বাংলাদেশে অর্থঋণ মামলার প্রক্রিয়া: ব্যাংকের ঋণ আদায় মামলার পূর্ণ যাত্রা, ধাপে ধাপে
বাংলাদেশে অর্থঋণ মামলার প্রক্রিয়া হলো একটি বিশেষ পথ, যার মাধ্যমে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ অনুযায়ী খেলাপি ঋণ আদায় করে। মামলাটি চলে অর্থঋণ আদালত হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী একজন যুগ্ম জেলা জজের সামনে। আইনে রয়েছে স্বল্প সময়সীমা, বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা, হলফনামায় সাক্ষ্য, এবং আপিল বা রিভিশন করতে চাইলে ঋণগ্রহীতার জন্য বড় অঙ্কের অর্থ জমার শর্ত।
এই গাইডে ব্যাংকের ঋণ প্রত্যাহার (রিকল) নোটিশ থেকে শুরু করে নিলাম, মালিকানা সনদ ও উচ্চ আদালত পর্যন্ত একটি মামলার যাত্রা দেখানো হয়েছে।
- কোথা থেকে শুরু
- অর্থঋণ আদালত (অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৪ অনুযায়ী নিযুক্ত একজন যুগ্ম জেলা জজ); যেখানে পৃথক আদালত নেই, সেখানে…
- মূল আইন
- অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ (২০০৪ ও ২০১০ সালে সংশোধিত); দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC), ১৯০৮, যতটুকু সামঞ্জস্যপূর্ণ (ধারা ৬, ২৬, ৪০); কোর্ট…
- সাধারণ সময়কাল
- আইনে নির্ধারিত লক্ষ্য হলো বিচারে ৯০ থেকে ১২০ দিন এবং জারিতে ৯০ থেকে ১৫০ দিন, কিন্তু ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী…
- কে মামলা করতে পারেন
- কেবল ধারা ২(ক)-তে সংজ্ঞায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (ব্যাংক, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিশেষায়িত রাষ্ট্রীয় ঋণদাতা)…
অর্থঋণ মামলার প্রক্রিয়া: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · মামলা দায়েরের আগেখেলাপি, রিকল নোটিশ ও মামলা দায়েরের সময়সীমা
বাংলাদেশে অর্থঋণ মামলার প্রক্রিয়া শুরু হয় যখন ব্যাংক ঋণটিকে শ্রেণিকৃত করে, রিকল নোটিশ দেয় এবং মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়। এখানে সময় গুরুত্বপূর্ণ। ধারা ৪৬ অনুযায়ী, ঋণগ্রহীতা যদি পরিশোধসূচির প্রথম বছরে প্রাপ্য অর্থের অন্তত ১০%, প্রথম দুই বছরে ১৫% বা প্রথম তিন বছরে ২৫% পরিশোধে ব্যর্থ হন, তবে এর পরের এক বছরের মধ্যে ব্যাংককে মামলা করতে হবে। ঋণ পুনঃতফসিল হলে এই সময় গণনা নতুন করে শুরু হয়। মোট মেয়াদ তিন বছরের কম এমন ঋণে শর্তটি হলো ২০%-এর কম আদায়। দেরিতে মামলা করলে দায়ী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার জন্য বিষয়টি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীকে জানানো হয়।
কোথায়: ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান · সময়: ১-৩ মাস · আইন: অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৪৬; অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৪৭ · কাগজপত্র: মঞ্জুরিপত্র ও ঋণচুক্তি, হিসাব বিবরণী, জারির প্রমাণসহ দাবি বা রিকল নোটিশ, পুনঃতফসিলের কাগজপত্র, যদি থাকে
পরামর্শ: ঋণগ্রহীতার উচিত প্রতিটি পরিশোধের রসিদ সংরক্ষণ করা। পুনঃতফসিল বা আংশিক পরিশোধে তামাদির অবস্থান ও চূড়ান্ত অঙ্ক দুটোই বদলে যেতে পারে।
ধাপ ২ · মামলা দায়েরের আগেআগে দায়বদ্ধ বা বন্ধকি জামানত বিক্রি করুন
মামলা করার আগে বিক্রয়ের ক্ষমতাসহ প্লেজ, লিয়েন, হাইপোথিকেশন বা বন্ধক ধারণকারী ব্যাংককে সেই জামানত বিক্রি করতে হবে, অথবা বিক্রির চেষ্টা করে ব্যর্থ হতে হবে, এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ ঋণ হিসাবে জমা করতে হবে। বিক্রি যতদূর সম্ভব ধারা ৩৩(১)-(৩)-এর সিলমোহরকৃত দরপত্র পদ্ধতিতে হয়। এই ক্ষমতাবলে করা বিক্রিতে ক্রেতা বৈধ মালিকানা পান, এবং কোনো অনিয়মের জন্য ঋণগ্রহীতার প্রতিকার হলো ক্ষতিপূরণ, বিক্রি বাতিল নয়। ব্যাংক এই ধাপ বাদ দিলে আদালত ডিক্রি থেকে জামানতের মূল্য বাদ দিতে পারেন, প্রয়োজনে সাব-রেজিস্ট্রারের মূল্যায়ন ব্যবহার করে।
কোথায়: ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান · সময়: ১-৪ মাস · আইন: অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ১২(১)-(৪); অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ১২(৬)-(৮) · কাগজপত্র: বন্ধকনামা বা হাইপোথিকেশন চুক্তি, বিক্রির জন্য অপ্রত্যাহারযোগ্য মোক্তারনামা / পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, একটি জাতীয় বাংলা দৈনিকে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি, মূল্যায়ন প্রতিবেদন
পরামর্শ: জামানত অস্বাভাবিক কম দামে বিক্রি হয়েছে বলে মনে করলে ঋণগ্রহীতার উচিত আগেভাগেই প্রমাণ সংগ্রহ করা। দাবিটি ক্ষতিপূরণের, তাই মূল্যের প্রমাণই সবকিছু।
ধাপ ৩ · মামলা দায়েরের আগেঋণগ্রহীতা দখল না ছাড়লে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দখল চান
