হেবিয়াস কর্পাস রিট: বাংলাদেশে পুরো প্রক্রিয়া, ধাপে ধাপে
বাংলাদেশে হেবিয়াস কর্পাস রিট (habeas corpus)-এর মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তি হাইকোর্ট বিভাগের কাছে প্রার্থনা করতে পারেন যেন আটক কোনো ব্যক্তিকে আদালতের সামনে হাজির করা হয় এবং আটক রাখার আইনগত কর্তৃত্ব না থাকলে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। এটি চলে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২(২)(খ)(অ)-এর অধীনে, আর সাধারণ, অ-নিবর্তনমূলক হেফাজতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ফৌজদারি কার্যবিধির (CrPC) ধারা ৪৯১; বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর অধীনে নিবর্তনমূলক আটকের (preventive detention) বিরুদ্ধে এটিই প্রধান রক্ষাকবচ।
সাধারণত একটি মামলা জরুরি মেনশন থেকে রুল, সরকারের জবাব, শুনানি ও মুক্তির আদেশের দিকে এগোয়, এবং আপিল বিভাগে অনুমতির আবেদনের সম্ভাবনা থাকে।
- কোথা থেকে শুরু
- হাইকোর্ট বিভাগ, বিশেষ মূল (রিট) এখতিয়ার, হেবিয়াস কর্পাস বিষয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি ডিভিশন বেঞ্চে
- মূল আইন
- সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৩১, ৩২, ৩৩, ১০২(২)(খ)(অ), ১০৩, ১০৫; ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫৪, ৬১, ১৬৭, ৪৯১; বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর…
- সাধারণ সময়কাল
- ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক সময়সীমা: দায়েরের কয়েক দিনের মধ্যে রুল জারি; চূড়ান্ত শুনানি সাধারণত ২ সপ্তাহ…
- কে মামলা করতে পারেন
- যেকোনো ব্যক্তি, সাধারণত আটক ব্যক্তির মা-বাবা, স্বামী/স্ত্রী, সন্তান বা ভাইবোন। অনুচ্ছেদ ১০২(২)(খ)(অ) অনুযায়ী…
হেবিয়াস কর্পাস রিট: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · কেন আটক রাখা হয়েছে তা জানাআটক ব্যক্তির অবস্থান ও আইনগত ভিত্তি খুঁজে বের করা
পরিবার প্রথমে খুঁজে বের করে ব্যক্তিটি কোথায় আছেন এবং কোন ভিত্তিতে। এর উত্তরই পথ ঠিক করে দেয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪-এর অধীনে পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তারের পর অনুচ্ছেদ ৩৩(২) ও ধারা ৬১ অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে। কোনো ফৌজদারি মামলায় আটক ব্যক্তি সাধারণত হেবিয়াস কর্পাস নয়, জামিনের মাধ্যমে মুক্তি পান। নিবর্তনমূলক আটক ভিন্ন: এতে বিচার হয় না, এবং ব্যক্তিকে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৩-এর অধীনে আটকাদেশে রাখা হয়। অস্বীকৃত হেফাজত, অর্থাৎ যেখানে সংস্থাগুলো কাউকে আটক রাখার কথা অস্বীকার করে, বাংলাদেশে হেবিয়াস কর্পাস রিট-এর জন্য সবচেয়ে জরুরি পরিস্থিতি।
কোথায়: থানা / আটককারী সংস্থা · সময়: কয়েক ঘণ্টা থেকে ২ দিন · আইন: সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৩৩(১)-(২); ফৌজদারি কার্যবিধি-এর ধারা ৫৪, ৬১; বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৩ · কাগজপত্র: সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলে তার কপি, গ্রেপ্তারকারী কর্মকর্তাদের নাম, গ্রেপ্তারের সময় ও স্থান
পরামর্শ: সময়, গাড়ি, পোশাক ও সাক্ষীদের কথা সঙ্গে সঙ্গে লিখে রাখুন; সংস্থা হেফাজত অস্বীকার করলে এই তথ্যগুলোই পিটিশনের ভিত্তি হয়।
ধাপ ২ · কেন আটক রাখা হয়েছে তা জানাম্যাজিস্ট্রেট আদালতের রেকর্ড যাচাই
ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করা হয়ে থাকলে আইনজীবী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের রেকর্ড যাচাই করেন: ফরোয়ার্ডিং প্রতিবেদন, ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৭-এর অধীনে কোনো রিমান্ড আদেশ, এবং ব্যক্তিকে অন্য কোনো মামলায় 'শ্যোন অ্যারেস্ট' দেখানো হয়েছে কি না। ২০২৫ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধনের পর পুলিশ রিমান্ড মোট ১৫ দিনের বেশি হতে পারে না, এবং ধারা ১৬৭ক অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট ব্যক্তিকে হাজির করে শুনানির পরই কেবল শ্যোন অ্যারেস্টের অনুমতি দিতে পারেন, আর গ্রেপ্তারটি যদি কোনো নিবর্তনমূলক আটক আইনে আটক রাখার উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকে, তবে বিচারিক হেফাজত নামঞ্জুর করতে হবে। বাংলাদেশ বনাম ব্লাস্ট (২০১৬) মামলাও গ্রেপ্তার ও রিমান্ড বিষয়ে বাধ্যতামূলক নির্দেশিকা দিয়েছে।
কখনো কখনো জামিন মঞ্জুরের ঠিক পরেই আটকাদেশ দেওয়া হয়, তাই আইনজীবী ফৌজদারি রেকর্ড ও কারাগারের রেজিস্টার — দুটিই যাচাই করেন।
