বিদেশ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি: প্রবাসে থেকে বাংলাদেশে মামলা পরিচালনা, ধাপে ধাপে

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

কেস জার্নি/দেওয়ানি

বিদেশ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি: প্রবাসে থেকে বাংলাদেশে মামলা পরিচালনা, ধাপে ধাপে

বিদেশ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশি বা বিদেশি নাগরিক প্রতিটি শুনানিতে দেশে না এসেই একজন বিশ্বস্ত আমমোক্তার (অ্যাটর্নি) ও ঢাকার একজন আইনজীবীর মাধ্যমে বাংলাদেশে মামলা দায়ের বা মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারেন।

দলিলটি বাংলাদেশ মিশনে (অথবা নোটারির সামনে, অ্যাপোস্টিল বা লিগ্যালাইজেশনসহ) স্বাক্ষর করতে হয়, এরপর বাংলাদেশে পাঠাতে হয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সত্যায়িত করাতে হয়, কালেক্টরের মাধ্যমে স্ট্যাম্প করাতে হয় এবং জমি জড়িত থাকলে রেজিস্ট্রি করাতে হয়; প্রতিটি কাজ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালা, ২০১৫-এর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে করতে হয়।

এরপর অ্যাটর্নি মামলা দায়ের করেন, আরজি সত্যায়ন করেন এবং নিজের জানা বিষয়ে সাক্ষ্য দেন; আর মক্কেল নিজে মিশনে হলফনামা সম্পাদন করতে পারেন, আদালত অনুমতি দিলে ভিডিও শুনানিতে যুক্ত হতে পারেন, অথবা কমিশনের মাধ্যমে সাক্ষ্য দিতে পারেন।

পাতায় ধাপে ধাপে দেখুন
দূর থেকে ঢাকার আইনজীবী নিয়োগ
▶পূর্ণ স্ক্রিনে চালান১৬টি ধাপ · ৭টি বিকল্প পথ · ৯টি আদালত ও অফিস
কোথা থেকে শুরু
ঢাকার একজন আইনজীবীর সঙ্গে মক্কেলের ভিডিও পরামর্শ; এরপর মক্কেল যে দেশে থাকেন সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা…
মূল আইন
পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন, ২০১২ (২০১২ সালের ৩৫ নং আইন)-এর ধারা ২, ৪, ৬, ৭, ১১ ও ১৩; পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালা, ২০১৫…
সাধারণ সময়কাল
ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক সময়: মিশনে খসড়া ও স্বাক্ষর ১-৪ সপ্তাহ; কুরিয়ার, সত্যায়ন, স্ট্যাম্প ও প্রয়োজনে…
কে মামলা করতে পারেন
যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক, 'নো ভিসা রিকোয়ার্ড' অনুমোদনসহ বিদেশি পাসপোর্টধারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি, অথবা…
ইন্টারঅ্যাকটিভ যাত্রাপথ · ১৬টি ধাপ

বিদেশ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে

“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।

আপনার মামলা এখন কোথায়
ওপরেনিচে ফেরত
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
  1. বিদেশ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি: ধাপ ১, দূর থেকে ঢাকার আইনজীবী নিয়োগ
    ধাপ ১ · বিদেশ থেকে পরিকল্পনা

    দূর থেকে ঢাকার আইনজীবী নিয়োগ

    বেশির ভাগ প্রবাসী মক্কেল প্রথমে ভিডিও কলে বাংলাদেশি আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেন। আইনজীবী ঘটনা, কাগজপত্র, তামাদির কোনো সময়সীমা আছে কি না এবং কোন আদালতের এখতিয়ার রয়েছে তা যাচাই করেন, আর একটি লিখিত নিয়োগপত্রে ফি ও অগ্রগতি জানানোর পদ্ধতি ঠিক করেন। মক্কেল প্রধান কাগজপত্রের স্ক্যান ও একটি পরিচয়পত্র পাঠান। আদালতে ওকালতনামা দাখিলের মাধ্যমে আইনজীবী আনুষ্ঠানিকভাবে নিযুক্ত হন; মক্কেল বিদেশে ওকালতনামা স্বাক্ষর করে কুরিয়ারে পাঠাতে পারেন, অথবা পাওয়ার অব অ্যাটর্নির বলে অ্যাটর্নি তা স্বাক্ষর করতে পারেন। ক্ষমতাপত্রের খসড়া করার আগেই আইনজীবী বেছে নিন, যাতে এর ভাষা মামলার সঙ্গে মেলে।

    কোথায়: ঢাকায় আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৩ বিধি ১ ও ৪ · কাগজপত্র: নিয়োগপত্র, পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) স্ক্যান, দলিল, চুক্তি বা আদালতের কাগজের কপি

    পরামর্শ: পাওয়ার অব অ্যাটর্নির খসড়া আইনজীবীকে দিয়েই করান; সাধারণ নমুনা দলিলে প্রায়ই মামলা পরিচালনার এমন ক্ষমতা বাদ পড়ে, যা পরে আদালত চায়।

  2. বিদেশ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি: ধাপ ২, ক্ষমতার ধরন ও পরিধি নির্ধারণ
    ধাপ ২ · বিদেশ থেকে পরিকল্পনা

    ক্ষমতার ধরন ও পরিধি নির্ধারণ

    আইন ও ২০১৫ সালের বিধিমালা তিন ধরনের ক্ষমতা স্বীকার করে: সাধারণ ক্ষমতা, নির্দিষ্ট কাজের জন্য বিশেষ ক্ষমতা, এবং জমি বিক্রয়, বন্ধক বা উন্নয়নের জন্য অপ্রত্যাহারযোগ্য ক্ষমতা। মামলার জন্য সাধারণত মামলার নাম উল্লেখ করে বিশেষ ক্ষমতা, অথবা মামলা করা ও মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সাধারণ ক্ষমতা দেওয়া হয়। বিদেশ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নির পরিধিতে প্রতিটি কাজ উল্লেখ থাকা উচিত: মামলা দায়ের বা মামলায় জবাব দেওয়া, আরজি-জবাব স্বাক্ষর ও সত্যায়ন, আইনজীবী নিয়োগ, সাক্ষ্য দেওয়া, আপস করা, আপিল করা, ডিক্রি জারি করা এবং টাকা গ্রহণ। ঢাকায় রাজউকের প্লট বা ফ্ল্যাটের জন্য অ্যাটর্নি নিয়োগ বা বাতিল করতে রাজউকের পূর্বানুমতিও লাগে।

    কোথায়: ঢাকায় আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ৩-৭ দিন · আইন: পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন, ২০১২-এর ধারা ২(১), (৪) ও (৭); পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালা, ২০১৫-এর বিধি ৭-৯ (বিশেষ, সাধারণ ও অপ্রত্যাহারযোগ্য ক্ষমতা); দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৩ বিধি ২(ক); দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ২৩ বিধি ৩ (আপস) · কাগজপত্র: পাওয়ার অব অ্যাটর্নির খসড়া, অন্তর্ভুক্ত সম্পত্তি বা মামলার তালিকা

    পরামর্শ: স্পষ্ট লিখুন 'আপিল, রিভিশন ও রিভিউ দায়ের ও পরিচালনা করার ক্ষমতা'; এই ক্ষমতা না থাকলে অ্যাটর্নি মামলাটি উচ্চতর আদালতে নিতে পারবেন না।

  3. বিদেশ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি: ধাপ ৩, ছবি ও পরিচয়পত্রসহ ফরম ৩-এ প্রস্তুত করা
    ধাপ ৩ · বিদেশ থেকে পরিকল্পনা

    ছবি ও পরিচয়পত্রসহ ফরম ৩-এ প্রস্তুত করা

    বিদেশে সম্পাদিত ক্ষমতাপত্র বিধিমালার ফরম ৩-এ দুই অংশে প্রস্তুত করতে হয়: মূল কপি ও একটি প্রতিলিপি। এতে দাতা (প্রিন্সিপাল) ও অ্যাটর্নির ছবি এবং তাঁদের পরিচয়ের বিবরণ থাকে। ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর সংশোধনীর পর দাতা বাংলাদেশি পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন সনদ অথবা 'নো ভিসা রিকোয়ার্ড' অনুমোদনসহ বিদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করতে পারেন। দাতা সংযুক্ত দুটি ছবির ওপর দিয়ে স্বাক্ষর ও টিপসই দেন এবং অ্যাটর্নিকে শনাক্ত করেন। নাম, ঠিকানা ও সম্পত্তির তফসিল সরকারি রেকর্ডের সঙ্গে হুবহু মিলতে হবে।