জামানত বিক্রি করতে ব্যাংকের কোনো কারখানা, ফ্ল্যাট বা গাড়ির বাস্তব দখল প্রয়োজন হতে পারে। প্রথমে ব্যাংক লিখিতভাবে ঋণগ্রহীতাকে ব্যাংক বা ক্রেতার কাছে দখল হস্তান্তর করতে বলে। ঋণগ্রহীতা অস্বীকার করলে ব্যাংক জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করে। সম্পত্তিটি ঋণের বিপরীতে বন্ধক বা হাইপোথিকেশন রাখা হয়েছে মর্মে সন্তুষ্ট হলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অথবা তাঁর মনোনীত কোনো প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট, দখল উদ্ধার করে ব্যাংক বা ক্রেতাকে বুঝিয়ে দেন। এটি অর্থঋণ আদালতের বাইরের একটি প্রশাসনিক ধাপ এবং প্রায়ই এ নিয়ে বিরোধ হয়।
কোথায়: জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (জেলা প্রশাসকের কার্যালয়) · সময়: ১-৩ মাস · আইন: অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ১২(৫); অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ১২(৫ক) · কাগজপত্র: ঋণগ্রহীতাকে লিখিত অনুরোধ, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন, দায় সৃষ্টির প্রমাণস্বরূপ জামানতের দলিলপত্র
ধাপ ৪ · দায়ের ও আরজি-জবাবহলফনামা ও কোর্ট ফিসহ আরজি দাখিল করুন
বাংলাদেশে অর্থঋণ মামলার প্রক্রিয়ায় ব্যাংক এখতিয়ারসম্পন্ন অর্থঋণ আদালতে হলফনামা ও মূল্যানুপাতিক কোর্ট ফিসহ আরজি দাখিল করে। আরজিতে আসল, সাধারণ ও দণ্ড সুদ, অন্যান্য চার্জ, প্রাপ্ত পরিশোধ ও ধারণকৃত জামানতের তফসিল দিতে হয়, এবং যেসব দলিলের ওপর নির্ভর করা হচ্ছে সেগুলো তালিকাসহ সংযুক্ত করতে হয়। তৃতীয় পক্ষ বন্ধকদাতা ও জামিনদারদের পক্ষভুক্ত করতে হয়। যেকোনো ডিক্রি তাঁদের ওপর যৌথ ও পৃথকভাবে বাধ্যকর, তবে জারি প্রথমে মূল ঋণগ্রহীতার বিরুদ্ধে চলে। মোট দাবি আসলের ৩০০% (আসল ও তার ২০০%) ছাড়াতে পারে না, এবং আদালত এর বেশি দাবি গ্রহণ করবেন না।
কোথায়: অর্থঋণ আদালত · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৫(১)-(২); অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৬(২), ধারা ৬(৫); অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৮; অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৪৭ · কাগজপত্র: সমর্থনকারী হলফনামাসহ আরজি, পাওনা ও জামানতের তফসিল, ঋণ ও জামানতের দলিলপত্র, ব্যাংক কর্মকর্তার পক্ষে বোর্ড রেজল্যুশন বা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, প্রত্যেক বিবাদীর জন্য কপি
পরামর্শ: আরজির সঙ্গে দাখিল না করা দলিল পরে কেবল যথেষ্ট কারণ দেখিয়ে ও খরচ দিয়ে যোগ করা যায় (ধারা ৮(৫)), তাই ব্যাংকের উচিত শুরুতেই পূর্ণ সেট দাখিল করা।
ধাপ ৫ · দায়ের ও আরজি-জবাবআদালতের প্রসেস, রেজিস্টার্ড ডাক ও পত্রিকার মাধ্যমে সমন
ব্যাংক আরজির সঙ্গেই সব প্রসেস ফি জমা দেয়। আদালত একই সময়ে জারিকারকের মাধ্যমে এবং প্রাপ্তিস্বীকারসহ রেজিস্টার্ড ডাকে সমন জারি করেন। ব্যাংক পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের একটি খসড়াও জমা দেয়। ১৫ দিনের মধ্যে জারির ফল ফেরত না এলে, বা অজারিকৃত অবস্থায় ফেরত এলে, আদালত পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে ব্যাংকের খরচে বহুল প্রচারিত একটি জাতীয় বাংলা দৈনিকে, এবং প্রয়োজনে একটি স্থানীয় পত্রিকায়, সমন প্রকাশ করেন। প্রকাশই বৈধ জারি হিসেবে গণ্য হয়, তাই ঋণগ্রহীতা কেবল জারিকারককে এড়িয়ে পার পান না।
কোথায়: অর্থঋণ আদালত · সময়: ২-৬ সপ্তাহ · আইন: অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৭(১)-(৩) · কাগজপত্র: প্রসেস ফি, পত্রিকা বিজ্ঞপ্তির খসড়া, সব বিবাদীর সঠিক ঠিকানা
ধাপ ৬ · দায়ের ও আরজি-জবাব৪০ দিনের মধ্যে লিখিত জবাব
ঋণগ্রহীতা ও জামিনদাররা হাজির হয়ে হলফনামা সমর্থিত লিখিত জবাব দাখিল করেন। কোন অঙ্ক তাঁরা স্বীকার করেন, কোনটি অস্বীকার করেন এবং কেন, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে নিজেদের দলিলপত্র সংযুক্ত করতে হয়। হাজির হওয়ার ৪০ দিন পর দাখিল করা লিখিত জবাব আদালত গ্রহণ করবেন না। বিবাদী সরকারি কোষাগারে ২,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা খরচ জমা দিলে তবেই আদালত আরও সর্বোচ্চ ২০ দিন সময় বাড়াতে পারেন। ঋণগ্রহীতা ব্যাংকের বিরুদ্ধে দায় সমন্বয় (set-off) দাবি বা পাল্টা দাবি করতে পারেন না, এবং অন্যত্র ঋণগ্রহীতার করা পৃথক মামলা এই মামলাকে স্থগিত করে না।
কোথায়: অর্থঋণ আদালত · সময়: হাজির হওয়ার দিন থেকে ৪০-৬০ দিন · আইন: অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৯; অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ১০; অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ১৮(২)-(৩) · কাগজপত্র: হলফনামাসহ লিখিত জবাব, পরিশোধের রসিদ ও ব্যাংকের সঙ্গে চিঠিপত্র, অন্যদের কাছে থাকা দলিলের তালিকা
পরামর্শ: ৪০ দিনের সময়সীমা পার হলে সাধারণত একতরফা ডিক্রি হয়। পরবর্তী শুনানির তারিখ থেকে নয়, প্রথম হাজিরার তারিখ থেকে হিসাব রাখুন।
ধাপ ৭ · দায়ের ও আরজি-জবাবএকতরফা ডিক্রি এবং তা পুনরায় খুলতে ১০% জমা
