সাকসেশন সার্টিফিকেট পাওয়ার নিয়ম: আবেদন থেকে সনদ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া, ধাপে ধাপে
বাংলাদেশে সাকসেশন সার্টিফিকেট পাওয়ার নিয়ম হলো উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫ (Succession Act 1925)-এর দশম খণ্ডের অধীন আদালতের একটি প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশরা তাঁর পাওনা ও সিকিউরিটি, যেমন ব্যাংকে জমা টাকা, সঞ্চয়পত্র ও শেয়ার, আদায়ের ক্ষমতা পান।
এটি একটি সংক্ষিপ্ত (সামারি) কার্যধারা: আদালত নোটিশ প্রকাশ করেন, কোনো আপত্তি থাকলে শুনানি করেন, প্রাথমিকভাবে (prima facie) যাঁর স্বত্ব সবচেয়ে জোরালো তাঁকে সনদ মঞ্জুর করেন, প্রায়ই জামানত বন্ডের শর্তে, এবং দেনাদাররা সনদধারীকে নিরাপদে অর্থ পরিশোধ করতে পারেন। এটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ওয়ারিশ সনদ থেকে আলাদা, এবং এটি স্বত্বের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে না।
- কোথা থেকে শুরু
- মৃত ব্যক্তি সাধারণত যেখানে বসবাস করতেন (অথবা যেখানে সম্পত্তি পাওয়া যায়) সেখানকার জেলা জজ আদালত; বাস্তবে সাধারণত যুগ্ম…
- মূল আইন
- উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর দশম খণ্ড (ধারা ৩৭০-৩৯০); কোর্ট-ফি আইন, ১৮৭০-এর প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ১২; দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর…
- সাধারণ সময়কাল
- ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক সময়: কেউ আপত্তি না করলে ৩ থেকে ৮ মাস; প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হলে ১ থেকে ৩ বছর; আপিল…
- কে মামলা করতে পারেন
- যেকোনো ওয়ারিশ বা মৃত ব্যক্তির সম্পদ পাওয়ার অধিকারী ব্যক্তি (প্রায়ই সব ওয়ারিশ যৌথভাবে, অথবা অন্যদের সম্মতিতে একজন…
সাকসেশন সার্টিফিকেট পাওয়ার নিয়ম: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে
“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
ধাপ ১ · মামলা দায়েরের আগেসম্পদ চিহ্নিত করুন এবং সনদ লাগবে কি না দেখুন
মৃত ব্যক্তি কী কী রেখে গেছেন, পরিবার তার তালিকা করে। বাংলাদেশে সাকসেশন সার্টিফিকেট পাওয়ার নিয়ম শুধু পাওনা ও সিকিউরিটির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য: ব্যাংকে জমা টাকা, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, ডিবেঞ্চার, ভবিষ্য তহবিল বা বিমার টাকা, যা মৃত ব্যক্তির পাওনা। জমি এর আওতায় পড়ে না। জমির ক্ষেত্রে ওয়ারিশরা নামজারি, উত্তরাধিকারের অংশ এবং প্রয়োজনে বাটোয়ারা মামলার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেন। কোনো নমিনি রেকর্ড করা আছে কি না, আইনজীবী তা যাচাই করেন, কারণ কিছু প্রতিষ্ঠান সরাসরি নমিনিকে টাকা দেয়। সঞ্চয় ব্যাংকের প্রসঙ্গে হাইকোর্ট বিভাগ বলেছেন, নমিনি টাকাটি ওয়ারিশদের পক্ষে ট্রাস্টি হিসেবে ধারণ করেন।
টাকা ছাড়ার আগে ব্যাংক বা অফিস কী চায়, আইনজীবী তা-ও জেনে নেন।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৭০(২) (‘সিকিউরিটি’র অর্থ); উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৭০(১) · কাগজপত্র: মৃত্যু সনদ, ব্যাংক হিসাব, সঞ্চয়পত্র ও শেয়ারের তালিকা, হিসাব বিবরণী বা পাসবই, নমিনেশন ফরম (যদি থাকে)
পরামর্শ: ব্যাংকের কাছে লিখিতভাবে জানতে চান কী কী লাগবে; অল্প টাকার ক্ষেত্রে কিছু ব্যাংক ওয়ারিশ সনদ ও ক্ষতিপূরণনামা (indemnity) নিয়েই টাকা দেয়, তাতে মামলার প্রয়োজন হয় না।
ধাপ ২ · মামলা দায়েরের আগেওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করুন
বেশির ভাগ পরিবার প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছ থেকে ওয়ারিশ সনদ নেয়। এতে স্থানীয়ভাবে জানা মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশদের নাম থাকে এবং সাধারণ একটি স্থানীয় তদন্তের পর এটি দেওয়া হয়। এটি সহায়ক সাক্ষ্য হিসেবে কাজে লাগে এবং আদালত প্রায়ই তা গ্রহণ করেন, তবে এটি একটি প্রশাসনিক দলিল। এটি কাউকে টাকা আদায়ের ক্ষমতা দেয় না, এবং এর ভিত্তিতে টাকা দেওয়া ব্যাংককে কোনো আইনগত সুরক্ষা দেয় না। টাকার অঙ্ক বড় হলে বা ওয়ারিশদের মধ্যে মতবিরোধ থাকলে ব্যাংক ও জাতীয় সঞ্চয় অফিস সাধারণত আদালতের দেওয়া সাকসেশন সার্টিফিকেট চায়।
কোথায়: ইউনিয়ন পরিষদ / সিটি কর্পোরেশন (ওয়ারিশ সনদ) · সময়: ১-৪ সপ্তাহ · আইন: উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৮১ (সুরক্ষা কেবল আদালতের সনদের ক্ষেত্রে) · কাগজপত্র: ওয়ারিশ সনদের আবেদন, মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশদের এনআইডি ও জন্ম নিবন্ধন সনদ