    কোথায়: ঢাকায় আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ২-৫ দিন · আইন: পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালা, ২০১৫ (ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ সংশোধিত)-এর বিধি ১০(১)-(২) ও ফরম ৩; পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন, ২০১২-এর ধারা ৬(৩) ও (৫) · কাগজপত্র: ফরম ৩-এর মূল কপি ও প্রতিলিপি, দাতা ও অ্যাটর্নির ছবি, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মসনদের কপি, অ্যাটর্নির জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি

    পরামর্শ: অ্যাটর্নির নাম জাতীয় পরিচয়পত্রে যেভাবে আছে হুবহু সেভাবে লিখুন; একটি অক্ষরের অমিলেও সাব-রেজিস্ট্রি অফিস বা আদালত ক্ষমতাপত্র নাকচ করতে পারে।

  4. বিদেশ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি: ধাপ ৪, বাংলাদেশ মিশনে স্বাক্ষর
    ধাপ ৪ · বিদেশে স্বাক্ষর

    বাংলাদেশ মিশনে স্বাক্ষর

    সবচেয়ে নিরাপদ পথ হলো মক্কেল যে দেশে থাকেন সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটে কনস্যুলার কর্মকর্তার সামনে সশরীরে স্বাক্ষর করা। কর্মকর্তা পরিচয় যাচাই করেন, স্বাক্ষর ও টিপসই প্রত্যক্ষ করেন এবং মূল কপি ও প্রতিলিপি সত্যায়ন করেন। মিশনগুলো সাধারণত আবেদন ফরম, ছবি, দাতা ও অ্যাটর্নির পরিচয়পত্রের কপি এবং জমির ক্ষেত্রে মালিকানার প্রমাণ চায়; কোনো কোনো মিশন সাক্ষীও চায়। ফি ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা মিশনভেদে ভিন্ন। বাংলাদেশি কনস্যুলার কর্মকর্তার সত্যায়ন বাংলাদেশের কোনো কর্তৃপক্ষের সত্যায়নের মতোই গণ্য হয়, এবং এভাবে প্রমাণীকৃত ক্ষমতাপত্র যথাযথভাবে সম্পাদিত হয়েছে বলে আদালত অনুমান করে।

    কোথায়: বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেট · সময়: ১-১০ দিন · আইন: রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৩৩(১)(গ) ও (৪); কূটনৈতিক ও কনস্যুলার কর্মকর্তা (শপথ ও ফি) আইন, ১৯৪৮-এর ধারা ৩; সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৮৫ · কাগজপত্র: মিশনের আবেদন ফরম, ফরম ৩-এর মূল কপি ও প্রতিলিপি, পরিচয়পত্র, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সম্পত্তির কাগজপত্র

    পরামর্শ: আগেভাগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন এবং আপনার মিশনের নিজস্ব চেকলিস্ট দেখে নিন; কিছু মিশন শুধু নির্দিষ্ট দিনে বা অ্যাপয়েন্টমেন্টের মাধ্যমে সত্যায়ন করে।

  5. ধাপ ৫: বিকল্প: স্থানীয় নোটারি, সঙ্গে অ্যাপোস্টিল বা লিগ্যালাইজেশন
    ধাপ ৫ · বিদেশে স্বাক্ষর

    বিকল্প: স্থানীয় নোটারি, সঙ্গে অ্যাপোস্টিল বা লিগ্যালাইজেশন

    মিশনে যাওয়া বাস্তবসম্মত না হলে, রেজিস্ট্রেশন আইন বিদেশে নোটারি পাবলিকের সামনে সম্পাদিত ও তাঁর দ্বারা প্রমাণীকৃত ক্ষমতাপত্রও স্বীকার করে। তবে সেই নোটারাইজেশনকে বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্য করতে হয়। বাংলাদেশ ২৯ জুলাই ২০২৪ তারিখে অ্যাপোস্টিল কনভেনশনে যোগ দিয়েছে, যা ৩০ মার্চ ২০২৫ থেকে কার্যকর; তাই অন্য সদস্য দেশে নোটারাইজ করা ক্ষমতাপত্র সাধারণত সেখানেই অ্যাপোস্টিল করানো যায়। কয়েকটি বিদ্যমান সদস্য দেশ বাংলাদেশের যোগদানে আপত্তি জানিয়েছে; সেসব দেশ এবং অ-সদস্য দেশের ক্ষেত্রে এখনো সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে লিগ্যালাইজেশন লাগে।

    অ্যাপোস্টিলকৃত দলিলের গ্রহণযোগ্যতা এখনো সব জায়গায় সমান নয়: আগস্ট ২০২৬-এ হাইকোর্ট বিভাগ বাংলাদেশ মিশনগুলোর অভিন্ন গ্রহণযোগ্যতা চেয়ে করা একটি রিট পিটিশনে রুল জারি করেছে।

    কোথায়: বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেট · সময়: ১-৪ সপ্তাহ · আইন: রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮-এর ধারা ৩৩(১)(গ); হেগ অ্যাপোস্টিল কনভেনশন, ১৯৬১ (বাংলাদেশের যোগদান ২৯ জুলাই ২০২৪; কার্যকর ৩০ মার্চ ২০২৫) · কাগজপত্র: নোটারাইজ করা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, অ্যাপোস্টিল সনদ বা লিগ্যালাইজেশন সিল

    পরামর্শ: জমি বা ব্যাংকের কাজে মিশনের সত্যায়নই বেছে নিন; সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও ব্যাংক নোটারাইজ করা ক্ষমতাপত্র নিয়ে অনেক বেশি প্রশ্ন তোলে।

  6. ধাপ ৬: সময়মতো মূল কপি বাংলাদেশে পাঠানো
    ধাপ ৬ · বিদেশে স্বাক্ষর

    সময়মতো মূল কপি বাংলাদেশে পাঠানো

    ২০২৫ সালে যুক্ত একটি উপ-বিধি অনুযায়ী, সত্যায়নের পর মূল কপি ও প্রতিলিপি ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশে পাঠাতে হয়। পরবর্তী প্রতিটি ধাপের সময় গোনা শুরু হয় দলিলটি বাংলাদেশে পৌঁছানোর তারিখ থেকে, তাই সেই তারিখ দেখানো কুরিয়ার রসিদ বা খাম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। কুরিয়ারে মূল কপি হারিয়ে গেলে কাজে লাগবে বলে মক্কেলের উচিত সত্যায়িত স্ক্যান কপি রেখে দেওয়া। বিদেশ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ক্ষেত্রে পার্সেল পৌঁছানোমাত্র ঢাকার অ্যাটর্নি বা আইনজীবীর উচিত দুই, তিন ও চার মাসের সময়সীমা ডায়েরিতে লিখে রাখা।

    কোথায়: বিদেশে বসবাসরত মক্কেল · সময়: কুরিয়ারে ৩-১০ দিন · আইন: পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালা, ২০১৫-এর বিধি ১০(৪ক) (ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ সংযোজিত); স্ট্যাম্প আইন, ১৮৯৯-এর ধারা ১৮(১) (বাংলাদেশে প্রথম পৌঁছানোর তারিখ থেকে সময় গণনা) · কাগজপত্র: কুরিয়ার রসিদ, পৌঁছানোর রেকর্ড, সত্যায়িত ক্ষমতাপত্রের স্ক্যান কপি

    পরামর্শ: মূল কপি সাধারণ ডাকে নয়, ট্র্যাকিংসহ আন্তর্জাতিক কুরিয়ারে পাঠান এবং ট্র্যাকিং রেকর্ড সংরক্ষণ করুন।

  7. ধাপ ৭: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন
    ধাপ ৭ · বাংলাদেশে বৈধকরণ

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন

    বাংলাদেশে পৌঁছানোর দুই মাসের মধ্যে অ্যাটর্নি মূল কপি ও প্রতিলিপি ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার ও কল্যাণ অনুবিভাগে, অথবা সরকার নিযুক্ত অন্য কোনো কর্মকর্তার কাছে দাখিল করেন; তাঁরা বাংলাদেশ মিশনের সিল ও স্বাক্ষর যাচাই করে দুটিই সত্যায়ন করেন। অপ্রত্যাহারযোগ্য ক্ষমতার ক্ষেত্রে আইনেই বলা আছে, প্রথম পৌঁছানোর পর স্ট্যাম্পের আগে এই প্রমাণীকরণ লাগবে। হাইকোর্ট বিভাগ রায় দিয়েছে যে বিধি ১০(৫)-এর ধাপগুলো বিদেশে সম্পাদিত সব ক্ষমতাপত্রের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তা বিশেষ, সাধারণ বা অপ্রত্যাহারযোগ্য যা-ই হোক।

