বিল মিটলে শেষ হয়ে যায়
ফি
তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন

মহানগর পোর্টালে সিটি করপোরেশন (তিনটি আদালত), ডিপিডিসি (চারটি), পল্লী বিদ্যুৎ, একটি মেরিন আদালত ও একটি ডেসকো আদালতের জন্য স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের তালিকা আছে। এসব আদালত ওই প্রতিষ্ঠানগুলো যেসব আইন প্রয়োগ করে তার অধীন অপরাধের বিচার করে, যেমন বিদ্যুৎ চুরি ও সিটি করপোরেশন-সংক্রান্ত অপরাধ। পোর্টালে এদের অবস্থান দেওয়া নেই, তাই সিএমএম আদালতের অনুসন্ধান ডেস্কে জিজ্ঞেস করুন।

এগুলো সিএমএমের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে, এবং অন্যান্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের মতোই এদের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল যায় মহানগর দায়রা জজের কাছে। মামলা সাধারণত পরিচালনা করেন সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থা বা করপোরেশনের নিজস্ব কর্মকর্তারা, পুলিশের জিআর শাখা নয়।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • আপনার বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ (ডিপিডিসি/ডেসকো) বা সিটি করপোরেশনের মামলা হয়েছে
  • নৌ/জলযান-সংক্রান্ত মামলা

সেখানে যা করবেন

  1. সমনে আদালতের নাম দেখে নিন
  2. সিএমএম অনুসন্ধান ডেস্কে জিজ্ঞেস করুন আদালতটি কোথায় বসে
  3. নির্ধারিত তারিখে আইনজীবীসহ হাজির হন

যা নিয়ে ফিরবেন

পরবর্তী তারিখ বা চূড়ান্ত আদেশদরখাস্ত করলে সার্টিফায়েড কপি

মামলা ও বিষয়

  • বিদ্যুৎ আইনের অপরাধ
  • সিটি করপোরেশন-সংক্রান্ত অপরাধ
  • নৌ-সংক্রান্ত অপরাধ

কাগজপত্র

  • সমন
  • সেবা সংস্থার বিল/নোটিশ

যা এড়াবেন

  1. সিএমএম অনুসন্ধান ডেস্কে না জিজ্ঞেস করে আদালত খুঁজে বেড়ানো।
  2. সেবা সংস্থার বিল ও পরিশোধের রসিদ ছাড়া আসা।

এখানে কারা কাজ করেন

স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণ

আইন

বিদ্যুৎ আইন, ২০১৮; স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯; অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
পরামর্শসেবা সংস্থার অনেক মামলা বিল পরিশোধ করলে মিটে যায়, তাই পরিশোধের রসিদ সঙ্গে আনুন।
ডিসি (প্রসিকিউশন) কার্যালয়: ডিএমপির অপরাধ তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগসিজেএম ভবনের ৫ম তলা

উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগ), ডিএমপি

আদালতের ভেতরের ডিসি অফিসডিসি প্রসিকিউশনডিসি প্রসিকিউশন অফিসকোর্ট পুলিশ অফিসপ্রসিকিউশন বিভাগ
কোথায়
সিজেএম ভবনের ৫ম তলা
প্রয়োজনীয় সময়
নির্দেশক: সাধারণ খোঁজখবর সাধারণত একই দিনে হয়ে যায়; লিখিত অভিযোগে বেশি সময় লাগে
ফি
খোঁজখবর বা অভিযোগের জন্য কোনো ফি প্রকাশিত নেই

সিএমএম আদালতের ভেতরের "ডিসি অফিস" একটি পুলিশ কার্যালয়। এর প্রধান ডিএমপির অপরাধ তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার, যিনি পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তা। কালেক্টরেটে বসা ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসকের (কালেক্টর) সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। ডিএমপির বর্ণনা অনুযায়ী এই বিভাগের কাজ হলো: নিম্ন আদালতে সরকারি মামলা পরিচালনা, আসামি ও সাক্ষী হাজির করা, আলামত উপস্থাপন এবং মামলার রেকর্ড সংরক্ষণ।

এর চারটি শাখা: প্রশাসন, প্রসিকিউশন পরিচালনা (পরিদর্শক, কোর্ট সাব-ইন্সপেক্টর, জিআরও ও নন-জিআরও), হাজতখানা এবং মালখানা। এর অধীন দপ্তরগুলো হলো জিআর অফিস, আদালতের হাজতখানা, আদালতের মালখানা ও পিআর অফিস। জেলা বিচার বিভাগের ফ্লোর-প্ল্যানে সিজেএম ভবনের ৫ম তলায়, মহানগর জিআর শাখার পাশে, "ডিসি প্রসিকিউশন" দেখানো আছে।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • কোর্ট পুলিশ বা জিআর অফিসারের বিলম্ব বা অসদাচরণ নিয়ে অভিযোগ করতে
  • পুলিশ অভিযোগপত্র (charge sheet) পাঠায়নি বা আসামি কিংবা সাক্ষী হাজির করেনি—এমন ক্ষেত্রে খোঁজ নিতে
  • আদালতের মালখানায় রাখা জব্দকৃত মালামাল সম্পর্কে জানতে
  • জিআর শাখা সাহায্য করতে না পারলে পুলিশের দিকের কাগজপত্র, যেমন ফরওয়ার্ডিং রিপোর্টের জন্য

সেখানে যা করবেন

  1. সিজেএম ভবনে যান (সরকারি নকশা অনুযায়ী ৫ম তলা) এবং ডিসি প্রসিকিউশনের কার্যালয় কোথায় জিজ্ঞেস করুন
  2. কর্তব্যরত কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনারকে মামলা নম্বর, থানা ও সমস্যাটি বুঝিয়ে বলুন
  3. দৈনন্দিন কাজ আবার জিআর শাখা বা কোর্ট ইন্সপেক্টরের কাছে ফেরত যায়; ডিসির কার্যালয় তত্ত্বাবধান করে এবং থানাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে

যা নিয়ে ফিরবেন

লিখিত দরখাস্ত দিলে তার গ্রহণ-কপিযে কর্মকর্তা বা জিআর ডেস্ক মামলাটি দেখছেন তাঁর নাম

মামলা ও বিষয়

  • সিএমএম আদালতগুলোতে ডিএমপির সব পুলিশি (জিআর) মামলা

কাগজপত্র

  • মামলা নম্বর ও থানা
  • এজাহার বা আদেশের কপি
  • অভিযোগ করলে লিখিত দরখাস্ত

যা এড়াবেন

  1. এই পুলিশ কার্যালয়কে জেলা প্রশাসকের (কালেক্টরের) কার্যালয় ভেবে গুলিয়ে ফেলা।
  2. মামলার সাধারণ প্রশ্ন জিআর ডেস্কে না নিয়ে এখানে নিয়ে আসা।

এখানে কারা কাজ করেন

উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ তথ্য ও প্রসিকিউশন), সিনিয়র এসি/এসি, পুলিশ পরিদর্শক, কোর্ট সাব-ইন্সপেক্টর (CSI), জিআরও

আইন

ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯২ ও ৪৯৫ (ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে পুলিশ কর্মকর্তার মামলা পরিচালনা; তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলা পরিচালনা করতে পারবেন না)ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৬
পরামর্শপুলিশি মামলার ব্যাপারে কেউ "ডিসি অফিসে যান" বললে তিনি এই পুলিশ কার্যালয়ের কথাই বলছেন। জমি, রাজস্ব বা ম্যাজিস্ট্রেটের লাইসেন্সের ব্যাপারে বললে বুঝবেন কালেক্টরেট।
মহানগর জিআর শাখা (জিআর অফিস / জিআরও)সিজেএম ভবনের ৫ম তলা

মেট্রোপলিটন জি আর শাখা

জিআর শাখাজিআর অফিসজিআরওজিআর
কোথায়
সিজেএম ভবনের ৫ম তলা
প্রয়োজনীয় সময়
নির্দেশক: জিআর নম্বর, আদালত ও পরবর্তী তারিখ সাধারণত একই দিনে জানা যায়
ফি
জিআর-সংক্রান্ত খোঁজখবরের কোনো ফি প্রকাশিত নেই

জিআর (জেনারেল রেজিস্টার) মামলা হলো পুলিশের এজাহারের ভিত্তিতে শুরু হওয়া মামলা। ঢাকা মহানগরে প্রতিটি জিআর মামলার পুলিশের দিকের নথি দেখেন একজন জিআর অফিসার (GRO)—ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগে নিয়োজিত একজন পুলিশ উপ-পরিদর্শক।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে হাজির করা হলে জিআরও ফরওয়ার্ডিং রিপোর্ট গ্রহণ করেন, মামলার কাগজপত্রের পুলিশি কপি রাখেন, অভিযোগপত্র ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন (final report) গ্রহণ করেন, সাক্ষী ও কাগজপত্র হাজির করেন এবং ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত থাকেন। সরকারি ফ্লোর-প্ল্যানে দেখা যায়, সিজেএম ভবনের ৫ম তলার বেশির ভাগ জুড়ে মহানগর জিআর শাখা। আলাদা আলাদা ডেস্ক আছে, সাধারণত থানা অনুযায়ী ভাগ করা।

নালিশি ও অন্যান্য অ-পুলিশি মামলা দেখেন "নন-জিআর" কর্মকর্তারা।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • পুলিশি মামলার জিআর নম্বর ও আদালত জানতে
  • অভিযোগপত্র বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়েছে কি না যাচাই করতে
  • গ্রেপ্তারের পর ফরওয়ার্ডিং (হাজিরের) কাগজপত্র খুঁজতে
  • সাক্ষীর ঠিকানা দিতে, বা সাক্ষীকে কেন সমন দেওয়া হয়নি জানতে

সেখানে যা করবেন

  1. থানা এবং এজাহার নম্বর ও তারিখ জেনে নিন
  2. ওই থানার জিআর ডেস্কে যান (নকশা অনুযায়ী সিজেএম ভবনের ৫ম তলা)
  3. জিআরও রেজিস্টার দেখে আপনাকে জিআর নম্বর, আদালত ও পরবর্তী তারিখ জানাবেন
  4. এরপর আপনার আইনজীবী আদালতের নথি তল্লাশি করে নকলের দরখাস্ত করবেন

যা নিয়ে ফিরবেন

জিআর নম্বরআদালত নম্বর ও পরবর্তী তারিখঅভিযোগপত্র বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়েছে কি না

মামলা ও বিষয়

  • ডিএমপির থানাগুলোর পুলিশি (এজাহারভিত্তিক) মামলা
  • গ্রেপ্তার ও হাজিরের মামলা

কাগজপত্র

  • এজাহার নম্বর, তারিখ ও থানা
  • আসামির নাম
  • আইনজীবীর স্লিপ

যা এড়াবেন

  1. ভুল থানা বা এজাহার নম্বর দেওয়া।
  2. জেলা পুলিশের মামলা নিয়ে মহানগর জিআর ডেস্কে যাওয়া; জেলার জিআর ডেস্ক ৪র্থ তলায়।

এখানে কারা কাজ করেন

ডিসি (প্রসিকিউশন)-এর অধীন জিআর অফিসার (পুলিশের এসআই পদমর্যাদা) ও কোর্ট সাব-ইন্সপেক্টরগণ

আইন

ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৫৪, ১৬৭, ১৭৩পুলিশ রেগুলেশনস, বেঙ্গল (Police Regulations Bengal) (কোর্ট অফিসারের দায়িত্ব)
পরামর্শএজাহারে যেভাবে লেখা আছে ঠিক সেভাবে এজাহার নম্বর লিখে নিন, যেমন "কোতোয়ালি থানার মামলা নং ১২, তারিখ ..."। জিআর ডেস্কে থানা ও নম্বর দিয়ে খোঁজা হয়।
আদালতের হাজতখানা (lock-up)সিজেএম ভবনের ২য় তলা; নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনের ২য় তলা। সিএমএম হাজতখানা প্রকাশিত তালিকায় নেই

হাজতখানা

হাজতহাজতখানাকোর্ট হাজত
কোথায়
সিজেএম ভবনের ২য় তলা; নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনের ২য় তলা। সিএমএম হাজতখানা প্রকাশিত তালিকায় নেই
প্রয়োজনীয় সময়
নির্দেশক: বন্দিরা সাধারণত সকালে আসেন এবং দিনের শুনানি শেষে কারাগারে ফেরেন
ফি
কোনো ফি প্রকাশিত নেই; হাজতখানার ফটকে কাউকে টাকা দেবেন না

হাজতখানা হলো সেই কক্ষ, যেখানে আদালতের দিনগুলোতে গ্রেপ্তার ও বিচারাধীন বন্দিদের রাখা হয়। তাঁদের থানা থেকে, অথবা কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে এখানে আনা হয়। আদালত না ডাকা পর্যন্ত বন্দিরা এখানে অপেক্ষা করেন এবং আদেশের পর আবার এখানে ফেরেন, তারপর কারাগারে ফেরত যান বা মুক্তি পান। মহানগর আদালতে হাজতখানা চালায় ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের হাজতখানা শাখা।

২০২৩ সালের পুলিশ সদর দপ্তরের এক পর্যালোচনায় দেখা যায়, সিএমএম হাজতখানার দায়িত্বে একজন এসআই, এবং সেখানে সিএমএম ও মহানগর দায়রা আদালতের হাজতখানার জন্য অন্তত এসি পদমর্যাদার কর্মকর্তা রাখার সুপারিশ করা হয়। ওই পর্যালোচনায় সিজেএম ভবনের উত্তর পাশে সিএমএম হাজতখানার ফটকের কথাও আছে। সরকারি নকশায় সিজেএম ভবনে এবং নতুন জেলা জজ আদালত ভবনেও হাজতখানা দেখানো আছে।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • পরিবারের সদস্যরা আসামিকে দেখতে বা খাবার কিংবা কাপড় পৌঁছে দিতে চান
  • আইনজীবীর মক্কেলের সঙ্গে দেখা করা বা ওকালতনামায় সই নেওয়া দরকার
  • বন্দিকে আসলেই আদালতে আনা হয়েছে কি না জানতে

সেখানে যা করবেন

  1. জিআর অফিসার বা আইনজীবীর কাছে জিজ্ঞেস করুন আসামিকে আনা হয়েছে কি না ("হাজিরা")
  2. হাজতখানার ফটকে যান। প্রবেশ পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করে, এবং ভেতরে দেওয়া যেকোনো জিনিস তল্লাশি করা হয়
  3. আইনজীবী হাজতখানার কর্মীদের মাধ্যমে ওকালতনামায় সই করিয়ে নিতে পারেন
  4. আদেশের পর আসামি হাজতখানায় ফিরে কারাগারে যান, অথবা আদালতের মুক্তির আদেশে ছাড়া পান

যা নিয়ে ফিরবেন

সই করা ওকালতনামা (আইনজীবীর মাধ্যমে)বন্দিকে হাজির করা হয়েছে—এই নিশ্চয়তা

মামলা ও বিষয়

  • রিমান্ড ও জামিনের জন্য হাজির
  • বন্দিদের বিচারের তারিখ

কাগজপত্র

  • দর্শনার্থীর পরিচয়পত্র
  • সইয়ের জন্য ওকালতনামা
  • মামলা নম্বর

যা এড়াবেন

  1. পুলিশ অনুমতি দেয় না এমন খাবার বা জিনিস দেওয়া।
  2. আলাদা সাক্ষাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া কাউকে টাকা দেওয়া।
  3. যে মুক্তি কারাগার থেকে হয়, তার জন্য আদালতে অপেক্ষা করা।

এখানে কারা কাজ করেন

ডিএমপি প্রসিকিউশন বিভাগের হাজতখানা শাখা (পরিদর্শক/এসআই, কনস্টেবল); কারা প্রহরী

আইন

ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৬১ ও ১৬৭ (২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাজির)জেল কোড (Jail Code) (প্রহরা ও হেফাজত)
পরামর্শপুলিশ যা অনুমতি দেয় শুধু তা-ই আনুন। ভেতরে দেওয়া খাবার ও জিনিসপত্র তল্লাশি করা হয়; সংবাদমাধ্যমে বন্দিদের পাঠানো খাবারে লুকানো মাদক পাওয়ার খবর এসেছে।
চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকাসিজেএম ও অতিরিক্ত সিজেএম: ৩য় তলা (কক্ষ ৩০১-৩০২); সিনিয়র জুডিশিয়াল ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট: ৬ষ্ঠ ও ৭ম তলা (কক্ষ ৬০১-৬০৪, ৭০১-৭০৪), সিজেএম ভবন

চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা

সিজেএম কোর্টসিজেএমজেলা ম্যাজিস্ট্রেসি আদালত
কোথায়
সিজেএম ও অতিরিক্ত সিজেএম: ৩য় তলা (কক্ষ ৩০১-৩০২); সিনিয়র জুডিশিয়াল ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট: ৬ষ্ঠ ও ৭ম তলা (কক্ষ ৬০১-৬০৪, ৭০১-৭০৪), সিজেএম ভবন
প্রয়োজনীয় সময়
নির্দেশক: শুনানি অল্প সময়ের, তবে সকালের বেশির ভাগ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে
ফি
জামিননামা: কোনো কোর্ট ফি নেই (কোর্ট-ফি আইন, ১৮৭০-এর ধারা ১৯(xv)); দরখাস্ত ও আবেদন: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন

কোতোয়ালির ১৮ জনসন রোডে অবস্থিত সিজেএম আদালত, ঢাকা হলো মহানগর এলাকার বাইরের ঢাকা জেলার প্রথম পর্যায়ের ফৌজদারি আদালত। পোর্টালে সাভার মডেল, দোহার, নবাবগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ মডেল, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, আশুলিয়া ও ধামরাই থানার আমলি আদালত, সঙ্গে রেলওয়ে, নন-জিআর ও মোটরযান মামলার আদালতের তালিকা আছে। সিজেএম বসেন ৩০১ নম্বর কক্ষে এবং অতিরিক্ত সিজেএম ৩০২ নম্বর কক্ষে।

সিনিয়র জুডিশিয়াল ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা বসেন ৬০১-৬০৪ ও ৭০১-৭০৪ নম্বর কক্ষে। ডিএমপির থানাগুলোর জন্য সিএমএম আদালত যা করে, জেলার থানাগুলোর জন্য এই আদালত তা-ই করে: হাজির, রিমান্ড, জামিন, আমলে গ্রহণ, নালিশি মামলা ও বিচার; দায়রায় বিচার্য মামলা পাঠানো হয় জেলা ও দায়রা জজের কাছে।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • অপরাধটি সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই, কেরানীগঞ্জ, দোহার বা নবাবগঞ্জে ঘটেছে
  • ডিএমপি এলাকার বাইরের কোনো অপরাধ নিয়ে নালিশি (সিআর) মামলা
  • রেলওয়ে পুলিশের মামলা

