বাংলাদেশে ওয়ারিশ সনদ ও উত্তরাধিকার: ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়া
বাংলাদেশে ওয়ারিশ সনদ ও উত্তরাধিকারের প্রক্রিয়া শুরু হয় যখন পরিবার মৃত্যু নিবন্ধন করে এবং ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের কাছে ওয়ারিশদের তালিকাসহ ওয়ারিশ সনদ (heirship certificate) চায়। এরপর পরিবার মৃত ব্যক্তির ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী প্রত্যেক ওয়ারিশের অংশ হিসাব করে, প্রয়োজনে আদালতের উত্তরাধিকার সনদ (succession certificate) নিয়ে ব্যাংকের টাকা ও শেয়ার উত্তোলন করে এবং উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি ওয়ারিশদের নামে নামজারি (mutation) করে।
ওয়ারিশদের মধ্যে মতবিরোধ হলে বিরোধটি প্রথমে মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতায় যায়, তারপর বাটোয়ারা বা ঘোষণামূলক মামলা হিসেবে দেওয়ানি আদালতে যায়, এবং আপিল হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগ পর্যন্ত গড়াতে পারে।
- কোথা থেকে শুরু
- মৃত ব্যক্তির স্থায়ী ঠিকানার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর (ওয়ারিশ সনদ)…
- মূল আইন
- মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭-এর ধারা ২; মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৪; হিন্দু আইন (দায়ভাগ…
- সাধারণ সময়কাল
- ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক সময়সীমা: ওয়ারিশ সনদ ১-৪ সপ্তাহ; ওয়ারিশ সনদের ভিত্তিতে ব্যাংকের টাকা উত্তোলন ১-৩…
- কে মামলা করতে পারেন
- যেকোনো ওয়ারিশ, অথবা বিদেশে থাকা ওয়ারিশের বৈধ মোক্তারনামা / পাওয়ার অব অ্যাটর্নিধারী প্রতিনিধি; সহ-ওয়ারিশ, পাওনাদার…
বাংলাদেশে ওয়ারিশ সনদ: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · মৃত্যুর পরমৃত্যু নিবন্ধন করুন ও পারিবারিক কাগজপত্র সংগ্রহ করুন
পরবর্তী প্রতিটি অফিস সবার আগে যে কাগজটি চায় তা হলো মৃত্যু নিবন্ধন সনদ। যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের এলাকায় মৃত্যু হয়েছে বা মৃত ব্যক্তি বসবাস করতেন, তারা অনলাইন জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থার মাধ্যমে এই সনদ দেয়। পরিবার মৃত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), ওয়ারিশদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদ, বিয়ের কাগজ (কাবিননামা) এবং পারিবারিক আদালত বা উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত আগের কোনো আদেশও সংগ্রহ করে। বিদেশে থাকা ওয়ারিশদের পাসপোর্টের স্ক্যান কপি পাঠানো উচিত, আর বাংলাদেশে কাউকে দিয়ে কাজ করাতে চাইলে বাংলাদেশ মিশনে সম্পাদিত মোক্তারনামা / পাওয়ার অব অ্যাটর্নি পাঠাতে হবে।
শুরুতেই এসব কাগজ জোগাড় করলে প্রতিটি অফিসে বারবার যেতে হয় না।
কোথায়: মৃত ব্যক্তির পরিবার ও তাঁদের আইনজীবী · সময়: ১-৩ সপ্তাহ · আইন: জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪; পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন, ২০১২-এর ধারা ৬ ও পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালা, ২০১৫-এর বিধি ১০ (বিদেশে থাকা ওয়ারিশ) · কাগজপত্র: মৃত্যু নিবন্ধন সনদ, মৃত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র, ওয়ারিশদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদ, কাবিননামা বা বিয়ের প্রমাণ
পরামর্শ: জাতীয় পরিচয়পত্র, মৃত্যু সনদ ও জমির রেকর্ডে মৃত ব্যক্তির নামের বানান একই আছে কি না মিলিয়ে নিন; পরে যত দেরি হয়, তার বেশিরভাগই এই অমিলের কারণে।
ধাপ ২ · মৃত্যুর পরব্যক্তিগত আইন ও ওয়ারিশদের চিহ্নিত করুন
বাংলাদেশে উত্তরাধিকারের কোনো একক আইন নেই। মৃত ব্যক্তির ধর্মই ঠিক করে কোন নিয়ম প্রযোজ্য হবে। মুসলমানদের উইলবিহীন উত্তরাধিকারে শরিয়ত প্রযোজ্য, আর মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ অনুযায়ী আগে মারা যাওয়া ছেলে বা মেয়ের সন্তানেরা সেই অংশ পান, যা তাদের বাবা বা মা বেঁচে থাকলে পেতেন। হিন্দুরা দায়ভাগ মতবাদ অনুসরণ করেন, যেখানে ছেলে, বিধবা এবং সীমিত ক্ষেত্রে মেয়েরা উত্তরাধিকারী হন। খ্রিষ্টানদের ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫ প্রযোজ্য। আইনজীবী একটি বংশতালিকা তৈরি করেন, যাতে জীবিত বা মৃত প্রত্যেক স্বামী-স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা ও ভাইবোনের নাম থাকে, কারণ বাদ পড়া একজন ওয়ারিশ পরে সনদ, নামজারি বা বিক্রি বাতিল করিয়ে দিতে পারেন।
কোথায়: মৃত ব্যক্তির পরিবার ও তাঁদের আইনজীবী · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭-এর ধারা ২; মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৪; হিন্দু নারীর সম্পত্তির অধিকার আইন, ১৯৩৭; উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর পঞ্চম খণ্ড (খ্রিষ্টান ও অন্যান্য) · কাগজপত্র: বংশতালিকা (ওয়ারিশ তালিকা), প্রতিটি বিয়ে ও সন্তানের বিবরণ, কোনো উইল বা হেবা দলিল
পরামর্শ: দ্বিতীয় বিয়ের সন্তান এবং আগে মারা যাওয়া সন্তানের সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত করুন; সবচেয়ে বেশি বাদ পড়েন এঁরাই।
ধাপ ৩ · মৃত্যুর পরওয়ারিশ সনদের জন্য আবেদন করুন
