ব্যাংক হিসাব জব্দের রিট: শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধাপে ধাপে পুরো যাত্রা
ব্যাংক হিসাব জব্দের রিট (bank account freeze writ) হলো সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে করা আবেদন, যাতে বিএফআইইউ, কর কর্তৃপক্ষ বা কোনো সংস্থা আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া, নির্ধারিত মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ার পর, অথবা হিসাবধারীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া কোনো হিসাবের ওপর যে জব্দ আরোপ করেছে তা বাতিলের প্রার্থনা করা হয়। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর অধীনে আদালতের জব্দ আদেশের নিজস্ব ৩০ দিনের প্রতিকার রয়েছে, যা সাধারণত এর বদলে ব্যবহার করতে হয়।
রুলের শুনানি চলাকালে অন্তর্বর্তী প্রতিকারে প্রায়ই বেতন ও পরিচালন হিসাব মুক্ত হয়, আর রাষ্ট্রপক্ষ প্রায়ই সেই আদেশ নিয়ে আপিল বিভাগে যায়।
- কোথা থেকে শুরু
- ব্যাংকে, যা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে লেনদেন প্রত্যাখ্যান করে; এরপর আদেশ জারিকারী কর্তৃপক্ষ, জব্দের আদেশদাতা আদালত (যদি…
- মূল আইন
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৩১, ৪২, ১০২, ১০৩, ১০৫ ও ১১২; মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (২০১৫ সালে সংশোধিত)…
- সাধারণ সময়কাল
- আদালতের জব্দের ক্ষেত্রে আইনে নির্ধারিত ৩০ দিনের সময়সীমা। হিসাবের অন্তর্বর্তী মুক্তি: দায়েরের কয়েক দিন থেকে কয়েক…
- কে মামলা করতে পারেন
- হিসাবধারী, ব্যক্তি বা কোম্পানি, বৃহত্তর অভিযানের অংশ হিসেবে যাঁদের হিসাব জব্দ হয়েছে সেই আত্মীয়, কর্মচারী ও…
ব্যাংক হিসাব জব্দের রিট: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · জব্দের বিষয়টি জানাব্যাংক একটি লেনদেন প্রত্যাখ্যান করে
বেশিরভাগ হিসাবধারী জব্দের কথা জানতে পারেন যখন কোনো চেক, ট্রান্সফার বা বেতন প্রদান প্রত্যাখ্যাত হয়, অথবা কোনো স্থায়ী আমানত নগদায়ন করা যায় না। ব্যাংক জব্দের নির্দেশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করে, কারণ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী নির্দেশ অমান্যকারী ব্যাংকের রক্ষিত স্থিতির সমান থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। শাখা প্রায়ই শুধু বলে যে প্রধান কার্যালয় থেকে নির্দেশ এসেছে। হিসাবধারীর উচিত লিখিতভাবে নির্দেশের তারিখ ও সূত্র নম্বর, আদেশ জারিকারী কর্তৃপক্ষ এবং বিও হিসাব ও ঋণসুবিধাসহ কোন কোন হিসাব প্রভাবিত, তা জানতে চাওয়া।
কোথায়: হিসাবধারীর ব্যাংক (শাখা ও প্রধান কার্যালয়ের কমপ্লায়েন্স বিভাগ) · সময়: ১-৭ দিন · আইন: মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ২৩(১)(গ) ও (৬) · কাগজপত্র: লেনদেন বন্ধ দেখানো ব্যাংক স্টেটমেন্ট, জব্দের নির্দেশ চেয়ে ব্যাংকের কাছে লিখিত অনুরোধ, ব্যাংকের জবাব
পরামর্শ: শুধু শাখায় নয়, প্রধান কার্যালয়ের কমপ্লায়েন্স বিভাগেও লিখুন। নির্দেশটি সেখানেই লিপিবদ্ধ থাকে।
ধাপ ২ · জব্দের বিষয়টি জানাজব্দের ক্ষমতা চিহ্নিত করুন
প্রতিটি ব্যাংক হিসাব জব্দের রিট শুরু হয় কোন ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়েছে তা চিহ্নিত করে, কারণ প্রতিটির নিজস্ব সীমা আছে। বিএফআইইউ একবারে ত্রিশ দিনের জন্য জব্দের আদেশ দিতে পারে, এবং ২০১৫ সালের সংশোধনীর পর থেকে সর্বোচ্চ সাতবার, অর্থাৎ মোট প্রায় সাত মাস। দুদক বা সিআইডির মতো তদন্তকারী সংস্থার লিখিত আবেদনে আদালত ২০১২ সালের আইনের ধারা ১৪-এর অধীনে সম্পত্তি জব্দ করতে পারেন, আর দুদককে তার ২০০৭ সালের বিধিমালার বিধি ১৮ অনুযায়ী স্পেশাল জজের কাছে আবেদন করতে হয়।
কর কর্মকর্তারা আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ২২৩-এর অধীনে জব্দ করতে বা ধারা ২২১-এর অধীনে ব্যাংক থেকে কর আদায় করতে পারেন; ভ্যাট কর্মকর্তারা কেবল বকেয়া কর আদায়ের জন্য জব্দ করতে পারেন।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-৩ দিন · আইন: মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ (সংশোধন) আইন, ২০১৫ দ্বারা সংশোধিত মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ১৪ ও ২৩(১)(গ); দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭-এর বিধি ১৮; আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ২২১ ও ২২৩; মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৯৫ · কাগজপত্র: জব্দের চিঠি বা আদালতের আদেশ, কর নির্ধারণ ও পরিশোধের রেকর্ড, দুদকের নোটিশ (যদি থাকে)
