বাংলাদেশে ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ মামলা: পুরো প্রক্রিয়া, ধাপে ধাপে

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

কেস জার্নি/দেওয়ানি

বাংলাদেশে ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ মামলা: পুরো প্রক্রিয়া, ধাপে ধাপে

বাংলাদেশে ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ মামলা হলো ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে বাড়ি, ফ্ল্যাট বা দোকানের দখল পুনরুদ্ধারের জন্য বাড়িওয়ালার দায়ের করা দেওয়ানি মোকদ্দমা। বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১ সময়মতো আইনসংগত ভাড়া পরিশোধকারী ভাড়াটিয়াকে সুরক্ষা দেয়, তাই বাড়িওয়ালাকে আইনে নির্ধারিত কোনো কারণ প্রমাণ করতে হয়, যেমন ভাড়া খেলাপ, অনুমতি ছাড়া সাবলেট, উপদ্রব বা প্রাঙ্গণের প্রকৃত প্রয়োজন। মোকদ্দমার বিচার করেন সিভিল জজ বা সিনিয়র সিভিল জজ আদালত।

আপিল যায় জেলা জজের কাছে, রিভিশন হাইকোর্ট বিভাগে, এবং ভাড়াটিয়া বাধা দিলে পুলিশের সহায়তায় ডিক্রি জারি করা হয়।

পাতায় ধাপে ধাপে দেখুন
ভাড়াটিয়া সম্পর্ক ও উচ্ছেদের কারণ যাচাই করুন
▶পূর্ণ স্ক্রিনে চালান১৫টি ধাপ · ৭টি বিকল্প পথ · ৮টি আদালত ও অফিস
কোথা থেকে শুরু
প্রাঙ্গণ যে এলাকায় অবস্থিত সেখানকার সিভিল জজ (পূর্বে সহকারী জজ) বা সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, বার্ষিক ভাড়ার ভিত্তিতে…
মূল আইন
বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সালের ৩ নং আইন) ধারা ৪, ১৩, ১৮-২০, ২৬-৩০, ৩৩; সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ ধারা ১০৬, ১০৮ ও…
সাধারণ সময়কাল
ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক সময়সীমা: প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে ডিক্রি পর্যন্ত দেড় থেকে ৪ বছর; জারি ৩ থেকে ১২ মাস…
কে মামলা করতে পারেন
বাড়িওয়ালা (মালিক, সহ-মালিক, মোক্তার বা ভাড়া গ্রহণের অধিকারী যেকোনো ব্যক্তি, আইনগত প্রতিনিধি বা সাবলেট দেওয়া…
ইন্টারঅ্যাকটিভ যাত্রাপথ · ১৫টি ধাপ

ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ মামলা: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে

“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।

আপনার মামলা এখন কোথায়
ওপরেনিচে ফেরত
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
  1. ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ মামলা: ধাপ ১, ভাড়াটিয়া সম্পর্ক ও উচ্ছেদের কারণ যাচাই করুন
    ধাপ ১ · দাখিলের আগে

    ভাড়াটিয়া সম্পর্ক ও উচ্ছেদের কারণ যাচাই করুন

    বাড়িওয়ালা ও আইনজীবী শুরু করেন ভাড়ার চুক্তি, ভাড়ার রসিদ এবং পরিশোধের ইতিহাস দিয়ে। বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১-এর ধারা ১৮ অনুযায়ী ভাড়াটিয়া পূর্ণ আইনসংগত ভাড়া পরিশোধ করলে এবং শর্তাবলি মেনে চললে কোনো উচ্ছেদ ডিক্রি দেওয়া যায় না। এই বিধান সম্পত্তি হস্তান্তর আইন ও চুক্তি আইনের ওপর প্রাধান্য পায়। তাই বাংলাদেশে ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ মামলা কেবল আইনে নির্ধারিত কারণেই সফল হয়। কারণগুলো হলো ভাড়া খেলাপ, লিখিত সম্মতি ছাড়া সাবলেট, প্রতিবেশীদের উপদ্রব, অনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার, অথবা ভাড়াটিয়ার আইনগত দায়িত্ব লঙ্ঘন। অন্যগুলো হলো পুনর্নির্মাণ বা নিজে বসবাসের সরল বিশ্বাসে প্রয়োজন, অথবা আদালতের কাছে সন্তোষজনক অন্য কোনো কারণ।

    কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১-এর ধারা ১৮(১); সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২-এর ধারা ১০৮; বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৩৩ (সরকারি ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রাঙ্গণ বহির্ভূত) · কাগজপত্র: ভাড়ার চুক্তি, ভাড়ার রসিদের মুড়ি বা ব্যাংক রেকর্ড, মালিকানার দলিল, ছবি বা অভিযোগ (উপদ্রবের ক্ষেত্রে)

    পরামর্শ: ভাড়াটিয়া আইনসংগত ভাড়া দিতে প্রস্তুত ও ইচ্ছুক থাকলে ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়া বা ভবন বিক্রি নিজে থেকে উচ্ছেদের কারণ নয়।

  2. ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ মামলা: ধাপ ২, উচ্ছেদের নোটিশ দিন
    ধাপ ২ · দাখিলের আগে

    উচ্ছেদের নোটিশ দিন

    বাড়িওয়ালার আইনজীবী ভাড়াটিয়া সম্পর্ক অবসানের লিখিত নোটিশ দেন। মাসিক ভাড়ার ক্ষেত্রে চুক্তিতে ভিন্ন কিছু না থাকলে এটি সাধারণত ভাড়ার কোনো মাসের শেষে শেষ হওয়া ১৫ দিনের নোটিশ। এটি প্রাপ্তিস্বীকারসহ রেজিস্ট্রি ডাকে পাঠানো হয় এবং সম্ভব হলে হাতে হাতেও দেওয়া হয়। নোটিশে নির্ভরযোগ্য কারণ উল্লেখ করা উচিত, যেমন কত মাসের খেলাপ, এবং খালি দখল ও বকেয়া দাবি করা উচিত। ত্রুটিপূর্ণ নোটিশ সবচেয়ে প্রচলিত আত্মপক্ষ সমর্থনের একটি। পরে বাড়িওয়ালার গ্রহণ করা ভাড়া বা ভাড়াটিয়ার নিয়ন্ত্রকের কাছে জমা দেওয়া ভাড়া নিজে থেকে নোটিশ প্রত্যাহার করে না।

    কোথায়: আইনজীবীর চেম্বার · সময়: ২-৬ সপ্তাহ · আইন: সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২-এর ধারা ১০৬ ও ধারা ১১১; বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১-এর ধারা ২০ · কাগজপত্র: উচ্ছেদের নোটিশ, ডাক রসিদ ও প্রাপ্তিস্বীকার কার্ড, হাতে হাতে দেওয়ার সাক্ষী

    পরামর্শ: চুক্তিতে উল্লিখিত ভাড়ার মাস থেকে নোটিশের মেয়াদ সাবধানে গণনা করুন; ভুল দিনে শেষ হওয়া নোটিশ মোকদ্দমা ডুবিয়ে দিতে পারে।

  3. ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ মামলা: ধাপ ৩, ভাড়া নিয়ন্ত্রকের কাছে ভাড়া জমা (ভাড়াটিয়ার রক্ষাকবচ)
    ধাপ ৩ · দাখিলের আগে

    ভাড়া নিয়ন্ত্রকের কাছে ভাড়া জমা (ভাড়াটিয়ার রক্ষাকবচ)