কোথায়: মুখ্য মহানগর হাকিম (CMM) আদালত · সময়: ১-৩ দিন · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধি-এর ধারা ১৬৭; ফৌজদারি কার্যবিধি-এর ধারা ১৬৭ক (ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ২০২৬ দ্বারা সন্নিবেশিত, ১০ আগস্ট ২০২৫ থেকে কার্যকর); বাংলাদেশ বনাম ব্লাস্ট, ৮ SCOB [২০১৬] AD ১ · কাগজপত্র: ফরোয়ার্ডিং প্রতিবেদন, রিমান্ড বা হেফাজতের আদেশ, আদেশনামার সার্টিফায়েড কপি
পরামর্শ: ব্যক্তি সাধারণ কোনো ফৌজদারি মামলায় আটক থাকলে আগে জামিন চান; বৈধ রিমান্ড বা হেফাজতের আদেশকে হেবিয়াস কর্পাস কদাচিৎ অগ্রাহ্য করে।
ধাপ ৩ · কেন আটক রাখা হয়েছে তা জানাআটকাদেশ ও আটকের কারণ সংগ্রহ
নিবর্তনমূলক আটকের ক্ষেত্রে আইনজীবী আটকাদেশটি সংগ্রহ করেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিশেষ ক্ষমতা আইনের ধারা ৩(২)-এর অধীনে নির্দিষ্ট ধরনের ক্ষতিকর কাজের (prejudicial act) জন্য আটকের আদেশ দিতে পারেন, তবে সরকার অনুমোদন না করলে আদেশটি ৩০ দিন পর বাতিল হয়ে যায়। ধারা ৮(২) অনুযায়ী আটকের ১৫ দিনের মধ্যে আটক ব্যক্তিকে আটকের কারণ জানাতে হবে এবং লিখিত প্রতিনিধিত্ব (representation) দাখিলের অধিকারের কথা জানাতে হবে। পরিবার সাধারণত কারাগার বা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে আদেশটি পায়। অস্পষ্ট কারণ, বা এমন কারণ যা কেবল একটি বিচারাধীন ফৌজদারি মামলার পুনরাবৃত্তি, সাধারণত চ্যালেঞ্জের ভিত্তি হয়।
কোথায়: জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (জেলা প্রশাসকের কার্যালয়) · সময়: ১-১৫ দিন · আইন: বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৩(২)-(৩); বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৮(১)-(২); সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৩৩(৫) · কাগজপত্র: আটকাদেশ, আটকের কারণ, সরকারের অনুমোদন বা মেয়াদ বৃদ্ধির আদেশ
পরামর্শ: আটকের কারণের জন্য অপেক্ষা করে দায়ের পিছিয়ে দেবেন না; কেবল আটকাদেশের ভিত্তিতেই পিটিশন করা যায় এবং পরে তা সংশোধন করা যায়।
ধাপ ৪ · পিটিশন প্রস্তুত ও উপস্থাপনপিটিশনের খসড়া ও হলফনামা সম্পাদন
আবেদনকারী হিসেবে আত্মীয় অনুচ্ছেদ ১০২(২)(খ)(অ)-এর অধীনে রিট পিটিশনের সমর্থনে হলফনামা (affidavit) সম্পাদন করেন। এতে উল্লেখ থাকে আটক ব্যক্তি কে, কখন ও কীভাবে তাঁকে নেওয়া হয়েছে, কোথায় রাখা হয়েছে, কোনো আটকাদেশ থাকলে তা, এবং কেন হেফাজতের আইনগত কর্তৃত্ব নেই বা তা বেআইনি পন্থায় চলছে। পিটিশনে প্রতিপক্ষ করা হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক বা সংশ্লিষ্ট সংস্থাপ্রধান, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং কারা তত্ত্বাবধায়ককে। প্রার্থনা করা হয় রুল, আটক ব্যক্তিকে হাজির করার আদেশ এবং মুক্তি বা হাজিরের অন্তর্বর্তী নির্দেশনা।
কোথায়: অ্যাডভোকেটের চেম্বার · সময়: ১-২ দিন · আইন: সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২(২)(খ)(অ); ফৌজদারি কার্যবিধি-এর ধারা ৪৯১(১)(ক)-(খ) (অ-নিবর্তনমূলক হেফাজত) · কাগজপত্র: রিট পিটিশন, হলফনামা, সংযুক্ত আটকাদেশ ও আটকের কারণ, সম্পর্কের প্রমাণ (জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি)
পরামর্শ: ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯১ কেবল অ-নিবর্তনমূলক হেফাজতের জন্য ব্যবহার করুন; ধারা ৪৯১(৩) নিবর্তনমূলক আটককে বাদ দেয়, তাই বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীনে করতে হবে।
ধাপ ৫ · পিটিশন প্রস্তুত ও উপস্থাপনরিট শাখায় দায়ের
পিটিশনটি কোর্ট ফি, ওকালতনামা ও কপিসহ হাইকোর্ট বিভাগের রিট শাখায় দায়ের করা হয়, এবং সরকার প্রতিপক্ষ হওয়ায় অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে একটি কপি পৌঁছে দেওয়া হয়। শাখাটি একটি রিট পিটিশন নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করে। পিটিশনটি যেতে হবে এমন ডিভিশন বেঞ্চে, যাকে প্রধান বিচারপতি হেবিয়াস কর্পাস বা নিবর্তনমূলক আটক বিষয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। ভুল বেঞ্চে দায়ের করলে কয়েক দিন নষ্ট হয়, তাই আইনজীবী দায়েরের আগে সর্বশেষ কার্যতালিকা ও বেঞ্চের দায়িত্ব-তালিকা দেখে নেন।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: একই দিন থেকে ২ দিন · আইন: সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২; সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৭(৩) (বেঞ্চ গঠন) · কাগজপত্র: কপিসহ দায়েরকৃত পিটিশন, ওকালতনামা, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের প্রাপ্তিরসিদ