শুনানির তারিখে বিবাদী অনুপস্থিত থাকলে আদালত কাগজপত্রের ভিত্তিতে একতরফাভাবে মামলা নিষ্পত্তি করেন। ব্যাংকের অনুপস্থিতির কারণেও মামলা কখনো খারিজ হয় না; আদালত নথির ভিত্তিতে গুণাগুণ বিচার করে সিদ্ধান্ত দেন। বিবাদী ডিক্রির তারিখ বা তা জানার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে একতরফা ডিক্রি রদের আবেদন করতে পারেন, তবে ১৫ দিনের মধ্যে ডিক্রিকৃত অঙ্কের ১০% ব্যাংকে নগদে বা আদালতে জামানত হিসেবে জমা দিতে হবে। জমা দিলে ডিক্রি স্বয়ংক্রিয়ভাবে রদ হয় এবং মামলা আগের পর্যায় থেকে আবার চলে। জমা না দিলে আবেদন খারিজ হয়।
কোথায়: অর্থঋণ আদালত · সময়: আবেদনে ৩০ দিন, জমায় ১৫ দিন · আইন: অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ১৯(১)-(৬) · কাগজপত্র: রদের আবেদন, ১০% জমার প্রমাণ (পে-অর্ডার, ব্যাংক ড্রাফট বা নগদ রসিদ)
ধাপ ৮ · বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতালিখিত জবাবের পর বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা
লিখিত জবাব দাখিল হলে আদালতকে পক্ষগুলোর আইনজীবীদের মাধ্যমে মামলাটি মধ্যস্থতায় পাঠাতে হয়। ১০ দিনের মধ্যে পক্ষগুলো একজন নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীর নাম দেন, যেমন অন্য কোনো আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত বিচারক বা অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার। না দিলে আদালত একজনকে নিয়োগ দেন। মধ্যস্থতা ৬০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হয়, যা ৩০ দিন বাড়ানো যায়। সেখানে বলা সবকিছু গোপনীয়। মীমাংসা লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ হয় এবং আদালত সে অনুযায়ী ডিক্রি দেন, যার বিরুদ্ধে আপিল চলে না। ব্যাংককে তার বোর্ডের অর্পিত ক্ষমতার মধ্যে থেকে কাজ করতে হয়, এবং ৫ কোটি টাকার বেশি দাবিতে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অনুমোদন লাগে।
কোথায়: সম্মত মধ্যস্থতাকারীর সামনে মধ্যস্থতা · সময়: ৬০-৯০ দিন · আইন: অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ২২(১)-(১১); অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ২৪; অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ২৫ · কাগজপত্র: মধ্যস্থতার আদেশ, ব্যাংকের ক্ষমতা অর্পণ সার্কুলার, মীমাংসা চুক্তি বা মধ্যস্থতাকারীর প্রতিবেদন
পরামর্শ: মধ্যস্থতায় মীমাংসা হলে ব্যাংক পুরো কোর্ট ফি ফেরতের সনদ পাওয়ার অধিকারী হয় (ধারা ২২(৯))। এতে কিস্তি নিয়ে এখানেই দর-কষাকষির প্রকৃত প্রণোদনা পায় উভয় পক্ষ।
ধাপ ৯ · বিচার ও ডিক্রিবিচার্য বিষয় গঠন, অথবা স্বীকৃতির ভিত্তিতে রায়
মধ্যস্থতা ব্যর্থ হলে মামলাটি যেখানে ছিল সেখান থেকেই আদালতে ফিরে আসে। নির্ধারিত তারিখে বিচারক আরজি ও লিখিত জবাব পড়ে বিরোধপূর্ণ বিচার্য বিষয় (issues) গঠন করেন। বিবাদী দাবি স্বীকার করে থাকলে, বা তথ্য বা আইনের কোনো প্রকৃত বিরোধ না থাকলে, আদালত পূর্ণ বিচার ছাড়াই তৎক্ষণাৎ রায় দিতে পারেন। রায়ের আগে যেকোনো পর্যায়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে পক্ষগুলো আবার মধ্যস্থতার চেষ্টা করতে পারে, তবে তাতে আইনি সময়সীমা বাড়ে না।
কোথায়: অর্থঋণ আদালত · সময়: ১-৩ মাস · আইন: অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ১৩(১)-(৪); অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ২২(১১); অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ২৩ · কাগজপত্র: আরজি ও জবাব, বিচার্য বিষয়ের তালিকা, নির্ভর করা যেকোনো স্বীকৃতি
ধাপ ১০ · বিচার ও ডিক্রিহলফনামায় সাক্ষ্য ও জেরা
আরজি ও লিখিত জবাবের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামাগুলোই মূল সাক্ষ্য। সাক্ষীদের, সাধারণত ব্যাংকের আদায় কর্মকর্তা ও ঋণগ্রহীতাকে, এগুলোর ভিত্তিতে জেরা করা হয়। চূড়ান্ত শুনানি কোনো পক্ষ কেবল একবার মুলতবি করাতে পারে। এরপর প্রতিবার মুলতবির জন্য আগাম ১,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকা খরচ দিতে হয়, আর না দিলে একতরফা নিষ্পত্তি হয়। শুনানি শুরু হলে তা প্রতিদিন চলতে হয়। আংশিক শুনানি হওয়া মামলা কেবল পরবর্তী কার্যদিবস পর্যন্ত মুলতবি করা যায়।
কোথায়: অর্থঋণ আদালত · সময়: ৩-১২ মাস · আইন: অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৬(৪); অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ১৪ · কাগজপত্র: সাক্ষ্য হিসেবে হলফনামা, ব্যাংকারস বহি সাক্ষ্য আইন, ১৮৯১ (Bankers' Books Evidence Act) অনুযায়ী সার্টিফায়েড ব্যাংক বিবরণী, প্রদর্শনী (এক্সিবিট)
ধাপ ১১ · বিচার ও ডিক্রিলিখিত যুক্তিতর্ক ও রায়
মৌখিক যুক্তিতর্ক বাধ্যতামূলক নয়। সাক্ষ্য শেষ হওয়ার ৫ দিনের মধ্যে যেকোনো পক্ষ লিখিত যুক্তিতর্ক দাখিল করতে পারে, এর কোনো জবাব দেওয়া যায় না, যদি না বিচারক মৌখিক বক্তব্যও শুনতে চান। সাক্ষ্য বা যুক্তিতর্কের ১০ দিনের মধ্যে রায় দিতে হয়। আইন অনুযায়ী পুরো মামলা লিখিত জবাবের ৯০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়ার কথা, যা একবার ৩০ দিন বাড়ানো যায়; আর বিবাদী কখনো হাজির না হলে জারির ৩০ দিনের মধ্যে। কেবল বিচারকের কার্যদিবস গণনা হয়। বাস্তবে এসব লক্ষ্য প্রায়ই পূরণ হয় না, তবে এগুলোর কারণে আদালত বিলম্বের আবেদন নাকচ করতে পারেন।