    কোথায়: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কনস্যুলার ও কল্যাণ অনুবিভাগ, ঢাকা · সময়: ১-১০ দিন · আইন: পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালা, ২০১৫-এর বিধি ১০(৫)(ক) (দুই মাস); পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন, ২০১২-এর ধারা ৬(৬); রিট পিটিশন নং ১২৯৮৫/২০২১ (হাইকোর্ট বিভাগ, ২২ মে ২০২২) · কাগজপত্র: ক্ষমতাপত্রের মূল কপি ও প্রতিলিপি, অ্যাটর্নির জাতীয় পরিচয়পত্র, আবেদন বা টোকেন

    পরামর্শ: 'সাধারণ' ক্ষমতাপত্র ভেবে এই ধাপ বাদ দেবেন না; এই ধাপ বাদ পড়া ক্ষমতাপত্রের বলে হলফ করা রিট শুনতে হাইকোর্ট বিভাগ অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

  8. ধাপ ৮: কালেক্টরের মাধ্যমে স্ট্যাম্প
    ধাপ ৮ · বাংলাদেশে বৈধকরণ

    কালেক্টরের মাধ্যমে স্ট্যাম্প

    পৌঁছানোর তিন মাসের মধ্যে ক্ষমতাপত্রে সঠিক শুল্কের স্ট্যাম্প লাগাতে হয়। বিদেশে সম্পাদিত দলিল সাধারণত কোনো ব্যক্তি নিজে স্ট্যাম্প করতে পারেন না, তাই এটি কালেক্টরের কাছে নিতে হয়, যার অর্থ বাস্তবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও জেলা ট্রেজারি; তাঁরা বিশেষ আঠালো স্ট্যাম্প লাগান অথবা ১৯৭৪ সালের আইন অনুযায়ী পরিশোধ লিপিবদ্ধ করেন। যথাযথ স্ট্যাম্প ছাড়া ক্ষমতাপত্র সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা যায় না, তার ভিত্তিতে কাজ করা যায় না বা তা রেজিস্ট্রি করা যায় না। অপ্রত্যাহারযোগ্য ক্ষমতাপত্র স্ট্যাম্প হওয়ার পর কালেক্টর এর একটি কপি বালাম ১-এ নথিভুক্ত করার জন্য সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠান।

    কোথায়: জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (কালেক্টর) ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিস · সময়: ১-৬ সপ্তাহ · আইন: স্ট্যাম্প আইন, ১৮৯৯-এর ধারা ১৮ (তিন মাস); পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালা, ২০১৫-এর বিধি ১০(৫)(খ); স্ট্যাম্প শুল্ক (পরিশোধের অতিরিক্ত পদ্ধতি) আইন, ১৯৭৪; স্ট্যাম্প আইন, ১৮৯৯-এর ধারা ৩৫; পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন, ২০১২-এর ধারা ৬(৬)-(৭) · কাগজপত্র: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সত্যায়িত ক্ষমতাপত্র, স্ট্যাম্প শুল্ক পরিশোধ, কালেক্টরের কাছে আবেদন

    পরামর্শ: প্রতিটি দাখিলের তারিখের লিখিত প্রমাণ রাখুন; ২০২৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগ রায় দিয়েছে যে ট্রেজারির কারণে হওয়া বিলম্বের দায় অ্যাটর্নির ওপর চাপানো যায় না।

  9. ধাপ ৯: জমি জড়িত থাকলে রেজিস্ট্রেশন
    ধাপ ৯ · বাংলাদেশে বৈধকরণ

    জমি জড়িত থাকলে রেজিস্ট্রেশন

    জমি বিক্রয়, বন্ধক বা উন্নয়নের অপ্রত্যাহারযোগ্য ক্ষমতাপত্র অবশ্যই রেজিস্ট্রি করতে হয়। বিধিমালা অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশন প্রযোজ্য হলে বিদেশে সম্পাদিত ক্ষমতাপত্র পৌঁছানোর চার মাসের মধ্যে রেজিস্ট্রেশনের জন্য সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে দাখিল করতে হয়; বাস্তবে স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত যেকোনো ক্ষমতাপত্র এর আওতায় পড়ে। জানুয়ারি ২০২৬ থেকে রেজিস্ট্রেশন আইন বিদেশে সম্পাদিত দলিল পৌঁছানোর ছয় মাসের মধ্যে উপস্থাপনের সুযোগ দেয়, তবে চার মাসের নিয়ম মেনে চলাই নিরাপদ। শুধু মামলা পরিচালনার ক্ষমতাপত্রও দাখিল করতে হবে কি না, সে বিষয়টি অমীমাংসিত, তাই সতর্কতার খাতিরে সেটিও দাখিল করা ভালো।

    কোথায়: জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (কালেক্টর) ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিস · সময়: ১-৪ সপ্তাহ · আইন: পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন, ২০১২-এর ধারা ৬(১); পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালা, ২০১৫-এর বিধি ১০(৫)(গ) (চার মাস); রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২৬ (ছয় মাস, ২০২৬ সালের ১৪ নং আইন দ্বারা সংশোধিত); রিট পিটিশন নং ৩৮৯০/২০২৫ (হাইকোর্ট বিভাগ, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫) · কাগজপত্র: স্ট্যাম্পকৃত ক্ষমতাপত্র, রেজিস্ট্রেশন ফি, সম্পত্তির তফসিল ও খতিয়ান

    পরামর্শ: সরকারি দপ্তরের বিলম্বের কারণে সাব-রেজিস্ট্রার তামাদির অজুহাতে রেজিস্ট্রেশন প্রত্যাখ্যান করলে, হাইকোর্ট বিভাগ রিটের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশনের নির্দেশ দিতে পারে।

  10. ধাপ ১০: অ্যাটর্নির স্বাক্ষর, সত্যায়ন ও দাখিল
    ধাপ ১০ · মামলা পরিচালনা

    অ্যাটর্নির স্বাক্ষর, সত্যায়ন ও দাখিল

    বৈধ ক্ষমতাপত্র থাকলে অ্যাটর্নি মক্কেলের স্বীকৃত প্রতিনিধি (recognised agent) হিসেবে কাজ করেন। অ্যাটর্নি আইনজীবী নিয়োগের ওকালতনামায় স্বাক্ষর করেন, আরজি বা লিখিত জবাবে স্বাক্ষর করেন এবং নিজের ব্যক্তিগত জ্ঞান বা রেকর্ডের ভিত্তিতে তা সত্যায়ন করেন। আদালত যাতে কর্তৃত্ব দেখতে পায়, সে জন্য আরজি-জবাবের সঙ্গে ক্ষমতাপত্র বা এর সার্টিফায়েড কপি দাখিল করা হয়। বিদেশি কোনো কোম্পানি পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা অ্যাটর্নির মাধ্যমে কাজ করে। এই পর্যায়ে প্রতিপক্ষের সবচেয়ে সাধারণ আপত্তিগুলোর একটি হলো ত্রুটিপূর্ণ বিদেশ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি।

    কোথায়: প্রথম দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: ১-৪ সপ্তাহ · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৩ বিধি ১, ২ ও ৪; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৬ বিধি ১৪ ও ১৫; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ২৯ বিধি ১ · কাগজপত্র: স্ট্যাম্পকৃত (এবং প্রয়োজনে রেজিস্ট্রিকৃত) ক্ষমতাপত্র, ওকালতনামা, সত্যায়নসহ আরজি বা লিখিত জবাব

    পরামর্শ: সার্টিফায়েড কপি দাখিল করুন এবং মূল কপি নিরাপদে রাখুন; আদালত দেখতে চাইলে তবেই মূল কপি দেখান।

  11. ধাপ ১১: বিদেশে সমন পেলে মামলায় জবাব দেওয়া
    ধাপ ১১ · মামলা পরিচালনা

    বিদেশে সমন পেলে মামলায় জবাব দেওয়া

    বিদেশে বসবাসকারী যে বিবাদীর বাংলাদেশে কোনো প্রতিনিধি নেই, তাঁর বিদেশি ঠিকানায় ডাকযোগে এবং ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সমন জারি করা যায়; ২০২৬ সালের সংশোধনীর পর ইলেকট্রনিক মাধ্যমে স্পষ্টভাবে এসএমএস, ভয়েস কল ও ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং সেবা অন্তর্ভুক্ত। সমন জারি হলে বিবাদী বাংলাদেশে থাকুন বা না থাকুন, লিখিত জবাব দাখিলের সময় গোনা শুরু হয়ে যায়। মক্কেলের উচিত সঙ্গে সঙ্গে ঢাকার একজন আইনজীবী নিয়োগ করা, ওকালতনামা বা ক্ষমতাপত্র স্বাক্ষর করা এবং অ্যাটর্নির মাধ্যমে জবাব দাখিল করা। সমন উপেক্ষা করলে একতরফা ডিক্রির ঝুঁকি থাকে, যা পরে বাংলাদেশে থাকা সম্পত্তির বিরুদ্ধে জারি করা যায়।