পরামর্শ: দিন গুনুন। যে বিএফআইইউ জব্দ সাতটি ত্রিশ দিনের আদেশ পার করেছে, অথবা যে কর জব্দ মোট দুই বছর পেরিয়েছে, তার আর কোনো আইনগত কার্যকারিতা নেই।
ধাপ ৩ · জব্দের বিষয়টি জানাজব্দের আদেশটি সংগ্রহ করুন
ব্যাংক কখনো কখনো গ্রাহককে বিএফআইইউ বা কর কর্তৃপক্ষের জব্দ আদেশের কপি দিতে অস্বীকার করে। তখন আইনজীবী সরাসরি আদেশ জারিকারী কর্তৃপক্ষকে লিখে আদেশ, তার তারিখ, মেয়াদ বৃদ্ধি (যদি থাকে) এবং যে আইনি বিধানের ওপর নির্ভর করা হয়েছে তা চান। জুন ২০২৬-এর একটি মামলায় ব্যাংক কপি দিতে অস্বীকার করার পর আবেদনকারী বিএফআইইউর কার্যালয়ে গিয়েই কেবল চিঠির শর্তাবলি জানতে পেরেছিলেন। কর্তৃপক্ষও অস্বীকার করলে রিট পিটিশনে হাইকোর্ট বিভাগকে প্রকাশের নির্দেশ দিতে বলা যায়, এবং এই অস্বীকৃতি নিজেই প্রমাণ করে যে ব্যক্তির সঙ্গে আইন অনুযায়ী আচরণ করা হয়নি।
কোথায়: বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বাংলাদেশ ব্যাংক) · সময়: ৩-১৪ দিন · আইন: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩১; রুবায়েত হোসেন বনাম বাংলাদেশ ব্যাংক, রিট পিটিশন নং ১৮৯২৭/২০২৫ (১৫ জুন ২০২৬) · কাগজপত্র: আদেশ জারিকারী কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি, জব্দের আদেশ ও মেয়াদ বৃদ্ধির চিঠির কপি
পরামর্শ: প্রতিটি অস্বীকৃতি লিখিতভাবে রাখুন। ব্যাংক বা কর্তৃপক্ষের আদেশ প্রকাশে অস্বীকৃতি মোশন শুনানিতে কার্যকর প্রমাণ।
ধাপ ৪ · জব্দের বিষয়টি জানাআদেশ জারিকারী কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিনিধিত্ব
আদালতে যাওয়ার আগে হিসাবধারী জব্দের আদেশদাতা কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত প্রতিনিধিত্ব (রিপ্রেজেন্টেশন) করেন। কর জব্দের ক্ষেত্রে এতে দেখানো হয় যে রিটার্ন দাখিল ও গৃহীত হয়েছে, কর পরিশোধিত হয়েছে, এবং কোনো দাবি থাকলে তা আপিলাধীন, কারণ আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ২১৪(৬) অনুযায়ী আপিল বিচারাধীন থাকা করদাতা খেলাপি নন। বিএফআইইউ জব্দের ক্ষেত্রে এতে প্রতিটি স্থিতির বৈধ উৎস এবং আত্মীয় বা কর্মচারীর ক্ষেত্রে ব্যক্তির স্বতন্ত্র আয় ব্যাখ্যা করা হয়। প্রত্যাখ্যাত বা উপেক্ষিত প্রতিনিধিত্ব দেখায় যে রিটের আগে ন্যায়বিচার চাওয়া হয়েছিল।
কোথায়: কর কর্তৃপক্ষ (এনবিআর, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল বা কর কমিশনার) · সময়: ১-৪ সপ্তাহ · আইন: আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ২১৪(৬); গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক) · কাগজপত্র: প্রতিনিধিত্বের চিঠি, কর রিটার্ন ও প্রাপ্তিস্বীকার স্লিপ, অর্থের উৎসের প্রমাণ, প্রাপ্তির প্রমাণ
পরামর্শ: প্রতিনিধিত্বে অন্তত বেতন বা পরিচালন হিসাব মুক্ত করার অনুরোধ জানান। আংশিক মুক্তি প্রায়ই নীরবে মঞ্জুর হয়।
ধাপ ৫ · আগে আইনগত প্রতিকারআদালতের জব্দ: ৩০ দিনের মধ্যে ফেরতের আবেদন
আদালত ২০১২ সালের আইনের ধারা ১৪-এর অধীনে জব্দের আদেশ দিলে আদেশটি সরকারি গেজেট ও দুটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ করতে হয়। অভিযুক্ত ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি, যাঁর সম্পত্তিতে স্বার্থ আছে, প্রকাশের ত্রিশ দিনের মধ্যে সম্পত্তি ফেরতের জন্য সেই আদালতে আবেদন করতে পারেন, এবং দেখাতে হবে যে সম্পত্তিটি মানিলন্ডারিংয়ে জড়িত নয়, আবেদনকারী নিজে জড়িত নন বা বেনামদার হিসেবে কাজ করছেন না, এবং তাতে অভিযুক্তের কোনো স্বার্থ নেই। সিদ্ধান্তের আগে আদালত আবেদনকারী, তদন্তকারী সংস্থা ও অভিযুক্তের বক্তব্য শোনেন।
কোথায়: সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত, ঢাকা (মানিলন্ডারিং আইনে বা দুদকের আবেদনে আদালতের জব্দ) · সময়: ১-৩ মাস · আইন: মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ১৪(৩); মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ১৫ · কাগজপত্র: সম্পত্তি ফেরতের আবেদন, স্বত্ব ও অর্থের উৎসের কাগজপত্র, প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির কপি
পরামর্শ: ত্রিশ দিন গোনা হয় প্রকাশের তারিখ থেকে, আপনি জব্দের কথা জানার দিন থেকে নয়। অবিলম্বে গেজেট ও সংবাদপত্র দেখুন।
ধাপ ৬ · আগে আইনগত প্রতিকারআদালতের জব্দ: হাইকোর্ট বিভাগে আপিল