    বাড়িওয়ালা ডাকযোগে মানি অর্ডারে পাঠানো ভাড়া নিতে অস্বীকার করলে ভাড়াটিয়া তা বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রকের কাছে জমা দিতে পারেন। মানি অর্ডার ফেরত আসার ১৫ দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে। ভাড়া পাওয়ার অধিকারী কে তা নিয়ে প্রকৃত বিরোধ থাকলে, বাড়িওয়ালার ঠিকানা অজানা থাকলে, অথবা বৈদেশিক মুদ্রা বিধির কারণে পরিশোধে বাধা থাকলেও একই নিয়ম। পরবর্তী মাসগুলোর ভাড়াও প্রাপ্য হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে। যে ভাড়াটিয়া পরিশোধের তারিখ পার করেন, বা আইনি পথ ও সময়ের বাইরে জমা দেন, তিনি ধারা ১৮-এর সুরক্ষা হারান। এ কারণেই বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া উভয়েই জমার রেকর্ড খুঁটিয়ে দেখেন।

    কোথায়: বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রক · সময়: মাসিক, চলমান · আইন: বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১-এর ধারা ১৮(৫); বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১-এর ধারা ১৯(১)-(১১) · কাগজপত্র: ফেরত আসা মানি অর্ডার, জমার আবেদন, নিয়ন্ত্রকের জমা রসিদ

    পরামর্শ: ভাড়াটিয়ারা: আগে মানি অর্ডার চেষ্টা করুন এবং তা প্রত্যাখ্যাত হলেই কেবল জমা দিন; আগের প্রত্যাখ্যান ছাড়া জমা বৈধ পরিশোধ হিসেবে গণ্য নাও হতে পারে।

  4. ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ মামলা: ধাপ ৪, লিগ্যাল এইড অফিসে মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা (যেখানে কার্যকর)
    ধাপ ৪ · দাখিলের আগে

    লিগ্যাল এইড অফিসে মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা (যেখানে কার্যকর)

    বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১-এর অধীন বিরোধ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর তফসিলভুক্ত। যেসব জেলায় ধারা ২১খ কার্যকর, সেখানে সংক্ষুব্ধ পক্ষকে প্রথমে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে মধ্যস্থতার আবেদন করতে হয়। মধ্যস্থতা ব্যর্থ হলেই কেবল মোকদ্দমা দায়ের করা যায়, এবং এর সঙ্গে মধ্যস্থতার প্রতিবেদন দাখিল করতে হয়। প্রথম প্রজ্ঞাপন ৩১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০টি জেলায় কার্যকর হয়েছে, এবং ঢাকা এর মধ্যে ছিল না, তাই সর্বশেষ তালিকা যাচাই করুন। মধ্যস্থতায় ব্যয়িত সময় তামাদিতে গণনা হয় না। প্রত্যয়িত সমঝোতা চুক্তি ডিক্রির মতো কার্যকরযোগ্য।

    কোথায়: জেলা লিগ্যাল এইড অফিস (মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা) · সময়: ১-৩ মাস · আইন: আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর ধারা ২১খ ও ধারা ২১গ (২০২৬ সালের ৪৫ নং আইন দ্বারা সন্নিবেশিত); আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর তফসিলের ক্রমিক ২ · কাগজপত্র: মধ্যস্থতার আবেদন, ভাড়া-সংক্রান্ত দলিল, মধ্যস্থতার সমঝোতা চুক্তি বা ব্যর্থতার প্রতিবেদন

    পরামর্শ: খালি করার নির্দিষ্ট তারিখসহ মধ্যস্থতার সমঝোতা ডিক্রির মতো কার্যকরযোগ্য, যা প্রায়ই পূর্ণ মোকদ্দমার চেয়ে দ্রুত।

  5. ধাপ ৫: উচ্ছেদের মোকদ্দমা দায়ের করুন
    ধাপ ৫ · দাখিল ও আত্মপক্ষ সমর্থন

    উচ্ছেদের মোকদ্দমা দায়ের করুন

    বাড়িওয়ালা দখল পুনরুদ্ধারের জন্য আরজি দাখিল করেন, সাধারণত বকেয়া ভাড়া ও অন্তর্বর্তীকালীন মুনাফাসহ (mesne profits)। প্রাঙ্গণ যে এলাকায় অবস্থিত সেখানকার দেওয়ানি আদালতে এটি দাখিল হয়। মোকদ্দমার মূল্যমান ও কোর্ট ফি নির্ধারিত হয় এক বছরের ভাড়ার ভিত্তিতে। ওই মূল্যমানই আদালতও নির্ধারণ করে: ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সিভিল জজ, ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সিনিয়র সিভিল জজ, এর বেশি হলে যুগ্ম জেলা জজ। ২০২৫-২০২৬ সালের সংশোধনীর পর থেকে আরজিতে ফোন, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ইমেইলের বিবরণ থাকতে হবে, এবং এর তথ্য হলফনামা দ্বারা সমর্থিত হতে হবে।

    ভাড়াটিয়া সম্পর্ক অবসানের ১২ বছরের মধ্যে মোকদ্দমা আনতে হবে; বকেয়া তিন বছরের মধ্যে সীমিত।

    কোথায়: সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত · সময়: ১-২ সপ্তাহ · আইন: কোর্ট ফি আইন, ১৮৭০-এর ধারা ৭(১১)(গগ); দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ১৯; দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২৬(২) ও আদেশ ৭ বিধি ১ (২০২৬ সালের ৩৬ নং আইন দ্বারা সংশোধিত); তামাদি আইন, ১৯০৮, প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ১১০ ও ১৩৯ · কাগজপত্র: হলফনামাসহ আরজি, বার্ষিক ভাড়ার ওপর কোর্ট ফি, ভাড়ার চুক্তি ও উচ্ছেদের নোটিশ, প্রয়োজন হলে মধ্যস্থতার প্রতিবেদন, ওকালতনামা

    পরামর্শ: প্রত্যেক সহ-মালিককে বাদী হিসেবে যুক্ত করুন, অথবা কেন নয় তা ব্যাখ্যা করুন; একজন সহ-শরিকের একক মোকদ্দমা রক্ষণীয়তার আপত্তি ডেকে আনে।

  6. ধাপ ৬: সমন ও লিখিত জবাব
    ধাপ ৬ · দাখিল ও আত্মপক্ষ সমর্থন

    সমন ও লিখিত জবাব

    আদালত ভাড়াটিয়ার প্রতি সমন জারি করেন। প্রথাগত পদ্ধতির পাশাপাশি এখন এসএমএস, ভয়েস কল ও ইনস্ট্যান্ট মেসেজিংয়ের মাধ্যমেও জারি করা যায়, যদি নথিতে প্রমাণ রাখা হয়। ভাড়াটিয়া হাজির হয়ে লিখিত জবাব দাখিল করেন। যথাযথ জারির পরও ভাড়াটিয়া হাজির না হলে আদালত একতরফাভাবে অগ্রসর হতে পারেন। একতরফা ডিক্রি একই বিবাদীর আবেদনে কেবল একবারই রদ করা যায়। এর মধ্যে বাড়িওয়ালার উচিত নয় জোর করে ভাড়াটিয়াকে বের করার চেষ্টা করা। বিদ্যুৎ-পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা বা তালা বদলানোর ফলে বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়ার দখল মোকদ্দমা এবং ১৯৯১ সালের আইনের দণ্ডের মুখে পড়তে পারেন।

    কোথায়: সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত · সময়: ২-৪ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৫ বিধি ৯(৩) (২০২৬ সালের ৩৬ নং আইন দ্বারা সংশোধিত); দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৮; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৯ বিধি ১৩; সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৯ · কাগজপত্র: সমন, জারির প্রতিবেদন, লিখিত জবাব

    পরামর্শ: জারির প্রতিটি চেষ্টার রেকর্ড রাখুন; বাংলাদেশে ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ মামলার শুরুর দিকের বেশির ভাগ বিলম্বের কারণ ব্যর্থ জারি।

  7. ধাপ ৭: ভাড়াটিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থন
    ধাপ ৭ · দাখিল ও আত্মপক্ষ সমর্থন