    কোথায়: প্রথম দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: জবাব দিতে ৩০-৬০ দিন · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৫ বিধি ৯(৩) (২০২৬ সালে সংশোধিত) ও বিধি ২৫; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৮ বিধি ১; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৯ বিধি ১৩ (২০২৬ সালে সংশোধিত: একই বিবাদীর আবেদনে ডিক্রি কেবল একবারই রদ করা যায়) · কাগজপত্র: সমন ও আরজির কপি, ওকালতনামা বা ক্ষমতাপত্র, লিখিত জবাব

    পরামর্শ: আপনার বাংলাদেশি ই-মেইল ও ফোন নম্বর আইনজীবীর কাছে হালনাগাদ রাখুন; এখন ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সমন জারিও গণ্য হয়।

  12. ধাপ ১২: মিশনে হলফনামা সম্পাদন
    ধাপ ১২ · মামলা পরিচালনা

    মিশনে হলফনামা সম্পাদন

    নিষেধাজ্ঞা বা ক্রোকের মতো অনেক দরখাস্তের সমর্থনে হলফনামা লাগে। বিদেশে বাংলাদেশি কূটনৈতিক বা কনস্যুলার কর্মকর্তা শপথ পাঠ করাতে ও হলফনামা গ্রহণ করতে পারেন; তাঁদের সামনে সম্পাদিত হলফনামা বাংলাদেশে সম্পাদিত হলফনামার মতোই কার্যকর এবং সিলের প্রমাণ ছাড়াই গ্রহণযোগ্য। বিকল্পভাবে, অ্যাটর্নি ঢাকায় নিজের জানা বিষয়ে হলফ করতে পারেন। হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশনের ক্ষেত্রে হলফকারী সাধারণত সুপ্রিম কোর্টের কমিশনার অব অ্যাফিডেভিটসের সামনে হলফ করেন, তাই মিশনের হলফনামার ওপর নির্ভর করার আগে রেজিস্ট্রির বর্তমান চর্চা যাচাই করুন।

    কোথায়: বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেট · সময়: ১-১০ দিন · আইন: কূটনৈতিক ও কনস্যুলার কর্মকর্তা (শপথ ও ফি) আইন, ১৯৪৮-এর ধারা ৩(১)-(২); দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১৩৯; সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট বিভাগ) রুলস, ১৯৭৩-এর অধ্যায় ১১ক · কাগজপত্র: আইনজীবীর তৈরি হলফনামার খসড়া, পরিচয়পত্র, হলফকারীর অনুস্বাক্ষরযুক্ত সংযুক্তি

    পরামর্শ: হলফের জন্য আইনজীবীকে দিয়ে চূড়ান্ত পাঠ পাঠিয়ে নিন; হলফ করার পর হলফনামা বদলালে আবার হলফ করতে হয়।

  13. ধাপ ১৩: সাক্ষ্য: অ্যাটর্নি কী প্রমাণ করতে পারেন
    ধাপ ১৩ · সাক্ষ্য, রায় ও এর পরে

    সাক্ষ্য: অ্যাটর্নি কী প্রমাণ করতে পারেন

    এখন জবানবন্দি (examination-in-chief) হলফনামার মাধ্যমে দেওয়া হয়, এরপর জেরা হয়। অ্যাটর্নি নিজে যেসব কাজ করেছেন, যেমন সম্পত্তি দেখাশোনা, ভাড়া আদায় বা বিবাদীর সঙ্গে লেনদেন, সেসব বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে পারেন এবং নিজের হেফাজতে থাকা দলিল প্রমাণ করতে পারেন। মৌখিক সাক্ষ্য প্রত্যক্ষ হতে হয়, তাই যেসব তথ্য কেবল দাতাই জানেন, যেমন অ্যাটর্নি উপস্থিত ছিলেন না এমন কোনো বৈঠকে কী বলা হয়েছিল, সে বিষয়ে অ্যাটর্নি দাতার পরিবর্তে সাক্ষ্য দিতে পারেন না। মক্কেলের নিজের জ্ঞান অপরিহার্য হলে ভিডিওতে, কমিশনের মাধ্যমে বা সশরীরে মক্কেলের সাক্ষ্যের পরিকল্পনা করুন।

    কোথায়: প্রথম দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: ৬-২৪ মাসে কয়েকটি শুনানি · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ১৮ বিধি ৪ক (২০২৬ সালে সংযোজিত); সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৬০ · কাগজপত্র: জবানবন্দির হলফনামা, প্রদর্শনীর জন্য দলিলপত্র

    পরামর্শ: এমন অ্যাটর্নি বেছে নিন যিনি সত্যিই সম্পত্তি বা লেনদেনটি দেখাশোনা করেছেন; প্রত্যক্ষ জ্ঞানহীন আত্মীয় দুর্বল সাক্ষী হন।

  14. ধাপ ১৪: ভিডিও শুনানি ও ভার্চুয়াল সাক্ষ্য
    ধাপ ১৪ · সাক্ষ্য, রায় ও এর পরে

    ভিডিও শুনানি ও ভার্চুয়াল সাক্ষ্য

    আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০ আদালতকে ভিডিওর মাধ্যমে শুনানি ও সাক্ষ্য গ্রহণের সুযোগ দেয় এবং পক্ষের ভার্চুয়াল উপস্থিতিকে আদালতে সশরীর উপস্থিতি হিসেবে গণ্য করে। কোনো নির্দিষ্ট বিচারক তা অনুমোদন করবেন কি না, সেটি সুপ্রিম কোর্টের প্র্যাকটিস নির্দেশনা সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট আদালতের বিষয়। ৩ মে ২০২৬ তারিখে প্রধান বিচারপতি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বুধ ও বৃহস্পতিবারের ভার্চুয়াল বৈঠক স্থগিত করেছেন, তাই সেখানে শুনানি সশরীরে হচ্ছে; তবে আইনটি বলবৎ রয়েছে। দূরত্ব বা স্বাস্থ্যের মতো কারণ দেখিয়ে আইনজীবী আবেদন করতে পারেন, যাতে মক্কেল উপযুক্ত কোনো স্থান থেকে ভিডিওতে হাজির হন বা সাক্ষ্য দেন।

    কোথায়: প্রথম দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: প্রতি শুনানিতে · আইন: আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০ (২০২০ সালের ১১ নং আইন)-এর ধারা ৩, ৪ ও ৫; ভার্চুয়াল আদালত বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্র্যাকটিস নির্দেশনা · কাগজপত্র: ভার্চুয়াল উপস্থিতির আবেদন, পরিচয়ের প্রমাণ, লিংকের কারিগরি বিবরণ

    পরামর্শ: নির্ধারিত তারিখের আগে আদালতের আইটি কর্মীদের সঙ্গে সংযোগ পরীক্ষা করে নিন; সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে সাধারণত মুলতবি হয়।

  15. ধাপ ১৫: বিদেশে মক্কেলের সাক্ষ্য গ্রহণে কমিশন
    ধাপ ১৫ · সাক্ষ্য, রায় ও এর পরে

    বিদেশে মক্কেলের সাক্ষ্য গ্রহণে কমিশন

    মক্কেলের সাক্ষ্য প্রয়োজন কিন্তু ভ্রমণ সম্ভব নয়, এমন ক্ষেত্রে আদালত এখতিয়ারের বাইরে বসবাসকারী ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণে কমিশন জারি করতে পারে, এবং বাংলাদেশের বাইরে থাকা ব্যক্তির জন্য কমিশন বা বিদেশি আদালতের কাছে অনুরোধপত্র (letter of request) পাঠাতে পারে। কমিশন কোনো আদালত, আইনজীবী বা আদালত নিযুক্ত অন্য কোনো ব্যক্তি সম্পাদন করতে পারেন, যিনি সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করে ফেরত পাঠান। সাক্ষী আদালতের এখতিয়ারের বাইরে থাকলে কমিশনে নেওয়া সাক্ষ্য বিচারে পাঠ করা যায়।