পরামর্শ: দ্বিতীয় স্ত্রী বা অন্য বিয়ের সন্তানসহ প্রত্যেক ওয়ারিশের নাম তালিকায় আছে কি না নিশ্চিত করুন; অসম্পূর্ণ ওয়ারিশ সনদ পরে সনদ বাতিলের ঝুঁকি তৈরি করে।
ধাপ ৩ · মামলা দায়েরের আগেওয়ারিশদের মধ্যে সমঝোতা করুন এবং কাগজপত্র প্রস্তুত করুন
কে আবেদন করবেন, ওয়ারিশরা তা ঠিক করেন। সবাই যৌথভাবে হতে পারেন, অথবা অন্যদের লিখিত অনাপত্তিসহ একজন ওয়ারিশ। যৌথ আবেদন প্রতিদ্বন্দ্বিতা এড়ায় এবং পাল্টা আবেদনের ঝুঁকি কমায়। প্রযোজ্য ব্যক্তিগত আইন, যেমন মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরীয়ত) প্রয়োগ আইন, ১৯৩৭ বা হিন্দু আইন অনুযায়ী আইনজীবী প্রত্যেক ওয়ারিশের অংশ হিসাব করেন। এরপর তিনি স্থিতি ও হিসাবের বিবরণ নিশ্চিত করে ব্যাংকের চিঠি সংগ্রহ করেন। আবেদনে দাবিকৃত প্রতিটি পাওনা ও সিকিউরিটির উল্লেখ থাকতে হবে, কারণ সনদ কেবল তাতে উল্লিখিত সম্পদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। পরে সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন সম্পদ যোগ করা যায়।
কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ২-৪ সপ্তাহ · আইন: উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৭২(১)(গ)-(চ); উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৭৬ · কাগজপত্র: সহ-ওয়ারিশদের অনাপত্তি হলফনামা, ব্যাংক স্থিতি সনদ, সঞ্চয়পত্রের নম্বর, শেয়ার বা বিও হিসাবের বিবরণী, ওয়ারিশ সনদ
পরামর্শ: হিসাব ও সঞ্চয়পত্রের সঠিক নম্বর দিন; ‘ব্যাংকের সব টাকা’ লেখা আবেদন ওই আকারে মঞ্জুর করা যায় না।
ধাপ ৪ · আবেদন ও নোটিশআবেদন দাখিল করুন
মৃত ব্যক্তি সাধারণত যেখানে বসবাস করতেন, অথবা স্থায়ী বাসস্থান না থাকলে যেখানে সম্পত্তি পাওয়া যায়, সেখানকার জেলা জজ আদালতে আবেদন দাখিল করা হয়। ঢাকা ও বেশির ভাগ জেলায় সাধারণত অর্পিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত আদালত হিসেবে যুগ্ম জেলা জজ এর শুনানি করেন। সরকার ধারা ৩৮৮-এর অধীন কোনো সিভিল জজ বা সিনিয়র সিভিল জজ আদালতকে ক্ষমতা দিয়ে থাকলে সেই আদালতও শুনানি করতে পারেন। আরজির মতোই আবেদনে স্বাক্ষর ও সত্যপাঠ (verification) করা হয়। এতে মৃত্যুর তারিখ, বাসস্থান, পরিবার ও নিকটাত্মীয়, দাবিকৃত অধিকার, কোনো আইনগত বাধা না থাকা এবং পাওনা ও সিকিউরিটির বিবরণ থাকে।
কোথায়: যুগ্ম জেলা জজ আদালত (অর্পিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত আদালত) · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৭১; উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৭২; উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৮৮; দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ২৩(২)(ঘ); উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৮৫ (আগের কোনো মঞ্জুরি বহাল থাকলে সনদ অকার্যকর) · কাগজপত্র: সত্যপাঠসহ আবেদন, মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদ, পাওনা ও সিকিউরিটির তফসিল, ওকালতনামা
পরামর্শ: স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন যে কোনো প্রবেট, লেটার্স অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা আগের সনদ নেই; আগের কোনো মঞ্জুরি বহাল থাকলে নতুন সনদ অকার্যকর হয়।
ধাপ ৫ · আবেদন ও নোটিশনোটিশ ও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
আবেদন গ্রহণের কারণ পেলে আদালত শুনানির তারিখ ধার্য করেন। যাঁদের জানানো দরকার, সাধারণত আবেদনকারী হিসেবে যুক্ত হননি এমন প্রত্যেক ওয়ারিশকে, বিশেষ নোটিশ দেওয়ার আদেশ দেন। নোটিশ আদালত ভবনে টাঙানো হয় এবং আদালতের নির্দেশিত অন্য উপায়েও প্রকাশ করা হয়, বাস্তবে যা সাধারণত পত্রিকায় বিজ্ঞাপন। এতে অজানা ওয়ারিশ, পাওনাদার ও প্রতিদ্বন্দ্বী দাবিদাররা আপত্তি জানানোর সুযোগ পান। এরপর আদালত সংক্ষিপ্তভাবে সনদ পাওয়ার অধিকার নির্ধারণ করেন। এই পর্যায়ে দেরি সাধারণত হয় বিদেশে থাকা বা অজানা ঠিকানার ওয়ারিশদের ওপর নোটিশ জারি না হওয়ার কারণে।
কোথায়: যুগ্ম জেলা জজ আদালত (অর্পিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত আদালত) · সময়: ১-৩ মাস · আইন: উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৭৩(১) · কাগজপত্র: ওয়ারিশদের প্রতি নোটিশ, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, নোটিশ জারির প্রমাণ
পরামর্শ: বিদেশে থাকা ওয়ারিশদের ডাকের পাশাপাশি ই-মেইল ও কুরিয়ারেও নোটিশ পাঠান, এবং রেকর্ডের জন্য প্রমাণ রাখুন।
ধাপ ৬ · শুনানি ও আপত্তিআপত্তিহীন শুনানি
