রিট পিটিশন করার নিয়ম: বাংলাদেশে পুরো প্রক্রিয়া, ধাপে ধাপে

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

কেস জার্নি/সাংবিধানিক

রিট পিটিশন করার নিয়ম: বাংলাদেশে পুরো প্রক্রিয়া, ধাপে ধাপে

বাংলাদেশে রিট পিটিশন করার নিয়ম অনুযায়ী মামলা শুরু হয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে; এই বিভাগ সরকারি কর্তৃপক্ষের বেআইনি কাজ বাতিল করতে, তাদের আইনগত দায়িত্ব পালনে বাধ্য করতে, বেআইনিভাবে আটক ব্যক্তিকে মুক্তি দিতে এবং সরকারি পদে কারও অধিকারের বৈধতা যাচাই করতে পারে।

মোশন শুনানির পর বেঞ্চ হয় সরাসরি রিট পিটিশন (writ petition) খারিজ করে, নয়তো রুল নিশি (Rule Nisi) জারি করে, প্রায়ই অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশসহ, এবং পরে রুলটি চূড়ান্ত (absolute) বা খারিজ হয়। পরাজিত পক্ষ অনুমতি নিয়ে আপিল বিভাগে যায়, আর রায় না মানলে আদালত অবমাননার কার্যধারা শুরু হয়।

পাতায় ধাপে ধাপে দেখুন
রিটই সঠিক প্রতিকার কি না যাচাই
▶পূর্ণ স্ক্রিনে চালান১৪টি ধাপ · ৬টি বিকল্প পথ · ৬টি আদালত ও অফিস
কোথা থেকে শুরু
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ (বিশেষ মূল এখতিয়ার), সংশ্লিষ্ট শ্রেণির রিটের জন্য প্রধান বিচারপতি নির্ধারিত বেঞ্চে
মূল আইন
বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৪৪, ১০২, ১০৩, ১০৪, ১০৫, ১০৭, ১০৮, ১১১ ও ১১২; সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট বিভাগ) রুলস, ১৯৭৩…
সাধারণ সময়কাল
মোশন ও রুল নিশি: কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ। রুলের চূড়ান্ত শুনানি: প্রায় ১-৫ বছর (হেবিয়াস কর্পাস অনেক দ্রুত)। আপিল…
কে মামলা করতে পারেন
যেকোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি, কোম্পানিসহ; হেবিয়াস কর্পাস ও কো ওয়ারেন্টোর ক্ষেত্রে যেকোনো ব্যক্তি; জনস্বার্থ মামলার…
ইন্টারঅ্যাকটিভ যাত্রাপথ · ১৪টি ধাপ

রিট পিটিশন করার নিয়ম: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে

“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।

আপনার মামলা এখন কোথায়
ওপরেনিচে ফেরত
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
  1. রিট পিটিশন করার নিয়ম: ধাপ ১, রিটই সঠিক প্রতিকার কি না যাচাই
    ধাপ ১ · দায়েরের আগে

    রিটই সঠিক প্রতিকার কি না যাচাই

    রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ রিটের বিষয় নয়। আইনজীবী চারটি প্রাথমিক বিষয় যাচাই করেন। প্রতিপক্ষ কি প্রজাতন্ত্রের বা কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বিষয়াবলির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্য সম্পাদনকারী ব্যক্তি, নাকি কোনো সংবিধিবদ্ধ সরকারি সংস্থা? মক্কেল কি সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি? সমান কার্যকর অন্য কোনো প্রতিকার, যেমন সংবিধিবদ্ধ আপিল, আছে কি, যা সাধারণত আগে ব্যবহার করতে হয়? এবং কোনো অব্যাখ্যাত বিলম্ব হয়েছে কি? সরকারি কর্মচারীদের চাকরি-সংক্রান্ত বিষয় সাধারণত এর বদলে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে যায়। শুরুতেই এটি ঠিক করা বাংলাদেশে রিট পিটিশন করার নিয়ম-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-৭ দিন · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২(১), (২) ও (৫); সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১১৭ (প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল); ড. মহিউদ্দিন ফারুক বনাম বাংলাদেশ, ১৭ BLD (AD) ১ (মামলা করার অধিকার বা standing) · কাগজপত্র: চ্যালেঞ্জকৃত আদেশ, নোটিশ বা চিঠি, ঘটনাক্রমের সময়রেখা

    পরামর্শ: কোনো নির্দিষ্ট তামাদির মেয়াদ নেই, তবে আদালত 'দীর্ঘসূত্রী ও অলস'দের প্রতিকার দেয় না। চ্যালেঞ্জকৃত কাজের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পদক্ষেপ নিন।

  2. রিট পিটিশন করার নিয়ম: ধাপ ২, কর্তৃপক্ষের কাছে ন্যায়বিচারের দাবি
    ধাপ ২ · দায়েরের আগে

    কর্তৃপক্ষের কাছে ন্যায়বিচারের দাবি

    অভিযোগ যদি নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে হয়, যেমন কোনো লাইসেন্স, ফেরত বা আবেদন অনিষ্পন্ন ফেলে রাখা, তবে পরমাদেশ বা ম্যান্ডামাস (mandamus) রিটের জন্য সাধারণত আবেদনকারীকে দেখাতে হয় যে দায়িত্ব পালনের দাবি জানানো হয়েছিল এবং তা প্রত্যাখ্যাত বা উপেক্ষিত হয়েছে। তাই আইনজীবী আইনগত দায়িত্ব ও একটি যুক্তিসংগত সময়সীমা উল্লেখ করে লিখিত আবেদন বা ন্যায়বিচার প্রার্থনার নোটিশ (notice demanding justice) পাঠান এবং প্রাপ্তির প্রমাণ সংরক্ষণ করেন। ইতিমধ্যে আদেশ দেওয়া হয়ে থাকলে এই ধাপ প্রায়ই বাদ যায়, তবে কোনো সংবিধিবদ্ধ আপিল বা রিভিউয়ের সুযোগ থাকলে আগে তা বিবেচনা করা উচিত।

