সালিসে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা: বাংলাদেশে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধাপে ধাপে পূর্ণ যাত্রা
বাংলাদেশে সালিসে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা (interim measures in aid of arbitration) মঞ্জুর করা হয় সালিস আইন, ২০০১ (Arbitration Act 2001)-এর ধারা ৭ক-এর অধীনে। এই ধারা অনুযায়ী কোনো পক্ষ সালিস শুরুর আগে, চলাকালে এবং রোয়েদাদ কার্যকর হওয়া পর্যন্ত সম্পদ, সাক্ষ্যপ্রমাণ বা বিরোধের বিষয়বস্তু সুরক্ষার জন্য আদালতের কাছে আবেদন করতে পারেন। দেশীয় সালিসের আবেদন শোনেন জেলা জজ, অথবা যেখানে গঠিত হয়েছে সেখানে বাণিজ্যিক আদালত; বাংলাদেশে আসনযুক্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সালিসের আবেদন শোনেন হাইকোর্ট বিভাগ।
বিদেশে আসনযুক্ত সালিসের ক্ষেত্রে বৃহত্তর বেঞ্চের ২:১ সংখ্যাগরিষ্ঠ সিদ্ধান্ত এখনো ধারা ৭ক-কে রোয়েদাদ কার্যকরের পর্যায়ে সীমিত রেখেছে, এবং হাইকোর্ট বিভাগ জুলাই ২০২৬-এ তা প্রয়োগ করেছেন।
- কোথা থেকে শুরু
- দেশীয় সালিসের জন্য জেলা জজ আদালত, অথবা প্রজ্ঞাপিত হলে বাণিজ্যিক আদালত (ধারা ২(খ), ধারা ৭ক); বাংলাদেশে আসনযুক্ত…
- মূল আইন
- সালিস আইন, ২০০১ (ধারা ২, ৩, ৭, ৭ক, ১০, ১২, ২১, ২৭, ৪৪, ৪৫, ৪৮, ৫৩); বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ (Commercial Courts Act 2026) (২০২৬…
- সাধারণ সময়কাল
- ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক সময়: কয়েক দিনের মধ্যেই অন্তর্বর্তীকালীন (অ্যাড ইন্টেরিম) আদেশ পাওয়া যেতে পারে…
- কে মামলা করতে পারেন
- সালিস চুক্তির যেকোনো পক্ষ, যদি না পক্ষরা আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিকার বাদ দিতে সম্মত হয়ে থাকেন (ধারা ৭ক(১))
সালিসে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · আবেদনের আগেসালিসের আসন ও ধরন নির্ধারণ করুন
সবকিছু নির্ভর করে সালিসের আসন কোথায় এবং পক্ষরা কারা তার ওপর। আসন বাংলাদেশে হলে এবং সব পক্ষ বাংলাদেশি হলে এটি দেশীয় সালিস, এবং ধারা ৭ক-এর আবেদন যায় জেলা জজের কাছে। ধারা ২(গ) অনুযায়ী অন্তত একটি পক্ষ বিদেশি হলে এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সালিস, এবং আবেদন যায় হাইকোর্ট বিভাগে। আসন বিদেশে হলে ধারা ৩ অনুযায়ী কেবল ধারা ৪৫ থেকে ৪৭ প্রযোজ্য হয়। অ্যাকম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস বনাম ওমান এয়ার মামলায় বৃহত্তর বেঞ্চ বলেছেন, সে ক্ষেত্রে ধারা ৭ক কেবল বিদেশি রোয়েদাদ কার্যকর করার পর্যায়ে পাওয়া যায়।
আইনজীবী এটিও যাচাই করেন যে চুক্তিতে আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিকার বাদ দেওয়া হয়েছে কি না।
কোথায়: আবেদনকারীর আইনজীবী · সময়: ১-৩ দিন · আইন: সালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ২(খ) ও (গ); সালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ৩; সালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ৭ক(১); অ্যাকম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস বনাম ওমান এয়ার এসএওসি, ২৭ বিএলসি ৫৯৬ (হাইকোর্ট বিভাগ, বৃহত্তর বেঞ্চ) (Accom Travels and Tours v Oman Air SAOC, 27 BLC 596) · কাগজপত্র: চুক্তি ও সালিস ধারা, প্রত্যেক পক্ষের কোম্পানি-সংক্রান্ত বিবরণ, বিরোধ প্রমাণকারী চিঠিপত্র
পরামর্শ: সালিস ধারায় আসন (seat) দেখুন, শুধু শুনানির স্থান নয়। সিঙ্গাপুর বা লন্ডনে আসন হলে পুরো পথই বদলে যায়।
ধাপ ২ · আবেদনের আগেট্রাইব্যুনাল নাকি আদালত, তা ঠিক করুন
পক্ষরা ভিন্নভাবে সম্মত না হলে সালিসি ট্রাইব্যুনাল নিজেই ধারা ২১-এর অধীনে বিরোধের বিষয়বস্তু সম্পর্কে কোনো পক্ষকে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা নেওয়ার আদেশ দিতে পারে, জামানতসহ বা জামানত ছাড়া, এবং সেই আদেশের বিরুদ্ধে কোনো আপিল চলে না। তবে ট্রাইব্যুনাল তখনো গঠিত না-ও হতে পারে, ব্যাংকের মতো তৃতীয় পক্ষকে বাধ্য করতে পারে না, এবং আদেশ কার্যকর করার সরাসরি ক্ষমতাও তার নেই। ধারা ৭ক(৪) অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ক্ষমতা না থাকলে বা সে আদেশ দিতে ব্যর্থ হলে আদালত পদক্ষেপ নিতে পারেন।
বাস্তবে ব্যাংক, বন্দর বা অন্য তৃতীয় পক্ষের কাছে থাকা সম্পদের বিরুদ্ধে জরুরি সালিসে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা সাধারণত আদালতের কাছেই চাওয়া হয়।
কোথায়: সালিসি ট্রাইব্যুনাল (বা সালিস প্রতিষ্ঠান) · সময়: ১-৩ দিন · আইন: সালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ২১(১)-(৩); সালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ৭ক(৪) · কাগজপত্র: পক্ষদের বেছে নেওয়া সালিস বিধিমালা, আবেদনের খসড়া
ধাপ ৩ · আবেদনের আগেসালিসের নোটিশ জারি করুন