কেউ আপত্তি না করলে আবেদনকারী সংক্ষিপ্ত সাক্ষ্য দেন, প্রায়ই পরিবারকে চেনেন এমন এক-দুজন সাক্ষীসহ। সাক্ষ্যে মৃত্যু, ওয়ারিশগণ এবং পাওনা ও সিকিউরিটির বিষয় থাকে। আদালত কাগজপত্র, কোর্ট ফি এবং অন্য কোনো মঞ্জুরি বহাল নেই কি না তা যাচাই করেন। আপত্তিহীন মামলায় বাংলাদেশে সাকসেশন সার্টিফিকেট পাওয়ার প্রক্রিয়া দাখিলের কয়েক মাসের মধ্যেই শেষ হতে পারে। আদালত সংক্ষিপ্তভাবে অধিকার নির্ধারণ করে যাঁকে অধিকারী মনে করেন তাঁকে সনদ মঞ্জুরের আদেশ দেন। একাধিক আবেদনকারী থাকলে প্রত্যেকের স্বার্থের পরিমাণ ও যোগ্যতা বিবেচনা করেন।
কোথায়: যুগ্ম জেলা জজ আদালত (অর্পিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত আদালত) · সময়: ১-৩ মাস · আইন: উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৭৩(১)-(২) ও ধারা ৩৭৩(৪) · কাগজপত্র: আবেদনকারীর সাক্ষ্য, সাক্ষীদের জবানবন্দি, কোর্ট ফি জমার রসিদ
পরামর্শ: পরিবারকে ভালোভাবে চেনেন এমন একজন প্রতিবেশী বা আত্মীয়কে সঙ্গে আনুন; ওয়ারিশদের তালিকার স্বাধীন সমর্থন আদালত চান।
ধাপ ৭ · শুনানি ও আপত্তিঅন্য দাবিদারদের আপত্তি
স্বার্থ দাবি করেন এমন যে কেউ লিখিত আপত্তি দিতে পারেন। সাধারণ আপত্তি হলো কোনো ওয়ারিশ বাদ পড়েছেন, যেমন দ্বিতীয় স্ত্রী বা অন্য বিয়ের সন্তান। অন্য আপত্তি হতে পারে যে আবেদনকারী আদৌ ওয়ারিশ নন, অথবা কোনো উইল, দান বা নমিনেশন আপত্তিকারীকে অধিকতর অধিকার দেয়। আপত্তিকারী কাবিননামা, জন্ম নিবন্ধন সনদ, ওয়ারিশ সনদ বা সাক্ষী দিয়ে দাবি সমর্থন করেন। আদালত বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক উত্তরাধিকার মামলা ছোট দেওয়ানি মোকদ্দমার মতো হয়, দুই পক্ষের সাক্ষ্য ও জেরাসহ, তবে আদালত তবুও সংক্ষিপ্তভাবেই সিদ্ধান্ত দেন।
কোথায়: যুগ্ম জেলা জজ আদালত (অর্পিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত আদালত) · সময়: ১-৩ মাস · আইন: উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৭৩; দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১৪১ · কাগজপত্র: লিখিত আপত্তি, কাবিননামা বা বিয়ের প্রমাণ, জন্ম নিবন্ধন সনদ, আপত্তিকারীর ওয়ারিশ সনদ
পরামর্শ: জানা কোনো ওয়ারিশকে গোপন করা পরে সনদ বাতিলের সবচেয়ে সাধারণ কারণ; সম্পর্ক খারাপ হলেও প্রত্যেক ওয়ারিশের কথা প্রকাশ করুন।
ধাপ ৮ · শুনানি ও আপত্তিপ্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক মামলায় সাক্ষ্য
দুই পক্ষই সাক্ষী হাজির করে এবং দলিল দাখিল করে: বিয়ের রেজিস্টার, জন্ম নিবন্ধন সনদ, এনআইডি রেকর্ড, মৃত ব্যক্তির চাকরির রেকর্ড এবং আগের আদালতের আদেশ। বিয়ে বা পিতৃত্ব-মাতৃত্ব নিয়ে বিরোধ মূল বিষয় হলে আদালত দালিলিক প্রমাণ সতর্কভাবে বিবেচনা করেন। কুষ্টিয়া থেকে আসা ২০২৬ সালের একটি আপিলে হাইকোর্ট বিভাগ প্রথম পরিবারকে দেওয়া সনদের বিরুদ্ধে আপত্তিকারী দ্বিতীয় স্ত্রী ও তাঁর মেয়ের সাক্ষ্য বিবেচনা করেন। প্রশ্নগুলো সংক্ষিপ্ত সিদ্ধান্তের জন্য অতি জটিল হলে আদালত তবুও প্রাথমিকভাবে সবচেয়ে জোরালো স্বত্বধারীকে সনদ মঞ্জুর করতে পারেন।
কোথায়: যুগ্ম জেলা জজ আদালত (অর্পিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত আদালত) · সময়: ৬-১৮ মাস · আইন: উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৭৩(৩); সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ · কাগজপত্র: সাক্ষ্যের হলফনামা, বিয়ে ও জন্মের রেকর্ড, নিয়োগকর্তার চাকরির রেকর্ড, আগের রায়
পরামর্শ: কাবিননামা বা জন্ম নিবন্ধন সনদের ফটোকপির চেয়ে মূল রেজিস্টার বা তার সার্টিফায়েড কপির গুরুত্ব অনেক বেশি।
ধাপ ৯ · সনদ মঞ্জুর ও জামানতসনদ মঞ্জুরের আদেশ
আদালত যাঁকে অধিকারী মনে করেন, তাঁকে অষ্টম তফসিলের (Schedule VIII) ফরমে সনদ মঞ্জুরের আদেশ দেন। সনদে প্রতিটি পাওনা ও সিকিউরিটি উল্লেখ থাকে। এটি সনদধারীকে সুদ বা লভ্যাংশ গ্রহণ, সিকিউরিটি হস্তান্তরযোগ্য করা বা হস্তান্তর, অথবা উভয়ের ক্ষমতাও দিতে পারে। এই সিদ্ধান্ত স্বত্বের বিষয়ে চূড়ান্ত নয়। একই পক্ষদের মধ্যে একই অধিকারের প্রশ্নে পরে মোকদ্দমা করতে এটি বাধা দেয় না, এবং এর অধীনে যিনি টাকা পান তিনি আইনত অধিকারী ব্যক্তির কাছে হিসাব দিতে দায়বদ্ধ থাকেন। এ কারণেই সনদ দেনাদারদের সুরক্ষা দেয়, কিন্তু পরিবারের অংশ নিষ্পত্তি করে না।
কোথায়: যুগ্ম জেলা জজ আদালত (অর্পিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত আদালত) · সময়: ১-২ মাস · আইন: উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৭৩(২); উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৭৪; উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৭৭; উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৮৭ · কাগজপত্র: রায় ও আদেশ, অষ্টম তফসিলের ফরমে সনদের খসড়া