মৃত ব্যক্তির স্থায়ী ঠিকানা অনুযায়ী একজন ওয়ারিশ আবেদন করেন: গ্রামাঞ্চলে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে, শহরে পৌরসভার মেয়র বা কাউন্সিলরের কাছে, আর ঢাকায় সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছে। অনেক অফিস এখন স্থানীয় সরকারের অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন নেয়। আবেদনকারী প্রত্যেক ওয়ারিশের সম্পর্ক, বয়স ও ঠিকানা উল্লেখ করেন এবং মৃত্যু সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংযুক্ত করেন। ওয়ারিশ সনদ একটি প্রশাসনিক দলিল। স্থানীয় অফিস যাঁদের ওয়ারিশ বলে মনে করে, এতে তাঁদের নাম লেখা থাকে। এটি অংশ বা স্বত্ব নির্ধারণ করে না, এবং ব্যাংক ও আদালত একে চূড়ান্ত প্রমাণ নয়, সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য করে।
কোথায়: ইউনিয়ন পরিষদ / পৌরসভা / সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কার্যালয় (ওয়ারিশ সনদ) · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রচলিত চর্চা অনুযায়ী জারি করা প্রশাসনিক সনদ (বিস্তারিত বিধিবদ্ধ পদ্ধতি নেই); উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৮১ (শুধু আদালতের সনদই পরিশোধকারী দেনাদারকে সুরক্ষা দেয়) · কাগজপত্র: সব ওয়ারিশের তালিকাসহ আবেদন, মৃত্যু নিবন্ধন সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম নিবন্ধন সনদ, অফিস চাইলে ছবি
পরামর্শ: সনদে মৃত ব্যক্তির বাবার নাম ও পূর্ণ ঠিকানা যেন জমির রেকর্ডের সঙ্গে হুবহু মেলে, তা নিশ্চিত করতে বলুন।
ধাপ ৪ · মৃত্যুর পরস্থানীয় যাচাই ও সনদ প্রদান
অফিস স্থানীয় লোকজন, ওয়ার্ড সদস্য বা এলাকার রেকর্ডের সঙ্গে তালিকাটি মিলিয়ে দেখে, এবং পরিবারটির পরিচয় নিশ্চিত করতে দুজন প্রতিবেশীকে ডাকতে পারে। কেউ আপত্তি না করলে সনদে সই করে দেওয়া হয়, প্রায়ই কয়েক দিনের মধ্যে। কেউ নিজেকে ওয়ারিশ দাবি করলে এবং পরিবার তা মানতে না চাইলে, কিংবা পরিবারই কারও দাবির বিরোধিতা করলে, অফিস সাধারণত সিদ্ধান্ত দিতে অস্বীকার করে এবং পক্ষগুলোকে আদালতে যেতে বলে। হাইকোর্ট বিভাগ রায় দিয়েছে যে এমন বিরোধ একটি বিতর্কিত তথ্যগত প্রশ্ন, যা রিট পিটিশনে নয়, দেওয়ানি আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে প্রমাণ করতে হয়।
কোথায়: ইউনিয়ন পরিষদ / পৌরসভা / সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কার্যালয় (ওয়ারিশ সনদ) · সময়: কয়েক দিন থেকে ৩ সপ্তাহ · আইন: রিট পিটিশন নং ১৩৬৩৫/২০২৪ (হাইকোর্ট বিভাগ, রায় ৩ আগস্ট ২০২৬); সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৪২ · কাগজপত্র: ওয়ার্ড সদস্য বা প্রতিবেশীদের মাধ্যমে যাচাই, স্বাক্ষরিত ওয়ারিশ সনদ
পরামর্শ: একবারেই কয়েকটি সত্যায়িত কপি নিয়ে নিন; ব্যাংক, এসি ল্যান্ড অফিস ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিস প্রত্যেকে একটি করে রেখে দেয়।
ধাপ ৫ · অংশ নির্ধারণদেনা ও দেনমোহর পরিশোধ করুন, তারপর উইল কার্যকর করুন
ওয়ারিশরা কিছু ভাগ করার আগে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে দাফন-কাফনের খরচ, তাঁর দেনা এবং মুসলিম স্বামীর ক্ষেত্রে বিধবা স্ত্রীর অপরিশোধিত দেনমোহর পরিশোধ করতে হয়; দেনমোহর দেনা হিসেবেই গণ্য। এরপরই কেবল বৈধ উইল কার্যকর হয়। একজন মুসলমান নিট সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের বেশি উইল করতে পারেন না, এবং কোনো ওয়ারিশের অনুকূলে উইল করতে পারেন না, যদি না মৃত্যুর পর অন্য ওয়ারিশরা সম্মতি দেন। একজন হিন্দু উইলের মাধ্যমে অনেক বেশি স্বাধীনভাবে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন। উইল থাকলে প্রোবেট বা লেটার্স অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন লাগবে কি না বিবেচনা করুন। অবশিষ্ট সম্পত্তি ব্যক্তিগত আইনের অংশ অনুযায়ী ওয়ারিশদের কাছে যায়।
কোথায়: মৃত ব্যক্তির পরিবার ও তাঁদের আইনজীবী · সময়: ১-৩ মাস · আইন: মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭-এর ধারা ২ (উত্তরাধিকার ও দেনমোহর); উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর নবম খণ্ড (প্রোবেট ও লেটার্স অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) · কাগজপত্র: দেনা ও ঋণের তালিকা, দেনমোহর উল্লেখসহ কাবিননামা, মূল উইল, যদি থাকে
পরামর্শ: বিধবার অপরিশোধিত দেনমোহরের কথা প্রায়ই ভুলে যাওয়া হয়; আগেই তা মিটিয়ে দিলে পরে সম্পত্তির বিরুদ্ধে পারিবারিক আদালতে দাবি ওঠে না।
ধাপ ৬ · অংশ নির্ধারণফারায়েজ অনুযায়ী অংশ হিসাব করুন
বাংলাদেশে ওয়ারিশ সনদ ও উত্তরাধিকারের যেকোনো বিষয়ের কেন্দ্রে থাকে অংশের তালিকা। মুসলিম সম্পত্তির ক্ষেত্রে আইনজীবী ফারায়েজ (অংশ) হিসাব তৈরি করেন। প্রথমে নির্ধারিত অংশের ওয়ারিশরা পান: সন্তান থাকলে বিধবা স্ত্রী এক-অষ্টমাংশ, না থাকলে এক-চতুর্থাংশ; স্বামী এক-চতুর্থাংশ বা অর্ধেক; সন্তান থাকলে বাবা ও মা প্রত্যেকে এক-ষষ্ঠাংশ। অবশিষ্টাংশ যায় আসাবা (অবশিষ্টভোগী) ওয়ারিশদের কাছে, যেখানে ছেলে মেয়ের দ্বিগুণ পায়। ১৯৬১ সালের অধ্যাদেশের ধারা ৪ অনুযায়ী আগে মারা যাওয়া সন্তানের সন্তানেরা সেই সন্তানের স্থলাভিষিক্ত হন। ওয়ারিশদের সই করা লিখিত হিসাবই ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন, নামজারি ও যেকোনো বাটোয়ারা দলিলের ভিত্তি।