ধারা ৭ক সালিস শুরুর আগেই আবেদনের সুযোগ দেয়, তাই নোটিশ আইনগত পূর্বশর্ত নয়। এমএসই-এফএ-এমআরএম জেভি বনাম টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক (২০২৪) মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ ধারা ৭ক-এর আবেদন অকালপ্রসূত বলে ফেরত দেওয়ার জেলা জজের আদেশ রদ করেন। তবুও ধারা ১২-এর অধীনে বিরোধ সালিসে পাঠানোর অনুরোধ জারি করা, যা ধারা ২৭ অনুযায়ী সালিস শুরু করে, আদালতকে দেখায় যে আবেদনকারী সত্যিই সালিসে যাচ্ছেন। ২০২৬ সালের একটি রিভিশনে হাইকোর্ট বিভাগ এই বিষয়টির ওপর নির্ভর করেন যে আবেদনকারী আগেই ধারা ১২-এর নোটিশ দিয়েছিলেন।
কোথায়: আবেদনকারীর আইনজীবী · সময়: ১-৭ দিন · আইন: সালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ১২; সালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ২৭; দেওয়ানি রিভিশন নং ৭০৪৫/২০২৩ (হাইকোর্ট বিভাগ, ২৪.০৪.২০২৪) · কাগজপত্র: সালিসের নোটিশ বা সালিসকার নিয়োগের অনুরোধ, নোটিশ জারির প্রমাণ
ধাপ ৪ · আবেদনের আগেজরুরি অবস্থার সাক্ষ্যপ্রমাণ তৈরি করুন
আদালত অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিকারের পরিচিত মানদণ্ডগুলো প্রয়োগ করেন: মামলার গুণাগুণে প্রাথমিকভাবে দৃশ্যমান মামলা (prima facie case), আবেদনকারীর অনুকূলে সুবিধা-অসুবিধার ভারসাম্য, এবং আদেশ না দিলে অপূরণীয় ক্ষতির ঝুঁকি। আবেদনকারী হুমকির প্রমাণ সংগ্রহ করেন: ব্যাংক গ্যারান্টি নগদায়নের নোটিশ, পণ্য বিক্রি বা সরিয়ে ফেলার পরিকল্পনা, জমি বা শেয়ার হস্তান্তর, অথবা সাক্ষ্যপ্রমাণ নষ্ট করা। নোটিশ ছাড়া আদেশ চাইলে সাক্ষ্যপ্রমাণে দেখাতে হবে কেন নোটিশ দিলে উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে। আবেদনে সম্পত্তি সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা উচিত, যেমন হিসাব, কনটেইনার, জাহাজ বা জমির তফসিল দিয়ে।
কোথায়: আবেদনকারীর আইনজীবী · সময়: ২-৭ দিন · আইন: সালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ৭ক(১)-(৩); সালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ৭ক(২) (আদালতের সাধারণ ক্ষমতা) · কাগজপত্র: ঘটনার হলফনামা, ব্যাংক গ্যারান্টি ও দাবিপত্র, সম্পদের তফসিল, ছবি বা পরিদর্শন প্রতিবেদন
ধাপ ৫ · আবেদন দাখিল ও প্রথম আদেশদেশীয় সালিস: জেলা জজের কাছে আবেদন দাখিল
দেশীয় সালিসের ক্ষেত্রে আবেদনটি জেলা জজ, অথবা এ উদ্দেশ্যে প্রজ্ঞাপিত অতিরিক্ত জেলা জজের কাছে সালিস বিবিধ মামলা (Arbitration Miscellaneous Case) হিসেবে দাখিল করা হয়। বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ অনুযায়ী সালিস আইনের অধীন সালিস চুক্তি, কার্যধারা ও রোয়েদাদ বাণিজ্যিক বিরোধ। তাই কোনো এলাকার জন্য বাণিজ্যিক আদালত গঠিত হলে সেই আদালতই এসব আবেদন গ্রহণ করে, এবং বিচারাধীন আবেদনগুলো সেখানে স্থানান্তরিত হয়। এখানে ধারা ৫৩ গুরুত্বপূর্ণ: চুক্তি নিয়ে কোনো আদালতে একবার আবেদন করা হলে পরবর্তী সব আবেদন সেই একই আদালতে যেতে হবে।
কোথায়: জেলা জজ আদালত (বা যেখানে গঠিত হয়েছে সেখানে বাণিজ্যিক আদালত) · সময়: দাখিলে ১ দিন · আইন: সালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ২(খ); সালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ৫৩; বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এর ধারা ২(ঘ)(২২), ধারা ৪ ও ধারা ৮ · কাগজপত্র: ধারা ৭ক-এর অধীনে আবেদন, সমর্থনকারী হলফনামা, সালিস চুক্তি, ওকালতনামা, কোর্ট ফি
পরামর্শ: প্রথম আদালতটি সতর্কভাবে বেছে নিন। ধারা ৫৩ একই চুক্তির অধীনে পরবর্তী প্রতিটি আবেদন সেই আদালতেই বেঁধে দেয়।
ধাপ ৬ · আবেদন দাখিল ও প্রথম আদেশআন্তর্জাতিক সালিস: হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন দাখিল
বাংলাদেশে আসনযুক্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সালিসের ক্ষেত্রে ধারা ৭ক ক্ষমতাটি হাইকোর্ট বিভাগকে দিয়েছে। আবেদনটি হাইকোর্ট বিভাগের বিধিবদ্ধ আদি এখতিয়ারে সালিস আবেদন (Arbitration Application) হিসেবে দাখিল করা হয় এবং প্রধান বিচারপতি সালিস-বিষয়ক মামলার জন্য যে একক বিচারপতির বেঞ্চ নির্ধারণ করেছেন, সেখানে তালিকাভুক্ত হয়। বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ হাইকোর্ট বিভাগের আদি এখতিয়ারভুক্ত বিষয়গুলো নিজের আওতায় নেয় না। বিদেশি আবেদনকারীদের যথাযথভাবে সম্পাদিত মোক্তারনামা / পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন লাগে, এবং বিদেশি ভাষার দলিলের প্রত্যয়িত অনুবাদ লাগে।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: দাখিল ও মেনশনে ১-৩ দিন · আইন: সালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ৭ক(১); সালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ২(গ); বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এর ধারা ২(ঘ); বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৭(৩) · কাগজপত্র: ধারা ৭ক-এর অধীনে সালিস আবেদন, হলফনামা, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা পর্ষদের সিদ্ধান্ত, প্রত্যয়িত অনুবাদ
ধাপ ৭ · আবেদন দাখিল ও প্রথম আদেশএকতরফা অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ
ধারা ৭ক(৩) অনুযায়ী আদেশের আগে অপর পক্ষকে নোটিশ দিতে হয়, যদি না আদালত সন্তুষ্ট হন যে তাৎক্ষণিক আদেশ ছাড়া উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে। প্রথম শুনানিতে আদালত হয় কেবল কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন, নয়তো নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন (অ্যাড ইন্টেরিম) আদেশও দেন, প্রায়ই স্থিতাবস্থা বা গ্যারান্টি নগদায়নে নিষেধাজ্ঞা। ২০২৬ সালের একটি রিভিশনে হাইকোর্ট বিভাগ বলেছেন, চুক্তি ও ব্যাংক গ্যারান্টি বাতিল ও নগদায়নের মুখে থাকা অবস্থায় শুধু নোটিশ দিয়ে জেলা জজ ভুল করেছেন, এবং হাইকোর্ট বিভাগ স্থিতাবস্থার আদেশ দেন।
কোথায়: জেলা জজ আদালত (বা যেখানে গঠিত হয়েছে সেখানে বাণিজ্যিক আদালত) · সময়: একই দিন থেকে ২ সপ্তাহ · আইন: সালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ৭ক(৩) ও এর শর্তাংশ; সালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ৭ক(১)(ঙ); দেওয়ানি রিভিশন নং ৪৬৪৬/২০২৩ (হাইকোর্ট বিভাগ, ২৩.০৪.২০২৬) · কাগজপত্র: অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ, প্রয়োজন হলে অঙ্গীকারনামা বা জামানত
ধাপ ৮ · আবেদন দাখিল ও প্রথম আদেশপ্রতিপক্ষ ও সম্পদধারকদের ওপর আদেশ জারি করুন
আবেদনকারী আদেশ ও নোটিশ প্রতিপক্ষের ওপর এবং সম্পদ যাদের হাতে আছে তাদের ওপর জারি করেন, যেমন গ্যারান্টি প্রদানকারী ব্যাংক, বন্দর, গুদাম, অথবা জমি বা শেয়ারের রেজিস্ট্রার। আদেশ পাওয়ার পর কোনো ব্যাংক নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত গ্যারান্টির বিপরীতে অর্থ পরিশোধ করতে পারবে না। জারির প্রমাণ দেওয়া হয় হলফনামার মাধ্যমে। প্রতিপক্ষ বিদেশে থাকলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জারি করা হয়, প্রায়ই কুরিয়ার ও ইমেইলে এবং কোনো স্থানীয় এজেন্ট বা অফিসেও।
কোথায়: ব্যাংক, বন্দর বা সম্পদের অন্য কোনো ধারক · সময়: ১-৭ দিন · আইন: সালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ৭ক(২); সালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ৭ক(৩) · কাগজপত্র: আদেশের জাবেদা নকল, ব্যাংক ও সম্পদধারকদের কাছে পাঠানো চিঠি, জারির হলফনামা
ধাপ ৯ · প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক শুনানিলিখিত আপত্তি ও জবাব
প্রতিপক্ষ লিখিত আপত্তি দাখিল করেন, সাধারণত এই যুক্তিতে যে বৈধ সালিস চুক্তি নেই, আসন বিদেশে, আবেদনকারীর প্রাথমিকভাবে দৃশ্যমান মামলা নেই, অথবা প্রতিকারটি একটি স্বাধীন ব্যাংক গ্যারান্টিতে হস্তক্ষেপ করবে। তিনি এ যুক্তিও দিতে পারেন যে ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তি করেছে। আবেদনকারী হলফনামার মাধ্যমে জবাব দেন। অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ সাধারণত শুনানি পর্যন্ত প্রতিটি তারিখে বাড়ানো হয়, তবে আবেদনকারীকে প্রতিবার সময়মতো মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করতে হয়, কারণ মেয়াদোত্তীর্ণ আদেশ আপনা-আপনি পুনরুজ্জীবিত হয় না।
কোথায়: জেলা জজ আদালত (বা যেখানে গঠিত হয়েছে সেখানে বাণিজ্যিক আদালত) · সময়: ১-৩ মাস · আইন: সালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ৭ক(৩); সালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ৭ক(৫) · কাগজপত্র: লিখিত আপত্তি, জবাবি হলফনামা, অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন
পরামর্শ: প্রতিটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের মেয়াদ শেষের তারিখ ডায়েরিতে লিখে রাখুন। মেয়াদ বাড়াতে ভুলে যাওয়া সবচেয়ে সাধারণ ও ব্যয়বহুল ভুলগুলোর একটি।
ধাপ ১০ · প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক শুনানিপ্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক শুনানি
আদালত রক্ষণীয়তা এবং অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিকারের গুণাগুণ নিয়ে উভয় পক্ষের শুনানি করেন। আদালত মূল বিরোধ নিষ্পত্তি করেন না, যা সালিসি ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার; তিনি কেবল দেখেন বিষয়বস্তু সুরক্ষার প্রয়োজন আছে কি না, যাতে সালিস ও যেকোনো রোয়েদাদ অর্থহীন না হয়ে পড়ে। হাইকোর্ট বিভাগে সালিস আবেদনের শুনানি হয় হলফনামার ভিত্তিতে। জেলা জজ বা বাণিজ্যিক আদালতের সামনে আদালত ধারা ৭ক(২)-এর অধীনে অন্যান্য কার্যধারায় তাঁর যে ক্ষমতা আছে তা ব্যবহার করেন। হাইকোর্ট বিভাগ বলেছেন, ধারা ৭ক-এর আবেদন আরজি নয় এবং কার্যবিধির ধারা ১৪১ দ্বারা পরিচালিত নয়। মৌখিক সাক্ষ্য বিরল।
কোথায়: জেলা জজ আদালত (বা যেখানে গঠিত হয়েছে সেখানে বাণিজ্যিক আদালত) · সময়: দাখিল থেকে ১-৬ মাস · আইন: সালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ৭ক(১) ও (২); দেওয়ানি রিভিশন নং ৭০৪৫/২০২৩ (হাইকোর্ট বিভাগ, ২৪.০৪.২০২৪) · কাগজপত্র: লিখিত যুক্তিতর্ক, নজির, সম্পূরক হলফনামা
ধাপ ১১ · প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক শুনানিঅন্তর্বর্তীকালীন আদেশ ও এর শর্তাবলি