পরামর্শ: শেয়ার বা সঞ্চয়পত্র থাকলে ‘গ্রহণ ও হস্তান্তরের’ ক্ষমতা চেয়ে নিন; না হলে পরে সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।
ধাপ ১০ · সনদ মঞ্জুর ও জামানতজামানত বন্ড ও কোর্ট ফি
সনদ ইস্যুর আগে আদালত মঞ্জুরিপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে এক বা একাধিক জামিনদারসহ একটি বন্ড বা অন্য পর্যাপ্ত জামানত দিতে বলতে পারেন। বন্ডটি প্রাপ্ত অর্থের হিসাব নিশ্চিত করে এবং অন্য অধিকারীদের ক্ষতিপূরণের নিশ্চয়তা দেয়। প্রশ্নগুলো সংক্ষিপ্তভাবে নির্ধারণের পক্ষে অতি জটিল হওয়ায় আদালত প্রাথমিক স্বত্বের ভিত্তিতে মঞ্জুর করলে জামানত বাধ্যতামূলক। মূল্যানুপাতিক কোর্ট ফিও দিতে হয়। ওয়ারিশ নন এমন আবেদনকারী আবেদনের সঙ্গেই তা জমা দেন। ওয়ারিশ আবেদন করলে আদালত টাকা ধারণকারী ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানকে মৃত ব্যক্তির তহবিল থেকে ফি সরকারি কোষাগারে জমা দিতে নির্দেশ দেন।
মঞ্জুরিপ্রাপ্ত ব্যক্তি পরে টাকা অপব্যবহার করলে আদালত বন্ডটি সংক্ষুব্ধ ওয়ারিশের নামে হস্তান্তর করতে পারেন, যিনি এর ভিত্তিতে মামলা করতে পারেন।
কোথায়: যুগ্ম জেলা জজ আদালত (অর্পিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত আদালত) · সময়: ২-৬ সপ্তাহ · আইন: উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৭৫; উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৭৯; কোর্ট-ফি আইন, ১৮৭০, প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ১২ · কাগজপত্র: জামানত বন্ড, জামিনদারের হলফনামা ও সম্পত্তির কাগজ, কোর্ট ফি জমা বা ব্যাংকের প্রতি আদালতের নির্দেশ
পরামর্শ: একই জেলায় নিবন্ধিত জমি আছে এমন জামিনদার সাধারণত সবচেয়ে দ্রুত গৃহীত হন।
ধাপ ১১ · সনদ মঞ্জুর ও জামানতসনদ ইস্যু
বন্ড ও ফি ঠিক থাকলে আদালত স্বাক্ষর ও সিলমোহরযুক্ত সনদ ইস্যু করেন। দশম খণ্ডের অধীন সনদ সারা বাংলাদেশে কার্যকর। এতে উল্লিখিত পাওনা ও সিকিউরিটির বিষয়ে, যাঁদের কাছে তা পাওনা তাঁদের বিরুদ্ধে এটি চূড়ান্ত প্রমাণ। সরল বিশ্বাসে সনদধারীকে পরিশোধ করলে, পরে মঞ্জুরিতে ত্রুটি ধরা পড়লেও, তাঁরা পূর্ণ দায়মুক্তি পান। এই দায়মুক্তির কারণেই ব্যাংক ও সঞ্চয় অফিস ওয়ারিশ সনদের চেয়ে এটি পছন্দ করে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য সার্টিফায়েড কপি নেওয়া উচিত।
কোথায়: যুগ্ম জেলা জজ আদালত (অর্পিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত আদালত) · সময়: ১-৪ সপ্তাহ · আইন: উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৮০; উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৮১ · কাগজপত্র: সাকসেশন সার্টিফিকেট, সার্টিফায়েড কপি
পরামর্শ: আদালত ছাড়ার আগে সনদে নামের বানান ও হিসাব নম্বর মিলিয়ে দেখুন; সামান্য অমিল থাকলেও ব্যাংক তা ফেরত দেয়।
ধাপ ১২ · সনদের ব্যবহারটাকা আদায় ও সিকিউরিটি হস্তান্তর
সনদধারী পরিচয়পত্র ও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ফরমসহ প্রতিটি ব্যাংক, জাতীয় সঞ্চয় অফিস, কোম্পানি বা ডিপোজিটরি পার্টিসিপ্যান্টের কাছে সনদ উপস্থাপন করেন। প্রতিষ্ঠান স্থিতি পরিশোধ করে বা সিকিউরিটি সনদধারীর নামে, অথবা সনদ ও তাঁদের নির্দেশনা অনুমতি দিলে ওয়ারিশদের নামে হস্তান্তর করে। বৈধ সনদের ভিত্তিতে সরল বিশ্বাসে পরিশোধকারী প্রতিষ্ঠান দায়মুক্ত হয়, পরে সনদ বাতিল হলেও। এরপর সনদধারীকে প্রযোজ্য ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী অংশ মোতাবেক সব ওয়ারিশের মধ্যে টাকা বণ্টন করতে হয়।
কোথায়: ব্যাংক, জাতীয় সঞ্চয় অফিস বা কোম্পানি · সময়: ২-৮ সপ্তাহ · আইন: উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৮১; উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৮৬ · কাগজপত্র: সাকসেশন সার্টিফিকেট (সার্টিফায়েড কপি), সনদধারীর এনআইডি, ব্যাংকের দাবি ফরম, শেয়ার হস্তান্তর ফরম
পরামর্শ: হিসাব স্থানান্তরের মাধ্যমে টাকা নিন এবং ব্যাংকের দায়মুক্তিপত্র রেখে দিন; অন্য ওয়ারিশ পরে মামলা করলে এটিই আপনার প্রমাণ।
ধাপ ১৩ · সনদের ব্যবহারসনদের সম্প্রসারণ বা সংশোধন
