বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা: এজাহার বা নালিশ থেকে ট্রাইব্যুনালের রায় ও আপিল পর্যন্ত

by Barrister Tahmidur Rahman | Oct 25, 2026

কেস জার্নি/ফৌজদারি

বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা: এজাহার বা নালিশ থেকে ট্রাইব্যুনালের রায় ও আপিল পর্যন্ত

বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা হলো নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর অধীন একটি বিশেষ প্রক্রিয়া। ধর্ষণ, যৌতুকের জন্য নির্যাতন, অপহরণ, পাচার-সংশ্লিষ্ট অপরাধসহ নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে অন্যান্য গুরুতর অপরাধের বিচার এই প্রক্রিয়ায় হয়। বিচার করে একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল (Tribunal), যার বিচারক একজন জেলা ও দায়রা জজ। ২০২৫ সালের সংস্কার ২৫ মার্চ ২০২৫ থেকে কার্যকর এবং ২০২৬ সালের ৮৫ নং আইন দ্বারা প্রণীত।

এই সংস্কারে তদন্ত ও বিচারের সময়সীমা কমানো হয়েছে, শিশু ধর্ষণের বিচারের জন্য শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা জোরদার করা হয়েছে এবং আপিলের মেয়াদ ৩০ দিনে নামিয়ে আনা হয়েছে। এই গাইডে থানা বা সরাসরি নালিশ থেকে শুরু করে তদন্ত, জামিন, বিচার, রায়, আপিল এবং আপিল বিভাগ পর্যন্ত একটি মামলার পুরো পথ দেখানো হয়েছে।

পাতায় ধাপে ধাপে দেখুন
থানায় অভিযোগ: এজাহার রেকর্ড করতেই হবেএজাহার / জিডি
▶পূর্ণ স্ক্রিনে চালান১৫টি ধাপ · ৭টি বিকল্প পথ · ৬টি আদালত ও অফিস
কোথা থেকে শুরু
যেকোনো থানা (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এজাহার রেকর্ড করতে বাধ্য), অথবা পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকার করলে সরাসরি নারী ও শিশু…
মূল আইন
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (২০০৩, ২০২০ এবং ২০২৬ সালের ৮৫ নং আইন দ্বারা সংশোধিত), বিশেষত ধারা ৯-১১, ১৭-২২, ২৪-৩২খ, ৩৫…
সাধারণ সময়কাল
আইন অনুযায়ী তদন্তে ১৫ বা ৩০ কার্যদিবস (আরও ১৫ দিন বাড়ানো যায়) এবং বিচারে ১৮০ কার্যদিবস লাগার কথা; ধর্ষণ মামলায়…
কে মামলা করতে পারেন
ভুক্তভোগী, পরিবারের কোনো সদস্য বা ঘটনা জানেন এমন যেকোনো ব্যক্তি এজাহার দিতে পারেন; ট্রাইব্যুনালে নালিশ করতে হলে পুলিশ…
ইন্টারঅ্যাকটিভ যাত্রাপথ · ১৫টি ধাপ

নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা: প্রতিটি পর্যায় ধাপে ধাপে

“পরের” চাপুন, কিবোর্ডের তীর-চিহ্ন ব্যবহার করুন অথবা ম্যাপে কোনো আদালতে ট্যাপ করুন। সোনালি চিহ্ন দেখায় আপনার মামলা এখন কোথায়, আর সবুজ রেখা দেখায় মামলাটি কোন পথে এসেছে। পূর্ণ অভিজ্ঞতার জন্য পূর্ণ স্ক্রিনে চালান।

আপনার মামলা এখন কোথায়
ওপরেনিচে ফেরত
প্রতিটি ধাপ লেখা আকারে পড়ুন
  1. নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা: ধাপ ১, থানায় অভিযোগ: এজাহার রেকর্ড করতেই হবে
    ধাপ ১ · অভিযোগ দায়ের, চিকিৎসা ও সুরক্ষা

    থানায় অভিযোগ: এজাহার রেকর্ড করতেই হবে

    বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা সাধারণত থানা থেকেই শুরু হয়। ২০২৫ সাল থেকে ধারা ২৫ক অনুযায়ী বাদী প্রাথমিক সাক্ষ্যপ্রমাণ নিয়ে এলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগটি এজাহার (FIR) হিসেবে রেকর্ড করতে হবে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থাও তাঁকেই করতে হবে। ঘটনা অন্য থানার এলাকায় ঘটেছে, এই অজুহাতে থানা বাদীকে ফিরিয়ে দিতে পারে না। থানাকে জবানবন্দি রেকর্ড করতে হবে, ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে এবং কেস ডায়েরিসহ মামলাটি সঠিক থানায় পাঠাতে হবে। এই আইনের সব অপরাধ আমলযোগ্য (cognizable) (ধারা ১৯(১)), তাই পুলিশ পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেপ্তার করতে পারে।

    কোথায়: থানা (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও তদন্তকারী কর্মকর্তা) · সময়: একই দিন · আইন: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ২৫ক (২০২৫ সালে সংযোজিত); নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ১৯(১); ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ১৫৪ · কাগজপত্র: লিখিত এজাহার, ভুক্তভোগীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ, ছবি, মেসেজ বা ছেঁড়া পোশাক, যা আছে

    পরামর্শ: পোশাক ও অন্যান্য আলামত প্লাস্টিকের নয়, কাগজের ব্যাগে রাখুন, এবং সম্ভব হলে ডাক্তারি পরীক্ষার আগে ধোবেন না।

  2. নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা: ধাপ ২, ডাক্তারি পরীক্ষা ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ
    ধাপ ২ · অভিযোগ দায়ের, চিকিৎসা ও সুরক্ষা

    ডাক্তারি পরীক্ষা ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ

    ভুক্তভোগী এবং পুলিশ হাজির করলে আসামিকেও সরকারি হাসপাতাল বা স্বীকৃত বেসরকারি হাসপাতালে আধুনিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা করা হয়। ভুক্তভোগী নিজে সরকারি হাসপাতালে গেলে বা পুলিশ নিয়ে গেলে কোনো ফি লাগে না। কর্তব্যরত চিকিৎসককে দ্রুত পরীক্ষা করতে হবে এবং পরীক্ষার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভুক্তভোগী বা পরিবারকে এবং তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বিনামূল্যে সনদ দিতে হবে। ধর্ষণ মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিএনএ আইন, ২০১৪-এর অধীনে সম্মতি থাকুক বা না থাকুক ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে পারেন, তবে এর জন্য ট্রাইব্যুনাল বা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদন লাগে। বড় সরকারি হাসপাতালগুলোর ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে এক জায়গাতেই চিকিৎসা, পুলিশি ও আইনি সহায়তা পাওয়া যায়।

    কোথায়: সরকারি হাসপাতাল / ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার · সময়: একই দিন; সনদ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে · আইন: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ৩২(১)-(৩) (২০২৫ সালে সংশোধিত); নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ৩২ক; ডিএনএ আইন, ২০১৪ · কাগজপত্র: ডাক্তারি সনদ (মেডিকেল সার্টিফিকেট), ডিএনএ নমুনার রেকর্ড, হাসপাতালে ভর্তি বা চিকিৎসার কাগজপত্র

    পরামর্শ: ডাক্তারি সনদ লিখিতভাবে চান; ৭২ ঘণ্টার বেশি দেরি হলে ট্রাইব্যুনালকে জানানো যায়, আর ট্রাইব্যুনাল চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে।

  3. নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা: ধাপ ৩, ভুক্তভোগীর জবানবন্দি ও সুরক্ষা আদেশ
    ধাপ ৩ · অভিযোগ দায়ের, চিকিৎসা ও সুরক্ষা