কোথায়: মৃত ব্যক্তির পরিবার ও তাঁদের আইনজীবী · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭-এর ধারা ২; মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ধারা ৪ · কাগজপত্র: লিখিত ফারায়েজ হিসাব, জমি, ব্যাংক ও অন্যান্য সম্পদের তফসিল
পরামর্শ: প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ওয়ারিশকে দিয়ে অংশের তালিকায় সই করিয়ে নিন; বহু বছর পরে বিরোধ বাধলে সই করা তালিকা শক্তিশালী সাক্ষ্য।
ধাপ ৭ · টাকা ও শেয়ার উত্তোলনব্যাংকের আমানত ও সঞ্চয়পত্রের টাকা উত্তোলন করুন
ওয়ারিশরা মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশ সনদসহ প্রতিটি ব্যাংক ও জাতীয় সঞ্চয় অফিসে লিখিত আবেদন করেন। নমিনি থাকলে প্রতিষ্ঠান নমিনিকে টাকা দিতে পারে, আর নমিনি সেই টাকা সব ওয়ারিশের পক্ষে ধারণ করেন। অল্প অঙ্কের টাকার ক্ষেত্রে অনেক ব্যাংক ওয়ারিশ সনদ, ক্ষতিপূরণ বন্ড (ইনডেমনিটি বন্ড) ও ওয়ারিশদের সইয়ের ভিত্তিতে সব ওয়ারিশকে যৌথভাবে টাকা দেয়। বড় অঙ্কের ক্ষেত্রে, বা কোনো ওয়ারিশ আপত্তি করলে, ব্যাংক আদালতের উত্তরাধিকার সনদ চায়, কারণ কেবল সেই সনদই টাকা পরিশোধের সময় ব্যাংককে আইনগত সুরক্ষা দেয়।
কোথায়: ব্যাংক, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অফিস বা ডিপজিটরি পার্টিসিপেন্ট · সময়: ১-৩ মাস · আইন: উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৭০ (পাওনা ও সিকিউরিটি); উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৮১ · কাগজপত্র: মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদ, ক্ষতিপূরণ বন্ড (ইনডেমনিটি বন্ড), ওয়ারিশদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও সই
পরামর্শ: কাগজপত্র জোগাড়ের আগে প্রতিটি ব্যাংকের কাছে লিখিত চাহিদাপত্র চেয়ে নিন; ব্যাংকভেদে চর্চা আলাদা।
ধাপ ৮ · টাকা ও শেয়ার উত্তোলনশেয়ার ও বিও হিসাব হস্তান্তর করুন
তালিকাভুক্ত শেয়ার থাকে মৃত ব্যক্তির বেনিফিশিয়ারি ওনার (বিও) হিসাবে, যা কোনো ডিপজিটরি পার্টিসিপেন্টের কাছে খোলা, সাধারণত কোনো স্টকব্রোকার বা ব্যাংক। মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদ এবং বড় পরিমাণ শেয়ার বা নমিনি না থাকলে উত্তরাধিকার সনদের ভিত্তিতে পার্টিসিপেন্ট নমিনি বা ওয়ারিশদের নামে ট্রান্সমিশন (হস্তান্তর) করে। শেয়ার গ্রহণের জন্য ওয়ারিশদের নিজস্ব বিও হিসাব থাকতে হবে। মৃত্যুর পর ঘোষিত লভ্যাংশ হস্তান্তরিত হিসাবে জমা হয়। অতালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার একই ধরনের কাগজের ভিত্তিতে কোম্পানি নিজেই হস্তান্তর করে।
কোথায়: ব্যাংক, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অফিস বা ডিপজিটরি পার্টিসিপেন্ট · সময়: ১-৩ মাস · আইন: ডিপজিটরি আইন, ১৯৯৯; উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৭০(২) (শেয়ার 'সিকিউরিটি' হিসেবে গণ্য); কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ (শেয়ার হস্তান্তর) · কাগজপত্র: ট্রান্সমিশনের আবেদন, মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশ সনদ, চাওয়া হলে উত্তরাধিকার সনদ, ওয়ারিশদের বিও হিসাবের বিবরণ
পরামর্শ: আগে বিও হিসাবের নমিনির তথ্য দেখে নিন; নমিনির নামে হস্তান্তর সাধারণত দ্রুত হয়।
ধাপ ৯ · টাকা ও শেয়ার উত্তোলনপ্রয়োজন হলে উত্তরাধিকার সনদের জন্য আবেদন করুন
কোনো প্রতিষ্ঠান জোর দিলে একজন ওয়ারিশ মৃত ব্যক্তি সাধারণত যেখানে বসবাস করতেন সেখানকার জেলা জজের কাছে দরখাস্ত করেন। জেলা জজ নিজে শুনানি করতে পারেন, অথবা উত্তরাধিকার মামলার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো নিম্নতর দেওয়ানি আদালতে, যেমন যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা সিভিল জজের কাছে পাঠাতে পারেন। দরখাস্তে ওয়ারিশদের এবং প্রতিটি পাওনা বা সিকিউরিটির বিবরণ দেওয়া হয়। আদালত ওয়ারিশদের নোটিশ দেয়, নোটিশ প্রকাশ করে, আপত্তি শোনে এবং প্রাথমিকভাবে সবচেয়ে ভালো স্বত্বের অধিকারী ব্যক্তিকে সনদ দেয়, প্রায়ই জামানত বন্ডের শর্তে। আপত্তিহীন দরখাস্তে কয়েক মাস লাগে।
সনদটি শুধু টাকা ও সিকিউরিটির জন্য, জমির জন্য নয়, এবং এটি চূড়ান্তভাবে স্বত্ব নির্ধারণ করে না।
কোথায়: প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: আপত্তি না থাকলে ৩-৮ মাস · আইন: উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৭১-৩৭৩; উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৮৮ ও দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ২৩-২৪ (নিম্নতর আদালত); কোর্ট-ফি আইন, ১৮৭০-এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ১২; উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৮৭ · কাগজপত্র: সত্যপাঠসহ দরখাস্ত, মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশ সনদ, পাওনা ও সিকিউরিটির তফসিল, সহ-ওয়ারিশদের অনাপত্তি হলফনামা
পরামর্শ: অন্য ওয়ারিশদের সঙ্গে যৌথভাবে আবেদন করুন, বা তাঁদের অনাপত্তি হলফনামা দাখিল করুন; এতে মামলা অনেক সংক্ষিপ্ত হয়।
ধাপ ১০ · উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমিউত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি ওয়ারিশদের নামে নামজারি করুন