পরে আরেকটি হিসাব বা সিকিউরিটি পাওয়া গেলে সনদধারীকে বাংলাদেশে সাকসেশন সার্টিফিকেট পাওয়ার প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু করতে হয় না। তিনি একই আদালতে নতুন পাওনা বা সিকিউরিটি পর্যন্ত সনদ সম্প্রসারণের আবেদন করেন। সম্প্রসারণের প্রভাব এমন, যেন সম্পদটি শুরু থেকেই তালিকায় ছিল, যদিও আদালত অতিরিক্ত বন্ড চাইতে পারেন। আদালত সুদ বা লভ্যাংশ গ্রহণ, অথবা সিকিউরিটি হস্তান্তরযোগ্য করা বা হস্তান্তরের ক্ষমতা যোগ বা পরিবর্তন করতে সনদ সংশোধনও করতে পারেন। সম্প্রসারণ সাধারণত মূল মঞ্জুরির চেয়ে দ্রুত হয়, তবে নোটিশের প্রয়োজন হতে পারে।
কোথায়: যুগ্ম জেলা জজ আদালত (অর্পিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত আদালত) · সময়: ১-৪ মাস · আইন: উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৭৬; উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৭৮ · কাগজপত্র: সম্প্রসারণের আবেদন, নতুন পাওনা বা সিকিউরিটির বিবরণ, আদেশ হলে অতিরিক্ত বন্ড
পরামর্শ: দাখিলের আগে ভালোভাবে সব হিসাব খুঁজে নিন; বারবার সম্প্রসারণে খরচ ও সময় দুটোই বাড়ে।
ধাপ ১৪ · সনদের ব্যবহারসনদ বাতিল (প্রত্যাহার)
যেকোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সনদ মঞ্জুরকারী আদালতে তা বাতিলের আবেদন করতে পারেন। কারণ হতে পারে কার্যধারায় মৌলিক ত্রুটি, অথবা প্রতারণা, মিথ্যা বর্ণনা বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে সনদ নেওয়া। কোনো অপরিহার্য তথ্যের অসত্য দাবি, সনদ অকেজো হয়ে যাওয়া, বা একই সম্পদে পরে আদালতের ডিক্রিও বাতিলের কারণ। কোনো ওয়ারিশকে বাদ দেওয়াই সবচেয়ে সাধারণ কারণ। ঢাকার একটি মামলায় একতরফাভাবে মঞ্জুর করা একটি সনদ মৃত ব্যক্তির বিধবা স্ত্রীর আবেদনে বাতিল হয়, যাঁকে পক্ষ করা হয়নি। বাতিল হওয়া সনদ আদালতে জমা দিতে হয়।
কোথায়: যুগ্ম জেলা জজ আদালত (অর্পিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত আদালত) · সময়: ৬ মাস থেকে ২ বছর · আইন: উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৮৩; উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৮৯ · কাগজপত্র: বাতিলের আবেদন, বাদ পড়া ওয়ারিশ বা প্রতারণার প্রমাণ, সনদের সার্টিফায়েড কপি
পরামর্শ: অজান্তে নেওয়া কোনো সনদের কথা জানতে পারলে ওয়ারিশের উচিত দ্রুত বাতিলের আবেদন করা এবং এর মধ্যে টাকা পরিশোধ বন্ধ রাখার আদেশ চাওয়া।
যদি এমন হয়…? সাকসেশন সার্টিফিকেট পাওয়ার নিয়ম যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে
একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।
হেরে যাওয়া পক্ষ আপিল করলে কী হয়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
জেলা জজ বা অর্পিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত আদালত থেকে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল
আদেশটি জেলা জজ, অথবা জেলা জজের ক্ষমতা প্রয়োগকারী যুগ্ম জেলা জজ দিলে আপিল হাইকোর্ট বিভাগে যায়। এটি ৯০ দিনের মধ্যে প্রথম বিবিধ আপিল (First Miscellaneous Appeal) হিসেবে দাখিল করতে হয়। ক্ষমতাপ্রাপ্ত সিভিল জজ বা সিনিয়র সিভিল জজ আদালত মামলাটি নিষ্পত্তি করলে আপিল যায় জেলা জজের কাছে, যা পরের প্রশ্নে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগ অধিকারী ব্যক্তিকে ঘোষণা করে নিম্ন আদালতকে তাঁর নামে সনদ মঞ্জুরের নির্দেশ দিতে পারেন, যা আগে দেওয়া যেকোনো সনদকে প্রতিস্থাপন করে।
দাখিলের জন্য ৯০ দিন; নিষ্পত্তিতে ১-৩ বছরউত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৮৪(১)-(২)দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ২৪তামাদি আইন, ১৯০৮, প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ১৫৬ - 2হাইকোর্ট বিভাগ
পুনঃশুনানি ও ফলাফল নিম্ন আদালতে প্রেরণ
প্রথম বিবিধ আপিলে নথির ভিত্তিতে তথ্য ও আইন দুটোই পুনর্বিবেচনা করা হয়। হাইকোর্ট বিভাগ আদেশটি বহাল রাখতে, বাতিল করতে, অথবা নিজেই অধিকারী ব্যক্তিকে ঘোষণা করে বিদ্যমান সনদের স্থলে নতুন সনদ মঞ্জুরের জন্য নিম্ন আদালতকে নির্দেশ দিতে পারেন। আপিল দাখিল করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা পরিশোধ বন্ধ হয় না, তাই আপিলকারী সাধারণত স্থগিতাদেশ বা ব্যাংককে টাকা পরিশোধে নিষেধাজ্ঞা চান। এরপর নথি নিম্ন আদালতে ফেরত যায়, যেখান থেকে নতুন সনদ ইস্যু হয়।
১-৩ তারিখে শুনানি; এর ১-৩ মাস পর রায়উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৮৪(১)দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ৫
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল আদালত মঞ্জুরি বহাল রাখেন অথবা সঠিক ব্যক্তির নামে নতুন সনদের নির্দেশ দেন।
সিভিল জজ আদালত সিদ্ধান্ত দিলে কী হবে, আর জেলা জজের পর হাইকোর্ট বিভাগ কি হস্তক্ষেপ করতে পারেন?