    কোথায়: সরকারি কর্তৃপক্ষ (মন্ত্রণালয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্থানীয় সংস্থা) · সময়: ১-৪ সপ্তাহ · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক)(অ) · কাগজপত্র: ন্যায়বিচার প্রার্থনার নোটিশ, প্রাপ্তির প্রমাণ, কোনো জবাব বা প্রাপ্তিস্বীকার

    পরামর্শ: কেবল মন্ত্রণালয় নয়, সংবিধিবদ্ধ ক্ষমতাসম্পন্ন কর্মকর্তাকে নোটিশটি উদ্দেশ করুন। পরে সেই কর্মকর্তাকে প্রতিপক্ষ করতে হবে।

  3. রিট পিটিশন করার নিয়ম: ধাপ ৩, সার্টিফায়েড কপি ও সংযুক্তি সংগ্রহ
    ধাপ ৩ · দায়েরের আগে

    সার্টিফায়েড কপি ও সংযুক্তি সংগ্রহ

    হাইকোর্ট বিভাগ হলফনামার সাক্ষ্যের ভিত্তিতে রিট নিষ্পত্তি করে, তাই প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পিটিশনে সংযুক্ত দলিল দ্বারা সমর্থিত হতে হবে। আইনজীবী চ্যালেঞ্জকৃত আদেশ, নির্ভরযোগ্য আইন বা বিধি, চিঠিপত্র, গেজেট প্রজ্ঞাপন এবং আগের যেকোনো আদালতের আদেশ সংগ্রহ করেন এবং সার্টিফায়েড বা সত্যায়িত কপি নেন। জমির মালিকানার মতো বিতর্কিত তথ্যগত প্রশ্নের জন্য রিট এখতিয়ার উপযুক্ত নয়, তাই দলিলগুলোতেই বেআইনি দিকটি স্পষ্টভাবে দেখা যেতে হবে।

    কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২(২); সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট বিভাগ) রুলস, ১৯৭৩-এর অধ্যায় ১১ক · কাগজপত্র: চ্যালেঞ্জকৃত আদেশ, সংশ্লিষ্ট আইন, বিধি ও গেজেট প্রজ্ঞাপন, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চিঠিপত্র, কোম্পানির দলিল ও বোর্ডের সিদ্ধান্ত (কোম্পানি আবেদনকারী হলে)

    পরামর্শ: কোম্পানি আবেদনকারী হলে হলফকারীকে ক্ষমতা দিয়ে বোর্ডের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তা সংযুক্ত করা উচিত।

  4. রিট পিটিশন করার নিয়ম: ধাপ ৪, রিট পিটিশনের খসড়া
    ধাপ ৪ · দায়ের ও মোশন শুনানি

    রিট পিটিশনের খসড়া

    পিটিশনে উল্লেখ থাকে পক্ষগণ, ক্রমিক অনুচ্ছেদে তথ্য, চ্যালেঞ্জকৃত কাজ, যুক্তিসমূহ (এখতিয়ারের অভাব, অসৎ উদ্দেশ্য, স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের লঙ্ঘন, সাক্ষ্যের অভাব, নথিতে সুস্পষ্ট ভুল, মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন) এবং সুনির্দিষ্ট প্রতিকার: কোন আকারে রুল নিশি চাওয়া হচ্ছে এবং কোনো অন্তর্বর্তী আদেশ। প্রতিপক্ষ হিসেবে সাধারণত থাকেন সরকারের পক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিব এবং যাঁদের কাজ চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে সেই প্রত্যেক কর্মকর্তা। কোনো বিকল্প প্রতিকার কেন সমান কার্যকর নয়, পিটিশনে তা ব্যাখ্যা করা হয়।

    কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ৩-১০ দিন · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২(১) ও (২); সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট বিভাগ) রুলস, ১৯৭৩-এর অধ্যায় ১১ক (প্রতিকার সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে); মোশাররফ হোসেন বনাম অর্থঋণ আদালত নং ১, ১৯ SCOB [২০২৪] HCD ১২৬ (বিকল্প প্রতিকার নীতির ব্যতিক্রম) · কাগজপত্র: পিটিশনের খসড়া, সংযুক্তির সূচি, অন্তর্বর্তী প্রতিকারের প্রার্থনার খসড়া

    পরামর্শ: যে রুল চান, তার হুবহু ভাষা পিটিশনে লিখুন। বেঞ্চ প্রায়ই আবেদনকারীর প্রস্তাবিত ভাষাতেই রুল জারি করে।

  5. ধাপ ৫: সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা সম্পাদন
    ধাপ ৫ · দায়ের ও মোশন শুনানি

    সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা সম্পাদন

    পিটিশনটি আবেদনকারী বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধিকে সুপ্রিম কোর্টে একজন হলফনামা কমিশনারের সামনে শপথকৃত হলফনামা (affidavit) দ্বারা সত্যায়িত করতে হয়। হলফকারী উল্লেখ করেন কোন বক্তব্য ব্যক্তিগত জ্ঞানে সত্য, কোনটি নথি থেকে এবং কোনটি আইনগত নিবেদন। এরপর আইনজীবী সংযুক্তি, হলফনামা, কোর্ট ফি ও কপিসহ রিট দায়ের শাখায় পিটিশন দায়ের করেন, যেখানে তা যাচাই করে নম্বর দেওয়া হয় এবং বেঞ্চে তালিকাভুক্তির জন্য প্রস্তুত করা হয়।

    কোথায়: সুপ্রিম কোর্টের হলফনামা ও দায়ের শাখা · সময়: ১-৩ দিন · আইন: সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট বিভাগ) রুলস, ১৯৭৩-এর অধ্যায় ১১ক · কাগজপত্র: শপথকৃত হলফনামা, পিটিশন ও সংযুক্তি, কোর্ট ফি, ওকালতনামা, নোটিশ জারির জন্য কপি

    পরামর্শ: হলফকারীকে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ সশরীরে উপস্থিত হতে হবে। হলফনামায় মিথ্যা বক্তব্য দিলে আদালত অবমাননা বা ফৌজদারি মামলা হতে পারে।

  6. ধাপ ৬: অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে নোটিশ ও তালিকাভুক্তি
    ধাপ ৬ · দায়ের ও মোশন শুনানি

    অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে নোটিশ ও তালিকাভুক্তি

    মোশনের আগে পিটিশনের একটি কপি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়, যাতে সরকারের পক্ষে একজন ডেপুটি বা সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল উপস্থিত হতে পারেন। এরপর বিষয়টি সেই ডিভিশন বেঞ্চে মেনশন বা তালিকাভুক্ত করা হয়, যাকে প্রধান বিচারপতি কর, ভূমি, চাকরি-সংক্রান্ত বা সাধারণ বিষয়ের মতো সংশ্লিষ্ট শ্রেণির রিট শোনার দায়িত্ব দিয়েছেন। আবেদনকারী যদি এমন অন্তর্বর্তী আদেশ চান যা কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বা জনস্বার্থকে প্রভাবিত করতে পারে, তবে অনুচ্ছেদ ১০২(৪) অনুযায়ী অ্যাটর্নি জেনারেলকে যুক্তিসংগত নোটিশ দিতে হবে।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-১৪ দিন · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২(৪); বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৭(৩) (প্রধান বিচারপতি বেঞ্চ নির্ধারণ করেন) · কাগজপত্র: অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের প্রাপ্তিরসিদসহ কপি, কার্যতালিকার এন্ট্রি

    পরামর্শ: দায়েরের আগে সর্বশেষ বেঞ্চ-তালিকা দেখে নিন। ভুল বেঞ্চে গেলে কয়েক দিন নষ্ট হয়, আর জরুরি বিষয় এমন দেরিতেই হাতছাড়া হয়।

  7. ধাপ ৭: মোশন শুনানি
    ধাপ ৭ · দায়ের ও মোশন শুনানি

    মোশন শুনানি

    মোশন শুনানিতে আবেদনকারীর অ্যাডভোকেট সাধারণত কয়েক মিনিটে ব্যাখ্যা করেন কেন বেআইনিতার একটি বিবেচনাযোগ্য মামলা আছে এবং কেন আদালতের হস্তক্ষেপ করা উচিত। সরকারের ল' অফিসার বিরোধিতা করতে পারেন। বেঞ্চ কেবল সিদ্ধান্ত নেয় পিটিশনটি পূর্ণ শুনানির যোগ্য কি না। বেঞ্চ সরাসরি তা খারিজ করতে পারে, যেমন বিকল্প প্রতিকার থাকলে, অথবা রুল নিশি জারি করতে পারে। আসন্ন উচ্ছেদ বা আটকের মতো জরুরি ক্ষেত্রে একই দিন বা পরের দিনই মোশন শুনানি হতে পারে।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: তালিকায় ১-২১ দিন থাকার পর ১ দিনের শুনানি · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২ · কাগজপত্র: পিটিশন ও হলফনামা, মূল সংযুক্তিগুলোর সংক্ষিপ্ত সারাংশ

    পরামর্শ: বেআইনিতার সবচেয়ে শক্তিশালী একটি যুক্তি দিয়ে শুরু করুন। মোশন বেঞ্চ অনেক মামলা শোনে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়।

  8. ধাপ ৮: রুল নিশি জারি
    ধাপ ৮ · রুল নিশি, নোটিশ জারি ও হলফনামা

    রুল নিশি জারি

    সন্তুষ্ট হলে বেঞ্চ রুল নিশি জারি করে প্রতিপক্ষদের সাধারণত চার সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলে যে কেন চ্যালেঞ্জকৃত কাজটি আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া করা হয়েছে এবং তার কোনো আইনগত কার্যকারিতা নেই মর্মে ঘোষণা করা হবে না, অথবা কেন তাদের কোনো দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হবে না। রিট পিটিশন করার নিয়ম অনুযায়ী বাকি পুরো প্রক্রিয়ার বিরোধের পরিধি রুলই নির্ধারণ করে: চূড়ান্ত শুনানি এর প্রশ্নগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। আদেশে রুলের শর্ত ও কোনো অন্তর্বর্তী নির্দেশনা লিপিবদ্ধ থাকে।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: মোশনের দিনই · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক)(অ) ও (আ); বাংলাদেশ বনাম শেখ মো. আবদুল্লাহ ফারুক, ১৮ SCOB AD ৫৪ (প্রতিকার রুলের শর্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ) · কাগজপত্র: রুল নিশি জারির আদেশ

    পরামর্শ: স্বাক্ষরিত আদেশ দ্রুত সংগ্রহ করুন। স্থগিতাদেশের মৌখিক খবরে কর্তৃপক্ষ কাজ করে না।

  9. ধাপ ৯: অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ বা নির্দেশনা
    ধাপ ৯ · রুল নিশি, নোটিশ জারি ও হলফনামা

    অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ বা নির্দেশনা

    প্রায়ই মোশনের সবচেয়ে মূল্যবান ফল হলো অন্তর্বর্তী আদেশ: চ্যালেঞ্জকৃত আদেশের স্থগিতাদেশ, স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ, অথবা শুনানি পর্যন্ত পণ্য ছাড় বা কোনো প্রার্থীকে পরীক্ষায় বসতে দেওয়ার নির্দেশ। স্থগিতাদেশ সাধারণত তিন বা ছয় মাসের মতো নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য দেওয়া হয় এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আবেদন করে তা বাড়াতে হয়। অনুচ্ছেদ ১০২(৪) অনুযায়ী অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য না শুনে আদালত এমন অন্তর্বর্তী আদেশ দিতে পারে না যা কোনো উন্নয়ন কর্মসূচি বা জনস্বার্থের ক্ষতি করবে। অনুচ্ছেদ ৪৭ দ্বারা সুরক্ষিত কোনো আইনের ক্ষেত্রে কোনো অন্তর্বর্তী আদেশ দেওয়া যায় না।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: একই দিন; প্রতি ৩-৬ মাসে মেয়াদ বৃদ্ধি · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২(৩) ও (৪) · কাগজপত্র: অন্তর্বর্তী প্রতিকারের আবেদন, স্থগিতাদেশের মেয়াদসহ আদেশ

    পরামর্শ: স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষের তারিখ ডায়েরিতে লিখে রাখুন। মেয়াদোত্তীর্ণ স্থগিতাদেশে কর্তৃপক্ষ কাজ করার সুযোগ পায়, আর মেয়াদ শেষের পর বৃদ্ধি পাওয়া কঠিন।