    ভাড়াটিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থন

    বাংলাদেশে ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ মামলায় সাধারণ আত্মপক্ষ সমর্থন হলো ভাড়া সময়মতো পরিশোধ করা হয়েছে, অথবা বাড়িওয়ালা প্রত্যাখ্যান করার পর ভাড়া নিয়ন্ত্রকের কাছে বৈধভাবে জমা দেওয়া হয়েছে। ভাড়াটিয়া বলতে পারেন বৈধ উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়নি, অথবা দাবিকৃত সরল বিশ্বাসের প্রয়োজন আসলে বেশি ভাড়ায় আবার ভাড়া দেওয়ার অজুহাত। অন্য আত্মপক্ষ সমর্থন হলো সাবলেটের অনুমতি ছিল, অথবা বাদী বাড়িওয়ালা নন। ভাড়াটিয়া ভাড়া নিয়ন্ত্রকের কাছে মানসম্মত ভাড়া নির্ধারণের আবেদনও করতে পারেন। মোকদ্দমা চলাকালে পুরো সময় ভাড়াটিয়ার উচিত ভাড়া জমা বা পরিশোধ চালিয়ে যাওয়া। মোকদ্দমা বিচারাধীন অবস্থায় যে ভাড়াটিয়া ভাড়া দেওয়া বন্ধ করেন, তিনি বাড়িওয়ালার হাতে নতুন খেলাপ তুলে দেন।

    কোথায়: সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত · সময়: লিখিত জবাবের সঙ্গে দাখিল · আইন: বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১-এর ধারা ১৮(২) ও ধারা ১৮(৫); বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১-এর ধারা ১৯; বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১-এর ধারা ১৩ (রসিদ দেওয়ার বিষয়ে বাড়িওয়ালার দায়িত্ব) · কাগজপত্র: ভাড়ার রসিদ, নিয়ন্ত্রকের জমা রসিদ, ফেরত আসা মানি অর্ডার, চিঠিপত্র

    পরামর্শ: যে বাড়িওয়ালা রসিদ দিতে অস্বীকার করেন, তাঁর আদায়কৃত অঙ্কের দ্বিগুণ জরিমানার ঝুঁকি আছে; ভাড়াটিয়াদের প্রতি মাসে রসিদ দাবি করা উচিত।

  8. ধাপ ৮: আদালত-সংযুক্ত মধ্যস্থতা
    ধাপ ৮ · বিচার

    আদালত-সংযুক্ত মধ্যস্থতা

    লিখিত জবাব দাখিলের পর এবং উভয় পক্ষ উপস্থিত থাকলে আদালতকে শুনানি মুলতবি করে নিজেই মধ্যস্থতার চেষ্টা করতে হয়। বিকল্প হিসেবে বিরোধটি লিগ্যাল এইড অফিসার, পক্ষগুলোর আইনজীবী বা জেলা জজের প্যানেলভুক্ত মধ্যস্থতাকারীর কাছে পাঠাতে পারেন। উচ্ছেদের বিরোধ প্রায়ই এই পর্যায়ে মীমাংসা হয়, সাধারণত কিছু বকেয়া মওকুফ বা অগ্রিম ফেরতের বিনিময়ে ভাড়াটিয়া নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে খালি করতে সম্মত হন। মীমাংসা আপস ডিক্রি হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়, যা অন্য যেকোনো ডিক্রির মতো জারি করা যায়।

    কোথায়: সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত · সময়: ১-৩ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ৮৯ক; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৩ বিধি ৩ · কাগজপত্র: মধ্যস্থতার আদেশ, মধ্যস্থতার প্রতিবেদন, আপসনামা

    পরামর্শ: খালি করার তারিখ, হস্তান্তরের সময় প্রাঙ্গণের অবস্থা এবং অগ্রিম ফেরতের বিষয়টি আপস ডিক্রিতেই অন্তর্ভুক্ত করুন।

  9. ধাপ ৯: বিচার্য বিষয় ও অন্তর্বর্তী আদেশ
    ধাপ ৯ · বিচার

    বিচার্য বিষয় ও অন্তর্বর্তী আদেশ

    মধ্যস্থতা ব্যর্থ হলে আদালত বিচার্য বিষয় গঠন করেন। সাধারণ বিচার্য বিষয় হলো ভাড়াটিয়া খেলাপ করেছেন কি না, ভাড়াটিয়া সম্পর্ক বৈধভাবে অবসান হয়েছে কি না, বাড়িওয়ালার প্রয়োজন প্রকৃত কি না, এবং মোকদ্দমা রক্ষণীয় কি না। যেকোনো পক্ষ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চাইতে পারেন। ভাড়াটিয়ারা সাধারণত যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া উচ্ছেদ ঠেকাতে, আর বাড়িওয়ালারা অননুমোদিত নির্মাণ বা আরও সাবলেট ঠেকাতে তা চান। অন্তর্বর্তী আদেশ কেবল সীমিত ক্ষেত্রে আপিল বা রিভিশনযোগ্য। এখন সাধারণত একটি পক্ষকে চারবারের বেশি মুলতবি দেওয়া যায় না, যা অন্তহীন মুলতবির পুরোনো ধারা সীমিত করে।

    কোথায়: সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত · সময়: ১-৪ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৪; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩৯ বিধি ১-২; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৭ বিধি ১(৩) (২০২৬ সালের ৩৬ নং আইন দ্বারা সংশোধিত) · কাগজপত্র: গঠিত বিচার্য বিষয়, নিষেধাজ্ঞার আবেদন ও হলফনামা

    পরামর্শ: বিচার্য বিষয় গঠনের পর সাক্ষ্যের জন্য চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণে আদালতকে অনুরোধ করুন; এতে মোকদ্দমা গতিশীল থাকে।

  10. ধাপ ১০: সাক্ষ্য
    ধাপ ১০ · বিচার

    সাক্ষ্য

    প্রত্যেক পক্ষের জবানবন্দি হলফনামায় দেওয়া হয়, আগে অপর পক্ষকে কপি দিয়ে, তারপর জেরা হয়। বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়া সম্পর্ক, ভাড়া, উচ্ছেদের নোটিশ ও কারণ প্রমাণ করেন। খেলাপের মামলা নির্ভর করে পরিশোধের রেকর্ডের ওপর। সরল বিশ্বাসে প্রয়োজনের মামলা নির্ভর করে পরিবারের আবাসন, ভবনের নকশা বা রাজউকের অনুমোদনের প্রমাণের ওপর। ভাড়াটিয়া পরিশোধ বা বৈধ জমা প্রমাণ করেন। উপদ্রবের বিষয়ে প্রতিবেশীরা সাক্ষ্য দিতে পারেন। হলফনামার সঙ্গে দাখিল করা দলিল আদালতের আদেশ সাপেক্ষে গৃহীত হয়। সরল বিশ্বাসে প্রয়োজনের ভিত্তিতে বাংলাদেশে ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ মামলায় আদালত কেবল দাবি নয়, বাড়িওয়ালার প্রকৃত পরিস্থিতি দেখেন।

    কোথায়: সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত · সময়: ৬-১৮ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৮ বিধি ৪ক (২০২৬ সালের ৩৬ নং আইন দ্বারা সন্নিবেশিত); সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ · কাগজপত্র: জবানবন্দির হলফনামা, পরিশোধের রেকর্ড, ভবনের নকশা বা অনুমোদন, পরিবারের আবাসনের প্রমাণ

    পরামর্শ: সরল বিশ্বাসে প্রয়োজনের দাবিতে সুনির্দিষ্টভাবে দেখান কে প্রাঙ্গণে থাকবেন বা কাজ করবেন এবং আপনার অন্য সম্পত্তি কেন যথেষ্ট নয়।