ধারা ৭ক(১)-এ আদালত কী কী আদেশ দিতে পারেন তার তালিকা আছে: নাবালক বা অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তির জন্য অভিভাবক নিয়োগ, পণ্যের অন্তর্বর্তীকালীন হেফাজত বা বিক্রি, রোয়েদাদ ব্যর্থ করার উদ্দেশ্যে সম্পত্তি হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা, পরিদর্শন, ছবি তোলা, নমুনা সংগ্রহ ও সাক্ষ্যগ্রহণ, অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা, রিসিভার নিয়োগ, এবং অন্য যেকোনো যুক্তিসংগত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা। আদেশ সাধারণত সালিস শেষ হওয়া পর্যন্ত বা একটি নির্দিষ্ট তারিখ পর্যন্ত বহাল থাকে, এবং আদালত জামানত বা অঙ্গীকারনামা চাইতে পারেন। সালিসে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা মূল বিরোধের গুণাগুণ নিষ্পত্তি করে না, এবং ট্রাইব্যুনাল নিজস্ব মত গঠনে স্বাধীন।
কোথায়: জেলা জজ আদালত (বা যেখানে গঠিত হয়েছে সেখানে বাণিজ্যিক আদালত) · সময়: আদেশের দিন; জাবেদা নকল ১-৩ সপ্তাহ · আইন: সালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ৭ক(১)(ক)-(ছ); সালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ৭ক(২) · কাগজপত্র: স্বাক্ষরিত আদেশ, জাবেদা নকল, আদেশ দেওয়া হলে জামানতের দলিল
ধাপ ১২ · সালিস চলাকালেঅন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষার দায়িত্ব নেয় ট্রাইব্যুনাল
গঠিত হওয়ার পর সালিসি ট্রাইব্যুনাল অপর পক্ষকে নোটিশ দিয়ে, অথবা জরুরি অবস্থায় নোটিশ ছাড়াই, ধারা ২১-এর অধীনে নিজস্ব অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিতে পারে এবং জামানত চাইতে পারে। ধারা ৭ক(৬) অনুযায়ী ট্রাইব্যুনাল বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো প্রতিষ্ঠান একই বিষয়ে আদেশ দিলে আদালতের আদেশ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে অকার্যকর হয়ে যায়। তাই পক্ষদের উচিত ট্রাইব্যুনালকে আদালতের আদেশের কথা জানানো এবং সুরক্ষা অব্যাহত রাখতে বা সমন্বয় করতে বলা, যাতে দুইয়ের মাঝে কোনো ফাঁক না থাকে।
কোথায়: সালিসি ট্রাইব্যুনাল (বা সালিস প্রতিষ্ঠান) · সময়: গঠনের পর ২-৮ সপ্তাহ · আইন: সালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ২১; সালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ৭ক(৬) · কাগজপত্র: ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন, অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা নিয়ে ট্রাইব্যুনালের কার্যপদ্ধতিগত আদেশ
ধাপ ১৩ · সালিস চলাকালেআদালতের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ কার্যকর করুন
ট্রাইব্যুনালের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ পক্ষদের জন্য বাধ্যতামূলক, কিন্তু তা সরাসরি জারি করা যায় না। ধারা ২১(৪) অনুযায়ী যে পক্ষ আদেশটি চেয়েছিলেন তিনি তা কার্যকর করতে আদালতে আবেদন করতে পারেন। ধারা ২১(৫) স্পষ্ট করেছে যে এমন আবেদন সালিস চুক্তি বা ধারা ৭ লঙ্ঘন করে না এবং সালিসের অধিকারও পরিত্যাগ করে না। আদালত আবেদনটিকে বিবিধ কার্যধারা হিসেবে গণ্য করেন এবং আদেশ অমান্যকারী পক্ষের বিরুদ্ধেসহ তাঁর সাধারণ ক্ষমতা প্রয়োগ করেন।
কোথায়: জেলা জজ আদালত (বা যেখানে গঠিত হয়েছে সেখানে বাণিজ্যিক আদালত) · সময়: ১-৩ মাস · আইন: সালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ২১(৪)-(৫); সালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ৭ · কাগজপত্র: ট্রাইব্যুনালের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ, কার্যকরকরণের আবেদন, আদেশ অমান্যের প্রমাণ
ধাপ ১৪ · রোয়েদাদ ও তা কার্যকরকরণমামলার অগ্রগতির সঙ্গে আদেশ পরিবর্তন, মেয়াদ বৃদ্ধি বা প্রত্যাহার
ধারা ৭ক(৫) অনুযায়ী আদালত যখনই উপযুক্ত মনে করেন তখনই তাঁর আদেশ বাতিল, পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারেন। সাধারণ আবেদনের মধ্যে রয়েছে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে পণ্য ছাড়, নিষেধাজ্ঞাভুক্ত অর্থের পরিমাণ কমানো, অথবা আবেদনকারী সালিস এগিয়ে না নেওয়ায় আদেশ প্রত্যাহার। নতুন তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিপক্ষ যেকোনো সময় আবেদন করতে পারেন। যে আবেদনকারী সালিস শুরু করতে বা এগিয়ে নিতে দেরি করেন, তিনি সুরক্ষা হারানো এবং খরচের দাবির মুখে পড়ার ঝুঁকিতে থাকেন।
কোথায়: জেলা জজ আদালত (বা যেখানে গঠিত হয়েছে সেখানে বাণিজ্যিক আদালত) · সময়: ২-৮ সপ্তাহ · আইন: সালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ৭ক(৫) · কাগজপত্র: ধারা ৭ক(৫)-এর অধীনে আবেদন, সমর্থনকারী হলফনামা, বিকল্প জামানত
ধাপ ১৫ · রোয়েদাদ ও তা কার্যকরকরণরোয়েদাদ কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত সুরক্ষা