  10. ধাপ ১০: প্রতিপক্ষদের কাছে রুল ও স্থগিতাদেশ পৌঁছানো
    ধাপ ১০ · রুল নিশি, নোটিশ জারি ও হলফনামা

    প্রতিপক্ষদের কাছে রুল ও স্থগিতাদেশ পৌঁছানো

    হাইকোর্ট বিভাগের দপ্তর প্রত্যেক প্রতিপক্ষের কাছে রুলের নোটিশ জারি করে, এবং আবেদনকারী দ্রুত তলবানা (requisites) ও ডাকমাশুল দাখিল করেন। বাস্তবে আবেদনকারীর আইনজীবীও আদেশের সার্টিফায়েড কপি সরাসরি প্রতিপক্ষদের কাছে পাঠান, যাতে স্থগিতাদেশের কথা সঙ্গে সঙ্গে জানা যায় ও মানা হয়। রুলের শুনানির আগে নোটিশ জারির হলফনামা বা দপ্তরের প্রতিবেদন দ্বারা জারি প্রমাণ করতে হয়। নোটিশ জারি না হওয়া রুল মামলা পরিচালনা না করার কারণে খারিজ হতে পারে।

    কোথায়: সরকারি কর্তৃপক্ষ (মন্ত্রণালয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্থানীয় সংস্থা) · সময়: ২-৮ সপ্তাহ · আইন: সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট বিভাগ) রুলস, ১৯৭৩-এর অধ্যায় ১১ক; বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১১২ · কাগজপত্র: রুলের নোটিশ, তলবানা ও ডাকমাশুল, আদেশের সার্টিফায়েড কপি, নোটিশ জারির হলফনামা

    পরামর্শ: যে কর্মকর্তাকে পদক্ষেপ নিতে হবে, তাঁর হাতে সার্টিফায়েড আদেশ পৌঁছে দিয়ে প্রাপ্তির সিল নিন। পরবর্তী যেকোনো আদালত অবমাননার আবেদনের ভিত্তি এই রসিদ।

  11. ধাপ ১১: জবাবি হলফনামা ও প্রত্যুত্তর
    ধাপ ১১ · রুল নিশি, নোটিশ জারি ও হলফনামা

    জবাবি হলফনামা ও প্রত্যুত্তর

    প্রতিপক্ষরা জবাবি হলফনামার (affidavit-in-opposition) মাধ্যমে রুলের জবাব দেয়, যেখানে তাদের তথ্য, দলিল এবং চ্যালেঞ্জকৃত কাজের আইনগত যৌক্তিকতা উল্লেখ থাকে। আবেদনকারী প্রত্যুত্তর হলফনামা (affidavit-in-reply) দাখিল করতে পারেন, এবং যেকোনো পক্ষ অনুমতি নিয়ে পরবর্তী ঘটনা বা দলিল নথিভুক্ত করতে সম্পূরক হলফনামা দাখিল করতে পারে। সংযোজিত প্রতিপক্ষ, যেমন চ্যালেঞ্জকৃত আদেশে লাভবান কোনো তৃতীয় পক্ষ, তারাও দাখিল করতে পারে। এই পর্যায়ে প্রতিপক্ষরা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করতে পারে।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৬ মাস · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২; সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট বিভাগ) রুলস, ১৯৭৩-এর অধ্যায় ১১ক · কাগজপত্র: জবাবি হলফনামা, প্রত্যুত্তর হলফনামা, সম্পূরক হলফনামা, স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন (যদি থাকে)

    পরামর্শ: জবাবি হলফনামার প্রতিটি তথ্যগত দাবির উত্তর দিন। হলফনামায় দেওয়া যে বক্তব্য চ্যালেঞ্জ করা হয় না, তা সাধারণত সত্য বলে গৃহীত হয়।

  12. ধাপ ১২: শুনানির তালিকায় রুল ওঠা
    ধাপ ১২ · চূড়ান্ত শুনানি ও রায়

    শুনানির তালিকায় রুল ওঠা

    আরজি-জবাব দাখিল সম্পূর্ণ হলে রুলটি এখতিয়ারসম্পন্ন বেঞ্চের দৈনিক কার্যতালিকায় ওঠার অপেক্ষায় থাকে। প্রধান বিচারপতি সময়ে সময়ে রিট বেঞ্চ পুনর্গঠন করেন, তাই নতুন বেঞ্চে রুলটি আবার তালিকাভুক্ত করতে হতে পারে। স্থগিতাদেশে গুরুতর ক্ষতি হলে বা বিষয়টি সময়-সংবেদনশীল হলে কোনো পক্ষ দ্রুত শুনানির আবেদন করতে পারে। হেবিয়াস কর্পাস ও জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শোনা হয়; সাধারণ রুল বছরের পর বছর অপেক্ষায় থাকতে পারে।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ৬ মাস-৫ বছর · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৭(৩) · কাগজপত্র: দ্রুত শুনানির আবেদন (প্রয়োজন হলে), পেপার বুক বা সংকলিত সংযুক্তি

    পরামর্শ: পুরো সময় স্থগিতাদেশ বহাল রাখুন। শুনানির অপেক্ষায় থাকতে গিয়ে মেয়াদ বৃদ্ধির তারিখ ফসকে অনেক আবেদনকারী বাণিজ্যিকভাবে নির্ণায়ক স্থগিতাদেশ হারান।

  13. ধাপ ১৩: চূড়ান্ত শুনানি: রুল চূড়ান্ত (absolute) বা খারিজ
    ধাপ ১৩ · চূড়ান্ত শুনানি ও রায়

    চূড়ান্ত শুনানি: রুল চূড়ান্ত (absolute) বা খারিজ

    চূড়ান্ত শুনানিতে উভয় পক্ষ হলফনামা ও সংযুক্তির ভিত্তিতে যুক্তি দেয়। এরপর বেঞ্চ রায় দেয়: হয় রুল চূড়ান্ত করে কাজটিকে বেআইনি ও আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করে বা কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয়, কখনো বিষয়টি কীভাবে পুনর্বিবেচনা করতে হবে সে নির্দেশনাসহ; নয়তো রুল খারিজ করে, তখন যেকোনো অন্তর্বর্তী আদেশ প্রত্যাহৃত হয়। ঘটনাপ্রবাহে প্রাসঙ্গিকতা হারালে রুল অকার্যকর (infructuous) হিসেবেও খারিজ হতে পারে। সাধারণত খরচ দেওয়া হয় না।

    কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৩টি শুনানির দিন; রায় একই দিনে বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২(২); বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১১১ (বাধ্যতামূলক প্রভাব) · কাগজপত্র: লিখিত নিবেদন ও নজির, রায়

    পরামর্শ: অবিলম্বে সার্টিফায়েড কপির আবেদন করুন। আপিল বিভাগে যাওয়ার সময় রায়ের তারিখ থেকে গণনা শুরু হয়।

  14. ধাপ ১৪: কর্তৃপক্ষ কর্তৃক রায় বাস্তবায়ন
    ধাপ ১৪ · রায় বাস্তবায়ন

    কর্তৃপক্ষ কর্তৃক রায় বাস্তবায়ন

    সফল আবেদনকারী রায়ের সার্টিফায়েড কপি প্রতিপক্ষদের কাছে পৌঁছে দিয়ে তা বাস্তবায়নের অনুরোধ করেন। অনুচ্ছেদ ১১২ অনুযায়ী সব নির্বাহী ও বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের সহায়তায় কাজ করতে বাধ্য, তাই আপিল বিভাগ স্থগিত না করলে মন্ত্রণালয় বা নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে রায় কার্যকর করতে হবে। আদালত পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিলে কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। রিট পিটিশন করার নিয়ম-এর এই শেষ ধাপে প্রায়ই বারবার চিঠি দিতে হয়, এবং উপেক্ষিত হলে আদালত অবমাননার আবেদন করতে হয়।

    কোথায়: সরকারি কর্তৃপক্ষ (মন্ত্রণালয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্থানীয় সংস্থা) · সময়: ১-৬ মাস · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১১২; বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৮ · কাগজপত্র: রায়ের সার্টিফায়েড কপি, রায় বাস্তবায়নের দাবিসংবলিত ফরোয়ার্ডিং চিঠি, প্রাপ্তির প্রমাণ

    পরামর্শ: রায়ের কয়েক দিনের মধ্যে স্পষ্ট সময়সীমা দিয়ে কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিন এবং রসিদ সংরক্ষণ করুন।

বিকল্প পথ · আপিল, রিভিশন, রিভিউ, রেফারেন্স, রিমান্ড

যদি এমন হয়…? রিট পিটিশন করার নিয়ম যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে

একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।

এই পরিস্থিতির পথ
ওপরেফেরত
আপিল · হাইকোর্ট বিভাগ → চেম্বার জজ → আপিল বিভাগ

পরাজিত পক্ষ আপিল বিভাগে গেলে কী হয়?

  1. 1
    চেম্বার জজ, আপিল বিভাগ

    চেম্বার জজের কাছে স্থগিতাদেশের আবেদন

    পরাজিত পক্ষ, প্রায়ই সরকার, প্রথমে হাইকোর্ট বিভাগের রায় স্থগিতের আবেদন করে, যা আপিল বিভাগের চেম্বার জজ শোনেন। চেম্বার জজ রায় স্থগিত করতে পারেন, আবেদন নাকচ করতে পারেন অথবা বিষয়টি পূর্ণ বেঞ্চে পাঠাতে পারেন। স্থগিতাদেশ সাধারণত অনুমতির আবেদনের শুনানি পর্যন্ত বহাল থাকে। চেম্বার জজ মোশন পর্যায়ে দেওয়া অন্তর্বর্তী আদেশও স্থগিত করতে পারেন।

    ১-৮ সপ্তাহবাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৩সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮ (চেম্বার জজ)
  2. 2
    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ

    আপিলের অনুমতির আবেদন (সিপিএলএ) ও সিভিল আপিল

    হাইকোর্ট বিভাগ যদি সার্টিফিকেট না দেয় যে মামলায় সংবিধানের ব্যাখ্যা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জড়িত — যা ত্রিশ দিনের মধ্যে অধিকার হিসেবে আপিলের সুযোগ দেয় — তবে পরাজিত পক্ষ রায়ের ষাট দিনের মধ্যে, অথবা সার্টিফিকেট নামঞ্জুরের ত্রিশ দিনের মধ্যে, আপিলের অনুমতি চেয়ে সিভিল পিটিশন (Civil Petition for Leave to Appeal) দাখিল করে। জনগুরুত্বপূর্ণ আইনের প্রশ্নে বা গুরুতর ভুলের ক্ষেত্রে অনুমতি দেওয়া হয়। অনুমতি মিললে মামলাটি সিভিল আপিল হিসেবে শোনা হয়, এবং আপিল বিভাগ অনুচ্ছেদ ১০৪-এর অধীনে পূর্ণ ন্যায়বিচার করতে পারে।

    ১-৩ বছরবাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৩(২) ও (৩)আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ১২ বিধি ৩ ও আদেশ ১৩ বিধি ১বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৪

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগ হাইকোর্ট বিভাগের রায় বহাল রাখে, পরিবর্তন করে বা উল্টে দেয়, এবং অনুচ্ছেদ ১১১ অনুযায়ী এর রায় প্রত্যেক আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।

রিভিউ · আপিল বিভাগ → আপিল বিভাগ

আপিল বিভাগ কি নিজের রায় পুনর্বিবেচনা করতে পারে?

