অনুচ্ছেদ ১৪০ পিএসসির দায়িত্ব
কমিশনের দায়িত্ব
এ কারণেই বেশির ভাগ সরকারি পদে নিয়োগ একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে হয়। এটি পদোন্নতি ও শৃঙ্খলার বিষয়েও কমিশনকে ভূমিকা দেয়, যা কর্মকর্তাদের অন্যায় আচরণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
সরকারী কর্ম কমিশন ক্যাডার পদের জন্য একটি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা ঘোষণা করে। ১৪০(১)(ক) অনুচ্ছেদের অধীনে কমিশন প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা, লিখিত পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষা প্রণয়ন ও পরিচালনা করে এবং পুরো প্রক্রিয়ার পাঠ্যসূচি ও নম্বর বণ্টন নির্ধারণ করে।
লক্ষ লক্ষ স্নাতক প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষায় অংশ নেন। উত্তীর্ণরা লিখিত পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকারে যান, এবং কমিশন নিয়োগ বিধিমালা ও আইনসঙ্গতভাবে বলবৎ যেকোনো কোটা প্রয়োগ করে নম্বর অনুযায়ী তাঁদের মেধাক্রম নির্ধারণ করে।
কমিশন তার সুপারিশ সরকারের কাছে পাঠায়। (২) দফা অনুযায়ী নিয়োগের নীতি, পদোন্নতি, বদলি ও প্রার্থীর উপযোগিতা বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করতে হয়, তাই এর পরামর্শ সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের নথির অংশ হয়ে যায়।
সরকার কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুদণ্ড আরোপের প্রস্তাব করলে, প্রবিধান সেই শ্রেণিকে বাদ না দিলে, সিদ্ধান্তের আগে কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করে। কমিশনের পরামর্শ বাধ্যতামূলক নয়, তবে তা প্রত্যাখ্যাত হলে সেই তথ্য কমিশনের বার্ষিক রিপোর্টে লিপিবদ্ধ হয়।
সহজ ভাষায়
অনুচ্ছেদ ১৪০ কীভাবে কাজ করে
১৪০ অনুচ্ছেদ সরকারী কর্ম কমিশনের কাজ নির্ধারণ করে। এর প্রধান কাজ সরকারি কর্মের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি বাছাইয়ে যাচাই ও পরীক্ষা পরিচালনা করা। কমিশন তার কাছে প্রেরিত বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শও দেয় এবং আইনে প্রদত্ত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করে। নিয়োগের যোগ্যতা ও পদ্ধতি, নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির নীতি এবং প্রার্থীর উপযোগিতা বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করতে হয়। অবসর-ভাতাসহ কর্মের শর্তাবলী এবং শৃঙ্খলা বিষয়েও পরামর্শ প্রয়োজন। কোনো আইন বা প্রবিধান কিছু বিষয়কে পরামর্শের আওতা থেকে বাদ দিতে পারে।
বাস্তবে
কমিশনের পরামর্শ সাধারণত বাধ্যতামূলক নয় বলে গণ্য করা হয়, তবে যেখানে পরামর্শ আবশ্যক সেখানে পরামর্শ না করলে নিয়োগ বা দণ্ড চ্যালেঞ্জযোগ্য হতে পারে। (২) দফার অধীনে প্রণীত পিএসসি (পরামর্শ) প্রবিধানমালায় সেসব বিষয়ের তালিকা আছে, যেগুলোতে পরামর্শ প্রয়োজন নেই। কমিশন বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা ও বহু নন-ক্যাডার নিয়োগ পরিচালনা করে। নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ জনসমালোচনার জন্ম দিয়েছে, এবং সংস্কার প্রস্তাবগুলো কমিশনের স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা জোরদার করতে চায়।
মূল পাঠ
অনুচ্ছেদ ১৪০-এ যা বলা আছে
১৪০। (১) কোন সরকারী কর্ম কমিশনের দায়িত্ব হইবে