বাংলাদেশে ওয়ারিশ সনদ ও উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে জমির জন্য উত্তরাধিকার সনদ লাগে না। এর বদলে জমি যে উপজেলা বা সার্কেলে অবস্থিত, সেখানকার সহকারী কমিশনার (ভূমি), অর্থাৎ এসি ল্যান্ডের কাছে ওয়ারিশরা অনলাইনে নামজারির (mutation) আবেদন করেন এবং ওয়ারিশ সনদ, ফারায়েজ তালিকা ও মৃত ব্যক্তির খতিয়ান ও দলিল সংযুক্ত করেন। ইউনিয়ন ভূমি অফিস প্রতিবেদন দেয়, অন্য ওয়ারিশদের নোটিশ দেওয়া হয়, এবং এসি ল্যান্ড নতুন খতিয়ানে ওয়ারিশদের নাম লিপিবদ্ধ করেন। ওয়ারিশরা সবার নামে যৌথভাবে, অথবা প্রত্যেকে সম্মত অংশের জন্য আলাদাভাবে নামজারি করতে পারেন। নতুন নামে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করলে রেকর্ড সম্পূর্ণ হয়।
কোথায়: এসি ল্যান্ড অফিস ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিস · সময়: ১-৩ মাস · আইন: রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৩; ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০২৩; ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-নামজারি নির্দেশিকা · কাগজপত্র: ওয়ারিশ সনদ, ফারায়েজ হিসাব, সর্বশেষ খতিয়ান ও দলিল, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রসিদ
পরামর্শ: নামজারি রাজস্ব রেকর্ড হালনাগাদ করে, কিন্তু স্বত্ব সৃষ্টি করে না; বাদ পড়া ওয়ারিশের সমস্যা এতে মেটে না।
ধাপ ১১ · উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমিআপসে বাটোয়ারা দলিল রেজিস্ট্রি করুন
কোন ওয়ারিশ কোন জমি বা ফ্ল্যাট পাবেন, এ নিয়ে সবাই একমত হলে তা একটি বাটোয়ারা দলিলে (বণ্টননামা) লেখা হয়, যা সবাই সম্পাদন করেন এবং জমি যেখানে অবস্থিত সেখানকার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রি করা হয়। ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী ওয়ারিশদের মধ্যে বাটোয়ারা রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক। দলিলে প্রত্যেক ওয়ারিশের অংশ, চৌহদ্দিসহ জমির তফসিল এবং একটি নকশা থাকে। বিদেশে থাকা ওয়ারিশরা যথাযথভাবে প্রত্যয়িত ও রেজিস্ট্রিকৃত পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে সই করতে পারেন। রেজিস্ট্রির পর প্রত্যেক ওয়ারিশ নিজের বরাদ্দ অংশের আলাদা নামজারির আবেদন করেন।
কোথায়: এসি ল্যান্ড অফিস ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিস · সময়: ১-২ মাস · আইন: রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৭(১)(চ); রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮-এর ধারা ২৩ (দাখিলের জন্য তিন মাস); স্ট্যাম্প আইন, ১৮৯৯; রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৩ · কাগজপত্র: স্ট্যাম্প কাগজে বাটোয়ারা দলিল, খতিয়ান ও নামজারির রেকর্ড, নকশা, বিদেশে থাকা ওয়ারিশদের পাওয়ার অব অ্যাটর্নি
পরামর্শ: রেজিস্ট্রিকৃত বাটোয়ারা দলিলে টাকা ও সময় দুটোই বাটোয়ারা মামলার চেয়ে অনেক কম লাগে; সমঝোতায় পৌঁছাতে সত্যিকারের চেষ্টা করা সার্থক।
ধাপ ১২ · আদালতে বিরোধওয়ারিশদের মতবিরোধ হলে মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতার চেষ্টা করুন
কে ওয়ারিশ, কার কত অংশ বা কে কোন জমি পাবেন, এ নিয়ে বিরোধ হলে পরবর্তী ধাপ মধ্যস্থতা। আইনগত সহায়তা প্রদান আইনের অধীনে প্রজ্ঞাপিত জেলাগুলোতে সিভিল জজের আর্থিক এখতিয়ারের মধ্যে থাকা বাটোয়ারা বিরোধ প্রথমে মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতার জন্য জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে নিতে হয়; ৩১ জুলাই ২০২৬ থেকে এটি ৩০টি জেলায় প্রযোজ্য, তবে ঢাকা এখনো এর অন্তর্ভুক্ত নয়। অন্যত্র এবং অন্যান্য বিরোধে লিগ্যাল এইড মধ্যস্থতা ঐচ্ছিক। লিগ্যাল এইড অফিসার পক্ষগুলোকে ডাকেন, প্রত্যেক পক্ষের বক্তব্য শোনেন এবং একটি আপস-মীমাংসা তৈরিতে সাহায্য করেন, যা পরে রেজিস্ট্রিকৃত বাটোয়ারা দলিলে রূপ দেওয়া যায়।
মধ্যস্থতা ব্যর্থ হলে অফিসার একটি প্রতিবেদন দেন, যা মামলার সঙ্গে দাখিল করা হয়।
কোথায়: জেলা লিগ্যাল এইড অফিস (মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা) · সময়: ১-৩ মাস · আইন: আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর ধারা ২১খ ও তফসিলের ক্রমিক ৩ (২০২৬ সালের ৪৫ নং আইন দ্বারা সন্নিবেশিত); এস.আর.ও. নং ২৮৮-আইন/২০২৬ (প্রজ্ঞাপিত জেলা); দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৮৯ক (মামলা দায়েরের পর মধ্যস্থতা) · কাগজপত্র: মধ্যস্থতার আবেদন, বংশতালিকা ও ফারায়েজ তালিকা, জমির রেকর্ড
পরামর্শ: সই করা অংশের তালিকা ও জমির রেকর্ড সঙ্গে আনুন; হিসাব আগে থেকেই কাগজে থাকলে মধ্যস্থতাকারীরা দ্রুত মীমাংসা করেন।
ধাপ ১৩ · আদালতে বিরোধবাটোয়ারা বা ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করুন
সমঝোতা না হলে একজন ওয়ারিশ জমি যেখানে অবস্থিত সেখানকার দেওয়ানি আদালতে মামলা করেন। বাটোয়ারা মামলায় (partition suit) আদালতের কাছে প্রত্যেক সহ-অংশীদারের অংশ ঘোষণা ও সম্পত্তি ভাগ করে দেওয়ার প্রার্থনা করা হয়, এবং প্রত্যেক সহ-ওয়ারিশকে পক্ষ করতে হয়। ঘোষণামূলক মামলায় (declaration suit) আদালতের কাছে ঘোষণা চাওয়া হয় যে কোনো ব্যক্তি ওয়ারিশ, বা ওয়ারিশ নন। মামলার মূল্যমান অনুযায়ী আদালত ঠিক হয়: সিভিল জজ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত, সিনিয়র সিভিল জজ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং যুগ্ম জেলা জজ এর বেশি মূল্যের মামলা শোনেন।