  1. 1
    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ

    অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীনে রিভিউ আবেদন

    কোনো পক্ষ ত্রিশ দিনের মধ্যে আপিল বিভাগের কাছে তার রায়ের রিভিউ (review) চাইতে পারে, দেওয়ানি কার্যবিধির (CPC) আদেশ ৪৭ বিধি ১-এর অনুরূপ কারণে, যেমন নথিতে সুস্পষ্ট ভুল বা এমন নতুন সাক্ষ্য যা আগে উপস্থাপন করা সম্ভব ছিল না। আবেদনে এমন একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেটের স্বাক্ষর লাগে, যিনি যুক্তিসহ মতামতে প্রত্যয়ন করেন যে রিভিউ যৌক্তিক, এবং ১০,০০০ টাকা নগদ জামানত জমা দিতে হয়, যা রিভিউ খারিজ হলে বাজেয়াপ্ত হতে পারে। কেবল একবারই রিভিউ করা যায়।

    ৩-১২ মাসবাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৫আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ১, ২, ৪, ৫, ৮ ও ৯

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রিভিউ খারিজ হয়, অথবা নির্দিষ্ট ভুলের কারণে রায় প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়।

রেফারেন্স · হাইকোর্ট বিভাগ → হাইকোর্ট বিভাগ → আপিল বিভাগ

বেঞ্চের দুই বিচারপতি একমত না হলে কী হয়?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    তৃতীয় বিচারপতির কাছে প্রেরণ

    রিট বেঞ্চ সাধারণত দুই বিচারপতির সমন্বয়ে বসে। তাঁরা ভিন্ন রায় দিলে বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে উপস্থাপন করা হয়, যিনি তা একজন তৃতীয় বিচারপতির কাছে পাঠান, এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মতই প্রাধান্য পায়। উদাহরণস্বরূপ, শাকওয়াত হোসেন ভূঁইয়া বনাম বাংলাদেশ, ১২ SCOB [২০১৯] HCD ৩৯ মামলায় এমনটি ঘটেছে। তৃতীয় বিচারপতির রায় সমমতের রায়ের সঙ্গে মিলে হাইকোর্ট বিভাগের সিদ্ধান্তে পরিণত হয়, এবং পরাজিত পক্ষ তখন আপিল বিভাগে অনুমতি চাইতে পারে।

    ৩-১২ মাসবাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৭(৩)শাকওয়াত হোসেন ভূঁইয়া বনাম বাংলাদেশ, ১২ SCOB [২০১৯] HCD ৩৯

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: তৃতীয় বিচারপতি অচলাবস্থা নিরসন করেন, এবং কোনো পক্ষ অনুমতি চাইলে মামলা আপিল বিভাগে যায়।

রিমান্ড (ফেরত) · আপিল বিভাগ → হাইকোর্ট বিভাগ → আপিল বিভাগ

আপিল বিভাগ মামলা ফেরত পাঠালে কী হয়?

  1. 1
    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ

    পুনর্বিচারের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে ফেরত

    হাইকোর্ট বিভাগ যদি মূল বিষয় নিষ্পত্তি না করে মামলা করার অধিকার বা রক্ষণীয়তার মতো প্রাথমিক কোনো প্রশ্নে পিটিশন খারিজ করে থাকে, তবে আপিল বিভাগ তা বাতিল করে মূল বিষয়ে শুনানির জন্য মামলা ফেরত পাঠাতে পারে। ফ্লাড অ্যাকশন প্ল্যান মামলায় জনস্বার্থে আবেদনকারীর মামলা করার অধিকার আছে মর্মে সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর আপিল বিভাগ ঠিক এটিই করেছিল। ফেরত পাঠানোর আদেশে বলা থাকে হাইকোর্ট বিভাগকে কী নিষ্পত্তি করতে হবে।

    আপিলের রায়ের সঙ্গে আদেশবাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৪ড. মহিউদ্দিন ফারুক বনাম বাংলাদেশ, ১৭ BLD (AD) ১
  2. 2
    হাইকোর্ট বিভাগ

    পুনঃশুনানি ও আবার আপিল বিভাগে যাওয়ার সম্ভাবনা

    হাইকোর্ট বিভাগ রিট পিটিশনটি পুনরুজ্জীবিত করে মূল বিষয়ে শুনানি নেয় এবং নতুন রায় দেয়, রুল চূড়ান্ত বা খারিজ করে। পুনঃশুনানি পর্যন্ত যেকোনো অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ পুনর্বহাল বা বর্ধিত হতে পারে। যেকোনো পক্ষ আবার আপিলের অনুমতি চাইতে পারে, ফলে মামলা আবার আপিল বিভাগে উঠতে পারে, এবার প্রাথমিক প্রশ্নে নয়, মূল বিষয়ে।

    ৬-২৪ মাসবাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৩

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগে মূল বিষয়ে পিটিশনটি নিষ্পত্তি হয় এবং অনুমতি নিয়ে আবার আপিল বিভাগে যেতে পারে।

বিকল্প পথ · হাইকোর্ট বিভাগ → আপিল বিভাগ

রিটের রায়ের বিরুদ্ধে কি রিভিশন বা আন্তঃআদালত আপিল আছে?

  1. 1
    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ

    রিভিশন নেই; আপিল বিভাগই একমাত্র পথ

    দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫-এর অধীনে দেওয়ানি রিভিশন অধস্তন আদালতের বিরুদ্ধে চলে, হাইকোর্ট বিভাগের বিরুদ্ধে নয়, এবং এক রিট বেঞ্চ থেকে অন্য বেঞ্চে কোনো আপিল নেই। তাই রিটের রায়ে সংক্ষুব্ধ পক্ষ রিভিশন চাইতে পারে না। একমাত্র পথ হলো আপিল বিভাগে অনুমতির আবেদন, অথবা নথিতে সুস্পষ্ট সংকীর্ণ ভুলের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের একই বেঞ্চে রিভিউয়ের আবেদন।

    রায়ের পরপরইদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৩দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪৭ বিধি ১

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: চ্যালেঞ্জ ওপরের দিকে আপিল বিভাগে যায়, হাইকোর্ট বিভাগের ভেতরে পাশাপাশি নয়।

বিকল্প পথ · কর্তৃপক্ষ → হাইকোর্ট বিভাগ → আপিল বিভাগ

কর্তৃপক্ষ রায় উপেক্ষা করলে কী হয়?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    আদালত অবমাননার আবেদন

    কর্তৃপক্ষ রায় না মানলে আবেদনকারী রায় এবং তা পৌঁছানো ও উপেক্ষিত হওয়ার প্রমাণ সংযুক্ত করে হাইকোর্ট বিভাগে আদালত অবমাননার আবেদন দায়ের করেন। আদালত নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা চেয়ে অবমাননার রুল জারি করে। কর্মকর্তারা সাধারণত শুনানির আগেই রায় মেনে নেন বা ক্ষমা চান; না করলে আদালত তাঁদের শাস্তি দিতে পারে। হাইকোর্ট বিভাগের অবমাননার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অধিকার হিসেবেই আপিল বিভাগে আপিল করা যায়।