    কোথায়: প্রথম দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: ৩-১২ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ২, ৪(১)(ক) ও ৫; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ৭-৮ · কাগজপত্র: হলফনামাসহ দরখাস্ত, প্রশ্নমালা বা প্রশ্নসমূহ, কমিশনারের ফি জমা

    পরামর্শ: কমিশন ধীর ও ব্যয়বহুল; বিচারক অনুমতি দিলে ভিডিও সাক্ষ্য সাধারণত দ্রুততর।

  16. ধাপ ১৬: অ্যাটর্নির মাধ্যমে রায়, ডিক্রি ও জারি
    ধাপ ১৬ · সাক্ষ্য, রায় ও এর পরে

    অ্যাটর্নির মাধ্যমে রায়, ডিক্রি ও জারি

    রায়ের পর অ্যাটর্নি সার্টিফায়েড কপি তোলেন, ফলাফল জানান এবং মক্কেল জিতলে জারির আবেদন করেন; ২০২৬ সাল থেকে মূল মামলার নথিতেই জারির আবেদন করা যায়। ক্ষমতাপত্রে স্পষ্টভাবে অনুমতি থাকলে অ্যাটর্নি আদালতে জমা হওয়া টাকা গ্রহণ ও রসিদ দিতে পারেন, এরপর মক্কেল ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশে টাকা নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। মক্কেল হারলে আপিলের সময়সীমা সাধারণত ডিক্রির তারিখ থেকে শুরু হয়, তাই দ্রুত নির্দেশনা দিতে হয়। সুচিন্তিতভাবে খসড়া করা বিদেশ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নতুন কাগজপত্র ছাড়াই মক্কেলকে এই শেষ ধাপগুলো পার করিয়ে দেয়।

    কোথায়: প্রথম দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: রায়ের পর ১-৩ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ২০ বিধি ৬-৭; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ২১ বিধি ১০ ও ১০৪ (২০২৬ সালে সংশোধিত); পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন, ২০১২-এর ধারা ৭ · কাগজপত্র: রায় ও ডিক্রির সার্টিফায়েড কপি, জারির দরখাস্ত, পরিশোধিত টাকার রসিদ

    পরামর্শ: রায় স্বাক্ষরের দিনই তা পাঠাতে আইনজীবীকে বলুন; বিদেশ থেকে ৩০ দিনের (জেলা জজ) বা ৯০ দিনের (হাইকোর্ট বিভাগ) আপিলের মেয়াদ দ্রুত পার হয়ে যায়।

বিকল্প পথ · আপিল, রিভিশন, রিভিউ, রেফারেন্স, রিমান্ড

যদি এমন হয়…? বিদেশ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে

একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।

এই পরিস্থিতির পথ
ওপরেফেরত
বিকল্প পথ · প্রবাসী মক্কেল → বাংলাদেশ মিশন → দেওয়ানি আদালত

কখন মক্কেলকে সশরীরে হাজির হতে হয়, আর এর বিকল্প কী?

  1. 1
    প্রথম দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ)

    আদালতের নির্দেশে ব্যক্তিগত হাজিরা

    সাধারণত পক্ষ অ্যাটর্নি বা আইনজীবীর মাধ্যমে হাজির হতে পারেন। তবে আদালত কোনো পক্ষকে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিতে পারে, আরজি-জবাব স্পষ্ট করতে পক্ষকে পরীক্ষা করতে পারে, অথবা যেসব তথ্য কেবল পক্ষই জানেন সেখানে পক্ষের নিজের সাক্ষ্য চাইতে পারে। ফৌজদারি মামলা ভিন্ন: অভিযুক্তকে সাধারণত নিজে হাজির হতে হয়, যদিও কিছু ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট হাজিরা মওকুফ করতে পারেন। পারিবারিক বিষয় ও আপস-বৈঠকেও মক্কেলকে ডাকা হতে পারে।

    নির্দেশ অনুযায়ীদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৩ বিধি ১দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৫ বিধি ৩ ও আদেশ ১০ বিধি ২ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC), ১৮৯৮-এর ধারা ২০৫
  2. 2
    বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেট

    ভ্রমণের বিকল্প

    ব্যক্তিগত হাজিরা প্রয়োজন হলে আইনজীবী আদালতকে ভিডিও উপস্থিতি গ্রহণ করতে, বিদেশে সাক্ষ্য গ্রহণে কমিশন জারি করতে, অথবা বাংলাদেশ মিশনে সম্পাদিত হলফনামা গ্রহণ করতে অনুরোধ করতে পারেন। সিদ্ধান্ত আদালতের। আদালত হাজিরার ওপর অনড় থাকলে আর মক্কেল আসতে না পারলে প্রমাণের অভাবে দাবি ব্যর্থ হতে পারে, তাই বিষয়টি আগেভাগে তুলুন।

    কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ৪-৫কূটনৈতিক ও কনস্যুলার কর্মকর্তা (শপথ ও ফি) আইন, ১৯৪৮-এর ধারা ৩আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০-এর ধারা ৩-৪

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: মক্কেল ভিডিওতে, কমিশনের মাধ্যমে বা সশরীরে সাক্ষ্য দেন, অথবা শুধু অ্যাটর্নির সাক্ষ্যের ভিত্তিতে মামলা চলে।

বিকল্প পথ · প্রবাসী মক্কেল → বাংলাদেশ মিশন → ডিসি / সাব-রেজিস্ট্রি → দেওয়ানি আদালত

পাওয়ার অব অ্যাটর্নি কীভাবে বাতিল বা পরিবর্তন করব?

  1. 1
    বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেট

    প্রত্যাহারের নোটিশ

    রেজিস্টার্ড ডাকে অ্যাটর্নিকে ত্রিশ দিনের নোটিশ দিয়ে সাধারণ ক্ষমতাপত্র প্রত্যাহার করা যায়; নোটিশের আগে করা কাজ বৈধ থাকে। জমির অপ্রত্যাহারযোগ্য ক্ষমতাপত্র কেবল তখনই শেষ করা যায় যখন এর উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয় বা কোনো পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হন; এ ক্ষেত্রেও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কপিসহ ত্রিশ দিনের রেজিস্টার্ড নোটিশ দিতে হয়, এবং বিরোধ হলে প্রথমে আপস, তারপর মধ্যস্থতাকারী এবং শেষে আদালতে যায়। দাতার মৃত্যু বা মানসিক অপ্রকৃতিস্থতায়ও ক্ষমতাপত্রের অবসান ঘটে, তবে অপ্রত্যাহারযোগ্য ক্ষমতাপত্রের ক্ষেত্রে নয়।

    ৩০ দিনের নোটিশপাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন, ২০১২-এর ধারা ১১(১)(ঘ), (২) ও (৩)পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন, ২০১২-এর ধারা ৪(৩) ও ধারা ১৩
  2. 2
    প্রথম দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ)

    আদালত ও রেজিস্ট্রি অফিসকে জানানো

    প্রত্যাহারপত্র সম্পাদন করুন, সম্ভব হলে বাংলাদেশ মিশনে, এবং একই সত্যায়ন ও স্ট্যাম্পের ধাপগুলো পার করান। চলমান প্রতিটি মামলায় নতুন অ্যাটর্নির নামে নতুন ক্ষমতাপত্র বা ওকালতনামাসহ তা দাখিল করুন, আর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও ব্যাংকে একটি কপি পাঠান। রাজউকের প্লট ও ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে প্রত্যাহারেও রাজউকের সম্মতি লাগে।

    ১-৩ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৩ বিধি ৪(২)পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালা, ২০১৫-এর বিধি ১০(৫)

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: পুরোনো অ্যাটর্নির কর্তৃত্ব শেষ হয় এবং নতুন অ্যাটর্নি বা মক্কেল নিজে মামলা চালিয়ে যান।

আপিল · দেওয়ানি আদালত → জেলা জজ → হাইকোর্ট বিভাগ

হেরে গেলে বিদেশ থেকে আপিল করতে চাইলে কী হবে?