- 1জেলা জজ আদালত
ক্ষমতাপ্রাপ্ত সিভিল জজ আদালত থেকে জেলা জজের কাছে আপিল
সনদ মঞ্জুর, নামঞ্জুর বা বাতিলের আদেশ ধারা ৩৮৮-এর অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত সিভিল জজ বা সিনিয়র সিভিল জজ আদালত দিলে আপিল যায় জেলা জজের কাছে, হাইকোর্ট বিভাগে নয়। দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী জেলা জজের কাছে আপিলের জন্য নির্ধারিত সময়, অর্থাৎ ৩০ দিনের মধ্যে আপিল দাখিল করতে হয়। জেলা জজ কে সনদ পাবেন তা ঘোষণা করে নিম্ন আদালতকে তা মঞ্জুরের নির্দেশ দিতে পারেন।
দাখিলের জন্য ৩০ দিন; নিষ্পত্তিতে ৬-১৮ মাসউত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৮৮(২)-এর শর্তাংশউত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৮৪(২)তামাদি আইন, ১৯০৮, প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ১৫২ - 2হাইকোর্ট বিভাগ
হাইকোর্ট বিভাগে দেওয়ানি রিভিশন
ক্ষমতাপ্রাপ্ত নিম্ন আদালত থেকে আসা আপিলে জেলা জজের আদেশ চূড়ান্ত, তবে তা কার্যবিধির রিভিশন, রিভিউ ও রেফারেন্স সংক্রান্ত বিধান সাপেক্ষে। তাই কোনো পক্ষ দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫(১)-এর অধীন হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করতে পারেন। কারণ হতে হবে এমন আইনগত ভুল, যা ভুল সিদ্ধান্ত ও ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা ঘটিয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগ তথ্যের পুনঃশুনানি করেন না। আদালত রুল জারি করে এর মধ্যে সনদের অধীন টাকা পরিশোধ স্থগিত করতে পারেন।
১-৩ বছরউত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৮৮(৩)উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৮৪(৩)দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫(১)
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল আদেশ বহাল থাকে, সংশোধিত হয়, অথবা নতুন সিদ্ধান্তের জন্য ফেরত পাঠানো হয়।
আদালত কি নিজের আদেশ রিভিউ করতে পারেন?
- 1যুগ্ম জেলা জজ আদালত (অর্পিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত আদালত)
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭-এর অধীন রিভিউ
দশম খণ্ড দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১৪১-এর মাধ্যমে প্রযোজ্য রিভিউয়ের বিধান স্পষ্টভাবে বহাল রেখেছে। যে আদালত সনদ মঞ্জুর বা নামঞ্জুর করেছেন, তিনি ধারা ১১৪ ও আদেশ ৪৭-এর অধীন নিজের আদেশ রিভিউ করতে পারেন। কারণগুলো হলো: যথাযথ চেষ্টা সত্ত্বেও আগে দাখিল করা যায়নি এমন নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য আবিষ্কার, নথিতে প্রকাশ্য ভুল বা ত্রুটি, অথবা অন্য কোনো পর্যাপ্ত কারণ। কোনো ওয়ারিশ গোপন করার বিষয়টি ধারা ৩৮৩-এর অধীন বাতিলের মাধ্যমে মোকাবিলা করাই ভালো।
২-৬ মাসউত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৮৪(৩) ও ধারা ৩৮৮(৩)দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৪, ধারা ১৪১ ও আদেশ ৪৭ - 2সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ
হাইকোর্ট বিভাগ একই কার্যবিধির বিধান অনুযায়ী নিজের আপিল বা রিভিশনাল রায় রিভিউ করতে পারেন। আপিল বিভাগ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীন নিজের রায় রিভিউ করতে পারেন। দুটিই সংকীর্ণ প্রতিকার, দ্বিতীয় আপিল নয়। সাক্ষ্য সম্পর্কে আদালতের মূল্যায়নের সঙ্গে কেবল দ্বিমত থাকলে রিভিউতে সফল হওয়া যায় না।
৩-১২ মাসদেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রিভিউ কদাচিৎ মঞ্জুর হয়; বেশির ভাগ ভুল আপিল, রিভিশন বা বাতিলের মাধ্যমে সংশোধিত হয়।
আইনের কোনো প্রশ্ন কি উচ্চ আদালতে রেফার করা যায়?
- 1যুগ্ম জেলা জজ আদালত (অর্পিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত আদালত)
হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স
দশম খণ্ড কার্যবিধির রেফারেন্স পদ্ধতিও বহাল রেখেছে। আবেদনের শুনানিকারী আদালত দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৩ ও আদেশ ৪৬-এর অধীন ঘটনা বিবৃত করে আইনের কোনো প্রশ্ন মতামতের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে পাঠাতে পারেন। উদাহরণ: কোনো আইন নমিনিকে আমানতের নিরঙ্কুশ মালিক বানায়, নাকি কেবল ওয়ারিশদের ট্রাস্টি, তা নিয়ে প্রকৃত সংশয়। রেফারেন্স কম হয়। বেশির ভাগ আদালত নিজেই বিষয়টি নিষ্পত্তি করে আপিলের ওপর ছেড়ে দেন।
৬-১৮ মাসউত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৮৪(৩)দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৩ ও আদেশ ৪৬ - 2হাইকোর্ট বিভাগ
মতামত ফেরত
হাইকোর্ট বিভাগ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে নথি ফেরত পাঠান। এরপর নিম্ন আদালত সেই মতামত অনুযায়ী আবেদন নিষ্পত্তি করেন, এবং স্বাভাবিক আপিলের অধিকার বহাল থাকে। বাংলাদেশে সাকসেশন সার্টিফিকেট পাওয়ার প্রক্রিয়া সংক্ষিপ্ত হওয়ার কথা, তাই রেফারেন্স কেবল আইনের সত্যিকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জন্য।
ওপরের সময়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্তদেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৬ বিধি ৩-৫
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগের উত্তরের ভিত্তিতে নিম্ন আদালত আবেদন নিষ্পত্তি করেন।
মামলা নতুন শুনানির জন্য ফেরত পাঠানো হলে কী হয়?