ধারা ৭ক-এর আদেশ বাংলাদেশে আসনযুক্ত রোয়েদাদের ক্ষেত্রে ধারা ৪৪, অথবা বিদেশি রোয়েদাদের ক্ষেত্রে ধারা ৪৫-এর অধীনে রোয়েদাদ কার্যকর হওয়া পর্যন্ত চলতে পারে। অ্যাকম মামলার বৃহত্তর বেঞ্চ অনুযায়ী এটিই একমাত্র পর্যায়, যেখানে আসন বিদেশে হলেও সালিসে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা পাওয়া যায়। রোয়েদাদ হওয়ার পর রোয়েদাদধারী আদালতকে অনুরোধ করেন, রোয়েদাদ চ্যালেঞ্জের ষাট দিনের সময়সীমা চলাকালে ব্যাংকের স্থিতি বা অন্যান্য সম্পদের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখতে, এবং এরপর জারির পর্যায়ে যান, যেখানে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত সম্পদ ক্রোক করা যায়।
কোথায়: ব্যাংক, বন্দর বা সম্পদের অন্য কোনো ধারক · সময়: জারি পর্যন্ত · আইন: সালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ৭ক(১); সালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ৪৪; সালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ৪৫ · কাগজপত্র: রোয়েদাদ, নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার আবেদন, জারির আবেদন
যদি এমন হয়…? সালিসে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
জেলা জজ ভুলভাবে আদেশ নামঞ্জুর বা মঞ্জুর করলে কী হবে?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
ধারা ১১৫-এর অধীনে দেওয়ানি রিভিশন
ধারা ৪৮ কেবল রোয়েদাদ রদ বা কার্যকর-সংক্রান্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ দেয়, তাই এটি ধারা ৭ক-এর আদেশে প্রযোজ্য নয়। এমএসই-এফএ-এমআরএম জেভি বনাম টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক (২০২৪) মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ বলেছেন, ধারা ৭, ৭ক ও ১২-এর অধীনে জেলা জজের আদেশ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫(১)-এর অধীনে রিভিশনযোগ্য। আদেশটি বাণিজ্যিক আদালত দিলে ২০২৬ সালের আইনের ধারা ৬ অনুযায়ী ষাট দিনের মধ্যে রিভিশন করা যায়, যার শুনানি করে ধারা ৩(৪)-এর অধীনে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের বাণিজ্যিক আপিল বেঞ্চ।
দ্রুত দাখিল করুন (বাণিজ্যিক আদালতের আদেশের ক্ষেত্রে ৬০ দিন); নিষ্পত্তিতে ৩-১৮ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫(১)সালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ৪৮বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এর ধারা ৩(৪) ও ৬দেওয়ানি রিভিশন নং ৭০৪৫/২০২৩ (হাইকোর্ট বিভাগ, ২৪.০৪.২০২৪) - 2হাইকোর্ট বিভাগ
রুল, স্থিতাবস্থা ও সিদ্ধান্ত
হাইকোর্ট বিভাগের বেঞ্চ আদেশটি কেন রদ করা হবে না মর্মে রুল জারি করেন এবং প্রায়ই ইতোমধ্যে পক্ষদের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। শুনানিতে রুলটি চূড়ান্ত করেন বা খারিজ করেন। নিম্ন আদালত আইনের ভুল ব্যাখ্যা করলে হাইকোর্ট বিভাগ হস্তক্ষেপ করেন, যেমন আবেদনকে অকালপ্রসূত গণ্য করা বা বিষয়বস্তু সুরক্ষায় ব্যর্থ হওয়া।
৩-১৮ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫(১)দেওয়ানি রিভিশন নং ৪৬৪৬/২০২৩ (হাইকোর্ট বিভাগ, ২৩.০৪.২০২৬)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: জেলা জজের আদেশ বহাল থাকে বা প্রতিস্থাপিত হয়, এবং মামলাটি সাধারণত নির্দেশনাসহ নিম্ন আদালতে ফেরত যায়।
আপিলের সুযোগ আছে কি, আর মামলা কীভাবে আপিল বিভাগে পৌঁছায়?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগ থেকে আপিলের অনুমতি
ধারা ৭ক-এর আদেশের বিরুদ্ধে অধিকার হিসেবে কোনো আপিল নেই। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সালিসে হাইকোর্ট বিভাগ নিজেই আদেশ দিলে, অথবা কোনো রিভিশন নিষ্পত্তি করলে, পরাজিত পক্ষ ষাট দিনের মধ্যে অনুচ্ছেদ ১০৩-এর অধীনে আপিল বিভাগে আপিলের অনুমতির জন্য দেওয়ানি পিটিশন দাখিল করেন এবং জরুরি স্থগিতাদেশের জন্য চেম্বার জজের কাছে যেতে পারেন। ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট বনাম এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (২০২৪) মামলায় আপিল বিভাগ ট্রাইব্যুনালের প্রথম বৈঠক পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা অব্যাহত রাখেন।
দাখিলে ৬০ দিন; ৩-১৮ মাসবাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ১৩ বিধি ১আপিলের অনুমতির জন্য দেওয়ানি পিটিশন নং ১৮২৮/২০২৪ (আপিল বিভাগ, ০১.০৯.২০২৪) - 2সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীনে রিভিউ
অনুমতি মঞ্জুর হলে আপিল বিভাগ আপিলের শুনানি করেন, এবং অনুচ্ছেদ ১১১ অনুযায়ী তাঁর সিদ্ধান্ত সব আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক। নিজের রায়ের রিভিউ কেবল অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীনে, ত্রিশ দিনের মধ্যে দাখিল করে, নথিতে সুস্পষ্ট ভুলের মতো সংকীর্ণ কারণে চলে। অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ সময়-সংবেদনশীল বলে অধিকাংশ মামলা অনুমতির পর্যায়েই শেষ হয়।
রিভিউ: দাখিলে ৩০ দিনবাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১১আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা নিয়ে আপিল বিভাগের আদেশ চূড়ান্ত, এবং সালিস সেই ভিত্তিতেই চলতে থাকে।
একই আদালত কি নিজের আদেশ পুনর্বিবেচনা করতে পারেন?