২০১২ সালের আইনের অধীনে আদালতের দেওয়া জব্দ বা ক্রোকের আদেশে সংক্ষুব্ধ যেকোনো ব্যক্তি ত্রিশ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারেন। হাইকোর্ট বিভাগ অন্যরকম নির্দেশ না দিলে আপিল চলাকালে আদেশ বহাল থাকে, তাই আপিলকারী গ্রহণের শুনানিতেই স্থগিতাদেশ বা আংশিক মুক্তি চান। এই আইনগত আপিল থাকায় বিচারিক জব্দ আদেশের বিরুদ্ধে রিট গৃহীত হওয়ার সম্ভাবনা কম, এবং যে পক্ষ আপিল করতে পারতেন তিনি এর বদলে ফৌজদারি রিভিশন ব্যবহার করতে পারেন না।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: দায়ের ৩০ দিনের মধ্যে; শুনানি ২-১২ মাস · আইন: মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ১৬; ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪৩৯(৫) · কাগজপত্র: আপিলের মেমোরেন্ডাম, জব্দ আদেশের সার্টিফায়েড কপি, স্থগিতাদেশ বা আংশিক মুক্তির আবেদন
পরামর্শ: আদেশের কথা যেদিন জানবেন, সেদিনই সার্টিফায়েড কপির আবেদন করুন। ত্রিশ দিনের সীমায় নকল তোলার সময়ই আপনার প্রধান ঝুঁকি।
ধাপ ৭ · রিট দায়ের ও অন্তর্বর্তী মুক্তিরিট পিটিশনের খসড়া করুন
জব্দ যখন এমন প্রশাসনিক আদেশ যার কোনো আইনগত প্রতিকার নেই, তখন ব্যাংক হিসাব জব্দের রিটই প্রধান পথ। পিটিশনে নির্দিষ্ট ত্রুটি উল্লেখ করা হয়: জব্দের ক্ষমতা নেই, যেমন দুদক কর্মকর্তার নো-ডেবিট চিঠি; আইনি মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বহাল রাখা বিএফআইইউ জব্দ; পূর্বে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া করা কর জব্দ; পরিবারের সদস্যদের ওপর ঢালাও জব্দ; অথবা কোনো বকেয়া দাবি ছাড়া ভ্যাট জব্দ। এতে আদেশ জারিকারী কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ ব্যাংক বা এনবিআরকে প্রতিপক্ষ করা হয় এবং ব্যাংকগুলোকে পক্ষভুক্ত করা হয়, যাতে আদালতের নির্দেশ তাদের ওপর বাধ্যকর হয়। আইনের পাশাপাশি অনুচ্ছেদ ৩১ ও ৪২ উল্লেখ করা হয়।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ৩-১০ দিন · আইন: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২(১) ও ১০২(২)(ক)(ii); গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩১ ও ৪২; বেলায়েত হোসেন বনাম দুর্নীতি দমন কমিশন, রিট পিটিশন নং ১৫৩৯/২০২১ · কাগজপত্র: পিটিশনের খসড়া ও সংযুক্তি, জব্দের আদেশ ও মেয়াদ বৃদ্ধি, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, কর রিটার্ন, কর নির্ধারণী আদেশ ও পরিশোধের প্রমাণ
পরামর্শ: বাণিজ্যিক ব্যাংক নিজে রিটের আওতাভুক্ত নয়, তবে তাকে প্রতিপক্ষ হিসেবে যুক্ত করা উচিত, যাতে সে আদেশে বাধ্য থাকে।
ধাপ ৮ · রিট দায়ের ও অন্তর্বর্তী মুক্তিহলফনামা, দায়ের ও অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে নোটিশ
পিটিশনটি সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দ্বারা সত্যায়িত করে সংযুক্তি ও কোর্ট ফিসহ রিট শাখায় দাখিল করা হয়। কোম্পানি আবেদনকারী হলফকারীকে ক্ষমতা দেওয়া বোর্ড রেজুলেশন সংযুক্ত করে। একটি কপি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে দেওয়া হয়, এবং জব্দকৃত অর্থ মুক্তির অন্তর্বর্তী আদেশ জনস্বার্থকে প্রভাবিত করে বলে দাবি করা হতে পারে বলে, এমন আদেশ চাওয়ার আগে আইনজীবী অনুচ্ছেদ ১০২(৪)-এ প্রয়োজনীয় নোটিশ দেন। এরপর এই শ্রেণির রিট শুনানির জন্য নির্ধারিত বেঞ্চে বিষয়টি কার্যতালিকাভুক্ত হয়।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৫ দিন · আইন: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২(৪); বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (হাইকোর্ট বিভাগ) বিধিমালা, ১৯৭৩-এর অধ্যায় ১১ক · কাগজপত্র: শপথকৃত হলফনামা, ওকালতনামা, বোর্ড রেজুলেশন (কোম্পানি), অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে নোটিশ প্রদানের রসিদ
পরামর্শ: দায়েরের আগে দেখে নিন বর্তমানে কোন বেঞ্চ ব্যাংকিং, কর ও দুর্নীতি দমন-সংক্রান্ত রিট শুনছে।
ধাপ ৯ · রিট দায়ের ও অন্তর্বর্তী মুক্তিমোশন শুনানি
মোশন শুনানিতে অ্যাডভোকেট কাগজপত্রেই দৃশ্যমান ত্রুটি দেখান: বিএফআইইউর মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রমাণস্বরূপ তারিখ, দুদকের চিঠির পেছনে কোনো আদালতের আদেশ না থাকা, অথবা কর জব্দের পরেই ব্যাংক থেকে তথ্য সংগ্রহের ক্রম। সরকারি আইন কর্মকর্তা যুক্তি দিতে পারেন যে তদন্ত চলছে বা আইনগত প্রতিকার রয়েছে। বেঞ্চ কেবল দেখেন পিটিশনে বিবেচনাযোগ্য বিষয় আছে কি না, এবং হয় সরাসরি খারিজ করেন অথবা রুল নিশি জারি করেন।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: দায়েরের ১-২১ দিন পর · আইন: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২; মো. সিরাজুল ইসলাম বনাম জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, রিট পিটিশন নং ২২২৬৫/২০২৫ (২৩ এপ্রিল ২০২৬) · কাগজপত্র: পিটিশন ও হলফনামা, জব্দ ও মেয়াদ বৃদ্ধির ঘটনাক্রম