    ভুক্তভোগীর জবানবন্দি ও সুরক্ষা আদেশ

    তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটকে ভুক্তভোগী বা প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দি দ্রুত রেকর্ড করতে অনুরোধ করতে পারেন। ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে বা হাসপাতালসহ যেকোনো উপযুক্ত স্থানে তা রেকর্ড করতে পারেন (ধারা ২২)। এই জবানবন্দি তদন্ত প্রতিবেদনের অংশ হয়, এবং সাক্ষী পরে মারা গেলে বা তাঁকে খুঁজে পাওয়া না গেলে সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তবে কেবল এর ভিত্তিতে দণ্ড দেওয়া যায় না। ম্যাজিস্ট্রেট বা ট্রাইব্যুনাল নারী বা শিশুর মতামত বিবেচনা করে তাকে কারাগারের বাইরে নিরাপদ হেফাজতে রাখার আদেশ দিতে পারেন, এবং বাদী, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষায় আদেশ দিতে পারেন।

    কোথায়: মুখ্য মহানগর হাকিম (CMM) আদালত, ঢাকা (রিমান্ড, জবানবন্দি) · সময়: ১-৭ দিন · আইন: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ২২; ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ১৬৪; নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ২০(৮), ৩১, ৩২খ · কাগজপত্র: রেকর্ড করা জবানবন্দি, নিরাপদ হেফাজত বা সুরক্ষা আদেশ

    পরামর্শ: ভুক্তভোগীকে ‘নিরাপত্তার জন্য’ কারাগারে পাঠানো উচিত নয়; ২০২৫ সাল থেকে নিরাপদ হেফাজত হতে হবে কারাগারের বাইরে, সরকার-নির্ধারিত স্থানে অথবা উপযুক্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে।

  4. নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা: ধাপ ৪, পুলিশ মামলা না নিলে: সরাসরি ট্রাইব্যুনালে নালিশ
    ধাপ ৪ · অভিযোগ দায়ের, চিকিৎসা ও সুরক্ষা

    পুলিশ মামলা না নিলে: সরাসরি ট্রাইব্যুনালে নালিশ

    পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকার করলে বাদী অস্বীকৃতির বিষয়টি উল্লেখ করে হলফনামাসহ ট্রাইব্যুনালে নালিশ দায়ের করতে পারেন। ট্রাইব্যুনাল বাদীকে পরীক্ষা করে। সন্তুষ্ট হলে একজন ম্যাজিস্ট্রেট বা অন্য কোনো ব্যক্তিকে অনুসন্ধানের নির্দেশ দেয়, যিনি সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বাধ্য। সন্তুষ্ট না হলে নালিশ খারিজ করে দেয়। প্রতিবেদনে পুলিশের অস্বীকৃতি ও প্রাথমিক সাক্ষ্যপ্রমাণ দেখা গেলে ট্রাইব্যুনাল মামলা আমলে নেয়, অন্যথায় নালিশ খারিজ করে। ২০২৫ সাল থেকে উপযুক্ত ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল এর পরিবর্তে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নালিশটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের আদেশ দিতে পারে।

    কোথায়: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা · সময়: দায়ের একই দিন; অনুসন্ধান ৭ কার্যদিবস · আইন: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ২৭(১ক)-(১ঘ) · কাগজপত্র: নালিশি দরখাস্ত, পুলিশের অস্বীকৃতির হলফনামা, সহায়ক কাগজপত্র

    পরামর্শ: থানায় ঠিক কখন ও কার কাছে গিয়েছিলেন তা লিখে রাখুন; অস্বীকৃতির হলফনামাই সরাসরি নালিশের প্রবেশপথ।

  5. ধাপ ৫: গ্রেপ্তার, রিমান্ড ও প্রথম জামিন শুনানি
    ধাপ ৫ · তদন্ত

    গ্রেপ্তার, রিমান্ড ও প্রথম জামিন শুনানি

    গ্রেপ্তার হওয়া আসামিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে। তদন্তকারী কর্মকর্তা ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৭-এর অধীনে পুলিশ রিমান্ড চাইতে পারেন, যা পুলিশ হেফাজতে সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ দিন, এবং রিমান্ডের আগে ও পরে ডাক্তারি পরীক্ষা করতে হয়। ট্রাইব্যুনালকে দায়রা আদালত হিসেবে গণ্য করা হয়, তাই আইনে ভিন্ন বিধান না থাকলে ফৌজদারি কার্যবিধি প্রযোজ্য (ধারা ২৫(১))। এই পর্যায়ে জামিন ধারা ১৯ দ্বারা সীমিত, যা ট্রাইব্যুনাল বা এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তাই ম্যাজিস্ট্রেটরা সতর্ক থাকেন, এবং প্রধান আসামিদের অধিকাংশ জামিন আবেদন ট্রাইব্যুনাল বা হাইকোর্ট বিভাগে যায়।

    কোথায়: মুখ্য মহানগর হাকিম (CMM) আদালত, ঢাকা (রিমান্ড, জবানবন্দি) · সময়: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে; ১-৭ দিনের রিমান্ড সাধারণ · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৬১; ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ১৬৭(২), (২ক) (২০২৬ সালের ১১ নং আইন দ্বারা সংশোধিত); নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ২৫(১); নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ১৯ · কাগজপত্র: ফরোয়ার্ডিং প্রতিবেদন, রিমান্ডের আবেদন, জামিনের আবেদন, আসামির ডাক্তারি প্রতিবেদন

    পরামর্শ: জামিন বিষয়ে শুনানির জন্য বাদীর আইনজীবীর প্রথম হাজিরার দিনেই উপস্থিত থাকা উচিত; ধারা ১৯(২) অনুযায়ী প্রধান আসামির জামিনের জন্য এই শুনানি একটি শর্ত।

  6. ধাপ ৬: কার্যদিবসের কঠোর সময়সীমার মধ্যে তদন্ত
    ধাপ ৬ · তদন্ত

    কার্যদিবসের কঠোর সময়সীমার মধ্যে তদন্ত

    বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার প্রক্রিয়ায় দ্রুততার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ২০২৫ সালে সংশোধিত ধারা ১৮ অনুযায়ী আসামি হাতেনাতে ধরা পড়লে তদন্ত ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ করতে হবে। অন্যথায় প্রাথমিক তথ্য বা তদন্তের আদেশ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে (আগে ছিল ৬০) শেষ করতে হবে। তা সম্ভব না হলে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই কেস ডায়েরিসহ কারণ জানাতে হবে। তখন ট্রাইব্যুনাল বা ম্যাজিস্ট্রেট আরও ১৫ কার্যদিবস, অথবা ডিএনএ পরীক্ষা বাকি থাকলে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সময় দিতে পারেন। অযৌক্তিক দেরি অসদাচরণ হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩খ-এর সাধারণ ৬০ কার্যদিবসের সীমার বদলে এই সীমাগুলো প্রযোজ্য।

    ধারা ৯-এর ধর্ষণ মামলায় প্রশাসনিক আদেশে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বদলি করা যায় না।

    কোথায়: থানা (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও তদন্তকারী কর্মকর্তা) · সময়: ১৫ বা ৩০ কার্যদিবস, বর্ধিত হলে আরও ১৫ · আইন: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ১৮(১), (২), (৬), (১০) (২০২৫ সালে সংশোধিত); ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ১৫৬-১৬১; ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ১৭৩খ (সাধারণ সীমা, ধারা ১৮(১) দ্বারা প্রতিস্থাপিত) · কাগজপত্র: কেস ডায়েরি, কারণসহ বিলম্বের প্রতিবেদন, জব্দতালিকা, সাক্ষীদের জবানবন্দি