ঘোষণামূলক মামলা সাধারণত ছয় বছরের মধ্যে দায়ের করতে হয়, এবং সিভিল জজের ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল যায় জেলা জজের কাছে।
কোথায়: প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: দায়ের ও সমন জারিতে ১-২ মাস · আইন: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৪২; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৭ বিধি ১ ও আদেশ ২০ বিধি ১৮; দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ১৯ (২০২১ ও ২০২৬ সালে সংশোধিত); তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১২০; বাটোয়ারা আইন, ১৮৯৩ · কাগজপত্র: আরজি, বংশতালিকা, খতিয়ান, দলিল ও নামজারির রেকর্ড, ওয়ারিশ সনদ, কোর্ট-ফি স্ট্যাম্প
পরামর্শ: সহ-ওয়ারিশরা যৌথ মালিক থাকা অবস্থায় বাটোয়ারার জন্য সাধারণত তামাদির সময়সীমা থাকে না, তবে যে সহ-ওয়ারিশ বছরের পর বছর প্রকাশ্যে বঞ্চিত, তাঁকে বিরুদ্ধ দখলের (adverse possession) আপত্তির মুখে পড়তে হতে পারে।
ধাপ ১৪ · আদালতে বিরোধবিচার: বংশতালিকা প্রমাণ
লিখিত জবাবের পর আদালত বিচার্য বিষয় গঠন করে এবং ধারা ৮৯ক অনুযায়ী মামলাটি মধ্যস্থতায় পাঠাতে পারে। বিচারে এখন প্রত্যেক পক্ষের জবানবন্দি হলফনামার মাধ্যমে দেওয়া হয়, তারপর জেরা হয়। বিয়ের রেজিস্টার, জন্ম ও জাতীয় পরিচয়পত্রের রেকর্ড, স্কুলের রেকর্ড, আগের রায় এবং আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের সাক্ষ্য দিয়ে ওয়ারিশ পরিচয় প্রমাণ করা হয়। আদালত আচরণও বিবেচনা করতে পারে, যেমন বছরের পর বছর পরিবার কাউকে কীভাবে গণ্য করেছে। ডিএনএ প্রতিবেদন সাক্ষ্য বটে, কিন্তু অন্য সাক্ষ্যের সঙ্গে বিরোধ থাকলে তা চূড়ান্ত নয়। ওয়ারিশ সনদ প্রাসঙ্গিক, তবে আদালত তা মানতে বাধ্য নয়।
কোথায়: প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: ২-৫ বছর · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ১৮ বিধি ৪ক (২০২৬ সালে সন্নিবেশিত); দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৮৯ক; সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৫০ ও ১১২ · কাগজপত্র: সাক্ষ্যের হলফনামা, বিয়ে ও জন্মের রেকর্ড, আগের রায়, সাক্ষীর তালিকা
পরামর্শ: কাবিননামা বা জন্ম সনদের ফটোকপির চেয়ে মূল রেজিস্টার বা সত্যায়িত কপির গুরুত্ব অনেক বেশি।
ধাপ ১৫ · আদালতে বিরোধরায় ও প্রাথমিক ডিক্রি
ঘোষণামূলক মামলায় আদালত ঘোষণা করে কারা ওয়ারিশ। বাটোয়ারা মামলায় আদালত প্রাথমিক ডিক্রি দিয়ে প্রত্যেক ওয়ারিশের অংশ (ছাহাম) নির্ধারণ করে। এরপর আদালত সরেজমিনে মেপে জমি ভাগ করার জন্য একজন অ্যাডভোকেট কমিশনার নিয়োগ করে, তাঁর প্রতিবেদনের ওপর আপত্তি বিবেচনা করে এবং স্ট্যাম্প কাগজে লিখিত চূড়ান্ত ডিক্রি দেয়। জমি যুক্তিসংগতভাবে ভাগ করা সম্ভব না হলে আদালত বিক্রির আদেশ দিয়ে বিক্রয়লব্ধ অর্থ ভাগ করে দিতে পারে। পক্ষগুলোর মধ্যে ওয়ারিশ পরিচয়ের প্রামাণ্য ঘোষণা হিসেবে ডিক্রিটি ওয়ারিশ সনদের স্থান নেয়।
কোথায়: প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ) · সময়: বিচারের পর ৬-২৪ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ২০ বিধি ১৮; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ১৩-১৪; বাটোয়ারা আইন, ১৮৯৩-এর ধারা ২-৪ · কাগজপত্র: রায় ও ডিক্রির সত্যায়িত কপি, কমিশনারের প্রতিবেদন, স্ট্যাম্প কাগজে চূড়ান্ত ডিক্রি
পরামর্শ: সঙ্গে সঙ্গে সত্যায়িত কপির আবেদন করুন; আপিলের সময় গণনা ডিক্রির তারিখ থেকে শুরু হয়, আর দ্রুত আবেদন করলেই কেবল নকল তোলার সময় বাদ দেওয়া হয়।
ধাপ ১৬ · আদালতে বিরোধডিক্রি বাস্তবায়ন: দখল ও নামজারি
কোনো সহ-ওয়ারিশ বরাদ্দ অংশ ছেড়ে না দিলে ডিক্রিদার একই আদালতে জারির (execution) আবেদন করেন, এবং আদালত পুলিশের সহায়তায় দখল বুঝিয়ে দেওয়ার আদেশ দিতে পারে। ২০২৬ সাল থেকে মূল মামলার নথিতেই জারি চাওয়া যায়। চূড়ান্ত ডিক্রি নিয়ে প্রত্যেক ওয়ারিশ এসি ল্যান্ডের কাছে নামজারি ও আলাদা খতিয়ানের আবেদন করেন এবং ভূমি উন্নয়ন কর দিতে শুরু করেন। বিতর্কিত উত্তরাধিকার সনদের অধীনে টাকা ধরে রাখা ব্যাংক ডিক্রির ঘোষণা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়। এভাবেই বাংলাদেশে ওয়ারিশ সনদ ও উত্তরাধিকারের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়।
কোথায়: এসি ল্যান্ড অফিস ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিস · সময়: ৩-১২ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ২১ বিধি ৩৫ ও ১০৪ (২০২৬ সালে সংশোধিত); দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৯৪ক; রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ধারা ১৪৩ · কাগজপত্র: চূড়ান্ত ডিক্রি, জারির আবেদন, নামজারির আবেদন
পরামর্শ: চূড়ান্ত ডিক্রিতে সই হওয়ামাত্র নামজারির আবেদন করুন; নামজারি না করা ডিক্রি নতুন বিরোধ ডেকে আনে।
যদি এমন হয়…? বাংলাদেশে ওয়ারিশ সনদ যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
কোনো সহ-ওয়ারিশ ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করলে কী হবে?
