টেন্ডার বিরোধে রিট মামলা: শুরু থেকে শেষ, ধাপে ধাপে
টেন্ডার বিরোধে রিট মামলা হলো সরকারি ক্রয়ের কোনো বেআইনি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে, সবচেয়ে বেশি ক্ষেত্রে রিভিউ প্যানেলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা পিটিশন।
এর আগে দরদাতাকে সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬ (Public Procurement Act)-এর ধারা ২৯ ও ৩০ এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫ (PPR)-এর অংশ ১২-এ নির্ধারিত অভিযোগের পথ অনুসরণ করতে হয়: সাত পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে লিখিত অভিযোগ, তারপর ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে, এবং শেষে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির একটি রিভিউ প্যানেলে আপিল। যে দরদাতারা এই পথ এড়িয়ে যান বা দেরিতে আসেন, তাঁরা সাধারণত ব্যর্থ হন।
- কোথা থেকে শুরু
- ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের দপ্তর (যে কর্মকর্তা টেন্ডার দলিল জারি করেছেন), তারপর ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান…
- মূল আইন
- সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬, ধারা ৩, ২৯ ও ৩০, সরকারি ক্রয় (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৪১ নং আইন) দ্বারা সংশোধিত; সরকারি ক্রয়…
- সাধারণ সময়কাল
- অভিযোগের স্তর ও রিভিউ প্যানেল: প্রায় ৩-৬ সপ্তাহ। রিট মোশন ও অন্তর্বর্তী আদেশ: কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ। রুলের…
- কে মামলা করতে পারেন
- ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান আইন বা বিধিমালা লঙ্ঘন করায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা হতে পারেন এমন দরদাতা বা সম্ভাব্য আবেদনকারী…
টেন্ডার বিরোধে রিট মামলা: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · লঙ্ঘন শনাক্ত করাজানার তারিখ ও অভিযোগের ভিত্তি লিখে রাখুন
বেশির ভাগ টেন্ডার বিরোধের ফল নির্ভর করে সময়ের ওপর, তাই প্রথম কাজ হলো ঠিক কবে এবং কোন সূত্রে বিষয়টি জানা গেল তা নির্দিষ্ট করা: ই-জিপি ড্যাশবোর্ডের নোটিশ, মূল্যায়নের ফল, সংশোধনী (corrigendum) বা ডিব্রিফিং। এরপর আইনজীবী অভিযোগটিকে ২০২৫ সালের বিধিমালার বিধি ৭২-এর কোনো ভিত্তির সঙ্গে মেলান, যেমন ঘোষিত মানদণ্ডের বাইরে মূল্যায়ন, এমন স্পেসিফিকেশন যা কেবল একটি প্রস্তুতকারক পূরণ করতে পারে, বা অনিয়মিত টেন্ডার খোলা, এবং লঙ্ঘিত টেন্ডার শর্তটি চিহ্নিত করেন। কিছু সিদ্ধান্ত ধারা ২৯(২) অনুযায়ী অভিযোগের পথের বাইরে, যেমন ক্রয় পদ্ধতি নির্বাচন এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদিত কার্যাদেশ।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: একই দিন থেকে ২ দিন · আইন: সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬-এর ধারা ২৯(১) ও (২); সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৭২ · কাগজপত্র: টেন্ডার দলিল ও প্রতিটি সংশোধনী, সময়ের ছাপসহ ই-জিপি নোটিশ, মূল্যায়নের ফল বা ডিব্রিফিং নোট
পরামর্শ: প্রতিদিন ই-জিপি ড্যাশবোর্ড দেখুন। সিস্টেমে দেখানো জারির তারিখকেই প্রাপ্তির তারিখ ধরা হয়।
ধাপ ২ · প্রশাসনিক অভিযোগের স্তরপ্রথম স্তর: জারিকারী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ
ঘটনা জানার সাত পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে অভিযোগটি লিখিতভাবে যায় সেই কর্মকর্তার কাছে, যিনি টেন্ডার দলিল জারি করেছেন, যেমন প্রকল্প পরিচালক বা ক্রয় কর্মকর্তা। এতে জানার তারিখ, বিধি ৭২-এর ভিত্তি এবং প্রার্থিত সংশোধনমূলক ব্যবস্থা উল্লেখ করতে হয়। কর্মকর্তাকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে হয় কারণসহ অভিযোগ নাকচ করতে হবে, নয়তো সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে, এবং অভিযোগকারীকে লিখিতভাবে জানাতে হবে। বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিটিং মামলায় জানার তারিখ উল্লেখ না করা প্রথম অভিযোগকে তামাদি-বারিত বলে গণ্য করা হয়েছিল।
কোথায়: ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান (যে কর্মকর্তা টেন্ডার দলিল জারি করেছেন) · সময়: ৭ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে দাখিল; ৫ কর্মদিবসের মধ্যে সিদ্ধান্ত · আইন: সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬-এর ধারা ৩০(১); সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৭৩(১) ও (৪) এবং তফসিল ২; সহজ-সিনেসিস-ভিনসেন জেভি বনাম সিপিটিইউ, 16 SCOB [2022] HCD 25 · কাগজপত্র: লিখিত অভিযোগ, পৌঁছানোর প্রমাণ, যে দলিল থেকে বিষয়টি জানা গেছে