  11. ধাপ ১১: রায় ও ডিক্রি
    ধাপ ১১ · ডিক্রি

    রায় ও ডিক্রি

    যুক্তিতর্কের পর আদালত রায় দেন এবং ডিক্রি প্রস্তুত হয়। বাড়িওয়ালা সফল হলে ডিক্রিতে ভাড়াটিয়াকে খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়, প্রায়ই ৩০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে, এবং দখল হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত বকেয়া ও অন্তর্বর্তীকালীন মুনাফা বা দখল চার্জ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। ভাড়াটিয়া সফল হলে মোকদ্দমা খারিজ হয় এবং ভাড়াটিয়া সম্পর্ক শর্ত অনুযায়ী চলতে থাকে। অবিলম্বে সার্টিফায়েড কপির আবেদন করা হয়, কারণ আপিলের মেয়াদ ডিক্রি থেকে গণনা হয়। পুনর্নির্মাণ বা নিজ ব্যবহারের দাবিতে সফল বাড়িওয়ালার মনে রাখা উচিত উচ্ছেদের পরের শর্তগুলো।

    কোথায়: সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত · সময়: ১-৩ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২০; বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১-এর ধারা ১৮(১)(ঙ) ও ধারা ১৮(৪) · কাগজপত্র: রায়, ডিক্রি, সার্টিফায়েড কপির আবেদন

    পরামর্শ: দখল হস্তান্তর পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন মুনাফার আদেশ চান, যাতে ভাড়াটিয়ার বিলম্বের একটি মূল্য থাকে।

  12. ধাপ ১২: জারির আবেদন করুন
    ধাপ ১২ · জারি ও পরবর্তী পর্যায়

    জারির আবেদন করুন

    ভাড়াটিয়া ডিক্রিতে উল্লিখিত তারিখের মধ্যে খালি না করলে বাংলাদেশে ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ মামলায় বাড়িওয়ালা ডিক্রিদানকারী আদালতে জারির আবেদন করেন। ২০২৫ সাল থেকে আদালত মোকদ্দমার নথিতেই, অথবা উচ্চ আদালত নথি তলব করে থাকলে আংশিক নথিতে, জারির আবেদন গ্রহণ করে অবিলম্বে জারির আদেশ দিতে পারেন। আদালত দখল হস্তান্তরের পরোয়ানা জারি করেন। ডিক্রির অর্থসংক্রান্ত অংশ, যেমন বকেয়া, ভাড়াটিয়ার সম্পত্তি ক্রোক করে, অথবা সীমিত ক্ষেত্রে দেওয়ানি কারাগারে আটক রেখে জারি করা যায়। আপিল আদালত স্থগিতাদেশ দিলেই কেবল জারি স্থগিত থাকে।

    কোথায়: সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত · সময়: ১-২ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ১১; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ১০৪(১) (২০২৬ সালের ৩৬ নং আইন দ্বারা সন্নিবেশিত); দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ৩০ক · কাগজপত্র: জারির দরখাস্ত, ডিক্রির সার্টিফায়েড কপি, প্রাঙ্গণের তফসিল

    পরামর্শ: খালি করার তারিখের পর দ্রুত জারির আবেদন করুন; দেরি করলে ভাড়াটিয়া সাব-ভাড়াটিয়া বসানোর সময় পান, যা দখল হস্তান্তর জটিল করে।

  13. ধাপ ১৩: পুলিশের সহায়তায় দখল হস্তান্তর
    ধাপ ১৩ · জারি ও পরবর্তী পর্যায়

    পুলিশের সহায়তায় দখল হস্তান্তর

    আদালতের কর্মকর্তা, নাজির বা বেলিফ, ভাড়াটিয়া ও ডিক্রি দ্বারা আবদ্ধ যে কাউকে সরিয়ে প্রাঙ্গণ বাড়িওয়ালার কাছে হস্তান্তর করে দখল বুঝিয়ে দেন। ভাড়াটিয়া বা অন্য কেউ বাধা দিলে আদালত আদেশ ২১ বিধি ৯৭ থেকে ১০১ অনুযায়ী তদন্ত করতে পারেন। ২০২৫ সাল থেকে প্রয়োজনে পুলিশের সহায়তায় ডিক্রিদারকে দখলে বসাতে আদালত একজন ব্যক্তিকে নিয়োগও দিতে পারেন। আদালত পুলিশ ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করতে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিপালন প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিতে পারেন। স্বাধীন অধিকার দাবিকারী তৃতীয় পক্ষ আপত্তি জানাতে পারেন, এবং তাঁদের দাবি জারি মামলাতেই নিষ্পত্তি হয়।

    কোথায়: থানা (জারিতে সহায়তা) · সময়: ১-৬ মাস · আইন: দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ৩৫-৩৬; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ৯৭-১০১; দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি ১০৪(২) (২০২৬ সালের ৩৬ নং আইন দ্বারা সন্নিবেশিত); দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৯৪ক (২০২৬ সালের ৩৬ নং আইন দ্বারা সন্নিবেশিত) · কাগজপত্র: দখল হস্তান্তরের পরোয়ানা, পুলিশি সহায়তার আদেশ, প্রতিপালন প্রতিবেদন, রেখে যাওয়া মালামালের তালিকা

    পরামর্শ: পরবর্তী দাবি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে ভাড়াটিয়ার রেখে যাওয়া যেকোনো মালামালের ছবিসহ তালিকা প্রস্তুত করুন।

  14. ধাপ ১৪: ভাড়া নিয়ন্ত্রকের কাছে অভিযোগ
    ধাপ ১৪ · জারি ও পরবর্তী পর্যায়

    ভাড়া নিয়ন্ত্রকের কাছে অভিযোগ

    কিছু বিরোধ দেওয়ানি আদালতে নয়, ভাড়া নিয়ন্ত্রকের কাছে যায়। যে ভাড়াটিয়া প্রাঙ্গণ ছেড়ে দিয়েও খালি দখল বুঝিয়ে দেন না, বাড়িওয়ালার অভিযোগে তাঁকে মানসম্মত ভাড়ার দশ গুণ জরিমানা করা যায়। যে বাড়িওয়ালা ভাড়ার রসিদ দিতে অস্বীকার করেন বা মানসম্মত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায় করেন, ভাড়াটিয়ার অভিযোগে তাঁকে জরিমানা করা যায়। অপরাধের ছয় মাসের মধ্যে অভিযোগ দাখিল করতে হবে, এবং ৩০ দিনের মধ্যে অপরিশোধিত জরিমানা সরকারি পাওনা হিসেবে আদায়যোগ্য। নিয়ন্ত্রককে তিন মাসের মধ্যে আবেদনের শুনানি শেষ করার লক্ষ্য রাখতে হয়।

    কোথায়: বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রক · সময়: ৩-৬ মাস · আইন: বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৪; বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১-এর ধারা ২৩-২৯; সরকারি পাওনা আদায় আইন, ১৯১৩ · কাগজপত্র: লিখিত অভিযোগ, ভাড়ার রসিদ বা প্রত্যাখ্যানের প্রমাণ, ভাড়ার চুক্তি

    পরামর্শ: নিয়ন্ত্রকের কাছে অভিযোগের ছয় মাসের সীমা কঠোর; দ্রুত দাখিল করুন।

  15. ধাপ ১৫: 'প্রয়োজন' মিথ্যা হলে সাবেক ভাড়াটিয়ার প্রতিকার
    ধাপ ১৫ · জারি ও পরবর্তী পর্যায়