- 1হাইকোর্ট বিভাগ
আদেশ বাতিল ও পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত
যে ওয়ারিশের নোটিশ পাওয়ার কথা ছিল তাঁকে নোটিশ না দিয়ে নিম্ন আদালত সনদ মঞ্জুর করলে, অথবা বিয়ে বা পিতৃত্ব-মাতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য উপেক্ষা করলে, আপিল আদালত আদেশটি বাতিল করতে পারেন। এরপর আদালত নিজেই অধিকারী ব্যক্তিকে ঘোষণা করতে পারেন, অথবা পক্ষ যুক্ত করা ও সাক্ষ্য নেওয়ার নির্দেশসহ আবেদনটি পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠাতে পারেন। ২০২৫ সাল থেকে নথিতে থাকা সাক্ষ্য যথেষ্ট হলে আপিল আদালতকে মামলা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করতে হয়, তাই ফেরত পাঠানো কেবল প্রকৃত ঘাটতির ক্ষেত্রে।
আপিল নিষ্পত্তির সময়ের আদেশউত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৮৪(১)দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ২৩-২৫ (বিধি ২৪, ২০২৬ সালের ৩৬ নং আইন দ্বারা সংশোধিত) - 2যুগ্ম জেলা জজ আদালত (অর্পিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত আদালত)
নতুন শুনানি ও নতুন আদেশ
নিম্ন আদালত নতুন নোটিশ দেন, যুক্ত হওয়া ওয়ারিশদের বক্তব্য ও সাক্ষ্য শোনেন এবং নতুন আদেশ দেন। ক্ষেত্রমতো সেই আদেশের বিরুদ্ধে আবার জেলা জজ বা হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা যায়। এর মধ্যে ব্যাংক সাধারণত টাকা দেয় না, তাই পক্ষগুলো প্রায়ই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায় সম্মত হন, যেমন আমানতটি মেয়াদি হিসাবে রেখে দেওয়া।
৬-১২ মাসউত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৭৩উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৮৪
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: নিম্ন আদালত সনদের বিষয়ে নতুন আদেশ দেন, যার বিরুদ্ধে আবার আপিল করা যায়।
মামলা কি আপিল বিভাগ পর্যন্ত যেতে পারে?
- 1সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল
হাইকোর্ট বিভাগে হেরে যাওয়া পক্ষ সাধারণত ৬০ দিনের মধ্যে আপিল বিভাগে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতির আবেদন) দাখিল করতে পারেন। অনুমতি দেওয়া হয় কেবল আইনের গুরুতর প্রশ্নে, যেমন ওয়ারিশদের বিপরীতে নমিনির অধিকার, বা বিতর্কিত বিয়ের উত্তরাধিকারের ওপর প্রভাব। সাকসেশন সার্টিফিকেট স্বত্ব চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে না বলে অনেক পক্ষ এর বদলে ঘোষণামূলক নিয়মিত মোকদ্দমা দায়ের করেন।
১-৩ বছরগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (আপিল বিভাগ) বিধিমালা, ১৯৮৮উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর ধারা ৩৮৭
শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তে সনদ নিয়ে বিরোধের অবসান হয়, যদিও স্বত্ব নিয়ে নিয়মিত মোকদ্দমায় লড়া যায়।
সাকসেশন সার্টিফিকেট পাওয়ার নিয়ম যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে
আইন অনুযায়ী বাংলাদেশে সাকসেশন সার্টিফিকেট মঞ্জুরের এখতিয়ার জেলা জজের। বাস্তবে আবেদনটি সাধারণত জেলা জজের ক্ষমতা প্রয়োগকারী যুগ্ম জেলা জজ, অথবা ধারা ৩৮৮-এর অধীন সরকারি প্রজ্ঞাপনে ক্ষমতাপ্রাপ্ত সিভিল জজ বা সিনিয়র সিভিল জজ আদালত শুনানি করেন। দেওয়ানি আদালত আইনের সাধারণ আর্থিক এখতিয়ারসীমা, ১৫ লাখ টাকা ও ২৫ লাখ টাকা, এই ফোরাম নির্ধারণ করে না; দশম খণ্ডের বিশেষ বিধানই তা নির্ধারণ করে। সিদ্ধান্তদানকারী আদালতের স্তরই আপিলের পথ ঠিক করে। ক্ষমতাপ্রাপ্ত নিম্ন আদালতের আদেশ যায় জেলা জজের কাছে, যাঁর আপিল আদেশ রিভিশন, রিভিউ ও রেফারেন্স ছাড়া চূড়ান্ত।
জেলা জজ বা জেলা জজের ক্ষমতা প্রয়োগকারী যুগ্ম জেলা জজের আদেশ প্রথম বিবিধ আপিল হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগে যায়। উভয় আপিল আদালত তথ্য ও আইন পুনর্বিবেচনা করেন এবং কে সনদ পাবেন তা নিজেরাই ঘোষণা করতে পারেন। হাইকোর্ট বিভাগের রিভিশনাল ক্ষমতা আইনগত ভুলের মধ্যে সীমিত। আপিল বিভাগে যাওয়া যায় কেবল অনুচ্ছেদ ১০৩-এর অধীন অনুমতি নিয়ে। স্বত্বের প্রশ্ন সব সময় নিয়মিত মোকদ্দমায় বিচার করা যায়।
- আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
- হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
- আপিল পর্যায়জেলা জজ আদালত
- প্রথম দফার আদালতসিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত (ধারা ৩৮৮-এর অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত) · যুগ্ম জেলা জজ আদালত (অর্পিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত আদালত)
- শুরু · আদালতের বাইরেআইনজীবীর চেম্বার · ইউনিয়ন পরিষদ / সিটি কর্পোরেশন (ওয়ারিশ সনদ) · ব্যাংক, জাতীয় সঞ্চয় অফিস বা কোম্পানি
আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়
ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।
দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা (ঢাকা জজ কোর্ট)
ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকাঢাকার জেলা জজ (District Judge) ও অতিরিক্ত জেলা জজদের আদালত (দেওয়ানি আপিল, প্রোবেট, মহানগর এলাকার বাইরের জেলা পর্যায়ের দেওয়ানি ও দায়রা মামলা), এবং প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতসমূহ (যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সিভিল জজ/সিভিল জজ আদালত)।
সরকারি বিচার বিভাগীয় পোর্টালে ঠিকানা দেওয়া আছে "১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা"। অনেক দেওয়ানি আদালত (অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত, যুগ্ম জেলা জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, অর্থঋণ আদালত নং ১, দেউলিয়া আদালত) একই প্রাঙ্গণে নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনে বসে। ২০২৬ সালের জাজশিপ তালিকায় প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতগুলোর নাম "সিনিয়র সিভিল জজ" / "সিভিল জজ" (আগে সিনিয়র সহকারী জজ / সিভিল জজ); কিছু পাতায় এখনো পুরোনো নাম ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি জেলায় জেলা জাজশিপে এর সমতুল্য আদালত রয়েছে।
আইনজীবীর চেম্বার
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন
ডিএসসিসি: নগর ভবন, ঢাকা-১০০০; ডিএনসিসি: গুলশান সেন্টার পয়েন্ট, প্লট ২৩-২৬, রোড ৪৬, গুলশান-২, ঢাকা-১২১২পৌর সংস্থা: হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, এবং অঞ্চল/ওয়ার্ড অফিসের মাধ্যমে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর অধীন সালিশি পরিষদের (চেয়ারম্যানের) কাজ।
ডিএনসিসির ওয়েবসাইট: https://dncc.gov.bd। তালাকের নোটিশ ও সালিশি পরিষদের বিষয়গুলো প্রধান কার্যালয়ে নয়, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিষ্পত্তি হয়। ম্যাপ লিংকটি ডিএসসিসির নগর ভবন দেখায়; ডিএনসিসির জন্য গুলশানের ঠিকানা খুঁজুন।
ব্যাংক, জাতীয় সঞ্চয় অফিস বা কোম্পানি
এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে
এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।
কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা
আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।
- সাকসেশন সার্টিফিকেট / উত্তরাধিকার সনদ (Succession certificate)
- উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫-এর দশম খণ্ডের অধীন আদালতের সনদ, যা সনদধারীকে মৃত ব্যক্তির নির্দিষ্ট পাওনা ও সিকিউরিটি আদায়ের ক্ষমতা দেয়।
- ওয়ারিশ সনদ (Warishan certificate)
- স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান (ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন) কর্তৃক ইস্যু করা ওয়ারিশদের তালিকাসংবলিত সনদ। এটি সাক্ষ্য, কিন্তু টাকা আদায়ের ক্ষমতা নয়।
- পাওনা ও সিকিউরিটি (Debts and securities)
- মৃত ব্যক্তির পাওনা টাকা (যেমন ব্যাংক আমানত) এবং সরকারি সঞ্চয়পত্র, শেয়ার ও ডিবেঞ্চারের মতো দলিল, যা ধারা ৩৭০-এ সংজ্ঞায়িত।
- জামানত বন্ড (Security bond)
- মঞ্জুরিপ্রাপ্ত ব্যক্তি কর্তৃক আদালতে দেওয়া জামিনদারসহ বন্ড, যা যথাযথ হিসাবের নিশ্চয়তা দেয় এবং অন্য অধিকারীদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করে।
- সম্প্রসারণ (Extension)
- ধারা ৩৭৬-এর অধীন বিদ্যমান সনদে আরেকটি পাওনা বা সিকিউরিটি যোগ করার আদেশ।
- বাতিল / প্রত্যাহার (Revocation)
- ধারা ৩৮৩-এর অধীন সনদ বাতিল, যেমন কোনো ওয়ারিশকে গোপন করে সনদ নেওয়া হলে।
- নমিনি (Nominee)
- হিসাবধারী তাঁর মৃত্যুর পর টাকা গ্রহণের জন্য যাঁর নাম দেন। হাইকোর্ট বিভাগ বলেছেন, সঞ্চয় ব্যাংক আইনের অধীন নমিনি টাকাটি ওয়ারিশদের পক্ষে ট্রাস্টি হিসেবে ধারণ করেন।
- অর্পিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত আদালত (Delegated court)
- উত্তরাধিকার আইনের বিষয়ে জেলা জজের ক্ষমতা প্রয়োগকারী যুগ্ম জেলা জজ আদালত।
সাকসেশন সার্টিফিকেট পাওয়ার নিয়ম: সাধারণ প্রশ্ন
সাকসেশন সার্টিফিকেট আর ওয়ারিশ সনদের মধ্যে পার্থক্য কী?
জমির জন্য কি সাকসেশন সার্টিফিকেট লাগে?
কোন আদালতে আবেদন করতে হয়?
সাকসেশন সার্টিফিকেট পেতে কত দিন লাগে?
সনদ কি ঠিক করে দেয় টাকার মালিক কে?
কোনো ওয়ারিশ বাদ পড়লে কী করবেন?
আদালত কেন জামানত বন্ড চান?
আপিল কোথায় করতে হয়?
আইন ও উৎস
- Succession Act 1925 (Part X), Bangladesh Legal Database
- Court-fees Act 1870, Bangladesh Legal Database
- Civil Courts Act 1887, Bangladesh Legal Database
- High Court Division, First Misc. Appeal No. 279 of 2012 (revocation of ex parte succession certificate)
- High Court Division, First Misc. Appeal No. 20 of 2025 (contested succession certificate)
- The Daily Star: Right of legal heirs against nominees
- The Financial Express: Bank Company Act, nominee versus successor
- Code of Civil Procedure (Amendment) Act 2026 (Act 36 of 2026), Bangladesh Legal Database
এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান
সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →
আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?
একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।