পরামর্শ: প্রথম অনুচ্ছেদেই জানার তারিখ লিখুন এবং দলিলটি সংযুক্ত করুন। পরে দেওয়া তারিখকে পরবর্তী চিন্তা হিসেবে দেখা হয়।
ধাপ ৩ · প্রশাসনিক অভিযোগের স্তরদ্বিতীয় স্তর: ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে অভিযোগ
অসন্তুষ্ট অভিযোগকারী একই অভিযোগ ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে দাখিল করেন। তফসিল ২ অনুযায়ী এর জন্য সময় তিন কর্মদিবস, যা প্রথম অভিযোগ দাখিলের পর পঞ্চম কর্মদিবস থেকে গণনা করা হয়, কোনো জবাবের তারিখ থেকে নয়। ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি বা সদস্য থাকলে অভিযোগটি তিন কর্মদিবসের মধ্যে সচিবের কাছে পাঠাতে হয়; অন্যথায় প্রধানকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সিদ্ধান্ত দিতে হয়। কোনো স্তর সময়মতো সিদ্ধান্ত না দিলে অভিযোগকারী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরবর্তী কর্তৃপক্ষের কাছে যেতে পারেন।
কোথায়: ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান (হোপ) · সময়: নির্ধারিত সময়ের ৩ কর্মদিবসের মধ্যে দাখিল; ৫ কর্মদিবসের মধ্যে সিদ্ধান্ত · আইন: সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৭৩(৫) ও (৬) এবং তফসিল ২ · কাগজপত্র: দ্বিতীয় স্তরের অভিযোগ, প্রথম স্তরের অভিযোগ ও কোনো জবাব থাকলে তার কপি, পৌঁছানোর প্রমাণ
পরামর্শ: প্রথম স্তরে দাখিলের দিনই প্রতিটি স্তরের শেষ তারিখ হিসাব করে রাখুন, এবং জবাব আসুক বা না আসুক, সময়মতো পরের স্তরে যান।
ধাপ ৪ · প্রশাসনিক অভিযোগের স্তরতৃতীয় স্তর: সচিবের কাছে অভিযোগ
তৃতীয় প্রশাসনিক স্তর হলো ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিব। দ্বিতীয় স্তরে দাখিলের পর পঞ্চম কর্মদিবস থেকে গণনা করে তিন কর্মদিবসের মধ্যে অভিযোগ দাখিল করতে হয়। সচিবের হাতে সিদ্ধান্তের জন্য পাঁচ কর্মদিবস থাকে, এবং কারণসহ সিদ্ধান্তের কপি ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটিকে পাঠাতে হয়। অভিযোগ বিচারাধীন থাকাকালে কার্যাদেশের নোটিফিকেশন (notification of award) জারি করা যায় না, তবে মূল্যায়ন ও অনুমোদন চলতে পারে। এই স্তর শেষ হওয়ার পরই কেবল অভিযোগকারী রিভিউ প্যানেলে আপিল করতে পারেন।
কোথায়: মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিব · সময়: নির্ধারিত সময়ের ৩ কর্মদিবসের মধ্যে দাখিল; ৫ কর্মদিবসের মধ্যে সিদ্ধান্ত · আইন: সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৭৩(৭) থেকে (৯) এবং তফসিল ২; সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৭৬(২) · কাগজপত্র: তৃতীয় স্তরের অভিযোগ, আগের অভিযোগ ও জবাবসমূহ, পৌঁছানোর প্রমাণ
পরামর্শ: প্রতিটি স্তরে প্রাপ্তির সিলসহ একটি কাগুজে কপি রাখুন। আদালত অভিযোগ রেজিস্টারই দেখবেন।
ধাপ ৫ · রিভিউ প্যানেলে আপিলরিভিউ প্যানেলে আপিল
সচিবের সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে, অথবা সময়মতো কোনো সিদ্ধান্ত না পেলে, অভিযোগকারী রিভিউ প্যানেলে আপিল করেন। আপিল ও কাগজপত্র "গোপনীয়" চিহ্নিত সিলমোহরকৃত খামে প্যানেলের সভাপতির নামে, অথরিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি অগ্রায়ণপত্রসহ পাঠাতে হয়, সঙ্গে ব্যাংক ড্রাফটে নিবন্ধন ফি ও ফেরতযোগ্য জামানত। কার্যাদেশের নোটিফিকেশন জারি হলে বা চুক্তি সই হয়ে গেলে প্রশাসনিক স্তরগুলো বন্ধ হয়ে যায়, তবে কার্যাদেশ ত্রুটিপূর্ণ হলে সরাসরি রিভিউ প্যানেলে আপিল করা যায়। ফি ও জামানত ছাড়া আপিল প্যানেলের সামনে উপস্থাপিত হয় না।
কোথায়: রিভিউ প্যানেল, বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি · সময়: নির্ধারিত সময়ের ৩ কর্মদিবসের মধ্যে দাখিল · আইন: সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬-এর ধারা ৩০(২) ও (৩); সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৭৩(১৩) এবং তফসিল ২ · কাগজপত্র: সিলমোহরকৃত আপিল পিটিশন, অগ্রায়ণপত্র, ফি ও জামানতের ব্যাংক ড্রাফট, তিন স্তরের সব অভিযোগ ও জবাবের কপি