সেখানে যা করবেন

  1. ঘটনাস্থলের থানা কোনটি তা নির্ধারণ করুন
  2. ওই থানার আমলি আদালত খুঁজে নিন (পোর্টালে কক্ষের তালিকা আছে)
  3. সেখানেই হাজির, জামিন বা নালিশের শুনানি হয়
  4. দায়রায় বিচার্য মামলা জেলা ও দায়রা জজের কাছে পাঠানো হয়

যা নিয়ে ফিরবেন

আদেশনামায় আদেশপরবর্তী তারিখজামিন মঞ্জুর হলে কারাগারে পাঠানো মুক্তির আদেশ

মামলা ও বিষয়

  • জেলার থানাগুলোর পুলিশি (জিআর) মামলা
  • মহানগর এলাকার বাইরের নালিশি (সিআর) মামলা
  • রেলওয়ে ও মোটরযান মামলা
  • দ্রুত বিচার আইনের মামলা (একজন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেওয়া আছে)

কাগজপত্র

  • এজাহার বা নালিশ
  • ওকালতনামা
  • জামিনের দরখাস্ত
  • জামিনদারের পরিচয়পত্র

যা এড়াবেন

  1. সাভার, কেরানীগঞ্জ বা জেলার অন্য থানার মামলা নিয়ে সিএমএম আদালতে যাওয়া।
  2. থানাটি কোন আমলি আদালতের অধীন তা যাচাই না করা।

এখানে কারা কাজ করেন

চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত সিজেএম, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ

আইন

ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪, ১২, ১৯০, ২০০বিচার বিভাগ পৃথককরণ-সংক্রান্ত ফৌজদারি কার্যবিধির সংশোধনী (২০০৭)
পরামর্শঅনেকে ভুল করে সিএমএম আদালতে চলে যান। থানা যদি ডিএমপির বাইরে হয় (যেমন সাভার বা কেরানীগঞ্জ), তাহলে মামলা সিজেএম আদালতে।
জেলা জিআর শাখা ও কোর্ট ইন্সপেক্টর (সিজেএম ভবন)সিজেএম ভবনের ৪র্থ তলা (কেরানীগঞ্জ মডেল, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ মডেল, সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই জিআর শাখা; পুলিশ পরিদর্শকের কক্ষ)

জেলা জি আর শাখা ও কোর্ট ইন্সপেক্টর

সাভার জিআরকেরানীগঞ্জ জিআরকোর্ট ইন্সপেক্টরসিএসআই
কোথায়
সিজেএম ভবনের ৪র্থ তলা (কেরানীগঞ্জ মডেল, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ মডেল, সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই জিআর শাখা; পুলিশ পরিদর্শকের কক্ষ)
প্রয়োজনীয় সময়
নির্দেশক: একই দিনে
ফি
জিআর-সংক্রান্ত খোঁজখবরের কোনো ফি প্রকাশিত নেই

জেলা পুলিশের মামলায় পুলিশের প্রসিকিউশনের দিকটি চালায় ঢাকা জেলা পুলিশ, ডিএমপি নয়। এর প্রধান একজন কোর্ট ইন্সপেক্টর (প্রশাসন), এবং প্রতিটি জিআর শাখা চালান কোর্ট সাব-ইন্সপেক্টররা (CSI)। বিচার বিভাগের ই-ডিরেক্টরিতে সাভার মডেল, আশুলিয়া, ধামরাই, কেরানীগঞ্জ মডেল, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, দোহার, নবাবগঞ্জ ও ঢাকা রেলওয়ে থানার জিআর শাখা, সঙ্গে নন-জিআর (উত্তর) ও (দক্ষিণ)-এর তালিকা আছে।

ফ্লোর-প্ল্যান অনুযায়ী কেরানীগঞ্জ, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই জিআর শাখা, পুলিশ পরিদর্শকের কক্ষ, একটি "সিডি শাখা" ও নকলখানা সিজেএম ভবনের ৪র্থ তলায়।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • এজাহার নম্বর দিয়ে জেলা পুলিশের মামলার খোঁজ নিতে
  • অভিযোগপত্রের অবস্থা যাচাই করতে
  • সাক্ষী হাজিরের ব্যবস্থা করতে

সেখানে যা করবেন

  1. আপনার থানার জিআর ডেস্কে যান
  2. এজাহার নম্বর ও তারিখ দিন
  3. জিআর নম্বর, আদালত ও পরবর্তী তারিখ লিখে নিন

যা নিয়ে ফিরবেন

জিআর নম্বরআদালত নম্বর ও পরবর্তী তারিখ

মামলা ও বিষয়

  • জেলা পুলিশের (জিআর) মামলা

কাগজপত্র

  • এজাহার নম্বর, থানা, তারিখ

যা এড়াবেন

  1. জেলার মামলা নিয়ে ৫ম তলার মহানগর জিআর ডেস্কে যাওয়া।
  2. ই-ডিরেক্টরির মোবাইল নম্বর হালনাগাদ কি না যাচাই না করেই ফোন করা।

এখানে কারা কাজ করেন

ঢাকা জেলা পুলিশের কোর্ট ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) ও সিএসআইগণ

আইন

ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯২, ৪৯৫পুলিশ রেগুলেশনস, বেঙ্গল
পরামর্শকর্মকর্তাদের মোবাইল নম্বর বিচার বিভাগের ই-ডিরেক্টরিতে ("কোর্ট পুলিশ") প্রকাশিত আছে। বদলি হলে নম্বর বদলায়, তাই ফোন করার আগে যাচাই করে নিন।
সিজেএম দপ্তরসমূহ: রেকর্ড রুম, নেজারত, ডেসপাচ, নকল, মালখানাসিজেএম ভবনের ২য় তলা (রেকর্ড রুম, নেজারত, ডেসপাচ, জুডিশিয়াল মুন্সিখানা, সাক্ষীদের অপেক্ষাকক্ষ), ৩য় তলা (হিসাব, লাইব্রেরি) ও ৪র্থ তলা (নকলখানা)

রেকর্ড রুম, নেজারত, ডেসপাচ, নকলখানা

সিজেএম রেকর্ড রুমসিজেএম নেজারতসিজেএম নকলখানা
কোথায়
সিজেএম ভবনের ২য় তলা (রেকর্ড রুম, নেজারত, ডেসপাচ, জুডিশিয়াল মুন্সিখানা, সাক্ষীদের অপেক্ষাকক্ষ), ৩য় তলা (হিসাব, লাইব্রেরি) ও ৪র্থ তলা (নকলখানা)
প্রয়োজনীয় সময়
নির্দেশক: রেজিস্টার যাচাই একই দিনে; নকল অন্য যেকোনো নকল শাখার মতোই
ফি
তফসিল অনুযায়ী নকল ও তল্লাশির ফি; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন

সিজেএম ভবনের সরকারি ফ্লোর-প্ল্যানে ২য় তলায় দেখানো আছে: ক্যান্টিন, হাজতখানা, সাক্ষীদের অপেক্ষাকক্ষ, রেকর্ড রুম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, নেজারত, ডেসপাচ শাখা, জুডিশিয়াল মুন্সিখানা ও কম্পিউটার অপারেটর। ৩য় তলায় অতিরিক্ত সিজেএমের আদালত, হিসাব শাখা ও লাইব্রেরি, আর ৪র্থ তলায় নকলখানা। সিজেএমের কার্যবণ্টন অনুযায়ী রেকর্ড রুম, নকল বিভাগ ও মালখানা, নেজারত, হাজতখানা এবং ফরম ও স্টেশনারির দায়িত্বে নির্দিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটরা আছেন।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • জেলার ফৌজদারি মামলার নকল বা নথি
  • প্রসেস ও মুক্তির আদেশ
  • সাক্ষীর অপেক্ষা

সেখানে যা করবেন

  1. সিএমএম দপ্তরগুলোর মতোই ধাপ অনুসরণ করুন; সিজেএম ভবনে গিয়ে নকশায় দেখানো তলায় যান

যা নিয়ে ফিরবেন

নকলের রসিদ ও সরবরাহের তারিখসার্টিফায়েড কপিডেসপাচের বিবরণ

মামলা ও বিষয়

  • সিজেএম আদালতগুলোর ফৌজদারি মামলা

কাগজপত্র

  • মামলা নম্বর ও আদালত
  • নকলের দরখাস্ত ও স্ট্যাম্প

যা এড়াবেন

  1. সিজেএম মামলার নকলের দরখাস্ত সিএমএম নকল শাখায় করা।
  2. সাক্ষীদের অপেক্ষাকক্ষ খুঁজে না পেয়ে সারা দিন বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা।

এখানে কারা কাজ করেন

প্রতিটি শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটদের অধীনে সিজেএম আদালতের কর্মচারীরা

আইন

ক্রিমিনাল রুলস অ্যান্ড অর্ডারস
পরামর্শ২য় তলায় সাক্ষীদের একটি অপেক্ষাকক্ষ আছে। ডাক না আসা পর্যন্ত সাক্ষীরা সেখানে অপেক্ষা করতে পারেন।
জেলা প্রশাসক ও কালেক্টর, ঢাকা; এডিসি (রাজস্ব) ও রাজস্ব আদালতজেলা প্রশাসকের কার্যালয় (কালেক্টরেট)

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ঢাকা (কালেক্টরেট)

ডিসি অফিসকালেক্টরেটজেলা প্রশাসকএডিসি রাজস্বআরডিসি
কোথায়
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (কালেক্টরেট)
প্রয়োজনীয় সময়
নির্দেশক: আপিল এক দিনেই দাখিল হয়; শুনানিতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস লাগে
ফি
তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন

জেলা প্রশাসক (DC) জেলা প্রশাসনের প্রধান। তিনি ভূমি রাজস্বের ক্ষেত্রে কালেক্টর এবং প্রধান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। এটি বাংলাদেশ প্রশাসনিক সার্ভিসের একটি সরকারি দপ্তর—বিচার বিভাগের আদালত নয়, পুলিশও নয়। এর রাজস্ব আদালত নামজারি ও রেকর্ড সংশোধন বিষয়ে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) আদেশের বিরুদ্ধে আপিল, রিভিশন ও রিভিউ শোনে।

কালেক্টরের আপিল ক্ষমতা প্রয়োগ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), আর রাজস্ব শাখাকে সহায়তা করেন রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (RDC)। এরপর আপিল বা রিভিশন যায় বিভাগীয় কমিশনারের কাছে (রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ধারা ১৪৭-১৪৯), তারপর ভূমি আপিল বোর্ডে। জমি নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে মোকদ্দমার আগের নোটিশও জেলা প্রশাসককে দিতে হয়, এবং দপ্তরের দেওয়ানি মামলা শাখা জিপির সঙ্গে সমন্বয় করে মামলার জবাব দেয়।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • এসি ল্যান্ডের নামজারির আদেশের বিরুদ্ধে আপিল
  • খাস জমি, বন্দোবস্ত বা ইজারা-সংক্রান্ত বিষয়
  • সরকারের বিরুদ্ধে মোকদ্দমার আগে কালেক্টরকে নোটিশ দেওয়া
  • ভূমি অধিগ্রহণ, সার্টিফিকেট মামলা, লাইসেন্স ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি (সংশ্লিষ্ট অংশগুলো দেখুন)

সেখানে যা করবেন

  1. এসি ল্যান্ডের আদেশের ৩০ দিনের মধ্যে সার্টিফায়েড কপি ও আপিলের কারণসহ বিবিধ আপিল দাখিল করুন
  2. এডিসি (রাজস্ব)-এর আদালতে আপিল নিবন্ধিত হয় এবং প্রতিপক্ষকে নোটিশ দেওয়া হয়
  3. শুনানি; আদেশ বহাল, সংশোধন বা পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত
  4. এরপর বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আপিল বা রিভিশন, তারপর ভূমি আপিল বোর্ড

যা নিয়ে ফিরবেন

আপিল (বিবিধ মামলা) নম্বরশুনানির তারিখআদেশ বহাল, সংশোধন বা পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরতের আদেশ

মামলা ও বিষয়

  • নামজারির আপিল ও রিভিশন (রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ধারা ১৪৭-১৫০)
  • ধারা ১৪৩ অনুযায়ী রেকর্ড সংশোধন
  • খাস জমি ও ইজারা
  • সরকারের পক্ষে দেওয়ানি মামলার সমন্বয়

কাগজপত্র

  • এসি ল্যান্ডের আদেশের সার্টিফায়েড কপি
  • আপিলের মেমো
  • খতিয়ান, দলিল, ডিসিআর, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ
  • ওকালতনামা

যা এড়াবেন

  1. এসি ল্যান্ডের আদেশের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের আপিলের মেয়াদ পার করে ফেলা।
  2. রাজস্ব আদালত মালিকানা নির্ধারণ করবে বলে আশা করা।
  3. আদেশের সার্টিফায়েড কপি ছাড়া দাখিল করা।

এখানে কারা কাজ করেন

জেলা প্রশাসক ও কালেক্টর; অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব); রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর; কর্মচারীরা

আইন

রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৩, ১৪৭-১৫১ভূমি আপিল বোর্ড আইন, ১৯৮৯দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৮০ ও আদেশ ২৭
পরামর্শরাজস্ব আদালত রেকর্ড নির্ধারণ করে, মালিকানা নয়। স্বত্ব, বাঁটোয়ারা ও দখলের বিরোধ যায় দেওয়ানি আদালতে, আর চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত খতিয়ানের ভুল যায় ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও মোবাইল কোর্টজেলা প্রশাসকের কার্যালয় (কালেক্টরেট)

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও মোবাইল কোর্ট

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটইএম কোর্টমোবাইল কোর্টভ্রাম্যমাণ আদালত১৪৪ ধারার মামলা১৪৫ ধারার মামলা
কোথায়
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (কালেক্টরেট)
প্রয়োজনীয় সময়
নির্দেশক: কার্যক্রমের ধরনের ওপর নির্ভর করে; মোবাইল কোর্টের আদেশ ঘটনাস্থলেই হয়
ফি
তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন; মোবাইল কোর্টের জরিমানা: আদেশে উল্লিখিত অঙ্ক

২০০৭ সালে বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক হওয়ার পর থেকে জেলা প্রশাসকের অধীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা আর সাধারণ ফৌজদারি মামলার বিচার করেন না। ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে তাঁদের প্রতিরোধমূলক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা রয়ে গেছে, যেমন শান্তি রক্ষার জন্য মুচলেকা (ধারা ১০৭), গণ-উপদ্রব অপসারণ (ধারা ১৩৩), জরুরি আদেশ (ধারা ১৪৪) এবং শান্তিভঙ্গের আশঙ্কাযুক্ত জমির বিরোধ (ধারা ১৪৫)।

তাঁরা মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ অনুযায়ী মোবাইল কোর্টও পরিচালনা করেন, যা আসামি অপরাধ স্বীকার করলে তফসিলভুক্ত অপরাধের জন্য ঘটনাস্থলেই দণ্ড দিতে পারে। মোবাইল কোর্টের দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল প্রথমে যায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে, তারপর দায়রা জজের কাছে (ধারা ১৩)। ২০১৭ সালের মে মাসে হাইকোর্ট বিভাগ আইনটির কয়েকটি বিধান অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন।

আপিল বিভাগ সেই রায় স্থগিত করেন এবং ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে সরকারের আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মোবাইল কোর্ট চালু রাখার আদেশ দেন। ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত আপিল বিভাগের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। ঢাকা মহানগর এলাকার ভেতরে সমাবেশ নিষিদ্ধ করার আইনগত ক্ষমতা ডিএমপি কমিশনারেরও আছে। দাখিলের আগে কার এখতিয়ার তা যাচাই করুন।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • জমির দখল নিয়ে বিরোধে সহিংসতার আশঙ্কা (ধারা ১৪৫-এর কার্যক্রম)
  • প্রতিবেশীর গণ-উপদ্রব (ধারা ১৩৩)
  • মোবাইল কোর্টের জরিমানা দিতে বা মোবাইল কোর্টের দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করতে

সেখানে যা করবেন

  1. ঘটনা ও কাগজপত্রসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দরখাস্ত
  2. প্রতিপক্ষকে নোটিশ; পুলিশ প্রতিবেদন তলব করা হতে পারে
  3. শুনানি ও আদেশ
  4. মোবাইল কোর্টের দণ্ড: প্রথমে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আপিল (তিনি তা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠাতে পারেন), তারপর দায়রা জজের কাছে (মোবাইল কোর্ট আইনের ধারা ১৩)

যা নিয়ে ফিরবেন

মামলা নম্বর ও আদেশজরিমানা দিলে তার রসিদ

মামলা ও বিষয়

  • ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৭, ১৩৩, ১৪৪, ১৪৫-এর কার্যক্রম (ভিন্নভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত না হলে মহানগর এলাকার বাইরে)
  • মোবাইল কোর্টের মামলা
  • ম্যাজিস্ট্রেটের অনুসন্ধান

কাগজপত্র

  • দরখাস্ত
  • স্বত্ব ও দখলের কাগজপত্র
  • পুলিশ প্রতিবেদন (যদি থাকে)

যা এড়াবেন

  1. মোবাইল কোর্টের দণ্ডের বিরুদ্ধে প্রথমে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে না গিয়ে সরাসরি দায়রা জজের কাছে আপিল করা।
  2. ধারা ১৪৫-এর আদেশকে স্বত্বের প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া।

এখানে কারা কাজ করেন

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (জেলা প্রশাসক), অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ

আইন

ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১০৭, ১৩৩, ১৪৪, ১৪৫ (২০০৭ সালে সংশোধিত)মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর ধারা ৬-৭, ১৩ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৬
পরামর্শধারা ১৪৫-এর আদেশ শুধু দখল নিয়ে শান্তি বজায় রাখে। এটি স্বত্ব নির্ধারণ করে না, তাই দেওয়ানি মোকদ্দমা তবুও লাগবে।
সার্টিফিকেট মামলা (সরকারি পাওনা আদায়)জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (কালেক্টরেট)

সার্টিফিকেট মামলা (সরকারি দাবি আদায়)

সার্টিফিকেট মামলাপিডিআর মামলাসার্টিফিকেট অফিসার
কোথায়
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (কালেক্টরেট)
প্রয়োজনীয় সময়
নির্দেশক: শুনানিতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস লাগে; আইনগত সময়সীমা ধারা ৯-এর দরখাস্তের জন্য ৩০ দিন এবং আপিলের জন্য ১৫ দিন (ধারা ৫১)
ফি
তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন

সরকারি সংস্থা ও তালিকাভুক্ত ঋণদাতারা দেওয়ানি মোকদ্দমা ছাড়াই সার্টিফিকেট মামলার মাধ্যমে "সরকারি পাওনা" আদায় করে। যেমন বকেয়া ভূমি উন্নয়ন কর, রাষ্ট্রীয় সংস্থার ঋণ ও কিছু ব্যাংকের পাওনা। সার্টিফিকেট অফিসার—যিনি কালেক্টর নিজে বা কালেক্টর-নিযুক্ত কোনো কর্মকর্তা হতে পারেন—একটি সার্টিফিকেটে সই করেন (ধারা ৪, অথবা ধারা ৫-এর রিকুইজিশনের ভিত্তিতে ধারা ৬) এবং দেনাদারকে নোটিশ দেন (ধারা ৭)।

দেনাদার ৩০ দিনের মধ্যে সত্যপাঠযুক্ত দরখাস্ত দিয়ে দায় অস্বীকার করতে পারেন (ধারা ৯)। আপিল যায় ১৫ দিনের মধ্যে কালেক্টরের কাছে, তারপর ৩০ দিনের মধ্যে কমিশনারের কাছে (ধারা ৫১), আর রিভিশন চলে কালেক্টর ও বিভাগীয় কমিশনারের কাছে (ধারা ৫৩)। ধারা ৫৩(৩)-এ উল্লিখিত ভূমি প্রশাসন বোর্ড ভূমি আপিল বোর্ড আইন, ১৯৮৯ দ্বারা বিলুপ্ত হয়েছে।

কারণ দর্শানোর শুনানির পরেই কেবল দেনাদারকে গ্রেপ্তার করে দেওয়ানি কারাগারে আটক রাখা যায় (ধারা ২৯-৩১), আর দেনাদার নারী হলে তা করা যায় না (ধারা ৩৩)। সার্টিফিকেট বাতিলের মোকদ্দমা ছয় মাসের মধ্যে দেওয়ানি আদালতে করা যায় (ধারা ৩৪)।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • আপনি ধারা ৭-এর সার্টিফিকেট নোটিশ পেয়েছেন
  • পরোয়ানা ঠেকাতে আপত্তি, আপিল বা পরিশোধ করতে
  • কোনো সরকারি সংস্থা বা ব্যাংক পিডিআর পদ্ধতি ব্যবহার করছে

সেখানে যা করবেন

  1. ধারা ৭-এর নোটিশ পড়ুন এবং জারির তারিখ লিখে রাখুন
  2. ৩০ দিনের মধ্যে দায় অস্বীকার করে ধারা ৯-এর দরখাস্ত দাখিল করুন
  3. সার্টিফিকেট অফিসারের সামনে শুনানি
  4. আদেশের ১৫ দিনের মধ্যে কালেক্টরের কাছে আপিল (ধারা ৫১)
  5. প্রয়োজনে সার্টিফিকেট রদের জন্য ছয় মাসের মধ্যে দেওয়ানি মোকদ্দমা (ধারা ৩৪)

যা নিয়ে ফিরবেন

ধারা ৯-এর দরখাস্তের গ্রহণ-কপিসার্টিফিকেট অফিসারের আদেশপাওনা বাবদ পরিশোধের রসিদ

মামলা ও বিষয়

  • বকেয়া ভূমি উন্নয়ন কর
  • সরকারি ঋণ ও পাওনা আদায়
  • রিকুইজিশনকৃত সরকারি পাওনা

কাগজপত্র

  • ধারা ৭-এর নোটিশ
  • পরিশোধের রসিদ
  • ঋণের কাগজপত্র
  • সত্যপাঠযুক্ত দরখাস্ত

যা এড়াবেন

  1. ধারা ৯-এর ৩০ দিনের সময়সীমা পার করে ফেলা।
  2. সরকারি রসিদ ছাড়া টাকা দেওয়া।
  3. পরোয়ানা না আসা পর্যন্ত নোটিশ উপেক্ষা করা।

এখানে কারা কাজ করেন

সার্টিফিকেট অফিসার (জেনারেল সার্টিফিকেট অফিসার); আপিলে কালেক্টর/এডিসি

আইন

সরকারি পাওনা আদায় আইন, ১৯১৩-এর ধারা ৩(৩), ৪-৭, ৯, ২৯-৩৪, ৩৭, ৫১, ৫৩
পরামর্শধারা ৯-এর ৩০ দিনের সময়সীমা গুরুত্বপূর্ণ। যথাযথ কারণ ছাড়া তা পার হলে ধারা ৩৪-এর দেওয়ানি মোকদ্দমার অধিকার হারাতে পারেন।
ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখাজেলা প্রশাসকের কার্যালয় (কালেক্টরেট)

ভূমি অধিগ্রহণ শাখা

এলএ শাখাএলএ মামলাক্ষতিপূরণ
কোথায়
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (কালেক্টরেট)
প্রয়োজনীয় সময়
নির্দেশক: অধিগ্রহণ কয়েক মাস ধরে চলে; রোয়েদাদের পর টাকা পেতে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে
ফি
অধিগ্রহণ আইনের অধীন ক্ষতিপূরণের দরখাস্ত: কোনো কোর্ট ফি নেই (কোর্ট-ফি আইন, ১৮৭০-এর ধারা ১৯(xxii))

এলএ শাখা স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭ অনুযায়ী ঢাকা জেলায় সরকারি প্রকল্পের জন্য বাধ্যতামূলক অধিগ্রহণ পরিচালনা করে। এটি ধারা ৪-এর নোটিশ জারি করে, আপত্তি শোনে, যৌথ জরিপ করে, রোয়েদাদ (award) দেয় এবং বাজারমূল্যের সঙ্গে আইনানুগ অতিরিক্ত অর্থসহ ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করে।

রোয়েদাদ নিয়ে আপত্তি থাকলে মালিক আপত্তি জানিয়ে (under protest) টাকা নেন এবং আইনানুগ সালিশকারীর (Arbitrator) কাছে আবেদন করেন—যিনি যুগ্ম জেলা জজ বা তার ঊর্ধ্বতন পদমর্যাদার একজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা; এরপর আপিল চলে আরবিট্রেশন আপিলেট ট্রাইব্যুনালে। সাধারণ দেওয়ানি মোকদ্দমা বারিত। ঢাকা জজশিপের তালিকায় একটি "যুগ্ম জেলা জজ সালিশি আদালত" আছে।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • আপনার জমি অধিগ্রহণ নোটিশের আওতায়
  • আপত্তি দাখিল করতে
  • ক্ষতিপূরণ (চেক) দাবি করতে এবং মালিকানার কাগজ জমা দিতে
  • এলএ মামলা নম্বর ও রোয়েদাদ যাচাই করতে

সেখানে যা করবেন

  1. ধারা ৪-এর নোটিশের জবাব দিন; সময়মতো আপত্তি দাখিল করুন
  2. যৌথ জরিপ ও প্রাক্কলন
  3. রোয়েদাদ এবং ক্ষতিপূরণ দাবির নোটিশ
  4. স্বত্বের কাগজসহ দাবি জমা দিন এবং টাকা নিন (আপত্তি থাকলে আপত্তি জানিয়ে)
  5. আইনানুগ মেয়াদের মধ্যে সালিশকারীর কাছে আবেদন করুন

যা নিয়ে ফিরবেন

এলএ মামলা নম্বররোয়েদাদের নোটিশক্ষতিপূরণের টাকা (রোয়েদাদে আপত্তি থাকলে আপত্তি জানিয়ে)

মামলা ও বিষয়

  • ভূমি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল
  • ক্ষতিপূরণ বিতরণ

কাগজপত্র

  • খতিয়ান (সিএস/এসএ/আরএস/সিটি জরিপ)
  • স্বত্বের দলিল ও নামজারি খতিয়ান
  • ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ
  • ওয়ারিশ সনদ
  • জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি

যা এড়াবেন

  1. দালাল ধরা।
  2. রোয়েদাদে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও আপত্তি না জানিয়ে ক্ষতিপূরণ নেওয়া।
  3. আপত্তি দাখিল বা সালিশকারীর কাছে আবেদনের মেয়াদ পার করে ফেলা।

এখানে কারা কাজ করেন

জেলা প্রশাসকের অধীন ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা

আইন

স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭
পরামর্শদালাল ধরবেন না। নিজে বা আপনার আইনজীবীর মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দাবি করুন, এবং প্রতিটি কর্তন রোয়েদাদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।
ডিসি রেকর্ড রুম (ভূমি রেকর্ড, খতিয়ানের নকল)জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (কালেক্টরেট)

রেকর্ড রুম, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়

রেকর্ড রুমখতিয়ানের নকলপর্চামৌজা ম্যাপ
কোথায়
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (কালেক্টরেট)
প্রয়োজনীয় সময়
নির্দেশক: ঢাকার সময়সীমা প্রকাশিত নেই; যশোরের ডিসি অফিস জরুরি নকল ৭ কার্যদিবসে ও সাধারণ নকল ১৫ কার্যদিবসে দেয়
ফি
তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / চালান; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন

ডিসি অফিসের রেকর্ড রুমে জেলার জরিপভিত্তিক স্বত্বলিপি, যেমন সিএস, এসএ, আরএস ও সিটি জরিপের খতিয়ান, সঙ্গে মৌজা ম্যাপ ও পুরোনো রাজস্ব মামলার নথি রাখা হয়। কোর্ট ফি দিয়ে দরখাস্ত করলে এখান থেকে সার্টিফায়েড কপি দেওয়া হয়।

সারা দেশের ডিসি রেকর্ড রুম একই কাঠামো অনুসরণ করে: যেমন যশোরের ডিসি অফিস জরুরি নকল ৭ কার্যদিবসে ও সাধারণ নকল ১৫ কার্যদিবসে দেয়, এবং চালান পরিশোধের পর মৌজা ম্যাপ সরবরাহ করে। অনেক খতিয়ানের নকল এখন ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-পর্চা সেবার মাধ্যমে অনলাইনে অর্ডার করা যায়। এসব নকলই জমির মামলা, নামজারি ও অধিগ্রহণের দাবির মৌলিক প্রমাণ।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • সিএস/এসএ/আরএস/সিটি জরিপ খতিয়ানের সার্টিফায়েড কপি
  • মৌজা ম্যাপ
  • পুরোনো রাজস্ব বা সার্টিফিকেট মামলার নথির নকল

সেখানে যা করবেন

  1. নির্ধারিত ফরমে দরখাস্ত করুন (অথবা ই-পর্চার মাধ্যমে অনলাইনে)
  2. কোর্ট ফি/চালান পরিশোধ করুন
  3. সরবরাহের তারিখে সংগ্রহ করুন (জরুরি বা সাধারণ)

যা নিয়ে ফিরবেন

দরখাস্তের রসিদখতিয়ানের সার্টিফায়েড কপিমৌজা ম্যাপ

মামলা ও বিষয়

  • ভূমি রেকর্ডের নকল

কাগজপত্র

  • মৌজার নাম, জেএল নম্বর, খতিয়ান ও দাগ নম্বর
  • দরখাস্ত ও ফি

যা এড়াবেন

  1. ভুল মৌজা, জেএল, খতিয়ান বা দাগ নম্বর দেওয়া।
  2. শুধু একটি জরিপের খতিয়ান তোলা।
  3. সার্টিফায়েড কপির বদলে ফটোকপির ওপর ভরসা করা।

এখানে কারা কাজ করেন

এডিসি (রাজস্ব)-এর অধীন রেকর্ড কিপার ও রেকর্ড রুমের কর্মচারীরা

আইন

রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ (স্বত্বলিপি)কোর্ট-ফি আইন, ১৮৭০
পরামর্শআপনার জমির প্রতিটি জরিপের খতিয়ান (সিএস, এসএ, আরএস, সিটি জরিপ) তুলুন। আদালত ও এসি ল্যান্ড অফিস পুরো ধারাবাহিকতা যাচাই করে।
ডিসি অফিসের অন্যান্য শাখা: দেওয়ানি মামলা, ভিপি, লাইসেন্স, ই-সেবা কেন্দ্রজেলা প্রশাসকের কার্যালয় (কালেক্টরেট)

সিভিল স্যুট, ভিপি, লাইসেন্স ও জেলা ই-সেবা কেন্দ্র

দেওয়ানি মামলা শাখাভিপি শাখাঅস্ত্রের লাইসেন্সই-সেবা কেন্দ্রফ্রন্ট ডেস্ক
কোথায়
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (কালেক্টরেট)
প্রয়োজনীয় সময়
নির্দেশক: রসিদ ও ট্র্যাকিং নম্বর একই দিনে; সিদ্ধান্তের সময় শাখাভেদে ভিন্ন
ফি
সংশ্লিষ্ট বিধি বা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ফি; ফ্রন্ট ডেস্কে জিজ্ঞেস করুন এবং শুধু রসিদের বিনিময়ে টাকা দিন

ডিসি অফিসে সাধারণত থাকে একটি দেওয়ানি মামলা শাখা (দেওয়ানি মামলায় সরকারের পক্ষ), অর্পিত সম্পত্তি (ভিপি) শাখা, লাইসেন্সের কাজ (যেমন অস্ত্র আইন, ১৮৭৮ অনুযায়ী অস্ত্রের লাইসেন্স, সরকারের বর্তমান লাইসেন্স নীতি সাপেক্ষে), একটি গোপনীয় শাখা এবং একটি জেলা ই-সেবা কেন্দ্র, যেখানে দরখাস্ত গ্রহণ ও অনুসরণ করা হয়। এই কাঠামো অন্যান্য ডিসি অফিসের প্রকাশিত মডেল থেকে নেওয়া।

ঢাকার নিজস্ব শাখা-তালিকা পড়া যায়নি, তাই ঢাকা ডিসি অফিসের ফ্রন্ট ডেস্ক বা ই-সেবা কেন্দ্রে নিশ্চিত হয়ে নিন।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • দরখাস্ত দাখিল করে ট্র্যাকিং রসিদ নিতে
  • অস্ত্রের লাইসেন্স বা নবায়ন
  • অর্পিত সম্পত্তির তালিকা-সংক্রান্ত বিষয়
  • দেওয়ানি মামলায় সরকারের পক্ষে জবাব

সেখানে যা করবেন

  1. জেলা ই-সেবা কেন্দ্র/ফ্রন্ট ডেস্কে যান
  2. কাগজপত্রসহ দরখাস্ত জমা দিন
  3. রসিদ ও ট্র্যাকিং নম্বর নিন
  4. রসিদে উল্লিখিত শাখায় খোঁজ রাখুন

যা নিয়ে ফিরবেন

ট্র্যাকিং নম্বরসহ রসিদ

মামলা ও বিষয়

  • লাইসেন্স
  • অর্পিত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা
  • সরকারের দেওয়ানি মামলা

কাগজপত্র

  • দরখাস্ত
  • জাতীয় পরিচয়পত্র
  • সহায়ক কাগজপত্র

যা এড়াবেন

  1. অর্পিত সম্পত্তি ফেরতের দাবি ট্রাইব্যুনালে না নিয়ে ডিসি অফিসের শাখায় নিয়ে যাওয়া।
  2. ট্র্যাকিং নম্বর হারিয়ে ফেলা।

এখানে কারা কাজ করেন

জেলা প্রশাসক ও এডিসিদের অধীনে প্রতিটি শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার/সিনিয়র সহকারী কমিশনার

আইন

অস্ত্র আইন, ১৮৭৮অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন, ২০০১দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৭
পরামর্শ২০০১ সালের আইনের অধীন তালিকাভুক্ত অর্পিত সম্পত্তি ফেরতের দাবি যায় অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে (একটি বিচারিক আদালত), ডিসি অফিসের শাখায় নয়।
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকাজেলা জজের আদালত ও দায়রা (ফৌজদারি) শাখা: ৩য় তলা; দেওয়ানি শাখা: ৪র্থ তলা; অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত ২য়, ৪র্থ ও ৫ম তলায়, নতুন ৮ তলা ভবন

জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা

জজ কোর্টঢাকা জজ কোর্টজেলা জজদায়রা জজ (জেলা)
কোথায়
জেলা জজের আদালত ও দায়রা (ফৌজদারি) শাখা: ৩য় তলা; দেওয়ানি শাখা: ৪র্থ তলা; অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত ২য়, ৪র্থ ও ৫ম তলায়, নতুন ৮ তলা ভবন
প্রয়োজনীয় সময়
নির্দেশক: দাখিল ও নিবন্ধন একই দিনে; আপিল নিষ্পত্তিতে কয়েক মাস বা কয়েক বছর লাগে
ফি
আপিলের মেমোরেন্ডাম: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি (প্রায়ই মূল্যানুপাতিক); আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন

জেলা ও দায়রা জজ, ঢাকা ১৬ জনসন রোড থেকে জেলা জজশিপের নেতৃত্ব দেন। নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনের ৩য় তলায় জেলা জজের আদালত ও দায়রা (ফৌজদারি) শাখা, ৪র্থ তলায় দেওয়ানি শাখা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা, এবং ২য়, ৪র্থ ও ৫ম তলাজুড়ে অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতগুলো। নিচতলায় একটি জজ কোর্ট জাদুঘরও আছে।

দেওয়ানি দিকে এই আদালত সিভিল জজ ও সিনিয়র সিভিল জজদের রায়ের বিরুদ্ধে, এবং ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের ক্ষেত্রে যুগ্ম জেলা জজদের রায়ের বিরুদ্ধে দেওয়ানি আপিল শোনে; এ ছাড়া প্রোবেট ও উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত বিষয় এবং মামলা বদলির আবেদনও শোনে। ফৌজদারি দিকে এটি জেলার থানাগুলোর দায়রা মামলার বিচার করে এবং সিজেএম আদালতগুলোর রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ও রিভিশন শোনে।

অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজরা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হিসেবেও বসেন।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • নিম্ন দেওয়ানি আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে দেওয়ানি আপিল বা রিভিশন
  • দায়রা বিচার, বা সিজেএম আদালতের (জেলা এলাকা) রায়ের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আপিল
  • প্রোবেট, লেটারস অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, উত্তরাধিকার সনদের আপিল
  • মামলা বদলির আবেদন

সেখানে যা করবেন

  1. সংশ্লিষ্ট শাখার (দেওয়ানি বা দায়রা) মাধ্যমে দাখিল করুন
  2. মামলা নিবন্ধিত হয়ে একটি আদালতে বণ্টন করা হয়
  3. শুনানির তারিখ কার্যতালিকায় আসে
  4. নকল পাওয়া যায় অনুলিপি বিভাগ থেকে