    পরামর্শ: ধারা ১৮(৯) অনুযায়ী ভুক্তভোগী ধীরগতির বা পক্ষপাতদুষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বদলানোর জন্য ট্রাইব্যুনাল বা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করতে পারেন।

  7. ধাপ ৭: পুলিশ প্রতিবেদন, নারাজি ও অধিকতর তদন্ত
    ধাপ ৭ · তদন্ত

    পুলিশ প্রতিবেদন, নারাজি ও অধিকতর তদন্ত

    তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগপত্র (চার্জশিট) বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। বাদী এর বিরুদ্ধে নারাজি (আপত্তি) দিলে ট্রাইব্যুনাল অধিকতর তদন্তের জন্য নতুন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করতে পারে, এবং আদেশের ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সেই তদন্ত শেষ করতে হবে। প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ট্রাইব্যুনাল ন্যায়বিচারের স্বার্থে আসামি হিসেবে নাম থাকা কোনো ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দিতে পারে। তদন্ত ইচ্ছাকৃতভাবে বা অবহেলায় ত্রুটিপূর্ণ হলে ট্রাইব্যুনাল তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে, এবং ২০২৫ সাল থেকে যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই ত্রুটির নির্দেশ দিয়েছেন তাঁর বিরুদ্ধেও, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে।

    কোথায়: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা · সময়: ১-৩ মাস · আইন: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ১৮(৩), (৭), (৮); ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ১৭৩ · কাগজপত্র: অভিযোগপত্র বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন, নারাজি আবেদন (Naraji petition), অধিকতর তদন্তের আদেশ

    পরামর্শ: নির্দিষ্ট ও প্রমাণসহ ঘাটতি উল্লেখ করে নারাজি দিন, যেমন সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি বা ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি; তখন ট্রাইব্যুনাল নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের আদেশ দিতে পারে।

  8. ধাপ ৮: ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক আমলে গ্রহণ
    ধাপ ৮ · আমলে গ্রহণ ও জামিন

    ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক আমলে গ্রহণ

    ট্রাইব্যুনাল উপ-পরিদর্শকের নিচে নন এমন পুলিশ কর্মকর্তা অথবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির লিখিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মামলা আমলে (cognizance) নেয় (ধারা ২৭(১))। প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়নি এমন ব্যক্তির বিরুদ্ধেও কারণ লিপিবদ্ধ করে আমলে নিতে পারে (ধারা ২৭(১গ))। যেখানে অপরাধ বা তার কোনো অংশ সংঘটিত হয়েছে, অথবা যেখানে কোনো আসামিকে পাওয়া গেছে, সেখানকার ট্রাইব্যুনাল মামলার বিচার করে। সংশ্লিষ্ট অপরাধগুলোর একসঙ্গে বিচার করা যায়। যেখানে শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে, শিশু ধর্ষণ মামলা সেখানে যায় (ধারা ২৬ক, ২০২৫ সালে সংযোজিত)। অন্যথায় নিয়মিত ট্রাইব্যুনাল এর বিচার করে।

    কোথায়: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা · সময়: প্রতিবেদনের ১-৩ মাস পর · আইন: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ২৬, ২৬ক, ২৭(১)-(৩) · কাগজপত্র: আমলে গ্রহণের আদেশ, অনুপস্থিত আসামির বিরুদ্ধে পরোয়ানা

    পরামর্শ: ঢাকায় কোন নম্বর ট্রাইব্যুনালে মামলাটি আছে তা যাচাই করুন; ঢাকায় একাধিক ট্রাইব্যুনাল আছে, আর শিশু ধর্ষণ মামলা আলাদা ট্রাইব্যুনালে যেতে পারে।

  9. ধাপ ৯: ধারা ১৯-এর বিধিনিষেধের অধীনে জামিন
    ধাপ ৯ · আমলে গ্রহণ ও জামিন

    ধারা ১৯-এর বিধিনিষেধের অধীনে জামিন

    বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় সবচেয়ে বেশি লড়াই হয় জামিন (bail) নিয়ে। ধারা ১৯(২) অনুযায়ী প্রধান ও সরাসরি অভিযুক্ত আসামিকে জামিন দেওয়া যায় না, যদি না বাদীকে শুনানির সুযোগ দেওয়া হয় এবং ট্রাইব্যুনাল বা এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত অভিযোগের ভিত্তি সম্পর্কে সন্তুষ্ট হয়। ন্যায়বিচার বিঘ্নিত না হলে নারী, শিশু বা অসুস্থ বা অক্ষম আসামিকে জামিন দেওয়া যায় (ধারা ১৯(৩))। অন্য আসামিদের, যেমন সহায়তার অভিযোগে অভিযুক্তদের, কারণ লিপিবদ্ধ করে জামিন দেওয়া যায় (ধারা ১৯(৪))। ট্রাইব্যুনাল জামিন নামঞ্জুর করলে আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৮-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করতে পারেন।

    কোথায়: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা · সময়: এক শুনানি থেকে কয়েক মাস · আইন: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ১৯(২)-(৪) (২০২৫ সালে সংশোধিত); ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪৯৮ · কাগজপত্র: জামিনের আবেদন, বাদীর প্রতি নোটিশ, জামিননামা ও জামিনদার

    পরামর্শ: ধারা ৩৫ অনুযায়ী ধারা ১১(গ)-এর যৌতুকের জন্য সাধারণ জখমের মামলা এখন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বিচার করেন এবং তা আপসযোগ্য, তাই সেখানে জামিনের নিয়ম ভিন্ন।

  10. ধাপ ১০: অভিযোগ গঠন ও অনুপস্থিতিতে বিচার
    ধাপ ১০ · ট্রাইব্যুনালে বিচার

    অভিযোগ গঠন ও অনুপস্থিতিতে বিচার

    ট্রাইব্যুনাল ফৌজদারি কার্যবিধির দায়রা বিচারের পদ্ধতি অনুসরণ করে। প্রসিকিউটর মামলা উপস্থাপন করেন, আদালত অব্যাহতির যুক্তি শোনে, অভিযোগ গঠন করে এবং আসামির কাছে জানতে চায় তিনি দোষ স্বীকার করেন কি না। আসামি পলাতক থাকলে ট্রাইব্যুনাল তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক নোটিশ, একটি বাংলা জাতীয় দৈনিক বা অন্য উপায়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাঁকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিতে পারে। তিনি হাজির না হলে তাঁর অনুপস্থিতিতে বিচার চলতে পারে। হাজির হওয়ার পর বা জামিনে মুক্তির পর পলাতক হলে এই নোটিশ ছাড়াই অনুপস্থিতিতে বিচার করা যায়।

    কোথায়: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা · সময়: ১-৩ মাস · আইন: ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ২৬৫গ-২৬৫ঙ; নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ২১ (২০২৫ সালে প্রতিস্থাপিত) · কাগজপত্র: গঠিত অভিযোগ, অনুপস্থিত আসামির জন্য নোটিশ বা পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি

    পরামর্শ: পালিয়ে থাকলে কারও লাভ হয় না: আসামি ছাড়াই বিচার চলতে পারে, আর সাক্ষ্য অপ্রতিদ্বন্দ্বিত থেকে যায়।

  11. ধাপ ১১: সাক্ষী, প্রতিদিন শুনানি ও রুদ্ধদ্বার বিচার
    ধাপ ১১ · ট্রাইব্যুনালে বিচার