পরামর্শ: ব্যাংক ড্রাফট আগেই তৈরি রাখুন। তফসিল ২ অনুযায়ী ফি ও জামানত ১০,০০০ টাকা ও ৫০,০০০ টাকা (১ কোটি টাকার নিচে, বা টেন্ডার খোলার আগের অভিযোগ) থেকে ২৫,০০০ টাকা ও ৫ লাখ টাকা (১০ কোটি টাকার ওপরে) পর্যন্ত। একটি ড্রাফট বাদ পড়লে সময়সীমাই হাতছাড়া হয়।
ধাপ ৬ · রিভিউ প্যানেলে আপিলপ্যানেল নির্ধারণ ও কার্যাদেশ স্থগিত
পূর্ণাঙ্গ আপিল পাওয়ার তিন কর্মদিবসের মধ্যে অথরিটি পালাক্রমে একটি প্যানেল বাছাই করে এবং প্যানেলের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত চুক্তিতে না যেতে ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেয়। প্রতিটি প্যানেলে ক্রয় আইন, কারিগরি ক্রয় ও চুক্তি ব্যবস্থাপনার বিশেষজ্ঞ তালিকা থেকে অন্তত তিনজন সদস্য থাকেন, এবং কোনো কর্মরত কর্মকর্তা সদস্য হতে পারেন না। ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান সচিব বা মন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে লিখিত কারণে যদি প্রত্যয়ন করেন যে জনস্বার্থে কাজ চালিয়ে যাওয়া অপরিহার্য, তবে এই স্থগিতাদেশ প্রযোজ্য হয় না; বিচারিক পর্যালোচনা (judicial review) ছাড়া সেই প্রত্যয়নপত্র চূড়ান্ত।
কোথায়: রিভিউ প্যানেল, বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি · সময়: ৩ কর্মদিবস · আইন: সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৭৪ ও ৭৬(১) এবং তফসিল ২; সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬-এর ধারা ৩০(৩) · কাগজপত্র: প্যানেল নির্ধারণ ও কার্যাদেশ স্থগিত করে বিপিপিএ-র চিঠি, জনস্বার্থ প্রত্যয়নপত্র (যদি থাকে)
পরামর্শ: কোনো জনস্বার্থ প্রত্যয়নপত্র থাকলে তার লিখিত কারণগুলো চেয়ে নিন। প্রকৃত কারণ ছাড়া দেওয়া প্রত্যয়নপত্র রিটে চ্যালেঞ্জযোগ্য।
ধাপ ৭ · রিভিউ প্যানেলে আপিলরিভিউ প্যানেলের সিদ্ধান্ত
আপিল পাওয়ার বারো কর্মদিবসের মধ্যে প্যানেলকে লিখিত সিদ্ধান্ত দিতে হয়। প্যানেল আপিল নাকচ করতে পারে, প্রযোজ্য বিধি উল্লেখ করতে পারে, প্রতিকারমূলক ব্যবস্থার নির্দেশ দিতে পারে, চুক্তি কার্যকরকারী কাজ ছাড়া অন্য কোনো নিয়মবহির্ভূত কাজ বাতিল করতে পারে, ক্ষতিপূরণ ও জামানত ফেরতের নির্দেশ দিতে পারে, অথবা ক্রয় সম্পন্ন করার নির্দেশ দিতে পারে। সিদ্ধান্ত হয় সংখ্যাগরিষ্ঠের মতে এবং ক্রয় প্রক্রিয়ার ভেতরে তা চূড়ান্ত। হাইকোর্ট বিভাগ বলেছেন, প্যানেল নিজের মূল্যায়ন দিয়ে মূল মূল্যায়ন প্রতিস্থাপন করতে পারে না, আগে তামাদির প্রশ্ন নিষ্পত্তি করতে হবে, ক্ষতিগ্রস্ত দরদাতার বক্তব্য শুনতে হবে এবং তিন সদস্য নিয়ে বসতে হবে।
কোথায়: রিভিউ প্যানেল, বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি · সময়: ১২ কর্মদিবসের মধ্যে · আইন: সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৭৭(২) এবং তফসিল ২; সফটসিউল প্রাইভেট লিমিটেড বনাম বাংলাদেশ সরকার, 12 SCOB [2019] HCD 205 · কাগজপত্র: লিখিত বক্তব্য, রিভিউ প্যানেলের সিদ্ধান্ত
পরামর্শ: আপিলের কথা জানতে পারলে বিজয়ী দরদাতার উচিত লিখিতভাবে শুনানির সুযোগ চাওয়া। শুনানি থেকে বাদ পড়া পরবর্তী রিটের একটি শক্ত ভিত্তি।
ধাপ ৮ · রিট দায়ের ও অন্তর্বর্তী আদেশরিট পিটিশনের খসড়া তৈরি
প্যানেল বা ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান বেআইনিভাবে কাজ করলে আইনজীবী টেন্ডার বিরোধে রিট মামলার খসড়া করেন। যে ভিত্তিগুলো সবচেয়ে বেশি সফল হয়: যথাযথভাবে গঠিত নয় এমন প্যানেল, প্যানেলের নিজস্ব মূল্যায়ন চাপিয়ে দেওয়া বা ক্ষমতার বাইরে গিয়ে পুনঃদরপত্রের নির্দেশ, তামাদি বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই দেরিতে আসা অভিযোগ গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত দরদাতার বক্তব্য শুনতে অস্বীকার, এবং ভিত্তিহীন জনস্বার্থ প্রত্যয়নপত্র। প্রতিপক্ষ হন ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান, এর প্রধান, মন্ত্রণালয়ের সচিব, অথরিটি, প্যানেলের সভাপতি এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দরদাতা। প্রকাশিত মানদণ্ডের ভেতরে কারিগরি নম্বর নিয়ে দ্বিমত কমই সফল হয়।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ৩-৭ দিন · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক)(আ); রুটস ডেভেলপমেন্টস লি. বনাম সভাপতি, রিভিউ প্যানেল নং ২, রিট পিটিশন নং ৬৬২৪/২০২৪ (১৩ আগস্ট ২০২৫) · কাগজপত্র: পিটিশনের খসড়া ও সংযুক্তি, অভিযোগ ও আপিলের পূর্ণাঙ্গ নথি, রিভিউ প্যানেলের সিদ্ধান্ত, টেন্ডার দলিল ও ই-জিপি রেকর্ড