- 1জেলা জজ আদালত (বা যেখানে গঠিত হয়েছে সেখানে বাণিজ্যিক আদালত)
ধারা ৭ক(৫)-এর অধীনে পরিবর্তন অথবা রিভিউ
সবচেয়ে সহজ পথ হলো ধারা ৭ক(৫)-এর অধীনে একই আদালতে আবেদন, যা আদালতকে উপযুক্ত মনে হলে যেকোনো সময় আদেশ বাতিল, পরিবর্তন বা সংশোধনের সুযোগ দেয়, যেমন নতুন তথ্য বা বিকল্প জামানতের ভিত্তিতে। নতুন সাক্ষ্য বা নথিতে সুস্পষ্ট ভুলের ভিত্তিতে দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৪ ও আদেশ ৪৭-এর অধীনে আনুষ্ঠানিক রিভিউও করা যায়। বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ কার্যবিধির নীতি অনুযায়ী বাণিজ্যিক আদালতের আদেশের রিভিউ স্পষ্টভাবে সংরক্ষণ করেছে।
দ্রুত দাখিল করুন; ২-৮ সপ্তাহসালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ৭ক(৫)দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৪ ও আদেশ ৪৭ বিধি ১বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এর ধারা ৬(১)-এর শর্তাংশ
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: একই আদালত তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ বহাল, পরিবর্তন বা প্রত্যাহার করেন।
কোনো বিচারপতি বাধ্যতামূলক নজির নিয়ে সন্দেহ পোষণ করলে কী হবে?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
বৃহত্তর বেঞ্চ ও বিদেশি আসনের প্রশ্ন
বিদেশে আসনযুক্ত সালিসের সমর্থনে ধারা ৭ক প্রয়োগ করা যায় কি না, তা অ্যাকম মামলায় বৃহত্তর বেঞ্চ ২:১ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় নেতিবাচকভাবে নিষ্পত্তি করেছেন। লিজেন্ড ওয়ার্ল্ড ট্যাংক পিটিই বনাম মাল্টিন্যাশনাল শিপিং (জুলাই ২০২৬) মামলায় একজন একক বিচারপতি বলেন, অ্যাকম মামলায় আপিল বিভাগের ইকম (ECOM) সিদ্ধান্তগুলো বিবেচনা করা হয়নি। তিনি বলেন, কেবল আপিল বিভাগ অথবা সমান বা বৃহত্তর সংখ্যক বিচারপতির বেঞ্চ এটি পুনর্বিবেচনা করতে পারেন, এবং সিঙ্গাপুরে আসনযুক্ত আবেদনটি খারিজ করেন। প্রশ্নটি প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে আবার রেফার করা যেতে পারে, অথবা আপিল বিভাগ তা নিষ্পত্তি করতে পারেন।
অনিশ্চিতবাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৭(৩)সালিস আবেদন নং ৩০/২০২৫ (হাইকোর্ট বিভাগ, ১২.০৭.২০২৬)অ্যাকম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস বনাম ওমান এয়ার এসএওসি, ২৭ বিএলসি ৫৯৬
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: বৃহত্তর বেঞ্চ বা আপিল বিভাগ ভিন্ন সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত বিদেশি আসনের আবেদনে অ্যাকম মামলার সিদ্ধান্তই প্রযোজ্য।
হাইকোর্ট বিভাগ মামলা নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠালে কী হবে?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
নির্দেশনাসহ আদেশ রদ
এমএসই-এফএ-এমআরএম জেভি (২০২৪) মামলায় জেলা জজ ধারা ৭ক-এর আবেদন অকালপ্রসূত বলে ফেরত দিয়েছিলেন। হাইকোর্ট বিভাগ সেই আদেশ রদ করেন, জেলা জজকে মামলাটি পুনরায় গ্রহণ করে তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন, এবং ইতোমধ্যে নিজের স্থিতাবস্থার আদেশ বহাল রাখেন। ২০২৬ সালেও একইভাবে একজন জেলা জজকে দুই মাসের মধ্যে গুণাগুণের ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞার আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।
রায়ের সময়দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫(১)দেওয়ানি রিভিশন নং ৭০৪৫/২০২৩ (হাইকোর্ট বিভাগ, ২৪.০৪.২০২৪) - 2জেলা জজ আদালত (বা যেখানে গঠিত হয়েছে সেখানে বাণিজ্যিক আদালত)
নিম্ন আদালতে আবার শুনানি
জেলা জজ বিবিধ মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণাগুণের ভিত্তিতে পক্ষদের শুনানি করেন এবং ধারা ৭ক-এর অধীনে নতুন আদেশ দেন। ততদিন হাইকোর্ট বিভাগের স্থিতাবস্থার আদেশ বিষয়বস্তু সুরক্ষা করে। নিম্ন আদালতকে হাইকোর্ট বিভাগের আইনগত ব্যাখ্যা অনুসরণ করতে হয়, যেমন ধারা ৭ক-এর আবেদন আগে ধারা ৭ বা ধারা ১২-এর কোনো পদক্ষেপের ওপর নির্ভরশীল নয়।
নির্দেশনা অনুযায়ী ২-৩ মাসসালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ৭ক - 3হাইকোর্ট বিভাগ
নতুন আদেশের বিরুদ্ধে আবার ওপরে
নতুন আদেশটিও হাইকোর্ট বিভাগে নতুন রিভিশনের মাধ্যমে এবং সেখান থেকে অনুমতিসাপেক্ষে আপিল বিভাগে চ্যালেঞ্জ করা যায়। বাস্তবে পুনর্বিচারের জন্য ফেরত পাঠানোর সময় দেওয়া নির্দেশনা সাধারণত বিরোধকে এতটাই সংকুচিত করে যে দ্বিতীয় রিভিশন বিরল, এবং পক্ষদের মনোযোগ আবার সালিসে ফিরে যায়।
৩-১৮ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫(১)বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: জেলা জজ গুণাগুণের ভিত্তিতে আবেদন নিষ্পত্তি করেন, যা আরেকটি রিভিশনসাপেক্ষ।
সালিসের আসন বাংলাদেশের বাইরে হলে কী হবে?