    সাক্ষী, প্রতিদিন শুনানি ও রুদ্ধদ্বার বিচার

    শুনানি শুরু হলে তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি কার্যদিবসে চালিয়ে যেতে হবে (ধারা ২০(২))। সাক্ষীর সমন পাঠানো হয় সাক্ষীর স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে, যিনি সাক্ষীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বাধ্য। একটি কপি সাক্ষী এবং পুলিশ সুপার বা পুলিশ কমিশনারের কাছে রেজিস্ট্রি ডাকেও পাঠানো যায় (ধারা ২৪)। ধর্ষণ মামলার বিচার রুদ্ধদ্বার কক্ষে (in camera) হতে পারে (ধারা ২০(৬))। ২০২৫ সাল থেকে দূরে থাকা সাক্ষীরা তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সাক্ষ্য দিতে পারেন (ধারা ২৪(৪)), এবং ট্রাইব্যুনাল সাক্ষীদের যাতায়াত ও সময়ের ভাতা দিতে পারে। শিশু সাক্ষীদের ক্ষেত্রে যথাসম্ভব শিশু আইন, ২০১৩ অনুসরণ করা হয়।

    কোথায়: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা · সময়: ৩-১৮ মাস · আইন: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ২০(২), ২০(৬), ২০(৭), ২৪, ৩২খ; ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ২৬৫চ · কাগজপত্র: সাক্ষীর সমন, ডাক্তারি ও ডিএনএ প্রতিবেদন, জবানবন্দির পাতা (ডিপোজিশন শিট)

    পরামর্শ: যৌন অপরাধের মামলায় রুদ্ধদ্বার শুনানির আবেদন করুন; এতে ভুক্তভোগীর ওপর চাপ কমে, এবং আইনে এটি স্পষ্টভাবে অনুমোদিত।

  12. ধাপ ১২: বিশেষজ্ঞ সাক্ষ্য, অনুমান ও আসামিপক্ষের বক্তব্য
    ধাপ ১২ · ট্রাইব্যুনালে বিচার

    বিশেষজ্ঞ সাক্ষ্য, অনুমান ও আসামিপক্ষের বক্তব্য

    সরকারি চিকিৎসক, রাসায়নিক পরীক্ষক, ডিএনএ ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদন বিশেষজ্ঞ মারা গেলে বা তাঁকে হাজির করা না গেলে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা যায়, তবে কেবল এর ভিত্তিতে দণ্ড দেওয়া যায় না (ধারা ২৩)। ২০২৫ সাল থেকে ভুক্তভোগীর সম্মতি দেওয়ার সক্ষমতা না থাকলে ট্রাইব্যুনাল ধরে নিতে পারে যে সম্মতি ছিল না (ধারা ২৪ক)। ধর্ষণ মামলায় ট্রাইব্যুনাল উপযুক্ত মনে করলে ডাক্তারি সনদ ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দিতে পারে (ধারা ২০(৯))। এরপর ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৪২-এর অধীনে আসামিকে পরীক্ষা করা হয়, আসামি সাফাই সাক্ষী হাজির করতে পারেন এবং দুই পক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে।

    কোথায়: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা · সময়: ১-৪ মাস · আইন: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ২০(৯), ২৩, ২৪ক; ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৩৪২ · কাগজপত্র: বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদন, ধারা ৩৪২-এর পরীক্ষার রেকর্ড, আসামিপক্ষের কাগজপত্র

    পরামর্শ: আসামিপক্ষের উচিত ডিএনএ নমুনার হেফাজতের ধারাবাহিকতা (চেইন অব কাস্টডি) সতর্কভাবে যাচাই করা; লেবেলিং বা সংরক্ষণে ফাঁক থাকা চ্যালেঞ্জের একটি সাধারণ ভিত্তি।

  13. ধাপ ১৩: বিচারের সময়সীমা ও জবাবদিহি
    ধাপ ১৩ · ট্রাইব্যুনালে বিচার

    বিচারের সময়সীমা ও জবাবদিহি

    মামলা পাওয়ার ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে ট্রাইব্যুনালকে বিচার শেষ করতে হবে। ধারা ৯-এর ধর্ষণ মামলা অভিযোগ গঠনের ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ করতে হবে (ধারা ২০(৩ক), ২০২৫ সালে সংযোজিত)। সময়মতো নিষ্পত্তি না হলে ট্রাইব্যুনাল ৩০ দিনের মধ্যে কারণ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে প্রতিবেদন দেয়, এবং পাবলিক প্রসিকিউটর ও পুলিশ সরকারকে প্রতিবেদন দেয়। ধর্ষণ মামলায় বিচারককে তিন কার্যদিবসের মধ্যে বিলম্বের ব্যাখ্যা দিতে হয়। বিলম্বের জন্য দায়ী সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

    কোথায়: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা · সময়: ১৮০ কার্যদিবস (ধর্ষণ মামলায় অভিযোগ গঠন থেকে ৯০) · আইন: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ২০(৩), (৩ক), (৪); নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ৩১ক · কাগজপত্র: সুপ্রিম কোর্টে বিলম্বের প্রতিবেদন, ধর্ষণ মামলায় ব্যাখ্যা

    পরামর্শ: এই সময়সীমাগুলো নির্দেশনামূলক; সময়সীমা পেরিয়ে গেলে মামলা শেষ হয়ে যায় না বা আসামি খালাস পাওয়ার অধিকারী হন না, তবে দ্রুত তারিখের জন্য চাপ দিতে এগুলো ব্যবহার করা যায়।

  14. ধাপ ১৪: রায়, দণ্ড ও ক্ষতিপূরণ
    ধাপ ১৪ · রায় ও দণ্ড

    রায়, দণ্ড ও ক্ষতিপূরণ

    ট্রাইব্যুনাল দায়রা আদালত হিসেবে রায় দেয়। শাস্তি কঠোর। ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড (ধারা ৯(১), মৃত্যুদণ্ড ২০২০ সালে যুক্ত), এবং অনেক অপরাধে ন্যূনতম দণ্ড নির্ধারিত আছে। অর্থদণ্ড ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া যায় এবং দণ্ডিত ব্যক্তির বর্তমান বা ভবিষ্যৎ সম্পত্তি থেকে আদায় করা যায়। অভিযোগ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক প্রমাণিত হলে ট্রাইব্যুনাল বাদীকে আসামির ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দিতে পারে এবং সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড দিতে পারে (ধারা ১৭(৩))। ধারা ১৭(১)-এর অধীনে আলাদা মামলায় সর্বোচ্চ সাত বছরের দণ্ড হতে পারে। এখানেই বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার প্রথম পর্যায় শেষ হয়।

    কোথায়: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা · সময়: যুক্তিতর্কের ১-২ মাস পর · আইন: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ৯, ১৫, ১৬, ১৭; ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ২৬৫ট · কাগজপত্র: রায় ও দণ্ড, সার্টিফায়েড কপির আবেদন, ক্ষতিপূরণের আদেশ

    পরামর্শ: রায়ের দিনই সার্টিফায়েড কপির আবেদন করুন: আপিলের মেয়াদ এখন মাত্র ৩০ দিন।

  15. ধাপ ১৫: মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্ট বিভাগে যায়
    ধাপ ১৫ · রায় ও দণ্ড

    মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্ট বিভাগে যায়

    ট্রাইব্যুনাল কোনো আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিলে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৪-এর অধীনে অবিলম্বে নথি হাইকোর্ট বিভাগে পাঠাতে হবে, এবং সেই আদালতের অনুমোদন ছাড়া দণ্ড কার্যকর করা যায় না (ধারা ২৯)। দণ্ডিত ব্যক্তিকে আপিলের অধিকার সম্পর্কে জানানো হয়; মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে তামাদি আইন অনুযায়ী এর মেয়াদ সাত দিন। দণ্ডিত ব্যক্তির উচিত ধারা ২৮-এর অধীনেও আপিল করা। অন্য যেকোনো দণ্ড বা খালাসের বিরুদ্ধে কেবল ধারা ২৮-এর অধীনে আপিল করা যায়।