কোথায়: অর্থঋণ আদালত · সময়: সাক্ষ্যের পর ১-৩ মাস · আইন: অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ১৫; অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ১৬(১); অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ১৭; অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৪৮ · কাগজপত্র: লিখিত যুক্তিতর্ক, নির্ভর করা নজির
ধাপ ১২ · বিচার ও ডিক্রিডিক্রি, পরিশোধের সময় ও সুদ
ডিক্রিটি চূড়ান্ত, তবে ফোরক্লোজার বন্ধকি মামলা ব্যতীত; এবং এটি বন্ধকি জমির ওপর প্রাথমিক ফোরক্লোজার ডিক্রি হিসেবেও কাজ করে। জমি নিলামে ওঠামাত্র তা চূড়ান্ত হয়ে যায়, এবং তখন ঋণগ্রহীতা খালাসের (redeem) সব অধিকার হারান। আদালত সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে পরিশোধের আদেশ দেন, অথবা কিস্তির অনুমতি দেন: এক বছরে চারটি ত্রৈমাসিক কিস্তি, অথবা ব্যাংক সম্মত হলে তিন বছরে বারোটি কিস্তি। একটি কিস্তি খেলাপ হলেই পুরো বকেয়া প্রাপ্য হয়ে যায়। মামলাপূর্ব বৈধ সুদ আদালত মওকুফ করতে পারেন না। মামলা-পরবর্তী সুদ ১২% সরল, আর ঋণগ্রহীতা উচ্চ আদালতে গেলে ১৬% বা ১৮%।
কোথায়: অর্থঋণ আদালত · সময়: তাৎক্ষণিক; পরিশোধের সময় সর্বোচ্চ ৬০ দিন · আইন: অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৫(৩)-(৪); অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ১৬(২); অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৪৯; অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৫০(১)-(৩) · কাগজপত্র: রায় ও ডিক্রির সার্টিফায়েড কপি
পরামর্শ: আপিলের আগে ঋণগ্রহীতার উচিত খরচের হিসাব করা। ধারা ৫০(২)-এর উচ্চতর সুদহারে ঋণের পরিমাণ যতটা বাড়তে পারে, আপিলে ততটা সাশ্রয় হওয়ার সম্ভাবনা প্রায়ই কম।
ধাপ ১৩ · জারি ও আদায়এক বছরের মধ্যে জারি মামলা
ডিক্রির অর্থ পরিশোধ না হলে ব্যাংক একই অর্থঋণ আদালতে জারি মামলা দায়ের করে। ডিক্রির তারিখ, অথবা পরিশোধ বা কিস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ থেকে এক বছরের মধ্যে তা করতে হয়। দেরিতে করা জারি মামলা তামাদি-বারিত হিসেবে খারিজ হয়। দ্বিতীয় জারি মামলা প্রথমটি শেষ হওয়ার এক বছরের মধ্যে করতে হয়, এবং প্রথমটির ছয় বছর পর আর নতুন জারি মামলা করা যায় না। নোটিশ যায় আদালতের প্রসেস, রেজিস্টার্ড ডাক এবং প্রয়োজনে একটি বাংলা দৈনিকের মাধ্যমে। উচ্চ আদালত স্পষ্টভাবে স্থগিত না করলে আপিল জারি থামায় না।
কোথায়: অর্থঋণ আদালত · সময়: আইনি লক্ষ্য ৯০ দিন, ৬০ দিন বাড়ানো যায়; বাস্তবে ১-৩ বছর · আইন: অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ২৬; অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ২৭; অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ২৮(১)-(৪); অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ২৯; অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৩০; অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৩১; অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৩৭ · কাগজপত্র: জারির আবেদন, সার্টিফায়েড ডিক্রি, ক্রোকযোগ্য সম্পত্তির তফসিল
ধাপ ১৪ · জারি ও আদায়তৃতীয় পক্ষের দাবি ও সিলমোহরকৃত দরপত্রে নিলাম
আদালত সম্পত্তি ক্রোক করে একটি জাতীয় দৈনিকে, নোটিশ বোর্ডে ও ঢোল সহরতের মাধ্যমে অন্তত ১৫ দিনের নোটিশ দিয়ে সিলমোহরকৃত দরপত্র আহ্বান করেন। দরের আকার অনুযায়ী দরদাতারা দরের ২০%, ১৫% বা ১০% জমা দেন এবং বাকি অর্থ ৩০, ৬০ বা ৯০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করেন; না করলে জমা বাজেয়াপ্ত হয়। ব্যাংক যে দর অস্বাভাবিক কম বলে দেখাতে পারে, আদালত তা প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। সম্পত্তিতে দাবিদার তৃতীয় পক্ষকে ডিক্রির ১০% জামানত দিতে হয়। কেবল আদায় বিলম্বিত করার জন্য করা দাবি খারিজ হয় এবং জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
কোথায়: অর্থঋণ আদালত · সময়: ৩-১২ মাস · আইন: অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৩২(১)-(৪); অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৩৩(১)-(৪); অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৩৬ · কাগজপত্র: দরপত্র বিজ্ঞপ্তি, দরের জামানত (ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার), দাবির দরখাস্ত ও ১০% জামানত বন্ড
ধাপ ১৫ · জারি ও আদায়স্বত্ব অর্পণ, মালিকানা সনদ ও দখল হস্তান্তর
দুই দফা দরপত্র ব্যর্থ হলে আদালত ডিক্রি পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত দখল ও ভোগসহ সম্পত্তিটি ব্যাংকের ওপর ন্যস্ত করেন এবং একটি সনদ দেন। ব্যাংক এর পরিবর্তে সরাসরি মালিকানাও চাইতে পারে। তখন আদালত সম্পত্তিটি ব্যাংকের ওপর ন্যস্ত বলে ঘোষণা করে একটি সনদ দেন, যা কর ও নিবন্ধন ফিমুক্ত স্বত্বদলিল হিসেবে কাজ করে, এবং এর একটি কপি সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠান। দখলসহ ন্যস্ত হওয়ার পর ছয় বছর পার হলে মালিকানা স্বয়ংক্রিয়ভাবে হস্তান্তরিত হয়। দখল বুঝিয়ে দেওয়ার আগে আদালতকে আবার যাচাই করতে হয় যে এটিই প্রকৃতপক্ষে বন্ধক রাখা বা ক্রোক করা সম্পত্তি।