    'প্রয়োজন' মিথ্যা হলে সাবেক ভাড়াটিয়ার প্রতিকার

    বাড়িওয়ালা পুনর্নির্মাণ বা নিজে বসবাসের প্রকৃত প্রয়োজনের কারণে দখল পুনরুদ্ধার করে থাকলে আইন তাঁকে সেই কথায় বেঁধে রাখে। ভাড়াটিয়া চলে যাওয়ার দুই মাসের মধ্যে পুনর্নির্মাণ শুরু না হলে বা প্রাঙ্গণে বসবাস না করা হলে সাবেক ভাড়াটিয়া ব্যবস্থা নিতে পারেন। ছয় মাসের মধ্যে প্রাঙ্গণ অন্য কাউকে ভাড়া দিলেও একই কথা। সাবেক ভাড়াটিয়া তখন খালি করার সাত মাসের মধ্যে ভাড়া নিয়ন্ত্রকের কাছে আবেদন করতে পারেন। নিয়ন্ত্রক বাড়িওয়ালাকে দখল ফিরিয়ে দিতে, ক্ষতিপূরণ দিতে, অথবা উভয়ের আদেশ দিতে পারেন। বাংলাদেশে ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ মামলায় উভয় পক্ষই প্রায়ই এই রক্ষাকবচটি উপেক্ষা করেন।

    কোথায়: বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রক · সময়: ৩-৬ মাস · আইন: বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১-এর ধারা ১৮(৪); বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৩০ · কাগজপত্র: নিয়ন্ত্রকের কাছে আবেদন, পুনরায় ভাড়া দেওয়া বা বসবাস না করার প্রমাণ, উচ্ছেদ ডিক্রির কপি

    পরামর্শ: চলে যাওয়ার পরের মাসগুলোতে সাবেক ভাড়াটিয়াদের প্রাঙ্গণের ছবি তোলা এবং নতুন কোনো বাসিন্দা এলে তা লিখে রাখা উচিত।

বিকল্প পথ · আপিল, রিভিশন, রিভিউ, রেফারেন্স, রিমান্ড

যদি এমন হয়…? ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ মামলা যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে

একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।

এই পরিস্থিতির পথ
ওপরেফেরত
আপিল · সিভিল জজ → জেলা জজ → সিভিল জজ

পরাজিত পক্ষ আপিল করলে কী হবে?

  1. 1
    জেলা জজ আদালত

    জেলা জজের কাছে প্রথম আপিল

    সিভিল জজ বা সিনিয়র সিভিল জজের ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিল চলে জেলা জজের কাছে, যিনি তা অতিরিক্ত বা যুগ্ম জেলা জজের কাছে বদলি করতে পারেন। যুগ্ম জেলা জজ মোকদ্দমার বিচার করে থাকলে মোকদ্দমার মূল্যমান ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত হলে আপিল যায় জেলা জজের কাছে, এর বেশি হলে হাইকোর্ট বিভাগে। নকল সংগ্রহের সময় বাদ দিয়ে ডিক্রির ৩০ দিনের মধ্যে আপিল দাখিল করতে হবে। মূল ডিক্রির বিরুদ্ধে আপিলে আপিল আদালতকে মধ্যস্থতার চেষ্টা করতে হয়।

    দাখিলে ৩০ দিন; নিষ্পত্তিতে ১-২ বছরদেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ২১(১)-(৩)দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৯৬ ও আদেশ ৪১দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৮৯গতামাদি আইন, ১৯০৮, প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ১৫২
  2. 2
    জেলা জজ আদালত

    তথ্য ও আইনের পুনঃশুনানি; জারি স্থগিত

    প্রথম আপিল সাক্ষ্যের পুনঃশুনানি। আপিল আদালত খেলাপ, নোটিশ বা সরল বিশ্বাসে প্রয়োজন বিষয়ে সিদ্ধান্ত উল্টে দিতে পারেন। আপিল দাখিল করলেই জারি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত হয় না। ভাড়াটিয়াকে স্থগিতাদেশের আবেদন করতে হয়, যা সাধারণত ভাড়া পরিশোধ বা জমা অব্যাহত রাখার শর্তে মঞ্জুর হয়। আপিলের ডিক্রি জারির জন্য বিচারিক আদালতে পাঠানো হয়।

    ১-২ তারিখে শুনানি; রায় ১-২ মাস পরেদেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ৫, ২২-৩৩

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিলের ডিক্রি বিচারিক আদালতের ডিক্রির স্থলাভিষিক্ত হয় এবং বিচারিক আদালতে জারি হয়।

রিভিশন · সিভিল জজ → জেলা জজ → হাইকোর্ট বিভাগ

আপিলের পর কি হাইকোর্ট বিভাগ হস্তক্ষেপ করতে পারেন?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫(১) অনুযায়ী দেওয়ানি রিভিশন

    দ্বিতীয় আপিল ১৯৭৮ সালে বিলুপ্ত হয়েছে। জেলা জজের আপিল ডিক্রিতে সংক্ষুব্ধ পক্ষ দেওয়ানি রিভিশনে হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করতে পারেন। কারণ হলো এমন আইনগত ভুল, যার ফলে ভুল ডিক্রি ও ন্যায়বিচারের ব্যর্থতা ঘটেছে, যেমন ধারা ১৮-এর ভুল ব্যাখ্যা বা বৈধ ভাড়া জমা উপেক্ষা। হাইকোর্ট বিভাগ রুল জারি করেন এবং প্রায়ই শর্তসাপেক্ষ স্থগিতাদেশ দেন। প্রথম আপিলের মতো সাক্ষ্য পুনর্মূল্যায়ন করেন না।

    ১-৪ বছরদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫(১)ল রিফর্মস অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৮ (দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১০০-১০৩ বিলুপ্ত)
  2. 2
    জেলা জজ আদালত

    অন্তর্বর্তী আদেশের রিভিশন

    সিভিল জজের আপিল-অযোগ্য অন্তর্বর্তী আদেশ, যেমন আরজি-জবাব সংশোধন বিষয়ে, জেলা জজ ধারা ১১৫(২) অনুযায়ী রিভিশন করতে পারেন। এরপর হাইকোর্ট বিভাগে আরেকটি রিভিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্নে অনুমতি লাগে। এই দুই ধাপের পথ বেশির ভাগ অন্তর্বর্তী বিরোধ জেলা পর্যায়েই রাখে।

    ৩-১২ মাসদেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ধারা ১১৫(২)-(৪)

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগ ডিক্রি বহাল, সংশোধন বা পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠান।

রিভিউ · সিভিল জজ → জেলা জজ → হাইকোর্ট বিভাগ → আপিল বিভাগ

আদালত কি নিজের সিদ্ধান্ত রিভিউ করতে পারেন?

  1. 1
    সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত

    দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৭ অনুযায়ী রিভিউ

    যে পক্ষ আপিল করেননি, তিনি ডিক্রিদানকারী আদালতকে তা রিভিউ (review) করতে বলতে পারেন। কারণগুলো হলো যথাযথ সতর্কতা সত্ত্বেও আগে পাওয়া যায়নি এমন নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য, নথিতে সুস্পষ্ট ভুল, অথবা অন্য কোনো পর্যাপ্ত কারণ। জেলা জজের আপিল ডিক্রি এবং হাইকোর্ট বিভাগের রিভিশন রায়ের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। রিভিউ ছদ্মবেশী আপিল নয়, এবং সাধারণত একই বিচারক এর শুনানি করেন।

    ২-৬ মাসদেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৪ ও আদেশ ৪৭
  2. 2
    বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রক

    ভাড়া নিয়ন্ত্রক ও আপিল বিভাগে রিভিউ

    ভাড়া নিয়ন্ত্রক, এবং নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে আপিল শুনানিকারী জেলা জজও, নিজেদের আদেশ পুনর্বিবেচনা করতে পারেন। কারণগুলো হলো নতুন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বা সাক্ষ্য, নথিতে সুস্পষ্ট ভুল, অথবা অন্য কোনো পর্যাপ্ত কারণ, এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুনানির পর। শীর্ষে আপিল বিভাগ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫ অনুযায়ী নিজের রায় রিভিউ করতে পারেন।

    ১-৬ মাসবাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৩০(৪)বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: রিভিউতে ফলাফল কদাচিৎ বদলায়; আপিল ও রিভিশনই প্রধান পথ।

রেফারেন্স · সিভিল জজ → হাইকোর্ট বিভাগ → সিভিল জজ

কোনো আইনগত প্রশ্ন কি হাইকোর্ট বিভাগে রেফার করা যায়?