পরামর্শ: এক পৃষ্ঠার ঘটনাক্রম দিয়ে শুরু করুন। জব্দের মামলায় জয়-পরাজয় সাধারণত তারিখের ওপর নির্ভর করে।
ধাপ ১০ · রিট দায়ের ও অন্তর্বর্তী মুক্তিরুল নিশি ও অন্তর্বর্তী মুক্তি
সন্তুষ্ট হলে বেঞ্চ রুল নিশি জারি করে জানতে চান কেন জব্দকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, এবং অন্তর্বর্তী আদেশ দিতে পারেন। বাস্তবসম্মত অনুরোধই সবচেয়ে কার্যকর: বেতন ও পরিচালন হিসাব, অথবা নির্দিষ্ট অঙ্কের বেশি স্থিতি মুক্ত করা, আর বাকিটা শুনানি পর্যন্ত জব্দ থাকা। জব্দকৃত হিসাব মুক্তির অন্তর্বর্তী আদেশ রাষ্ট্রপক্ষ নিয়মিতভাবে চেম্বার জজের কাছে চ্যালেঞ্জ করে। আদালত যতদিন কর জব্দ স্থগিত রাখেন সেই সময় জব্দের মেয়াদ থেকে বাদ যায়, তাই স্থগিতাদেশে কর্তৃপক্ষের মেয়াদ ফুরিয়ে যায় না।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: মোশনের দিনই · আইন: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক)(ii) ও ১০২(৪); আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ২২৩(৪) · কাগজপত্র: রুল নিশি জারির আদেশ ও অন্তর্বর্তী নির্দেশনা (যদি থাকে)
পরামর্শ: ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে যতটুকু ন্যূনতম দরকার, ততটুকুই চান। সীমিত অন্তর্বর্তী আদেশ আপিল বিভাগের চ্যালেঞ্জে টিকে থাকার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
ধাপ ১১ · রিট দায়ের ও অন্তর্বর্তী মুক্তিব্যাংকগুলোর ওপর আদেশ জারি করুন
আইনজীবী প্রতিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এবং আদেশ জারিকারী কর্তৃপক্ষের কাছে আদেশের সার্টিফায়েড কপি পৌঁছে দেন, প্রাপ্তির সিল রাখেন, এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে ব্যাংকগুলোকে লিখিত অনুরোধ জানান। ব্যাংক সাধারণত অর্থ ছাড়ের আগে বিএফআইইউ বা এনবিআরের লিখিত আশ্বাস চায়, তাই ব্যাংকের মতোই কর্তৃপক্ষের কাছে আদেশ পৌঁছানোও গুরুত্বপূর্ণ। আবেদনকারী তলবানা (রিকুইজিট) দাখিল করেন, যাতে হাইকোর্ট বিভাগের দপ্তর সব প্রতিপক্ষকে রুলের নোটিশ দিতে পারে।
কোথায়: হিসাবধারীর ব্যাংক (শাখা ও প্রধান কার্যালয়ের কমপ্লায়েন্স বিভাগ) · সময়: ১-৭ দিন · আইন: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১২ · কাগজপত্র: আদেশের সার্টিফায়েড কপি, কভারিং লেটার ও প্রাপ্তির সিল, নোটিশের তলবানা
পরামর্শ: শুধু মূল হিসাব যে ব্যাংকে, সেখানেই নয়, জব্দের চিঠিতে উল্লিখিত প্রতিটি ব্যাংকে আদেশ পৌঁছে দিন।
ধাপ ১২ · রুলের শুনানি ও রায়বিরোধিতামূলক হলফনামা ও জবাব
কর্তৃপক্ষ হলফনামার মাধ্যমে রুলের জবাব দেয়। বিএফআইইউ সাধারণত জব্দের আদেশ ও মেয়াদ বৃদ্ধির তারিখ এবং দুদক, সিআইডি বা কর গোয়েন্দায় পাঠানোর বিষয় উল্লেখ করে। এনবিআর জব্দের আগে তার কাছে কী সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল বলে দাবি করে তা ব্যাখ্যা করে। আবেদনকারী ঘটনাক্রম ও অর্থের স্বতন্ত্র উৎস-সংক্রান্ত দলিলপত্রসহ জবাব দেন। ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ অন্তর্বর্তী আদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করতে পারে, অথবা দ্রুত রুল শুনানির নির্দেশসহ চেম্বার জজের কাছ থেকে স্থগিতাদেশ নিতে পারে।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৪ মাস · আইন: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২; বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (হাইকোর্ট বিভাগ) বিধিমালা, ১৯৭৩-এর অধ্যায় ১১ক · কাগজপত্র: বিরোধিতামূলক হলফনামা, জবাবি হলফনামা, পরবর্তী ঘটনা-সংক্রান্ত সম্পূরক হলফনামা
পরামর্শ: দায়েরের পর নতুন কোনো আদেশের দিকে নজর রাখুন। বিএফআইইউর নতুন রেফারেল বা আদালতের জব্দ মামলার গতি বদলে দিতে পারে, এবং দ্রুত তার জবাব দিতে হবে।
ধাপ ১৩ · রুলের শুনানি ও রায়চূড়ান্ত শুনানি: রুল চূড়ান্ত বা খারিজ