  1. 1
    জেলা জজ আদালত

    অ্যাটর্নির মাধ্যমে প্রথম আপিল

    সিভিল জজ বা সিনিয়র সিভিল জজের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ত্রিশ দিনের মধ্যে জেলা জজের কাছে যায়; ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের মামলায় যুগ্ম জেলা জজের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলও সেখানে যায়। এর বেশি হলে আপিল নব্বই দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে যায়। ক্ষমতাপত্রে আপিলের ক্ষমতা থাকলে তবেই অ্যাটর্নি আপিলের মেমোরেন্ডামে স্বাক্ষর করতে পারেন; নইলে নতুন ক্ষমতাপত্র লাগে, যা বিদেশ থেকে কয়েক সপ্তাহ সময় নেয়। প্রথম আপিলে তথ্য ও আইন দুটোই পুনরায় শোনা হয়, সাধারণত নতুন সাক্ষ্য ছাড়াই, তাই মক্কেলকে কদাচিৎ হাজির হতে হয়।

    দাখিলে ৩০-৯০ দিন; ১-৪ বছরদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৯৬দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ২১ (২০২১ সালে সংশোধিত; ২০২৬ সালে আদালতের নাম পরিবর্তিত)তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৫২ ও ১৫৬

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল আদালত ডিক্রি বহাল, পরিবর্তন বা রদ করে; পরবর্তী ধাপ রিভিশন বা লিভ।

রিভিশন · জেলা জজ → হাইকোর্ট বিভাগ → আপিল বিভাগ

হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগ কি হস্তক্ষেপ করতে পারে?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    ধারা ১১৫-এর অধীনে দেওয়ানি রিভিশন

    দ্বিতীয় আপিলের সুযোগ নেই। জেলা জজের আপিল ডিক্রির বিরুদ্ধে, ন্যায়বিচার ব্যাহতকারী আইনগত ভুলের ভিত্তিতে অ্যাটর্নি হাইকোর্ট বিভাগে দেওয়ানি রিভিশন দায়ের করেন। সমর্থক হলফনামা সাধারণত অ্যাটর্নি ঢাকায় নথির ভিত্তিতে সম্পাদন করেন, তাই মক্কেলকে আসতে হয় না। বিচারিক আদালতের অন্তর্বর্তী আদেশের বিরুদ্ধে প্রথমে জেলা জজের কাছে যেতে হয়, তারপর কেবল অনুমতি (লিভ) সাপেক্ষে হাইকোর্ট বিভাগে।

    ১-৩ বছরদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫(১), (২) ও (৪)
  2. 2
    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ

    আপিল বিভাগে আপিলের অনুমতি (লিভ)

    হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে ষাট দিনের মধ্যে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়। বিদেশে সম্পাদিত ক্ষমতাপত্রের বৈধতার মতো আইনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে লিভ মঞ্জুর হয়। আপিল বিভাগ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীনে নিজের রায় রিভিউ করতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করে প্রমাণীকৃত ক্ষমতাপত্র থাকলে এই পর্যায়ে বিলম্ব এড়ানো যায়।

    ১-৩ বছরগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং অধস্তন সব আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।

রিভিউ · দেওয়ানি আদালত → দেওয়ানি আদালত

একই আদালত কি নিজের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারে?

  1. 1
    প্রথম দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ)

    আদেশ ৪৭-এর অধীনে রিভিউ

    যে পক্ষ আপিল করেননি, তিনি নব্বই দিনের মধ্যে একই আদালতকে ডিক্রি রিভিউ করতে বলতে পারেন, যদি যথাযথ চেষ্টা সত্ত্বেও দাখিল করা যায়নি এমন নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য পাওয়া যায়, নথিতে সুস্পষ্ট ভুল থাকে, অথবা অন্য কোনো পর্যাপ্ত কারণ থাকে। রায়ের পর বিদেশে কোনো দলিলের খোঁজ পাওয়া প্রবাসী মক্কেল রিভিউ করতে পারেন, তবে কেন তা আগে দাখিল করা যায়নি তা ব্যাখ্যা করতে হবে। রিভিউ পুনঃশুনানি নয়।

    দাখিলে ৯০ দিন; ২-৬ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৪ ও আদেশ ৪৭ বিধি ১তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৭৩

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: ডিক্রি সংশোধিত হয়, অথবা রিভিউ ব্যর্থ হয় এবং আপিলের পথ খোলা থাকে।

রেফারেন্স · দেওয়ানি আদালত → হাইকোর্ট বিভাগ → দেওয়ানি আদালত

আইনের কোনো প্রশ্নে আদালত নিশ্চিত না হলে কী হয়?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স

    বিচারিক আদালতের আইনের কোনো প্রশ্নে প্রকৃত সন্দেহ থাকলে, যেমন মিশনের সত্যায়ন ছাড়া অ্যাপোস্টিলকৃত নোটারাইজ ক্ষমতাপত্র বিধিমালার শর্ত পূরণ করে কি না, আদালত বিষয়টি বিবৃত করে হাইকোর্ট বিভাগে রেফার করতে পারে। রেফারেন্স বিরল; আদালত সাধারণত নিজেই প্রশ্নটির নিষ্পত্তি করে এবং আপিলের জন্য রেখে দেয়।

    ৬-১৮ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৩দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪৬ বিধি ১-৩
  2. 2
    প্রথম দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ)

    উত্তর অনুযায়ী মামলার নিষ্পত্তি

    হাইকোর্ট বিভাগ উত্তর দেওয়ার পর বিচারিক আদালত সেই মতামত অনুযায়ী আপত্তি বা মামলার নিষ্পত্তি করে। ক্ষমতাপত্র ত্রুটিপূর্ণ সাব্যস্ত হলে আদালত সাধারণত সরাসরি মামলা খারিজ না করে যথাযথভাবে প্রমাণীকৃত নতুন ক্ষমতাপত্রের জন্য সময় দেয়, তবে বিদেশ থেকে এতে কয়েক মাস দেরি হতে পারে।

    ১-৩ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪৬ বিধি ৩

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: প্রশ্নটির মীমাংসা হয় এবং সেই ভিত্তিতে নিম্ন আদালতে মামলা চলে।

রিমান্ড (ফেরত) · দেওয়ানি আদালত → জেলা জজ → দেওয়ানি আদালত → জেলা জজ

মামলা নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠানো হলে কী হবে?

  1. 1
    জেলা জজ আদালত

    নতুন সাক্ষ্যের জন্য পুনর্বিচারের উদ্দেশ্যে নিম্ন আদালতে ফেরত (রিমান্ড)

    বিচারিক আদালত যদি মক্কেলের সাক্ষ্য গ্রহণে বাধা দিয়ে থাকে, যেমন যথাযথ কারণ ছাড়া কমিশন বা ভিডিও পরীক্ষা নামঞ্জুর করে, তাহলে আপিল আদালত ডিক্রি রদ করে মামলা পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠাতে পারে। ২০২৬ সাল থেকে নথি পর্যাপ্ত হলে আপিল আদালতকে নিজেই মামলার নিষ্পত্তি করতে হয়, তাই ফেরত পাঠানো হয় কেবল প্রকৃত ঘাটতির ক্ষেত্রে। ফেরত পাঠানোর আদেশের বিরুদ্ধে আপিল নয়, ধারা ১১৫(১)-এর অধীনে দেওয়ানি রিভিশন করতে হয়।

    আপিলের রায়ের সঙ্গেদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪১ বিধি ২৩-২৫ (বিধি ২৪, ২০২৬ সালে সংশোধিত)দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫(১)
  2. 2
    প্রথম দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ)

    পুনর্বিচার ও নতুন ডিক্রি

    বিচারিক আদালত অনুপস্থিত সাক্ষ্য গ্রহণ করে, প্রায়ই কমিশন বা ভিডিওর মাধ্যমে, এবং নতুন ডিক্রি দেয়। সেই ডিক্রির বিরুদ্ধে আবার জেলা জজের কাছে আপিল এবং তারপর হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন করা যায়। পুনর্বিচার শুরুর আগে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি এখনো বৈধ কি না যাচাই করুন; মেয়াদোত্তীর্ণ বা প্রত্যাহৃত ক্ষমতাপত্র বদলাতে হবে।

    ৬-১৮ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪১ বিধি ২৩দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ৫দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৯৬

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: নিম্ন আদালতে নতুন ডিক্রি হয়, যা আবার আপিল ও রিভিশনের মাধ্যমে উচ্চ আদালতে যেতে পারে।

নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত

বিদেশ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে

বিদেশ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রথমে আদালত নয়, কয়েকটি দপ্তর পার হয়: বিদেশে বাংলাদেশ মিশন, তারপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কালেক্টর এবং জমির ক্ষেত্রে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস। এদের কেউই বিরোধের নিষ্পত্তি করে না, কিন্তু এখানে কোনো ভুল হলে পরবর্তী সব দাখিল অবৈধ হয়ে যেতে পারে, আর কোনো দপ্তর বেআইনিভাবে প্রত্যাখ্যান করলে হাইকোর্ট বিভাগে রিটের মাধ্যমে তা চ্যালেঞ্জ করা যায়। মামলা নিজে শুরু হয় বিষয়বস্তু ও মূল্যমান অনুযায়ী নির্ধারিত আদালতে।