যা নিয়ে ফিরবেন

আপিল বা মামলা নম্বরশুনানির তারিখদরখাস্ত করলে সার্টিফায়েড কপি

মামলা ও বিষয়

  • দেওয়ানি আপিল
  • প্রোবেট
  • দায়রা মামলা (জেলা)
  • সিজেএম আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আপিল ও রিভিশন
  • দেউলিয়া (অতিরিক্ত জেলা জজ দেউলিয়া আদালত)

কাগজপত্র

  • ডিক্রি/রায়ের সার্টিফায়েড কপিসহ আপিলের মেমো
  • কোর্ট ফি
  • ওকালতনামা

যা এড়াবেন

  1. ঢাকা মহানগরের দায়রা বিষয় মহানগর দায়রা জজের কাছে না নিয়ে এখানে দাখিল করা।
  2. ডিক্রি ও রায়ের সার্টিফায়েড কপি ছাড়া আপিল দাখিল করা।
  3. আপিলের মেয়াদ পার করে ফেলা।

এখানে কারা কাজ করেন

জেলা ও দায়রা জজ; অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজগণ

আইন

দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭ (Civil Courts Act)ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৯, ৪০৮, ৪৩৫-৪৩৯কদেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ২১ (সংশোধিত আপিল-সীমা; ২০২৬ সালের ১২ নং আইনে আদালতের নাম পরিবর্তিত)উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫ (Succession Act)
পরামর্শঢাকা মহানগরের দায়রা মামলা যায় মহানগর দায়রা জজের কাছে, এখানে নয়। এই আদালত ডিএমপির বাইরের জেলা এলাকার দায়রা মামলা নেয়।
দেওয়ানি আদালত: সিনিয়র সিভিল জজ, সিভিল জজ, যুগ্ম জেলা জজ, ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল, সালিশি আদালতসিনিয়র সিভিল জজ আদালত ("সিনিয়র সিভিল জজ" নামে তালিকাভুক্ত) ও তাদের সেরেস্তা: ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম তলা; যুগ্ম জেলা জজ অতিরিক্ত আদালত: ৭ম তলা, নতুন ৮ তলা ভবন। অন্যান্য দেওয়ানি আদালত তালিকায় নেই

সিনিয়র সিভিল জজ / সিভিল জজ / যুগ্ম জেলা জজ আদালত

সিভিল জজ আদালত (পুরোনো নাম)সিনিয়র সিভিল জজ আদালত (পুরোনো নাম)যুগ্ম জেলা জজসেরেস্তা
কোথায়
সিনিয়র সিভিল জজ আদালত ("সিনিয়র সিভিল জজ" নামে তালিকাভুক্ত) ও তাদের সেরেস্তা: ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম তলা; যুগ্ম জেলা জজ অতিরিক্ত আদালত: ৭ম তলা, নতুন ৮ তলা ভবন। অন্যান্য দেওয়ানি আদালত তালিকায় নেই
প্রয়োজনীয় সময়
নির্দেশক: দাখিল একই দিনে; প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মোকদ্দমা সাধারণত কয়েক বছর চলে
ফি
আরজি: কোর্ট-ফি আইনের তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি, প্রায়ই মোকদ্দমার মূল্যমানের ভিত্তিতে মূল্যানুপাতিক; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন; রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ধারা ৯৬-এর অগ্রক্রয়ের দরখাস্ত: নির্ধারিত ফি ২০০ টাকা (কোর্ট-ফি আইন, ১৮৭০-এর ধারা ৭(vi), শর্তাংশ); প্রথম শুনানির পর তলবকৃত জবাব: কোনো কোর্ট ফি নেই (কোর্ট-ফি আইন, ১৮৭০-এর ধারা ১৯(iii))

দেওয়ানি মোকদ্দমা এখান থেকেই শুরু হয়। দেওয়ানি আদালত (সংশোধন) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী সিভিল জজের নাম হয়েছে "সিভিল জজ" এবং সিনিয়র সিভিল জজের নাম "সিনিয়র সিভিল জজ"। আর্থিক এখতিয়ার সিভিল জজের ১৫ লাখ টাকা ও সিনিয়র সিভিল জজের ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত, আর যুগ্ম জেলা জজের কোনো সীমা নেই।

জজশিপের তালিকায় আছে সিনিয়র সিভিল জজ ১ম-৪র্থ ও ৬ষ্ঠ আদালত; সাভার, ধামরাই, কেরানীগঞ্জ, দোহার ও নবাবগঞ্জের আদালত; সিভিল জজ অতিরিক্ত আদালত; যুগ্ম জেলা জজ ১ম-৫ম ও অতিরিক্ত আদালত; একটি যুগ্ম জেলা জজ সালিশি আদালত (Arbitration Court) এবং ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল।

নতুন ভবনের নকশায় সিনিয়র সহকারী (সিনিয়র সিভিল) জজ আদালত ও তাদের সেরেস্তা (আদালতের দপ্তর) ৬ষ্ঠ-৮ম তলায় এবং একটি যুগ্ম জেলা জজ আদালত ৭ম তলায় দেখানো আছে। কিছু ফ্লোর-প্ল্যানে এখনো পুরোনো নাম ব্যবহৃত হয়।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • স্বত্ব ঘোষণা, বাঁটোয়ারা, নিষেধাজ্ঞা, দখল পুনরুদ্ধার, টাকা আদায়, চুক্তির সুনির্দিষ্ট প্রতিকার বা দলিল বাতিলের মোকদ্দমা দায়ের করতে
  • চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত খতিয়ান সংশোধনের জন্য ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা (রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ধারা ১৪৫ক)
  • সালিশ-সংক্রান্ত দরখাস্ত

সেখানে যা করবেন

  1. আইনজীবী আরজির খসড়া করেন; মোকদ্দমার মূল্যমান অনুযায়ী কোর্ট ফি দেওয়া হয়
  2. মূল্যমান ও এলাকা অনুযায়ী এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের সেরেস্তায় দাখিল করা হয়
  3. নিবন্ধনের পর নেজারতের মাধ্যমে সমন জারি হয় (২০২৬ সালের দেওয়ানি কার্যবিধি সংশোধনী অনুযায়ী এসএমএস/ই-মেইলে জারির অনুমতি আছে)
  4. জবাব (written statement), বিচার্য বিষয় গঠন, সাক্ষ্য (২০২৬ সালের দেওয়ানি কার্যবিধি সংশোধনী অনুযায়ী জবানবন্দি হলফনামায়)
  5. রায় ও ডিক্রি; অনুলিপি বিভাগ থেকে সার্টিফায়েড কপি

যা নিয়ে ফিরবেন

মোকদ্দমা নম্বর ও প্রথম তারিখঅস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দরখাস্তের ওপর আদেশরায় ও ডিক্রি (অনুলিপি বিভাগ থেকে সার্টিফায়েড কপি)

মামলা ও বিষয়

  • স্বত্ব, বাঁটোয়ারা, দখল ও নিষেধাজ্ঞার মোকদ্দমা
  • টাকা আদায়ের মোকদ্দমা
  • ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের মামলা
  • রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ধারা ৯৬-এর অগ্রক্রয় (দেওয়ানি আদালত)
  • মূল মোকদ্দমার মধ্যেই ডিক্রি জারি (২০২৬ সালের দেওয়ানি কার্যবিধি সংশোধনী)

কাগজপত্র

  • আরজি
  • কোর্ট-ফি স্ট্যাম্প
  • স্বত্বের দলিল, খতিয়ান, নামজারির কাগজ
  • ওকালতনামা
  • রেকর্ডের সার্টিফায়েড কপি

যা এড়াবেন

  1. মোকদ্দমার মূল্যমান কম দেখানো: আদালত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঘাটতি পরিশোধের আদেশ দিতে বা আরজি নাকচ করতে পারেন (কোর্ট-ফি আইনের ধারা ৬(২))।
  2. আর্থিক বা আঞ্চলিক এখতিয়ার নেই এমন আদালতে দাখিল করা।
  3. নামজারিকে স্বত্বের প্রমাণ মনে করা।

এখানে কারা কাজ করেন

সিনিয়র সিভিল জজ, সিভিল জজ ও যুগ্ম জেলা জজগণ; পেশকার ও সেরেস্তার কর্মচারীরা

আইন

দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC), ১৯০৮ (২০২৬ সালের ৩৬ নং আইনে সংশোধিত)দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭ (২০২১ সালে সংশোধিত আর্থিক এখতিয়ার; ২০২৬ সালের ১২ নং আইনে সংশোধিত আদালতের নাম)সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ (Specific Relief Act)রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ (SAT Act)-এর ধারা ১৪৫ক
পরামর্শনামজারি মালিকানা নির্ধারণ করে না। আসল বিরোধ যদি স্বত্ব নিয়ে হয়, তবে তা এই আদালতগুলোর বিষয়, এসি ল্যান্ড বা ডিসি অফিসের নয়।
পারিবারিক আদালতনতুন ৮ তলা ভবনের নিচতলা (শুধু ২য় ও ৩য় অতিরিক্ত পারিবারিক আদালত, "সিভিল জজ" নামে তালিকাভুক্ত)। অন্যান্য পারিবারিক আদালত তালিকায় নেই

পারিবারিক আদালত

ফ্যামিলি কোর্টপারিবারিক আদালত
কোথায়
নতুন ৮ তলা ভবনের নিচতলা (শুধু ২য় ও ৩য় অতিরিক্ত পারিবারিক আদালত, "সিভিল জজ" নামে তালিকাভুক্ত)। অন্যান্য পারিবারিক আদালত তালিকায় নেই
প্রয়োজনীয় সময়
নির্দেশক: আইনে ধাপগুলোর জন্য স্বল্প সময় নির্ধারিত, যেমন হাজিরার তারিখ সাধারণত ৩০ দিনের মধ্যে (ধারা ৭) এবং জবাব দাখিলের ৩০ দিনের মধ্যে বিচার-পূর্ব শুনানি (ধারা ১১), তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মামলায় কয়েক মাস লাগে
ফি
আরজি: ২০০ টাকা কোর্ট ফি (পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৫); দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী সমনের খরচ এবং নোটিশের রেজিস্ট্রি ডাকের খরচ, দাখিলের সময় দিতে হয় (ধারা ৭(৫))

পারিবারিক আদালত বিবাহবিচ্ছেদ (বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি), দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, দেনমোহর, ভরণপোষণ এবং সন্তানের অভিভাবকত্ব ও হেফাজতের মামলা শোনে। পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ ১৯৮৫ সালের অধ্যাদেশের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর থেকে আপিল যায় পারিবারিক আপিল আদালত হিসেবে জেলা জজের কাছে, এবং দেওয়ানি কার্যবিধি মূলত প্রযোজ্য নয়।

জজশিপের তালিকায় পারিবারিক আদালত-০৫ আছে এবং নতুন ৮ তলা ভবনের নিচতলায় ২য় ও ৩য় অতিরিক্ত পারিবারিক আদালত দেখানো আছে। অন্যান্য পারিবারিক আদালতের কক্ষ প্রকাশিত নেই।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • দেনমোহর ও ভরণপোষণের দাবি
  • সন্তানের হেফাজত বা অভিভাবকত্ব
  • দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার বা বিবাহবিচ্ছেদ

সেখানে যা করবেন

  1. আঞ্চলিক এখতিয়ারসম্পন্ন পারিবারিক আদালতে আরজি দাখিল করুন
  2. সমন; বিচারের আগে আপস-মীমাংসার চেষ্টা
  3. বিচার ও বিচার-পরবর্তী আপস-মীমাংসার চেষ্টা
  4. ডিক্রি; জেলা জজের কাছে আপিল

যা নিয়ে ফিরবেন

মামলা নম্বর ও হাজিরার তারিখডিক্রি, সঙ্গে ৭ দিনের মধ্যে রায়ের নোটিশ (ধারা ১৪)দরখাস্ত করলে সার্টিফায়েড কপি

মামলা ও বিষয়

  • দেনমোহর
  • ভরণপোষণ
  • হেফাজত/অভিভাবকত্ব
  • বিবাহবিচ্ছেদ
  • দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার

কাগজপত্র

  • কাবিননামা (বিয়ের সনদ)
  • সন্তানদের জন্মনিবন্ধন সনদ
  • আয়ের প্রমাণ
  • ওকালতনামা

যা এড়াবেন

  1. কম কপি দাখিল করা: আইন অনুযায়ী বিবাদীর সংখ্যার দ্বিগুণ সংখ্যক আরজির কপি দিতে হয় (ধারা ৬(৭))।
  2. আরজির সঙ্গে দাখিল করা তালিকায় কাগজপত্র বাদ রাখা; পরে সেগুলো গ্রহণ না-ও করা হতে পারে (ধারা ৬(৯))।
  3. ৩০ দিনের আপিলের মেয়াদ পার করে ফেলা (ধারা ১৯(২))।

এখানে কারা কাজ করেন

পারিবারিক আদালতের বিচারকগণ (সিভিল/সিনিয়র সিভিল জজ পদমর্যাদা)

আইন

পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ (ধারা ১৮-১৯, ২৭, ২৮)অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০ (Guardians and Wards Act)মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১
পরামর্শমূল কাবিননামা এবং কাজীর রেজিস্টার থেকে তোলা সার্টিফায়েড কপি সঙ্গে আনুন। দেনমোহরের পরিমাণ এর ওপরই নির্ভর করে।
অর্থঋণ আদালত (Artha Rin Adalat)অর্থঋণ আদালত নং ১: নতুন ৮ তলা ভবনের ৫ম তলা (৬ষ্ঠ তলায় একটি সেরেস্তার পাশেও তালিকাভুক্ত)। ২-৭ নম্বর আদালত তালিকায় নেই

অর্থঋণ আদালত

অর্থঋণঅর্থঋণ আদালতঋণ আদালত
কোথায়
অর্থঋণ আদালত নং ১: নতুন ৮ তলা ভবনের ৫ম তলা (৬ষ্ঠ তলায় একটি সেরেস্তার পাশেও তালিকাভুক্ত)। ২-৭ নম্বর আদালত তালিকায় নেই
প্রয়োজনীয় সময়
নির্দেশক: মধ্যস্থতা ও বিচারে কয়েক মাস লাগে; জারিতে আরও বেশি সময় লাগতে পারে
ফি
আরজি: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন; বিবাদীর আপিল: আগে ডিক্রির অঙ্কের ৫০% জমা (ধারা ৪১(২)); এটি জমা, ফি নয়; একতরফা ডিক্রি রদ: ১০% জমা (ধারা ১৯(৩)), যা আপিলের ৫০% জমার মধ্যে গণ্য হয় (ধারা ৪১(৩))

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ অনুযায়ী এখানে ঋণ আদায়ের মামলা ও জারি মামলা করে। ঢাকায় ১-৭ নম্বর অর্থঋণ আদালত আছে, যেগুলোতে যুগ্ম জেলা জজরা বিচারক। সরকারি নকশায় অর্থঋণ আদালত নং ১ নতুন ভবনের ৫ম তলায় এবং এর সেরেস্তা ৬ষ্ঠ তলায় দেখানো আছে। অন্য আদালতগুলোর অবস্থান প্রকাশিত নেই।

ধারা ২১ (নিষ্পত্তি সম্মেলন) রহিত হওয়ায় বিচারের আগে ধারা ২২-এর মধ্যস্থতাই বাধ্যতামূলক ধাপ। ডিক্রি ৫০ লাখ টাকা বা তার কম হলে ৩০ দিনের মধ্যে জেলা জজের কাছে, আর এর বেশি হলে ৬০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা যায় (ধারা ৪১(১))। বিবাদী আপিল করতে চাইলে আগে ডিক্রির অঙ্কের ৫০% জমা দিতে হয় (ধারা ৪১(২))।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • ঋণখেলাপের অভিযোগে ব্যাংক আপনার বিরুদ্ধে মামলা করেছে
  • ব্যাংক ডিক্রি জারি করছে, যেমন বন্ধকি সম্পত্তি নিলামে তুলছে
  • বিবাদী আপিল করতে চান (আগে ডিক্রির অঙ্কের ৫০% জমা দিতে হবে, ধারা ৪১(২))

সেখানে যা করবেন

  1. ব্যাংক আরজি দাখিল করে
  2. সমন ও জবাব
  3. বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা (ধারা ২২)
  4. বিচার ও ডিক্রি
  5. জারি মামলা; জামানতের নিলাম

যা নিয়ে ফিরবেন

মধ্যস্থতার ফল বা আপস-মীমাংসার রেকর্ডডিক্রিজারি মামলা নম্বর

মামলা ও বিষয়

  • ঋণ আদায়ের মোকদ্দমা
  • জারি মামলা
  • বন্ধকি সম্পত্তির জারি-নিলাম (ধারা ৩৩); মামলার আগে ব্যাংকের নিজস্ব উদ্যোগে দায়বদ্ধ বা বন্ধকি সম্পত্তি বিক্রি ধারা ১২-এর অধীন

কাগজপত্র

  • ঋণের কাগজপত্র
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট
  • বন্ধকি দলিল
  • ওকালতনামা

যা এড়াবেন

  1. সমন উপেক্ষা করা, যার ফলে একতরফা ডিক্রি হয় এবং তা রদ করা ব্যয়বহুল।
  2. মধ্যস্থতাকে নিছক আনুষ্ঠানিকতা মনে করা।
  3. ৫০% জমার টাকা ছাড়াই আপিলের পরিকল্পনা করা।

এখানে কারা কাজ করেন

বিচারক (যুগ্ম জেলা জজ), অর্থঋণ আদালত

আইন

অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ (ধারা ২১ রহিত; ধারা ১২, ১৯, ২২, ৩৩, ৪১)
পরামর্শমধ্যস্থতাকে গুরুত্ব দিন। এসব মামলার বেশির ভাগ হয় মধ্যস্থতায় মেটে, নয়তো মেটেই না, আর আপিল করতে জমা লাগে।
ট্রাইব্যুনাল: নারী ও শিশু, দ্রুত বিচার, সাইবার, সন্ত্রাসবিরোধী, মানব পাচার, জননিরাপত্তাঢাকা জজ কোর্ট (জেলা ও দায়রা জজ), নতুন ৮ তলা ভবনসহ

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও অন্যান্য ট্রাইব্যুনাল

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালদ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালসাইবার ট্রাইব্যুনালবিশেষ ট্রাইব্যুনাল
কোথায়
ঢাকা জজ কোর্ট (জেলা ও দায়রা জজ), নতুন ৮ তলা ভবনসহ
প্রয়োজনীয় সময়
নির্দেশক: আইনে বিচারের সময়সীমা নির্ধারিত, তবে মামলা প্রায়ই এর চেয়ে বেশি দিন চলে
ফি
তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন

জজশিপের ট্রাইব্যুনাল তালিকায় ঢাকার জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নং ১-৯, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল নং ১-৪, জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল, সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল এবং সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের নাম আছে। প্রতিটির বিচারক জেলা ও দায়রা জজ পর্যায়ের।