শুনানিতে বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট আইনের আলোকে জব্দটি যাচাই করেন। ২০২৬ সালে হাইকোর্ট বিভাগ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে বিএফআইইউ জব্দ সাতটি ত্রিশ দিনের আদেশ পার করার পর ব্যাংকের হিসাব বন্ধ রাখার কোনো কর্তৃত্ব নেই, ধারা ২২৩-এর কর জব্দের আগে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকতে হবে, এবং পরিবারের সদস্যদের ওপর ঢালাও জব্দে প্রত্যেক ব্যক্তি সম্পর্কে আলাদা সন্তুষ্টি প্রয়োজন। রুল চূড়ান্ত হলে আদালত সাধারণত সাত দিনের মধ্যে হিসাব চালুর নির্দেশ দেন। আদেশটি বৈধ হলে বা আইনগত প্রতিকার ব্যবহার করা উচিত ছিল এমন ক্ষেত্রে ব্যাংক হিসাব জব্দের রিট খারিজও হতে পারে।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৩ শুনানি দিবস; রায় একই দিনে বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে · আইন: সদরুল হাসান বনাম কর কমিশনার, রিট পিটিশন নং ২৩৬৪/২০২৬ (৮ জুলাই ২০২৬); রুবায়েত হোসেন বনাম বাংলাদেশ ব্যাংক, রিট পিটিশন নং ১৮৯২৭/২০২৫; গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১১ · কাগজপত্র: রায়, সার্টিফায়েড কপির আবেদন
পরামর্শ: আদালতকে প্রতিপালনের সময় নির্ধারণ করে দিতে বলুন। সাত দিনের মধ্যে হিসাব চালুর নির্দেশ সময়সীমাহীন নির্দেশের চেয়ে কার্যকর করা অনেক সহজ।
ধাপ ১৪ · হিসাব পুনরায় চালুব্যাংক হিসাব পুনরায় চালু করে
সফল আবেদনকারী প্রতিটি ব্যাংক ও কর্তৃপক্ষের কাছে রায়ের সার্টিফায়েড কপি পৌঁছে দেন এবং সব হিসাব, আমানত, বিও হিসাব ও ঋণসীমার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার লিখিত নিশ্চয়তা চান। অনুচ্ছেদ ১১২ অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের সহায়তায় কাজ করতে বাধ্য। জব্দের পর প্রায়ই দুদক, সিআইডি বা কর গোয়েন্দায় রেফারেল হয়, তাই হিসাবধারীর পরবর্তী ধাপের জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত, যা হতে পারে আদালতের বৈধ জব্দ আদেশ, যার মোকাবিলা করতে হবে আইনগত প্রতিকার দিয়ে।
কোথায়: হিসাবধারীর ব্যাংক (শাখা ও প্রধান কার্যালয়ের কমপ্লায়েন্স বিভাগ) · সময়: ১-৪ সপ্তাহ · আইন: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১২ · কাগজপত্র: রায়ের সার্টিফায়েড কপি, প্রতিটি ব্যাংকের কাছে চিঠি, মুক্তির লিখিত নিশ্চয়তা
পরামর্শ: পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ দ্রুত ও বৈধভাবে স্থানান্তর করুন, এবং পরবর্তী কোনো তদন্তের জন্য প্রতিটি লেনদেনের স্পষ্ট রেকর্ড রাখুন।
যদি এমন হয়…? ব্যাংক হিসাব জব্দের রিট যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
কর জব্দের জন্য কি রিভিশনের পথ আছে?
- 1কর কর্তৃপক্ষ (এনবিআর, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল বা কর কমিশনার)
কর কমিশনারের কাছে রিভিশন
জব্দ কোনো কর আদেশের ফলে হলে করদাতা আদেশ জানানোর ষাট দিনের মধ্যে কমিশনারের কাছে রিভিশনের আবেদন করতে পারেন, যদি না এর বদলে আপিল চলে বা বিচারাধীন থাকে। আবেদনের জন্য ২০০ টাকা ফি এবং স্বীকৃত কর পরিশোধ করতে হয়। কমিশনার করদাতার জন্য ক্ষতিকর কোনো আদেশ দিতে পারেন না।
১-৩ মাসআয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৮৫(১)-(৪) - 2হাইকোর্ট বিভাগ
রিভিশন আদেশের বিরুদ্ধে রিট
কমিশনার যথাযথ শুনানি ছাড়া রিভিশন নামঞ্জুর করলে রিট করা যেতে পারে। জুলাই ২০২৬-এ হাইকোর্ট বিভাগ এমন একটি আদেশ বাতিল করে পঁয়তাল্লিশ দিনের মধ্যে নতুন শুনানির জন্য রিভিশনটি কমিশনারের কাছে ফেরত পাঠান, এবং রিভিশন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ধারা ২২১-এর অধীনে ব্যাংক হিসাব জব্দ স্থগিত করেন।
২-৬ মাসগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২প্রকৌশলী মো. মহসিন বনাম কর কমিশনার, রিট পিটিশন নং ২৫০৮/২০২৬ (৫ জুলাই ২০২৬) - 3কর কর্তৃপক্ষ (এনবিআর, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল বা কর কমিশনার)
কমিশনারের নতুন শুনানি
জব্দ স্থগিত থাকা অবস্থায় কমিশনার গুণাগুণের ভিত্তিতে রিভিশনটি পুনরায় শোনেন। নতুন কোনো প্রতিকূল আদেশও আবার চ্যালেঞ্জ করা যায়, তবে করদাতার উচিত এবার সব প্রমাণ কমিশনারের সামনে উপস্থাপন করা।
৪৫ দিনআয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৮৫
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: জব্দের পেছনের কর আদেশ কমিশনার পুনর্বিবেচনা করেন, আর রিভিশন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্ট বিভাগ জব্দ স্থগিত রাখেন।
হাইকোর্ট বিভাগ আদালতের জব্দ স্পেশাল জজের কাছে ফেরত পাঠালে কী হবে?