কোথায়: অর্থঋণ আদালত · সময়: ৩-১২ মাস · আইন: অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৩৩(৫)-(৯) · কাগজপত্র: স্বত্ব অর্পণ বা মালিকানার আবেদন, ধারা ৩৩(৫) বা ধারা ৩৩(৭) অনুযায়ী সনদ, দখল হস্তান্তরের আবেদন
ধাপ ১৬ · জারি ও আদায়দেওয়ানি কারাগার ও তৃতীয় পক্ষ থেকে আদায়
পরিশোধে চাপ দিতে আদালত দায়িককে সর্বোচ্চ ছয় মাসের জন্য দেওয়ানি কারাগারে পাঠাতে পারেন। কোম্পানি বা ফার্মের জন্য পরিচালক ও অংশীদারদের আটক করা যায়। এর জন্য সাধারণত আগে অন্তত একবার নিলামের চেষ্টা করতে হয়, যদি না তা সম্ভব না হয়ে থাকে। ১৮ বছরের কম বয়সী কাউকে এবং মৃত ঋণগ্রহীতার ওয়ারিশদের আটক করা যায় না। বকেয়ার ২৫% পরিশোধ করে বাকিটা ৯০ দিনে পরিশোধের বন্ড দিলে মুক্তি পাওয়া যায়। আটক থাকলে ঋণ মাফ হয় না। ঋণগ্রহীতার কাছে দেনাদার ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান ও অন্যদেরও আদালত সেই অর্থ আদালতে জমা দেওয়ার আদেশ দিতে পারেন।
কোথায়: দেওয়ানি কারাগার · সময়: সর্বোচ্চ ৬ মাস আটক · আইন: অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৩৪(১)-(১৩); অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৩৫; অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৩৬ · কাগজপত্র: গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন, ২৫% পরিশোধে মুক্তির বন্ড
যদি এমন হয়…? অর্থঋণ মামলার প্রক্রিয়া যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
ঋণগ্রহীতা ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল করলে কী হয়?
- 1অর্থঋণ আদালত
আপিল গ্রহণের আগে ৫০% জমা
ঋণগ্রহীতা প্রথমে ডিক্রিকৃত অঙ্কের ৫০% জমা না দিলে আপিল গ্রহণ করা হবে না; এটি আংশিক স্বীকৃতি হিসেবে ব্যাংকে নগদে, অথবা অর্থঋণ আদালতে জামানত হিসেবে জমা দেওয়া যায়। একতরফা ডিক্রি রদের জন্য আগে জমা দেওয়া ১০% এর মধ্যে গণ্য হয়। ব্যাংক আপিল করলে কিছুই জমা দিতে হয় না। ডিক্রি ৫০ লাখ টাকা বা তার কম হলে তামাদির মেয়াদ ৩০ দিন, এর বেশি হলে ৬০ দিন।
ডিক্রির ৩০ বা ৬০ দিনের মধ্যেঅর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৪১(১)-(৪) - 2জেলা জজ আদালত
জেলা জজের কাছে আপিলের শুনানি (৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ডিক্রি)
৫০ লাখ টাকা বা তার কম ডিক্রির আপিল যায় জেলা জজের কাছে। জেলা জজকে লিখিতভাবে জানাতে হয় তিনি নিজে আপিল শুনবেন, নাকি অতিরিক্ত জেলা জজের কাছে পাঠাবেন। ৫০ লাখ টাকার বেশি ডিক্রির আপিল সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে যায়। দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী আপিলে তথ্য ও আইন দুই বিষয়েই পুনঃশুনানি হয়, এবং তা ৯০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়ার কথা, যা ৩০ দিন বাড়ানো যায়। স্থগিতাদেশ না পেলে জারি চলতে থাকে।
৩-১২ মাসঅর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৪১(১), (৫)-(৬)অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৪০অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৩১
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: ডিক্রি বহাল, পরিবর্তিত বা রদ হয়, অথবা মামলা ফেরত পাঠানো হয়। জেলা জজের আপিলের পর আর চ্যালেঞ্জ করা যায় কেবল ৭৫% জমা দিয়ে রিভিশনের মাধ্যমে। হাইকোর্ট বিভাগের আপিলের পর পরবর্তী ধাপ আপিল বিভাগে লিভ চাওয়া।
আপিলের সিদ্ধান্ত কি রিভিশনে চ্যালেঞ্জ করা যায়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
৭৫% জমা দিয়ে হাইকোর্ট বিভাগে দেওয়ানি রিভিশন
জেলা জজের কাছে হেরে যাওয়া ঋণগ্রহীতা ধারা ৪০-এর মাধ্যমে প্রযোজ্য দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫(১) অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন চাইতে পারেন। ঋণগ্রহীতা প্রদত্ত বা আপিলে বহাল ডিক্রির ৭৫% জমা না দিলে কোনো আদালত রিভিশন গ্রহণ করবেন না; আগে দেওয়া ৫০% এর মধ্যে গণ্য হয়। রিভিশন কেবল এমন আইনগত ভুলের মধ্যে সীমিত যার ফলে ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়েছে; সাক্ষ্যের নতুন মূল্যায়ন নয়। এটি ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়ার কথা, যা ৩০ দিন বাড়ানো যায়।
বাস্তবে ৬-২৪ মাসঅর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৪২(১)-(৩)দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫(১)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগ রুল খারিজ করেন, অথবা রুল চূড়ান্ত (absolute) করে ডিক্রি সংশোধন করেন। এরপর চ্যালেঞ্জের জন্য আপিল বিভাগের অনুমতি লাগে।
অর্থঋণ আদালত কি নিজের ডিক্রি রিভিউ করতে পারেন?