২০২১ (আর্থিক এখতিয়ার) ও ২০২৬ (সিভিল জজের নাম পরিবর্তন করে সিভিল জজ) সালে সংশোধিত দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭ অনুযায়ী সিভিল জজ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত, সিনিয়র সিভিল জজ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং যুগ্ম জেলা জজ এর বেশি মূল্যমানের মামলা শোনেন। আপিল যায় জেলা জজের কাছে, তবে ৫ কোটি টাকার বেশি মূল্যমানের মামলায় যুগ্ম জেলা জজের ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল যায় হাইকোর্ট বিভাগে। প্রথম আপিলে নথির ভিত্তিতে তথ্য ও আইন দুটোই পুনরায় শোনা হয়, তাই প্রবাসী মক্কেলকে খুব কমই দেশে আসতে হয়।

এ ছাড়া হাইকোর্ট বিভাগ আইনগত ভুলের প্রশ্নে রিভিশন শোনে, আর সবশেষে আপিল বিভাগ অনুমতি (লিভ) সাপেক্ষে মামলা শোনে।

  1. আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
  2. হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
  3. আপিল পর্যায়জেলা জজ আদালত
  4. প্রথম দফার আদালতপ্রথম দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ)
  5. শুরু · আদালতের বাইরেবিদেশে বসবাসরত মক্কেল · বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেট · ঢাকায় আইনজীবীর চেম্বার · পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কনস্যুলার ও কল্যাণ অনুবিভাগ, ঢাকা · জেলা প্রশাসকের কার্যালয় (কালেক্টর) ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিস
আদালত ও ঠিকানা

আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়

ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।

আপিল বিভাগ

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০

হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।

দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।

আপিল পর্যায়

জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা (ঢাকা জজ কোর্ট)

ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা

ঢাকার জেলা জজ (District Judge) ও অতিরিক্ত জেলা জজদের আদালত (দেওয়ানি আপিল, প্রোবেট, মহানগর এলাকার বাইরের জেলা পর্যায়ের দেওয়ানি ও দায়রা মামলা), এবং প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতসমূহ (যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সিভিল জজ/সিভিল জজ আদালত)।

সরকারি বিচার বিভাগীয় পোর্টালে ঠিকানা দেওয়া আছে "১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা"। অনেক দেওয়ানি আদালত (অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত, যুগ্ম জেলা জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, অর্থঋণ আদালত নং ১, দেউলিয়া আদালত) একই প্রাঙ্গণে নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনে বসে। ২০২৬ সালের জাজশিপ তালিকায় প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতগুলোর নাম "সিনিয়র সিভিল জজ" / "সিভিল জজ" (আগে সিনিয়র সহকারী জজ / সিভিল জজ); কিছু পাতায় এখনো পুরোনো নাম ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি জেলায় জেলা জাজশিপে এর সমতুল্য আদালত রয়েছে।

শুরু · আদালতের বাইরে

বিদেশে বসবাসরত মক্কেল

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

শুরু · আদালতের বাইরে

বিদেশে বাংলাদেশ মিশন (হাইকমিশন, দূতাবাস ও কনস্যুলেট)

আপনি যে দেশে থাকেন, সেই দেশের বাংলাদেশ মিশন (একক কোনো ঠিকানা নেই)

বিদেশে স্বাক্ষরিত মোক্তারনামা / পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, হলফনামা ও অন্যান্য দলিল সত্যায়ন করে, যাতে সেগুলো বাংলাদেশের আদালত বা অফিসে ব্যবহার করা যায়।

যে দেশে দলিলে স্বাক্ষর করবেন, সেই দেশের দায়িত্বে থাকা মিশন ব্যবহার করুন; মিশনের তালিকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আছে। বিদেশে সত্যায়িত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সাধারণত ব্যবহারের আগে বাংলাদেশে (আইনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে) স্ট্যাম্প ও প্রত্যয়ন করাতে হয়। সাক্ষাতের সময়, ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জন্য মিশনের নিজস্ব ওয়েবসাইট দেখুন।

শুরু · আদালতের বাইরে

ঢাকায় আইনজীবীর চেম্বার

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

শুরু · আদালতের বাইরে

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কনস্যুলার ও কল্যাণ অনুবিভাগ (সত্যায়ন)

সেগুনবাগিচা, ঢাকা

বিদেশে ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশি দলিল (সনদ, দলিল, আদালতের কাগজ) সত্যায়ন করে এবং বাংলাদেশে বিদেশি মিশনের সত্যায়িত দলিল প্রত্যয়ন করে।

সত্যায়ন কাউন্টারের বর্তমান অবস্থান কোনো সরকারি সূত্র থেকে যাচাই করা যায়নি। যাওয়ার আগে কাউন্টারের অবস্থান, সময় এবং অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা আছে কি না, তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেখে নিন।

শুরু · আদালতের বাইরে

জেলা প্রশাসকের (জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) কার্যালয়, ঢাকা

ঢাকা (সঠিক ঠিকানা নিশ্চিত নয়)

জেলা প্রশাসন: ভূমি রাজস্ব ও রেকর্ড সংশোধন সংক্রান্ত আপিল, সার্টিফিকেট মামলা, ভূমি অধিগ্রহণ, এবং ঢাকা জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত।

dhaka.gov.bd থেকে সরকারি রাস্তার ঠিকানা পড়া যায়নি (এর যোগাযোগের পাতা লোড হয়নি); বিচার বিভাগীয় পোর্টাল অফিসের ফোন ০২-২২৩৩৮৯৭৮৬ নিশ্চিত করে। যাওয়ার আগে বর্তমান ঠিকানা যাচাই করে নিন। প্রতিটি জেলা সদরে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় আছে।

নির্দেশক সময়রেখা

প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে

এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।

বিদেশ থেকে পরিকল্পনা
০.৫–১ মাস
বিদেশে স্বাক্ষর
০.৫–২ মাস
বাংলাদেশে বৈধকরণ
১–৪ মাস
মামলা পরিচালনা
৩–১২ মাস
সাক্ষ্য, রায় ও এর পরে
১২–৪৮ মাস
গাঢ় রেখা = দ্রুত নিষ্পত্তি · হালকা রেখা = ধীর নিষ্পত্তিপ্রথম দফার যাত্রা: ১৭–৬৭ মাস · সামগ্রিক: ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক সময়: মিশনে খসড়া ও স্বাক্ষর ১-৪ সপ্তাহ; কুরিয়ার, সত্যায়ন, স্ট্যাম্প ও প্রয়োজনে রেজিস্ট্রেশন ১-৪ মাস; এরপর মামলাটি তার ধরন অনুযায়ী স্বাভাবিক গতিতে চলে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দেওয়ানি মামলায় প্রথম আদালতেই প্রায়ই ২-৫ বছর
প্রস্তুতি

কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা

আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।

মোক্তারনামা / পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (Power of attorney)
যে দলিলের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি (দাতা) অন্য কাউকে (অ্যাটর্নি) তাঁর পক্ষে কাজ করার আইনগত ক্ষমতা দেন (পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন, ২০১২-এর ধারা ২(১))।
সাধারণ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (General power of attorney)
অপ্রত্যাহারযোগ্য ক্ষমতাপত্র ছাড়া অন্য যেকোনো ক্ষমতাপত্র; ত্রিশ দিনের রেজিস্টার্ড নোটিশ দিয়ে এটি প্রত্যাহার করা যায়।
অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (Irrevocable power of attorney)
স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়, বিক্রয়ের চুক্তি বা বন্ধক, অথবা প্রতিদানের বিনিময়ে জমি উন্নয়নের ক্ষমতাপত্র; এর রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক।
স্বীকৃত প্রতিনিধি (Recognised agent)
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩ অনুযায়ী পাওয়ার অব অ্যাটর্নিধারী ব্যক্তি, যিনি কোনো পক্ষের হয়ে আদালতে হাজির হতে, দরখাস্ত করতে ও কাজ করতে পারেন।
কনস্যুলার সত্যায়ন (Consular attestation)
বিদেশে বাংলাদেশি কূটনৈতিক বা কনস্যুলার কর্মকর্তার মাধ্যমে কোনো স্বাক্ষর বা দলিলের প্রমাণীকরণ।
অ্যাপোস্টিল (Apostille)
১৯৬১ সালের হেগ কনভেনশনের অধীনে উৎস দেশে জারি করা সনদ, যা সরকারি দলিলের কনস্যুলার লিগ্যালাইজেশনের বিকল্প।
কালেক্টর (Collector)
রাজস্ব কর্মকর্তা, বাস্তবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, যিনি স্ট্যাম্প আইন, ১৮৯৯-এর ধারা ১৮ অনুযায়ী বিদেশে সম্পাদিত দলিলে স্ট্যাম্প দেন।
কমিশন (Commission)
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৬ অনুযায়ী আদালতের আদেশ, যার মাধ্যমে আদালতে হাজির হতে অক্ষম সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য কাউকে নিযুক্ত করা হয়।
ওকালতনামা (Vakalatnama)
নির্দিষ্ট মামলায় কাজ করার জন্য আইনজীবী নিয়োগের লিখিত ক্ষমতাপত্র।
প্রশ্নোত্তর