    কোথায়: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা · সময়: দণ্ডের পরপরই · আইন: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ২৯; ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৩৭৪; তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১৫০ · কাগজপত্র: ডেথ রেফারেন্সের নথি, কারাগারে সোপর্দের পরোয়ানা

    পরামর্শ: শুধু রেফারেন্সের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত আপিলও দায়ের করুন, যাতে প্রতিটি যুক্তি পূর্ণ প্রস্তুতিসহ উপস্থাপন করা যায়।

বিকল্প পথ · আপিল, রিভিশন, রিভিউ, রেফারেন্স, রিমান্ড

যদি এমন হয়…? নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা যেভাবে গতিপথ বদলাতে পারে

একটি পরিস্থিতি বেছে নিন। ম্যাপটি দেখাবে মামলা কীভাবে উচ্চ আদালতে ওঠে, আর ফেরত পাঠানো হলে কীভাবে নিম্ন আদালতে নেমে আবার ওপরে যায়।

এই পরিস্থিতির পথ
ওপরেফেরত
আপিল · ট্রাইব্যুনাল → হাইকোর্ট

দণ্ডিত আসামি বা বাদী আপিল করলে কী হয়?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    ৩০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল

    ট্রাইব্যুনালের কোনো আদেশ, রায় বা দণ্ডে সংক্ষুব্ধ যেকোনো পক্ষ ৩০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারে। এর মধ্যে দণ্ডিত ব্যক্তি এবং খালাসের বিরুদ্ধে বাদী বা রাষ্ট্র অন্তর্ভুক্ত। ২৫ মার্চ ২০২৫ থেকে কার্যকর ২০২৫ সালের সংশোধনীতে মেয়াদ ৬০ দিন থেকে কমানো হয়েছে। আপিলে নথির ভিত্তিতে তথ্য ও আইন দুটোই নতুন করে শোনা হয়। হাইকোর্ট বিভাগ সিদ্ধান্ত বহাল, বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারে, অথবা পুনর্বিচারের আদেশ দিতে পারে, এবং আপিল চলাকালে জামিন দিতে পারে।

    ঢাকায় ২-৬ বছরনারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ২৮ (২০২৬ সালের ৮৫ নং আইন দ্বারা সংশোধিত)ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪২৩, ৪২৬

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগের এখতিয়ার সাপেক্ষে হাইকোর্ট বিভাগের আপিল রায় ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের স্থলাভিষিক্ত হয়।

রিভিশন · ট্রাইব্যুনাল → হাইকোর্ট

ট্রাইব্যুনালের অন্তর্বর্তী আদেশ চ্যালেঞ্জ করলে কী হয়?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন বা ধারা ৫৬১ক-এর আবেদন

    ট্রাইব্যুনালকে দায়রা আদালত হিসেবে গণ্য করা হয়, তাই এর অন্তর্বর্তী আদেশের বিরুদ্ধে সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে যেতে হয়। যেমন আমলে গ্রহণ, অভিযোগ গঠন, ধারা ২৭(১ক)-এর সরাসরি নালিশ খারিজ বা অধিকতর তদন্তের আবেদন নামঞ্জুর। চ্যালেঞ্জ করা হয় ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৫ ও ৪৩৯-এর অধীনে ফৌজদারি রিভিশন (revision) বা ধারা ৫৬১ক-এর আবেদনের মাধ্যমে। হাইকোর্ট বিভাগ কার্যক্রম স্থগিত করতে পারে, তবে বিচারের কঠোর সময়সীমার কারণে স্পষ্ট আইনগত ভুল না থাকলে সাধারণত তা করে না।

    ৬-২৪ মাসনারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ২৫(১)ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪৩৫, ৪৩৯ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৫৬১ক

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আদেশ বহাল থাকে বা বাতিল হয়, এবং ট্রাইব্যুনালে বিচার চলতে থাকে।

রিভিউ · ট্রাইব্যুনাল → আপিল বিভাগ

ট্রাইব্যুনাল বা উচ্চ আদালত কি নিজের রায় রিভিউ করতে পারে?

  1. 1
    নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা

    ট্রাইব্যুনাল বা হাইকোর্ট বিভাগে রিভিউ নেই

    ট্রাইব্যুনাল রায়ে স্বাক্ষর করার পর করণিক ভুল সংশোধন ছাড়া তা পরিবর্তন বা রিভিউ (review) করতে পারে না (ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৬৯, যা ধারা ২৫ দ্বারা প্রযোজ্য)। হাইকোর্ট বিভাগের ফৌজদারি রায়ের ক্ষেত্রেও একই বাধা। ভুল সংশোধন করতে হয় ধারা ২৮-এর আপিলে বা আপিল বিভাগে, তাই কমিয়ে আনা ৩০ দিনের আপিলের মেয়াদের দিকে কড়া নজর রাখতে হবে।

    প্রযোজ্য নয়ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৩৬৯নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ২৫
  2. 2
    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ

    আপিল বিভাগে অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীনে রিভিউ

    আপিল বিভাগ কোনো আপিল বা লিভ পিটিশন নিষ্পত্তি করার পর কোনো পক্ষ ৩০ দিনের মধ্যে অনুচ্ছেদ ১০৫-এর অধীনে রিভিউ চাইতে পারে, তবে কেবল নথিতে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ভুলের জন্য। মৃত্যুদণ্ডের মামলায় এটি সাধারণত রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদনের আগে শেষ বিচারিক ধাপ।

    ৩-১২ মাসসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৫সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ) বিধিমালা, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৬

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগের রিভিউ আদেশই চূড়ান্ত।

রেফারেন্স · ট্রাইব্যুনাল → হাইকোর্ট → ট্রাইব্যুনাল

মৃত্যুদণ্ড কীভাবে অনুমোদিত হয়?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    দ্বৈত বেঞ্চে ডেথ রেফারেন্স

    হাইকোর্ট বিভাগ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৪-এর অধীনে ডেথ রেফারেন্স এবং দণ্ডিত ব্যক্তির আপিল বা জেল আপিল একসঙ্গে শোনে। ডাক্তারি ও ডিএনএ প্রতিবেদনসহ সব সাক্ষ্য নতুন করে মূল্যায়ন করে। আদালত মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করতে পারে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মতো অন্য দণ্ড দিতে পারে, খালাস দিতে পারে, অথবা অধিকতর অনুসন্ধান, অতিরিক্ত সাক্ষ্য বা নতুন বিচারের আদেশ দিতে পারে। এর অনুমোদন ছাড়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যায় না।

    ঢাকায় ৩-৮ বছরনারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ২৯ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৩৭৪-৩৭৬
  2. 2
    নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা

    আদেশ ট্রাইব্যুনালে ফেরত পাঠানো

    হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়, এবং ট্রাইব্যুনাল ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৮১-এর অধীনে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে উপযুক্ত পরোয়ানা পাঠায়। দণ্ড হ্রাস করা হলে, যেমন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, দণ্ডিত ব্যক্তি কনডেম সেল থেকে বেরিয়ে আসেন। মৃত্যুদণ্ড অনুমোদিত হলে দণ্ডিত ব্যক্তি হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে অধিকারবলে আপিল বিভাগে আপিল করতে পারেন।

    ১-২ মাসফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৩৮১সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(২)(খ)

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: মৃত্যুদণ্ড অনুমোদিত বা হ্রাস হয়, অথবা পুনর্বিচারের আদেশ হয়।

রিমান্ড (ফেরত) · ট্রাইব্যুনাল → হাইকোর্ট → ট্রাইব্যুনাল → হাইকোর্ট

হাইকোর্ট বিভাগ পুনর্বিচারের আদেশ দিলে কী হয়?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    দণ্ড বাতিল ও পুনর্বিচারের জন্য নিম্ন আদালতে ফেরত