এগুলো নিজ নিজ আইনের অধীন গুরুতর অপরাধের বিচার করে, এবং ওই আইনগুলোতে তদন্ত ও বিচারের কঠোর সময়সীমা নির্ধারিত আছে। আদালতপাড়ায় এদের সুনির্দিষ্ট ভবন প্রকাশিত নেই, তাই কার্যতালিকা দেখুন এবং জজ কোর্টের অনুসন্ধান ডেস্কে জিজ্ঞেস করুন।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • ধর্ষণ, যৌতুকের জন্য নির্যাতন, অপহরণ এবং নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে অন্যান্য অপরাধ
  • সাইবার অপরাধের মামলা
  • পাচারের অপরাধ
  • দ্রুত বিচারের মামলা

সেখানে যা করবেন

  1. পুলিশ প্রতিবেদন বা নালিশের ভিত্তিতে মামলা ট্রাইব্যুনালে আসে (নারী ও শিশু: পুলিশ মামলা না নিলে হলফনামাসহ নালিশ করা যায়)
  2. অভিযোগ গঠন, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য, আত্মপক্ষ সমর্থন
  3. রায়; হাইকোর্ট বিভাগে আপিল (নারী ও শিশু: ৩০ দিনের মধ্যে, ২০২৬ সালে সংশোধিত ধারা ২৮)। অন্য ট্রাইব্যুনালগুলো নিজ নিজ আইন অনুসরণ করে; সাইবার মামলা যায় সাইবার আপিল ট্রাইব্যুনালে

যা নিয়ে ফিরবেন

ট্রাইব্যুনালের মামলা নম্বরপরবর্তী তারিখদরখাস্ত করলে রায়ের সার্টিফায়েড কপি

মামলা ও বিষয়

  • নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর অপরাধ
  • দ্রুত বিচার আইনের অপরাধ
  • সাইবার অপরাধ
  • মানব পাচার
  • সন্ত্রাসবিরোধী অপরাধ

কাগজপত্র

  • এজাহার/নালিশ
  • মেডিকেল সনদ (নারী ও শিশু)
  • অভিযোগপত্রের কপি
  • ওকালতনামা

যা এড়াবেন

  1. শুরুতেই আইনগত সহায়তা বা স্পেশাল পিপির খোঁজ না করা।
  2. নারী ও শিশু মামলায় ৩০ দিনের আপিলের মেয়াদ পার করে ফেলা।
  3. মূল মেডিকেল সনদ হারিয়ে ফেলা।

এখানে কারা কাজ করেন

ট্রাইব্যুনালের বিচারকগণ (জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদা); স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটরগণ

আইন

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত, ২০২৬ সালের ৮৫ নং আইনসহ)মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৬ (২০২৬ সালের ৮১ নং আইন)
পরামর্শনারী ও শিশু মামলায় শুরুতেই স্পেশাল পিপি এবং জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের খোঁজ করুন। ভুক্তভোগীরা বিনা খরচে আইনজীবী পেতে পারেন।
নেজারত ও নাজির (প্রসেস জারি), জজ কোর্টঢাকা জজ কোর্ট (জেলা ও দায়রা জজ), নতুন ৮ তলা ভবনসহ

নেজারত বিভাগ, জেলা জজ আদালত

নেজারতনাজিরজারিকারক (process server)
কোথায়
ঢাকা জজ কোর্ট (জেলা ও দায়রা জজ), নতুন ৮ তলা ভবনসহ
প্রয়োজনীয় সময়
নির্দেশক: বিবাদীর ঠিকানার ওপর নির্ভর করে; পরবর্তী তারিখের আগে জারির প্রতিবেদন দেখে নিন
ফি
তফসিল অনুযায়ী প্রসেস ফি (তলবানা); আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন

নাজির জজশিপের নেজারত পরিচালনা করেন: জারিকারক, দেওয়ানি মামলায় সমন ও নোটিশ জারি, জমা, এবং ডিক্রি জারিতে দখল হস্তান্তর ও ক্রোক। ২০২৬ সালের দেওয়ানি কার্যবিধি সংশোধনী অনুযায়ী সমন এসএমএস ও ই-মেইলেও জারি করা যায়, তবে সশরীরে জারি ও জারির প্রতিবেদন এখনো নেজারতই দেখে। জেলার দপ্তর-অবস্থান পাতায় সিজেএম ভবনের ২য় তলায় একটি "নেজারত বিভাগ" দেখানো আছে।

সেটি জেলা জজের নেজারত নাকি সিজেএমের নিজস্ব, তা বলা নেই, তাই জজ কোর্টের অনুসন্ধান ডেস্কে জিজ্ঞেস করুন।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • প্রসেস ফি ও তলবানা জমা দিতে
  • বিবাদীর ওপর সমন জারি হয়েছে কি না যাচাই করতে
  • ডিক্রি জারি: আদালতের কর্মকর্তার মাধ্যমে দখল হস্তান্তর বা ক্রোক

সেখানে যা করবেন

  1. রিকুইজিশনসহ প্রসেস ফি দিন
  2. নেজারত একজন জারিকারক নিয়োগ দেয়
  3. জারিকারকের প্রতিবেদন নথিতে রাখা হয়
  4. জারি ব্যর্থ হলে বিকল্প পদ্ধতিতে জারির দরখাস্ত করুন

যা নিয়ে ফিরবেন

প্রসেস ফির রসিদনথিতে রাখা জারিকারকের প্রতিবেদন

মামলা ও বিষয়

  • দেওয়ানি মোকদ্দমা ও ডিক্রি জারি

কাগজপত্র

  • প্রসেস ফি/তলবানা
  • বিবাদীদের ঠিকানা
  • জারির জন্য আরজির কপি

যা এড়াবেন

  1. বিবাদীদের অসম্পূর্ণ ঠিকানা দেওয়া।
  2. পরবর্তী তারিখের আগে জারির প্রতিবেদন না দেখা।

এখানে কারা কাজ করেন

নাজির, ডেপুটি নাজির ও জারিকারকগণ

আইন

দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৫ (সমন), আদেশ ২১ (ডিক্রি জারি)দেওয়ানি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (এসএমএস/ই-মেইলে সমন)
পরামর্শপ্রত্যেক বিবাদীর পূর্ণ ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর দিন। অসম্পূর্ণ ঠিকানাই সমন জারি ব্যর্থ হওয়া ও মুলতবির প্রধান কারণ।
অনুলিপি বিভাগ (নকলখানা), জজ কোর্টনতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনের ২য় তলা

অনুলিপি বিভাগ

অনুলিপি বিভাগনকলসার্টিফায়েড কপি
কোথায়
নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনের ২য় তলা
প্রয়োজনীয় সময়
নির্দেশক: জরুরি নকল সাধারণ নকলের চেয়ে দ্রুত আসে; কাউন্টার থেকে সরবরাহের তারিখ দেওয়া হয়
ফি
নকলের দরখাস্ত: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট-ফি ও ফোলিও স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন

জেলা আদালতগুলোর আরজি, জবাব, আদেশ, রায় ও ডিক্রির সার্টিফায়েড কপি আসে অনুলিপি বিভাগ থেকে। সরকারি নকশায় এটি নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনের ২য় তলায় দেখানো আছে। আপিল করতে, ডিক্রি জারি করতে, ডিক্রির ভিত্তিতে নামজারির আবেদন করতে বা অন্য মামলায় কাগজপত্র ব্যবহার করতে ডিক্রি ও রায়ের সার্টিফায়েড কপি লাগে।

সিএমএম ও সিজেএম আদালতের নিজস্ব নকল শাখা আছে, তাই যে ভবনে মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে সেখানেই দরখাস্ত করুন। চলে যাওয়ার আগে সিলমোহর, নকলনবিশের সই ও তারিখ দেখে নিন।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • আপিল বা জারির জন্য ডিক্রির কপি
  • নামজারির জন্য রায়ের কপি
  • অন্য মামলার জন্য আরজি-জবাবের কপি

সেখানে যা করবেন

  1. স্ট্যাম্পসহ নকলের ফরমে দরখাস্ত করুন
  2. সরবরাহের তারিখ লিখে রাখুন
  3. সংগ্রহ করে সিলমোহর ও সই যাচাই করুন

যা নিয়ে ফিরবেন

দরখাস্ত নম্বর ও সরবরাহের তারিখসহ রসিদসার্টিফায়েড কপি

মামলা ও বিষয়

  • জেলা আদালতগুলোর দেওয়ানি মামলা

কাগজপত্র

  • নকলের দরখাস্ত
  • স্ট্যাম্প/ফোলিও ফি
  • মামলা নম্বর

যা এড়াবেন

  1. ভুল ভবনে দরখাস্ত করা: সিএমএম ও সিজেএম মামলার নিজস্ব নকল শাখা আছে।
  2. রসিদ হারিয়ে ফেলা, অথচ নকল পেতে কত সময় লেগেছে তা রসিদেই প্রমাণ হয় (তামাদি আইনের ধারা ১২)।
  3. সিলমোহর, সই ও তারিখ যাচাই না করা।

এখানে কারা কাজ করেন

অনুলিপি বিভাগের কর্মচারীরা

আইন

সিভিল রুলস অ্যান্ড অর্ডারস (Civil Rules and Orders) (নকল)তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১২ (নকল সংগ্রহে ব্যয়িত সময় বাদ যায়)
পরামর্শনকল পেতে যে সময় লাগে তা আপিলের তামাদির মেয়াদ থেকে বাদ যায়, তাই রায়ের দিনই দরখাস্ত করুন এবং রসিদ রেখে দিন।
রেকর্ড রুম, জজ কোর্টঢাকা জজ কোর্ট (জেলা ও দায়রা জজ), নতুন ৮ তলা ভবনসহ

রেকর্ড রুম, জেলা জজশিপ

রেকর্ড রুম
কোথায়
ঢাকা জজ কোর্ট (জেলা ও দায়রা জজ), নতুন ৮ তলা ভবনসহ
প্রয়োজনীয় সময়
নির্দেশক: পুরোনো নথি বের করতে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে
ফি
তফসিল অনুযায়ী তল্লাশি ও নকলের ফি; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন

নিষ্পত্তি হওয়া দেওয়ানি ও দায়রা মামলার নথি সিভিল রুলস অ্যান্ড অর্ডারস অনুযায়ী জজশিপের রেকর্ড রুমে রাখা হয়। নকলের জন্য, আপিলের জন্য এবং হাইকোর্ট বিভাগ তলব করলে এগুলো বের করা হয়।

দপ্তর-অবস্থান পাতায় সিজেএম ভবনের ২য় তলায় একটি রেকর্ড রুম দেখানো আছে, কিন্তু জেলা জজের রেকর্ড রুম অন্য কোথাও আছে কি না তা বলা নেই, তাই আপনার মামলার নথি কোন রেকর্ড রুমে আছে তা অনুসন্ধান ডেস্কে জিজ্ঞেস করুন। আগেভাগে জিজ্ঞেস করুন, কারণ কয়েক দশকের পুরোনো নথি বের করতে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • স্বত্ব বা নামজারির জন্য পুরোনো ডিক্রি বা রায় দরকার
  • আপিল বা রিভিশনের জন্য নথি তলব

সেখানে যা করবেন

  1. নিষ্পত্তি হওয়া মামলা, আদালত ও সাল নির্ধারণ করুন
  2. তল্লাশি ও নকলের দরখাস্ত করুন
  3. নকল সংগ্রহ করুন

যা নিয়ে ফিরবেন

তল্লাশির ফলসার্টিফায়েড কপি

মামলা ও বিষয়

  • নিষ্পত্তি হওয়া দেওয়ানি ও দায়রা মামলা

কাগজপত্র

  • মামলা নম্বর ও সাল
  • দরখাস্ত ও স্ট্যাম্প

যা এড়াবেন

  1. শুনানি বা আপিলের আগে খুব দেরিতে তল্লাশি শুরু করা।
  2. মামলার নথি কোন রেকর্ড রুমে আছে তা আগে না জেনে নেওয়া।

এখানে কারা কাজ করেন

রেকর্ড কিপার

আইন

সিভিল রুলস অ্যান্ড অর্ডারস (নথি)
পরামর্শপুরোনো ডিক্রি প্রায়ই জমির স্বত্বের মূল প্রমাণ। আগেভাগে খোঁজ শুরু করুন, কারণ নথি বের করতে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, ঢাকাঢাকা জজ কোর্ট (জেলা ও দায়রা জজ), নতুন ৮ তলা ভবনসহ

জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, ঢাকা

লিগ্যাল এইড অফিসডিএলএওআইনগত সহায়তা
কোথায়
ঢাকা জজ কোর্ট (জেলা ও দায়রা জজ), নতুন ৮ তলা ভবনসহ
প্রয়োজনীয় সময়
নির্দেশক: একই দিনে দরখাস্ত করা যায়; প্যানেল আইনজীবী নিয়োগ বা মধ্যস্থতার তারিখ ঠিক হতে বেশি সময় লাগে
ফি
যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য বিনা খরচে (আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০)

জেলা লিগ্যাল এইড অফিস জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার অংশ। এর প্রধান জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার, যিনি একজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা। যাঁদের আইনজীবী রাখার সামর্থ্য নেই, অফিসটি তাঁদের বিনা খরচে আইনজীবী দেয়, মামলা-পূর্ব ও মামলা-পরবর্তী মধ্যস্থতা (ADR) পরিচালনা করে এবং আইনি পরামর্শ দেয়। বিচার বিভাগের পোর্টালে কর্মকর্তা, জারিকারকসহ কর্মচারী এবং কারাগারের ডেটা-এন্ট্রির একটি পদের তালিকা আছে, সঙ্গে জেলা হেল্পলাইন ০১৭০০৭৮৪২৭১।

জাতীয় হেল্পলাইন ১৬৪৩০। আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী সরকার যেসব জেলা প্রজ্ঞাপিত করবে, সেখানে নির্দিষ্ট কিছু বিরোধে মামলা দায়েরের আগে মধ্যস্থতা বাধ্যতামূলক। ঢাকায় এটি এখন প্রযোজ্য কি না এবং কোন বিরোধে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তাই অফিসে জিজ্ঞেস করুন। যেকোনো ক্ষেত্রে এখানে স্বেচ্ছায় মধ্যস্থতার সুযোগ আছে। অফিসের সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশিত নেই, তাই জজ কোর্টের অনুসন্ধান ডেস্কে জিজ্ঞেস করুন।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • আইনজীবী রাখার সামর্থ্য নেই (দেওয়ানি, পারিবারিক বা ফৌজদারি)
  • পারিবারিক, টাকাপয়সা বা জমির বিরোধে বিনা খরচে মধ্যস্থতা
  • কারাগারে থাকা আসামির কোনো আইনজীবী নেই

সেখানে যা করবেন

  1. অফিসে যান বা হেল্পলাইনে ফোন করুন
  2. দরখাস্ত পূরণ করুন এবং যোগ্যতা দেখান (আয়, অথবা নারী, শিশু বা বন্দি হওয়ার মতো অবস্থা)
  3. প্যানেল আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয় বা মধ্যস্থতার তারিখ ঠিক হয়
  4. মধ্যস্থতায় আপস হলে তা লিপিবদ্ধ হয়, নয়তো মামলা আদালতে চলে

যা নিয়ে ফিরবেন

দরখাস্তের রসিদপ্যানেল আইনজীবীর নাম, বা মধ্যস্থতার তারিখমধ্যস্থতা সফল হলে আপসের রেকর্ড

মামলা ও বিষয়

  • পারিবারিক
  • দেওয়ানি
  • ফৌজদারি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন
  • মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা

কাগজপত্র

  • পরিচয়পত্র
  • আয় বা যোগ্যতার কাগজ
  • মামলার কাগজপত্র (যদি থাকে)

যা এড়াবেন

  1. বিচার শুরু হওয়া পর্যন্ত সাহায্য চাইতে দেরি করা।
  2. পরিচয়পত্র বা যোগ্যতার প্রমাণ ছাড়া আসা।
  3. লিগ্যাল এইড পাইয়ে দেওয়ার দাবি করা কাউকে টাকা দেওয়া।

এখানে কারা কাজ করেন

জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা), কর্মচারী ও প্যানেল আইনজীবীগণ

আইন

আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০ (সংশোধিত, ২০২৬-সহ)
পরামর্শকারাবন্দিরা কারা কর্তৃপক্ষকে তাঁদের আবেদন লিগ্যাল এইডে পাঠাতে বলতে পারেন। অফিসটির কারাগারের সঙ্গে ডেটা-এন্ট্রি সংযোগ আছে।
মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকামহানগর দায়রা জজ ও অতিরিক্ত আদালত ১-৪: মূল ভবনের ২য় তলা; অন্যান্য অতিরিক্ত ও যুগ্ম আদালত নিচতলা, ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম তলায়; অতিরিক্ত আদালত ৯-১৬ টিনশেড ভবনে

মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা

মেট্রো সেশনসমহানগর দায়রাসিনিয়র স্পেশাল জজমহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল
কোথায়
মহানগর দায়রা জজ ও অতিরিক্ত আদালত ১-৪: মূল ভবনের ২য় তলা; অন্যান্য অতিরিক্ত ও যুগ্ম আদালত নিচতলা, ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম তলায়; অতিরিক্ত আদালত ৯-১৬ টিনশেড ভবনে
প্রয়োজনীয় সময়
নির্দেশক: জামিনের দরখাস্ত সাধারণত দাখিলের কয়েক দিনের মধ্যে শুনানি হয়; দায়রা বিচারে অনেক বেশি সময় লাগে
ফি
জামিননামা: কোনো কোর্ট ফি নেই (কোর্ট-ফি আইন, ১৮৭০-এর ধারা ১৯(xv)); দরখাস্ত বা আপিলের মেমোরেন্ডাম: তফসিল অনুযায়ী কোর্ট ফি / স্ট্যাম্প; আপনার আইনজীবী নিশ্চিত করবেন

৪০-৪৫ জনসন রোডের মহানগর দায়রা জজ আদালত ঢাকা মহানগরের দায়রা আদালত। এটি ডিএমপির থানাগুলোর দায়রায় বিচার্য অপরাধ, যেমন খুন ও ডাকাতির বিচার করে, এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের আদেশের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আপিল, রিভিশন ও জামিনের আবেদন শোনে।