পরামর্শ: মেনশনের আগে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে কপি পৌঁছে দিন; বেঞ্চ প্রায়ই নোটিশ জারির প্রমাণ চায়।
ধাপ ৬ · পিটিশন প্রস্তুত ও উপস্থাপনবেঞ্চের সামনে জরুরি মেনশন
ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্ন জড়িত থাকায় আইনজীবী জরুরি তালিকাভুক্তির জন্য বিষয়টি মেনশন (mention) করেন, প্রায়ই একই দিন বা পরের দিন। বেঞ্চ দেখে পিটিশনে বেআইনি হেফাজতের প্রাথমিক (prima facie) মামলা আছে কি না, এবং ব্যক্তিটি আটক আছেন কি না ও কোন কর্তৃত্বে, সে বিষয়ে ডেপুটি বা সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য শোনে। কোনো সংস্থা হেফাজত অস্বীকার করলে বেঞ্চ সঙ্গে সঙ্গে তাদের প্রতিবেদন দাখিল বা ব্যক্তিকে হাজির করার নির্দেশ দিতে পারে। জরুরি মেনশনে কেবল শুনানির সুযোগ মেলে; মূল বিষয়ের নিষ্পত্তি পরে হয়।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৩ দিন · আইন: সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২(২)(খ)(অ); মেনশন বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগের চর্চা · কাগজপত্র: মেনশন স্লিপ, পিটিশন
পরামর্শ: আটক ব্যক্তির ছবি ও পরিচয়পত্র প্রস্তুত রাখুন; পরিচয় নিয়ে সন্দেহ না থাকলে বেঞ্চ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।
ধাপ ৭ · রুল, হাজির ও সরকারের জবাবরুল জারি ও হাজিরের আদেশ
সন্তুষ্ট হলে বেঞ্চ রুল নিশি (Rule Nisi) জারি করে প্রতিপক্ষদের কারণ দর্শাতে বলে যে কেন আটককে আইনগত কর্তৃত্ববিহীন ঘোষণা করা হবে না এবং কেন আটক ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়া হবে না। বেঞ্চ নির্দিষ্ট তারিখে আটক ব্যক্তিকে হাজির করার আদেশ দিতে পারে, আটকের নথি তলব করতে পারে এবং সাধারণত এক থেকে দুই সপ্তাহের একটি সংক্ষিপ্ত জবাবের তারিখ ধার্য করতে পারে। শক্তিশালী মামলায় বেঞ্চ শুনানি পর্যন্ত অন্তর্বর্তী জামিন বা মুক্তির নির্দেশ দিতে পারে, যদিও বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় তা তুলনামূলক কম ঘটে।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: মেনশনের দিনই · আইন: সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২(২)(খ)(অ) · কাগজপত্র: রুলের আদেশ, হাজিরের আদেশ
পরামর্শ: সংক্ষিপ্ত জবাবের তারিখ চান; তারিখহীন রুল মাসের পর মাস তালিকায় পড়ে থাকতে পারে।
ধাপ ৮ · রুল, হাজির ও সরকারের জবাবসব প্রতিপক্ষকে আদেশ জানানো
আইনজীবী রুল ও হাজিরের আদেশের সার্টিফায়েড বা প্রত্যয়িত কপি মন্ত্রণালয়, আটককারী কর্তৃপক্ষ, পুলিশ ও কারা তত্ত্বাবধায়কের কাছে নিয়ে যান, এবং আদালতের দপ্তরও নিজস্বভাবে আদেশ পাঠায়। হাইকোর্ট বিভাগের হাজিরের আদেশ অনুযায়ী কারা কর্তৃপক্ষকে কাজ করতে হয়, তাই ধার্য তারিখে আটক ব্যক্তিকে প্রহরায় আদালতে আনা যায়। আদেশ পৌঁছাতে দেরি হওয়া তারিখ ফসকে যাওয়ার একটি সাধারণ কারণ, তাই আইনজীবী নোটিশ জারির প্রমাণ দাখিল করেন এবং ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ রাখেন।
কোথায়: কেন্দ্রীয় কারাগার (আটক রাখার স্থান) · সময়: ১-৫ দিন · আইন: সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২; সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১১২ (কর্তৃপক্ষগুলো সুপ্রিম কোর্টের সহায়তায় কাজ করবে) · কাগজপত্র: আদেশের সার্টিফায়েড কপি, নোটিশ প্রাপ্তির স্বীকৃতি
পরামর্শ: প্রত্যেক দপ্তর থেকে সিলযুক্ত লিখিত প্রাপ্তিস্বীকার নিন; আদালত অবমাননার আবেদনে এটি লাগতে পারে।
ধাপ ৯ · রুল, হাজির ও সরকারের জবাবসরকারের জবাব (জবাবি হলফনামা)
প্রতিপক্ষরা জবাব (return) দাখিল করে, সাধারণত অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের মাধ্যমে জবাবি হলফনামা (affidavit-in-opposition) হিসেবে। এতে হেফাজতের যৌক্তিকতা দেখাতে হয়: আটকাদেশ, সরকারের অনুমোদন, জানানো আটকের কারণ এবং ব্যক্তির ক্ষতিকর কার্যকলাপ দেখানো উপকরণ। সরকারের 'সন্তুষ্টির' দাবি মানতে আদালত বাধ্য নয়। আদালত পরীক্ষা করে আদেশটির পেছনে ক্ষতিকর কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রকৃত উপকরণ আছে কি না, এবং পদ্ধতিগত রক্ষাকবচগুলো মানা হয়েছে কি না। কোনো জবাব দাখিল না হলে বেঞ্চ আবেদনকারীর অখণ্ডিত হলফনামার ভিত্তিতেই এগোতে পারে, যেমনটি বহু মামলায় ঘটে।
কোথায়: জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (জেলা প্রশাসকের কার্যালয়) · সময়: ১-৬ সপ্তাহ · আইন: বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৩, ৮; সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৩৩(৪)-(৫) · কাগজপত্র: জবাবি হলফনামা, আটক-সংক্রান্ত নথির অংশবিশেষ, অনুমোদনের আদেশ