    বিচার ত্রুটিপূর্ণ হলে হাইকোর্ট বিভাগ রায় বাতিল করে পুনর্বিচার বা নির্দিষ্ট পদক্ষেপের জন্য মামলাটি ট্রাইব্যুনালে ফেরত পাঠাতে পারে। যেমন ভুল ধারায় অভিযোগ গঠন, গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী বা ডিএনএ প্রতিবেদন যথাযথভাবে প্রমাণিত না হওয়া, অথবা ধারা ৩৪২-এর অধীনে দোষী সাব্যস্তকারী পরিস্থিতি আসামির সামনে তুলে না ধরা। তখন পুরো নথি নির্দেশনাসহ ট্রাইব্যুনালে ফিরে যায়।

    আপিলের আদেশফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪২৩(১)(খ)ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৩৭৬(খ)
  2. 2
    নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা

    ট্রাইব্যুনালে পুনর্বিচার

    ট্রাইব্যুনাল ফেরত পাঠানোর নির্দেশনা অনুসরণ করে। নতুন করে অভিযোগ গঠন, সাক্ষীদের পুনরায় তলব বা বাদ পড়া সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারে, এরপর যুক্তিতর্ক শুনে নতুন রায় দেয়। ধারা ২০(২) অনুযায়ী মামলাটির শুনানি ধারাবাহিক কার্যদিবসে হওয়ার কথা। বাস্তবে ফেরত আসা মামলাগুলোকেও নতুন মামলার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হয়, তাই দুই পক্ষেরই উচিত দ্রুত ও নির্দিষ্ট তারিখের জন্য ট্রাইব্যুনালে চাপ দেওয়া।

    ৬-২৪ মাসনারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ২০(২)ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ২৬৫ঘ-২৬৫ট
  3. 3
    হাইকোর্ট বিভাগ

    ৩০ দিনের মধ্যে নতুন আপিল

    নতুন রায়ের বিরুদ্ধেও নতুন সার্টিফায়েড কপি নিয়ে ধারা ২৮-এর অধীনে ৩০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করা যায়। আবার মৃত্যুদণ্ড হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৪-এর অধীনে নতুন রেফারেন্স লাগে। ফলে মামলাটি দ্বিতীয়বার আপিল পর্যালোচনার জন্য ওপরে ওঠে, এবং হাইকোর্ট বিভাগ যাচাই করে তার ফেরত পাঠানোর নির্দেশনা মানা হয়েছে কি না।

    ২-৫ বছরনারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ২৮ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৩৭৪

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: মামলা পুনর্বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে ফেরত যায় এবং নতুন আপিলে আবার হাইকোর্ট বিভাগে আসে।

আপিলের অনুমতি · হাইকোর্ট → আপিল বিভাগ

নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা কীভাবে আপিল বিভাগে যায়?

  1. 1
    সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ

    অধিকারবলে আপিল বা আপিলের অনুমতির জন্য ফৌজদারি পিটিশন

    হাইকোর্ট বিভাগ মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করলে, অথবা নিজেই মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলে, দণ্ডিত ব্যক্তি ৩০ দিনের মধ্যে অধিকারবলে আপিল বিভাগে আপিল করতে পারেন। অন্য সব ক্ষেত্রে, যেমন আপিলে খালাস বা দণ্ড হ্রাস, সংক্ষুব্ধ পক্ষ ৩০ দিনের মধ্যে আপিলের অনুমতির (লিভ টু আপিল) জন্য ফৌজদারি পিটিশন দায়ের করে; খালাসের বিরুদ্ধে সরকারের ক্ষেত্রে মেয়াদ ৬০ দিন। কারাগারে থাকা দণ্ডিত ব্যক্তি জেল পিটিশন দিতে পারেন।

    ২-৫ বছরসংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৩(২)(খ), (৩)সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ) বিধিমালা, ১৯৮৮-এর আদেশ ২৩ ও ২৪

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, কেবল রিভিউ সাপেক্ষে।

জামিন · ট্রাইব্যুনাল → হাইকোর্ট → ট্রাইব্যুনাল

ট্রাইব্যুনাল জামিন না দিলে কী হয়?

  1. 1
    হাইকোর্ট বিভাগ

    হাইকোর্ট বিভাগে জামিনের আবেদন

    ট্রাইব্যুনাল জামিন নামঞ্জুর করলে আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৮-এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করতে পারেন। ২০২৫ সাল থেকে ধারা ১৯ স্পষ্টভাবে যেকোনো এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের ওপর বাধ্যতামূলক, তাই হাইকোর্ট বিভাগও বাদীর বক্তব্য শোনে এবং একই মানদণ্ড প্রয়োগ করে। আদালত রুল জারি করতে পারে, অন্তর্বর্তী জামিন দিতে পারে বা নামঞ্জুর করতে পারে। জামিন মঞ্জুরের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র বা বাদী অনুমতি নিয়ে আপিল বিভাগে চ্যালেঞ্জ করতে পারে।

    ১-৬ মাসনারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ১৯(২)-(৪)ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪৯৮
  2. 2
    নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা

    ট্রাইব্যুনালে জামিননামা সম্পাদন

    হাইকোর্ট বিভাগ জামিন দিলে আসামি জামিনদারসহ ট্রাইব্যুনালে জামিননামা সম্পাদন করেন, এরপর ট্রাইব্যুনাল কারাগারে মুক্তির আদেশ পাঠায়। এরপর আসামিকে প্রতিটি শুনানিতে হাজির থাকতে হবে, কারণ জামিনের পর পলাতক হলে ট্রাইব্যুনাল ধারা ২১-এর অধীনে তাঁর অনুপস্থিতিতে বিচার করতে পারে, এবং জামিন বাতিল ও জামিননামার অর্থ বাজেয়াপ্ত হতে পারে।

    ১-৭ দিনফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৪৯৯-৫০০নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ধারা ২১

শেষ পর্যন্ত যেখানে গড়ায়: আসামি ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে জামিনে মুক্তি পান, অথবা বিচার পর্যন্ত হেফাজতে থাকেন।

নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত

নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা যেভাবে আদালতের স্তর বেয়ে ওপরে ওঠে

বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আদালত-কাঠামো সংক্ষিপ্ত। বিচারের প্রথম বিচারিক ফোরাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নিজেই। প্রতিটি জেলা সদরে একটি করে ট্রাইব্যুনাল আছে, আর ঢাকায় আছে একাধিক। প্রতিটির বিচারক একজন জেলা ও দায়রা জজ বা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, এবং ২০২৫ সাল থেকে শিশু ধর্ষণের জন্য শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা যায়। ম্যাজিস্ট্রেটদের ভূমিকা কেবল সহায়কের: রিমান্ড, জবানবন্দি রেকর্ড এবং প্রাথমিক জামিন। ব্যতিক্রম হলো ধারা ১১(গ)-এর যৌতুক-সংক্রান্ত সাধারণ জখম, যা ধারা ৩৫ অনুযায়ী এখন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে যায়।

অপরাধের মাত্রা বা গুরুত্ব অনুযায়ী ফোরাম বদলায় না, কারণ তফসিলভুক্ত প্রতিটি অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যায়। ট্রাইব্যুনালকে দায়রা আদালত হিসেবে গণ্য করা হয়, তাই মাঝখানে কোনো আপিল স্তর নেই। প্রতিটি আপিল ধারা ২৮-এর অধীনে, এখন ৩০ দিনের মধ্যে, সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে যায়, এবং হাইকোর্ট বিভাগ তথ্য ও আইন দুটোই নতুন করে শোনে। ধারা ২৯-এর অধীনে মৃত্যুদণ্ডও রেফারেন্স হিসেবে সেখানে যায়। সবার ওপরে আপিল বিভাগ। মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবনের মামলায় আপিল বিভাগ অধিকারবলে আপিল শোনে, অন্য বিষয়ে অনুমতি সাপেক্ষে।