বিদেশ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি: সাধারণ প্রশ্ন

বিদেশে থেকে কি পুরো মামলা চালানো যায়?
বেশির ভাগ দেওয়ানি মামলায়, হ্যাঁ। বৈধ বিদেশ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি থাকলে আপনার অ্যাটর্নি ও ঢাকার আইনজীবী মামলা দায়ের করতে, শুনানিতে হাজির হতে, তাঁদের জানা বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে এবং আপিল ও জারির কাজ চালাতে পারেন। তবে যেসব তথ্য কেবল আপনিই জানেন, অথবা আদালত ব্যক্তিগত হাজিরার নির্দেশ দিলে, আপনাকে নিজে ভিডিওতে, কমিশনের মাধ্যমে বা সশরীরে সাক্ষ্য দিতে হতে পারে।
বাংলাদেশ দূতাবাসেই কি স্বাক্ষর করতে হবে, নাকি স্থানীয় নোটারি দিয়ে হবে?
দুটিই স্বীকৃত, তবে বাংলাদেশ মিশনে স্বাক্ষর করাই সবচেয়ে নিরাপদ, বিশেষ করে জমি, ব্যাংক ও হাইকোর্ট বিভাগের কাজে। নোটারাইজ করা ক্ষমতাপত্রে অ্যাপোস্টিল লাগে, আর দুই দেশের মধ্যে অ্যাপোস্টিল ব্যবস্থা প্রযোজ্য না হলে লিগ্যালাইজেশন লাগে। বাংলাদেশি দপ্তরগুলোতে অ্যাপোস্টিলকৃত ক্ষমতাপত্রের গ্রহণযোগ্যতা এখনো সমান নয়, তাই বেছে নেওয়ার আগে আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
ক্ষমতাপত্র বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর সময়সীমা কী কী?
সত্যায়নের ছয় মাসের মধ্যে মূল কপি পাঠাতে হবে। বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর দুই মাসের মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সত্যায়ন, তিন মাসের মধ্যে স্ট্যাম্প, আর রেজিস্ট্রেশন প্রযোজ্য হলে চার মাসের মধ্যে সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে দাখিল করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন আইন এখন বিদেশে সম্পাদিত দলিলের জন্য ছয় মাস সময় দেয়, তবে চার মাসের নিয়ম মানাই নিরাপদ।
মামলার জন্য সাধারণ ক্ষমতাপত্র কি রেজিস্ট্রি করতে হয়?
জমির অপ্রত্যাহারযোগ্য ক্ষমতাপত্র অবশ্যই রেজিস্ট্রি করতে হয়, আর স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত যেকোনো ক্ষমতাপত্র সাধারণত রেজিস্ট্রি করা হয়। শুধু মামলা পরিচালনার ক্ষমতাপত্রের বিষয়টি অমীমাংসিত: বিধিতে রেজিস্ট্রেশন 'যেখানে প্রযোজ্য' বলা আছে, কিন্তু হাইকোর্ট বিভাগ বিধি ১০(৫)-এর ধাপগুলোকে বিদেশে সম্পাদিত সব ক্ষমতাপত্রের জন্য বাধ্যতামূলক হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। সতর্ক পথ হলো সত্যায়ন, স্ট্যাম্প ও সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে দাখিল সম্পন্ন করা।
আমার অ্যাটর্নি কি আমার হয়ে সাক্ষ্য দিতে পারেন?
কেবল অ্যাটর্নি নিজে যা করেছেন বা জানেন এবং তাঁর হেফাজতে থাকা দলিল সম্পর্কে। মৌখিক সাক্ষ্য প্রত্যক্ষ হতে হয়, তাই অ্যাটর্নি নিজে দেখেননি এমন কথোপকথন বা ঘটনা সম্পর্কে তিনি আপনার হয়ে বলতে পারেন না। এমন অ্যাটর্নি বেছে নিন যিনি সত্যিই বিষয়টি দেখাশোনা করেছেন, আর মামলা আপনার ব্যক্তিগত জ্ঞানের ওপর নির্ভর করলে নিজের সাক্ষ্যের পরিকল্পনা করুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে কি হলফনামা করা যায়?
হ্যাঁ। বিদেশে বাংলাদেশি কূটনৈতিক বা কনস্যুলার কর্মকর্তা শপথ পাঠ করাতে ও হলফনামা গ্রহণ করতে পারেন, আর সেই হলফনামা বাংলাদেশে সম্পাদিত হলফনামার মতোই কার্যকর। হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশনের ক্ষেত্রে আগে রেজিস্ট্রির বর্তমান চর্চা যাচাই করুন, কারণ হলফকারীদের সাধারণত সুপ্রিম কোর্টের কমিশনার অব অ্যাফিডেভিটসের সামনে হলফ করতে হয়, আর অ্যাটর্নির হলফনামা বৈধ ক্ষমতাপত্রের ওপর নির্ভর করে।
ভিডিও শুনানির সুযোগ কি আছে?
আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০ আদালতকে ভিডিওর মাধ্যমে পক্ষদের শুনানি ও সাক্ষ্য গ্রহণের সুযোগ দেয় এবং ভার্চুয়াল উপস্থিতিকে সশরীর উপস্থিতি হিসেবে গণ্য করে। বাস্তবে এটি আদালতের ওপর নির্ভর করে। মে ২০২৬-এ সুপ্রিম কোর্ট পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সপ্তাহে দুই দিনের ভার্চুয়াল বৈঠক স্থগিত করেছে, তাই প্রতিটি ভার্চুয়াল উপস্থিতির জন্য আপনার আইনজীবীকে কারণসহ আবেদন করতে হবে, এবং সিদ্ধান্ত বিচারকের।
অ্যাটর্নির ওপর আস্থা হারালে ক্ষমতাপত্র কীভাবে বাতিল করব?
প্রত্যাহারপত্র সম্পাদন করুন, সম্ভব হলে বাংলাদেশ মিশনে, এবং রেজিস্টার্ড ডাকে অ্যাটর্নিকে ত্রিশ দিনের নোটিশ দিন। চলমান প্রতিটি মামলায় প্রত্যাহারপত্র ও নতুন ওকালতনামা বা ক্ষমতাপত্র দাখিল করুন, এবং সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও ব্যাংককে জানান। জমির অপ্রত্যাহারযোগ্য ক্ষমতাপত্র কেবল সীমিত কারণে শেষ করা যায়, তাই বিদেশ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রত্যাহারের আগে পরামর্শ নিন।

আইন ও উৎস

  1. Power of Attorney Act 2012 (Act 35 of 2012), Bangla text
  2. Registration Act 1908 (ss.26 and 33, as amended by Act 14 of 2026)
  3. Stamp Act 1899 (ss.18 and 35)
  4. Diplomatic and Consular Officers (Oaths and Fees) Act 1948
  5. High Court Division, Writ Petition No. 12985 of 2021 (Rule 10(5), Power of Attorney Rules 2015, applies to every power executed abroad)
  6. High Court Division, Writ Petition No. 3890 of 2025 (registration of a power executed in the USA directed despite official delay)
  7. bdnews24.com: Revised Power of Attorney rules let overseas Bangladeshis act without a passport
  8. Prothom Alo: High Court Rule on uniform attestation of expatriates' documents (August 2026)
  9. HCCH status table, Apostille Convention (Bangladesh in force 30 March 2025)
  10. bdnews24.com: Supreme Court suspends virtual sittings, hearings in person on all working days (May 2026)

এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।

আপনার মামলা, একজন আইনজীবীর চোখে

আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?

একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।

Message TRW on WhatsApp