(ক) প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগদানের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিদিগকে মনোনয়নের উদ্দেশ্যে যাচাই ও পরীক্ষা-পরিচালনা;
(খ) এই অনুচ্ছেদের (২) দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক কোন বিষয় সম্পর্কে কমিশনের পরামর্শ চাওয়া হইলে কিংবা কমিশনের দায়িত্ব-সংক্রান্ত কোন বিষয় কমিশনের নিকট প্রেরণ করা হইলে সেই সম্বন্ধে রাষ্ট্রপতিকে উপদেশদান; এবং
(গ) আইনের দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য দায়িত্বপালন।
(২) সংসদ কর্তৃক প্রণীত কোন আইন এবং কোন কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত কোন প্রবিধানের (যাহা অনুরূপ আইনের সহিত অসমঞ্জস নহে) বিধানাবলী-সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি নিম্নলিখিত ক্ষেত্রসমূহে কোন কমিশনের সহিত পরামর্শ করিবেন:
(ক) প্রজাতন্ত্রের কর্মের জন্য যোগ্যতা ও তাহাতে নিয়োগের পদ্ধতি সম্পর্কিত বিষয়াদি;
(খ) প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগদান, উক্ত কর্মের এক শাখা হইতে অন্য শাখায় পদোন্নতিদান ও বদলিকরণ এবং অনুরূপ নিয়োগদান, পদোন্নতিদান বা বদলিকরণের জন্য প্রার্থীর উপযোগিতা-নির্ণয় সম্পর্কে অনুসরণীয় নীতিসমূহ;
(গ) অবসর-ভাতার অধিকারসহ প্রজাতন্ত্রের কর্মের শর্তাবলীকে প্রভাবিত করে, এইরূপ বিষয়াদি; এবং
(ঘ) প্রজাতন্ত্রের কর্মের শৃঙ্খলামূলক বিষয়াদি।
সরকারি "বাংলাদেশ আইন" ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলা পাঠ, যা সংবিধানের ১৫৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রামাণ্য। আদালতের রায়ে অবস্থান বদলে গেলে ওপরের অবস্থা-নোটে তা বলা আছে।
সংশ্লিষ্ট বিধান
সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ
প্রশ্নোত্তর
অনুচ্ছেদ ১৪০: সাধারণ প্রশ্নোত্তর
বাংলাদেশে সরকারী কর্ম কমিশনের দায়িত্ব কী?
১৪০ অনুচ্ছেদের অধীনে কমিশন প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগের জন্য যাচাই ও পরীক্ষা পরিচালনা করে, তার কাছে প্রেরিত বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দেয় এবং আইনে প্রদত্ত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করে। নিয়োগ, পদোন্নতি, কর্মের শর্তাবলী ও শৃঙ্খলা বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করতে হয়।
পিএসসির পরামর্শ কি সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক?
সাধারণত না। ১৪০ অনুচ্ছেদ পরামর্শ করতে বলে, সম্মতি নয়। তবে ১৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কমিশনের বার্ষিক রিপোর্টে যেসব ক্ষেত্রে তার পরামর্শ গৃহীত হয়নি এবং তার কারণ উল্লেখ করতে হয়, ফলে প্রত্যাখ্যানের তথ্য সংসদে পৌঁছায়।
উৎস
- বিডিলজ: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১৪০
- Laws of Bangladesh: Article 140, Functions of commissions
এই গাইড সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য; এটি আইনি পরামর্শ নয়। ২০২৬ সালে আলোচনাধীন সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলো আইন হিসেবে পাস না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাব হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবিধানিক ও রিট আইনচর্চা
অনুচ্ছেদ ১৪০ নিয়ে আইনি সহায়তা দরকার?
আমাদের আইনজীবীরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন, মৌলিক অধিকার ও জনআইন বিষয়ে পরামর্শ দেন।