পরামর্শ: অভিযোগের পুরো ধারাবাহিক নথি সংযুক্ত করুন। প্রতিটি স্তর সময়মতো ব্যবহৃত হয়েছে তা দেখাতে না পারলে পিটিশন সরাসরি খারিজ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ধাপ ৯ · রিট দায়ের ও অন্তর্বর্তী আদেশদাখিল ও মোশন শুনানি
পিটিশনটি হলফনামার মাধ্যমে সত্যায়িত করে রিট শাখায় দাখিল করা হয় এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে নোটিশ জারি করা হয়। মোশন শুনানিতে আইনজীবী নথিতেই স্পষ্ট ত্রুটি দেখান, যেমন মাত্র দুজন প্যানেল সদস্যের সই করা সিদ্ধান্ত। আইন কর্মকর্তা ও প্রতিদ্বন্দ্বী দরদাতা যুক্তি দিতে পারেন যে দরদাতা অভিযোগের পথ এড়িয়ে গেছেন। আইনে নির্ধারিত স্তরগুলো ব্যবহার না করে দায়ের করা টেন্ডার বিরোধে রিট মামলা সাধারণত ব্যর্থ হয়, যেমন ২০২১ সালের পাঠ্যবই ছাপার মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ পিটিশনটি রক্ষণীয় নয় বলে রুল খারিজ করেন।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: দাখিলের ১-১৪ দিনের মধ্যে · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১০২; প্রিয়াংকা প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশনস বনাম বাংলাদেশ সরকার, রিট পিটিশন নং ৬০২২/২০২১ (৯ নভেম্বর ২০২১) · কাগজপত্র: শপথকৃত হলফনামা, ওকালতনামা, পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত (বোর্ড রেজল্যুশন), অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে নোটিশ জারির প্রাপ্তিস্বীকার
পরামর্শ: মোশনের আগেই বিজয়ী দরদাতাকে নোটিশ দিন। তাকে না জানিয়ে পাওয়া স্থগিতাদেশ দ্রুতই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।
ধাপ ১০ · রিট দায়ের ও অন্তর্বর্তী আদেশরুল নিশি ও কার্যাদেশের অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ
সন্তুষ্ট হলে বেঞ্চ রুল নিশি জারি করেন এবং প্যানেলের সিদ্ধান্ত, কার্যাদেশের নোটিফিকেশন বা টেন্ডারের পরবর্তী কার্যক্রম স্থগিত করতে পারেন, অথবা স্থিতাবস্থার নির্দেশ দিতে পারেন। সরকারি ক্রয় সাধারণত উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হওয়ায়, উন্নয়নকাজ বা জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন অন্তর্বর্তী আদেশের আগে অনুচ্ছেদ ১০২(৪) অনুযায়ী অ্যাটর্নি জেনারেলকে যুক্তিসংগত নোটিশ ও শুনানির সুযোগ দিতে হয়। টেন্ডার মামলার অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ প্রায়ই কয়েক দিনের মধ্যে চেম্বার জজের কাছে চ্যালেঞ্জ হয়, তাই পিটিশনারের উচিত একই সঙ্গে দ্রুত চূড়ান্ত শুনানির আবেদন করা।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: মোশনের দিনই · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১০২(২) ও ১০২(৪) · কাগজপত্র: স্থগিতাদেশ বা স্থিতাবস্থার নির্দেশসহ রুল নিশি জারির আদেশ
পরামর্শ: প্রকল্প জরুরি হলে ব্যাপক স্থগিতাদেশের বদলে স্থিতাবস্থা চান। সীমিত আদেশ টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি।
ধাপ ১১ · রিট দায়ের ও অন্তর্বর্তী আদেশক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের ওপর আদেশ জারি
আইনজীবী ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান, এর প্রধান, সচিব ও অথরিটির কাছে সার্টিফায়েড কপি পৌঁছে দেন, প্রাপ্তির সিল সংরক্ষণ করেন এবং আদেশ লঙ্ঘন করে কোনো চুক্তি সই বা কাজ শুরু না করতে লিখিত অনুরোধ জানান। বিরোধ ডিবারমেন্ট নিয়ে হলে, অথরিটির ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখের পরিপত্র অনুযায়ী ঠিকাদারকে আদালতের আদেশ ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানে জমা দিতে হয়, যা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের অনুমোদনের জন্য ই-জিপি ডিবারমেন্ট মডিউল হালনাগাদ করে। টেন্ডারের বৈধতার মেয়াদ শেষ হওয়ার উপক্রম হলে দরদাতার উচিত মেয়াদ বৃদ্ধিতে সম্মত হওয়া, যাতে তিনি মূল্যায়নে থাকেন।
কোথায়: ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান (যে কর্মকর্তা টেন্ডার দলিল জারি করেছেন) · সময়: ১-৫ দিন · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১১২; বিপিপিএ-র ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখের পরিপত্র (ই-জিপি ডিবারমেন্ট হালনাগাদ) · কাগজপত্র: আদেশের সার্টিফায়েড কপি, প্রাপ্তির সিলসহ সংযুক্তিপত্র, টেন্ডারের বৈধতার মেয়াদ বৃদ্ধি (অনুরোধ করা হলে)