এর পোর্টালে মূল ভবনের ২য় তলায় মহানগর দায়রা জজ (একই সঙ্গে মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল নং ১) ও ১ম-৪র্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ, নিচতলা, ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম তলায় আরও অতিরিক্ত ও যুগ্ম আদালত, এবং টিনশেড ভবনে ৯ম-১৬তম অতিরিক্ত আদালতের তালিকা আছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তা, নেজারত ও সেরেস্তা ২য় তলায়। প্রত্যেক অতিরিক্ত ও যুগ্ম জজ একটি নম্বরযুক্ত মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হিসেবেও বসেন।

মহানগর দায়রা জজ দুর্নীতি (দুদক/ACC) মামলার জন্য সিনিয়র স্পেশাল জজ, ঢাকাও। হেল্পলাইন: ০১৩৩৫-১৪৫০০২।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • ম্যাজিস্ট্রেট জামিন নামঞ্জুর করার পর জামিন (ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৮)
  • দায়রা বিচার (খুন, ডাকাতি, ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ারের বাইরের মাদক মামলা)
  • মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের রায়ের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আপিল বা রিভিশন
  • যুগ্ম মহানগর দায়রা জজের সামনে ৫ লাখ টাকার বেশি অঙ্কের চেক মামলা
  • জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সিদ্ধান্তের পর মোবাইল কোর্টের দ্বিতীয় পর্যায়ের আপিল (মোবাইল কোর্ট আইনের ধারা ১৩(৩)); কোন দায়রা জজের এখতিয়ার তা জিজ্ঞেস করুন

সেখানে যা করবেন

  1. আপত্তিকৃত আদেশের সার্টিফায়েড কপিসহ দায়রা শাখায় জামিনের দরখাস্ত বা আপিল দাখিল করুন
  2. মামলা নিবন্ধিত হয়ে দায়রা জজের সামনে শুনানির জন্য ধার্য হয় বা অতিরিক্ত/যুগ্ম আদালতে বদলি হয়
  3. মহানগর পিপির দপ্তরে কপি দেওয়া হয়
  4. শুনানি; আদেশ; সার্টিফায়েড কপি

যা নিয়ে ফিরবেন

মামলা নম্বর (ফৌজদারি বিবিধ, আপিল বা রিভিশন)জামিন, আপিল বা রিভিশনের ওপর আদেশদরখাস্ত করলে সার্টিফায়েড কপি

মামলা ও বিষয়

  • দায়রা মামলা (ডিএমপি)
  • ফৌজদারি আপিল ও রিভিশন
  • জামিন
  • বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মামলা
  • স্পেশাল জজ (দুদক) মামলা

কাগজপত্র

  • ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশের সার্টিফায়েড কপি
  • জামিনের দরখাস্ত / আপিলের মেমো
  • ওকালতনামা

যা এড়াবেন

  1. ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশের সার্টিফায়েড কপি ছাড়া দাখিল করা।
  2. টিনশেড ভবনে বসা আদালত মূল ভবনে খোঁজা।
  3. এই আদালতকে ১৬ জনসন রোডের জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভেবে গুলিয়ে ফেলা।

এখানে কারা কাজ করেন

মহানগর দায়রা জজ, অতিরিক্ত ও যুগ্ম মহানগর দায়রা জজগণ; মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ও সহকারীরা

আইন

ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৯, ৩১, ৪০৮, ৪৩৫-৪৩৯ক, ৪৯৮ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮ (Criminal Law Amendment Act) (স্পেশাল জজ)হস্তান্তরযোগ্য দলিল (সংশোধন) আইন, ২০২৬
পরামর্শঅনেক অতিরিক্ত আদালত মূল ভবনে নয়, টিনশেড ভবনে। সিঁড়ি ভাঙার আগে কার্যতালিকায় আদালতের নাম দেখে নিন।
পাবলিক প্রসিকিউটর ও সরকারি কৌঁসুলির (জিপি) দপ্তরমহানগর দায়রা জজ আদালত (মূল ভবন ও টিনশেড ভবন)

পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও জিপি অফিস

পিপি অফিসমহানগর পিপিজিপি অফিসএপিপি
কোথায়
মহানগর দায়রা জজ আদালত (মূল ভবন ও টিনশেড ভবন)
প্রয়োজনীয় সময়
নির্দেশক: কপি দেওয়া দ্রুত হয়; সাক্ষাৎ প্রসিকিউটরের আদালতের সময়সূচির ওপর নির্ভর করে
ফি
পিপি বা জিপিকে কপি দেওয়ার জন্য কোনো ফি প্রকাশিত নেই

দায়রা আদালত ও ট্রাইব্যুনালে মামলা পরিচালনা করেন সরকার-নিযুক্ত পাবলিক প্রসিকিউটররা (PP)। মহানগর পিপি ও সহকারীরা মহানগর দায়রা আদালত দেখেন, জেলা পিপি দেখেন জেলা দায়রা আদালত, আর স্পেশাল পিপিরা দেখেন ট্রাইব্যুনাল। পুলিশ কর্মকর্তারা শুধু ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে মামলা পরিচালনা করেন। সরকারি কৌঁসুলি (Government Pleader, GP) দেওয়ানি মামলায় সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন, যেমন জমির মামলায় জেলা প্রশাসক বিবাদী হলে।

আদালতপাড়ায় পিপি ও জিপি দপ্তরের অবস্থান পোর্টালে প্রকাশিত নেই, তাই বারে বা আদালতের অনুসন্ধান ডেস্কে জিজ্ঞেস করুন।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • ভুক্তভোগী বা বাদী রাষ্ট্রপক্ষকে মামলার বিষয়ে অবহিত করতে চান
  • জামিনের দরখাস্ত বা আপিলের কপি রাষ্ট্রপক্ষকে দিতে
  • সরকারের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা: জিপির সঙ্গে যোগাযোগ

সেখানে যা করবেন

  1. আপনার আইনজীবীকে পিপির দপ্তরে কপি দিতে বলুন
  2. ভুক্তভোগীরা শুনানির আগে পিপি বা এপিপির সঙ্গে দেখা করতে পারেন
  3. কপি দেওয়ার রসিদ রেখে দিন

যা নিয়ে ফিরবেন

গ্রহণ-কপি বা কপি প্রাপ্তির স্বীকৃতি

মামলা ও বিষয়

  • দায়রা বিচার
  • জামিন ও আপিল
  • সরকারের দেওয়ানি মামলা

কাগজপত্র

  • দরখাস্তের কপি
  • মামলার কাগজপত্র

যা এড়াবেন

  1. জামিন বা আপিলের শুনানির আগে রাষ্ট্রপক্ষকে কপি না দেওয়া।
  2. ধরে নেওয়া যে দায়রা আদালতে পুলিশই মামলা পরিচালনা করে।

এখানে কারা কাজ করেন

পাবলিক প্রসিকিউটর, অতিরিক্ত/সহকারী পিপি, স্পেশাল পিপি; সরকারি কৌঁসুলি (জিপি)

আইন

ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯২-৪৯৫দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৭ (সরকার কর্তৃক বা সরকারের বিরুদ্ধে মোকদ্দমা)
পরামর্শনারী ও শিশু মামলায় বাদীর আইনজীবী স্পেশাল পিপির সঙ্গে মিলে কাজ করতে পারেন। কীভাবে এর ব্যবস্থা করা যায়, আপনার আইনজীবীকে জিজ্ঞেস করুন।
ঢাকা আইনজীবী সমিতিঢাকা আইনজীবী সমিতির ভবনসমূহ

ঢাকা আইনজীবী সমিতি

ঢাকা বারবারবার লাইব্রেরিচেম্বার
কোথায়
ঢাকা আইনজীবী সমিতির ভবনসমূহ
প্রয়োজনীয় সময়
নির্দেশক: আগে থেকে সময় নিলে প্রথম সাক্ষাৎ সাধারণত একই দিনে করা যায়
ফি
আইনজীবীর ফি: আইনজীবীর সঙ্গে সমঝোতা অনুযায়ী; রসিদ চান; ওকালতনামা: বার নির্ধারিত মূল্য, প্রকাশিত নেই; রসিদ চান

ঢাকা আইনজীবী সমিতি কোর্ট হাউস স্ট্রিটে অবস্থিত ঢাকার নিম্ন আদালতের আইনজীবীদের সংগঠন। উইকিপিডিয়া অনুযায়ী এটি ১৮৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত, এবং এর সদস্যসংখ্যা কয়েক দশ হাজার। ১৯৫২ সালে এর কার্যালয়ে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের একটি সভা হয়েছিল।

মামলার পক্ষরা সেখানে যান, কারণ তাঁদের আইনজীবী সেখানে কাজ করেন: বার ভবনগুলোতে আইনজীবীদের চেম্বার ও বসার জায়গা আছে, জুনিয়র আইনজীবী ও মুহুরিরা নথি তৈরি করেন, এবং বার সরবরাহ করে ওকালতনামা—যে ছাপানো ফরম দাখিল না করে আইনজীবী হাজির হতে পারেন না। বার্ষিক নির্বাচনে কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচিত হয়। বার মামলার নিষ্পত্তি করে না। এর ভবনগুলোর বিন্যাস ও নাম সরকারিভাবে প্রকাশিত নেই।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • আপনার আইনজীবীর সঙ্গে তাঁর চেম্বারে বা বারের বসার জায়গায় দেখা করতে
  • ওকালতনামায় সই করতে
  • আরজি, দরখাস্ত ও হলফনামার খসড়া ও টাইপ করাতে
  • বার লাইব্রেরি ব্যবহার করতে (সদস্যরা)

সেখানে যা করবেন

  1. আপনার আইনজীবীর নাম, বার সদস্যপদ এবং চেম্বার/বসার নম্বর জেনে নিন
  2. চেম্বারে দেখা করুন; ওকালতনামায় সই করুন ও নির্দেশনা দিন
  3. মুহুরি নথি তৈরি করেন, স্ট্যাম্প কেনেন ও নকল তোলেন
  4. আইনজীবী আদালতে দাখিল করে আপনাকে তারিখ জানান

যা নিয়ে ফিরবেন

সই করা ওকালতনামাকাগজপত্র, স্ট্যাম্প ও পরবর্তী তারিখ সম্পর্কে আইনজীবীর নোটফির রসিদ

মামলা ও বিষয়

  • নিম্ন আদালতের সব কাজ: ফৌজদারি, দেওয়ানি, পারিবারিক, ভূমি, ট্রাইব্যুনাল

কাগজপত্র

  • জাতীয় পরিচয়পত্র
  • মামলার কাগজপত্র
  • ওকালতনামা

যা এড়াবেন

  1. বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে তালিকাভুক্তি যাচাই না করেই কাউকে নিয়োগ দেওয়া।
  2. রসিদ ছাড়া মুহুরিকে নগদ টাকা দেওয়া।
  3. যা কিছুতে সই করেন তার কপি না রাখা।

এখানে কারা কাজ করেন

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে তালিকাভুক্ত এবং ঢাকা বারের সদস্য অ্যাডভোকেটগণ; মুহুরি

আইন

বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২
পরামর্শবাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আইনজীবীর তালিকাভুক্তি যাচাই করুন, এবং ফি ও মুহুরি আপনার জন্য যেসব স্ট্যাম্প কেনেন তার রসিদ নিন।
নোটারি, ওথ কমিশনার ও হলফনামার ডেস্কঢাকা আইনজীবী সমিতির ভবনসমূহ

নোটারি পাবলিক ও ওথ কমিশনার

নোটারিঅ্যাফিডেভিটওথ কমিশনারহলফনামা
কোথায়
ঢাকা আইনজীবী সমিতির ভবনসমূহ
প্রয়োজনীয় সময়
নির্দেশক: খসড়া প্রস্তুত থাকলে হলফ করতে কয়েক মিনিট লাগে
ফি
আপনার আইনজীবী যে মূল্যের কথা বলবেন সেই মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প পেপার (স্ট্যাম্প আইন, ১৮৯৯); নোটারি বা ওথ কমিশনারের ফি: প্রকাশিত নেই; আগে জিজ্ঞেস করুন এবং রসিদ নিন

আদালতের ও দাপ্তরিক অনেক কাগজে শপথপূর্বক হলফনামা (affidavit) লাগে: দরখাস্তের সমর্থনে হলফনামা, নাম বা বয়সের ঘোষণা, এবং জবানবন্দির হলফনামা, যা ২০২৬ সালের দেওয়ানি কার্যবিধি সংশোধনী দেওয়ানি বিচারে চালু করেছে। আদালতের জন্য হলফনামা সম্পাদিত হয় এ উদ্দেশ্যে নিযুক্ত ওথ কমিশনারের সামনে বা আদালতের সামনে।

নোটারিয়াল কাজ, যেমন বিদেশে ব্যবহারের জন্য কাগজপত্র ও পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সত্যায়ন, করেন নোটারিজ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬১ অনুযায়ী নিযুক্ত নোটারি পাবলিক। নোটারি ও ওথ কমিশনাররা বারের আশপাশের চেম্বার থেকে কাজ করেন। বাংলাদেশে ব্যবহারের জন্য বিদেশে সম্পাদিত মোক্তারনামা / পাওয়ার অব অ্যাটর্নির প্রত্যয়নের আলাদা পদ্ধতি আছে।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • আদালতের দরখাস্ত বা সাক্ষ্যের জন্য হলফনামা
  • নাম/বয়স/বৈবাহিক অবস্থার ঘোষণা
  • নোটারিকৃত কপি বা সত্যায়ন

সেখানে যা করবেন

  1. আইনজীবী বা মুহুরি প্রয়োজনীয় মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প পেপারে হলফনামার খসড়া করেন
  2. পরিচয় নিশ্চিতের পর হলফকারী ওথ কমিশনার বা নোটারির সামনে সই করেন
  3. কর্মকর্তা শপথ লিপিবদ্ধ করে সই ও সিলমোহর দেন
  4. হলফনামা আদালত বা দপ্তরে দাখিল করুন

যা নিয়ে ফিরবেন

শপথকৃত, সই ও সিলমোহরযুক্ত হলফনামাকর্মকর্তার রেজিস্টারে এন্ট্রি

মামলা ও বিষয়

  • দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালতের হলফনামা
  • প্রশাসনিক ঘোষণা

কাগজপত্র

  • জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট
  • হলফনামার খসড়া
  • নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প পেপার
  • প্রয়োজন হলে শনাক্তকারী আইনজীবী

যা এড়াবেন

  1. কর্মকর্তার সামনে যাওয়ার আগেই সই করে ফেলা।
  2. নামের বানান ভুল বা জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ভুল।
  3. নোটারি করানোকে বিষয়বস্তু সত্য হওয়ার প্রমাণ মনে করা।

এখানে কারা কাজ করেন

ওথ কমিশনার; নোটারি পাবলিক (সরকার-নিযুক্ত অ্যাডভোকেট)

আইন

নোটারিজ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬১শপথ আইন, ১৮৭৩ (Oaths Act)দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৩৯ ও আদেশ ১৯ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৩৯
পরামর্শযা প্রমাণ করতে পারবেন শুধু তা-ই হলফ করে বলুন। মিথ্যা হলফনামা মিথ্যা সাক্ষ্যের অপরাধ, আর নোটারি করালেই কোনো কাগজ সত্য হয়ে যায় না।
স্ট্যাম্প বিক্রেতা, কোর্ট-ফি বিক্রেতা ও টাইপিস্টজনসন রোড / কোর্ট হাউস স্ট্রিটের প্রবেশপথ, স্ট্যাম্প বিক্রেতা ও ফটোকপির দোকান

স্ট্যাম্প ভেন্ডর

স্ট্যাম্প ভেন্ডারকোর্ট ফিফোলিওনন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প
কোথায়
জনসন রোড / কোর্ট হাউস স্ট্রিটের প্রবেশপথ, স্ট্যাম্প বিক্রেতা ও ফটোকপির দোকান
প্রয়োজনীয় সময়
নির্দেশক: কয়েক মিনিট
ফি
স্ট্যাম্পের অভিহিত মূল্য, আপনার আইনজীবী যেমন বলবেন; যেখানে চালু আছে সেখানে কোর্ট ফি রসিদ বা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতেও নেওয়া হতে পারে (কোর্ট-ফি আইন, ১৮৭০-এর ধারা ২৫)

কোর্ট-ফি আইন, ১৮৭০ অনুযায়ী কোর্ট ফি দেওয়া হয় কোর্ট-ফি স্ট্যাম্পে। হলফনামা, চুক্তি ও বন্ডের মতো দলিলে স্ট্যাম্প আইন, ১৮৯৯ অনুযায়ী নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প বা স্ট্যাম্প পেপার লাগে। আদালত ভবন ও বারের আশপাশে লাইসেন্সধারী স্ট্যাম্প বিক্রেতারা দুটোই বিক্রি করেন, পাশেই টাইপিস্ট ও ফটোকপির দোকান। মূল্য নির্ভর করে কাগজের ধরনের ওপর: বেশির ভাগ দরখাস্তে নির্ধারিত ফি, আর অনেক মোকদ্দমায় মূল্যমানের ভিত্তিতে মূল্যানুপাতিক ফি।

সঠিক অঙ্ক আপনার আইনজীবীর বলে দেওয়া উচিত। আশপাশের টাইপিং দোকানে ফরমও তৈরি করা হয়, তবে দাখিলের আগে চূড়ান্ত কাগজটি সব সময় আইনজীবীকে দিয়ে যাচাই করিয়ে নিন।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • আরজি, দরখাস্ত বা নকলের দরখাস্তের জন্য কোর্ট-ফি স্ট্যাম্প
  • হলফনামা বা বন্ডের জন্য স্ট্যাম্প পেপার
  • ফটোকপি ও টাইপ

সেখানে যা করবেন

  1. আপনার আইনজীবীর কাছ থেকে স্ট্যাম্পের সঠিক ধরন ও মূল্য জেনে নিন
  2. লাইসেন্সধারী বিক্রেতার কাছ থেকে কিনুন এবং রসিদ বা রেজিস্টারে এন্ট্রি চান
  3. স্ট্যাম্প আসল এবং অব্যবহৃত কি না যাচাই করুন

যা নিয়ে ফিরবেন

স্ট্যাম্প বা স্ট্যাম্প পেপারবিক্রেতার রসিদ বা রেজিস্টারে এন্ট্রি

মামলা ও বিষয়

  • সব ধরনের দাখিল

কাগজপত্র

  • স্ট্যাম্পের মূল্য লেখা আইনজীবীর নোট
  • জাতীয় পরিচয়পত্র (স্ট্যাম্প পেপারের জন্য বিক্রেতা ক্রেতার তথ্য লিখে রাখতে পারেন)

যা এড়াবেন

  1. লাইসেন্সবিহীন বিক্রেতার কাছ থেকে কেনা।
  2. আইনজীবীকে না জিজ্ঞেস করে আন্দাজে স্ট্যাম্পের মূল্য ঠিক করা।
  3. টাইপিং দোকানে তৈরি কাগজ আইনজীবীকে দিয়ে যাচাই না করিয়ে দাখিল করা।