    ২-১২ মাসবাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৮আদালত অবমাননা আইন, ১৯২৬বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৩(২)(গ)

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: কর্তৃপক্ষ রায় মেনে নেয়, অথবা দায়ী কর্মকর্তারা আদালত অবমাননার শাস্তির মুখোমুখি হন।

নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত

রিট পিটিশন করার নিয়ম যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে

বাংলাদেশে রিট পিটিশন করার নিয়ম অনুযায়ী নিম্ন আদালত পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া হয়। অনুচ্ছেদ ১০২-এর এখতিয়ার কেবল বিশেষ মূল এখতিয়ারে বসা হাইকোর্ট বিভাগের, তাই মামলা আদালত-সোপানের প্রথম স্তরেই শুরু হয়। কোনো আর্থিক সীমা নেই। মামলা চলবে কি না তা নির্ধারণ করে বিষয়বস্তু: প্রতিপক্ষকে সরকারি কর্তৃপক্ষ বা প্রজাতন্ত্রের বিষয়াবলির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্য সম্পাদনকারী ব্যক্তি হতে হবে, সাধারণত সমান কার্যকর কোনো সংবিধিবদ্ধ প্রতিকার থাকা চলবে না, এবং চাকরি-সংক্রান্ত বিষয় এর বদলে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে যায়। হাইকোর্ট বিভাগ মৌখিক সাক্ষ্য নয়, হলফনামার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেয় এবং তথ্যের পুনঃশুনানি না করে বৈধতা পর্যালোচনা করে।

এর রায়ের বিরুদ্ধে কোনো রিভিশন বা আন্তঃআদালত আপিল নেই। কেবল হাইকোর্ট বিভাগ সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জড়িত মর্মে সার্টিফিকেট দিলে অধিকার হিসেবে আপিল বিভাগে আপিল চলে; অন্যথায় পরাজিত পক্ষকে অনুমতি নিতে হয়। আপিল বিভাগ আইনের প্রশ্ন আবার শোনে, অনুচ্ছেদ ১০৪-এর অধীনে পূর্ণ ন্যায়বিচার করতে পারে এবং অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীনে নিজের রায় রিভিউ করতে পারে।

  1. আপিল বিভাগচেম্বার জজ, আপিল বিভাগ · সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
  2. হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
  3. শুরু · আদালতের বাইরেআইনজীবীর চেম্বার · সরকারি কর্তৃপক্ষ (মন্ত্রণালয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্থানীয় সংস্থা) · সুপ্রিম কোর্টের হলফনামা ও দায়ের শাখা
আদালত ও ঠিকানা

আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়

ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।

আপিল বিভাগ

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০

হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।

দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।

শুরু · আদালতের বাইরে

আইনজীবীর চেম্বার

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

শুরু · আদালতের বাইরে

সরকারি কর্তৃপক্ষ (মন্ত্রণালয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্থানীয় সংস্থা)

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

নির্দেশক সময়রেখা

প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে

এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।

দায়েরের আগে
০.২৫–১.৫ মাস
দায়ের ও মোশন শুনানি
০.২৫–১ মাস
রুল নিশি, নোটিশ জারি ও হলফনামা
১–৬ মাস
চূড়ান্ত শুনানি ও রায়
৬–৬০ মাস
রায় বাস্তবায়ন
১–৬ মাস
গাঢ় রেখা = দ্রুত নিষ্পত্তি · হালকা রেখা = ধীর নিষ্পত্তিপ্রথম দফার যাত্রা: ৮.৫–৭৪.৫ মাস · সামগ্রিক: মোশন ও রুল নিশি: কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ। রুলের চূড়ান্ত শুনানি: প্রায় ১-৫ বছর (হেবিয়াস কর্পাস অনেক দ্রুত)। আপিল বিভাগে অনুমতি ও আপিল: আরও প্রায় ১-৩ বছর (ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক সময়সীমা)
প্রস্তুতি

কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা

আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।

রিট (Writ)
অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগের এমন আদেশ, যা কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয় বা নিবৃত্ত করে, অথবা হেফাজতের বৈধতা বা সরকারি পদে কারও অধিকারের বৈধতা যাচাই করে।
রুল নিশি (Rule Nisi)
প্রতিপক্ষদের কারণ দর্শাতে বলা আদেশ যে কেন প্রার্থিত প্রতিকার মঞ্জুর করা হবে না; এর মাধ্যমে পূর্ণ শুনানি শুরু হয়।
রুল চূড়ান্ত (Rule absolute)
প্রতিপক্ষদের শুনানির পর প্রতিকার মঞ্জুর করে দেওয়া চূড়ান্ত আদেশ।
উৎপ্রেষণ (Certiorari)
এই ঘোষণা যে কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষের কাজ বা কার্যধারা আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া করা হয়েছে এবং তার কোনো আইনগত কার্যকারিতা নেই।
পরমাদেশ (Mandamus)
আইন যা করতে বলে, তা করার জন্য কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশ।
জবাবি হলফনামা (Affidavit-in-opposition)
রুলের প্রতি প্রতিপক্ষদের শপথকৃত জবাব, তাদের দলিলসহ।
সিপিএলএ (CPLA)
আপিলের অনুমতি চেয়ে সিভিল পিটিশন (Civil Petition for Leave to Appeal), হাইকোর্ট বিভাগের রায় আপিল বিভাগে নেওয়ার সাধারণ পথ।
চেম্বার জজ (Chamber Judge)
আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি, যিনি হাইকোর্ট বিভাগের আদেশের বিরুদ্ধে জরুরি স্থগিতাদেশের আবেদন শোনেন।
বিলম্বজনিত বাধা (Laches)
প্রতিকার চাইতে অযৌক্তিক বিলম্ব, যার কারণে নির্দিষ্ট তামাদির মেয়াদ না থাকলেও আদালত রিট নামঞ্জুর করতে পারে।
প্রশ্নোত্তর