  1. 1
    সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত

    দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৩ অনুযায়ী রেফারেন্স

    বিচারিক আদালত বা জেলা জজ ঘটনা বিবৃত করে কোনো আইনগত প্রশ্ন মতামতের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে রেফার করতে পারেন। উদাহরণ হলো নির্দিষ্ট ধরনের প্রাঙ্গণে ধারা ১৮ কীভাবে প্রযোজ্য তা নিয়ে প্রকৃত সংশয়, অথবা কোনো বিধানের বৈধতার চ্যালেঞ্জ। উচ্ছেদ মোকদ্দমায় রেফারেন্স বিরল। আদালত সাধারণত প্রশ্নটির নিষ্পত্তি করে আপিল ও রিভিশনের ওপর ছেড়ে দেন।

    ৬-১৮ মাসদেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৩ ও আদেশ ৪৬
  2. 2
    হাইকোর্ট বিভাগ

    মতামত ও ফেরত

    হাইকোর্ট বিভাগ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে নথি ফেরত পাঠান। রেফারকারী আদালত তখন সেই উত্তর অনুযায়ী মোকদ্দমা নিষ্পত্তি করেন, এবং চূড়ান্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে উভয় পক্ষের সাধারণ আপিল ও রিভিশনের অধিকার বহাল থাকে। রেফারেন্সে বিচার থেমে থাকে, তাই প্রশ্নটি নির্ধারক না হলে আইনজীবীরা কদাচিৎ তা চান।

    ওপরের সময়ের অন্তর্ভুক্তদেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৬ বিধি ৩-৫

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: হাইকোর্ট বিভাগের মতামতের ভিত্তিতে নিম্ন আদালতে মোকদ্দমা নিষ্পত্তি হয়।

রিমান্ড (ফেরত) · সিভিল জজ → জেলা জজ → হাইকোর্ট বিভাগ → সিভিল জজ → জেলা জজ

মামলা পুনর্বিচারের জন্য ফেরত পাঠানো হলে কী হবে?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    ডিক্রি বাতিল ও মামলা ফেরত

    নিম্ন আদালত কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিচার্য বিষয়, যেমন ভাড়া জমার বৈধতা, বিচার না করে সিদ্ধান্ত দিলে বা ভুলভাবে সাক্ষ্য বাদ দিলে হাইকোর্ট বিভাগ রিভিশনে মোকদ্দমাটি পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত পাঠাতে পারেন। প্রথম আপিলে জেলা জজও তা করতে পারেন। ২০২৫ সাল থেকে নথিতে থাকা সাক্ষ্য যথেষ্ট হলে আপিল আদালতকে মামলাটি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করতে হয়, এবং অনুপস্থিতির পর একবারের বেশি আপিল পুনঃশুনানি করা যায় না। দুটি পরিবর্তনেরই উদ্দেশ্য বারবার ফেরত পাঠানো কমানো।

    নিষ্পত্তির সময় আদেশদেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫(১)দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ২৩, ২৪ ও ২৫ (বিধি ২৪, ২০২৬ সালের ৩৬ নং আইন দ্বারা সংশোধিত)দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ২১-এর শর্তাংশ
  2. 2
    সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত

    পুনর্বিচার ও আবার ওপরে যাওয়া

    বিচারিক আদালত ফেরত পাঠানো বিচার্য বিষয়গুলো পুনরায় শোনেন, নির্দেশিত অতিরিক্ত সাক্ষ্য নেন এবং নতুন ডিক্রি দেন। ওই ডিক্রির বিরুদ্ধে আবার জেলা জজের কাছে আপিল এবং হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন করা যায়। এর মধ্যে ভাড়া পরিশোধ করলে ভাড়াটিয়া সাধারণত দখলে থাকেন, তাই বাড়িওয়ালারা প্রায়ই সময়সীমাবদ্ধ ফেরতের আদেশের জন্য চাপ দেন।

    ৬-১৮ মাসদেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ২৩দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ২১(২)

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: নিম্ন আদালতে নতুন ডিক্রি হয় এবং তা আবার ধাপে ধাপে ওপরে যেতে পারে।

বিকল্প পথ · ভাড়া নিয়ন্ত্রক → জেলা জজ → হাইকোর্ট বিভাগ

বিরোধ ভাড়া নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে হলে কী হবে?

  1. 1
    জেলা জজ আদালত

    ভাড়া নিয়ন্ত্রকের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল

    ভাড়া নিয়ন্ত্রকের আদেশের বিরুদ্ধে নকলের সময় বাদ দিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে প্রাঙ্গণ যে জেলায় সেই জেলার জেলা জজের কাছে আপিল করা যায়। এ ধরনের আদেশের মধ্যে রয়েছে মানসম্মত ভাড়া নির্ধারণ, ভাড়া জমা গ্রহণ, অথবা কোনো অভিযোগ বা সাবেক ভাড়াটিয়ার দাবির নিষ্পত্তি। জেলা জজ আপিলটি অতিরিক্ত জেলা জজ বা যুগ্ম জেলা জজের কাছে বদলি করতে পারেন, নথি তলব করেন এবং সাক্ষ্য নিতে পারেন। ওই সিদ্ধান্ত সাপেক্ষে নিয়ন্ত্রকের আদেশ চূড়ান্ত।

    দাখিলে ৩০ দিন; নিষ্পত্তিতে ৩-১২ মাসবাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৩০(১)-(৩) ও ধারা ৩০(৫)
  2. 2
    হাইকোর্ট বিভাগ

    আর কোনো বিধিবদ্ধ আপিল নেই; শেষ উপায় রিট

    আইন নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে আপিলে জেলা জজের সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত করেছে। এরপর আর কোনো আপিল নেই। যে পক্ষ অভিযোগ করেন জেলা জজ এখতিয়ার ছাড়া বা স্বাভাবিক ন্যায়বিচার লঙ্ঘন করে কাজ করেছেন, তিনি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দাখিল করতে পারেন। রিট বিবেচনামূলক এবং তথ্যের পুনঃশুনানি নয়।

    ১-৩ বছরবাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৩০(৫)বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: নিয়ন্ত্রক-সংক্রান্ত বিরোধ সাধারণত জেলা জজের কাছেই শেষ হয়, কেবল ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে রিট।

আপিলের অনুমতি · হাইকোর্ট বিভাগ → আপিল বিভাগ

মামলা কি আপিল বিভাগে যেতে পারে?