এখানে কারা কাজ করেন

লাইসেন্সধারী স্ট্যাম্প বিক্রেতা

আইন

কোর্ট-ফি আইন, ১৮৭০স্ট্যাম্প আইন, ১৮৯৯ (Stamp Act)
পরামর্শশুধু লাইসেন্সধারী বিক্রেতার কাছ থেকে কিনুন। বাংলাদেশে জাল স্ট্যাম্প জব্দ হয়েছে, আর জাল কোর্ট ফির কারণে দাখিল নাকচ হতে পারে।
কোতোয়ালি থানা এবং কেরানীগঞ্জের সঙ্গে প্রিজন ভ্যানের যোগাযোগকোতোয়ালি থানা (ডিএমপি)

কোতোয়ালী থানা

কোতোয়ালি থানাপ্রিজন ভ্যানকেরানীগঞ্জ কারাগার
কোথায়
কোতোয়ালি থানা (ডিএমপি)
প্রয়োজনীয় সময়
নির্দেশক: এজাহার সাধারণত একই দিনে লিপিবদ্ধ হয়; মুক্তির আদেশ পৌঁছালে কারাগার থেকে মুক্তি হয় সেদিন সন্ধ্যায় বা পরদিন
ফি
এজাহার দায়েরের কোনো ফি প্রকাশিত নেই; কাউকে টাকা দেবেন না

কোতোয়ালি আদালতপাড়ার ডিএমপি থানা। এলাকার ঘটনার এজাহার, যেমন আদালত প্রাঙ্গণে চুরি বা মারধর, এখানে দায়ের হয়। মামলা দায়ের হয় ঘটনাস্থলের থানায়, আদালতে নয়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ২০১৬ সালের ২৯ জুলাই নাজিমউদ্দিন রোড থেকে কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরিত হয়। বিচারাধীন ও রিমান্ডে থাকা বন্দিদের প্রিজন ভ্যানে করে আদালতের হাজতখানায় আনা হয় এবং একই দিনে ফেরত নেওয়া হয়।

জামিনের পর মুক্তি হয় কারাগারে, আদালতের মুক্তির আদেশ (জামিননামা) পৌঁছানোর পর, আদালতে নয়।

মানুষ কেন এখানে যায়

  • আদালতপাড়ার কোনো ঘটনা নিয়ে এজাহার দায়ের করতে
  • আদালতের পর বন্দিকে কোথায় নেওয়া হয় তা বুঝতে

সেখানে যা করবেন

  1. এখতিয়ারসম্পন্ন থানায় যান
  2. ওসি এজাহার লিপিবদ্ধ করেন; এজাহার নম্বর নিন
  3. জিআর শাখার মাধ্যমে মামলার খোঁজ রাখুন

যা নিয়ে ফিরবেন

এজাহার নম্বরএজাহারের কপি, যদি দেওয়া হয় (চেয়ে নিন)

মামলা ও বিষয়

  • কোতোয়ালি এলাকার এজাহার

কাগজপত্র

  • লিখিত অভিযোগ
  • পরিচয়পত্র
  • প্রমাণ

যা এড়াবেন

  1. ঘটনাস্থলের থানায় না গিয়ে আদালতে চলে যাওয়া।
  2. জামিনের পর কেরানীগঞ্জ কারাগারের ফটকে না গিয়ে আদালতে অপেক্ষা করা।

এখানে কারা কাজ করেন

অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) ও কর্তব্যরত কর্মকর্তারা (ডিএমপি)

আইন

ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৫৪
পরামর্শজামিনের পর আদালতে নয়, কেরানীগঞ্জ কারাগারের ফটকে অপেক্ষা করুন। জামিননামা কারাগারে পৌঁছালেই কেবল মুক্তি হয়।
যাওয়ার আগে

আদালতে একটি দিনের ব্যবহারিক পরামর্শ

সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগে

  1. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), পাসপোর্ট বা দাপ্তরিক পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন। সুপ্রিম কোর্টের আগস্ট ২০২৫-এর একটি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিরাপত্তাকর্মীরা প্রাঙ্গণে থাকা যে কাউকে তা দেখাতে বলতে পারেন।
  2. আপিল বিভাগের এজলাসে ঢুকতে ডিজিটাল প্রবেশ পাস লাগে (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ থেকে বাধ্যতামূলক)। আগের দিন সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে তা বুক করুন।
  3. সকাল ১০:৩০-এর আগে পৌঁছান, কারণ সাধারণত তখনই হাইকোর্টের এজলাস বসে; কার্যতালিকায় (cause list) কোর্ট নম্বর ও ভবন দুটোই মিলিয়ে নিন, কারণ বিভিন্ন ভবনে একই নম্বর আছে।
  4. পোশাক: আইনজীবীরা গাউন পরে হাজির হন। দর্শনার্থীদের জন্য প্রকাশিত কোনো পোশাকবিধি পাওয়া যায়নি, তাই বাস্তব পরামর্শ হলো যেকোনো আনুষ্ঠানিক দপ্তরের মতোই পরিপাটি ও শালীন পোশাক পরুন।
  5. ফোন: সুপ্রিম কোর্টের প্রকাশিত কোনো ফোন-নীতি পাওয়া যায়নি। বাস্তব পরামর্শ হিসেবে, এজলাসে ঢোকার আগে ফোন সাইলেন্ট করুন এবং অনুমতি ছাড়া কার্যক্রমের ছবি তুলবেন না বা রেকর্ড করবেন না।
  6. ভিড় এবং সাহায্যের প্রস্তাব নিয়ে আসা লোকজনের মুখোমুখি হবেন ধরে নিন। হাইকোর্ট বিভাগ রুলস অনুযায়ী আদালতের দপ্তরকক্ষ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয় এবং মামলার তথ্য দেওয়া হয় লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে, তাই দালাল নয়, নিজের আইনজীবী বা মুহুরির মাধ্যমে কাজ করুন।
  7. শুধু সরকারি ফি দিন। কোর্ট ফি পরিশোধ করা হয় আইন ও রুলস-নির্ধারিত হারে কোর্ট ফি স্ট্যাম্প ও ফোলিওর মাধ্যমে (যেমন নকলের খরচ), এবং কোর্ট ভবনে সম্পাদিত হলফনামার (affidavit) জন্য কোনো ফি নেওয়ার বিধান নেই।
  8. প্রতিটি রসিদ, স্লিপ ও মুড়ি (counterfoil) রেখে দিন: রিট নম্বরের স্লিপ, জমার রসিদ এবং নকলের মুড়ি, কারণ নকল হস্তান্তরের আগে নকল শাখা এটি চায়।

পুরান ঢাকার আদালতে

  1. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা পাসপোর্ট সঙ্গে রাখুন। জামিনদার হতে, হলফনামা (affidavit) সম্পাদন করতে, স্ট্যাম্প কাগজ কিনতে এবং বেশির ভাগ কাউন্টারে কাজ করতে এটি লাগে (ব্যবহারিক পরামর্শ)।
  2. পরিচ্ছন্ন ও শালীন পোশাক পরুন। এসব আদালতে দর্শনার্থীদের জন্য কোনো পোশাকবিধি প্রকাশিত নেই, তবে এজলাসে পরিপাটি চেহারা কাজে দেয় (ব্যবহারিক পরামর্শ)।
  3. এজলাসে ফোন বন্ধ বা নীরব রাখুন, এবং এজলাসে বা হাজতখানার কাছে ছবি তুলবেন না বা রেকর্ড করবেন না; পুলিশ ও আদালতের কর্মচারীরা আপনাকে থামাতে পারেন (ব্যবহারিক পরামর্শ)।
  4. আদালতপাড়া ভিড়ে ঠাসা, এবং কিছু লোক টাকার বিনিময়ে জামিন, নকল বা তারিখ "ম্যানেজ" করে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। কেবল নিজের আইনজীবী ও দাপ্তরিক কাউন্টারের সঙ্গে লেনদেন করুন (ব্যবহারিক পরামর্শ)।
  5. শুধু সরকারি ফি দিন। কোর্ট ফি আদায় হয় স্ট্যাম্প, রসিদ বা যেখানে চালু আছে সেখানে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে (কোর্ট-ফি আইন, ১৮৭০ [Court-fees Act]-এর ধারা ২৫), এবং জামিননামায় (bail bond) কোনো কোর্ট ফি লাগে না (ধারা ১৯(xv))।
  6. প্রতিটি রসিদ রেখে দিন, বিশেষ করে নকলের দরখাস্তের। সার্টিফায়েড কপি (certified copy) পেতে যে সময় লাগে তা আপিলের মেয়াদ থেকে বাদ যায় (তামাদি আইন, ১৯০৮ [Limitation Act]-এর ধারা ১২), আর রসিদেই প্রমাণ থাকে আপনি কবে দরখাস্ত করেছিলেন।
  7. কার্যতালিকা ডাকার আগেই পৌঁছান এবং আপনার মামলার শুনানি না হওয়া পর্যন্ত থাকুন। জামিনে থাকা আসামি কোনো তারিখে অনুপস্থিত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি এবং জামিননামা বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে (ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC)-এর ধারা ৫১৪)।
  8. লাইনে দাঁড়ানোর আগে দেখে নিন কোন ভবনে যেতে হবে: থানাই ঠিক করে মামলা সিএমএম আদালতে (ডিএমপির থানা) যাবে নাকি সিজেএম আদালতে (জেলার থানা), আর ২৯-৩৭ নম্বর আদালত বসে সিজেএম ভবনে।
আদালতের শব্দ, সহজ ভাষায়

আদালতে যে শব্দগুলো শুনবেন

আদালতের কর্মচারী, আইনজীবী ও মুহুরিরা নিজস্ব কিছু শব্দ ব্যবহার করেন। আদালতের বারান্দায় যেসব শব্দ শুনবেন, এই ঢাকার আদালত গাইড সেগুলোর অর্থ বুঝিয়ে দেয়।

শাখা (Section)
হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রির একটি অংশ, যা এক শ্রেণির মামলার নথি গ্রহণ, লিপিবদ্ধ ও সংরক্ষণ করে (রিট, ফৌজদারি আপিল, রুল (ঢাকা-ময়মনসিংহ) ইত্যাদি)।
রেজিস্ট্রি (Registry)
রেজিস্ট্রারের অধীনে আদালতের দপ্তরগুলোর সম্মিলিত নাম; রেজিস্ট্রার প্রধান বিচারপতির কাছে জবাবদিহি করেন (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ১ক বিধি ১১)।
বেঞ্চ অফিসার (Bench Officer)
হাইকোর্টের কোনো বেঞ্চের কাগজপত্রের কাজ পরিচালনাকারী কর্মকর্তা। মোশন ও মেনশন স্লিপ তাঁর কাছে দাখিল করা হয়, এবং তিনি শাখা থেকে নথি তলব করেন।
বেঞ্চ রিডার (Bench Reader)
আপিল বিভাগে বেঞ্চ অফিসারের সমতুল্য কর্মকর্তা।
মেনশন স্লিপ (Mention slip)
মেনশন আওয়ারে কোনো বেঞ্চের বেঞ্চ অফিসারের কাছে দাখিল করা নির্ধারিত স্লিপ, যাতে মামলাটি দৈনিক কার্যতালিকায় তোলার অনুরোধ করা হয় (হাইকোর্ট বিভাগ রুলস, অধ্যায় ৪ক বিধি ৮)।
মোশন (Motion)
পিটিশনের প্রথম শুনানি, যেখানে বেঞ্চ সিদ্ধান্ত নেন রুল বা রুল নিশি জারি করবেন, নাকি পিটিশন নামঞ্জুর করবেন।
রুল নিশি (Rule Nisi)
রিটে প্রতিপক্ষদের ফেরতযোগ্য তারিখের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলে দেওয়া আদেশ। অন্যান্য মামলায় একে কেবল ‘রুল’ বলা হয়।
রিকুইজিট (Requisites)
পিটিশন ও সংযুক্তির কপি (এবং প্রসেস ফি), যা শাখায় জমা দেওয়া হয়, যাতে প্রত্যেক প্রতিপক্ষের ওপর রুল জারি করা যায়।
কার্যতালিকা (Cause list)
প্রতিটি বেঞ্চ যেসব বিষয় শুনানির জন্য নেবেন তার দৈনিক তালিকা, যা সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়, ‘List of Tomorrow’ সহ।
পেপার বুক (Paper book)
শুনানিতে ব্যবহৃত আপিল বা রেফারেন্সের সংকলিত নথি, যা হাইকোর্ট বিভাগ রুলসের অধ্যায় ৯ অনুযায়ী প্রস্তুত হয়।
লাওয়াজিমা (Lawazima)
মামলা প্রস্তুত হওয়ার আগের প্রাথমিক বা ত্রুটিজনিত বিষয়, যেমন জারি, রিকুইজিট ও পেপার বুকের খরচ। এগুলো রেজিস্ট্রার বা লাওয়াজিমা বেঞ্চ নিষ্পত্তি করেন।
ডেথ রেফারেন্স (Death reference)
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৪ অনুযায়ী অনুমোদনের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানো মৃত্যুদণ্ড। অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত তা কার্যকর করা যায় না।
তদবিরকারক (Tadbirkar)
যিনি কোনো পক্ষের হয়ে মামলার পেছনে লেগে থাকেন, প্রায়ই একজন আত্মীয়। হাইকোর্ট বিভাগ রুলস অনুযায়ী দেওয়ানি ও ফৌজদারি মোশনের হলফনামা তদবিরকারক সম্পাদন করতে পারেন।
চেম্বার জজ (Chamber Judge)
আপিল বিভাগের সেই বিচারপতি, যিনি আপিল বিভাগ রুলসের আদেশ ৫ অনুযায়ী স্থগিতাদেশ ও জামিনের মতো আবেদন ‘চেম্বারে’ শোনেন।
অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড (Advocate-on-Record)
আপিল বিভাগে মামলা দাখিল ও পরিচালনার জন্য আপিল বিভাগ রুলস অনুযায়ী নিবন্ধিত আইনজীবী।
জিআর মামলা (GR case)
জেনারেল রেজিস্টার মামলা: পুলিশের এজাহারের (FIR) ভিত্তিতে শুরু হওয়া ফৌজদারি মামলা, যা আদালতে জিআর শাখা ও জিআর অফিসার (GRO) দেখভাল করেন।
সিআর মামলা (CR case)
নালিশি রেজিস্টার মামলা: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০০ অনুযায়ী সরাসরি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নালিশি দরখাস্ত দিয়ে শুরু হওয়া ফৌজদারি মামলা।
জিআরও / কোর্ট এসআই (GRO / CSI)
জিআর অফিসার / কোর্ট সাব-ইন্সপেক্টর: আদালতে নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তা, যাঁরা রাষ্ট্রপক্ষের নথি দেখেন এবং ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে মামলা পরিচালনা করেন।
ডিসি (প্রসিকিউশন) (DC Prosecution)
ঢাকার আদালতে ডিএমপির অপরাধ তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের প্রধান উপ-পুলিশ কমিশনার। ইনি জেলা প্রশাসক (ডিসি) নন।
হাজতখানা (Hajot khana)
আদালতের হাজত, যেখানে বন্দিরা শুনানির আগে ও পরে অপেক্ষা করেন।
মালখানা (Malkhana)
বিচারের জন্য রাখা জব্দকৃত মালামাল ও আলামতের ভান্ডার।
নেজারত / নাজির (Nezarat / Nazir)
আদালতের প্রসেস ও হিসাব শাখা এবং তার প্রধান, যাঁরা সমন জারি, জমা এবং ডিক্রি জারির প্রসেসের দায়িত্বে থাকেন।
নকলখানা / অনুলিপি বিভাগ (Nakal khana)
যে শাখা আদালতের নথির সার্টিফায়েড কপি (জাবেদা নকল) দেয়।
জুডিশিয়াল মুন্সিখানা (Judicial Munshikhana)
আদালতের বিচারিক রেজিস্ট্রি, যেখানে মামলা ও চিঠিপত্র লিপিবদ্ধ, বণ্টন ও অনুসরণ করা হয়।
সেরেস্তা (Seresta)
প্রতিটি দেওয়ানি আদালতের সঙ্গে যুক্ত দপ্তর, যেখানে ওই আদালতের নথি রাখা হয় এবং আরজি-দরখাস্ত গ্রহণ করা হয়।
আমলি আদালত (Amoli adalot)
নির্দিষ্ট থানাগুলোর মামলা আমলে নেওয়ার (cognisance) এখতিয়ারসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
ওকালতনামা (Vokalatnama)
আইনজীবী সমিতির মাধ্যমে সরবরাহ করা ছাপানো ক্ষমতাপত্র, যাতে মক্কেল সই করলে আইনজীবী তাঁর পক্ষে হাজির হতে পারেন।
মুহুরি (Muhuri)
আইনজীবীর সহকারী, যিনি নথি তৈরি করেন, স্ট্যাম্প কেনেন, রেকর্ড তল্লাশি করেন এবং তারিখের খোঁজ রাখেন।
কালেক্টর / কালেক্টরেট (Collector / Collectorate)
ভূমি রাজস্ব-সংক্রান্ত ভূমিকায় জেলা প্রশাসক, এবং জেলা প্রশাসকের যে কার্যালয় ভবনে রাজস্বের কাজ হয়।
সার্টিফিকেট মামলা (Certificate case)
দেওয়ানি মোকদ্দমা ছাড়াই সরকারি পাওনা আদায় আইন, ১৯১৩ (Public Demands Recovery Act) অনুযায়ী সার্টিফিকেট অফিসারের মাধ্যমে সরকারি পাওনার সংক্ষিপ্ত আদায়।
প্রশ্নোত্তর