- 1সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত, ঢাকা (মানিলন্ডারিং আইনে বা দুদকের আবেদনে আদালতের জব্দ)
স্পেশাল জজের নতুন সিদ্ধান্ত
ধারা ১৬-এর অধীনে আপিলে হাইকোর্ট বিভাগ আইনে প্রয়োজনীয় কারণ ও প্রাথমিক প্রমাণ ছাড়া দেওয়া জব্দ আদেশ, অথবা আবেদনকারীর বক্তব্য না শুনে ফেরতের আবেদন নামঞ্জুরের আদেশ বাতিল করে বিষয়টি ফেরত পাঠাতে পারেন। এরপর স্পেশাল জজ সংস্থা, অভিযুক্ত ও তৃতীয় পক্ষের বক্তব্য আবার শুনে জব্দ বা সম্পত্তি ফেরতের বিষয়ে নতুন, কারণসংবলিত আদেশ দেন।
১-৩ মাসমানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ১৬(২)মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ১৫(৩) - 2হাইকোর্ট বিভাগ
আবার হাইকোর্ট বিভাগে
নতুন আদেশটিও আইনের অধীনে একটি জব্দ আদেশ, তাই সংক্ষুব্ধ পক্ষ ত্রিশ দিনের মধ্যে আবার হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারেন। এই দ্বিতীয় দফায় হাইকোর্ট বিভাগ সম্পূর্ণ নথির ভিত্তিতে একটি কারণসংবলিত সিদ্ধান্ত পরীক্ষা করেন, এবং শুনানি সাধারণত নির্ভর করে সংস্থা নির্দিষ্ট সম্পত্তিটি অপরাধের সঙ্গে যুক্ত বলে যুক্তিসংগত সন্দেহ দেখাতে পেরেছে কি না তার ওপর।
২-১২ মাসমানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ১৬(১) ও (৩)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: নিম্ন আদালতে জব্দের বিষয় আবার নিষ্পত্তি হয় এবং চ্যালেঞ্জ হলে হাইকোর্ট বিভাগ আবার পর্যালোচনা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষ বা হিসাবধারী আপিল বিভাগে গেলে কী হবে?
- 1চেম্বার জজ, আপিল বিভাগ
চেম্বার জজের কাছে স্থগিতাদেশের আবেদন
রাষ্ট্রপক্ষ সাধারণত অন্তর্বর্তী মুক্তি বা হিসাব চালুর চূড়ান্ত রায় স্থগিতের জন্য চেম্বার জজের কাছে আবেদন করে। জুন ২০২৬-এর বিএফআইইউ মামলায় চেম্বার জজ অন্তর্বর্তী মুক্তি স্থগিত করে দ্রুত রুল শুনানির নির্দেশ দেন; জুলাই ২০২৬-এর একটি কর মামলায় আপিল বিভাগ স্থগিতাদেশ সংশোধন করে দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। পূর্ণ স্থগিতাদেশের আশঙ্কা থাকলে আবেদনকারীর উচিত হাজির হয়ে সীমিত মুক্তির প্রস্তাব দেওয়া।
১-৬ সপ্তাহগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ) বিধিমালা, ১৯৮৮ (চেম্বার জজ) - 2সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
লিভ টু আপিলের পিটিশন ও আপিল
রিটের রায় সাধারণত ষাট দিনের মধ্যে লিভ টু আপিলের সিভিল পিটিশনের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা হয়, আর ধারা ১৬-এর আইনগত আপিলের রায়, যা ফৌজদারি কার্যধারা থেকে উদ্ভূত, ত্রিশ দিনের মধ্যে ফৌজদারি লিভ পিটিশনের মাধ্যমে। ধারা ২৩ বা ধারা ২২৩-এর পরিধির মতো গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্নে অনুমতি দেওয়া হয়। অনুমতি মিললে আইনগত বিষয়ে আপিলের শুনানি হয় এবং আপিল বিভাগ অনুচ্ছেদ ১০৪-এর অধীনে পূর্ণ ন্যায়বিচার করতে পারেন।
৬ মাস-২ বছরগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(৩)আপিল বিভাগ বিধিমালা, ১৯৮৮-এর আদেশ ১৩ বিধি ১আপিল বিভাগ বিধিমালা, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৪ বিধি ২গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৪
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগ হাইকোর্ট বিভাগের সিদ্ধান্ত বহাল, পরিবর্তন বা রদ করেন, এবং অনুচ্ছেদ ১১১ অনুযায়ী এর সিদ্ধান্ত সব আদালতের জন্য বাধ্যকর।
সিদ্ধান্তদাতা আদালত কি নিজের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারেন?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগে রিভিউ
রিট বেঞ্চ আদেশ ৪৭-এর নীতি প্রয়োগ করে কেবল নথিতে দৃশ্যমান ভুল বা নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যের ভিত্তিতে নিজের রায় রিভিউ (review) করতে পারেন। ধারা ১৬-এর অধীনে ফৌজদারি আপিলের রায় একইভাবে পুনরায় খোলা যায় না, কারণ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৬৯ করণিক ভুল ছাড়া স্বাক্ষরিত রায় পরিবর্তন নিষিদ্ধ করে। রিভিউ পুনঃশুনানি নয়।
১-৬ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি (CPC), ১৯০৮-এর আদেশ ৪৭ বিধি ১ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৩৬৯ - 2সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিল বিভাগে রিভিউ
কোনো পক্ষ অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীনে রায়ের ত্রিশ দিনের মধ্যে আপিল বিভাগকে তার নিজের রায় রিভিউ করতে বলতে পারেন, নথিতে দৃশ্যমান ভুলের মতো সংকীর্ণ কারণে। পিটিশনের সঙ্গে একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেটের কারণসংবলিত সনদ এবং ১০,০০০ টাকা নগদ জামানত লাগে, আর মাত্র একবার রিভিউ করা যায়। এটি জব্দের গুণাগুণ নিয়ে দ্বিতীয় আপিল নয়।