- 1জেলা জজ আদালত
জেলা জজের কাছে আপিল
সিভিল জজ বা সিনিয়র সিভিল জজের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল যায় জেলা জজের কাছে; যুগ্ম জেলা জজের রায়ের বিরুদ্ধেও মামলার মূল্যমান ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত হলে আপিল যায় জেলা জজের কাছে, ত্রিশ দিনের মধ্যে। জেলা জজ আপিলটি অতিরিক্ত জেলা জজের কাছে বদলি করতে পারেন। প্রথম আপিলে তথ্য ও আইন দুটোই নতুন করে শোনা হয়, তাই বংশতালিকা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আবার খোলা যায়। আদালত আদেশ না দিলে আপিল দায়ের করলেই জারি স্থগিত হয় না।
দায়েরের জন্য ৩০ দিন; নিষ্পত্তিতে ১-৩ বছরদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৯৬দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ২১ (২০২১ সালে সংশোধিত)তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৫২ - 2হাইকোর্ট বিভাগ
উচ্চ মূল্যমানের আপিল ও উত্তরাধিকার সনদ-সংক্রান্ত আপিল
যুগ্ম জেলা জজ ৫ কোটি টাকার বেশি মূল্যমানের মামলা নিষ্পত্তি করলে প্রথম আপিল নব্বই দিনের মধ্যে সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে যায়। জেলা জজ, বা বদলিসূত্রে মামলা শুনানিকারী যুগ্ম জেলা জজ, উত্তরাধিকার সনদ মঞ্জুর বা নামঞ্জুর করলে সেই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে প্রথম বিবিধ আপিল (First Miscellaneous Appeal) করা হয়। আদেশটি সিনিয়র সিভিল জজ, সিভিল জজ বা ধারা ৩৮৮-এর অধীনে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো আদালত দিলে আপিল যায় জেলা জজের কাছে, এবং রিভিশন সাপেক্ষে তাঁর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
দায়েরের জন্য ৯০ দিন; নিষ্পত্তিতে ২-৫ বছরদেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ২১ (২০২১ সালে সংশোধিত)উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৮৪ ও ৩৮৮(২)-(৩)দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ২৪তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৫৬
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল আদালত ডিক্রি বহাল রাখে, পরিবর্তন করে বা বাতিল করে; এরপর মামলা হয় শেষ হয়, নয়তো রিভিশন বা লিভের পর্যায়ে যায়।
হাইকোর্ট বিভাগ কি জেলা জজের সিদ্ধান্ত সংশোধন করতে পারে?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
ধারা ১১৫-এর অধীনে দেওয়ানি রিভিশন
বাংলাদেশে দ্বিতীয় আপিলের সুযোগ নেই। জেলা জজের আপিল ডিক্রির বিরুদ্ধে পরাজিত ওয়ারিশ ধারা ১১৫(১)-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে দেওয়ানি রিভিশনের (civil revision) আবেদন করেন, এই যুক্তিতে যে আইনের ভুলের কারণে ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগ পরিবার-সংক্রান্ত সাক্ষ্য নতুন করে মূল্যায়ন করে না। বিচারিক আদালতের অন্তর্বর্তী আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন প্রথমে জেলা জজের কাছে যায়, এবং তারপর কেবল অনুমতি (লিভ) নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগে যায়।
১-৩ বছরদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫(১), (২) ও (৪)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রুল চূড়ান্ত (absolute) করা হয় বা খারিজ হয়; ডিক্রি পুনর্বহাল, পরিবর্তিত বা ফেরত পাঠানো হয়।
আদালত কি নিজের ডিক্রি পুনর্বিবেচনা করতে পারে?
- 1প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ)
আদেশ ৪৭-এর অধীনে রিভিউ
যে পক্ষ আপিল করেননি, তিনি নব্বই দিনের মধ্যে একই আদালতে ডিক্রি রিভিউর (review) আবেদন করতে পারেন। কারণগুলো সীমিত: যথাযথ চেষ্টা সত্ত্বেও আগে উপস্থাপন করা যায়নি এমন নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য, যেমন রায়ের পরে পাওয়া বিয়ের রেজিস্টার; নথির ওপরেই স্পষ্ট কোনো ভুল; অথবা অন্য কোনো যথেষ্ট কারণ। অংশের হিসাবে গাণিতিক ভুল ধারা ১৫২-এর অধীনে সংশোধন করা যায়। রিভিউ মানে মামলার পুনঃশুনানি নয়।
দায়েরের জন্য ৯০ দিন; ২-৬ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৪ ও আদেশ ৪৭ বিধি ১দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১৫২তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৭৩
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: ডিক্রি সংশোধিত হয়, অথবা রিভিউ নামঞ্জুর হয় এবং আপিলের পথ খোলা থাকে।
উত্তরাধিকার আইনের কোনো প্রশ্ন অস্পষ্ট হলে কী হবে?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স
বিচারিক আদালতের কোনো আইনি প্রশ্নে প্রকৃত সংশয় থাকলে, যেমন কোনো আইন হিন্দু কন্যার অংশে কী প্রভাব ফেলে, বা নমিনি আমানতের পূর্ণ মালিক কি না, আদালত বিষয়টি বিবৃত করে প্রশ্নটি হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স হিসেবে পাঠাতে পারে। রেফারেন্স বিরল; বেশিরভাগ আদালত নিজেই প্রশ্নটি নিষ্পত্তি করে এবং আপিলের ওপর ছেড়ে দেয়। অন্যান্য বিষয়ে মামলা চলতে থাকে, কিন্তু উত্তরের ওপর নির্ভরশীল কোনো ডিক্রি এর মধ্যে দেওয়া যায় না।
৬-১৮ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৩দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪৬ বিধি ১-৩ - 2প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ)
মতামত অনুযায়ী ডিক্রি
হাইকোর্ট বিভাগ উত্তর দেওয়ার পর বিচারিক আদালত সেই মতামতের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মামলা নিষ্পত্তি করে, এবং বাকি তথ্যগত বিষয়গুলো দেখে, যেমন দখলে কে ছিলেন এবং কোন ওয়ারিশ কোন জমি পাবেন। এরপর সেই ডিক্রির বিরুদ্ধে স্বাভাবিক নিয়মে আপিল করা যায়, তাই রেফারেন্সে নিষ্পত্তি হয়নি এমন বিষয়ে বিরোধ আবার উচ্চ আদালতে উঠতে পারে।
১-৩ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪৬ বিধি ৩
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগের উত্তরের ভিত্তিতে নিম্ন আদালতে মামলা নিষ্পত্তি হয়।
আপিল আদালত মামলা ফেরত পাঠালে কী হবে?
