অনুচ্ছেদ ৭৫ কার্যপ্রণালী-বিধি ও কোরাম
কার্যপ্রণালী-বিধি, কোরাম প্রভৃতি
এই বিধানগুলো নির্ধারণ করে কত সহজে আইন পাস হতে পারে এবং কম উপস্থিতিতে কার্যক্রম চলতে পারে কি না। কোরামের বিধান মুষ্টিমেয় সদস্যের নেওয়া সিদ্ধান্ত থেকে সুরক্ষা দেয়।
সংসদ বৈঠক, আলোচনা, প্রশ্ন, প্রস্তাব ও কমিটি সংক্রান্ত কার্যপ্রণালী-বিধি গ্রহণ করে। ৭৫(১)(ক) অনুচ্ছেদ সংবিধান সাপেক্ষে এগুলোকে বাধ্যতামূলক করে, এবং সংসদ নিজেই এগুলো সংশোধন করতে পারে। এমন বিধি না থাকলে তার পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি প্রণীত বিধি প্রযোজ্য হতো।
কোনো প্রস্তাব বা বিল ভোটে দেওয়া হলে উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন দিলে তা পাস হয়। সমসংখ্যক ভোট না হলে স্পীকার ভোট দেন না; সমান হলে নির্ণায়ক ভোট বিষয়টি নিষ্পত্তি করে।
একজন সদস্য সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন যে ৬০ জনের কম সদস্য উপস্থিত। সভাপতিকে ৬০ জন উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত বৈঠক স্থগিত রাখতে বা মুলতবি করতে হয়, তাই কোরাম ছাড়া কার্যক্রম চলতে পারে না।
সহজ ভাষায়
অনুচ্ছেদ ৭৫ কীভাবে কাজ করে
৭৫ অনুচ্ছেদ সংসদকে নিজস্ব কার্যপ্রণালী-বিধি প্রণয়নের সুযোগ দেয়, যা নির্ধারণ করে বিল কীভাবে আলোচিত হবে, প্রশ্ন কীভাবে করা হবে এবং কমিটিগুলো কীভাবে কাজ করবে। সংসদ নিজস্ব বিধি প্রণয়ন না করা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি প্রণীত বিধি প্রযোজ্য হয়। উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভাপতি ভোট দেন না, তবে সমসংখ্যক ভোটের ক্ষেত্রে নির্ণায়ক ভোট দেন। কোনো আসন শূন্য থাকা বা অধিকারহীন কেউ অংশ নেওয়ার কারণে কোনো কার্যধারা অবৈধ হয় না। কোরাম ৬০ জন সদস্য: এর কম উপস্থিত থাকলে সভাপতিকে বৈঠক স্থগিত বা মুলতবি করতে হয়।
বাস্তবে
৭৫ অনুচ্ছেদের অধীনে গৃহীত জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী-বিধি সংসদের দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করে। কোরাম সংকট একটি বারবার দেখা দেওয়া সমস্যা, এবং নাগরিক সমাজের গবেষণায় কোরাম সংকটে নষ্ট হওয়া সময়ের হিসাব রাখা হয়েছে। (১)(গ) দফা কার্যধারাকে অবৈধতা থেকে সুরক্ষা দেয় বলে অনিয়মিত অংশগ্রহণের যুক্তিতে আইন চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা কম। ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে সংবিধান সংশোধনের জন্য মোট সদস্য-সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন, যা এখানকার সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিয়মকে প্রতিস্থাপন করে।
মূল পাঠ
অনুচ্ছেদ ৭৫-এ যা বলা আছে
৭৫। (১) এই সংবিধান-সাপেক্ষে
(ক) সংসদ কর্তৃক প্রণীত কার্যপ্রণালী-বিধি-দ্বারা এবং অনুরূপ বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত কার্যপ্রণালী-বিধি-দ্বারা সংসদের কার্যপ্রণালী নিয়ন্ত্রিত হইবে;
(খ) উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সংসদে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে সমসংখ্যক ভোটের ক্ষেত্র ব্যতীত সভাপতি ভোটদান করিবেন না এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে তিনি নির্ণায়ক ভোট প্রদান করিবেন;
(গ) সংসদের কোন সদস্যপদ শূন্য রহিয়াছে, কেবল এই কারণে কিংবা সংসদে উপস্থিত হইবার বা ভোটদানের বা অন্য কোন উপায়ে কার্যধারায় অংশগ্রহণের অধিকার না থাকা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি অনুরূপ কার্য করিয়াছেন, কেবল এই কারণে সংসদের কোন কার্যধারা অবৈধ হইবে না।
(২) সংসদের বৈঠক চলাকালে কোন সময়ে উপস্থিত সদস্য-সংখ্যা ষাটের কম বলিয়া যদি সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়, তাহা হইলে তিনি অন্যূন ষাট জন সদস্য উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত বৈঠক স্থগিত রাখিবেন কিংবা মুলতবী করিবেন।
সরকারি "বাংলাদেশ আইন" ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলা পাঠ, যা সংবিধানের ১৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রামাণ্য। আদালতের রায়ে অবস্থান বদলে গেলে ওপরের অবস্থা-নোটে তা বলা আছে।
সংশ্লিষ্ট বিধান
সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ
প্রশ্নোত্তর
অনুচ্ছেদ ৭৫: সাধারণ প্রশ্নোত্তর
বাংলাদেশের সংসদের কোরাম কত?
ষাট জন সদস্য। ৭৫(২) অনুচ্ছেদের অধীনে অধিবেশন চলাকালে উপস্থিত সদস্য-সংখ্যা ৬০-এর কম বলে সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ৬০ জন উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত বৈঠক স্থগিত রাখতে বা মুলতবি করতে হয়।
সংসদে কীভাবে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়?
৭৫(১)(খ) অনুচ্ছেদের অধীনে উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে। সভাপতি কেবল সমতা ভাঙতে ভোট দেন। সংবিধান যেখানে বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা চায়, যেমন ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে সংশোধনী, সেখানে বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রযোজ্য।
উৎস
- Constitution of the People's Republic of Bangladesh, Article 75 (Laws of Bangladesh)
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, ৭৫ অনুচ্ছেদ (বাংলা পাঠ, বাংলাদেশ আইন সংকলন)
এই গাইড সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়। ২০২৬ সালে আলোচনাধীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইন হিসেবে পাস না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবিধানিক ও রিট আইনচর্চা
অনুচ্ছেদ ৭৫ নিয়ে আইনি সহায়তা দরকার?
আমাদের আইনজীবীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন, মৌলিক অধিকার ও জনআইন বিষয়ে পরামর্শ দেন।