৩-১২ মাসগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫আপিল বিভাগ বিধিমালা, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ২, ৪, ৫, ৮ ও ৯
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রিভিউ খারিজ হয়, অথবা নির্দিষ্ট ভুলের বিষয়ে রায় সংশোধিত হয়।
বেঞ্চের দুই বিচারক একমত না হলে কী হবে?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
তৃতীয় বিচারকের কাছে রেফারেন্স
রিট বেঞ্চ সাধারণত দুই বিচারকের হয়। তাঁরা ভিন্নমত পোষণ করলে প্রধান বিচারপতি বিষয়টি তৃতীয় একজন বিচারকের কাছে পাঠান, এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের মতই হাইকোর্ট বিভাগের সিদ্ধান্ত হয়। বেঞ্চ বা আপিল বিভাগ অন্যরকম নির্দেশ না দিলে আগে দেওয়া অন্তর্বর্তী মুক্তি সাধারণত তৃতীয় বিচারকের সিদ্ধান্ত পর্যন্ত বহাল থাকে। এরপর যেকোনো পক্ষ আপিল বিভাগে অনুমতি চাইতে পারেন।
৩-১২ মাসগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৭(৩)শাকওয়াত হোসেন ভূঁইয়া বনাম বাংলাদেশ, ১২ এসসিওবি [২০১৯] এইচসিডি ৩৯
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: তৃতীয় বিচারক মতভেদের নিষ্পত্তি করেন, এবং মামলা আপিল বিভাগ পর্যন্ত যেতে পারে।
আদেশের পরও ব্যাংক হিসাব বন্ধ রাখলে কী হবে?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
আদালত অবমাননার পিটিশন
রায় পৌঁছানোর পরও কোনো ব্যাংক বা কর্তৃপক্ষ লেনদেন প্রত্যাখ্যান করতে থাকলে আবেদনকারী আদেশ, প্রাপ্তির সিল ও প্রত্যাখ্যাত নির্দেশনা সংযুক্ত করে হাইকোর্ট বিভাগে আদালত অবমাননার পিটিশন দাখিল করেন। আদালত দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবমাননার রুল জারি করেন। এ পর্যায়ে ব্যাংক প্রায় সবসময়ই আদেশ মেনে নেয়। অবমাননার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অধিকারবলে আপিল বিভাগে আপিল করা যায়।
২-১২ সপ্তাহগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৮আদালত অবমাননা আইন, ১৯২৬গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(২)(গ)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হিসাব পুনরায় চালু হয়, অথবা দায়ী কর্মকর্তারা অবমাননার কার্যধারার মুখোমুখি হন।
ব্যাংক হিসাব জব্দের রিট যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
ব্যাংক হিসাব জব্দের রিট শুরু হয় প্রথম স্তরে, হাইকোর্ট বিভাগে, কারণ কোনো নিম্ন আদালত প্রশাসনিক জব্দকে বাতিল ঘোষণা করতে পারেন না। পথ নির্ভর করে কে হিসাব জব্দ করেছে তার ওপর। বিএফআইইউ, কর বা ভ্যাট জব্দ একটি নির্বাহী আদেশ, তাই কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিনিধিত্বের পর হিসাবধারী সরাসরি অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে যান, যদি না আইনগত কর রিভিশন বা আপিল উত্তম প্রতিকার হয়।
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ১৪-এর অধীনে আদালতের জব্দ নিচের স্তরে, তৃতীয় স্তরে স্পেশাল জজের কাছে হয়, এবং ত্রিশ দিনের আইনগত আপিলের মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগে ওঠে, সঙ্গে তৃতীয় পক্ষের জন্য আলাদা ত্রিশ দিনের ফেরতের আবেদন। কোনো আর্থিক সীমা নেই। রিট আদালত হলফনামার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেন এবং বৈধতা ও সময়সীমা যাচাই করেন, অপরাধ নয়। যেকোনো পথ থেকে হেরে যাওয়া পক্ষ অনুমতি সাপেক্ষে আপিল বিভাগে যান, যেখানে আইনগত প্রশ্ন পুনরায় শোনা হয়, এবং আপিল বিভাগ অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীনে নিজের রায় রিভিউ করতে পারেন।
- আপিল বিভাগচেম্বার জজ, আপিল বিভাগ · সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- প্রথম দফার আদালতসিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত, ঢাকা (মানিলন্ডারিং আইনে বা দুদকের আবেদনে আদালতের জব্দ)
- শুরু · আদালতের বাইরেহিসাবধারীর ব্যাংক (শাখা ও প্রধান কার্যালয়ের কমপ্লায়েন্স বিভাগ) · আইনজীবীর চেম্বার · বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বাংলাদেশ ব্যাংক) · কর কর্তৃপক্ষ (এনবিআর, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল বা কর কমিশনার)
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
স্পেশাল জজ আদালত, ঢাকা
ঢাকার আদালত এলাকা, জনসন রোড, ঢাকা-১১০০ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর অধীন দুর্নীতি দমন কমিশনের (ACC) দায়ের করা দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিং মামলার বিচার করে।
মহানগর দায়রা জজ, ঢাকা সিনিয়র স্পেশাল জজ, ঢাকা পদেও দায়িত্ব পালন করেন (মূল ভবন, ৪০-৪৫ জনসন রোড)। নম্বরযুক্ত স্পেশাল জজ আদালতগুলোর এজলাসের অবস্থান প্রকাশিত নয়, এবং আলোচিত মামলায় অন্যত্র অস্থায়ী আদালতও বসেছে; কার্যতালিকা দেখে নিন। প্রতিটি জেলায় একজন সিনিয়র স্পেশাল জজ (দায়রা জজ) ও স্পেশাল জজ আছেন।