- 1জেলা জজ আদালত
ডিক্রি রদ ও পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত
বিচারিক আদালত কোনো প্রয়োজনীয় ওয়ারিশকে পক্ষ না করেই সিদ্ধান্ত দিলে, বা কোনো প্রাথমিক প্রশ্নে মামলা খারিজ করলে এবং আপিল আদালত তা উল্টে দিলে, জেলা জজ ডিক্রি রদ করে মামলাটি পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত (remand) পাঠাতে পারেন। ২০২৬ সাল থেকে নথি যথেষ্ট হলে আপিল আদালতকে নিজেই মামলা নিষ্পত্তি করতে হয়, তাই ফেরত পাঠানো কেবল প্রকৃত ঘাটতির ক্ষেত্রে সীমিত। ফেরত পাঠানোর আদেশ আপিলে নয়, ধারা ১১৫(১)-এর অধীনে দেওয়ানি রিভিশনে চ্যালেঞ্জ করা হয়।
আপিলের রায়ের সঙ্গেদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪১ বিধি ২৩-২৫ (বিধি ২৪, ২০২৬ সালে সংশোধিত)দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫(১) - 2প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ)
পুনর্বিচার ও নতুন ডিক্রি
বিচারিক আদালত মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করে, বাদ পড়া ওয়ারিশদের পক্ষভুক্ত করে বা অনুপস্থিত সাক্ষ্য গ্রহণ করে, এবং নতুন ডিক্রি দেয়। আগে লিপিবদ্ধ সাক্ষ্য বহাল থাকে। নতুন ডিক্রির বিরুদ্ধে আবার জেলা জজের কাছে আপিল এবং তারপর হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন করা যায়, তাই ফেরত পাঠানো হলে সাধারণত এক থেকে দুই বছর বাড়তি লাগে।
৬-১৮ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪১ বিধি ২৩দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৯৬
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: নিম্ন আদালতে নতুন ডিক্রি হয়, যা আপিল ও রিভিশনের মাধ্যমে আবার ওপরে উঠতে পারে।
বিরোধ কি আপিল বিভাগ পর্যন্ত যেতে পারে?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিলের অনুমতি চেয়ে সিভিল পিটিশন (লিভ টু আপিল)
রিভিশন বা প্রথম আপিলে হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে পরাজিত পক্ষ ষাট দিনের মধ্যে আপিলের অনুমতি চেয়ে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল দায়ের করেন। আইনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থাকলে অনুমতি দেওয়া হয়, যেমন এতিম নাতি-নাতনিদের অংশ বা বিতর্কিত বিয়ের প্রভাব। চেম্বার জজের কাছে স্থগিতাদেশ চাওয়া যায়। আপিল বিভাগ অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীনে নিজের রায় রিভিউ করতে পারে।
১-৩ বছরগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগের রায়ে বিরোধের অবসান ঘটে এবং তা নিচের সব আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।
ওয়ার্ড অফিস ওয়ারিশ সনদ দিতে অস্বীকার করলে কী করবেন?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
বিতর্কিত ওয়ারিশ পরিচয়ের প্রতিকার রিট নয়
ওয়ারিশ সনদ দিতে অস্বীকৃতিকে রিটের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা যায় কেবল তখনই, যখন তা স্পষ্টতই বেআইনি, যেমন ওয়ারিশদের নিয়ে কারও কোনো বিরোধ নেই অথচ অফিস কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছে না। প্রতিপক্ষ কেউ নিজেকে ওয়ারিশ দাবি করলে হাইকোর্ট বিভাগ ওয়ারিশ পরিচয়কে বিতর্কিত তথ্যগত প্রশ্ন হিসেবে গণ্য করে এবং তা দেওয়ানি আদালতের ওপর ছেড়ে দেয়, যেমনটি ২০২৬ সালের এক রায়ে এ ধরনের একটি রিট খারিজ করে করা হয়েছে।
৬-২৪ মাসগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২রিট পিটিশন নং ১৩৬৩৫/২০২৪ (হাইকোর্ট বিভাগ, ৩ আগস্ট ২০২৬) - 2প্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ)
বরং ঘোষণামূলক মামলা
বাস্তবসম্মত প্রতিকার হলো দেওয়ানি আদালতে ঘোষণামূলক মামলা, যাতে ঘোষণা চাওয়া হয় যে দাবিকারী মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশ, বা প্রতিপক্ষ ওয়ারিশ নন। তখন ডিক্রিটি পক্ষগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক হয় এবং ওয়ার্ড অফিস, ব্যাংক ও এসি ল্যান্ড সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে। এর মধ্যেও উত্তরাধিকার সনদের আদালত প্রাথমিকভাবে সবচেয়ে ভালো স্বত্বের ভিত্তিতে টাকার জন্য সনদ দিতে পারে।
২-৫ বছরসুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৪২উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৭৩(৩)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: ওয়ারিশ পরিচয় নির্ধারণ করে দেওয়ানি আদালত, আর সনদ ও রেকর্ড ডিক্রি অনুসরণ করে।
বাংলাদেশে ওয়ারিশ সনদ যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
বাংলাদেশে ওয়ারিশ সনদ ও উত্তরাধিকারের প্রক্রিয়া শুরু হয় আদালতের বাইরে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন ওয়ারিশ সনদ দেয়, ব্যাংক টাকা ছাড় করে, আর এসি ল্যান্ড জমির নামজারি করেন। এসব অফিসের কোনোটিই স্বত্ব নির্ধারণ করে না। ওয়ারিশদের মধ্যে মতবিরোধ হলে প্রজ্ঞাপিত জেলাগুলোতে ছোট বাটোয়ারা বিরোধ প্রথমে বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতায় যায়, তারপর জমি যেখানে অবস্থিত সেখানকার দেওয়ানি আদালতে। ২০২১ ও ২০২৬ সালে সংশোধিত দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭ অনুযায়ী মামলার মূল্যমান আদালত নির্ধারণ করে: সিভিল জজ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত, সিনিয়র সিভিল জজ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং যুগ্ম জেলা জজ এর বেশি।
টাকার জন্য উত্তরাধিকার সনদ জেলা জজের এখতিয়ারে, যিনি মামলাটি নিম্নতর দেওয়ানি আদালতে পাঠাতে পারেন। আপিল যায় জেলা জজের কাছে; ব্যতিক্রম হলো ৫ কোটি টাকার বেশি মূল্যমানের যুগ্ম জেলা জজের ডিক্রি এবং জেলা জজ বা তাঁর পক্ষে কাজ করা যুগ্ম জেলা জজের উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত আদেশ, যেগুলো যায় হাইকোর্ট বিভাগে। প্রথম আপিলে তথ্য ও আইন দুটোই নতুন করে শোনা হয়। অন্যথায় হাইকোর্ট বিভাগ কেবল আইনের ভুলের প্রশ্নে দেওয়ানি রিভিশন শোনে, আর সবশেষে অনুমতি সাপেক্ষে আপিল বিভাগ মামলা শোনে।
- আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- আপিল পর্যায়জেলা জজ আদালত
- প্রথম দফার আদালতপ্রথম দৃষ্টান্তের দেওয়ানি আদালত (সিভিল জজ, সিনিয়র সিভিল জজ বা যুগ্ম জেলা জজ)
- শুরু · আদালতের বাইরেমৃত ব্যক্তির পরিবার ও তাঁদের আইনজীবী · ইউনিয়ন পরিষদ / পৌরসভা / সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কার্যালয় (ওয়ারিশ সনদ) · ব্যাংক, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অফিস বা ডিপজিটরি পার্টিসিপেন্ট · এসি ল্যান্ড অফিস ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিস · জেলা লিগ্যাল এইড অফিস (মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা)