- 1অর্থঋণ আদালত
সংকীর্ণ ভিত্তিতে রিভিউ
ধারা ৬ সামঞ্জস্যপূর্ণ ক্ষেত্রে দেওয়ানি কার্যবিধি প্রয়োগ করে বলে কোনো পক্ষ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৪ ও আদেশ ৪৭ অনুযায়ী একই আদালতের কাছে ডিক্রি রিভিউ চাইতে পারে। ভিত্তি হলো এমন নতুন সাক্ষ্য যা যথাযথ তৎপরতা সত্ত্বেও হাজির করা যায়নি, অথবা নথিতে সুস্পষ্ট ভুল; আবেদন করতে হয় ৯০ দিনের মধ্যে। ধারা ২০ আইনের বাইরে চ্যালেঞ্জ নিষিদ্ধ করায় অর্থঋণ মামলায় আদালত রিভিউকে খুব সংকীর্ণভাবে দেখেন। রিভিউর আবেদন আপিলের সময়সীমা থামায় না।
১-৪ মাসঅর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৬(১)দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৪ ও আদেশ ৪৭ বিধি ১তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৭৩
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রিভিউ সাধারণত নামঞ্জুর হয়, এবং ডিক্রি আপিল সাপেক্ষে বহাল থাকে। মঞ্জুর হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মামলার পুনঃশুনানি হয়।
কোনো আইনগত প্রশ্নে বিচারক নিশ্চিত না হলে কী হয়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স
অর্থঋণ আদালত দেওয়ানি আদালতের সব ক্ষমতাসম্পন্ন একটি দেওয়ানি আদালত। যে মামলায় তার ডিক্রি আপিলযোগ্য নয়, সেখানে কোনো আইনগত প্রশ্নে প্রকৃত সন্দেহ দেখা দিলে নীতিগতভাবে আদালত দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৩ ও আদেশ ৪৬ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের মতামতের জন্য বিষয়টি পাঠাতে পারেন। বেশিরভাগ অর্থঋণ ডিক্রি ধারা ৪১ অনুযায়ী আপিলযোগ্য, তাই রেফারেন্স খুবই বিরল। আদালত মামলা চালিয়ে যেতে পারেন, তবে মতামত না আসা পর্যন্ত ডিক্রি জারি করতে পারেন না।
৬-১৮ মাসঅর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৫(১১)দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৩ ও আদেশ ৪৬ বিধি ১-৩ - 2অর্থঋণ আদালত
মতামত অনুযায়ী আদালতের সিদ্ধান্ত
হাইকোর্ট বিভাগ প্রশ্নটির উত্তর দিয়ে রায় ফেরত পাঠান। এরপর অর্থঋণ আদালত সেই মতামত অনুযায়ী মামলা নিষ্পত্তি করেন এবং মামলা স্বাভাবিকভাবে চলে। ধারা ১৭-এর সময়সীমা যতদূর সম্ভব প্রযোজ্য থাকে, তাই রেফারেন্স সময়ক্ষেপণের উপায় নয় এবং কদাচিৎ করা হয়।
মতামতের পর ১-২ মাসদেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৬ বিধি ২-৩অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ১৭
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগের উত্তর অনুযায়ী প্রথম আদালতে মামলার নিষ্পত্তি হয়।
আপিল আদালত মামলা ফেরত পাঠালে কী হয়?