পরামর্শ: ঘটনার পরে সরকার নতুন কোনো কারণ যোগ করলে তা চ্যালেঞ্জ করতে দ্রুত প্রত্যুত্তর হলফনামা দাখিল করুন।
ধাপ ১০ · রুল, হাজির ও সরকারের জবাবসমান্তরাল উপদেষ্টা বোর্ড প্রক্রিয়া
আদালতের মামলার পাশাপাশি সংবিধিবদ্ধ পর্যালোচনাও চলে। সরকারকে আটকের ১২০ দিনের মধ্যে আটকের কারণ ও কোনো প্রতিনিধিত্ব থাকলে তা উপদেষ্টা বোর্ডের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। বোর্ডে থাকেন দুজন সদস্য, যাঁরা বিচারক বা বিচারক হওয়ার যোগ্য, এবং একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা। বোর্ডকে আটক ব্যক্তির সশরীর শুনানি নিতে হবে এবং ১৭০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে। পর্যাপ্ত কারণ না পেলে সরকারকে ব্যক্তিকে মুক্তি দিতে হবে। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৩(৪) স্বতন্ত্রভাবে বোর্ডের অনুকূল প্রতিবেদন ছাড়া ছয় মাসের বেশি আটক নিষিদ্ধ করে।
কোথায়: বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীন উপদেষ্টা বোর্ড · সময়: বোর্ডে উপস্থাপন ১২০ দিন পর্যন্ত; প্রতিবেদন ১৭০ দিনের মধ্যে · আইন: বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৯-১২; সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৩৩(৪) · কাগজপত্র: আটক ব্যক্তির লিখিত প্রতিনিধিত্ব, বোর্ডের শুনানির নোটিশ
পরামর্শ: আইনজীবীরা বোর্ডের সামনে উপস্থিত হতে পারেন না (ধারা ১১(৪)), তাই আটক ব্যক্তির লিখিত প্রতিনিধিত্ব যত্ন নিয়ে প্রস্তুত করুন।
ধাপ ১১ · শুনানি ও রায়রুলের চূড়ান্ত শুনানি
শুনানিতে আটক ব্যক্তির অ্যাডভোকেট যুক্তি দেন যে আটকাদেশটি আইনগত কর্তৃত্ববিহীন: যেমন কারণগুলো অস্পষ্ট বা পুরোনো, ১৫ দিনের মধ্যে জানানো হয়নি, কেবল এমন একটি ফৌজদারি মামলার পুনরাবৃত্তি যাতে ব্যক্তি ইতিমধ্যে জামিন পেয়েছেন, অথবা ধারা ২(চ)-এ সংজ্ঞায়িত কোনো ক্ষতিকর কাজের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক দেখায় না। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আদেশের পক্ষে বক্তব্য দেন। বেঞ্চ কেবল সরকারের সন্তুষ্টির বক্তব্য নয়, নথি নিজেই পরীক্ষা করে। বেঞ্চের গঠন ও দায়িত্ব-তালিকার পরিবর্তনে শুনানি পিছিয়ে যেতে পারে, তাই আইনজীবীরা দ্রুত তারিখের জন্য চাপ দেন।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: রুলের ২ সপ্তাহ থেকে ৪ মাস পর · আইন: সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২(২)(খ)(অ); বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ২(চ), ৩, ৮ · কাগজপত্র: পেপার বুক, নজিরের সংকলন, প্রত্যুত্তর হলফনামা (affidavit-in-reply)
পরামর্শ: আটকাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে কি না দেখুন; মেয়াদ বৃদ্ধির আদেশও চ্যালেঞ্জ করুন, নইলে মুক্তির আদেশ অকার্যকর হতে পারে।
ধাপ ১২ · শুনানি ও রায়রায়: রুল চূড়ান্ত (absolute) বা খারিজ
হাইকোর্ট বিভাগ হয় রুল চূড়ান্ত করে আটকাদেশ ও মেয়াদ বৃদ্ধিকে আইনগত কর্তৃত্ববিহীন ঘোষণা করে এবং আটক ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেয়, নয়তো রুল খারিজ করে। মুক্তির আদেশে সাধারণত বলা থাকে 'অন্য কোনো মামলায় প্রয়োজন না হলে' ব্যক্তিকে মুক্তি দিতে হবে, তাই বিচারাধীন ফৌজদারি মামলাগুলো প্রভাবিত হয় না। বেআইনি হেফাজতের মামলায় আদালত তদন্তের নির্দেশও দিতে পারে, এবং কিছু মামলায় অনুচ্ছেদ ১০২(১)-এর অধীনে বেআইনি আটকের জন্য ক্ষতিপূরণ দিয়েছে।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: প্রায়ই শুনানির দিনই দেওয়া হয় · আইন: সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২(১) ও (২)(খ)(অ); সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৩২ (ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার রক্ষণ) · কাগজপত্র: রায় ও আদেশ, মুক্তির আদেশ
পরামর্শ: নিয়মিত চর্চা অনুযায়ী বেঞ্চকে অনুরোধ করুন যেন দপ্তরকে অবিলম্বে আদেশ পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
ধাপ ১৩ · মুক্তি ও তারপরকারাগার থেকে মুক্তি
মুক্তির আদেশ কারাগারে পাঠানো হয়, এবং কারা কর্তৃপক্ষ রেজিস্টার দেখে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা বা আদেশ আছে কি না যাচাই করে। না থাকলে ব্যক্তিকে সাধারণত এক-দুই দিনের মধ্যে মুক্তি দেওয়া হয়। অন্য মামলায় আটক থাকলে সেই মামলার জন্য তিনি হেফাজতে থাকবেন এবং সংশ্লিষ্ট আদালতে জামিন চাইতে হবে। পরিবারের উচিত সরাসরি জেলগেট থেকে ব্যক্তিকে নিয়ে আসা এবং আইনজীবীকে জানানো, কারণ নতুন মামলায় 'জেলগেট থেকে গ্রেপ্তারের' খবর সংবাদমাধ্যমে এসেছে।