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা (ঢাকা জজ কোর্ট)
ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকাঢাকার জেলা জজ (District Judge) ও অতিরিক্ত জেলা জজদের আদালত (দেওয়ানি আপিল, প্রোবেট, মহানগর এলাকার বাইরের জেলা পর্যায়ের দেওয়ানি ও দায়রা মামলা), এবং প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতসমূহ (যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সিভিল জজ/সিভিল জজ আদালত)।
সরকারি বিচার বিভাগীয় পোর্টালে ঠিকানা দেওয়া আছে "১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা"। অনেক দেওয়ানি আদালত (অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত, যুগ্ম জেলা জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, অর্থঋণ আদালত নং ১, দেউলিয়া আদালত) একই প্রাঙ্গণে নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনে বসে। ২০২৬ সালের জাজশিপ তালিকায় প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতগুলোর নাম "সিনিয়র সিভিল জজ" / "সিভিল জজ" (আগে সিনিয়র সহকারী জজ / সিভিল জজ); কিছু পাতায় এখনো পুরোনো নাম ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি জেলায় জেলা জাজশিপে এর সমতুল্য আদালত রয়েছে।
মৃত ব্যক্তির পরিবার ও তাঁদের আইনজীবী
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন
ডিএসসিসি: নগর ভবন, ঢাকা-১০০০; ডিএনসিসি: গুলশান সেন্টার পয়েন্ট, প্লট ২৩-২৬, রোড ৪৬, গুলশান-২, ঢাকা-১২১২পৌর সংস্থা: হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, এবং অঞ্চল/ওয়ার্ড অফিসের মাধ্যমে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর অধীন সালিশি পরিষদের (চেয়ারম্যানের) কাজ।
ডিএনসিসির ওয়েবসাইট: https://dncc.gov.bd। তালাকের নোটিশ ও সালিশি পরিষদের বিষয়গুলো প্রধান কার্যালয়ে নয়, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিষ্পত্তি হয়। ম্যাপ লিংকটি ডিএসসিসির নগর ভবন দেখায়; ডিএনসিসির জন্য গুলশানের ঠিকানা খুঁজুন।
ব্যাংক, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অফিস বা ডিপজিটরি পার্টিসিপেন্ট
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস, ঢাকা
জমি যে উপজেলা বা রাজস্ব সার্কেলে অবস্থিত, সেখানকার ভূমি অফিস, ঢাকা (একক কোনো ঠিকানা নেই)নিজ উপজেলা বা সার্কেলের জমির নামজারি (mutation) আবেদন শুনানি করে, নামজারির রেকর্ড (ডিসিআর) দেয়, ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করে এবং রেকর্ড সংশোধন করে।
আপনি যেখানে থাকেন সেখানে নয়, জমি যে উপজেলা বা রাজস্ব সার্কেলে, সেখানকার এসি ল্যান্ড (AC Land) অফিসে যান। নামজারির আবেদন ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-নামজারি ব্যবস্থায় অনলাইনে করা হয়, শুনানি হয় এসি ল্যান্ড অফিসে। আপিল যায় ঢাকা ডিসি অফিসে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-এর কাছে।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, ঢাকা
ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, জনসন রোড, ঢাকাআইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর অধীন যাঁদের আইনজীবী নিয়োগের সামর্থ্য নেই, তাঁদের বিনা মূল্যে আইনি পরামর্শ ও প্যানেল আইনজীবী দেয়, এবং মামলার আগে ও চলাকালে মধ্যস্থতা পরিচালনা করে।
অফিসের প্রধান জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার, যিনি ঢাকা জাজশিপের একজন সিনিয়র সিভিল জজ; কক্ষ ও তলা নিশ্চিত করা যায়নি। আইনগত সহায়তা প্রদান আইনের ২০২৬ সালের সংশোধনীর অধীন প্রজ্ঞাপিত জেলাগুলোতে কিছু বিরোধে মামলার আগে মধ্যস্থতা বাধ্যতামূলক। জাতীয় আইনগত সহায়তা হেল্পলাইন: ১৬৪৩০। যাওয়ার আগে বর্তমান ঠিকানা যাচাই করে নিন।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- ওয়ারিশ সনদ (Warish certificate)
- ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের দেওয়া সনদ, যাতে মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশদের তালিকা থাকে। এটি প্রশাসনিক সাক্ষ্য, আদালতের সিদ্ধান্ত নয়।
- ফারায়েজ (Faraez)
- ইসলামি আইনের নির্ধারিত অংশ ও আসাবা (অবশিষ্টভোগী) নীতির ভিত্তিতে মুসলিম সম্পত্তিতে প্রত্যেক ওয়ারিশের অংশের হিসাব।
- উত্তরাধিকার সনদ (Succession certificate)
- উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর দশম খণ্ডের অধীনে আদালতের সনদ, যা ধারককে মৃত ব্যক্তির পাওনা ও সিকিউরিটি আদায়ের ক্ষমতা দেয় এবং যাঁরা পরিশোধ করেন তাঁদের সুরক্ষা দেয়।
- নামজারি (Mutation)
- এসি ল্যান্ড অফিসে নতুন খতিয়ানে ওয়ারিশদের নাম লিপিবদ্ধ করা, যাতে ভূমি রাজস্বের রেকর্ড মালিকানার সঙ্গে মেলে।
- খতিয়ান (Khatian)
- স্বত্বের রেকর্ড, যাতে দেখা যায় কোন জমি কার দখলে এবং কত অংশে।
- ছাহাম (Saham)
- বাটোয়ারায় একজন সহ-অংশীদারকে বরাদ্দ করা পৃথক অংশ।
- বণ্টননামা / বাটোয়ারা দলিল (Bantoara dalil)
- যে দলিলের মাধ্যমে সহ-ওয়ারিশরা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি নিজেদের মধ্যে ভাগ করেন; এটি রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক।
- দেনমোহর (Dower)
- বিয়ের চুক্তি অনুযায়ী মুসলিম স্বামী স্ত্রীকে যে অর্থ দিতে বাধ্য; অপরিশোধিত অংশ তাঁর সম্পত্তির দেনা হিসেবে গণ্য।
- প্রাথমিক ডিক্রি (Preliminary decree)
- বাটোয়ারা মামলায় চূড়ান্ত ডিক্রির মাধ্যমে সম্পত্তি বাস্তবে ভাগ হওয়ার আগে প্রত্যেক পক্ষের অংশ নির্ধারণকারী ডিক্রি।
বাংলাদেশে ওয়ারিশ সনদ: সাধারণ প্রশ্ন
ওয়ারিশ সনদ দিয়েই কি সম্পত্তি হস্তান্তর করা যায়?
ওয়ারিশ সনদ আর উত্তরাধিকার সনদের মধ্যে পার্থক্য কী?
মুসলিম পরিবারে অংশ কীভাবে হিসাব করা হয়?
বিদেশে থাকা ওয়ারিশরা কি দেশে না এসেই অংশ নিতে পারেন?
বাংলাদেশে হিন্দু আইনে মেয়েরা কি উত্তরাধিকারী হন?
একজন ওয়ারিশ সহযোগিতা না করলে কী হবে?
উত্তরাধিকার দাবির কোনো সময়সীমা আছে কি?
পুরো প্রক্রিয়ায় কত সময় লাগে?
আইন ও উৎস
- Muslim Personal Law (Shariat) Application Act 1937
- Muslim Family Laws Ordinance 1961
- Succession Act 1925 (Part X, succession certificates)
- Registration Act 1908 (as amended by Act 14 of 2026)
- Partition Act 1893
- Code of Civil Procedure 1908
- Civil Courts Act 1887
- High Court Division, Writ Petition No. 13635 of 2024 (disputed heirship and warishan certificate)
- Ministry of Land, e-mutation service
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।