পরামর্শ: বৈধতার মেয়াদ বাড়াতে অস্বীকার করলে আপনি মূল্যায়ন থেকে বাদ পড়বেন। মামলায় জিতেও টেন্ডার হারাতে পারেন।
ধাপ ১২ · রুল শুনানি, রায় ও বাস্তবায়নজবাবি হলফনামা ও দ্রুত শুনানি
ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান, অথরিটি ও প্রতিদ্বন্দ্বী দরদাতা জবাবি হলফনামা দাখিল করে মূল্যায়ন, অভিযোগের নথি এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি, যেমন শেষ হয়ে আসা জ্বালানি বা ওষুধ সরবরাহ, ব্যাখ্যা করেন। পিটিশনার জবাব দেন। ক্রয়-সংক্রান্ত রুল প্রায়ই কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের মধ্যে শুনানি হয়, কারণ স্থগিতাদেশ বিবেচনার সময় আপিল বিভাগ প্রায়ই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্ট বিভাগকে নির্দেশ দেন। বেঞ্চ মূল্যায়ন প্রতিবেদন ও প্যানেলের নথি তলব করতে পারেন।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ২ সপ্তাহ-৬ মাস · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১০২; বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (হাইকোর্ট বিভাগ) রুলস, ১৯৭৩-এর অধ্যায় ১১ক · কাগজপত্র: জবাবি হলফনামা (affidavit-in-opposition), প্রত্যুত্তর হলফনামা (affidavit-in-reply), মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদন, রিভিউ প্যানেলের নথি
পরামর্শ: মূল্যায়নের অঙ্ক নিয়ে বিরোধ থাকলে ই-জিপি অডিট ট্রেইল তলবের আবেদন করুন। সিস্টেম প্রতিটি পরিবর্তন রেকর্ড করে।
ধাপ ১৩ · রুল শুনানি, রায় ও বাস্তবায়নচূড়ান্ত শুনানি: রুল চূড়ান্ত (absolute) বা খারিজ (discharged)
বেঞ্চ সিদ্ধান্ত নেন প্যানেল বা ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান আইন ও বিধিমালার মধ্যে থেকে কাজ করেছে কি না। রুল চূড়ান্ত হলে আদালত সিদ্ধান্তটিকে আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়া করা হয়েছে বলে ঘোষণা করেন এবং এর ফলে জারি হওয়া কার্যাদেশের নোটিফিকেশন বাতিল করতে পারেন। সফল টেন্ডার বিরোধে রিট মামলাতেও পুনঃদরপত্র না-ও হতে পারে: ২০২৪ সালের মাতারবাড়ী কয়লা মামলায় আদালত প্যানেলের নির্দেশকে টেকসই নয় বলে পেলেও, বিদ্যুৎ সরবরাহের ঝুঁকি বিবেচনায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ক্রয়কারী কোম্পানির ওপর ছেড়ে দেন। রুল খারিজ হলে ক্রয় প্রক্রিয়া এগিয়ে চলে।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৩ শুনানি দিবস; রায় একই দিন বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক)(আ); কনসোর্টিয়াম অব বসুন্ধরা মাল্টি-ট্রেডিং কোম্পানি লি. বনাম বাংলাদেশ সরকার, রিট পিটিশন নং ৮৬৬৪/২০২৪ (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪) · কাগজপত্র: রায়, সার্টিফায়েড কপির আবেদন
পরামর্শ: জনপ্রয়োজন আছে কি নেই, তার প্রমাণ আগেভাগেই আদালতে দিন। আইন স্পষ্ট হলেও প্রতিকার নির্ধারণে এটি প্রভাব ফেলে।
ধাপ ১৪ · রুল শুনানি, রায় ও বাস্তবায়নক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক রায় বাস্তবায়ন
বিজয়ী পক্ষ রায়ের সার্টিফায়েড কপি ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ও অথরিটির কাছে পৌঁছে দেন এবং আদালতের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন: কার্যাদেশ নিয়ে এগোনো, আইনানুগভাবে নতুন মূল্যায়ন, অথবা যথাযথভাবে গঠিত প্যানেলের সামনে আপিল উপস্থাপন। অনুচ্ছেদ ১১২ সরকারি কর্তৃপক্ষকে সুপ্রিম কোর্টের সহায়তায় কাজ করতে বাধ্য করে। চুক্তি-পরবর্তী বিরোধ, যেমন কাজের পরিবর্তন, বিলম্ব বা চুক্তি বাতিল, চুক্তিগত বিষয় এবং সাধারণত সালিস বা দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত, রিট এখতিয়ারের নয়।
কোথায়: ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান (যে কর্মকর্তা টেন্ডার দলিল জারি করেছেন) · সময়: ১-৮ সপ্তাহ · আইন: বাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১১২; বাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১০৮ (আদালত অবমাননা) · কাগজপত্র: রায়ের সার্টিফায়েড কপি, রায় বাস্তবায়নের দাবিপত্র, পৌঁছানোর প্রমাণ
পরামর্শ: প্রতিষ্ঠান রায় উপেক্ষা করলে আদালত অবমাননার পিটিশন করা যায়। প্রাপ্তির সিল সংরক্ষণ করুন।
যদি এমন হয়…? টেন্ডার বিরোধে রিট মামলা যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
হাইকোর্ট বিভাগ আপিলটি রিভিউ প্যানেলে ফেরত পাঠালে কী হয়?