  1. আপিল বিভাগসুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ
  2. হাইকোর্ট বিভাগহাইকোর্ট বিভাগ
  3. প্রথম দফার আদালতমুখ্য মহানগর হাকিম (CMM) আদালত, ঢাকা (রিমান্ড, জবানবন্দি) · নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা
  4. শুরু · আদালতের বাইরেথানা (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও তদন্তকারী কর্মকর্তা) · সরকারি হাসপাতাল / ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার
আদালত ও ঠিকানা

আপনার মামলা কোথায় শুনানি হয়

ঠিকানাগুলো ঢাকার। প্রতিটি জেলার নিজস্ব জজশিপে সমমানের আদালত আছে।

আপিল বিভাগ

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ)

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, শাহবাগ, রমনা, ঢাকা-১০০০

হাইকোর্ট বিভাগ (High Court Division) আপিল, রিভিশন (revision), রেফারেন্স, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীন রিট পিটিশন (writ petition), কোম্পানি বিষয় ও ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি করে; আপিল বিভাগ (Appellate Division) হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতিসাপেক্ষে আপিল শুনানি করে।

দুই বিভাগই সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বসে; হাইকোর্ট বিভাগের অনেক বেঞ্চ বসে অ্যানেক্স ভবনে। কোন বেঞ্চ ও কোন কোর্ট রুম, তা জানতে দৈনিক কার্যতালিকা (cause list) দেখুন। ডাক যোগাযোগের ঠিকানা: রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, রমনা, ঢাকা-১০০০।

প্রথম দফার আদালত

চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা

১৯ জনসন রোড, ঢাকা-১১০০

ঢাকা মহানগর পুলিশের এলাকায় উদ্ভূত ফৌজদারি মামলা আমলে নেয় ও বিচার করে (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসমূহ), জামিন (bail), রিমান্ড এবং এজাহার (FIR)/নালিশি মামলার শুনানি করে, এবং দায়রা আদালতে বিচার্য মামলা মহানগর দায়রা জজের কাছে পাঠায়।

মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলো সিএমএম (CMM) আদালতের মূল ভবন (২য় থেকে ৯ম তলা) এবং সিজেএম আদালত ভবনে (৮ম ও ৯ম তলায় ২৯-৩৭ নং আদালত) ছড়িয়ে আছে। কার্যতালিকায় আদালতের নম্বর দেখে নিন। প্রতিটি মহানগরে (চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, গাজীপুর) নিজস্ব সিএমএম আদালত আছে।

প্রথম দফার আদালত

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা

ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণ, ১৬ জনসন রোড, সদরঘাট, ঢাকা

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর অধীন ধর্ষণ, যৌতুকের জন্য নির্যাতন, নারী ও শিশু পাচার, এসিড-সংক্রান্ত ও অন্যান্য অপরাধের বিচার করে।

ঢাকায় ১ থেকে ৯ নং ট্রাইব্যুনাল আছে; প্রতিটিতে জেলা ও দায়রা জজ পর্যায়ের একজন বিচারক সভাপতিত্ব করেন এবং এগুলো ঢাকা জাজশিপের তালিকাভুক্ত। ঢাকার আদালত এলাকায় এগুলোর সঠিক ভবন প্রকাশিত নয়। প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি এমন ট্রাইব্যুনাল আছে।

শুরু · আদালতের বাইরে

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তর

৩৬ মিন্টো রোড, ঢাকা

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তর; এজাহার এখানে নয়, সংশ্লিষ্ট থানায় দায়ের করতে হয়।

জরুরি সেবা: ৯৯৯। মামলা করতে ঘটনাস্থল যে থানার এখতিয়ারে, সেই থানায় যান।

শুরু · আদালতের বাইরে

সরকারি হাসপাতাল / ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার

এটি কোথায় হবে তা আপনার জেলা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের ওপর নির্ভর করে। সঠিক এজলাস ও ঠিকানার জন্য আমাদের জিজ্ঞেস করুন।

নির্দেশক সময়রেখা

প্রতিটি পর্যায়ে কত সময় লাগে

এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা। মুলতবি, মামলাজট ও আপিলের কারণে সময় বাড়তে পারে।

অভিযোগ দায়ের, চিকিৎসা ও সুরক্ষা
০.১–১ মাস
তদন্ত
১.৫–৬ মাস
আমলে গ্রহণ ও জামিন
১–৪ মাস
ট্রাইব্যুনালে বিচার
৯–৩৬ মাস
রায় ও দণ্ড
১–৩ মাস
গাঢ় রেখা = দ্রুত নিষ্পত্তি · হালকা রেখা = ধীর নিষ্পত্তিপ্রথম দফার যাত্রা: ১২.৬–৫০ মাস · সামগ্রিক: আইন অনুযায়ী তদন্তে ১৫ বা ৩০ কার্যদিবস (আরও ১৫ দিন বাড়ানো যায়) এবং বিচারে ১৮০ কার্যদিবস লাগার কথা; ধর্ষণ মামলায় অভিযোগ গঠন থেকে ৯০ কার্যদিবস। ঢাকার চর্চায় এখনো ট্রাইব্যুনালে প্রায়ই ১-৪ বছর এবং আপিলে আরও কয়েক বছর লাগে (ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা)।
প্রস্তুতি

কাগজপত্রের চেকলিস্ট ও মূল পরিভাষা

আপনার কাছে যা আছে টিক দিন। টিকগুলো এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকবে। আইনজীবীর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে তালিকাটি নিয়ে যান।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল (Nari o Shishu Tribunal)
২০০০ সালের আইনের ধারা ২৬-এর অধীন বিশেষ আদালত, যা নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার করে; একে দায়রা আদালত হিসেবে গণ্য করা হয়।
শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ট্রাইব্যুনাল (Child Violence Prevention Tribunal)
জেলা ও মহানগর এলাকায় শিশু ধর্ষণ মামলার বিচারের জন্য ধারা ২৬ক (২০২৫) দ্বারা গঠিত ট্রাইব্যুনাল।
কার্যদিবস (Working day)
যে দিন আদালত বা অফিস খোলা থাকে; আইনের সময়সীমাগুলো পঞ্জিকা-দিবসে নয়, কার্যদিবসে গোনা হয়।
নিরাপদ হেফাজত (Safe custody)
নারী বা শিশুর মতামত বিবেচনা করে ধারা ৩১-এর অধীনে কারাগারের বাইরে তাদের সুরক্ষামূলক হেফাজতের আদেশ।
নারাজি আবেদন (Naraji petition)
পুলিশ প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদীর আপত্তি; এরপর ট্রাইব্যুনাল নতুন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করতে পারে।
ডেথ রেফারেন্স (Death reference)
ধারা ২৯ ও ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৭৪-এর অধীনে অনুমোদনের জন্য মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্ট বিভাগে বাধ্যতামূলকভাবে পাঠানো।
রুদ্ধদ্বার বিচার (In-camera trial)
বন্ধ এজলাসকক্ষে অনুষ্ঠিত শুনানি, যা ধারা ২০(৬) অনুযায়ী ধর্ষণ মামলায় অনুমোদিত।
ধারা ২৫ক-এর দায়িত্ব (Section 25A duty)
২০২৫ সালে যুক্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব: অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে এজাহার হিসেবে রেকর্ড করা এবং ভুক্তভোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
প্রশ্নোত্তর

নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা: সাধারণ প্রশ্ন

পুলিশ কি নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা নিতে অস্বীকার করতে পারে?
না। ২০২৫ সাল থেকে ধারা ২৫ক অনুযায়ী বাদী প্রাথমিক সাক্ষ্যপ্রমাণ নিয়ে এলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করতে হবে। ঘটনা অন্য থানার এলাকায় ঘটেছে বলে তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা নিতে অস্বীকার করতে পারেন না। এরপরও পুলিশ অস্বীকার করলে আপনি ধারা ২৭(১ক)-এর অধীনে হলফনামাসহ সরাসরি ট্রাইব্যুনালে নালিশ করতে পারেন, এবং ট্রাইব্যুনাল পুলিশকে তা এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার আদেশ দিতে পারে।
বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা শেষ হতে কত দিন লাগে?
আইন অনুযায়ী তদন্ত ১৫ বা ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে (আরও ১৫ দিন বাড়ানো যায়) এবং বিচার মামলা পাওয়ার ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ করতে হবে; ধর্ষণ মামলায় অভিযোগ গঠন থেকে ৯০ কার্যদিবস। ঢাকার চর্চায় নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা প্রায়ই ট্রাইব্যুনালে এক থেকে চার বছর এবং আপিলে আরও বেশি সময় নেয়। এগুলো ঢাকার সাধারণ চর্চার ভিত্তিতে নির্দেশক সময়সীমা।
ডাক্তারি পরীক্ষা কি বিনামূল্যে হয়?
হ্যাঁ। ধারা ৩২ অনুযায়ী ভুক্তভোগী নিজে সরকারি হাসপাতালে গেলে বা পুলিশ নিয়ে গেলে কোনো ফি দিতে হয় না, এবং পরীক্ষার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভুক্তভোগী বা পরিবারকে এবং তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বিনামূল্যে সনদ দিতে হবে। স্বীকৃত বেসরকারি হাসপাতালও ভুক্তভোগীর পরীক্ষা করতে পারে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ট্রাইব্যুনাল বা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদন লাগে।
আপিল করার সময়সীমা কত?
২০২৫ সালে সংশোধিত ধারা ২৮ অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালের আদেশ, রায় বা দণ্ডের তারিখ থেকে ত্রিশ দিন। আগে এটি ছিল ৬০ দিন, এবং অনেক পুরোনো গাইডে এখনো তা-ই লেখা আছে। দণ্ডিত ব্যক্তি, বাদী বা রাষ্ট্র, যেকোনো সংক্ষুব্ধ পক্ষ হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারে। রায় ঘোষণার দিনই রায়ের সার্টিফায়েড কপির আবেদন করুন।
নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় কি আসামি জামিন পান?
প্রধান আসামির পক্ষে এটি কঠিন। ধারা ১৯(২) অনুযায়ী জামিনের জন্য বাদীর শুনানি এবং মামলার ভিত্তি সম্পর্কে ট্রাইব্যুনালের সন্তুষ্টি প্রয়োজন। ন্যায়বিচার ক্ষতিগ্রস্ত না হলে নারী, শিশু এবং অসুস্থ বা অক্ষম আসামিদের জামিন দেওয়া যায়। অন্যদের, যেমন সহায়তার অভিযোগে অভিযুক্তদের, কারণ উল্লেখ করে জামিন দেওয়া যায়। এই নিয়ম এখন হাইকোর্ট বিভাগসহ প্রতিটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের ওপর বাধ্যতামূলক।
নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা কি আপসে মীমাংসা করা যায়?
সাধারণত না। এই আইনের অপরাধগুলো আপসযোগ্য নয়, এবং ২০২৫ সালের সংশোধনীতে ধারা ১৯ থেকে পুরোনো আপস-সংক্রান্ত বিধানটি বাদ দেওয়া হয়েছে। একমাত্র ব্যতিক্রম ধারা ১১(গ)-এর যৌতুক-সংক্রান্ত সাধারণ জখম, যা ধারা ৩৫ অনুযায়ী এখন আমলযোগ্য, আপসযোগ্য ও জামিন-অযোগ্য, এবং প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট এর বিচার করেন। গুরুতর মামলায় আদালতের বাইরে মীমাংসা হলেও মামলার কার্যক্রম শেষ হয় না।
কেউ মিথ্যা নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা করলে কী হয়?
আইনগত ভিত্তি নেই জেনেও ক্ষতি বা মানহানির উদ্দেশ্যে মামলা করা ধারা ১৭(১)-এর অধীনে অপরাধ, যার শাস্তি সর্বোচ্চ সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড। ট্রাইব্যুনাল আসামিকে খালাস দিয়ে মামলাটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক বলে পেলে ধারা ১৭(৩) অনুযায়ী আসামিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ এবং বাদীকে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড দিতে পারে।
২০২৫ সালে বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার প্রক্রিয়ায় কী বদলেছে?
২৫ মার্চ ২০২৫ থেকে কার্যকর এবং ২০২৬ সালের ৮৫ নং আইন হিসেবে প্রণীত সংস্কারে তদন্তের সময় ৩০ কার্যদিবসে নামানো হয়েছে এবং ধর্ষণ মামলায় বিচারের জন্য ৯০ কার্যদিবসের সীমা ঠিক করা হয়েছে। এজাহার রেকর্ডের দায়িত্ব বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, আদালতের অনুমোদনে ডিএনএ পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে, সাক্ষী সুরক্ষা ও দূর থেকে সাক্ষ্য দেওয়ার ব্যবস্থা যুক্ত হয়েছে, এবং আপিলের মেয়াদ ৩০ দিনে কমানো হয়েছে।

আইন ও উৎস

  1. Nari o Shishu Nirjatan Daman Ain 2000 (as amended up to Act No. 85 of 2026)
  2. The Code of Criminal Procedure, 1898
  3. The Limitation Act, 1908
  4. The Constitution of the People's Republic of Bangladesh
  5. Prothom Alo: Govt moves to speed up child rape case trials, introduces special tribunal
  6. TBS: Advisory Council to approve ordinance to fast-track rape trials
  7. Dhaka Tribune: Laws to be amended for speedy rape trials

এই কেস জার্নি অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের কার্যপ্রণালীর একটি সাধারণ গাইড। এটি আইনি পরামর্শ নয়। কার্যপ্রণালী, ফি ও সময়সীমা বদলায়, আর প্রতিটি মামলা তার নিজস্ব তথ্যের ওপর নির্ভর করে। সময়রেখাগুলো নির্দেশক। নিজের বিষয়ে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।

প্রবাসে থাকেন?

বাংলাদেশের বাইরে থেকে এই মামলা চালান

সাধারণত দেশে না এসেও এই মামলা শুরু ও পরিচালনা করা যায়। আপনি বিদেশে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (মোক্তারনামা) সই করবেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন বা দূতাবাস তা সত্যায়ন করবে, আর ঢাকায় আপনার প্রতিনিধি ও আইনজীবী আপনার হয়ে কাজ করবেন। সশরীরে সাক্ষ্য দেওয়ার মতো কিছু ধাপে তবু আপনাকে বা একটি কমিশনকে প্রয়োজন হতে পারে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে মামলা কীভাবে চলে দেখুন →

আপনার মামলা, একজন আইনজীবীর চোখে

আপনার মামলা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে, জানতে চান?

একটি পরামর্শ বুক করুন। একজন TRW আইনজীবী আপনার বিষয়টি এই ম্যাপে বসিয়ে দেবেন, পরবর্তী ধাপ ও বাস্তবসম্মত সময়রেখা ব্যাখ্যা করবেন এবং কী প্রস্তুত করতে হবে তা জানাবেন।

Message TRW on WhatsApp