কোথায়: কেন্দ্রীয় কারাগার (আটক রাখার স্থান) · সময়: ১-৩ দিন · আইন: সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২; সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১১২ · কাগজপত্র: মুক্তির আদেশ, কারাগারের মুক্তি সনদ
পরামর্শ: সরকারি কপি পৌঁছাতে দেরি হলে মুক্তির আদেশের সার্টিফায়েড কপি নিজেই কারা তত্ত্বাবধায়কের হাতে পৌঁছে দিন।
ধাপ ১৪ · মুক্তি ও তারপরনতুন আটকাদেশের বিষয়ে সতর্ক থাকা
সরকার কেবল নতুন কারণে নতুন আটকাদেশ দিতে পারে; আদালত যেসব কারণ বাতিল করেছে, সেগুলোরই পুনরাবৃত্তি চ্যালেঞ্জযোগ্য। নতুন আদেশ দেওয়া হলে আগের রায় উদ্ধৃত করে নতুন রিট পিটিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশে হেবিয়াস কর্পাস রিট-এর প্রক্রিয়া আবার শুরু হয়। পরিবারের উচিত ধারা ১২(১)-এর অধীনে বোর্ডের ছয় মাস অন্তর পর্যালোচনার দিকেও নজর রাখা, যা আটক চলা পর্যন্ত প্রযোজ্য, এবং প্রতিটি পর্যালোচনায় আটক ব্যক্তির সশরীর শুনানির অধিকারের কথাও মনে রাখা।
কোথায়: জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (জেলা প্রশাসকের কার্যালয়) · সময়: চলমান · আইন: বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ১২(১); সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২ · কাগজপত্র: আগের রায়, যেকোনো নতুন আটকাদেশ
পরামর্শ: নতুন যেকোনো পিটিশনে সংযুক্ত করার জন্য আগের রায়ের সার্টিফায়েড কপি প্রস্তুত রাখুন।
ধাপ ১৫ · মুক্তি ও তারপরআদেশ উপেক্ষিত হলে তা বলবৎ করা
কর্তৃপক্ষ নির্দেশমতো আটক ব্যক্তিকে মুক্তি না দিলে বা হাজির না করলে আবেদনকারী একই বেঞ্চের কাছে আদালত অবমাননার ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৮ সুপ্রিম কোর্টকে নিজের অবমাননার জন্য শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা দেয়, এবং আদালত অবমাননা আইন, ১৯২৬ প্রযোজ্য। বেঞ্চ সাধারণত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর রুল জারি করে, যাঁকে হয় আদেশ পালন করতে হবে নয়তো ব্যাখ্যা দিতে হবে। দ্রুত মুক্তি বা হাজির নিশ্চিত করতে প্রায়ই এটুকুই যথেষ্ট।
কোথায়: হাইকোর্ট বিভাগ · সময়: ১-৪ সপ্তাহ · আইন: সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৮; আদালত অবমাননা আইন, ১৯২৬ · কাগজপত্র: আদালত অবমাননার আবেদন, মুক্তির আদেশ পৌঁছানোর প্রমাণ
পরামর্শ: যে কর্মকর্তা আদেশটি গ্রহণ করেছেন, তাঁর নাম উল্লেখ করুন; সাধারণভাবে কোনো দপ্তরের বিরুদ্ধে অবমাননার রুল দুর্বল হয়।
যদি এমন হয়…? হেবিয়াস কর্পাস রিট যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
সরকার আপিল বিভাগে আপিল করলে কী হয়?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
অনুমতির আবেদন ও স্থগিতাদেশ
সরকার অনুচ্ছেদ ১০৩-এর অধীনে ৬০ দিনের মধ্যে আপিলের অনুমতি চেয়ে সিভিল পিটিশন (civil petition for leave to appeal) দাখিল করতে পারে, অথবা আদেশটি ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯১-এর অধীনে হলে ৩০ দিনের মধ্যে ফৌজদারি পিটিশন। সরকার প্রায়ই চেম্বার জজের কাছে অবিলম্বে মুক্তির আদেশ স্থগিতের আবেদন করে, এবং স্থগিতাদেশ হলে আটক ব্যক্তি হেফাজতেই থেকে যেতে পারেন। আটক ব্যক্তির আইনজীবী নথি এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্ন জড়িত থাকার বিষয়টি তুলে ধরে স্থগিতাদেশের বিরোধিতা করেন।
চেম্বার শুনানি কয়েক দিনের মধ্যে; অনুমতির সিদ্ধান্ত ১-৬ মাসেসংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৩আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ১৩ বিধি ১আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৪ বিধি ২ - 2সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিলের শুনানি
অনুমতি মিললে আপিল বিভাগ আইনের প্রশ্নে এবং হাইকোর্ট বিভাগ আটকের নথি সঠিকভাবে মূল্যায়ন করেছে কি না, সে বিষয়ে আপিল শোনে। আপিল বিভাগ মুক্তির আদেশ বহাল রাখতে, আটকাদেশ পুনর্বহাল করতে বা মামলা ফেরত পাঠাতে পারে। অনুমতি নামঞ্জুর হলে হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ বহাল থাকে এবং যেকোনো স্থগিতাদেশের অবসান হয়।
৩-১২ মাসসংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৩আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২১ বিধি ১ (স্থগিতাদেশ)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আটক ব্যক্তি মুক্ত থাকবেন কি না, আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তই তা চূড়ান্ত করে, কেবল রিভিউসাপেক্ষে।
ম্যাজিস্ট্রেটের রিমান্ড বা হেফাজতের আদেশের বিরুদ্ধে কি রিভিশন করা যায়?