- 1রিভিউ প্যানেল, বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি
যথাযথভাবে গঠিত প্যানেলের নতুন সিদ্ধান্ত
প্যানেলের সিদ্ধান্ত বাতিল (void) হলে, যেমন মাত্র দুজন সদস্য সই করলে, হাইকোর্ট বিভাগ সেটি এবং এর ফলে জারি হওয়া কার্যাদেশের নোটিফিকেশন বাতিল করেন এবং যথাযথভাবে গঠিত তিন সদস্যের প্যানেলকে আপিল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন, প্রায়ই সাত কর্মদিবসের মধ্যে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের একটি মামলায় এমনটি হয়েছিল। নতুন প্যানেল পক্ষদের শুনানি করে বিধি ৭৭-এর ক্ষমতার মধ্যে থেকে সিদ্ধান্ত দেয়, প্রথমেই তামাদির প্রশ্ন নিষ্পত্তি করে।
১-৪ সপ্তাহসরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৭৪ ও ৭৭মিম ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং লি. বনাম বাংলাদেশ সরকার, রিট পিটিশন নং ৮৫০১/২০২৩ (৬ ডিসেম্বর ২০২৩) - 2হাইকোর্ট বিভাগ
আবার হাইকোর্ট বিভাগে
নতুন প্যানেলের সিদ্ধান্ত একটি নতুন সিদ্ধান্ত, তাই এতে সংক্ষুব্ধ পক্ষ নতুন রিট পিটিশন দায়ের করে, অথবা আদালত আগের মামলা জীবিত রাখলে সেখানেই আবেদন করে, আবার হাইকোর্ট বিভাগে ফিরতে পারেন। দ্বিতীয় শুনানি সাধারণত এই প্রশ্নে কেন্দ্রীভূত হয় যে পুনর্গঠিত প্যানেল তার ক্ষমতার মধ্যে ছিল কি না এবং প্রত্যেক দরদাতাকে শুনানির সুযোগ দিয়েছে কি না।
১-৬ মাসবাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক)(আ)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: একটি বৈধ প্যানেল আবার আপিল নিষ্পত্তি করে, এবং চ্যালেঞ্জ হলে হাইকোর্ট বিভাগ আবার তা পর্যালোচনা করেন।
পরাজিত পক্ষ আপিল বিভাগে গেলে কী হয়?
- 1চেম্বার জজ, আপিল বিভাগ
চেম্বার জজের কাছে স্থগিতাদেশের আবেদন
ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান, সরকার বা প্রতিদ্বন্দ্বী দরদাতা প্রায়ই হাইকোর্ট বিভাগের অন্তর্বর্তী বা চূড়ান্ত আদেশ স্থগিত করতে চেম্বার জজের কাছে আবেদন করেন। মাতারবাড়ী কয়লা টেন্ডারে চেম্বার জজ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগের স্থগিতাদেশ স্থগিত করেন এবং গুণাগুণের ভিত্তিতে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন; অন্য মামলায় চেম্বার জজ স্থিতাবস্থার আদেশ দিয়ে নিষ্পত্তির সময় বেঁধে দিয়েছেন।
১-৪ সপ্তাহবাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১০৩বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮ (চেম্বার জজ) - 2সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
লিভ টু আপিলের পিটিশন ও আপিল
রিটের চূড়ান্ত রায় চ্যালেঞ্জ করা হয় দেওয়ানি লিভ টু আপিলের পিটিশনের (civil petition for leave to appeal) মাধ্যমে, সাধারণত ষাট দিনের মধ্যে, যদি না হাইকোর্ট বিভাগ সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জড়িত বলে সার্টিফিকেট দেন। প্যানেলের ক্ষমতার পরিধির মতো গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্নে লিভ মঞ্জুর হয়। লিভ মঞ্জুর হলে আইনগত প্রশ্নে আপিলের শুনানি হয় এবং আপিল বিভাগ অনুচ্ছেদ ১০৪-এর অধীনে পূর্ণ ন্যায়বিচার করতে পারেন।
৩-১৮ মাসবাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১০৩(২) ও (৩)আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ১৩ বিধি ১বাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১০৪
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগ হাইকোর্ট বিভাগের রায় বহাল রাখেন, সংশোধন করেন বা উল্টে দেন, এবং অনুচ্ছেদ ১১১ অনুযায়ী সেই সিদ্ধান্ত সব আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।
আদালত কি নিজের রায় পুনর্বিবেচনা করতে পারেন?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগে রিভিউ
দেওয়ানি কার্যবিধির (CPC) আদেশ ৪৭-এর নীতি প্রয়োগ করে কোনো পক্ষ কেবল নথিতে স্পষ্ট ভুল অথবা আগে হাজির করা যায়নি এমন নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যের ভিত্তিতে রিট বেঞ্চকে রায় রিভিউ করতে বলতে পারেন। রিভিউ মূল্যায়নের নতুন শুনানি নয়। রিভিউ প্যানেলের সিদ্ধান্ত প্যানেল নিজে রিভিউ করে না; ক্রয় প্রক্রিয়ার ভেতরে সেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।
১-৬ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর আদেশ ৪৭ বিধি ১সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৭৭ - 2সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিল বিভাগে রিভিউ
অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীনে কোনো পক্ষ রায়ের ত্রিশ দিনের মধ্যে আপিল বিভাগকে তাঁর নিজের রায় রিভিউ করতে বলতে পারেন, তবে নথিতে স্পষ্ট ভুলের মতো সীমিত কারণে। পিটিশনের সঙ্গে একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেটের যুক্তিসহ সার্টিফিকেট এবং ১০,০০০ টাকা নগদ জামানত লাগে, আর রিভিউ কেবল একবারই করা যায়। টেন্ডার মামলায় এটি কমই কাজে আসে, কারণ ততদিনে সাধারণত চুক্তি অনেক দূর এগিয়ে যায়।
৩-১২ মাসবাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১০৫আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ২, ৪, ৫, ৮ ও ৯