  1. 1
    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ

    সিভিল লিভ টু আপিল পিটিশন

    হাইকোর্ট বিভাগে পরাজিত পক্ষ সাধারণত ৬০ দিনের মধ্যে আপিল বিভাগে সিভিল লিভ টু আপিল পিটিশন দাখিল করতে পারেন। কেবল গুরুত্বপূর্ণ আইনগত প্রশ্নেই লিভ মঞ্জুর হয়, যেমন ধারা ১৯ অনুযায়ী বৈধ জমা কী, বা সরল বিশ্বাসে প্রয়োজনের মানদণ্ড। লিভ মঞ্জুর হলে দেওয়ানি আপিল হয়। আপিল বিভাগ স্থগিতাদেশ না দিলে জারি চলতে পারে।

    ১-৩ বছরবাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (আপিল বিভাগ) রুলস, ১৯৮৮

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং সব আদালতের ওপর বাধ্যতামূলক।

নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত

ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ মামলা যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে

বাংলাদেশে ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ মামলা শুরু হয় প্রাঙ্গণ যে এলাকায় সেখানকার দেওয়ানি আদালতে। আদালত নির্ধারিত হয় মোকদ্দমার মূল্যমান দিয়ে, যা বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়া মোকদ্দমায় এক বছরের ভাড়া। ২০২১ সালে সংশোধিত দেওয়ানি আদালত আইন, ১৮৮৭-এর ধারা ১৯ অনুযায়ী সিভিল জজ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং সিনিয়র সিভিল জজ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত মোকদ্দমা শোনেন। এর বেশি হলে যুগ্ম জেলা জজ শোনেন। সিভিল জজ পদগুলোর আগের নাম ছিল সহকারী জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ। দুই সিভিল জজ আদালতের বিরুদ্ধে আপিল যায় জেলা জজের কাছে।

যুগ্ম জেলা জজের বিরুদ্ধে আপিল ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত জেলা জজের কাছে এবং এর বেশি হলে হাইকোর্ট বিভাগে যায়। প্রথম আপিল তথ্য ও আইনের পূর্ণ পুনঃশুনানি। কোনো দ্বিতীয় আপিল নেই। হাইকোর্ট বিভাগ কেবল আইনগত ভুলের ক্ষেত্রে দেওয়ানি রিভিশনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধান করেন, এবং অনুচ্ছেদ ১০৩ অনুযায়ী লিভ নিয়ে আপিল বিভাগে যাওয়া যায়। পৃথকভাবে, ভাড়া নিয়ন্ত্রকের আদেশ যায় জেলা জজের কাছে, যাঁর সিদ্ধান্ত রিট এখতিয়ার ছাড়া চূড়ান্ত।

  1. আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
  2. হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
  3. আপিল পর্যায়জেলা জজ আদালত
  4. প্রথম দফার আদালতবাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রক · সিভিল জজ / সিনিয়র সিভিল জজ আদালত
  5. শুরু · আদালতের বাইরেআইনজীবীর চেম্বার · জেলা লিগ্যাল এইড অফিস (মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা) · থানা (জারিতে সহায়তা)
আদালত ও ঠিকানা

আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়

ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।

আপিল বিভাগ

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০

হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।

দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।

আপিল পর্যায়

জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ঢাকা (ঢাকা জজ কোর্ট)

ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা

ঢাকার জেলা জজ (District Judge) ও অতিরিক্ত জেলা জজদের আদালত (দেওয়ানি আপিল, প্রোবেট, মহানগর এলাকার বাইরের জেলা পর্যায়ের দেওয়ানি ও দায়রা মামলা), এবং প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতসমূহ (যুগ্ম জেলা জজ, সিনিয়র সিভিল জজ/সিভিল জজ আদালত)।

সরকারি বিচার বিভাগীয় পোর্টালে ঠিকানা দেওয়া আছে "১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা"। অনেক দেওয়ানি আদালত (অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত, যুগ্ম জেলা জজ ও সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, অর্থঋণ আদালত নং ১, দেউলিয়া আদালত) একই প্রাঙ্গণে নতুন ৮ তলা জেলা জজ আদালত ভবনে বসে। ২০২৬ সালের জাজশিপ তালিকায় প্রথম দফার দেওয়ানি আদালতগুলোর নাম "সিনিয়র সিভিল জজ" / "সিভিল জজ" (আগে সিনিয়র সহকারী জজ / সিভিল জজ); কিছু পাতায় এখনো পুরোনো নাম ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি জেলায় জেলা জাজশিপে এর সমতুল্য আদালত রয়েছে।

প্রথম দফার আদালত

বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রক, ঢাকা

ঢাকা (সঠিক ঠিকানা নিশ্চিত নয়)

বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১-এর অধীন মানসম্মত ভাড়া নির্ধারণ করে, বাড়িওয়ালা ভাড়া নিতে অস্বীকার করলে ভাড়া জমা গ্রহণ করে, এবং বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার অন্যান্য আবেদন নিষ্পত্তি করে।

ঠিকানা কোনো সরকারি সূত্র থেকে নিশ্চিত করা যায়নি। উচ্ছেদের মামলা নিয়ন্ত্রকের কাছে নয়, এখতিয়ারসম্পন্ন দেওয়ানি আদালতে (সিভিল জজ / সিভিল জজ আদালত) দায়ের করতে হয়। যাওয়ার আগে বর্তমান ঠিকানা যাচাই করে নিন।

শুরু · আদালতের বাইরে

আইনজীবীর চেম্বার

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

শুরু · আদালতের বাইরে

জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, ঢাকা

ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, জনসন রোড, ঢাকা

আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর অধীন যাঁদের আইনজীবী নিয়োগের সামর্থ্য নেই, তাঁদের বিনা মূল্যে আইনি পরামর্শ ও প্যানেল আইনজীবী দেয়, এবং মামলার আগে ও চলাকালে মধ্যস্থতা পরিচালনা করে।

অফিসের প্রধান জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার, যিনি ঢাকা জাজশিপের একজন সিনিয়র সিভিল জজ; কক্ষ ও তলা নিশ্চিত করা যায়নি। আইনগত সহায়তা প্রদান আইনের ২০২৬ সালের সংশোধনীর অধীন প্রজ্ঞাপিত জেলাগুলোতে কিছু বিরোধে মামলার আগে মধ্যস্থতা বাধ্যতামূলক। জাতীয় আইনগত সহায়তা হেল্পলাইন: ১৬৪৩০। যাওয়ার আগে বর্তমান ঠিকানা যাচাই করে নিন।

শুরু · আদালতের বাইরে

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তর

৩৬ মিন্টো রোড, ঢাকা

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তর; এজাহার এখানে নয়, সংশ্লিষ্ট থানায় দায়ের করতে হয়।

জরুরি সেবা: ৯৯৯। মামলা করতে ঘটনাস্থল যে থানার এখতিয়ারে, সেই থানায় যান।

নির্দেশক সময়রেখা

প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে

এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।

দাখিলের আগে
১–৪ মাস
দাখিল ও আত্মপক্ষ সমর্থন
২–৬ মাস
বিচার
৮–৩০ মাস
ডিক্রি
১–৩ মাস
জারি ও পরবর্তী পর্যায়
৩–১২ মাস
গাঢ় রেখা = দ্রুত নিষ্পত্তি · হালকা রেখা = ধীর নিষ্পত্তিপ্রথম দফার যাত্রা: ১৫–৫৫ মাস · সামগ্রিক: ঢাকার সাধারণ চর্চা অনুযায়ী নির্দেশক সময়সীমা: প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে ডিক্রি পর্যন্ত দেড় থেকে ৪ বছর; জারি ৩ থেকে ১২ মাস; আপিল ও রিভিশনে আরও ২ থেকে ৫ বছর লাগতে পারে
প্রস্তুতি

কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা

আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।

উচ্ছেদের নোটিশ (Notice to quit)
ভাড়াটিয়া সম্পর্ক অবসানের লিখিত নোটিশ, মাসিক ভাড়ার ক্ষেত্রে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ধারা ১০৬ অনুযায়ী সাধারণত ভাড়ার মাস শেষে শেষ হওয়া ১৫ দিনের।
বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রক (House Rent Controller)
বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৩ অনুযায়ী সরকার কর্তৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা, যিনি মানসম্মত ভাড়া নির্ধারণ করেন, ভাড়া জমা গ্রহণ করেন এবং অভিযোগ শোনেন।
মানসম্মত ভাড়া (Standard rent)
ভাড়া নিয়ন্ত্রক কর্তৃক প্রাঙ্গণের জন্য ন্যায্য হিসেবে নির্ধারিত ভাড়া; নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত চুক্তিকৃত ভাড়াই আইনসংগত ভাড়া।
খেলাপ (Default)
চুক্তিকৃত তারিখের মধ্যে, অথবা তারিখ না থাকলে ভাড়ার মাস শেষের ১৫ দিনের মধ্যে, আইনসংগত ভাড়া পরিশোধে ব্যর্থতা, যা ভাড়াটিয়ার সুরক্ষা কেড়ে নেয়।
সরল বিশ্বাসে প্রয়োজন (Bona fide requirement)
নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ বা নিজে বসবাসের জন্য প্রাঙ্গণের প্রতি বাড়িওয়ালার প্রকৃত প্রয়োজন, যা ধারা ১৮(১)(ঙ) অনুযায়ী উচ্ছেদের কারণ।
অন্তর্বর্তীকালীন মুনাফা (Mesne profits)
ভাড়াটিয়া সম্পর্ক অবসানের পর দখল হস্তান্তর পর্যন্ত প্রাঙ্গণ ব্যবহারের ক্ষতিপূরণ।
নাজির (Nazir)
দখল হস্তান্তরসহ পরোয়ানা কার্যকর করার দায়িত্বপ্রাপ্ত আদালতের কর্মকর্তা।
দেওয়ানি রিভিশন (Civil revision)
আইনগত ভুল সংশোধনের জন্য দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ১১৫ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন; এটি সাক্ষ্যের পুনঃশুনানি নয়।
প্রশ্নোত্তর

ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ মামলা: সাধারণ প্রশ্ন

শুধু চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে বলে কি বাড়িওয়ালা আমাকে উচ্ছেদ করতে পারেন?
না। বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১-এর ধারা ১৮ অনুযায়ী আপনি আইনসংগত ভাড়া দিতে প্রস্তুত ও ইচ্ছুক থাকলে ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়া বা ভবন বিক্রি নিজে থেকে উচ্ছেদের কারণ নয়। ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ মামলায় বাড়িওয়ালাকে আইনে নির্ধারিত কোনো কারণ প্রমাণ করতে হয়, যেমন খেলাপ, অনুমতি ছাড়া সাবলেট, উপদ্রব বা প্রাঙ্গণের প্রকৃত প্রয়োজন।
ভাড়াটিয়া কখন খেলাপি হিসেবে গণ্য হন?
যদি ভাড়াটিয়া চুক্তিতে উল্লিখিত তারিখের মধ্যে, অথবা কোনো তারিখ নির্ধারিত না থাকলে ভাড়ার মাস শেষের ১৫ দিনের মধ্যে, পূর্ণ আইনসংগত ভাড়া পরিশোধ না করেন। বাড়িওয়ালা প্রত্যাখ্যান করার পর ধারা ১৯-এ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যে ভাড়াটিয়া ভাড়া নিয়ন্ত্রকের কাছে বৈধভাবে ভাড়া জমা দেন, তাঁর সুরক্ষা বহাল থাকে।
বাড়িওয়ালা ভাড়া নিতে চাইছেন না। কী করব?
ডাকযোগে মানি অর্ডারে ভাড়া পাঠান। তা প্রত্যাখ্যাত হয়ে ফেরত এলে প্রাঙ্গণ, সময়কাল ও পরিস্থিতির বর্ণনাসহ আবেদন করে ১৫ দিনের মধ্যে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রকের কাছে জমা দিন। পরবর্তী মাসগুলোর ভাড়াও প্রাপ্য হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে জমা দিতে থাকুন, এবং প্রতিটি রসিদ সংরক্ষণ করুন।
বাংলাদেশে ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ মামলা কোন আদালতে হয়?
প্রাঙ্গণ যে এলাকায় সেখানকার দেওয়ানি আদালতে, এক বছরের ভাড়ার ভিত্তিতে নির্ধারিত। সিভিল জজ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত, সিনিয়র সিভিল জজ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত, এবং এর বেশি হলে যুগ্ম জেলা জজ ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ মামলা শোনেন। ভাড়া নিয়ন্ত্রক উচ্ছেদের ডিক্রি দেন না; সেই ক্ষমতা দেওয়ানি আদালতের।
বাড়িওয়ালা কি বিদ্যুৎ কেটে দিতে বা তালা বদলাতে পারেন?
না। উচ্ছেদ হতে হবে আদালতের ডিক্রির মাধ্যমে। নিজ উদ্যোগে ব্যবস্থা, যেমন বিদ্যুৎ-পানির সংযোগ কেটে দেওয়া, মালামাল সরিয়ে ফেলা বা তালা বদলানো, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৯ অনুযায়ী ভাড়াটিয়ার মোকদ্দমার কারণ হতে পারে। ১৯৯১ সালের আইনের ধারা ৩২ ভাড়াটিয়াকে বাড়িওয়ালার সম্মতি ছাড়াই সরবরাহকারীর কাছ থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার সুযোগও দেয়।
বাংলাদেশে ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ মামলায় কত সময় লাগে?
ঢাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ মামলায় ডিক্রি পর্যন্ত সাধারণত দেড় থেকে চার বছর লাগে। জারিতে আরও তিন থেকে বারো মাস লাগে, এবং আপিল ও রিভিশনে আরও কয়েক বছর যোগ হতে পারে। খালি করার নির্দিষ্ট তারিখসহ মামলা-পূর্ব বা আদালত-সংযুক্ত মধ্যস্থতার মাধ্যমে মীমাংসা প্রায়ই অনেক দ্রুত হয়।
ডিক্রির পরও ভাড়াটিয়া চলে যেতে না চাইলে কী হবে?
বাড়িওয়ালা জারির আবেদন করেন। আদালত দখল হস্তান্তরের পরোয়ানা জারি করেন, যা নাজির কার্যকর করেন। ২০২৫ সাল থেকে আদালত বাড়িওয়ালাকে দখলে বসাতে একজন ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে এবং প্রতিপালন প্রতিবেদনসহ পুলিশকে সহায়তার নির্দেশ দিতে পারেন। ভাড়াটিয়া বা অন্যদের বাধার বিষয়টি জারি মামলাতেই নিষ্পত্তি হয়।
বাড়িওয়ালা 'নিজ ব্যবহারের' কথা বলে উচ্ছেদ করে পরে আবার ভাড়া দিলে কী হবে?
ভাড়াটিয়া চলে যাওয়ার দুই মাসের মধ্যে পুনর্নির্মাণ বা বসবাস শুরু না হলে, অথবা ছয় মাসের মধ্যে প্রাঙ্গণ অন্য কাউকে ভাড়া দিলে, সাবেক ভাড়াটিয়া খালি করার সাত মাসের মধ্যে ভাড়া নিয়ন্ত্রকের কাছে আবেদন করতে পারেন। নিয়ন্ত্রক দখল ফিরিয়ে দেওয়া, ক্ষতিপূরণ, অথবা উভয়ের আদেশ দিতে পারেন।

আইন ও উৎস

  1. Premises Rent Control Act 1991 (Act 3 of 1991), Bangladesh Legal Database
  2. Civil Courts Act 1887 (as amended), Bangladesh Legal Database
  3. Code of Civil Procedure 1908, Bangladesh Legal Database
  4. Code of Civil Procedure (Amendment) Act 2026 (Act 36 of 2026), Bangladesh Legal Database
  5. Civil Courts (Amendment) Act 2026 (Act 12 of 2026), Bangladesh Legal Database
  6. Court-fees Act 1870, Bangladesh Legal Database
  7. Legal Aid Services (Amendment) Act 2026 (Act 45 of 2026), Bangladesh Legal Database

এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।

প্রবাসে থাকেন?

বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান

সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →

আপনার মামলা, একজন আইনজীবীর চোখে

আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?

একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।

Message TRW on WhatsApp