- 1মহানগর দায়রা জজ আদালত
দায়রা জজের কাছে ফৌজদারি রিভিশন
ব্যক্তি ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে আটক থাকলে, যেমন ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৭-এর অধীনে পুলিশ রিমান্ডে, সাধারণ প্রতিকার হলো ধারা ৪৩৫ ও ৪৩৯ক-এর অধীনে দায়রা জজ বা মহানগর দায়রা জজের কাছে ফৌজদারি রিভিশন (criminal revision), অথবা জামিনের আবেদন। বিচারিক হেফাজতের আদেশ এড়িয়ে যেতে সাধারণত হেবিয়াস কর্পাস ব্যবহার করা হয় না। রিভিশন আদালত দেখে রিমান্ড বৈধ ছিল কি না এবং ব্লাস্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী যথাযথ কারণসহ দেওয়া হয়েছিল কি না।
১-৪ সপ্তাহফৌজদারি কার্যবিধি-এর ধারা ১৬৭, ৪৩৫, ৪৩৯কবাংলাদেশ বনাম ব্লাস্ট, ৮ SCOB [২০১৬] AD ১ - 2হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগ ও আবার নিম্ন আদালতে
দায়রা জজের সিদ্ধান্তের পর আদালতের প্রক্রিয়ার অপব্যবহার রোধে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৬১ক-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে আরও চ্যালেঞ্জ করা যায়। সফল রিভিশন বা আবেদনের ফলে নির্দেশনা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফেরত যায়, যাঁকে তখন উচ্চ আদালতের আদেশ অনুযায়ী হেফাজত, রিমান্ড বা জামিনের বিষয় নিষ্পত্তি করতে হয়।
১-৩ মাসফৌজদারি কার্যবিধি-এর ধারা ৪৩৯, ৫৬১ক
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: উচ্চ আদালতের বাধ্যতামূলক নির্দেশনাসহ হেফাজতের প্রশ্নটি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফিরে যায়।
আদালত কি নিজের হেবিয়াস কর্পাস রায় রিভিউ করতে পারে?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগে সীমিত রিভিউ
অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীনে রিটের রায় একই বেঞ্চ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭-এর অনুরূপ কারণে, যেমন নথিতে সুস্পষ্ট ভুল থাকলে, রিভিউ (review) করতে পারে। কিন্তু আদেশটি ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯১-এর অধীনে হলে ধারা ৩৬৯ অনুযায়ী করণিক বা গাণিতিক ভুল সংশোধন ছাড়া কোনো আদালত তার স্বাক্ষরিত রায় পরিবর্তন বা রিভিউ করতে পারে না। বাস্তবে রিভিউ কদাচিৎ সঠিক উপায়; অনুমতি নিয়ে আপিলই সাধারণ পথ।
১-৩ মাসদেওয়ানি কার্যবিধির (CPC) আদেশ ৪৭ফৌজদারি কার্যবিধি-এর ধারা ৩৬৯ - 2সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
আপিল বিভাগে রিভিউ
আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের পর সংক্ষুব্ধ পক্ষ ৩০ দিনের মধ্যে অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীনে রিভিউ চাইতে পারে। ফৌজদারি কার্যধারায় কারণ হলো নথিতে সুস্পষ্ট ভুল; দেওয়ানি কার্যধারায় দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭ বিধি ১-এর অনুরূপ কারণ। এটি আপিলের পুনঃশুনানি নয়।
৩০ দিনের মধ্যে দাখিল; ১-৬ মাসে নিষ্পত্তিসংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৫আপিল বিভাগ রুলস, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬ বিধি ১-২
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রিভিউতে ফল কদাচিৎ বদলায়; আপিল বিভাগের রায় সাধারণত বহাল থাকে।
উপদেষ্টা বোর্ডে উপস্থাপনের প্রক্রিয়া কী?
- 1বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীন উপদেষ্টা বোর্ড
১২০ দিনের মধ্যে সংবিধিবদ্ধ উপস্থাপন
বিশেষ ক্ষমতা আইনের ধারা ১০ অনুযায়ী প্রতিটি আটক ১২০ দিনের মধ্যে আটকের কারণ ও আটক ব্যক্তির প্রতিনিধিত্বসহ উপদেষ্টা বোর্ডে উপস্থাপন করতে হবে। বোর্ড আইনজীবী ছাড়া আটক ব্যক্তির সশরীর শুনানি নেয় এবং ১৭০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়। কেবল পর্যাপ্ত কারণ সম্পর্কে এর মতামত প্রকাশ করা হয়; বাকি সব গোপনীয়। নেতিবাচক প্রতিবেদন হলে ধারা ১২(২) অনুযায়ী সরকার ব্যক্তিকে মুক্তি দিতে বাধ্য।
১২০তম দিনের মধ্যে উপস্থাপন; ১৭০তম দিনের মধ্যে প্রতিবেদনবিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ১০, ১১, ১২সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৩৩(৪) - 2হাইকোর্ট বিভাগ
আদালতের সামনে বোর্ডের ব্যর্থতা
উপস্থাপনে দেরি হলে, আটক ব্যক্তির সশরীর শুনানি না হলে, বা অনুকূল প্রতিবেদন ছাড়া ছয় মাসের বেশি আটক চললে আবেদনকারী তা হাইকোর্ট বিভাগে একটি পৃথক যুক্তি হিসেবে তুলতে পারেন। আদালত তখন দেখে, মূল আদেশে যা-ই থাকুক, চলমান আটক তার আইনগত কর্তৃত্ব হারিয়েছে কি না।
রুলের শুনানিতেসংবিধান, অনুচ্ছেদ ৩৩(৪)বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ১১(১)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হয় বোর্ড আটকের অবসান ঘটায়, নয়তো বোর্ডের ব্যর্থতা হাইকোর্ট বিভাগে মুক্তির পক্ষে মামলাকে শক্তিশালী করে।
আপিল বিভাগ মামলা ফেরত পাঠালে কী হয়?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
রায় বাতিল ও পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত
এখানে 'রিমান্ড' মানে পুলিশ রিমান্ড নয়, পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠানো। আপিল বিভাগ যদি দেখে যে হাইকোর্ট বিভাগ সরকারের জবাব ছাড়া বা অসম্পূর্ণ নথির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, তবে রায় বাতিল করে রুলটি নতুন শুনানির জন্য ফেরত পাঠাতে পারে, প্রায়ই নথি উপস্থাপনের নির্দেশনা ও দ্রুত তারিখসহ।
অনুমতির আবেদন বা আপিল নিষ্পত্তির সময়সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৪সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৩ - 2হাইকোর্ট বিভাগ
পুনঃশুনানি ও আবার উচ্চ আদালতে যাওয়ার সম্ভাবনা
হাইকোর্ট বিভাগ সরকারের জবাব ও আটকের নথিসহ পূর্ণতর নথির ভিত্তিতে রুলটি আবার শোনে এবং নতুন রায় দেয়। পরাজিত পক্ষ সাধারণ সময়ের মধ্যে আবার আপিল বিভাগে অনুমতি চাইতে পারে, ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য মামলা আবার ওপরে উঠতে পারে।
পুনঃশুনানি ১-৩ মাস; পরবর্তী অনুমতি ১-৬ মাসসংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০২(২)(খ)(অ)সংবিধান, অনুচ্ছেদ ১০৩
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগে রুলটি নতুন করে নিষ্পত্তি হয় এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আবার আপিল বিভাগে যেতে পারে।
ব্যক্তি আটকাদেশে নয়, ফৌজদারি মামলায় আটক থাকলে কী হয়?