- 1সালিসি ট্রাইব্যুনাল (বা সালিস প্রতিষ্ঠান)
ট্রাইব্যুনাল বা আসন-দেশের আদালত ব্যবহার করুন
অ্যাকম ও লিজেন্ড ওয়ার্ল্ড ট্যাংক মামলা অনুযায়ী বাংলাদেশের আদালত রোয়েদাদের আগে বিদেশে আসনযুক্ত সালিসের জন্য ধারা ৭ক-এর প্রতিকার দেবেন না। বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬ এতে কোনো পরিবর্তন আনেনি: এটি সালিস আইন, ২০০১-এর অধীন বিষয়গুলোকে বাণিজ্যিক বিরোধ হিসেবে গণ্য করে, কিন্তু ওই আইনকে ধারা ৩-এর বাইরে প্রসারিত করে না। সাধারণ বিকল্পগুলো হলো ট্রাইব্যুনালের কাছ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা, বিধিমালায় থাকলে জরুরি সালিসকার, অথবা আসন-দেশের আদালত।
কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহসালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ৩বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এর ধারা ২(ঘ)(২২)অ্যাকম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস বনাম ওমান এয়ার এসএওসি, ২৭ বিএলসি ৫৯৬ - 2হাইকোর্ট বিভাগ
রোয়েদাদ কার্যকরের পর্যায়ে ধারা ৭ক
বিদেশি রোয়েদাদ হওয়ার পর রোয়েদাদধারী ধারা ৪৫-এর অধীনে তা কার্যকর করার সহায়তায় বাংলাদেশে থাকা সম্পদের ওপর ধারা ৭ক-এর সুরক্ষা চাইতে পারেন, যা বৃহত্তর বেঞ্চ স্বীকার করেছেন। ধারা ৪৫-এর অধীনে কার্যকরকরণের মামলাটি যায় ঢাকার জেলা জজ আদালতে, অথবা সেখানকার বাণিজ্যিক আদালতে; সালিসটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক হলে ধারা ৭ক-এর আবেদন করা হয় হাইকোর্ট বিভাগে। বিদেশি আসনের ক্ষেত্রে ধারা ৭ক-এর পরিধি আপিল বিভাগ এখনো চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করেননি।
রোয়েদাদের পর থেকেসালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ৭ক(১)সালিস আইন, ২০০১-এর ধারা ৪৫সালিস আবেদন নং ৩০/২০২৫ (হাইকোর্ট বিভাগ, ১২.০৭.২০২৬)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: বিদেশে আসনযুক্ত সালিসের সুরক্ষা রোয়েদাদ না হওয়া পর্যন্ত আসে ট্রাইব্যুনাল বা আসন-দেশ থেকে, এরপর বাংলাদেশের কার্যকরকরণ আদালত থেকে।
সালিসে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
সালিসে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার আদালত নির্ধারিত হয় সালিসের ধরন অনুযায়ী, দাবির অঙ্ক অনুযায়ী নয়। বাংলাদেশে আসনযুক্ত দেশীয় সালিসের ক্ষেত্রে আদালত হলো জেলা জজ, অথবা এ উদ্দেশ্যে প্রজ্ঞাপিত অতিরিক্ত জেলা জজ। বাণিজ্যিক আদালত আইন, ২০২৬-এর পর থেকে যেখানে বাণিজ্যিক আদালত গঠিত হয়েছে, সেখানে জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজের সভাপতিত্বে সেই আদালত এসব আবেদন গ্রহণ করে। বাংলাদেশে আসনযুক্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সালিসের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ তাঁর বিধিবদ্ধ আদি এখতিয়ারে আবেদনের শুনানি করেন।
ধারা ৪৮ ধারা ৭ক-এর আদেশের বিরুদ্ধে কোনো আপিলের সুযোগ দেয় না, তাই জেলা জজের আদেশ আইন ও এখতিয়ারের প্রশ্নে দেওয়ানি রিভিশনের মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগে যায়, বাণিজ্যিক আদালতের ক্ষেত্রে ষাট দিনের মধ্যে। হাইকোর্ট বিভাগের নিজস্ব আদেশ কেবল অনুচ্ছেদ ১০৩-এর অধীনে অনুমতিসাপেক্ষে আপিল বিভাগে যায়। বিদেশে আসনযুক্ত সালিসের ক্ষেত্রে অ্যাকম মামলায় বৃহত্তর বেঞ্চের ২:১ সিদ্ধান্ত ধারা ৭ক-কে রোয়েদাদ কার্যকরের পর্যায়ে সীমিত রেখেছে। জুলাই ২০২৬-এ একজন একক বিচারপতি এ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, তবে কেবল বৃহত্তর বেঞ্চ বা আপিল বিভাগই এটি পরিবর্তন করতে পারেন।
- আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- আপিল পর্যায়জেলা জজ আদালত (বা যেখানে গঠিত হয়েছে সেখানে বাণিজ্যিক আদালত)
- শুরু · আদালতের বাইরেআবেদনকারীর আইনজীবী · সালিসি ট্রাইব্যুনাল (বা সালিস প্রতিষ্ঠান) · ব্যাংক, বন্দর বা সম্পদের অন্য কোনো ধারক
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা (ঢাকা জজ কোর্ট)
ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকাঢাকার জেলা জজ (District Judge) ও অতিরিক্ত জেলা জজদের আদালত (দেওয়ানি আপিল, প্রোবেট, মহানগর এলাকার বাইরের জেলা পর্যায়ের দেওয়ানি ও দায়রা মামলা), এবং প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতসমূহ (যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সিভিল জজ/সিভিল জজ আদালত)।