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রিভিউ খারিজ হয়, অথবা নির্দিষ্ট ভুলটি সংশোধন করে রায় শুদ্ধ করা হয়।
বেঞ্চের দুই বিচারপতি একমত না হলে কী হয়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
তৃতীয় বিচারপতির কাছে রেফারেন্স
রিট বেঞ্চ সাধারণত দুই বিচারপতির হয়। তাঁরা ভিন্ন রায় দিলে প্রধান বিচারপতি বিষয়টি তৃতীয় একজন বিচারপতির কাছে পাঠান, এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের মতই হাইকোর্ট বিভাগের সিদ্ধান্ত হয়। টেন্ডার মামলায় আদালত ভিন্ন নির্দেশ না দিলে তৃতীয় বিচারপতির সিদ্ধান্ত পর্যন্ত অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ বা স্থিতাবস্থার আদেশ সাধারণত বহাল থাকে। এরপর যেকোনো পক্ষ আপিল বিভাগে লিভ চাইতে পারেন।
২-৯ মাসবাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১০৭(৩)শাকওয়াত হোসেন ভূঁইয়া বনাম বাংলাদেশ, 12 SCOB [2019] HCD 39
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: তৃতীয় বিচারপতি অচলাবস্থা নিরসন করেন, এবং মামলা আপিল বিভাগ পর্যন্ত যেতে পারে।
রিভিউ প্যানেল বা রিটের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কি রিভিশন চলে?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
রিভিশন নেই; এর জায়গায় রিট ও লিভ
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫-এর অধীনে দেওয়ানি রিভিশন কেবল অধস্তন দেওয়ানি আদালতের বিরুদ্ধে চলে। রিভিউ প্যানেল একটি প্রশাসনিক সংস্থা এবং ক্রয় প্রক্রিয়ার ভেতরে এর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, তাই এর বিরুদ্ধে কোনো রিভিশন বা আর কোনো আপিল চলে না; একমাত্র পথ হাইকোর্ট বিভাগে রিট। রিটের রায় আবার কেবল লিভ নিয়ে আপিল বিভাগে চ্যালেঞ্জ করা যায়। চুক্তি-পরবর্তী বিরোধ যায় সালিসে বা দেওয়ানি মামলায়।
সিদ্ধান্তের পরপরইদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৭৭বাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১০২ ও অনুচ্ছেদ ১০৩
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: প্যানেলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ রিভিশনে নয়, বরং রিট এবং তারপর লিভের মাধ্যমে ওপরে যায়।
দরদাতাকে ডিবার (অযোগ্য ঘোষণা) করা হলে কী হয়?
- 1ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান (হোপ)
ডিবারমেন্ট ও ডিবারমেন্ট রিভিউ বোর্ড
২০২৫ সালের বিধিমালার বিধি ১৪৯ অনুযায়ী, দুর্নীতিমূলক, প্রতারণামূলক, যোগসাজশমূলক, জবরদস্তিমূলক বা বাধাদানমূলক আচরণের জন্য ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান কোনো ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সরকারি ক্রয়ে অযোগ্য ঘোষণা করতে পারেন এবং এর মধ্যে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত (suspend) রাখতে পারেন; বিধিমালায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডিবারমেন্টের সিদ্ধান্ত না হলে সাময়িক বরখাস্ত বাতিল হয়ে যায়। আপিল যায় ডিবারমেন্ট রিভিউ বোর্ডে, রিভিউ প্যানেলে নয়, এবং কেবল তারপর, সেই সিদ্ধান্ত বেআইনি হলে, রিটের মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগে।
১-৩ মাসসরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১৪৯বাংলাদেশের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ ১০২
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: বোর্ড ডিবারমেন্ট বহাল রাখে বা তুলে নেয়, এবং যেকোনো বেআইনি সিদ্ধান্ত রিটের মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগে নেওয়া যায়।
টেন্ডার বিরোধে রিট মামলা যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
টেন্ডার বিরোধে রিট মামলা এমন একটি সিঁড়ির শীর্ষে, যার শুরু ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের ভেতরে। চতুর্থ স্তরে লিখিত অভিযোগ যায় টেন্ডার দলিল জারিকারী কর্মকর্তার কাছে, তারপর ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে এবং তারপর মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে; প্রত্যেকের হাতে সিদ্ধান্তের জন্য পাঁচ কর্মদিবস। এরপর বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির রিভিউ প্যানেল, একটি বিশেষজ্ঞ আপিল সংস্থা, যাকে বারো কর্মদিবসের মধ্যে সিদ্ধান্ত দিতে হয়; চুক্তিমূল্য কেবল এর ফি ও জামানতকে প্রভাবিত করে, ফোরামকে নয়।
ক্রয় প্রক্রিয়ার ভেতরে এর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, তাই পরবর্তী ও একমাত্র ধাপ অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগ, যা দরপত্রে নতুন করে নম্বর না দিয়ে হলফনামার ভিত্তিতে বৈধতা, এখতিয়ার, তামাদি ও ন্যায্যতা পর্যালোচনা করে। কোনো রিভিশন বা আদালতের ভেতরের আপিল নেই। হাইকোর্ট বিভাগ থেকে পরাজিত পক্ষ লিভ নিয়ে আপিল বিভাগে যায়, যেখানে আইনগত প্রশ্ন নতুন করে শোনা হয় এবং স্থগিতাদেশ প্রায়ই কয়েক সপ্তাহে নিষ্পত্তি হয়, আর আপিল বিভাগ অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীনে নিজের রায় রিভিউ করতে পারেন।
- আপিল বিভাগচেম্বার জজ, আপিল বিভাগ · সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- আপিল পর্যায়রিভিউ প্যানেল, বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি
- শুরু · আদালতের বাইরেআইনজীবীর চেম্বার · ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান (যে কর্মকর্তা টেন্ডার দলিল জারি করেছেন) · ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান (হোপ) · মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিব
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
রিভিউ প্যানেল, বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট কর্তৃপক্ষ (বিপিপিএ)
বিপিপিএ ভবন, পরিকল্পনা কমিশন চত্বর, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা-১২০৭ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের ভেতরের অভিযোগের ধাপগুলো শেষ হওয়ার পর সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬-এর অধীন ক্রয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দরদাতার আপিল শুনানি করে।
বিপিপিএ (BPPA, আগে সিপিটিইউ) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) অংশ। ঠিকানাটি বিপিপিএর সরকারি যোগাযোগের ঠিকানা; রিভিউ প্যানেলের নিজস্ব শুনানিকক্ষ আলাদাভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। বিপিপিএ তার ওয়েবসাইটে রিভিউ প্যানেল নির্দেশিকা ও রিভিউ আপিলের আবেদন ফরম (২৪ জুন ২০২৬ হালনাগাদ) প্রকাশ করে। ফোন +৮৮ ০২ ৪৮১১৯৪০০-১।
আইনজীবীর চেম্বার
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান (যে কর্মকর্তা টেন্ডার দলিল জারি করেছেন)
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান (হোপ)
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিব
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান (Procuring entity)
- যে সরকারি সংস্থা ক্রয় পরিচালনা করে, যেমন মন্ত্রণালয়ের কোনো বিভাগ, সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষ বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান।
- ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান (HOPE)
- ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান; অভিযোগ প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় স্তর এবং যিনি জনস্বার্থ প্রত্যয়নপত্র দিতে পারেন।
- রিভিউ প্যানেল (Review Panel)
- ক্রয়-সংক্রান্ত আপিল নিষ্পত্তির জন্য বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির অধীনে গঠিত অন্তত তিনজন স্বাধীন বিশেষজ্ঞের প্যানেল।
- বিপিপিএ (BPPA)
- বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি, সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) উত্তরসূরি।
- কার্যাদেশের নোটিফিকেশন (Notification of award)
- সফল দরদাতাকে তার দরপত্র গৃহীত হওয়ার আনুষ্ঠানিক নোটিশ; এরপর প্রশাসনিক অভিযোগের স্তরগুলো বন্ধ হয়ে যায়।
- জনস্বার্থ প্রত্যয়নপত্র (Public interest certificate)
- জনস্বার্থে ক্রয় কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া অপরিহার্য মর্মে প্রত্যয়নপত্র, যা কার্যাদেশের স্বয়ংক্রিয় স্থগিতাদেশ তুলে নেয়।
- এখতিয়ারবিহীন ফোরাম (Coram non judice)
- আইনানুগভাবে গঠিত নয় এমন সংস্থার সিদ্ধান্ত, যেমন দুই সদস্যের রিভিউ প্যানেল, যা বাতিল (void)।
- ডিবারমেন্ট বা অযোগ্য ঘোষণা (Debarment)
- কোনো ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সরকারি ক্রয়ে অযোগ্য ঘোষণা, যার বিরুদ্ধে ডিবারমেন্ট রিভিউ বোর্ডে আপিল করা যায়।
টেন্ডার বিরোধে রিট মামলা: সাধারণ প্রশ্ন
আগে অভিযোগ না করে কি টেন্ডার নিয়ে রিট করা যায়?
অভিযোগ করার সময়সীমা কত দিন?
রিভিউ প্যানেল কি আমাকে কার্যাদেশ দিতে পারে?
আপিল করলে কি কার্যাদেশ আটকে যায়?
হাইকোর্ট বিভাগ কি জরুরি সরকারি প্রকল্প বন্ধ করে দেবেন?
কোন কোন কারণে টেন্ডার বিরোধে রিট মামলায় জেতা যায়?
বিজয়ী দরদাতাও কি রিট করতে পারেন?
টেন্ডার বিরোধে রিট মামলা নিষ্পত্তিতে কত সময় লাগে?
আইন ও উৎস
- Public Procurement Rules 2025 (Part 12, rules 72-77, rule 149, Schedule 2) — Bangladesh Gazette, 28 September 2025, via BPPA
- Public Procurement (Amendment) Act 2026 (Act No 41 of 2026) — Bangladesh Gazette, 10 April 2026
- Public Procurement Act 2006 with amendments (ss.29 and 30) — BPPA
- BPPA circular, 2 September 2025 — Updating e-GP debarment information after court orders
- High Court Division, Shohoz-Synesis-Vincen JV v CPTU, 16 SCOB [2022] HCD 25
- High Court Division, Softesule Private Limited v Government of Bangladesh, 12 SCOB [2019] HCD 205
- High Court Division, Priyanka Printing and Publications v Government of Bangladesh, Writ Petition No 6022 of 2021
- High Court Division, Mim Development Engineering Ltd v Government of Bangladesh, Writ Petition No 8501 of 2023
- High Court Division, Consortium of Bashundhara Multi-Trading Company Ltd v Government of Bangladesh, Writ Petition No 8664 of 2024
- High Court Division, Roots Developments Ltd v Chairperson, Review Panel No 2, Writ Petition No 6624 of 2024
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।