হিসাবধারীর ব্যাংক (শাখা ও প্রধান কার্যালয়ের কমপ্লায়েন্স বিভাগ)
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
আইনজীবীর চেম্বার
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর অধীন সন্দেহজনক লেনদেনের প্রতিবেদন গ্রহণ করে, হিসাব জব্দ (ফ্রিজ) করে এবং আর্থিক গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করে।
বিএফআইইউ (BFIU) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে কাজ করে; bfiu.org.bd ও bb.org.bd খোলা যায়নি, তাই ঠিকানা কেবল পরোক্ষ সূত্র থেকে নেওয়া।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), রাজস্ব ভবন
জাতীয় রাজস্ব ভবন, প্লট এফ-১/এ, আগারগাঁও, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা-১২০৭আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস প্রশাসনের সদর দপ্তর; নীতি, রুলিং ও প্রশাসনিক পর্যালোচনা।
ভবনের ঠিকানা নেওয়া হয়েছে কর আপিল ট্রাইব্যুনালের সরকারি যোগাযোগ পাতা থেকে, যা একই এনবিআর ভবনে অবস্থিত। সাধারণ করদাতারা এনবিআর সদর দপ্তর নয়, নিজ নিজ কর অঞ্চল বা ভ্যাট/কাস্টমস কমিশনারেটের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- বিএফআইইউ (BFIU)
- বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ধারা ২৩-এর ক্ষমতা প্রয়োগ করে এবং ব্যাংককে একবারে ত্রিশ দিনের জন্য, সর্বোচ্চ সাতবার, লেনদেন স্থগিত বা জব্দের আদেশ দিতে পারে।
- জব্দের আদেশ (Freezing order)
- যে আদেশ বলবৎ থাকাকালে অর্থ বা সম্পত্তি সরানো, হস্তান্তর বা দায়বদ্ধ করা যায় না।
- ধারা ২২৩-এর জব্দ (Section 223 freeze)
- গোপন আয় বা বিনিয়োগের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আয়কর আইন, ২০২৩-এর অধীনে দেওয়া আদেশ যে অর্থ বা সম্পদ সরানো যাবে না; এর মেয়াদ এক বছর, যা মোট সর্বোচ্চ এক বছর বাড়ানো যায়।
- নো-ডেবিট নির্দেশনা (No-debit instruction)
- উত্তোলন বন্ধ রাখতে ব্যাংকের প্রতি অনুরোধ; আদালতের আদেশ ছাড়া দুদক কর্মকর্তার নো-ডেবিট চিঠিকে বেআইনি বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
- ফেরতের আবেদন (Return application)
- আদালতের জব্দকৃত সম্পত্তিতে স্বার্থ আছে এমন তৃতীয় পক্ষের দ্বারা প্রকাশের ত্রিশ দিনের মধ্যে ২০১২ সালের আইনের ধারা ১৫-এর অধীনে করা আবেদন।
- রুল নিশি (Rule Nisi)
- প্রার্থিত প্রতিকার কেন মঞ্জুর করা হবে না, তার কারণ দর্শাতে প্রতিপক্ষকে নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ।
- অন্তর্বর্তী মুক্তি (Interim release)
- শুনানি পর্যন্ত জব্দকৃত অর্থের সম্পূর্ণ বা আংশিক, প্রায়ই বেতন ও পরিচালন হিসাব, মুক্ত করার অস্থায়ী আদেশ।
- চেম্বার জজ (Chamber Judge)
- আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি, যিনি হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ স্থগিতের জরুরি আবেদন শোনেন।
ব্যাংক হিসাব জব্দের রিট: সাধারণ প্রশ্ন
বাংলাদেশে কে ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে পারে?
বিএফআইইউর জব্দ কতদিন চলতে পারে?
কখন ব্যাংক হিসাব জব্দের রিট সঠিক প্রতিকার?
দুদক কি আদালতের আদেশ ছাড়া আমার হিসাব জব্দ করতে পারে?
আত্মীয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বলে আমার হিসাব জব্দ হয়েছে। আমি কী করতে পারি?
আদালত কি সঙ্গে সঙ্গে আমার হিসাব মুক্ত করবেন?
আমি কি নিজের ব্যাংকের বিরুদ্ধে রিট করতে পারি?
পুরো প্রক্রিয়ায় কত সময় লাগে?
আইন ও উৎস
- Money Laundering Prevention Act 2012, as amended — Laws of Bangladesh
- Income Tax Act 2023, authentic English text — National Board of Revenue
- Constitution of Bangladesh (Articles 31, 42, 102, 103, 105) — Laws of Bangladesh
- High Court Division, Rubayet Hossain v Bangladesh Bank, Writ Petition No 18927 of 2025 (15 June 2026)
- High Court Division, Belayet Hosen v Anti-Corruption Commission, Writ Petition No 1539 of 2021 (27 June 2021)
- High Court Division, Md Sirajul Islam v National Board of Revenue, Writ Petition No 22265 of 2025 (23 April 2026)
- High Court Division, Sadrul Hasan v Commissioner of Taxes, Writ Petition No 2364 of 2026 (8 July 2026)
- High Court Division, Engineer Md Mohosin v Commissioner of Taxes, Writ Petition No 2508 of 2026 (5 July 2026)
- Prothom Alo, 2 October 2026 — Assets worth nearly Tk 770b seized, frozen at home, abroad
- Money Laundering Prevention (Amendment) Act 2015 (Act 25 of 2015), Bangladesh Gazette 26 November 2015
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।