ঢাকার আদালত গাইড: সাধারণ প্রশ্ন

ঢাকায় হাইকোর্ট আর নিম্ন আদালতের মধ্যে পার্থক্য কী?
হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগ মিলে শাহবাগে সুপ্রিম কোর্ট গঠিত। হাইকোর্ট বিভাগ রিট পিটিশন (writ petition), আপিল, রিভিশন (revision), ডেথ রেফারেন্স এবং কোম্পানি ও অ্যাডমিরালটি বিষয় শুনানি করে; আপিল বিভাগ এর রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শোনে। প্রায় সব মামলা শুরু হয় নিচের স্তরে, পুরান ঢাকার আদালতগুলোতে: সিএমএম ও সিজেএম আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটরা, ঢাকা জজ কোর্টে দেওয়ানি আদালত ও ট্রাইব্যুনাল, এবং দায়রা আদালত। এই ঢাকার আদালত গাইড দুটি চত্বরই তুলে ধরে।
এই ঢাকার আদালত গাইড কীভাবে ব্যবহার করব?
আপনার বিষয়ের সঙ্গে যে অংশ মেলে, সেখান থেকে শুরু করুন। প্রথম অংশে সুপ্রিম কোর্ট চত্বর এবং দ্বিতীয় অংশে পুরান ঢাকার আদালতপাড়া। নকশায় কোনো ভবনে চাপ দিলে এর ভেতরের সব অফিস দেখতে পাবেন; নাম লিখে কোনো জায়গা খুঁজতে পারেন; অথবা রিট দায়ের বা জামিন (bail) পাওয়ার মতো কোনো ধাপে ধাপে বর্ণনায় চাপ দিয়ে এক কাউন্টার থেকে আরেক কাউন্টারে কাজটি অনুসরণ করতে পারেন। আসল অবস্থান দেখতে গুগল ম্যাপ খুলুন।
‘শাখা’ বা ‘সেকশন’ আসলে কী?
শাখা হলো হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রির একটি অংশ, যা এক শ্রেণির মামলার নথি গ্রহণ করে, নম্বর দেয় ও সংরক্ষণ করে, যেমন রিট শাখা, ফৌজদারি আপিল শাখা বা কোনো আঞ্চলিক রুল শাখা। কাগজপত্র দাখিল, নথি তল্লাশি, রিকুইজিট জমা, জারি যাচাই এবং নথি তালিকাভুক্তির জন্য প্রস্তুত কি না নিশ্চিত হতে আইনজীবীর মুহুরিরা ‘শাখায়’ যান। সরকারি লোকেশন ফাইন্ডারে প্রাঙ্গণজুড়ে এমন ২০টির বেশি শাখার তালিকা আছে।
বিচারপ্রার্থী কি নিজে শাখায় গিয়ে নথি দেখতে পারেন?
অধিকার হিসেবে নয়। হাইকোর্ট বিভাগ রুলস অনুযায়ী আদালতের দপ্তরকক্ষ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয়। মামলার তথ্য দেওয়া হয় লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে, আর আইনজীবী ও তাঁদের মুহুরিরা দাখিল, পরিদর্শন ও নকলের মতো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে প্রবেশ করতে পারেন। বেশির ভাগ বিচারপ্রার্থী আইনজীবীর মুহুরির মাধ্যমে শাখার সঙ্গে কাজ করেন।
আমার মামলার আদালত কোন ভবনে?
দৈনিক কার্যতালিকায় কোর্ট নম্বর ও ভবন দেওয়া থাকে। হাইকোর্টের বেঞ্চগুলো বসে মূল ভবন, অ্যানেক্স ভবন (কোর্ট ১-৩৫) এবং বিজয় ৭১ ভবনে (তৃতীয় থেকে দশম তলায় কোর্ট ১-৩২)। বিভিন্ন ভবনে একই কোর্ট নম্বর আছে, তাই দুটোই লিখে রাখুন। সুপ্রিম কোর্টের অনলাইন ‘Find a Location’ টুলে তলা দেখা যায়।
অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় কোথায়, আর সেখানে কেন যেতে হতে পারে?
এটি সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের ভেতরে, কিন্তু এর ভবন ও কক্ষ সরকারিভাবে প্রকাশিত নয়, তাই অনুসন্ধান ডেস্কে বা গেটে জিজ্ঞেস করুন। রাষ্ট্র বা কোনো সরকারি সংস্থা অপর পক্ষ হলে এর সঙ্গে আপনার কাজ পড়ে, যেমন রিট, ফৌজদারি জামিন, আপিল ও ডেথ রেফারেন্সে। এর ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলরা সরকারের পক্ষে হাজির হন। সাংবিধানিক বিষয়ে আদালত অ্যাটর্নি জেনারেলকে নোটিশ দেওয়ার নির্দেশও দিতে পারেন।
অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় আর সলিসিটর কি একই?
না। অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় সুপ্রিম কোর্টে রাষ্ট্রের এজলাসে লড়ার দল। সলিসিটর উইং আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের একটি অংশ। এটি সরকারি মামলা পরিচালনার প্রশাসন দেখে, এর সলিসিটর ২০২৫ সালের ল অফিসার নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছিলেন, এবং আদালত একে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন।
রিট বা মোশনের হলফনামা কত দিন বৈধ থাকে?
হাইকোর্ট বিভাগ রুলস অনুযায়ী হলফনামা সম্পাদনের ৩০ দিনের মধ্যে রিট পিটিশন মেনশন করতে হয়। দেওয়ানি ও ফৌজদারি মোশন ৪৫ দিনের মধ্যে বেঞ্চ অফিসারের কাছে দাখিল করতে হয়। এরপর হলফনামার মেয়াদ শেষ হয়ে যায় এবং আবার শপথ নিতে হয়। এই ৪৫ দিন কোনো তামাদির মেয়াদ বাড়ায় না।
আদালত ও দপ্তরের সময় কখন?
হাইকোর্ট বিভাগ রুলস অনুযায়ী এজলাস সকাল ১০:৩০ থেকে বিকেল ৪:১৫, দুপুর ১:১৫ থেকে ২:০০ পর্যন্ত বিরতি, এবং দপ্তরের সময় সকাল ৯:০০ থেকে বিকেল ৫:০০। শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি, এবং প্রধান বিচারপতি সময় পরিবর্তন করতে পারেন, যেমন রমজান বা অবকাশে। ওয়েবসাইটে আদালতের বর্ষপঞ্জি দেখুন।
ঢুকতে কি পাস লাগে?
আপিল বিভাগের এজলাসের জন্য হ্যাঁ। ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ থেকে বিচারপ্রার্থীদের সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে বুক করা ডিজিটাল প্রবেশ পাস লাগে। সাধারণভাবে প্রাঙ্গণে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট বা দাপ্তরিক পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন। আগস্ট ২০২৫ থেকে নিরাপত্তাকর্মীরা তা দেখতে চাইতে পারেন। পরবর্তী কোনো নিরাপত্তা বিজ্ঞপ্তি আছে কি না, ওয়েবসাইটে দেখে নিন।
অনলাইনে কি মামলা দাখিল করা যায়?
কোম্পানি ও অ্যাডমিরালটি বিষয় ওয়েবসাইটের আইনজীবীদের Case Filing System-এর মাধ্যমে ই-ফাইলিং করা বাধ্যতামূলক (ডিসেম্বর ২০২১ থেকে)। অ্যানেক্স ভবনের নিচতলার ই-ফাইলিং সেন্টার এ বিষয়ে সহায়তা করে। অন্যান্য ধরনের মামলা এখনো মূলত শাখাগুলোতে কাগজে দাখিল করা হয়। এর পরিধি বাড়ানো হয়েছে কি না, সুপ্রিম কোর্টের নোটিশে দেখে নিন।
চেম্বার জজ কে?
প্রধান বিচারপতি কর্তৃক নিযুক্ত আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি, যিনি আপিল বিভাগ রুলস অনুযায়ী ‘চেম্বারে’ শুনানিযোগ্য আবেদন শোনেন, বিশেষ করে লিভ পিটিশন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ ও জামিন। চেম্বার কোর্ট মূল ভবনের দ্বিতীয় তলায়। চেম্বার জজের আদেশ অন্তত তিনজন বিচারপতির বেঞ্চ পুনর্বিবেচনা করতে পারেন।
সিএমএম আদালতের ভেতরের "ডিসি অফিস" কী? এটা কি ঢাকার জেলা প্রশাসকের অফিস?
না। এটি উপ-পুলিশ কমিশনারের (অপরাধ তথ্য ও প্রসিকিউশন) কার্যালয়, যিনি ডিএমপির একজন পুলিশ কর্মকর্তা। ঢাকা মহানগরের মামলার জন্য জিআর শাখা, কোর্ট পুলিশ, আদালতের হাজতখানা ও আদালতের মালখানা তাঁর বিভাগই চালায়। সরকারি নকশায় সিজেএম ভবনে "ডিসি প্রসিকিউশন" দেখানো আছে। ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক হলেন কালেক্টরেটে বসা একজন বেসামরিক প্রশাসক, যিনি ভূমি রাজস্ব, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও লাইসেন্সের বিষয় দেখেন।
আমার আত্মীয়কে সাভারে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি কি সিএমএম আদালতে?
না। সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই, কেরানীগঞ্জ, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, দোহার ও নবাবগঞ্জ জেলার থানা, এবং এসব থানার মামলা যায় ১৮ জনসন রোডের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। সিএমএম আদালত ঢাকা মহানগরের ডিএমপি থানাগুলোর মামলা দেখে। সিজেএম ভবনে সংশ্লিষ্ট থানার জিআর শাখায় খোঁজ নিন।
জিআর শাখাগুলো কোথায়?
সরকারি ফ্লোর-প্ল্যান অনুযায়ী মহানগর জিআর শাখা এবং ডিসি (প্রসিকিউশন) কার্যালয় সিজেএম ভবনের ৫ম তলায়। সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই, কেরানীগঞ্জ ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের জেলা জিআর শাখা একই ভবনের ৪র্থ তলায়। এজাহার নম্বর, তারিখ ও থানার নাম সঙ্গে আনুন।
আদালতের হাজতখানায় কি আসামির সঙ্গে দেখা করা যায়?
হাজতখানায় প্রবেশ পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করে, এবং সেখানে দেখা করার কোনো অধিকার আপনার নেই। আইনজীবীরা সাধারণত হাজতখানার কর্মীদের মাধ্যমে ওকালতনামায় সই করিয়ে নেন। খাবার বা কাপড় গ্রহণ করা হতে পারে, তবে তা তল্লাশি করা হবে। নিয়মিত সাক্ষাৎ হয় কেরানীগঞ্জের কারাগারে, জেল কোড অনুযায়ী।
জামিন হয়েছে, তবু বন্দিকে আদালত থেকে ছাড়া হলো না কেন?
মুক্তি হয় কারাগার থেকে, আদালত থেকে নয়। জামিননামা সম্পাদন করতে হয় এবং মুক্তির আদেশ (release order) আদালতের ডেসপাচ শাখা থেকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠাতে হয়। নেজারত বা ডেসপাচ শাখায় জিজ্ঞেস করুন আদেশটি গেছে কি না, তারপর কারাগারে অপেক্ষা করুন।
জমির বিরোধ কি ডিসি অফিসে যাবে, না দেওয়ানি আদালতে?
রেকর্ড-সংক্রান্ত বিরোধ—যেমন নামজারির আপিল, রেকর্ড সংশোধন, সার্টিফিকেট মামলা, খাস জমি ও অধিগ্রহণের রোয়েদাদ—যায় জেলা প্রশাসকের অধীন রাজস্ব ও ভূমি অধিগ্রহণ (LA) কর্তৃপক্ষের কাছে; অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিরোধ যায় আইনানুগ সালিশকারীর (Arbitrator) কাছে। মালিকানা, বাঁটোয়ারা, দখল, নিষেধাজ্ঞা ও দলিল বাতিলের মামলা যায় দেওয়ানি আদালতে। চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত জরিপ খতিয়ানের ভুল যায় ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে।
আমার চেক ডিজঅনার মামলা কোন আদালতে শুনানি হবে?
এটি হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন (NI Act)-এর অধীন একটি নালিশি মামলা। ২০২৬ সালের সংশোধনী অনুযায়ী ৫ লাখ টাকার বেশি অঙ্কের চেক যায় যুগ্ম দায়রা জজের কাছে (ঢাকা মহানগরে যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ), আর এর কম অঙ্কের চেক যায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে। নালিশ কোথায় দাখিল হবে (সিএমএম বা সিজেএম আদালতে, নাকি সরাসরি দায়রা পর্যায়ের আদালতে) তা নির্ভর করে টাকার অঙ্ক এবং নালিশের কারণ কোথায় উদ্ভূত হয়েছে তার ওপর, তাই দাখিলের আগে আপনার আইনজীবীর সঙ্গে নিশ্চিত হয়ে নিন।
মহানগর দায়রা জজ আর জেলা ও দায়রা জজের মধ্যে পার্থক্য কী?
মহানগর দায়রা জজ (৪০-৪৫ জনসন রোড) ঢাকা মহানগরের মামলার দায়রা আদালত, এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের ওপরের আপিল ও জামিনের ফোরাম। জেলা ও দায়রা জজ (১৬ জনসন রোড) জেলা এলাকার দায়রা মামলা দেখেন এবং সিভিল জজশিপের প্রধান, যার মধ্যে দেওয়ানি আপিল, প্রোবেট ও দেওয়ানি আদালতগুলো রয়েছে।
আইনজীবী রাখার সামর্থ্য নেই। কোথায় যাব?
জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার অধীনে একজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা পরিচালিত জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, ঢাকায় যান, অথবা জাতীয় হেল্পলাইন ১৬৪৩০ বা বিচার বিভাগের পোর্টালে প্রকাশিত জেলা হেল্পলাইনে ফোন করুন। অফিসটি বিনা খরচে প্যানেল আইনজীবী নিয়োগ দিতে পারে বা বিরোধটি মধ্যস্থতায় মেটাতে পারে। অফিসের কক্ষ নম্বর প্রকাশিত নেই, তাই জজ কোর্টের অনুসন্ধান ডেস্কে জিজ্ঞেস করুন।
আজ আমার মামলা কোন এজলাসে, কীভাবে জানব?
সংশ্লিষ্ট আদালতের কার্যতালিকা দেখুন, যা বিচার বিভাগের "আমার আদালত" অ্যাপেও পাওয়া যায়, এবং আদালত নম্বর ও মামলা নম্বর দিয়ে খুঁজুন। সিএমএম আদালতগুলোর নম্বর ১-৩৭ (২৯-৩৭ সিজেএম ভবনে), এবং অনেক অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত বসে টিনশেড ভবনে। সরকারি পোর্টালের তলাভিত্তিক তালিকা কাজে দেয়, তবে কক্ষ বদলায়, তাই অনুসন্ধান ডেস্কে নিশ্চিত হয়ে নিন।

উৎস

  1. Supreme Court of Bangladesh: Find a Location (courts, sections and official location maps)
  2. Supreme Court of Bangladesh: Contacts (Registrar General)
  3. Supreme Court of Bangladesh: Supreme Court Legal Aid Office
  4. Supreme Court of Bangladesh (High Court Division) Rules 1973: Chapter IA (Registry; access to officials)
  5. HCD Rules 1973: Chapter II (Registrar's powers; notice to the Attorney-General)
  6. HCD Rules 1973: Chapter III (court and office hours)
  7. HCD Rules 1973: Chapter IV and IVA (applications, affidavits, motion, writ filing, mention slip)
  8. HCD Rules 1973: Chapter XIII (Copies)
  9. Supreme Court of Bangladesh (Appellate Division) Rules 1988
  10. Law and Justice Division: Office of the Attorney General
  11. Prothom Alo: Litigants require digital pass for entering Appellate Division (January 2023)
  12. TBS: Govt working to ensure justice for all: PM (Bijoy Ekattor building inaugurated, 31 March 2022)
  13. Dhaka Tribune: ID required for entry into Supreme Court (4 August 2025)
  14. TBS: Ramisa rape-murder: Paperbook ready, HC hearing on death references likely to begin soon (June 2026)
  15. The Financial Express: E-filing gains popularity (company and admiralty e-filing)
  16. Supreme Court of Bangladesh: home page (cause lists, Case Search, entry pass, e-filing panels, bail confirmation)
  17. Supreme Court of Bangladesh: Tutorial (e-filing video tutorials)
  18. The Daily Star: Supreme Court launches Cause List app (2020)
  19. The Financial Express: Supreme Court cause-list app now available on App Store (December 2020)
  20. The Daily Star: Pro-BNP lawyers scuffle with cops near HC (8 February 2018; names the Mazar gate)
  21. Dhaka Tribune: Supreme Court administration bans entry of outsiders into the National Eidgah ground (10 November 2025)
  22. Wikipedia: High Court Division, Supreme Court of Bangladesh (Old High Court Building, Kazi Nazrul Islam Avenue)
  23. Dhaka District Judiciary: office locations (floor plans of the new 8-storey District Judge Court building and the CJM building)
  24. Dhaka District Judiciary: court locations (16 and 18 Johnson Road)
  25. Dhaka Metropolitan Judiciary: office locations (Metropolitan Sessions and CMM courts and sections)
  26. Dhaka Metropolitan Judiciary: court locations (40-45 and 19 Johnson Road)
  27. Dhaka Judiciary: CJM court judges, rooms and amoli police stations
  28. Dhaka Judiciary: District and Sessions Judge court list; tribunals; court police; legal aid office; government organisations
  29. Dhaka Metropolitan Police: units (Crime Information and Prosecution Division)
  30. The Daily Star Bangla: police HQ recommendations after the 2022 court-premises snatching (court lock-ups)
  31. Prothom Alo: Mobile court to continue until appeals' settlement: SC (January 2018)
  32. TBS Bangla: CMM seeks security for the court area (37 courts, 50 police stations)
  33. bdnews24: all inmates of Dhaka Central Jail shifted to Keraniganj (29 July 2016)
  34. Public Demands Recovery Act 1913 (Ministry of Land, Bhumipedia)
  35. Jashore DC office: branches and record room service standards (model for DC offices)
  36. Wikipedia: Dhaka Bar Association
  37. OpenStreetMap / Nominatim: CMM court, DC office, District Judge court, Dhaka Bar Association, Kotwali PS
  38. Family Courts Act 2023 (পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩), ss.4-19 and 25 (laws.sayed.app mirror of the official text)
  39. Court-fees Act 1870, ss.6, 7, 19 and 25 (laws.sayed.app mirror of the official text)

এই গাইড অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণ ও সেখানকার প্রচলিত কার্যপ্রণালী বর্ণনা করে। অফিস স্থানান্তরিত হয়, কাউন্টারের নাম বদলায়, চর্চাও পাল্টায়; তাই যাওয়ার আগে অনুসন্ধান ডেস্কে বা আপনার আইনজীবীর কাছে নিশ্চিত হয়ে নিন। প্রাঙ্গণের নকশাগুলো মাপ অনুযায়ী নয়। তলার নম্বর আদালতের অফিশিয়াল লোকেটর ও তলার তালিকা অনুসরণ করে। এটি আইনি পরামর্শ নয়।

আদালতে একা ঘুরবেন না

সঠিক কাউন্টারে কাউকে দরকার?

একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী জানাবেন আপনার বিষয়টি কোন আদালত ও অফিসের, কী দাখিল করতে হবে, আর আপনার হয়ে শাখা, নকল ও শুনানির কাজ সামলাবেন, আপনি প্রবাসে থাকলেও।

Call the Dhaka office+880 1708 000660WhatsApp · message usMessage our team
Message TRW on WhatsApp