- 1মুখ্য মহানগর হাকিম (CMM) আদালত
জামিনই স্বাভাবিক প্রতিকার
কোনো নিয়মিত ফৌজদারি মামলায় ব্যক্তি ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে হেফাজতে থাকলে আদালত আশা করে যে জামিন (bail) চাওয়া হবে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে, তারপর ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৮-এর অধীনে দায়রা জজের কাছে, তারপর হাইকোর্ট বিভাগে। বৈধ বিচারিক হেফাজতের আদেশ থাকলে হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন সাধারণত খারিজ হয়, যদি না গ্রেপ্তার বা হেফাজত নিজেই বেআইনি বলে দেখানো যায়।
অপরাধের ধরন অনুযায়ী কয়েক দিন থেকে কয়েক মাসফৌজদারি কার্যবিধি-এর ধারা ৪৯৬, ৪৯৭, ৪৯৮সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৩৩
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: ব্যক্তি হেবিয়াস কর্পাস আদেশের বদলে ফৌজদারি আদালতের মাধ্যমে জামিনে মুক্তি পান।
হেবিয়াস কর্পাস রিট যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
হেবিয়াস কর্পাস কোনো নিম্ন আদালতে নয়, হাইকোর্ট বিভাগে শুরু হয়, কারণ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২(২)(খ)(অ) কেবল এই বিভাগকেই হেফাজতে থাকা কোনো ব্যক্তিকে তার সামনে হাজির করার আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে। কোনো আর্থিক সীমা নেই এবং যেকোনো ব্যক্তি আবেদন করতে পারেন। তবু নিম্ন আদালতের ভূমিকা আছে: ফৌজদারি মামলায় ম্যাজিস্ট্রেটের রিমান্ড বা হেফাজতের আদেশ দায়রা জজের কাছে জামিন বা রিভিশনের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা হয়, এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীন উপদেষ্টা বোর্ড নিবর্তনমূলক আটকের পৃথক সংবিধিবদ্ধ পর্যালোচক হিসেবে কাজ করে।
হাইকোর্ট বিভাগ আটকের নথি নিজেই পরীক্ষা করে এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মৌখিক সাক্ষ্য ছাড়া হলফনামার ভিত্তিতে আইন ও তথ্যের প্রশ্ন নিষ্পত্তি করে। এর রায়ের বিরুদ্ধে পরাজিত পক্ষকে, প্রায়ই সরকারকে, আপিল বিভাগে যেতে অনুমতি নিতে হয়; আপিল বিভাগ মুক্তি স্থগিত করতে, তা উল্টে দিতে বা রুলটি পুনঃশুনানির জন্য ফেরত পাঠাতে পারে। অনুচ্ছেদ ১০৫-এর রিভিউ শেষ ধাপ। বাংলাদেশে হেবিয়াস কর্পাস রিট-এর প্রক্রিয়া বোঝার জন্য এই সিঁড়িটি বোঝা অপরিহার্য।
- আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- আপিল পর্যায়মহানগর দায়রা জজ আদালত
- প্রথম দফার আদালতমুখ্য মহানগর হাকিম (CMM) আদালত
- শুরু · আদালতের বাইরেঅ্যাডভোকেটের চেম্বার · থানা / আটককারী সংস্থা · জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (জেলা প্রশাসকের কার্যালয়) · বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীন উপদেষ্টা বোর্ড · কেন্দ্রীয় কারাগার (আটক রাখার স্থান)
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
মহানগর দায়রা জজ আদালত, ঢাকা
৪০-৪৫ জনসন রোড, ঢাকা-১১০০ঢাকা মহানগরের থানাগুলো থেকে আসা দায়রা আদালতে বিচার্য অপরাধের বিচার করে এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের আদেশের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আপিল ও রিভিশন শুনানি করে; অতিরিক্ত ও যুগ্ম মহানগর দায়রা জজরা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হিসেবেও বসেন।
মহানগর দায়রা জজ বসেন মূল ভবনের ২য় তলায়; অতিরিক্ত ও যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতগুলো মূল ভবনে এবং একই চত্বরের টিনশেড ভবনে। মহানগর দায়রা জজ, ঢাকা একই সঙ্গে সিনিয়র স্পেশাল জজ, ঢাকা পদেও দায়িত্ব পালন করেন। আদালতের প্রকাশিত হেল্পলাইন: ০১৩৩৫-১৪৫০০২।
চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা
১৯ জনসন রোড, ঢাকা-১১০০ঢাকা মহানগর পুলিশের এলাকায় উদ্ভূত ফৌজদারি মামলা আমলে নেয় ও বিচার করে (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসমূহ), জামিন (bail), রিমান্ড এবং এজাহার (FIR)/নালিশি মামলার শুনানি করে, এবং দায়রা আদালতে বিচার্য মামলা মহানগর দায়রা জজের কাছে পাঠায়।