- 1জেলা জজ আদালত
আপিল আদালত কর্তৃক পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত
অর্থঋণ আদালত প্রাথমিক কোনো প্রশ্নে সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকলে, প্রয়োজনীয় বিচার্য বিষয় গঠন না করলে বা গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য উপেক্ষা করলে জেলা জজ, অথবা বড় অঙ্কের আপিলে হাইকোর্ট বিভাগ, ধারা ৪০-এর মাধ্যমে প্রযোজ্য দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ২৩ বা ২৫ অনুযায়ী ডিক্রি রদ করে মামলাটি ফেরত পাঠাতে পারেন। ২০২৬ সালের দেওয়ানি কার্যবিধি সংশোধনের পর আদেশ ৪১ বিধি ২৪ বলে, সাক্ষ্য পর্যাপ্ত হলে আপিল আদালত নিজেই মামলা নিষ্পত্তি করবেন, তাই ফেরত পাঠানো কেবল প্রকৃত ঘাটতির ক্ষেত্রেই।
আপিলের অংশঅর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৪০দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ২৩-২৫দেওয়ানি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সালের ৩৬ নং আইন) - 2অর্থঋণ আদালত
পুনঃশুনানি ও নতুন ডিক্রি
মামলাটি অর্থঋণ আদালতে আগের নম্বরেই পুনরুজ্জীবিত হয় এবং আপিল আদালতের নির্ধারিত বিষয়ে পুনঃশুনানি হয়; আগের সাক্ষ্য নথিতে থেকে যায়। এরপর নতুন ডিক্রি হয়। হেরে যাওয়া পক্ষ ধারা ৪১ অনুযায়ী আবার একই ফোরামে আপিল করতে পারে। ঋণগ্রহীতাকে যাচাই করতে হবে আদালতে আগে জমা দেওয়া অর্থ বহাল থাকবে, নাকি নতুন অঙ্কের ৫০% পর্যন্ত বাড়াতে হবে।
৩-১২ মাসদেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ২৩অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৪১
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: নতুন ডিক্রির জন্য মামলাটি নিচে ফেরত যায়, এবং সেই ডিক্রি নতুন আপিলে আবার ওপরে আসতে পারে।
মামলা কি আপিল বিভাগে যেতে পারে?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিলের অনুমতি চেয়ে দেওয়ানি পিটিশন (লিভ পিটিশন)
আপিল বা রিভিশনে হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে হেরে যাওয়া পক্ষ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩ অনুযায়ী আপিলের অনুমতি চেয়ে দেওয়ানি পিটিশন দাখিল করে। ঋণগ্রহীতাকে অনুমতি দেওয়ার সময় আপিল বিভাগ অপরিশোধিত বকেয়ার যেকোনো অংশ আরও জমা দেওয়ার আদেশ দিতে পারেন। ঋণগ্রহীতা আপিল বিভাগে গেলে মামলা-পরবর্তী সুদ বেড়ে ১৮% হয়। চূড়ান্ত রায় কেবল অনুচ্ছেদ ১০৫ অনুযায়ী খুব সংকীর্ণ ভিত্তিতে রিভিউ করা যায়।
১-৩ বছরসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৪৩অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৫০(২)সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: অনুমতি নামঞ্জুর হয়, অথবা আপিল নিষ্পত্তি হয়। আপিল বিভাগের রায় চূড়ান্ত ও বাধ্যতামূলক।
জমা না দিয়ে ঋণগ্রহীতা কি রিট করতে পারেন?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী রিট: সংকীর্ণ ও ব্যয়বহুল পথ
ধারা ২০ আইনের বাইরে অর্থঋণ কার্যধারার যেকোনো চ্যালেঞ্জ নিষিদ্ধ করেছে। সুপ্রিম কোর্ট কেবল ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে রিট পিটিশন গ্রহণ করেন, যেমন এখতিয়ারের অভাব বা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। যে ঋণগ্রহীতা জমাভিত্তিক আপিল বা রিভিশন এড়িয়ে রিট করেন এবং রিট খারিজ হয়, তাঁকে ধারা ৫০(৪) অনুযায়ী ২৫% সরল হারে মামলা-পরবর্তী সুদ দিতে হয়। তাই বাংলাদেশে অর্থঋণ মামলার প্রক্রিয়ায় রিট কোনো সহজ পথ নয়, বরং প্রকৃত ঝুঁকি।
৬-২৪ মাসসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ২০অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ধারা ৫০(৪)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: এ ধরনের বেশিরভাগ রিটের রুল খারিজ হয় এবং বিষয়টি অর্থঋণ আদালতে জারিতে ফিরে যায়।
অর্থঋণ মামলার প্রক্রিয়া যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
বাংলাদেশে অর্থঋণ মামলার প্রক্রিয়ায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি ঋণ আদায় মামলা শুরু হয় অর্থঋণ আদালতে, যেখানে কেবল এসব মামলা শোনার জন্য একজন যুগ্ম জেলা জজ নিযুক্ত থাকেন। আপিলের ফোরাম নির্ভর করে দাবির নয়, ডিক্রিকৃত অঙ্কের ওপর। ৫০ লাখ টাকা বা তার কম ডিক্রির আপিল ৩০ দিনের মধ্যে জেলা জজের কাছে যায়, এবং জেলা জজ আপিলটি অতিরিক্ত জেলা জজের কাছে পাঠাতে পারেন। ৫০ লাখ টাকার বেশি ডিক্রির আপিল ৬০ দিনের মধ্যে সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে যায়। উভয় আপিলেই তথ্য ও আইনের পূর্ণ পুনঃশুনানি হয়, তবে ঋণগ্রহীতাকে প্রথমে ডিক্রির ৫০% জমা দিতে হয়।
জেলা জজের আপিল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একমাত্র পরবর্তী ধাপ হলো ধারা ৪২ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন, যার জন্য ৭৫% জমা লাগে এবং যা কেবল আইনগত ভুল নিয়ে কাজ করে। হাইকোর্ট বিভাগ নিজে আপিল শুনে থাকলে, অথবা রিভিশনের পর, কোনো পক্ষ অনুচ্ছেদ ১০৩ অনুযায়ী আপিল বিভাগে আপিলের অনুমতি চাইতে পারে, এবং আপিল বিভাগ আরও জমার আদেশ দিতে পারেন। অন্তর্বর্তী আদেশের বিরুদ্ধে আলাদাভাবে আপিল চলে না, এবং রিট কঠোরভাবে সীমিত।
- আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- আপিল পর্যায়জেলা জজ আদালত
- প্রথম দফার আদালতঅর্থঋণ আদালত
- শুরু · আদালতের বাইরেব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান · জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (জেলা প্রশাসকের কার্যালয়) · সম্মত মধ্যস্থতাকারীর সামনে মধ্যস্থতা · দেওয়ানি কারাগার
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা (ঢাকা জজ কোর্ট)
ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকাঢাকার জেলা জজ (District Judge) ও অতিরিক্ত জেলা জজদের আদালত (দেওয়ানি আপিল, প্রোবেট, মহানগর এলাকার বাইরের জেলা পর্যায়ের দেওয়ানি ও দায়রা মামলা), এবং প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতসমূহ (যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সিভিল জজ/সিভিল জজ আদালত)।
সরকারি বিচার বিভাগীয় পোর্টালে ঠিকানা দেওয়া আছে "১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা"। অনেক দেওয়ানি আদালত (অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত, যুগ্ম জেলা জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, অর্থঋণ আদালত নং ১, দেউলিয়া আদালত) একই প্রাঙ্গণে নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনে বসে। ২০২৬ সালের জাজশিপ তালিকায় প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতগুলোর নাম "সিনিয়র সিভিল জজ" / "সিভিল জজ" (আগে সিনিয়র সহকারী জজ / সিভিল জজ); কিছু পাতায় এখনো পুরোনো নাম ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি জেলায় জেলা জাজশিপে এর সমতুল্য আদালত রয়েছে।
অর্থঋণ আদালত, ঢাকা
নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবন, ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকাঅর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর অধীন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ আদায়ের মামলা এবং জারি মামলার বিচার করে।
ঢাকায় ১ থেকে ৭ নং অর্থঋণ আদালত (Artha Rin Adalat) আছে। সরকারি ফ্লোর প্ল্যান অনুযায়ী অর্থঋণ আদালত নং ১ নতুন জেলা জজ আদালত ভবনের ৫ম তলায় (অফিস ৬ষ্ঠ তলায়); ২ থেকে ৭ নং আদালতের অবস্থান প্রকাশিত নয়। প্রতিটি জেলায় একটি অর্থঋণ আদালত আছে (প্রায়ই একজন যুগ্ম জেলা জজ অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকেন)।
ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
জেলা প্রশাসকের (জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) কার্যালয়, ঢাকা
ঢাকা (সঠিক ঠিকানা নিশ্চিত নয়)জেলা প্রশাসন: ভূমি রাজস্ব ও রেকর্ড সংশোধন সংক্রান্ত আপিল, সার্টিফিকেট মামলা, ভূমি অধিগ্রহণ, এবং ঢাকা জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত।
dhaka.gov.bd থেকে সরকারি রাস্তার ঠিকানা পড়া যায়নি (এর যোগাযোগের পাতা লোড হয়নি); বিচার বিভাগীয় পোর্টাল অফিসের ফোন ০২-২২৩৩৮৯৭৮৬ নিশ্চিত করে। যাওয়ার আগে বর্তমান ঠিকানা যাচাই করে নিন। প্রতিটি জেলা সদরে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় আছে।
সম্মত মধ্যস্থতাকারীর সামনে মধ্যস্থতা
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
দেওয়ানি কারাগার
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- অর্থঋণ আদালত (Artha Rin Adalat)
- অর্থঋণ আদালত: কেবল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ আদায় মামলা শোনার জন্য ২০০৩ সালের আইন অনুযায়ী নিযুক্ত একজন যুগ্ম জেলা জজ।
- আর্থিক প্রতিষ্ঠান (Financial institution)
- ধারা ২(ক)-তে তালিকাভুক্ত ঋণদাতা, যার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক, তফসিলি ব্যাংক, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিশেষায়িত রাষ্ট্রীয় ঋণদাতা রয়েছে।
- ডিক্রিদার / দায়িক (Decree-holder / judgment-debtor)
- যে ব্যাংক ডিক্রি পায়, এবং যে ঋণগ্রহীতা বা জামিনদারকে তা পরিশোধের আদেশ দেওয়া হয়।
- তৃতীয় পক্ষ বন্ধকদাতা (Third-party mortgagor)
- এমন ব্যক্তি, প্রায়ই কোনো আত্মীয়, যিনি অন্যের ঋণের জামানত হিসেবে নিজের সম্পত্তি বন্ধক রাখেন। তাঁকে বিবাদী হিসেবে পক্ষভুক্ত করতে হয়।
- একতরফা ডিক্রি (Ex parte decree)
- বিবাদীর অনুপস্থিতিতে দেওয়া ডিক্রি। ধারা ১৯ অনুযায়ী কেবল ১০% জমা দিলে তা রদ করা যায়।
- মধ্যস্থতা (ধারা ২২) (Mediation)
- লিখিত জবাবের পর আইনজীবীদের বাছাই করা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বাধ্যতামূলক ও গোপনীয় মীমাংসার চেষ্টা।
- সিলমোহরকৃত দরপত্রে নিলাম (Sealed tender auction)
- ধারা ৩৩-এর আদালত-পরিচালিত বিক্রয় পদ্ধতি, যেখানে দরের জামানত ১০-২০% এবং পরিশোধের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে।
- ধারা ৩৩(৭) অনুযায়ী সনদ (Certificate under s.33(7))
- সম্পত্তি বিক্রি করা না গেলে ব্যাংকের ওপর স্বত্ব ন্যস্ত করে দেওয়া আদালতের সনদ। এটি স্বত্বদলিল হিসেবে কাজ করে।
- রুল (Rule)
- হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন বা রিট গৃহীত হলে অপর পক্ষকে কারণ দর্শানোর জন্য জারি করা আদেশ।
অর্থঋণ মামলার প্রক্রিয়া: সাধারণ প্রশ্ন
ঋণগ্রহীতা হিসেবে আমি কি অর্থঋণ আদালতে ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারি?
বাংলাদেশে অর্থঋণ মামলার প্রক্রিয়া শেষ হতে কত দিন লাগে?
আপিল করতে কেন ৫০% জমা দিতে হয়?
আপিল করলে কি নিলাম বন্ধ হয়?
ব্যাংক কি আদালতে না গিয়েই আমার বন্ধকি সম্পত্তি বিক্রি করতে পারে?
ব্যাংক যে সুদ দাবি করছে, আদালত কি তা কমাতে পারেন?
ঋণগ্রহীতার আগে কি জামিনদারের কাছ থেকে আদায় করা হবে?
অর্থঋণ বিরোধ কি নতুন বাণিজ্যিক আদালতে নেওয়া যায়?
আইন ও উৎস
- Artha Rin Adalat Ain 2003 (Act 8 of 2003), Laws of Bangladesh
- Artha Rin Adalat Ain 2003, mirror text
- The Code of Civil Procedure 1908
- The Civil Courts Act 1887
- The Court-fees Act 1870
- The Constitution of the People's Republic of Bangladesh
- Law ministry turns down draft money loan court act (The Financial Express, January 2026)
- Supreme Court of Bangladesh: judgments and orders
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।