রিট পিটিশন করার নিয়ম: সাধারণ প্রশ্ন

বাংলাদেশে কে রিট পিটিশন দায়ের করতে পারেন?
রিট পিটিশন করার নিয়ম অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষের কাজ বা নিষ্ক্রিয়তায় সংক্ষুব্ধ যেকোনো ব্যক্তি, কোম্পানিসহ, রিট করতে পারেন। হেবিয়াস কর্পাস ও কো ওয়ারেন্টোর ক্ষেত্রে যেকোনো ব্যক্তি আবেদন করতে পারেন। ফ্লাড অ্যাকশন প্ল্যান মামলায় আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আবেদনকারী সৎ উদ্দেশ্যে কাজ করলে এবং পর্যাপ্ত স্বার্থ থাকলে জনস্বার্থ মামলা করা যায়।
বাংলাদেশে রিট পিটিশন নিষ্পত্তিতে কত সময় লাগে?
কয়েক দিনের মধ্যেই মোশন শুনানি হতে পারে, এবং একই দিনে স্থগিতাদেশসহ রুল নিশি জারি হতে পারে। রিট পিটিশন করার নিয়ম অনুসারে ঢাকায় সাধারণ রুলের চূড়ান্ত শুনানিতে সাধারণত এক থেকে পাঁচ বছর লাগে; হেবিয়াস কর্পাস কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়। আপিল বিভাগে অনুমতি ও আপিলে আরও এক থেকে তিন বছর যোগ হতে পারে। এগুলো নির্দেশক সময়সীমা।
রিট দায়েরের কি কোনো সময়সীমা আছে?
কোনো আইন তা নির্ধারণ করেনি, তবে অব্যাখ্যাত বিলম্বে পিটিশন ব্যর্থ হতে পারে। হাইকোর্ট বিভাগ দীর্ঘ বিলম্বের পর প্রতিকার দিতে অস্বীকার করেছে এবং এমন আবেদনকারীদের দীর্ঘসূত্রী ও অলস বলে বর্ণনা করেছে। দ্রুত দায়ের করুন, সম্ভব হলে চ্যালেঞ্জকৃত কাজের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে, এবং যেকোনো বিলম্বের ব্যাখ্যা তারিখ ও দলিলসহ হলফনামায় দিন।
রুল নিশি কী?
মোশনের পর বিবেচনাযোগ্য মামলা পেলে হাইকোর্ট বিভাগ এই আদেশ জারি করে। এতে প্রতিপক্ষদের সাধারণত চার সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয় যে কেন চ্যালেঞ্জকৃত কাজটি বেআইনি ঘোষণা করা হবে না বা কেন তাদের পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হবে না। চূড়ান্ত শুনানি রুলের শর্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
মামলা চলাকালে আদালত কি কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত রাখবে?
প্রায়ই হ্যাঁ। বেঞ্চ নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য, সাধারণত বর্ধনযোগ্য, চ্যালেঞ্জকৃত আদেশ স্থগিত করতে বা স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিতে পারে। আদেশটি কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বা জনস্বার্থের ক্ষতি করতে পারলে অনুচ্ছেদ ১০২(৪) অনুযায়ী আগে অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য শুনতে হয়, এবং অনুচ্ছেদ ৪৭ দ্বারা সুরক্ষিত আইন স্থগিত করা যায় না।
হাইকোর্ট বিভাগের রিটের রায়ের বিরুদ্ধে কি আপিল করা যায়?
হ্যাঁ, আপিল বিভাগে। হাইকোর্ট বিভাগ সংবিধানের ব্যাখ্যা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জড়িত মর্মে সার্টিফিকেট দিলে অধিকার হিসেবে আপিল চলে। অন্যথায় ষাট দিনের মধ্যে আপিলের অনুমতি চেয়ে সিভিল পিটিশন দাখিল করতে হয়। রায়ের স্থগিতাদেশ চেম্বার জজের কাছে চাওয়া যায়।
সরকার রায় উপেক্ষা করলে কী হয়?
বাংলাদেশে রিট পিটিশন করার নিয়ম-এর শেষ ধাপ হলো রায় বাস্তবায়ন, এবং অনুচ্ছেদ ১১২ অনুযায়ী সব কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের সহায়তায় কাজ করতে বাধ্য। কোনো কর্তৃপক্ষ রায় উপেক্ষা করলে আবেদনকারী হাইকোর্ট বিভাগে আদালত অবমাননার আবেদন করেন, এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা দিতে হয়, নয়তো শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়।
সংবিধিবদ্ধ আপিলের বদলে কি রিট করা যায়?
সাধারণত না। অনুচ্ছেদ ১০২(২) অনুযায়ী সমান কার্যকর অন্য কোনো প্রতিকার না থাকলেই কেবল আদালত হস্তক্ষেপ করে। আদালত-স্বীকৃত ব্যতিক্রমের মধ্যে আছে সম্পূর্ণ এখতিয়ারবহির্ভূত আদেশ, অসৎ উদ্দেশ্য, সাক্ষ্যহীন সিদ্ধান্ত, স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের লঙ্ঘন এবং নথিতে সুস্পষ্ট ভুল।

আইন ও উৎস

  1. Constitution of Bangladesh, Article 102 — Laws of Bangladesh
  2. Constitution of Bangladesh, Article 103 — Laws of Bangladesh
  3. Constitution of Bangladesh (Articles 44, 104, 105, 107, 108, 111 and 112) — Laws of Bangladesh
  4. Appellate Division, Dr Mohiuddin Farooque v Bangladesh (Flood Action Plan case), 17 BLD (AD) 1 — ELAW
  5. High Court Division, Msaharaf Hossain v Dhaka City Corporation, 2 SCOB [2015] HCD 70 (delay)
  6. High Court Division, Mosarrof Hosen v Artha Rin Adalat No. 1, Dhaka, 19 SCOB [2024] HCD 126
  7. High Court Division, A A M Jakaria v Government of Bangladesh, Writ Petition No. 15837 of 2024 (24 June 2026)
  8. High Court Division, Asmaul Husna v Government of Bangladesh, Writ Petition No. 912 of 2026 (26 February 2026)
  9. The Financial Express, 9 June 2026 — HC verdict on SC Secretariat stayed, appeal hearing on 16 June

এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।

প্রবাসে থাকেন?

বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান

সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →

আপনার মামলা, একজন আইনজীবীর চোখে

আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?

একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।

Message TRW on WhatsApp