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলো সিএমএম (CMM) আদালতের মূল ভবন (২য় থেকে ৯ম তলা) এবং সিজেএম আদালত ভবনে (৮ম ও ৯ম তলায় ২৯-৩৭ নং আদালত) ছড়িয়ে আছে। কার্যতালিকায় আদালতের নম্বর দেখে নিন। প্রতিটি মহানগরে (চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, গাজীপুর) নিজস্ব সিএমএম আদালত আছে।
অ্যাডভোকেটের চেম্বার
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তর
৩৬ মিন্টো রোড, ঢাকাঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তর; এজাহার এখানে নয়, সংশ্লিষ্ট থানায় দায়ের করতে হয়।
জরুরি সেবা: ৯৯৯। মামলা করতে ঘটনাস্থল যে থানার এখতিয়ারে, সেই থানায় যান।
জেলা প্রশাসকের (জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) কার্যালয়, ঢাকা
ঢাকা (সঠিক ঠিকানা নিশ্চিত নয়)জেলা প্রশাসন: ভূমি রাজস্ব ও রেকর্ড সংশোধন সংক্রান্ত আপিল, সার্টিফিকেট মামলা, ভূমি অধিগ্রহণ, এবং ঢাকা জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত।
dhaka.gov.bd থেকে সরকারি রাস্তার ঠিকানা পড়া যায়নি (এর যোগাযোগের পাতা লোড হয়নি); বিচার বিভাগীয় পোর্টাল অফিসের ফোন ০২-২২৩৩৮৯৭৮৬ নিশ্চিত করে। যাওয়ার আগে বর্তমান ঠিকানা যাচাই করে নিন। প্রতিটি জেলা সদরে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় আছে।
বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীন উপদেষ্টা বোর্ড
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
কেন্দ্রীয় কারাগার (আটক রাখার স্থান)
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- হেবিয়াস কর্পাস (Habeas corpus)
- আটক ব্যক্তিকে আদালতের সামনে হাজির করে হেফাজত বৈধ কি না তা যাচাইয়ের আদালতের আদেশ।
- নিবর্তনমূলক আটক (Preventive detention)
- অতীতের অপরাধের শাস্তি দিতে নয়, ভবিষ্যতে কোনো ক্ষতিকর কাজ করা থেকে বিরত রাখতে বিনা বিচারে আটক।
- আটকাদেশ (Detention order)
- নিবর্তনমূলক আটকের অনুমতি দিয়ে সরকার বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের লিখিত আদেশ।
- রুল নিশি (Rule Nisi)
- হাইকোর্ট বিভাগের কারণ দর্শানোর আদেশ, যাতে প্রতিপক্ষদের আটকের যৌক্তিকতা দেখাতে হয়।
- জবাব (Return)
- রুলের প্রতি আটককারী কর্তৃপক্ষের লিখিত উত্তর, সাধারণত জবাবি হলফনামা।
- উপদেষ্টা বোর্ড (Advisory Board)
- তিন সদস্যের একটি সংস্থা, যা প্রতিটি নিবর্তনমূলক আটক পর্যালোচনা করতে বাধ্য এবং মুক্তি নিশ্চিত করতে পারে।
- রুল চূড়ান্ত (Rule absolute)
- পিটিশন মঞ্জুর করে আটককে বেআইনি ঘোষণার চূড়ান্ত আদেশ।
- শ্যোন অ্যারেস্ট (Shown arrest)
- ইতিমধ্যে হেফাজতে থাকা কাউকে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো, যা মুক্তি আটকে দিতে পারে।
হেবিয়াস কর্পাস রিট: সাধারণ প্রশ্ন
বাংলাদেশে হেবিয়াস কর্পাস রিট কে দায়ের করতে পারেন?
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯১ কি এখনো ব্যবহৃত হয়?
হেবিয়াস কর্পাস রিট-এ কত দ্রুত ফল পাওয়া যায়?
হেবিয়াস কর্পাস কি কাউকে পুলিশ রিমান্ড থেকে বের করতে পারে?
উপদেষ্টা বোর্ড কী করে?
বেআইনি আটকের জন্য কি ক্ষতিপূরণ দাবি করা যায়?
মা-বাবার কেউ সন্তানকে আটকে রাখলে কি হেবিয়াস কর্পাস রিট কাজে আসে?
বিশেষ ক্ষমতা আইন কি এখনো বলবৎ?
আইন ও উৎস
- Constitution of the People's Republic of Bangladesh (Arts 32, 33, 102, 103, 105, 108)
- The Special Powers Act, 1974
- The Code of Criminal Procedure, 1898 (ss.54, 61, 167, 369, 491)
- Bangladesh v BLAST, 8 SCOB [2016] AD 1 (arrest and remand guidelines)
- HCD, Writ Petition No. 8416 of 2025 (detention under s.3(2) SPA declared unlawful)
- HCD, Writ Petition No. 21658 of 2025 (detention order and extension set aside)
- Supreme Court of Bangladesh (Appellate Division) Rules 1988
- Daily Star: Repeal Special Powers Act
- Prothom Alo editorial: Special Powers Act, democratic commitment questioned
- Daily Observer: interim government left the Special Powers Act 1974 unamended (August 2026)
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।