সরকারি বিচার বিভাগীয় পোর্টালে ঠিকানা দেওয়া আছে "১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা"। অনেক দেওয়ানি আদালত (অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত, যুগ্ম জেলা জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, অর্থঋণ আদালত নং ১, দেউলিয়া আদালত) একই প্রাঙ্গণে নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনে বসে। ২০২৬ সালের জাজশিপ তালিকায় প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতগুলোর নাম "সিনিয়র সিভিল জজ" / "সিভিল জজ" (আগে সিনিয়র সহকারী জজ / সিভিল জজ); কিছু পাতায় এখনো পুরোনো নাম ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি জেলায় জেলা জাজশিপে এর সমতুল্য আদালত রয়েছে।
আবেদনকারীর আইনজীবী
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
সালিসি ট্রাইব্যুনাল (বা সালিস প্রতিষ্ঠান)
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
ব্যাংক, বন্দর বা সম্পদের অন্য কোনো ধারক
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা (Interim measure)
- একটি সাময়িক আদেশ, যা মূল বিরোধের গুণাগুণ নিষ্পত্তি না করেই সালিস শেষ হওয়া বা রোয়েদাদ কার্যকর হওয়া পর্যন্ত সম্পদ, সাক্ষ্যপ্রমাণ বা বিষয়বস্তু সুরক্ষা করে।
- অন্তর্বর্তীকালীন (অ্যাড ইন্টেরিম) আদেশ (Ad interim order)
- প্রথম শুনানিতে, কখনো কখনো নোটিশ ছাড়াই, দেওয়া স্বল্পমেয়াদি আদেশ, যা আদালত উভয় পক্ষের শুনানি না করা পর্যন্ত বহাল থাকে।
- সালিসের আসন (Seat of arbitration)
- সালিসের আইনগত ঠিকানা, যা নির্ধারণ করে কোন দেশের আদালত এর তদারকি করবে এবং সালিস আইন, ২০০১ প্রযোজ্য হবে কি না (ধারা ৩)।
- আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সালিস (International commercial arbitration)
- ধারা ২(গ)-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী এমন বাণিজ্যিক সালিস, যেখানে অন্তত একটি পক্ষ বিদেশি; এর ধারা ৭ক-এর আবেদন যায় হাইকোর্ট বিভাগে।
- স্থিতাবস্থা (Status quo)
- পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সবকিছু যেমন আছে তেমন রাখার আদেশ, যেমন চুক্তি বাতিল বা গ্যারান্টি নগদায়ন না করা।
- বৃহত্তর বেঞ্চ (Larger Bench)
- পরস্পরবিরোধী বা গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্ন নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতির গঠিত তিন বা ততোধিক বিচারপতির হাইকোর্ট বিভাগের বেঞ্চ।
- জরুরি সালিসকার (Emergency arbitrator)
- কিছু প্রাতিষ্ঠানিক বিধিমালার অধীনে নিযুক্ত সালিসকার, যিনি মূল ট্রাইব্যুনাল গঠনের আগে জরুরি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিকারের সিদ্ধান্ত দেন।
- দেওয়ানি রিভিশন (Civil revision)
- আইনগত ভুলের কারণে নিম্ন আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে চ্যালেঞ্জ; ধারা ৪৮ আপিলের সুযোগ না দেওয়ায় ধারা ৭ক-এর আদেশের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হয়।
সালিসে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা: সাধারণ প্রশ্ন
সালিস শুরুর আগেই কি আদেশ পাওয়া যায়?
কোন আদালতে আবেদন করব?
সিঙ্গাপুর বা লন্ডনে আসনযুক্ত সালিসের জন্য বাংলাদেশের আদালত কি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা দিতে পারেন?
আদালত কি পারফরম্যান্স গ্যারান্টির অর্থ পরিশোধ থেকে ব্যাংককে বিরত রাখতে পারেন?
আদালত কি আগে অপর পক্ষের কথা শুনবেন?
ট্রাইব্যুনাল গঠিত হওয়ার পর আদালতের আদেশের কী হয়?
অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার আবেদন নামঞ্জুর হলে কি আপিল করা যায়?
কত দ্রুত সুরক্ষা পাওয়া যায়?
আইন ও উৎস
- Arbitration Act 2001, Laws of Bangladesh
- Arbitration Act 2001, Bangla text with amendments (mirror)
- Commercial Courts Act 2026 (Act 23 of 2026), Bangla text (mirror)
- Legend World Tank PTE v Multinational Shipping Co Ltd, Arbitration Application No. 30 of 2025 (HCD, 12.07.2026)
- MSE-FA-MRM JV v Tangail Central Co-operative Bank Ltd, Civil Revision No. 7045 of 2023 (HCD, 24.04.2024)
- Prokaushal Projukti and M/S Quashem Construction (JV) v Executive Engineer, LGED, Civil Revision No. 4646 of 2023 (HCD, 23.04.2026)
- Civil Revision No. 4645 of 2023 (HCD, 07.01.2026), s.7A injunction against encashment of a bank guarantee
- Code of Civil Procedure 1908, Laws of Bangladesh
- The Daily Star: Commercial courts open a new chapter in reform
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।